কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
দার
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রকাশিত সারস্বত ষাণ্মাষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পত্রিকার ১৪১৯ সালের নবান্ন ও কার্তিক-চৈত্র সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
যতই ভাবি বিছানায় ঘুমাবো না আমি
দিন রাত বেড়াব ঘুরে মেঘ বলাকার মতো
ততই বিছানা আমায় নিবিড় করে কাছে টানে।
যতই ভাবি জনপদের কোলাহলে থাকব না
নির্জন প্রান্তরে বসে করে যাবো জীবন সাধনা
ততই জড়িয়ে ধরে মা-মাটি-মানুষ।
যতই ভাবি এ পৃথিবীর ব্যথা বেদনা থেকে চাই মুক্তি
কাটাবো জীবন নিত্য সুখের আনন্দ আলয়ে
ততই মায়া মমতা জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো।
যখন তোমার নয়নের জলে ভাসে বাসর বিছানা
তখন টের পাই, গভীর বিস্ময়ে চেয়ে থাকি মুখপানে
ভাবি, তুমি কত জড়িয়ে রয়েছ প্রাণেমনে।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রকাশিত সারস্বত ষাণ্মাষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পত্রিকার ১৪১৯ সালের নবান্ন ও কার্তিক-চৈত্র সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
যতই ভাবি বিছানায় ঘুমাবো না আমি
দিন রাত বেড়াব ঘুরে মেঘ বলাকার মতো
ততই বিছানা আমায় নিবিড় করে কাছে টানে।
যতই ভাবি জনপদের কোলাহলে থাকব না
নির্জন প্রান্তরে বসে করে যাবো জীবন সাধনা
ততই জড়িয়ে ধরে মা-মাটি-মানুষ।
যতই ভাবি এ পৃথিবীর ব্যথা বেদনা থেকে চাই মুক্তি
কাটাবো জীবন নিত্য সুখের আনন্দ আলয়ে
ততই মায়া মমতা জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো।
যখন তোমার নয়নের জলে ভাসে বাসর বিছানা
তখন টের পাই, গভীর বিস্ময়ে চেয়ে থাকি মুখপানে
ভাবি, তুমি কত জড়িয়ে রয়েছ প্রাণেমনে।
*********************
শোণিতাক্ত শাসক
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মধ্যপ্রদেশের মধ্যমা পত্রিকার ২০১৩ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
জলশূন্য উদরে বাহিত উজাগর বাত,
বৃক্ষের পল্লবে নাভিশ্বাস প্রচীয়মান,
এ কোন অভিনব সভ্যতার
উৎসবের উদয়ন?
কপট ভালবাসায় দীর্ঘমেয়াদী
অতিক্রান্ত পথ,
ধর্ষিত উতল হাওয়ায় ভেসে যায়
অসহ্য জীবনের
অসামান্য উড়ুপ ; এভাবে বেঁচে
থাকার নিদর্শন
আর কোন দেশে আছে বলতো
'নিখিলনাথ'
প্রশ্নের ধরণ মর্মে শূল হয়ে বিঁধবে
ভাবেনি ঝিম্ মেরে থাকা
শোণিতাক্ত শাসক।
হায়! দণ্ড বিধানে ভীষণ তৎপর
অনুসঙ্গে রাও
স্ববৃত্তি করে পরদেশীর মতো,
উদ্ভুত বিষময়
পরিস্থিতি বিগড়ে দেয় দেশপ্রেম, বাসনা।
যে প্রবল উন্মাদনায় অঙ্কুরিত
মনোজ্ঞ কুসুম,
তার শেষ পরিণতিতে উন্নিদ্ররাত ক্রন্দনে
প্লাবিত করে কাঙ্ক্ষিত ফসলের
শরীর। কা’রো
সাধ্য নেই উপযাচক রবাহুত হয়ে
করে গতিরোধ।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মধ্যপ্রদেশের মধ্যমা পত্রিকার ২০১৩ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
জলশূন্য উদরে বাহিত উজাগর বাত,
বৃক্ষের পল্লবে নাভিশ্বাস প্রচীয়মান,
এ কোন অভিনব সভ্যতার
উৎসবের উদয়ন?
কপট ভালবাসায় দীর্ঘমেয়াদী
অতিক্রান্ত পথ,
ধর্ষিত উতল হাওয়ায় ভেসে যায়
অসহ্য জীবনের
অসামান্য উড়ুপ ; এভাবে বেঁচে
থাকার নিদর্শন
আর কোন দেশে আছে বলতো
'নিখিলনাথ'
প্রশ্নের ধরণ মর্মে শূল হয়ে বিঁধবে
ভাবেনি ঝিম্ মেরে থাকা
শোণিতাক্ত শাসক।
হায়! দণ্ড বিধানে ভীষণ তৎপর
অনুসঙ্গে রাও
স্ববৃত্তি করে পরদেশীর মতো,
উদ্ভুত বিষময়
পরিস্থিতি বিগড়ে দেয় দেশপ্রেম, বাসনা।
যে প্রবল উন্মাদনায় অঙ্কুরিত
মনোজ্ঞ কুসুম,
তার শেষ পরিণতিতে উন্নিদ্ররাত ক্রন্দনে
প্লাবিত করে কাঙ্ক্ষিত ফসলের
শরীর। কা’রো
সাধ্য নেই উপযাচক রবাহুত হয়ে
করে গতিরোধ।
*********************
রংমহলের বারান্দা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কাটোয়া, বর্ধমান থেকে ত্রৈমাসিক অজয় পত্রিকার ৩৯বর্ষ ১১৩ (শারদ) সংখ্যায়, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
অস্ত্রগুলো লুকানো ছিল সলিল আচ্ছাদনে
জানতো একমাত্র কাকপক্ষী শকুন,
সিরাজ জানতো মিরজাফর, মদনলাল
থাকতে সুরক্ষিত সিংহাসন, হিমঘর, প্রাসাদ।
একমাত্র যে জানতো না সে প্রাণমন ঢেলে
হুংকার ছাড়ছিল দ্বিপদের জঙ্গলে।
জঙ্গলের মঙ্গল কীটপতঙ্গেরা ওর অজ্ঞতার
সুযোগ বুঝে এমন ম্যাজিক দেখাল,
যে সলিল আচ্ছাদন বাষ্প হয়ে উড়ে গেল আকাশে।
আকাশ থেকে বর্ষণ হতে লাগল
বারুদ গন্ধ গায়ে মেখে চোখ ধাঁধানে আয়ুধ
চক্ষু চড়কগাছ করে মুলুক ছাড়ল পালের গোদা
বায়ুযানে আর হিমঘরে বসে ঝিমোতে
লাগল বিশ্বস্ত কতিপয় বশংবদ সারমেয়।
স্বপ্নেও ভাবেনি সিরাজ বাংলা হাতছাড়া হবে,
ঘুঘু চড়বে জগৎশেঠের রংমহলের মর্মর বারান্দায়।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কাটোয়া, বর্ধমান থেকে ত্রৈমাসিক অজয় পত্রিকার ৩৯বর্ষ ১১৩ (শারদ) সংখ্যায়, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
অস্ত্রগুলো লুকানো ছিল সলিল আচ্ছাদনে
জানতো একমাত্র কাকপক্ষী শকুন,
সিরাজ জানতো মিরজাফর, মদনলাল
থাকতে সুরক্ষিত সিংহাসন, হিমঘর, প্রাসাদ।
একমাত্র যে জানতো না সে প্রাণমন ঢেলে
হুংকার ছাড়ছিল দ্বিপদের জঙ্গলে।
জঙ্গলের মঙ্গল কীটপতঙ্গেরা ওর অজ্ঞতার
সুযোগ বুঝে এমন ম্যাজিক দেখাল,
যে সলিল আচ্ছাদন বাষ্প হয়ে উড়ে গেল আকাশে।
আকাশ থেকে বর্ষণ হতে লাগল
বারুদ গন্ধ গায়ে মেখে চোখ ধাঁধানে আয়ুধ
চক্ষু চড়কগাছ করে মুলুক ছাড়ল পালের গোদা
বায়ুযানে আর হিমঘরে বসে ঝিমোতে
লাগল বিশ্বস্ত কতিপয় বশংবদ সারমেয়।
স্বপ্নেও ভাবেনি সিরাজ বাংলা হাতছাড়া হবে,
ঘুঘু চড়বে জগৎশেঠের রংমহলের মর্মর বারান্দায়।
*********************
ক্ষরণ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রঘুনাথপুর ঝাড়গ্রাম পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে, আশুতোষ রানা দ্বারা সম্পাদিত, আসতে পারি সাহিত্য ও সংস্কৃতি পত্রিকার ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আমার চারপাশে অভিনব মহড়া
সাথে থেকেও কেউ নেই
বৈকালিক খামচখামচি পরচর্চায়
আমার বাড়ির সম্মুখে খড়ের ঘর
অন্ধকার চৌপরদিন খেলা করে
উত্তরে দিনে চুপ, রাত্রে মদমত্ত তাণ্ডব
কানে আঙুল রাখি
দক্ষিণে বদ্ধ হাওয়া
স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত আমি
একমাত্র পূবে রোদের আলো
সকাল বেলায় উঠোনজুড়ে খেলা করে
খুশি থাকি তখন
নেই পরকালের বিষণ্ণতা
ইহকালের খাতা খুললে রোমাঞ্চ লাগে
চব্বিশ ঘন্টা হাতুড়ি পেটায় বুকে
ক্ষুব্ধ হৃদয়, ক্ষরিত হয় তাজারক্ত।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রঘুনাথপুর ঝাড়গ্রাম পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে, আশুতোষ রানা দ্বারা সম্পাদিত, আসতে পারি সাহিত্য ও সংস্কৃতি পত্রিকার ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আমার চারপাশে অভিনব মহড়া
সাথে থেকেও কেউ নেই
বৈকালিক খামচখামচি পরচর্চায়
আমার বাড়ির সম্মুখে খড়ের ঘর
অন্ধকার চৌপরদিন খেলা করে
উত্তরে দিনে চুপ, রাত্রে মদমত্ত তাণ্ডব
কানে আঙুল রাখি
দক্ষিণে বদ্ধ হাওয়া
স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত আমি
একমাত্র পূবে রোদের আলো
সকাল বেলায় উঠোনজুড়ে খেলা করে
খুশি থাকি তখন
নেই পরকালের বিষণ্ণতা
ইহকালের খাতা খুললে রোমাঞ্চ লাগে
চব্বিশ ঘন্টা হাতুড়ি পেটায় বুকে
ক্ষুব্ধ হৃদয়, ক্ষরিত হয় তাজারক্ত।
*********************
মাতৃভাষা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রঘুনাথপুর ঝাড়গ্রাম পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে, আশুতোষ রানা দ্বারা সম্পাদিত, আসতে পারি সাহিত্য ও সংস্কৃতি পত্রিকার ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আমার চোখ দুটো অন্ধ করে দাও
যে চোখে দেখেছি সুজলা সুফলা বাংলা
সে চোখে দেখতে চাই না
রক্তে ভেজা মায়ের আঁচল।
আমাকে বধির করে দাও
যে কানে শুনেছি রবি-নজরুলের গান
ভোরে পাখিদের কলতান
তটিনীর কলকল ধ্বনি
সে কানে শুনতে চাই না বন্দুকের গর্জন।
মনের মধ্যে যে ভাষা বার বার ঘুরপাক খায়
সে আমার মাতৃভাষা, তাকেই লালন
করে যাব আমৃত্যুকাল ;
এভাষা আমার গরীয়সী মায়ের মতন।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রঘুনাথপুর ঝাড়গ্রাম পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে, আশুতোষ রানা দ্বারা সম্পাদিত, আসতে পারি সাহিত্য ও সংস্কৃতি পত্রিকার ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আমার চোখ দুটো অন্ধ করে দাও
যে চোখে দেখেছি সুজলা সুফলা বাংলা
সে চোখে দেখতে চাই না
রক্তে ভেজা মায়ের আঁচল।
আমাকে বধির করে দাও
যে কানে শুনেছি রবি-নজরুলের গান
ভোরে পাখিদের কলতান
তটিনীর কলকল ধ্বনি
সে কানে শুনতে চাই না বন্দুকের গর্জন।
মনের মধ্যে যে ভাষা বার বার ঘুরপাক খায়
সে আমার মাতৃভাষা, তাকেই লালন
করে যাব আমৃত্যুকাল ;
এভাষা আমার গরীয়সী মায়ের মতন।
*********************
না
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রঘুনাথপুর ঝাড়গ্রাম পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে, আশুতোষ রানা দ্বারা সম্পাদিত, আসতে পারি সাহিত্য ও সংস্কৃতি পত্রিকার ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
মাঝেমধ্যে যা বলতে চাই
হয় না বলা।
মাঝেমধ্যে যে পথে যেতে চাই
হয় না যাওয়া।
মাঝেমধ্যে ভালো খাবার খেতে চাই
হয় না খাওয়া।
কারণ---
গুছিয়ে সব কথা বলতে পারি না,
আসল পথের ঠিকানা জানি না.
পকেটে পয়সা থাকে না।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রঘুনাথপুর ঝাড়গ্রাম পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে, আশুতোষ রানা দ্বারা সম্পাদিত, আসতে পারি সাহিত্য ও সংস্কৃতি পত্রিকার ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
মাঝেমধ্যে যা বলতে চাই
হয় না বলা।
মাঝেমধ্যে যে পথে যেতে চাই
হয় না যাওয়া।
মাঝেমধ্যে ভালো খাবার খেতে চাই
হয় না খাওয়া।
কারণ---
গুছিয়ে সব কথা বলতে পারি না,
আসল পথের ঠিকানা জানি না.
পকেটে পয়সা থাকে না।
*********************
স্বর্গ নরক
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কালপুর, কড়িধ্যা, বীরভূম থেকে, সোনালী রোদ্দুর সাহিত্য পত্রিকার আশ্বিন, ১৪২০-র শারদ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
কিভাবে এ দেশে তুমি পেতে চাও লোক?
কি ভাবে ভুলতে চাও ভুবনের শোক?
যে ভাবে প্রতিদিন মরছে লোকজন।
কাহার সাধ্য নেই রুখতে এ কারণ॥
জন্ম মৃত্যু নিয়ে এ জাগৎ সংসার।
মৃত্যু শোকে মানুষ করে হাহাকার॥
চিরদিন শোকে সে থাকে না মৃহ্যমান।
জৈবিক তাড়নায় বাঁচাতে হয় প্রাণ।
জীবাত্মা পরাত্মায় যবে মিলে যাবে।
নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তিলাভ হবে॥
কোথা স্বর্গ কোথা নরক জানে না জীব।
মায়া ফাঁদে ঘুরে মরে কাঁদে অহর্দিব।
মনেতে বিশ্বাস রাখো নরদেবতায়।
এ ভুবন স্বর্গধাম, কর্ম করা চায়॥
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কালপুর, কড়িধ্যা, বীরভূম থেকে, সোনালী রোদ্দুর সাহিত্য পত্রিকার আশ্বিন, ১৪২০-র শারদ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
কিভাবে এ দেশে তুমি পেতে চাও লোক?
কি ভাবে ভুলতে চাও ভুবনের শোক?
যে ভাবে প্রতিদিন মরছে লোকজন।
কাহার সাধ্য নেই রুখতে এ কারণ॥
জন্ম মৃত্যু নিয়ে এ জাগৎ সংসার।
মৃত্যু শোকে মানুষ করে হাহাকার॥
চিরদিন শোকে সে থাকে না মৃহ্যমান।
জৈবিক তাড়নায় বাঁচাতে হয় প্রাণ।
জীবাত্মা পরাত্মায় যবে মিলে যাবে।
নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তিলাভ হবে॥
কোথা স্বর্গ কোথা নরক জানে না জীব।
মায়া ফাঁদে ঘুরে মরে কাঁদে অহর্দিব।
মনেতে বিশ্বাস রাখো নরদেবতায়।
এ ভুবন স্বর্গধাম, কর্ম করা চায়॥
*********************
আমি ঈশ্বর হবো
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
ঝাড়খণ্ড থেকে প্রকাশিত বিশেষ সাহিত্য সংস্কৃতি পত্রিকা শুভ্রা-র ২১শে ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
জলেপুড়ে যাচ্ছে পাঁজরের হাড়
কখন বৃষ্টি নামবে
নাকি বেড়াতে গেছে ও রাজস্থানে?
এদিকে সময় খামচাচ্ছে
দই, ক্ষীর, বিরিয়ানি খাবো বলে।
আমার কলম দিনে থর প্রদক্ষিণ করে
রাত বাড়লে কুসুমকলি
ও কুসুম তুই ফুটবি কবে?
অর্থ চাই, বয়স পেরিয়ে গেল,
বেলা দশটায়---
গরম ভাতের গন্ধ শোঁকা হলো না আমার।
চাকুরী নেই, তাই স্বপ্ন ডাঙায় ঘুঘু চরে।
ঈশ্বরেরও চাকরী নেই
তবু ঈশ্বর ভালবাসা পায়, ভক্তি কুড়োয়,
আমি ঈশ্বর হবো
দরজায় দরজায় ঘুরবো
একটু ভালবাসা দেবে আমাকে?
দেবে? একটু নিখাদ ভালবাসা!
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
ঝাড়খণ্ড থেকে প্রকাশিত বিশেষ সাহিত্য সংস্কৃতি পত্রিকা শুভ্রা-র ২১শে ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
জলেপুড়ে যাচ্ছে পাঁজরের হাড়
কখন বৃষ্টি নামবে
নাকি বেড়াতে গেছে ও রাজস্থানে?
এদিকে সময় খামচাচ্ছে
দই, ক্ষীর, বিরিয়ানি খাবো বলে।
আমার কলম দিনে থর প্রদক্ষিণ করে
রাত বাড়লে কুসুমকলি
ও কুসুম তুই ফুটবি কবে?
অর্থ চাই, বয়স পেরিয়ে গেল,
বেলা দশটায়---
গরম ভাতের গন্ধ শোঁকা হলো না আমার।
চাকুরী নেই, তাই স্বপ্ন ডাঙায় ঘুঘু চরে।
ঈশ্বরেরও চাকরী নেই
তবু ঈশ্বর ভালবাসা পায়, ভক্তি কুড়োয়,
আমি ঈশ্বর হবো
দরজায় দরজায় ঘুরবো
একটু ভালবাসা দেবে আমাকে?
দেবে? একটু নিখাদ ভালবাসা!
*********************
গণদেবতা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বিশাখাপত্তনম, কাকনি নগর থেকে প্রকাশিত, আমাদের কফি হাউসে মাসিক সাহিত্য পত্রিকার এপ্রিল ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত। এই কবিতাটিই নরদেবতা শিরোনামে, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে প্রকাশিত সমাচার ৬ষ্ঠ বর্ষ, বিশেষ শারদ সংখ্যা ১৪২০ (নভেম্বর ২০১৩) তে প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
অনেক জপেছি অনেক ভজেছি আর ভজবোনা,
ফুল বেলপাতাতে তোমার পায়ে অঞ্জলি দেবনা।
গত বছর বলেছি তোমায় অঞ্জলি দিয়ে পায়,
দেশ-দশের ভালো করো মাগো কানে কথা শোন নাই।
ভালোতো হলোনা বরং দুর্নিতী বেড়েছে দিনে দিনে,
ভক্তের কথা তুমি শোননা বুঝেছি তা দুর্দিনে।
ধাপ্পা আর গুলগাপ্পায় চলেছে এখন দেশ,
নেই কোন ছাতা নেই তার মাথা আছে দুঃখ ক্লেশ।
এদেশ ও দেশ বহু ঘুরলাম সকলের এক কথা,
হতাশ বিষাদ বেড়েছে দ্বিগুণ, কারো নেই মাথা ব্যাথা।
দেবতা তোমরা মন্দিরে আছো মানুষকে বানিয়ে বোকা,
মানুষ আজ প্রতি পদে-পদে খাচ্ছে ঠগীর ধোকা।
যেদিকে তাকায় দেখতে যে পায় কারা তোমার ভক্ত,
কিংবা যারা ভণ্ড, শঠ তারা যায় মন্দিরে,
দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পূজো নাও ঘটা করে।
জ্ঞানী মহাঋষি বলেছেন সবে মানুষের অন্তরে
দেবতার বাস. নয় কোন গীর্জা, মসজিদ, মন্দিরে।
তবে কেন মানুষ করেনা পূজা নরকে দেবতাজ্ঞানে?
আমি বুঝিনা দেউলে পান্ডেলে এ পুজার কী মানে?
জাঁক-জমকে করলে পূজা তোমার পূজা কী হয়?
নাকি নয়ন জলে ভক্তি চিতে ডাকলে পাওয়া যায়।
দিবানিশি যদি সে ভাবে ডাকি আপন গৃহের কোণে
ধর রতনের নেই প্রয়োজন জপ তপ ধ্যানে জ্ঞানে।
কোটি কোটি টাকা খরচ করে পুজো না করার চেয়ে,
দীন দরিদ্রের সেবা কর সবে দেবতাকে যাবে পেয়ে।
ভেদবুদ্ধি রবে যতদিন হবেনা শুদ্ধ অন্তঃপুর।
তাই মাগো আর দেবনা তোমায় ফুলে ফলে অঞ্জলি,
দূর করো মাগো মনের কালিমা, মানুষকে দেবতা বলি।
তুমি যে মাগো দনুজ দলনী, মানবাসুরে নাশো,
নইলে দেশের হবেনা শুভ, সবারে ভালবাসো।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বিশাখাপত্তনম, কাকনি নগর থেকে প্রকাশিত, আমাদের কফি হাউসে মাসিক সাহিত্য পত্রিকার এপ্রিল ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত। এই কবিতাটিই নরদেবতা শিরোনামে, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে প্রকাশিত সমাচার ৬ষ্ঠ বর্ষ, বিশেষ শারদ সংখ্যা ১৪২০ (নভেম্বর ২০১৩) তে প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
অনেক জপেছি অনেক ভজেছি আর ভজবোনা,
ফুল বেলপাতাতে তোমার পায়ে অঞ্জলি দেবনা।
গত বছর বলেছি তোমায় অঞ্জলি দিয়ে পায়,
দেশ-দশের ভালো করো মাগো কানে কথা শোন নাই।
ভালোতো হলোনা বরং দুর্নিতী বেড়েছে দিনে দিনে,
ভক্তের কথা তুমি শোননা বুঝেছি তা দুর্দিনে।
ধাপ্পা আর গুলগাপ্পায় চলেছে এখন দেশ,
নেই কোন ছাতা নেই তার মাথা আছে দুঃখ ক্লেশ।
এদেশ ও দেশ বহু ঘুরলাম সকলের এক কথা,
হতাশ বিষাদ বেড়েছে দ্বিগুণ, কারো নেই মাথা ব্যাথা।
দেবতা তোমরা মন্দিরে আছো মানুষকে বানিয়ে বোকা,
মানুষ আজ প্রতি পদে-পদে খাচ্ছে ঠগীর ধোকা।
যেদিকে তাকায় দেখতে যে পায় কারা তোমার ভক্ত,
কিংবা যারা ভণ্ড, শঠ তারা যায় মন্দিরে,
দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পূজো নাও ঘটা করে।
জ্ঞানী মহাঋষি বলেছেন সবে মানুষের অন্তরে
দেবতার বাস. নয় কোন গীর্জা, মসজিদ, মন্দিরে।
তবে কেন মানুষ করেনা পূজা নরকে দেবতাজ্ঞানে?
আমি বুঝিনা দেউলে পান্ডেলে এ পুজার কী মানে?
জাঁক-জমকে করলে পূজা তোমার পূজা কী হয়?
নাকি নয়ন জলে ভক্তি চিতে ডাকলে পাওয়া যায়।
দিবানিশি যদি সে ভাবে ডাকি আপন গৃহের কোণে
ধর রতনের নেই প্রয়োজন জপ তপ ধ্যানে জ্ঞানে।
কোটি কোটি টাকা খরচ করে পুজো না করার চেয়ে,
দীন দরিদ্রের সেবা কর সবে দেবতাকে যাবে পেয়ে।
ভেদবুদ্ধি রবে যতদিন হবেনা শুদ্ধ অন্তঃপুর।
তাই মাগো আর দেবনা তোমায় ফুলে ফলে অঞ্জলি,
দূর করো মাগো মনের কালিমা, মানুষকে দেবতা বলি।
তুমি যে মাগো দনুজ দলনী, মানবাসুরে নাশো,
নইলে দেশের হবেনা শুভ, সবারে ভালবাসো।
*********************
বদনাম
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
প্রগতিশীল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সাঁঝের প্রদীপ এর ২৩ বর্ষ ৭ম শ্রাবণ সংখ্যা ২০১৪ এ প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
গুরুজী বললেন,
সবুজকে ভালবাস।
ওখানে লুকিয়ে আছে বাঁচার ইন্ধন।
আর মানুষকে ভালবেসে
যদি তুমি গড়তে পারো মানব বন্ধন।
পৃথিবীটা সুন্দর হবে।
ঘুঁচে যাবে ভেদাভেদ, আপন-পর,
গড়ে উঠবে এক জাতি এক প্রাণ
দূর হবে মানুষের বদনাম।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
প্রগতিশীল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সাঁঝের প্রদীপ এর ২৩ বর্ষ ৭ম শ্রাবণ সংখ্যা ২০১৪ এ প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
গুরুজী বললেন,
সবুজকে ভালবাস।
ওখানে লুকিয়ে আছে বাঁচার ইন্ধন।
আর মানুষকে ভালবেসে
যদি তুমি গড়তে পারো মানব বন্ধন।
পৃথিবীটা সুন্দর হবে।
ঘুঁচে যাবে ভেদাভেদ, আপন-পর,
গড়ে উঠবে এক জাতি এক প্রাণ
দূর হবে মানুষের বদনাম।
*********************
