( নির্ভীক ভাবে এগিয়ে চলার নামই জীবন। কবি,সাহিত্যিকের লেখনী কখনও মিথ্যার আশ্রয় নেয় না তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। মিথ্যার আবরণে সত্য ঢাকা পড়ে গেছে।সেই সত্য কে উদ্ধার করতে কলম খোঁচানোর ভীষণ প্রয়োজন, না হলে একদিন আমাদের উত্তরাধিকারীরাই আমাদের কাঠগড়ায় তুলবে।আমরা অক্ষর-শিল্পের মধ্যদিয়ে সেই সত্য ও স্বচ্ছ জীবনেরই জয়গান গাইবো। আমরাই সমাজটাকে পাল্টাব এই হোক আমাদের মহান ব্রত। )
মিথ্যার আবরণে সত্য যে ঢাকা পড়ে গেছে শোনো তার গোঙানির আওয়াজ। ছিল, এখনও আছে- দেওয়ার অনেক কিছুই তো, যা দেওয়ার বাকি আছে। নিতে নিতে লালসার সিঁড়িতে রাখে মেকি প্রেম,ছলনা। জীবনের আঙিনায় পেতেছি আয়না- একবার মুখ দেখো ঝাপসা, বিকৃত ,এতো চেনা যায়না ....
লুটেপুটে খাচ্ছে দেখ যত ক্ষমতাবান বন্ধ কথার,নীরব দর্শক,শাসনে ভগবান। স্বাধীনতার চোখে জল,প্রজাতন্ত্র অজানা, সকল জাতির ভারতবর্ষ অনেকেই মানেনা।
বাপ,ঠাকুরদার ভারতবর্ষ স্বপ্নের এক দেশ, আজ দেখি দৈন্যদশা, বর্বরতা, উৎশৃঙ্খলতায় একশেষ। মানুষে মানুষে এত বিভেদ, এত অন্যায় কোথায় আছে? এখন শুধু ক্ষমতা, ঘুষ - বিবেক,মনুষ্যত্ব গেছে।
পঞ্চাশের প্রজাতন্ত্র মানুষকে পুরস্কার,সম্মান দিল, আর সংবিধানে মানুষের অধিকার,নাগরিকত্ব পেল। আজ শুনি হায় প্রজাতন্ত্র মানুষের অজানা, দিকে দিকে রক্তের হলি প্রতিবাদে তবু মানা।
সংবিধানে ন্যায়বিচার,স্বাধীনতা,সমতার কথা আছে, এখন শুধুই মৃত্যুযন্ত্রনা ন্যায়বিচার কার কাছে? বাহুবলির প্রতাপে রাত ঘুমহীন,প্রাণ ওষ্ঠাগত- ওরাই সমাজের রূপকার আর আমরা শরণাগত।
এই স্বাধীনতাই কি চেয়েছিল,এর জন্যই আত্মবলিদান, এ স্বাধীনতা দেয় না ভাত,দেয় না সম্মান। ফিরিয়ে দাও সেই ভারতবর্ষ যেথায় একতার হাসি- ছিল শত দুঃখেও খুশির সকাল, ছিল বোধ ভারতবাসী।
জেগে উঠছে প্রমত্ত কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী রচনা ১৩.০৮.২০২১।
কাব্যরশ্মির বিচ্ছুরণে উদ্ভাসিত এ বিশ্বজগৎ আমি দিবানিশি অবলোকনে ব্যাপিত শব্দ জগতে। দূর আলোকবর্ষ পেরিয়ে এসেছি জন্মের বাহুডোরে- হয়তো রব,কিছু কবো সাহিত্যের এ অঙ্গনে।
হয়তো হবে না প্রকাশিত,হয়তো গোপনেই অনন্তকাল হয়তো গোবাক্ষের অন্তরালে দেখবে মহাকাল।
গ্রহান্তরের দেবতা নইতো,হাড়-মাংস- চামড়াই সম্বল তবু হৃদয় ভরা আশার স্বপনে মরুদ্দ্যান নেশায় মশগুল। সমকালের শ্রেষ্ঠ যাঁরা শব্দের তরঙ্গে কাব্যতরী ভাসান- শ্রদ্ধাভরে তাঁদের কেতন দুহাতে ভরাই আসমান।
মানবতাবাদী আর সাম্যতা আজীবনের অন্বেষণ আমি তো কবি নই শুধু অক্ষর প্রেমিক ভীষণ।
অক্ষরনাদে আমার প্রকাশ শুধু জ্ঞানচেতনার চৈতন্য সকলে ঘুমায় আমি জাগি নিস্তব্ধতার ছন্দে,মহানন্দে। নিশান্তে অবকাশহীনতা প্রমত্ত গ্রামে,গঞ্জে আলোকিত শহরে, আমি স্তম্ভিত হই যাপনে,দেখি দুর্বৃত্তায়ন জেগে ওঠে কত মনে।
আকাশ খেলে সূর্য-তারায়,কৃষ্ণগহ্বরে ভীতিহীন, এ বুকের মাঝে গোপন রেখেছি যে দহন জ্বালা- আজ শ্রাবনে বৃষ্টিঝরুক শীতল করে প্রাণ। হাজার স্মৃতির মালা পরি কে বলে আজ একা?
আমি শব্দহীন হতে পারি এ বিমূর্ত সময়ে, মনে রেখো এখনো বিকিয়ে যায়নি লোভের দাসত্বে। এখনই ছুঁড়ে দিতে পারি শব্দহীন আগুনে এ দেহ, আঘাত করতে পারি কবিতার বজ্রবানে সত্যের আহ্বানে।
রোদ চশমার আড়ালে যতই মাপ অবিবেচক মুহূর্ত, ভুলো না বিধাতার দাঁড়িপাল্লা ঠিক মেপে দিয়েছে। ভাতের থালায় তাই তো খুঁজে পাই মেহনতি মানুষ- আজও যাঁদের স্বপ্ন খোঁজার অভিযান গ্রাম,গঞ্জ,নগরে।
ফসলের স্বাদ-গন্ধহীন ও কপালে স্বেদবিন্দু ঝরে সমানে, অবসরেও অবসরহীন ছুটে চলি ব্যস্ত মাঠের কোন্দরে ঘাম মোছাতেই মুখে হাসি,চোখ বোজে তার সুখে, লাঙ্গল ফলায় রক্ত ছোঁয়ায় লিখবো-যে কবিতাটি না মোছে।
সেই ক্ষন ঠিক ফিরে পাবো কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী রচনা ২৭.০৮.২০২১।
বরাবরই আমি আশাবাদী, চোখজোড়া স্বপ্নও ভালোবাসি - সাথে তোমাদের। রোগাতঙ্কে তোমরা কেউ, কেউ নিজেদের দুমড়ে-মুচড়ে কুঁচকে রাখো, দ্বীপের নিচের কালো ছায়া প্রতীয়মান তোমাদের হরিণচোখের নিচে। প্রগলভ হাসি আর বাজেনা ও প্রিয়মুখে।
অহর্নিশি চোখের জল ভাসায় দেবমূর্তির চরণ - মুক্তির কামনায়, কামনায়। এতো যে উদ্দ্যেগে আর হতাশার কথা ভরছ মোবাইলে, ওর যে একটু বিশ্রাম দরকার-তোমরা বিশ্বাস-ই করো না। দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য আর তারস্বরের চিৎকার-চেঁচামেচিতে বিদীর্ণ হয় নীলাকাশ - এই কেমন আছিস, ওরা কেমন আছে ..উৎকণ্ঠার প্রশ্ন, উত্তর, আর কৌতূহলে পরিপূর্ণ অলস, অবহেলিত সময়।
দিন নেই-রাত নেই কেবলই শোকবার্তায় আলোড়ন উঠছে, কেউ বলছে নাতো বয়স ছিল সত্তর, সাথে ছিল ব্রঙ্ক-নিমুনিয়া, আরও ছিল প্রেসার, সুগার? বলছো নাতো কেমো চলছিল, বাড়ির লোক ঠিকমতো নিয়ম মানেনি তাতেই হয়েছিল সংক্রমিত ! বেপরোয়া,উদাসীন, নির্লিপ্ত - কেন মুখোশ আঁটছে না কিংবা রাখছে নাকের ও মুখের নীচে। দেখতে হবে তো কে এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে খৈনি ডোলছে দূষিত হাতে,কিংবা লোভের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পথের ধুলো মাখিয়ে খাচ্ছে মুখরোচক কুখাদ্য।
কেবলি উনি আর নেই, আর কখনো আসবেন না, ইস কি ভালোবাসতেন আমায়.......... বেকার চোখের জলে, নাকের জলে ভাসতে ভাসতে জড়ানো কথার প্রলাপ বকাটা নিষ্ফল অরণ্যে রোদন মাত্র। এখুনি, এই মুহূর্তে কঠোর নিয়মে সংযত থাকতেই হবে। ছুটতে হবে রক্ষণাত্বক, যাতে কেউ না পড়ে আতান্ত্বরে। আর না পড়ে মুখে মাছি, অটুট থাকে হাসি।
