কবি টি কে সেনগুপ্তর কবিতা
*
প্রয়াত কমরেড গোবিন্দ গুহ স্মরণে
কবি টি. কে. সেনগুপ্ত
(তুষার কান্তি সেনগুপ্ত)

জন্ম তব খুলনার বৈঠপুর গ্রামে ।
পিতা তেজেন্দ্রনাথ গুহ মাতা সুরবালা নামে ॥
বসতবাড়ী ‘চন্দ্রনাথ কুঠি’ খুলনা শহরে ।
শৈশব কাটালে তুমি গ্রাম ও শহর ঘুরে ঘুরে ॥
পোষ্টমাস্টার জেনারেল পিতা অবিভক্ত ভারতের ।
শৈশব কেটেছে দিল্লী, বোম্বে, এলাহাবাদ, মাদ্রাজ, লাহোর ॥
ভারতভাগের অভিশাপ উত্খাতে টানিল জন্মভূমি ।
স্থাপন করিলে জীবন কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে তুমি ॥
গণনাট্য সংঘ আনি দিল বিশ্বাস শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস ।
শুরু হল জীবন যুদ্ধ রুখিবারে শোষণ বঞ্চনা সন্ত্রাস ॥
সংগ্রামী  মনোভাব গরীবের প্রতি ভালবাসা ।
যোগালো ভরসা বিকাশিল চিন্তা চেতনা আশা ॥
গড়ে তোলো সংগঠন ঐক্য ও সংগ্রামে চরৈবেতি ।
ভরিয়ে দিল জীবন কারাবাসে আক্রমন অত্যাচারের বেষাতি ॥
পারেনি টলাতে ঋজু মনোভাবের গতিকে ।
পেয়েছ যা দিয়েছ অধিক ছুটেছ দিগ্বিদিকে ॥
ধৈর্য্য অকৃত্রিম শুনেছ দরদী মনের ছোঁয়ায় দিতে পরামর্শ ।
পেয়েছি স্নেহ ভালোবাসা আশাতীত দেখিয়েছ আদর্শ ॥
শ্রমিক মনের পরিচয় তোমার সর্বজনবিদিত ।
শপথ নিলাম আজি ঐ পথে নিজেকে করব নিবেদিত ॥
কমরেড গোবিন্দ গুহ তোমায় জানাই লাল সেলাম ।
শেষ যাত্রায় গর্জে ওঠে স্লোগানে স্লোগানে শেষ প্রণাম ॥

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অনুজ প্রতিম প্রয়াত কমলেশ সেনগুপ্তের স্মরণে
কবি টি. কে. সেনগুপ্ত
(তুষার কান্তি সেনগুপ্ত)

যদি হও সুজন দাঁড়াও কান পেতে কিছুক্ষন ।
তারই লাগি যে ছিল আমাদেরই একজন ॥
এটা ঠিক কেহ নাহি রবে এ ভুবন চিরতনে ।
যেতে হবে ছাড়ি সকল ভালোবাসা বন্ধন ভুবনে ॥
তবু আশা রাখি বিয়োগ ব্যাথা না বাড়ায়ে দৈহিক কষ্ট ।
যেন যেতে পারি হাসি মুখে লাগাম ছাড়ি হেরি মুখ ক্লিষ্ট ॥
ক্লান্তিহীন বিড়ম্বনায় কাটালে জীবন নিষ্ঠায় উদ্দীপন ।
তুমি ছিলে কর্মযোগী বিনাবাক্যব্যায়ে চালাতে সংগঠন ॥
পারেনি দমাতে কঠিন রোগ জীবনের শেষক্ষণে ।
ক্লান্ত পথিক রচিছ জীবন সংগ্রাম আপন গুনে ॥
বিরক্ত হয়েছি যত অনুরক্ত হয়েছি তত বেশী ।
ফিরিয়ে দিয়েছ সব অনুযোগ দীপ্ত মধুর হাসি ॥
অনেক সময় করেছি আঘাত সমালোচনার কঠোর স্বরে ।
বুঝিতে পারি নাই তখন সে আঘাত আসিবে ফিরে বারে বারে ॥
সবই সয়েছ তুমি শান্ত মনে লজ্জার হাসি মুখে ।
বুঝিতে হয়েছি অক্ষম কি ব্যাথা লাগিছে বুকে ।
আজ তুমি নাই মনে ব্যাথা পাই অনুভবে তোমার প্রভাব ।
বুঝি না বোঝাতে পারি না এই বিচ্ছেদ কেমনে পুরিবে এই অভাব ॥
“জন্মিলে মরিতে হইবে অমর কে কোথা কবে” এই ব্রাত্য কথা জানি ।
নিজেকে সান্ত্বনা দিই অবুঝ মনের ক্ষত সারাই এই কথা মানি ॥
কে বলে তুমি নাই তুমি আছো মোদের মাঝে তোমার গুনে ।
বিরাজিবে তুমি সবার মাঝে সব কাজে সবারই মনে ॥

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কমরেড মুকুল ঘোষের স্মরণে
কবি টি. কে. সেনগুপ্ত
(তুষার কান্তি সেনগুপ্ত)

হে বন্ধু, দাঁড়াও কিছুক্ষণ,
শোন আমার কথা দিয়া মন ॥
যদি তুমি বিশ্বাসী হও সমাজতন্ত্রের ।
যদি সাথী হও দরিদ্র নীপিড়িত মানুষের ।
যদি বিশ্বাস কর দুনিয়ার মজদূর এক হও শ্লোগানে ।
তবে দেখ মুকুল ঘোষ তাকিয়ে আছে তব মুখপানে ॥
জন্ম হুগলীর হরিপালের পার্বতীপুর গ্রামে,
পিতা বেচারাম ঘোষ মাতা নলিনীদেবী নামে ॥
শিক্ষা দ্বারহাটা বামেশ্বরী বিদ্যালয়ে,
স্নাতক সাহিত্যের সিটি ( প্রধান ) মহাবিদ্যালয়ে ॥
ছিলেন গ্রামে কিছুদিন কৃষক আন্দোলনের সাথী হয়ে,
সমব্যাথী হন শ্রমিকের ওষুধ সংস্থায় কাজ নিয়ে ॥
বহু আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেন ইতিবাচক মন দিয়ে,
ক্লান্ত পথিক ভর্ত্তি হন হাসপাতালে দুরারোগ্য ব্যাধি নিয়ে ॥
লড়াইয়ের শেয হয় সেখানে ১৯শে মার্চ, ২০১৪ সালে,
অনেক গুনগ্রাহী বন্ধু ও শোকগ্রস্ত পরিবার রেখে গেলে ॥
শেষকৃত্য সম্পন্ন হল নিমতলা মহাশ্মশানে,
ভরে উঠল মহাশ্মশান শ্লোগানে শ্লোগানে ॥
মুকুল ঘোষ তোমায় আমরা ভুলিনি, ভুলব না, মুকুল ঘোষ অমর রহে ।
উচাটন মনে অসমাপ্ত কাজ পূরণের তরে প্রতিজ্ঞা করি তমে শ্রদ্ধাসহে ॥

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রয়াত কমরেড রথীন বসু স্মরণে
কবি টি.কে.সেনগুপ্ত

জন্মেছিলে ১০, নং সীতারাম
ঘোষ স্ট্রীটের পুরোনো এক ধামে |
পিতা যোগীন্দ্রনাথ বোস
মাতা ঊষারাণী নামে ||
প্রীতি ঘোষ, বিথীকা আইচ
দুই দিদির পর এলে তুমি |
লতিকা মিত্র, গীতিকা ব্যানার্জী
ও মণিকা ঘোষকে বোন বলে মানি ||
পাঁচ বোনের ভাই হয়ে
পেয়েছ আদর অনেক |
স্নেহ শ্রদ্ধায় বিভোর হয়ে
ভোগ করেছ যতেক ||
সেদিনের স্মৃতি বুকে ধরে রাখি
কত হাসি কত কান্না |
এ ধরায় রহিবে না কেহ চলে
যেতে হবে এ ও আছে জানা ||
ক্রমে ক্রমে বাড়িল বয়স বড়
হলে আর পাঁচটা ছেলের মত |
স্নাতক হয়ে চাকুরীর খোঁজে প্রচেষ্টা
বাড়ালে সাথে অস্থিরতা তত ||
কাজে যোগ দিলে মহাকরণ লাইব্রেরীতে
সামলাতে সকল পাঠক |
মন ভরিল না ভালো লাগিল না কোথায়
যেন বাঁধা হতে না পারায় সংগঠক ||
ছেড়ে দিয়ে যোগ দিলে প্রথমে ব়্যানব্যাক্সী
পরে সিপলা ওষুধ তৈরীর সংস্থায় |
বিপনণের কর্মী হিসাবে ঘুরে বেড়ালে হেথায়
হোথায় রাস্তায় রাস্তায় ||
এইভাবে কাটালে সারাটা জীবন মনে
গেঁথে একজন বিপনণ কর্মী |
বুঝিছ অনেক বোঝায়েছ তার বেশী
হতে পেরেছ অপরের দুঃখের সহমর্মী ||
শ্রমিক সংগঠন গড়তে গিয়ে
পেয়েছ অনেক যাতনা |
সংগঠন গড়তে হবে মনে
ছিল এই ভাবনা ||
শ্রমিক ঐক্য গড়ার কাজে
নিষ্ঠা ছিল খুবই |
পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে
অর্জন করেছ সবই ||
হয়েছ কঠিন কখনও বা
কঠোর সঠিক কারনে |
বলেছ যা করেছ সেই কাজ
থামনি কোন বারণে ||
খেলাধূলা কাজে যুক্ত ছিলে
দিয়েছ নূতন ধারণা |
যুক্ত সবাই খুশী হত সার্থক হত
পেয়ে তত প্রেরণা ||
রথীন বোস তোমায় আমরা
ভুলিনি ভুলব না
আমাদের সবার মাঝে থাকবে তুমি
রইবে তোমার আনাগোনা ||
রথীন বোস অমর রহে,
রথীন বোস লাল সেলাম |
তোমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব
এই প্রতিজ্ঞা দিয়ে গেলাম ||

.              ****************             
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর