| কবি মোজাম্মেল হক্-এর কবিতা |
| হজরতের নামকরণ কবি মোজাম্মেল হক্ ১৯০৩ সালে প্রকাশিত, কবির “হজরত মুহাম্মদ” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। ॥ ষষ্ঠ সর্গ॥ প্রাচীন শাস্ত্রীয় গ্রন্থে এই দেব-কুমারের আবির্ভাব-কাল আছে বর্ণিত যেমন, নূহ, ইসা, মুসা আর, যতেক পয়গম্বরে বলিয়া গেছেন যেই সব সুলক্ষণ, সেই নিরূপিত কালে, দয়াল বিভুর বরে, ঠিক সেই অপরূপ রূপ-গুণ ল’য়ে, জন্মিলা মহান্ শিশু, ধর্ম্মের দুন্দুভি-ধ্বনি, ধ্বনিত হইল মর্ত্ত্যে স্বরগনিলয়ে। পবিত্র হইল মক্কা, পাবিত্র হইল পুরী, আমেনা পবিত্রা ধন্যা এ গর্ভ ধারণে, আনন্দের পারাবার উছলি আরবে বহে ধরে না আনন্দ আজি জননীর মনে। আত্মীয় স্বজন বন্ধু, আনন্দে মগন সবে, কুমারে নিরখে আসি কাতারে কাতার, যে দেখে, সে অপলকে চেয়ে থাকে কতক্ষণ, অন্তর ভরিয়া ছুটে বিস্ময়-পাথার। শিশুর মাতুল এক পরম দৈবজ্ঞ ছিল, আকুতি-প্রকৃতি তিনি হেরি বিধিমতে, কহেন---“বালক এই, না হবে সামান্য জন, অমব অক্ষয় র’বে নশ্বর জগতে। দৈবের আদেশক্রমে, উপাড়ি অধর্ম্ম-মূল, ধর্ম্মের অমৃত-তরু করিবে বোপণ, বসি নরনারী যার সুখদ শীতল ছায়ে, কবিবে সফল জন্ম. সফল জীবন।” কি বালক যুবা বৃদ্ধ, রমণীর দল কিবা, “অন্ভুত এ দেবশিশু!” মুখে সবাকার, মহামতি মভালেব, শুনে তাই হৃষ্ট অতি, স্ফূর্ত্তিতে হইল স্ফীত হৃদয় তাঁহার। জন্মের তৃতীয় দিনে. আদর-আহ্লাদে কত, ধরিয়া শিশুরে বুকে পরম যতনে, কাবা-উপাসনালয়ে ল’য়ে যান জ্ঞানীবর, আশিস মাগেন তাঁর মঙ্গল কারণে। কিন্তু কি বিষম ভ্রম, দেখ হে জগত জন! আশিস বিলাতে ভবে জনম যাঁহার, কি বর মঙ্গল প্রদ মাগিবে গো তাঁর তরে? যাচে কি সলিল-কণা মহাপারাবার!! স্বরগে সুখ্যাতি-ধ্বনি, উঠে যাঁর অনিবার, আকাশে যশের গীতি দেবগণ গায়, মর্ত্ত্যেও বিমল খ্যাতি কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছুটিয়াছে, তাই মহম্মদ আখা? দিলেন তাঁহায়। অতঃপর স্নেহময় পিতামহ কুমারের সপ্তম দিবসে যত আত্মীয় স্বজনে, নিমন্ত্রণ করি আনি, যেমন আছিল প্রথা, তুষিলেন উপাদেয় পান ও ভোজনে, হইল তখন কিবা ভবন আনন্দনয়, আবাল-বনিতা-বৃদ্ধ উৎসবে মাতিল, কতই যতন করি’ কুমারে ধরিয়া বুকে মধুর বচনে সবে আদর করিল। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |