কবি প্রবুদ্ধ বাগচীর কবিতা
*
অনুষঙ্গ ভ্রমণ
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

ক্রমশ তোমার কাছে আশ্রয় খুঁজি।
পাশের বাড়ির ছেলে বিদেশ ভ্রমণ সেরে
ফিরে আসে ঘরে। দোতলার ব্যালকনি পুষ্পহীন
নতুন সারণী তুমি সাজিয়েছো উৎসবে,
এত আলোড়নে !

এমনকি পাতাঘেরা সেই বনপথ
যেখানে পায়ের ছাপ মুছে গেলে
আলোর শপথ এসে উদযাপন করে নেয়
সব ব্রতভার। দখিন বলয় থেকে
একরাশ কালো চুল, মুখোমুখি বসে বলে,
কতটা সময় তুমি দিয়েছিলে
এই স্বপ্ন-লেখে !

প্রকৃত বিস্ময় থেকে দূর চক্রযান
রাতের পোশাক ছেড়ে ভোর অভিমুখী।
আমাকে কি বলতে দেবে কারুকাজ
অথবা দেবে না কোনো উদ্ভাস, পলাশমাধুরী ---
প্রতিটি বৃষ্টি জল গভীরের রূপায়ণ
জেনে গেছ, ধুলো ওড়ে পাতার অসুখে আজ
দীর্ঘদিনভর, তোমাদের অশ্রুপথে
ছবিখানি এসে পড়ে নতমুখ বিষাদ-বালক।
কাউকে বলার আগে দুমিনিট কপালের ভাঁজ
মসৃণ শুষে নেয় কক্ষ পথ যে যেখানে
সিড়ি দিয়ে ওঠানামা করে আর
প্রতিবেশী ছেলে বিদেশভ্রমণ সেরে
ফিরে আসে ঘরে !
ক্রমশ তোমার কাছে পেতে চাই
শরণার্থী শিবিরের ভাষা
আমার ভ্রমণ মানে, একঘর
টপকিয়ে, অন্য ঘরে আসা ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আহ্বান
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

আকাশ ভাঙছে, আকাশ ভাঙছে
ঢেউ থরোথরো বাতাসে উঠছে
কীসের শব্দ?
আকাশ ভাঙছে, আকাশ ভাঙছে।

সাগর ডাকছে, সাগর ডাকছে
নির্জন স্রোতে সন্ধ্যা ছাড়িয়ে
মোহানার ঘ্রাণ?
সাগর ডাকছে, সাগর ডাকছে।

আকাশ ভাঙছে, সাগর ডাকছে
নীলাভ সময়ে পাষাণ এবার
গড়িয়ে চলল
গড়িয়ে চলল কক্ষকেন্দ্রে, উপত্যকায়
আকাশ ভেঙেছে, সাগর ডেকেছে তাকে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
একটি শীতের সন্ধ্যা
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

ওই মুখে কী দেখেছি? এত মনে পড়ে !
ওই চোখে কোন সে কাজল ছবি? এত টানে !
রাস্তায় রাস্তায় এত ঘোরাঘুরি
প্রবল কথার বান ; তবু এত জমে থাকা কথা !
ঘনিষ্ঠ উষ্ণতায় কবেই তো
সরে গেছে ব্যথা, অভিমান ----
তবু এই অন্ধকার শরীরে জড়ালে
কেন এত শীত করে? কেন?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
একটিবার
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

যাও ছুটে, রাত্রিদিন
যাও ছুটে, বীর্যহীন ক্ষোভশিখা
এই অগাধ কার্ফু রাত
হিম হাওয়ায় শব্দ দাও
                               একটিবার !

বন্দি তাপ, ঢেউ জাগে
দিন গড়ায় সন্তাপে, বাষ্পভার
স্বাদ নেব, স্বাদ নেব
এই রাতে ওই হাতের
                               একটিবার !

নীল উধাও, স্বপ্ন বিষ
বিস্মরণ কূল অথৈ, ডুবসাঁতার
তৃষ্ণাজল, আজ শোনো
ভিক্ষাদীন, এই শরীর যুদ্ধ চায়
                               একটিবার

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জাল
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

সন্তানের কাছে
সে এই অরণ্য দেখাবে না
হঠাৎ সে সরে গেল
শহর থেকে
শহরতলিতে


এখানে ম্যাজিক লন্ঠনের মতো
তার স্বপ্নগুলো
ভেঙে ফেলছিল প্রত্যাশা
বিদ্রূপ ভাসছিল, বুদবুদের মতো
ওরা কি নিজের ছেলে?

ওখানেও এবার তবে
ঘিরে আসবে জাল,
তারপর?
কোথায় পালানো?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জিজ্ঞাস্য
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

কী ভীষণ শব্দ করে জলধারা এসে
টেনে নিচ্ছে আমাদের মুখ
জলস্রোত, ছায়া সব চারিদিকে চুপ
আন্দোলিত আঙুলের দারুণ অসুখ
আজ, পাড়াময় সংক্রমণ অন্য হরফে
লিখে পথে দিচ্ছ কাঁটা
দেয়ালে ফাটলে এত অর্থহীন খোঁড়া যাতায়াতে
পাণ্ডুরং সব চপলতা
অন্ধকারে ঠেস দিয়ে এইসব উপদ্রুত দিন
পাড় ভাঙে, ঘুম-ঘোর স্মৃতি সিক্ত ঢেউ
জলধ্বনি মুছে নিলে পূর্বমেঘ অস্তাচল বাঁধ
কোথাও নিজের ছবি খুঁজবে না কেউ?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তিন টুকরো
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

১. ভাষা কি কখনো জ্বলে?
নিরুচ্চারের বাসভূমি ঘিরে
বোধিহীন সম্বলে !

২. ছায়া কি কোথাও ভাসে?
ক্রমজায়মান রাগিনী প্রপাতে
মুখোমুখি সন্ত্রাসে !

৩. বলো তো নদী কি থামে?
পারাপার ছুয়ে বাউল, স্রোতের
অবিরত সংক্রামে?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বন্ধুতার মানচিত্র ৩
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

অকপট কথা বলার দিন ফুরিয়ে এল।
এখন রাস্তা থেকে কাগজ কুড়োই
আর লিখে রাখি
কোথায় কোথায় কথা ছিল সোচ্চার হবার।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বন্ধুতার মানচিত্র ১
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

এইসব জোড়গুলি খুলে দেখছি
কেমন করে লাগাও তোমার রঙ তুলি,
বন্ধুতার শব্দগুলি
কীভাবে ঝুঁকে থাকে নীচের দিকে ;
খুব স্রোত থেকে
একে একে শীতকাল
জমে থাকে মরচে ধরা বেডিং
আর প্রগলভতায় ।

যাতায়াতের পথ
আজ ভরে উঠছে বন্ধুতায়।
কেন?
এরকমভাবে দেখাশোনা হতে হতে
আসলে কোনো কথাই
বলা হবে না কোনোদিন।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বন্ধুতার মানচিত্র ২
কবি প্রবুদ্ধ বাগচী

পতাকা টাঙানো যখন আরম্ভ হল
তখন আমার ঘড়িতে দশটা বেজে দশ
টিপ টিপ বৃষ্টি পথে পিছলে যাচ্ছে বাস,
তারপর আর কিছু জানি না।
কখন শেষ হল সেই পতাকার দৌড়
সকালে পৌঁছে দেখলাম
শুধু একটা দড়ি, ঘড়িতে দশটা বেজে দশ

বন্ধুরা সরিয়ে নিয়েছে পতাকা আর রং-তুলি

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর