কবি প্রবীর কুমার চৌধুরীর কবিতা
*
অন্তনীল
কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী

নীলিমা জুড়েই নীল জীবন
ফাঁক খোঁজে অবসরহীন অন্বেষায়
তোমার রক্ত শূন্য ঠোঁটে।

এই মুহূর্তে ঝড় ওঠে
নড়বড়ে, ভাঙাচোরা নীলস্বপ্নে
নতুনের আস্বাদ খুঁজি তোমার শরীরে।

ধ্বংসের আবর্তে নীলকণ্ঠ পাখি হতে সাধ যায়
অজান্তে, মগডালে দুলছে-আকাশের চাঁদ,
আবরণ খসে জ্যোৎস্নারেণু প্রেম হয়ে ঝড়ে অন্তরে।

বিনিময় শিখিনি তো, সত্যের মুখে মুখোশ এঁটে
নীলাকাশের দমবন্ধ, মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে-
একবার তোমার পড়ন্ত শরীরের ঘ্রাণ নিতে স্বাদ জাগে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নৈঃশব্দের সংকেতে
কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী
রচনা ০৪.১২.২০২১

আস্তে আস্তে গুটিয়ে যাচ্ছে-
বিস্তৃত জীবনধারার খোলা অঙ্গন।
রাতভরে বৃষ্টি ধুয়ে দিয়েছে ক্লেদ,
স্তব্ধতায় বিশ্রামে-
জীবন দেখার বিতৃষ্ণায় মুড়ে গেছে জীবন।

জীবন হৃদে জল নিতে আসে লজ্জ্বাবণত ঘরণী-
যে ছিল মনহরিণী,
ঢাক-ঢোল বাজাতো জ্যোৎস্না রজনী,
অপরাহ্নের ঘোলা চোখে আঙুল তুলে শঙ্কিত বুকে -
কালো অন্ধকারে ঢেকে যায় মনের গবাক্ষের আকাশ।

এতদিন তো নৈঃশব্দকে ছুঁয়ে-ছুঁয়েই কেটেছে বেলা
সুপুরুষের অক্ষয় শব্দবাণী নিঃস্ব করেছে রস-রক্ত
তুমিই কেবল সপ্তরং দুইভুরুর মাঝেই রেখেছো আমায়-
চকিত চাহুনি অতন্দ্র প্রহরী বাহুতে আগলায়।

আজ জীবন রইল পড়ে অনাদরে ,তুমি বহুদূরে
অশনির সংকেত হারায় পড়ন্ত বেলার দীর্ঘশ্বাস
জীবনে দেখাই হলোনা স্রোতস্বিনী,পলিভরা উর্বশী নদী
পড়ে আছে দেখি পথে কত শুভ্র মরাহাঁস।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ঝরছে পাতা ঝরছে
কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী
রচনা ০২.১২.২০২১

নিরম্বু উপবাসের মতো তুমিহীন অন্তিমে আঁকড়ে ধরি,
মন্দির-মসজিদে জাত্যাভিমানের ভয়াল তরঙ্গ,
অনুভবে শিহরিত চলছে অহরহ, পাশার ছলাকলা।
জানাজা সাজায় তিতীর্ষু মধ্য গগনে ধূমকেতু,
জাজ্বল্য বাড়ায় খরতাপ রৌদ্রকিরণ ক্রোধাগ্নি তেজে।

বুকের সুগন্ধি হাড়িয়েছে কোজাগরী -
দৃষক পতাকা ওড়ায় শতসহস্র আত্মম্ভরিতায়।
প্রহসনের পিঁড়িতে বসেছে শনির শ্যেন দৃষ্টি -
বেদনার অনুরণনে দেদীপ্যমান ভয়ঙ্কর।
সজল আঁখিকোনে তুলেছে প্রাচীর কামনার শোণিত কামনা।

নিস্তেজ,
উদাসীন দায়হীন প্রাত্যহিক হেমন্ত,
বিস্ময়ে হতবাক,
অসময়ে ঝরছে পাতা ঝরছে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জ্বলে উঠুক প্রতিবাদ
কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী

চেনা গণ্ডিটা মুহুর্মুহু যাচ্ছে পাল্টে,
যতই জন্মভূমিকে দুই হাতে আঁকড়ে ধরতে চাই-
মিথ্যা ছলনায় পিচ্ছিলতায় যায় ফসকে ফসকে।
অজাতশত্রু কি কেউ থাকবে না-
প্রাত্যহিক ঘুম ভাঙবে দুঃস্বপ্নে?

তোমার চোখে চোখ রাখতে চেয়েছিলাম,
তারপর ভালোবাসার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে
স্বর্গ সীমানায় তুমি প্রহেলিকা হয়ে
হটাৎ শত মরীচিক হয়ে ধাঁধিয়ে দিলে চোখ।
এতগুলো দিন, রাত্রি, হৃদয়ের আকুলতা সমস্তই যেন
ছায়াচিত্রের নিষ্প্রাণ অভিনয় অভিনয় হয়ে গেল।

মানুষ কিভাবে হয় সম্পত্তি ,অলিখিত ক্রীতদাস?
তাবে রাখার জন্যে কি অদ্ভুত প্রলোভনের রূপচিত্রের  কৌশলে ।
দুমুঠো ভাতের বিনিমিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম, রাতে শরীর,
নিষ্ঠুর পাশবিক গর্ভের সঞ্চার,স্বার্থের উত্তর পুরুষ।
লক্ষ অগ্নিসাক্ষীর মিথ্যা অজুহাতে অগ্নিদগ্ধ কলির সীতা ।

এরই নাম যদি হয় জীবন, সমঅধিকার, বেঁচে থাকা,
তবে সতীত্বর মিথ্যা স্তুতিবাক্য মুছে উঠে আসুক যোগ্য প্রতিবাদ।
নষ্ট স্বাধীনতার জেহাদে জেগে উঠুক বাঁচার অধিকার।
আমি জীবন সংগ্রামের মিছিলের মোমবাতির আগুনেই দাহ করবো মিথ্যার অঙ্গীকার।
রক্ত, মাংসের দুর্গারা ক্রোধে ফেটে পড়ে বলুক - "সব ঝুটা হ্যায়, তফাৎ যাও"।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দুঃসহ পারাবার
কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী
রচনা ২৪.১১.২০২১

ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন শ্বাপদের মতো গহীন রাতে-
অদৃশ্য ডানায় নেমে আসে আমার ক্লান্ত দুচোখে।
ফুরিয়ে যায় জীবনের যত কবিতা,ক্ষত-বিক্ষত দুইপায়ে -
এগিয়ে চলি মিছিল,
মিছিলে অধিকার প্রত্যাশায় ।
প্রতিবাদের মোমবাতি নিভে যায়, অর্বাচীন সময়ের হাওয়ায়।

মহানগরীর বুকচিরে বয় রক্তের প্লাবন,স্রোতে ভেসে যায় অস্তিত্ব -
বিমূঢ় বাতাস গুমড়ে ওঠে মৃত্যুর করাল ছায়ায় ......।
তবুও কারা যেন লিখে যায় কবিতা, প্রতিশ্রুতি পালনে।

আজ ক্ষমতার দম্ভে, বাহুবলির আত্মম্ভরিতায় জ্বলছে -  

মানবিকতার হৃদপিন্ড, মগজ এখন লোভপোকার দখলে।
বিপ্লব,প্রতিবাদ নির্বিজ,
শান্ত। প্রত্যয়ি মতাদর্শ এখন কবরে,
ঘুমভাঙ্গা সকাল ধমকায়, চমকাই খবরের কাগজে।
অসহায় পৃথিবী অহরহ রং বদলায়,গিরগিটি চারপায়ে ছোটে,
আজ প্রেমের খাল শুকিয়ে গেছে ,স্বার্থের চুম্বন ঠোঁটে।

সম্পর্কের দেওয়ালগুলো একে একে ধ্বসে পড়ছে,
স্মৃতির আঙিনা বড়ই অচেনা,স্নেহ,ভালোবাসা পুড়ে,পুড়ে হচ্ছে ছাই।
যে জন্মগুলো স্বস্তি জাগাতো,ভবিষ্যতের সান্ত্বনা জোগাত বুকে-
আজ তার গর্ভকোষগুলো দূষিত,অপবিত্র, ছিন্নভিন্ন অতিভোগে।
আধুনিকতার কসাইখানায় যৌথসম্পর্ক রক্তাক্ত,
হাসি-কান্নার হাঁড়ি, কড়াই বহু অধিকারে বিভক্ত।

নীরবে দাঁড়িয়ে পৃথিবী আর কত মজা দেখবে
আর কতকাল দাঁড়িয়ে থাকবে নির্লজ্জ,কুৎসিত মুখে?


.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হতভাগী দুর্গা
কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী
রচনা ১১
.১১.২০২১

আপন করে,
জড়িয়ে ধরে, কে রাখে গো কোলে
নিজের খাবার, দেয় যে আবার,উপসি হাতে তুলে।
কোথায় পাবে এতো আদর,মমতার চাদর স্নেহ, ভালোবাসা-
মধুর হাসি,
মুখে রাশি-রাশি বুকে কত আশা।

এমন মানুষ কোথায় মেলে,
তাঁকেই দেখি অবহেলে কাঁদায়
রক্তকণায় ভ্রূণ গড়ে, হাজার ঝড়ে যে শিশুকে বাঁচায়।

সেইতো মা, যাঁর শুধুই ক্ষমা ত্যাগী,
স্বার্থহীন নির্লোভ-
আজীবন আশীর্বাদে,
নানান ঘাত-প্রতিঘাতে নাইতো কোন ক্ষোভ।
অন্তিমের নাভিশ্বাস, তবুও চোখে অবিশ্বাস, সন্তান শুধুই আপন
সেই জন্মদাত্রী দেখি পথে, দুর্বিসহ কোনমতে করেন জীবন-যাপন।


