কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
আর কতকাল
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বালিগাদা জোয়ানিয়া ভালুকা, নদিয়া থেকে প্রকাশিত কথা মঞ্জুরি-বর্ষা সংকলন ২০১৩, ১ম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আর কতকাল কাঁদবে গো দুখিনী জননী,
আর কতদিন মুখবুজে যাবে সয়ে,
তোমার কুটিরে আসবে না আলো কোন দিনই ;
থাকবে নীরবে আঁধার বুকেতে ল'য়ে।
মাঝে মাঝে ওরা দেখতে আসে দৈনাদশা,
বলে যায় মিথ্যে সাজানো খাসা বুলি।
তোমার কাছে যা পাওয়ার ওরা নিয়ে যায়,
বিনিময়ে ওরা দেয় না এককণা ধুলি।
এতদিনে শুধু একটু বুঝেছি সার,
পাবে না দু'বেলা পেটভর্ত্তি আহার।
ওরা চায় না দেখতে তোমাকে হাসি খুশি,
যতই ওদের গালি মন্দে দুষি।
ওদের গাত্রচর্ম হিমালয়-সমপুরু
নিজের স্বার্থে নির্দ্বিধায় করে খুন,
কাঁপে না হাত, করে না বক্ষ দুরু,
ওদের চরিত্রে আছে সব অপগুণ।
দেশে অশান্তি পুষে রাখা ওদেব ধর্ম,
নেই মানবতা মনুষ্যত্ববোধের কর্ম।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বালিগাদা জোয়ানিয়া ভালুকা, নদিয়া থেকে প্রকাশিত কথা মঞ্জুরি-বর্ষা সংকলন ২০১৩, ১ম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আর কতকাল কাঁদবে গো দুখিনী জননী,
আর কতদিন মুখবুজে যাবে সয়ে,
তোমার কুটিরে আসবে না আলো কোন দিনই ;
থাকবে নীরবে আঁধার বুকেতে ল'য়ে।
মাঝে মাঝে ওরা দেখতে আসে দৈনাদশা,
বলে যায় মিথ্যে সাজানো খাসা বুলি।
তোমার কাছে যা পাওয়ার ওরা নিয়ে যায়,
বিনিময়ে ওরা দেয় না এককণা ধুলি।
এতদিনে শুধু একটু বুঝেছি সার,
পাবে না দু'বেলা পেটভর্ত্তি আহার।
ওরা চায় না দেখতে তোমাকে হাসি খুশি,
যতই ওদের গালি মন্দে দুষি।
ওদের গাত্রচর্ম হিমালয়-সমপুরু
নিজের স্বার্থে নির্দ্বিধায় করে খুন,
কাঁপে না হাত, করে না বক্ষ দুরু,
ওদের চরিত্রে আছে সব অপগুণ।
দেশে অশান্তি পুষে রাখা ওদেব ধর্ম,
নেই মানবতা মনুষ্যত্ববোধের কর্ম।
*********************
সুজাতার পরমান্ন
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
আসানসোল, বর্ধমান থেকে প্রকাশিত সুপ্রিয় পত্রিকার শারদ সংখ্যা ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
বুকফাটা যন্ত্রণার মুখে গঙ্গাজল দিলে
মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ যে হবে না
সে নিশ্চয়তার আশীর্বাদি পুষ্প কোথায়?
তার চেয়ে অন্ধকারে মাটিতে শুয়ে
আকাশের তারা দেখলে হৃদয় শান্ত হবে,
চিনে নিতে পারবে কোন তারার কি রঙ।
বাগানটা দাউ দাউ করে জ্বলছে এখনও
রাজপাটের লোভ নেই বলে যারা বসলো,
তাদের আগুন নেভাতে বলা মানে
পশ্বাচার প্রতিহিংসার দরজা উন্মোচন।
এ তো চাইনি তুমি-আমি।
কেবলই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি,
কবির তর্জা ঝালাপালা কান।
চেয়েছিলে নৈসর্গিক আলোতে
নিভৃতে প্রশান্তিতে শ্বাস নিতে?
ক্ষুধার নিবৃত্তির সুজাতার পরমান্ন।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
আসানসোল, বর্ধমান থেকে প্রকাশিত সুপ্রিয় পত্রিকার শারদ সংখ্যা ২০১৪ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
বুকফাটা যন্ত্রণার মুখে গঙ্গাজল দিলে
মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ যে হবে না
সে নিশ্চয়তার আশীর্বাদি পুষ্প কোথায়?
