| কবি টি কে সেনগুপ্তর কবিতা |
| প্রয়াত কমরেড গোবিন্দ গুহ স্মরণে কবি টি. কে. সেনগুপ্ত (তুষার কান্তি সেনগুপ্ত) জন্ম তব খুলনার বৈঠপুর গ্রামে । পিতা তেজেন্দ্রনাথ গুহ মাতা সুরবালা নামে ॥ বসতবাড়ী ‘চন্দ্রনাথ কুঠি’ খুলনা শহরে । শৈশব কাটালে তুমি গ্রাম ও শহর ঘুরে ঘুরে ॥ পোষ্টমাস্টার জেনারেল পিতা অবিভক্ত ভারতের । শৈশব কেটেছে দিল্লী, বোম্বে, এলাহাবাদ, মাদ্রাজ, লাহোর ॥ ভারতভাগের অভিশাপ উত্খাতে টানিল জন্মভূমি । স্থাপন করিলে জীবন কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে তুমি ॥ গণনাট্য সংঘ আনি দিল বিশ্বাস শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস । শুরু হল জীবন যুদ্ধ রুখিবারে শোষণ বঞ্চনা সন্ত্রাস ॥ সংগ্রামী মনোভাব গরীবের প্রতি ভালবাসা । যোগালো ভরসা বিকাশিল চিন্তা চেতনা আশা ॥ গড়ে তোলো সংগঠন ঐক্য ও সংগ্রামে চরৈবেতি । ভরিয়ে দিল জীবন কারাবাসে আক্রমন অত্যাচারের বেষাতি ॥ পারেনি টলাতে ঋজু মনোভাবের গতিকে । পেয়েছ যা দিয়েছ অধিক ছুটেছ দিগ্বিদিকে ॥ ধৈর্য্য অকৃত্রিম শুনেছ দরদী মনের ছোঁয়ায় দিতে পরামর্শ । পেয়েছি স্নেহ ভালোবাসা আশাতীত দেখিয়েছ আদর্শ ॥ শ্রমিক মনের পরিচয় তোমার সর্বজনবিদিত । শপথ নিলাম আজি ঐ পথে নিজেকে করব নিবেদিত ॥ কমরেড গোবিন্দ গুহ তোমায় জানাই লাল সেলাম । শেষ যাত্রায় গর্জে ওঠে স্লোগানে স্লোগানে শেষ প্রণাম ॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অনুজ প্রতিম প্রয়াত কমলেশ সেনগুপ্তের স্মরণে কবি টি. কে. সেনগুপ্ত (তুষার কান্তি সেনগুপ্ত) যদি হও সুজন দাঁড়াও কান পেতে কিছুক্ষন । তারই লাগি যে ছিল আমাদেরই একজন ॥ এটা ঠিক কেহ নাহি রবে এ ভুবন চিরতনে । যেতে হবে ছাড়ি সকল ভালোবাসা বন্ধন ভুবনে ॥ তবু আশা রাখি বিয়োগ ব্যাথা না বাড়ায়ে দৈহিক কষ্ট । যেন যেতে পারি হাসি মুখে লাগাম ছাড়ি হেরি মুখ ক্লিষ্ট ॥ ক্লান্তিহীন বিড়ম্বনায় কাটালে জীবন নিষ্ঠায় উদ্দীপন । তুমি ছিলে কর্মযোগী বিনাবাক্যব্যায়ে চালাতে সংগঠন ॥ পারেনি দমাতে কঠিন রোগ জীবনের শেষক্ষণে । ক্লান্ত পথিক রচিছ জীবন সংগ্রাম আপন গুনে ॥ বিরক্ত হয়েছি যত অনুরক্ত হয়েছি তত বেশী । ফিরিয়ে দিয়েছ সব অনুযোগ দীপ্ত মধুর হাসি ॥ অনেক সময় করেছি আঘাত সমালোচনার কঠোর স্বরে । বুঝিতে পারি নাই তখন সে আঘাত আসিবে ফিরে বারে বারে ॥ সবই সয়েছ তুমি শান্ত মনে লজ্জার হাসি মুখে । বুঝিতে হয়েছি অক্ষম কি ব্যাথা লাগিছে বুকে । আজ তুমি নাই মনে ব্যাথা পাই অনুভবে তোমার প্রভাব । বুঝি না বোঝাতে পারি না এই বিচ্ছেদ কেমনে পুরিবে এই অভাব ॥ “জন্মিলে মরিতে হইবে অমর কে কোথা কবে” এই ব্রাত্য কথা জানি । নিজেকে সান্ত্বনা দিই অবুঝ মনের ক্ষত সারাই এই কথা মানি ॥ কে বলে তুমি নাই তুমি আছো মোদের মাঝে তোমার গুনে । বিরাজিবে তুমি সবার মাঝে সব কাজে সবারই মনে ॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কমরেড মুকুল ঘোষের স্মরণে কবি টি. কে. সেনগুপ্ত (তুষার কান্তি সেনগুপ্ত) হে বন্ধু, দাঁড়াও কিছুক্ষণ, শোন আমার কথা দিয়া মন ॥ যদি তুমি বিশ্বাসী হও সমাজতন্ত্রের । যদি সাথী হও দরিদ্র নীপিড়িত মানুষের । যদি বিশ্বাস কর দুনিয়ার মজদূর এক হও শ্লোগানে । তবে দেখ মুকুল ঘোষ তাকিয়ে আছে তব মুখপানে ॥ জন্ম হুগলীর হরিপালের পার্বতীপুর গ্রামে, পিতা বেচারাম ঘোষ মাতা নলিনীদেবী নামে ॥ শিক্ষা দ্বারহাটা বামেশ্বরী বিদ্যালয়ে, স্নাতক সাহিত্যের সিটি ( প্রধান ) মহাবিদ্যালয়ে ॥ ছিলেন গ্রামে কিছুদিন কৃষক আন্দোলনের সাথী হয়ে, সমব্যাথী হন শ্রমিকের ওষুধ সংস্থায় কাজ নিয়ে ॥ বহু আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেন ইতিবাচক মন দিয়ে, ক্লান্ত পথিক ভর্ত্তি হন হাসপাতালে দুরারোগ্য ব্যাধি নিয়ে ॥ লড়াইয়ের শেয হয় সেখানে ১৯শে মার্চ, ২০১৪ সালে, অনেক গুনগ্রাহী বন্ধু ও শোকগ্রস্ত পরিবার রেখে গেলে ॥ শেষকৃত্য সম্পন্ন হল নিমতলা মহাশ্মশানে, ভরে উঠল মহাশ্মশান শ্লোগানে শ্লোগানে ॥ মুকুল ঘোষ তোমায় আমরা ভুলিনি, ভুলব না, মুকুল ঘোষ অমর রহে । উচাটন মনে অসমাপ্ত কাজ পূরণের তরে প্রতিজ্ঞা করি তমে শ্রদ্ধাসহে ॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| প্রয়াত কমরেড রথীন বসু স্মরণে কবি টি.কে.সেনগুপ্ত জন্মেছিলে ১০, নং সীতারাম ঘোষ স্ট্রীটের পুরোনো এক ধামে | পিতা যোগীন্দ্রনাথ বোস মাতা ঊষারাণী নামে || প্রীতি ঘোষ, বিথীকা আইচ দুই দিদির পর এলে তুমি | লতিকা মিত্র, গীতিকা ব্যানার্জী ও মণিকা ঘোষকে বোন বলে মানি || পাঁচ বোনের ভাই হয়ে পেয়েছ আদর অনেক | স্নেহ শ্রদ্ধায় বিভোর হয়ে ভোগ করেছ যতেক || সেদিনের স্মৃতি বুকে ধরে রাখি কত হাসি কত কান্না | এ ধরায় রহিবে না কেহ চলে যেতে হবে এ ও আছে জানা || ক্রমে ক্রমে বাড়িল বয়স বড় হলে আর পাঁচটা ছেলের মত | স্নাতক হয়ে চাকুরীর খোঁজে প্রচেষ্টা বাড়ালে সাথে অস্থিরতা তত || কাজে যোগ দিলে মহাকরণ লাইব্রেরীতে সামলাতে সকল পাঠক | মন ভরিল না ভালো লাগিল না কোথায় যেন বাঁধা হতে না পারায় সংগঠক || ছেড়ে দিয়ে যোগ দিলে প্রথমে ব়্যানব্যাক্সী পরে সিপলা ওষুধ তৈরীর সংস্থায় | বিপনণের কর্মী হিসাবে ঘুরে বেড়ালে হেথায় হোথায় রাস্তায় রাস্তায় || এইভাবে কাটালে সারাটা জীবন মনে গেঁথে একজন বিপনণ কর্মী | বুঝিছ অনেক বোঝায়েছ তার বেশী হতে পেরেছ অপরের দুঃখের সহমর্মী || শ্রমিক সংগঠন গড়তে গিয়ে পেয়েছ অনেক যাতনা | সংগঠন গড়তে হবে মনে ছিল এই ভাবনা || শ্রমিক ঐক্য গড়ার কাজে নিষ্ঠা ছিল খুবই | পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অর্জন করেছ সবই || হয়েছ কঠিন কখনও বা কঠোর সঠিক কারনে | বলেছ যা করেছ সেই কাজ থামনি কোন বারণে || খেলাধূলা কাজে যুক্ত ছিলে দিয়েছ নূতন ধারণা | যুক্ত সবাই খুশী হত সার্থক হত পেয়ে তত প্রেরণা || রথীন বোস তোমায় আমরা ভুলিনি ভুলব না আমাদের সবার মাঝে থাকবে তুমি রইবে তোমার আনাগোনা || রথীন বোস অমর রহে, রথীন বোস লাল সেলাম | তোমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব এই প্রতিজ্ঞা দিয়ে গেলাম || . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |