কালসিন্ধুর কবিতা ৪ কবি অমিত চক্রবর্তী “কালসিন্ধুর কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা, রচনা ১৯৯৬-২০০২, প্রকাশ ২০১০আগস্ট। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩.৬.২০২১।
একা আমি বসে আছি কালসিন্ধুতীরে দেখা দিল তীব্র সারস সহস্র ব্যর্থতার পর ব্যর্থ হওয়ার নতুন কিছু আঙ্গিক শেখা যাবে বলে এই যাত্রাপথে শূণ্যতার সামনে দাঁড়ালে শূন্যের সবদিকেই দরজা সবদিকেই জানালা সম্মুখভাগই পশ্চাৎ পশ্চাৎই তার পাখিমুখ তার ঊর্ধ্ব-অধঃ নেই ঈশাণ-নৈঋত নেই তবু একটা টান আছে সুনিশ্চিত কোয়ান্টাম বলবিদ্যার মতো এর নির্দিষ্ট কোনো ফল থাকেনা থাকে পৃথক পৃথক ফলশ্রুতি ফলে একই কবিতার পৃথক পৃথক জনক জননী তাই একা নই ভিন্ন ভিন্ন মাতরিশ্বারূপে ভৃগুবংশীদের জন্যে অগ্নি নিতে এসেছি ভাষাজননীর একুশ উৎসবে আরও দশজন পুরুষ আর একটি রমণী মুখ কালো করে তোরণদ্বারে এলো কোত্থেকে পাত্রে অগ্নি নিয়ে সবাই চলে যাচ্ছে অবশেষে আমার অবশিষ্ট ছিলনা তাহলে কি পরম শূন্যতা নিয়ে ফিরে যাবো ওই সিন্ধুপারে যেখানে কাক এসে খোলা খাতার পাতা থেকে কালো চর্বিগুলো খুঁটে খাচ্ছে তখন ওই দশ আর একা রমণী কাছে এলে বললাম, আপনারাও বাঙালি কোত্থেকে ১৯ শে মে থেকে কিন্তু তাতো জায়গার নাম হতে পারেনা সেই তীব্র সারস অন্ধকার ভেদ করে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দিয়ে নেমে এলো ৬১ সালের শিলচর স্টেশনে অবাক তাকিয়ে দেখলাম গুলিবিদ্ধ পড়ে রয়েছে একটু আগে যাদের সাথে কথা বলছিলাম
কালসিন্ধুর কবিতা ৭ কবি অমিত চক্রবর্তী “কালসিন্ধুর কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা, রচনা ১৯৯৬-২০০২, প্রকাশ ২০১০ আগস্ট। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩.৬.২০২১।
হকারদের পগার পার করে দিয়ে ঝকঝকে সিটি এসো স্বর্ণকেশী এসো লিমুজিন মুগ্ধ হই এসকল নক্ষত্রের দিকে চেয়ে কিন্তু সে যে চার হাজার বছর পূর্বেকার স্মৃতি বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ চর্মসার যে ছবি আসতে আরও চার হাজার বছর লেগে যাবে ততদিনে কতবার জন্মাবো কতবার মরবো তারপরেও এসে দেখবো এ কোন সকাল রাতের চেয়েও অন্ধকার পুকুরে আঁশঝিলিক নেই অম্লজল পাখি দু-একটা আছে বটে মাংসভূক গাছে পাতা নেই আছে কাঁটা তাই চিবোতে থাকলাম পরিবর্তিত দাঁত দিয়ে কাছিমের খোলার মতো শক্ত পিঠ খাট বিছানা লাগছে না পাশে বয়ে যাচ্ছিলো একটা সিলফিউরিক এ্যসিডের নদী পাথর দিয়ে গা ঘষে ডুব দিয়ে এলাম ভুলু আমি স্বদেশরঞ্জন ঠিক এরকম একটা নদীর ধারেই তো থাকতাম এক জীবনে কত সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করেছি পরে ভদ্র হতে চেয়ে মেয়েদের চুড়ি পরিয়েছি ফ্রক বিক্রি করেছি লালাপোষ সবুজ রিবন কত এগরোল খাইয়েছি লাইটারে গ্যাস ভরেছি মোমবাতির শিখায় মুগ্ধ প্রটেকটর শুয়োরের বাচ্চা হকারদের জন্যে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায়না এই উচ্চাঙ্গ সংগীত আর শুনতে হবেনা ওই তো ভাঙা বুলেভার পেরিয়ে চলে যায় শান্ত পে-লোডার এখন আমরা সেই কণাবাদী বলবিদ্যার কল্পিত কণিকা যা প্রত্যক্ষভাবে সনাক্ত করা যায় না কিন্তু আমাদের অস্তিত্ব পরিমাণ করার মতো ক্রিয়া রয়ে যাবে চিরকাল এই পৃথিবীতে তাই কালসিন্ধুর কবিতা
কালসিন্ধুর কবিতা ১০ কবি অমিত চক্রবর্তী “কালসিন্ধুর কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা, রচনা ১৯৯৬-২০০২, প্রকাশ ২০১০আগস্ট। মিলনসাগরে প্রকাশ ৩.৬.২০২১।
কোন দিক দিয়ে তোমার কাছে যাবো তাই ভাবতে ভাবতে তিনবার চেন পড়ে যায় ক্রিং ক্রিং ছেলেকে স্কুলে দিয়ে দুধের ডিপো সবুজ আলো জ্বললে একটা চাকতি ফেলে ঢুকে পড়ি টাইম মেশিনে হাফলিটারের চাপ আর কতক্ষণ যাদের চাকতি বেশি তারা সময়ের ঘাড়ে চেপে বেশি দুধ গ্ৰহণে সক্ষম আমার চাকতি নেই ঘোরা হয়নি পাহাড় সমুদ্র দূরের কথা খালি অন্ন চাই অন্ন চাই বলে দালভ্য পুত্র গ্লাবের কাছে কুক্কুট দৃষ্ট বুভুক্ষুর প্রার্থনা তবু পৌঁছাতে হবেই সন্ধ্যা এসে টেনে নিয়ে যায় পার্কের বেঞ্চিতে ভ্যাট থেকে ইনসু্ইং করে দূর্গন্ধ ময়লা কাগজ ওড়ে হাওয়ায় পত্রহীন কৃষ্ণচূড়ার ডালে তার দিয়ে বানানো কাকের বাসা তার ফাঁক দিয়ে চুঁইয়ে পড়া হালকা চন্দ্রমায় দেখছি একটা লাঠি বাঁকানো হাতল কেউ ধরে নেই ঠুকঠুক কাছে এসে দাঁড়ালো তারপর দ হয়ে বসে বেঞ্চিতে বললো আমার সাহায্য নিয়ে রোজ যে বসতো এখানে তার প্রয়োজন ফুরিয়েছে দেখুন আমাকে আপনার কাজে লাগে কিনা ফুরিয়েছে শব্দের আত্মশ্লাঘা বড় অস্থির করে তোলে ফুরাইনি আমি কিভাবে তা লোকে বিশ্বাস করবে আমার কাছে যা কবিতার রাজনীতির ক্ষেত্রে তাই সত্যি হয়ে দাড়িঁয়েছে ধোঁয়া টানে পাতা খায় কেন বা ফুরায় বিদির্ণ যৌবন জানে মিথ্যে স্তোকবাক্য আর মানায় না মুখে শিক্ষিত অকর্মণ্যের চেয়ে অশিক্ষিত মানবিক বেশি