এইখানেই তোমাদের সাথে আমার দ্বন্দ্ব , মতবিরোধ। তোমরা হতাশায় নিমগ্ন আর সরল বিশ্বাস গুলো ধুকে,ধুকে মরছে। অনেক বিধ্বস্ত, পঙ্গু বিশ্বাস এখনও আমার বুক জুড়ে খেলা করে। তারাই আমায় সান্ত্বনা দেয়,মনোবল বাড়ায়। নিশীথের একাকীত্বের অবসরে জোনাকির আলোয় পথ করে তারা একে, একে প্রতীয়মান পৌঢ়ত্বের এ চোখে, গভীর সোহাগে গলা জড়িয়ে বলে - তুমি কি ভাবছো, প্রত্যয় রাখো খুব শীঘ্রই এ বিপর্যয় কেটে উঠবে পৃথিবী। আমি,তুমি আমরা সকলেই আবার হাসবো আগের মতোই।
রোজ ভোরবেলার স্নিগ্ধ,শীতল, নির্মল হওয়া দৌড়াতে দৌড়াতে আমার দক্ষিণ জানালা দিয়ে ঢুকে আমার গায়ের চাদর টেনে নিয়ে ঘুম ভাঙায় আর উচ্ছলতায় বলে - ওঠো , চোখ মেলো, দেখো পূবের আকাশ কেমন লালিমায় আরক্ত। মুক্ত বিহঙ্গ ডানা মেলে উড়ছে নীল গগনে, আনন্দে উদ্ভাসিত সবুজ প্রকৃতি। এখনও সিন্দুরহীন সিঁথি ভরায় লাল নিশানে। ক্রমেই পথে পথে প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে,ফুটছে কথাকলি। দোকান খুলছে, কাগজের হকার ছুটছে সাইকেলে সংবাদের বোঝা বয়ে। প্রতিটি বেলায় ফেরিওলা ছুটছে আপন কাজে, বলছে - এখনো প্রাণ আছে তাই এখনও আশা আছে। চোখ ভরা স্বপ্ন আছে এখনও।
সময়ের কাঁটায়, কাঁটায় ভোরের রবি সমগ্র পৃথিবী কোলে নিয়ে তার কিরণ চুম্বনে উদীপ্ত করবে মানুষকে - আমরা ছুটবো জীবন সংগ্রামে। কেউ থেমে থাকবে না। থেমে তো থাকা যায়না।শুধু নিয়ম কে আঁকড়ে ধরে চলতে হবে, "জন্মিলে, মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে" এটাই যে বিধির বিধান। তাহলে মরার আগেই মরে থাকতে রাজি হবো কেন?
আমি জানি আবার প্রাণপ্রাচুর্যে মেতে উঠবে সবাই। স্রোতস্বিনী ফল্গু ধারার মতোই বয়ে চলবে জীবনধারার গতি। হৃদয়ের গহনে থেমে থাকা প্রেম জেগে উঠবে দুঃস্বপ্ন ভুলে। চারিজোরা চোখ খুঁজতে খুঁজতে খুঁজে পাবে পরস্পরের প্রিয়জনকে। মহামিলনের সানাই বাজবে প্রথম প্রহরে, আনন্দে ভরে উঠবে নিথর, স্তব্ধ পৃথিবী। আবার কফিহাউসের সেই আড্ডাটা জমে উঠবে, খোলা কলমের উৎগিরিত মুখের অক্ষরে, অক্ষরে। কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে ছুটবো ওপারে প্রাণের বন্ধুর আহবানে। কলেজ স্ট্রিটের পথে পথে পুরানো বইয়ের দোকানে আবার দুটি হাত সচল হয়ে খুঁজবে সুনীল গাঙ্গুলি,শক্তি চ্যাটার্জি, জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার, বিনয় মজুমদার, জীবনানন্দ কে। আবার সবাই মিলিত হবো নন্দনে, চিৎকারে চিৎকারে চমকে - থমকে দাঁড়াবে পথ চলতি মানুষ, কৌতূহলী দৃষ্টিতে খোঁচাবে প্রেমিকা-প্রেমিককে। মোড়ের মাথায় ফুচকার ঝুড়ির সামনে উপচে পরবে ফুচকা প্রেমিকার দল। সারাদিনের কর্মক্লান্ত মানুষ ফিরে আসবে হাসিমুখে তাঁর নিজস্ব নারীর কাছে।
আমরা চেনা ছন্দে, চেনা পথে হাঁটবো নতুন দিনের, নতুন পথের সন্ধানে।
"আকাশ ভরা সূর্য-তারা, বিশ্ব ভরা প্রাণ" সবার মাঝে ভালোবাসার থাকুক আহ্বান। . **************** . সূচীতে . . .