.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রেম-পরশে
কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী

রয়েছি একাকী, দিতে কতই বাকি, দেবো অঞ্জলি ভরে-
আমারে দিলাম তোমারে এ বিজন রাতে, দিও আপনারে।
যদি অশ্রু ঝরে, অন্তরে-অন্তরে, দহনে জ্বলিব অঙ্গারে,
তবু চিত্ত মম, ফুলসম, সুগন্ধে মাতাবে তোমা প্রেমডোরে।

ফুল-মালায় সাজানু, প্রেমে মজিনু, ওই দুটি হাতধরে,
শ্রাবনের বারিধারায়, উল্লাসে আত্মহারায়, নিয়ো গো আপন করে।

হীন থাক, প্রাচুর্য নাহি পাক,বাশুরি সুর তুলুক,
ভরা জোছনায়, নাহি অন্যায়, মিলনে-মিলনে সুখে ভরুক।
লাজে রাঙা হোক, যৌবন-সম্ভোগ, বসন উড়ুক পবনে,
গহন তমসে, মিলিব দোঁহে হরশে, চারি নয়নে,নয়নে।

.              ****************
                    
.                                                                            
সূচীতে . . .    
#ঘরানামিলেমিলে_অন্ত্যমিল
এই কবিতা গঠন প্রণালী :-

১) কবিতাটি তিনটি স্তবকে সমাপ্য। স্তবক ৪#২#৪।
২) সমগ্র কবিতাটি মোট দশ চরণের হবে।
৩) একই চরণে দুইবার শব্দের  মিল করিয়ে শেষে অন্তমিল হবে।
৪) দুইবার মিলকরণ হবে শব্দের শেষে একই  বর্ণের সমাহারে এবং অন্ত্যমিলও
একইভাবে ঘটাতে হবে।
৫) মোট দশ চরণের  কবিতাটি  এবং প্রতিটি চরণে আটটি করে শব্দ থাকবে। সাতটি
কিংবা নয়টি কখনোই হবে না।
৬) সারা কবিতা জুড়েই একটি
message (বার্তা) থাকবে।
৭) প্রতিটি চরণই এক পদী হতে হবে।
৮) কবিতাটি পাঠের সময় একটি ছন্দ বা তাল অনুভব হবে।
---
----কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী


মিলনসাগর
*
মহাবিদ্রোহ
কবি প্রবীর কুমা চৌধুরী
রচনা ১৫
.০৭.২০২১

কালো সকাল এখনো বহাল,
অঙ্গন দহনে জ্বলে  মরে,
ক্ষুধিত জীবন ভিক্ষার অন্বেষণ,
শূন্য থালা বুকে করে।
পথে-ঘাটে, মাঠে-হাটে - মিনতির  চোখ করুণা মাগে-
নিষ্ঠুর যবন চায় শুধু রমন ,হৃদয়ের মমতা অস্তরাগে।

নকল তমসুক লোভে উৎসুক,
বাহুবলি অনাচারের ঢেউ তোলে,
অক্ষম প্রতিবাদ হীন, কলঙ্কের ধ্বজা উড্ডীন,
চাতুরির কৌশলে।

সময় এসেছে এবার রুখে দাঁড়াবার,
ভেঙেচুরে কর ছত্রভঙ্গ,
আর কতকাল ঘুমাবে মহাকাল, দেখাও তোমার রণরঙ্গ।
দিনরবি ঢালো কিরণ,
পাতক বুঝুক পীড়ন, আজীবন পাপের-
অত্যাচারিত নির্ভীক হোক এসো শেখাবো সবক,
বিদ্রোহের তাপের।

.              ****************
                 
.                                                                            
সূচীতে . . .    
#ঘরানামিলেমিলে_অন্ত্যমিল
এই কবিতা গঠন প্রণালী :-

১) কবিতাটি তিনটি স্তবকে সমাপ্য। স্তবক ৪#২#৪।
২) সমগ্র কবিতাটি মোট দশ চরণের হবে।
৩) একই চরণে দুইবার শব্দের  মিল করিয়ে শেষে অন্তমিল হবে।
৪) দুইবার মিলকরণ হবে শব্দের শেষে একই  বর্ণের সমাহারে এবং অন্ত্যমিলও
একইভাবে ঘটাতে হবে।
৫) মোট দশ চরণের  কবিতাটি  এবং প্রতিটি চরণে আটটি করে শব্দ থাকবে। সাতটি
কিংবা নয়টি কখনোই হবে না।
৬) সারা কবিতা জুড়েই একটি
message (বার্তা) থাকবে।
৭) প্রতিটি চরণই এক পদী হতে হবে।
৮) কবিতাটি পাঠের সময় একটি ছন্দ বা তাল অনুভব হবে।
-------কবি প্রবীর কুমার চৌধুরী॥


মিলনসাগর