আমার যে কিছুই চাওয়ার ছিল না কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী
আমার কিছুই চাওয়ার ছিল না, তাই কিছুই চাইতে আসিনি।
দুপুর ভেঙে,প্রখর তাপে - নারী,সূরা আর অর্থের ঠিকাদারের ঘুম ভাঙাতে - তোমরা কপাল ভাঙ্গ প্রলোভনের দরজায়। আমি দেখে কেবল নিঃশব্দ উচ্চারণে হেসেছি।
অনন্ত শান্তির দুর্ভিক্ষে আমি তো শুধুই দৌঁড়েছি- লুন্ঠিত প্রাচুর্যের গোপনে সঞ্চিত শান্তির গোলায়। কিছু ধূর্ত ইঁদুরের চোখে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভস্ম করেছি। সেই মুহূর্তে পাহাড়ি ঝর্ণা সমতলে নেমে এসে - আমার ক্রোধে জল সিঞ্চন করেছে পরম প্রেমে।
লাভের টাকায় তিন পাত্তি খেলছিল যারা- ঈশ্বরমুখোশে অবতার সেজে বোকাদের সাধনায়, তারাই রাতের অন্ধকারে - বোবা যোনিপথে প্রানপনে প্রেম প্রবেশ করায়, যে পথে তাকেই একদিন মা প্রসব যন্ত্রনায় প্রসব করেন। ঝিকিমিকি তারা,দুরন্ত জোনাকি মিষ্টি আলো ছড়ায় না কেন- আমি রোষানলে রাতের কাছে প্রশ্ন করি।
আকর্ষণ বিহীন আলো,গন্ধ,আকাশ,বাতাস,নিরাসক্ত জ্যোৎস্না, হেমলক পান করে বিষাক্ত হয়েছে ধরণী। শুধু কবর আর চিতায় লাইন রেখে নিরুত্তাপ শান্ত মনে ফিরি।
আমার যে কিছুই চাওয়ার ছিল না, তাই কিছুই চাইতে আসিনি।
আমিতো চেয়েছিলাম ত্যাগ, তিতিক্ষা, প্রেমের তন্ময়তা ছেঁড়া তমসুকহীন এক তিলোত্তমা সমাজ ব্যবস্থা আমার কবিতা যেন কাগজের কানে, কানে কলমের কথা বলতো,তার তৃষ্ণার্থ অধরে এঁকে দিত- অনাস্বাদিত চুম্বনচিহ্ন।
ভালোবেসেছি জলাশয়, পদ্ম, শাপলা, গাছের ছায়া, আকাশের প্রতিবিম্ব, আমার কলমই নীরবতার একমাত্র ভাষা আজ স্তব্দতার মাঝে আমি ভাষাহীন, মুক, বধির ভাষা হরিণের অন্বেষায় ক্ষত, বিক্ষত অকূল প্রাণে অধীর।
নীরব দৃষ্টি হতাশা ক্ষরণে ক্লান্ত নিভৃত তমসে চেনাস্বর কথা বলে কিছু কিছু কাছাকাছি নিয়ে আসে বিপন্ন-বিষন্ন অভিব্যক্তি আমাকেও যেতে হবে অজস্র ক্ষয়ের মধ্য দিয়েই। আর নয় অপেক্ষার ব্যর্থতা, সময় ডেকেছে বহুক্ষণ।
শ্বাসটুকু যদি নিতে চাও- নখ-দাঁত শান দিয়ে,দিয়েই সূচালো মেহনতি- আর শিকারির চোখে জেগে ওঠো, এখনই রুদ্ধ খাঁচা খুলে প্রাণ বের করার সময় অনেক রক্তস্রোত অযথাই বয়ে গেছে শস্যক্ষেতে ...।
ভালোবাসার রাখীবন্ধন কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী রচনা ২২.০৮.২০২১।
ভারতের ঘরে, ঘরে আছে যত বোন রাখীহাতে হেসে, হেসে বাঁধে বন্ধন। নাড়ির টানে, মনেপ্রাণে করে আহ্বান- মঙ্গল কামনায় ভাই হোক আয়ুষ্মান।
উচ্চ-নিচ, ধনী-দরিদ্র এ মহান ব্রত, পবিত্রতায় নারীকণ্ঠে একটি প্রার্থনাই উচ্চারিত- প্রভু মঙ্গল করো, সুখী করো আমার সহোদরে, যতদিন বাঁচি যেন ভরিয়ে রাখি স্নেহাশিস আর আদরে।
এমন দেশটি কোথায় আছে, এমন ভালোবাসা- ভাই-বোনের মমত্ববোধ আর ভালো লাগায় ঠাসা। রক্তের টান, স্বর্গের সমান একই মায়ের স্মৃতি- চিরজনমের মধুর স্বাদ কি উদার রীতি।
স্মৃতির আঙিনা বেয়ে হাতে তুলে দেবো রঙিন উপহার, তার সাধের জিনিষ রাখবো হাতে মেটাবো আবদার। চিরদিনের মিলন মেলা, মিলনের এক সেতু- বহু দূর থেকে ছুটে-ছুটে আসি রাখিবন্ধন হেতু।