তার চেয়ে অন্ধকারে মাটিতে শুয়ে
আকাশের তারা দেখলে হৃদয় শান্ত হবে,
চিনে নিতে পারবে কোন তারার কি রঙ।
বাগানটা দাউ দাউ করে জ্বলছে এখনও
রাজপাটের লোভ নেই বলে যারা বসলো,
তাদের আগুন নেভাতে বলা মানে
পশ্বাচার প্রতিহিংসার দরজা উন্মোচন।
এ তো চাইনি তুমি-আমি।
কেবলই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি,
কবির তর্জা ঝালাপালা কান।
চেয়েছিলে নৈসর্গিক আলোতে
নিভৃতে প্রশান্তিতে শ্বাস নিতে?
ক্ষুধার নিবৃত্তির সুজাতার পরমান্ন।
*********************
সাম্যবাদের গান
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কালনা, বর্ধমান থেকে প্রকাশিত, নাগরিক সমাচার সংবাদ ও সাহিত্য পত্রিকার শারদীয়া ১৪২০ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
সামান্য এ কটা দিনে
একি দশা হয়েছে তোমার?
আগে লাল টুসটস ছিল চেহারা
গায়ে টোকর মারলে লালধানি . . .
শীতল ঘরে থেকে ভুলে গিয়েছিলে
রোদে পোড়া জলে ভেজা মানুষগুলোকে।
একদিন তোমাদের সাথে ছিলাম,
মাথায় রোদ চাপিয়ে ঘুরেছি গ্রাম-গ্রামান্তর ৷
শুকনো মুড়ি চিবিয়ে দু-আঁচল কলের
জল খেয়ে মাটিতে শুয়ে কাটিয়েছি রাত।
ইচ্ছে থাকলেও এখন নেয় না শরীর
দুঃখ হয় তোমাদের দেখে, কান্না আসে।
দিন বদলেছে, হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে
হাতের লাঠি, ভাঙা তক্তপোষে
কেটে যায় সকাল বিকেল রাত্রি।
যখন জেগে ওঠে পুরনো স্মৃতি
তখন গান শুনি নজরুল হেমাঙ্গের
সাম্যবাদের গান ; বিষণ্ণতায় ভরে মন।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কালনা, বর্ধমান থেকে প্রকাশিত, নাগরিক সমাচার সংবাদ ও সাহিত্য পত্রিকার শারদীয়া ১৪২০ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
সামান্য এ কটা দিনে
একি দশা হয়েছে তোমার?
আগে লাল টুসটস ছিল চেহারা
গায়ে টোকর মারলে লালধানি . . .
শীতল ঘরে থেকে ভুলে গিয়েছিলে
রোদে পোড়া জলে ভেজা মানুষগুলোকে।
একদিন তোমাদের সাথে ছিলাম,
মাথায় রোদ চাপিয়ে ঘুরেছি গ্রাম-গ্রামান্তর ৷
শুকনো মুড়ি চিবিয়ে দু-আঁচল কলের
জল খেয়ে মাটিতে শুয়ে কাটিয়েছি রাত।
ইচ্ছে থাকলেও এখন নেয় না শরীর
দুঃখ হয় তোমাদের দেখে, কান্না আসে।
দিন বদলেছে, হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে
হাতের লাঠি, ভাঙা তক্তপোষে
কেটে যায় সকাল বিকেল রাত্রি।
যখন জেগে ওঠে পুরনো স্মৃতি
তখন গান শুনি নজরুল হেমাঙ্গের
সাম্যবাদের গান ; বিষণ্ণতায় ভরে মন।
*********************
২০১১, ১৯শে অক্টোবরের দুটি কবিতা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
ডঃ গদাধর দে সম্পাদিত, কান্দি, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রকাশিত, ক্ষণিকা পত্রিকার ২য় বর্ষ, ১ম সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
এক
তুমি লীল আলোয় স্নান করো রাতে,
মুগ্ধ হয়ে দেখে রাতচরা পাখি, মেঘ, তারকা।
এই আলোর ভালোবাসা পাখি দিনে নিরুত্তাপ,
ঘুমে অচৈতন্য পড়ে থাকে নরম বিছানায় বেহুঁস।
মানুষের পথচলা নীরব হলে পথে প্রান্তরে,
মদ, মাংসয় জীবন্ত হয়ে ওঠে অঙ্গনে তার,
ব্ল্যাকহোল থেকে আরো কত কালোমেঘ
সে আলোয় আলোকিত হতে স্লোগান তোলে ;
কত যুগ থেকে দেখছে এ নয়ন।
হে নয়ন, এবার তুমি অন্ধ হও, দেখেছ অনেক,
এ আলোকে অবগাহন অসহ্য তোমার
দৃষ্টি প্রখর থাকলে হৃদয় আচ্ছন্ন হবে যন্ত্রণায়।
দুই
পাখি তোর ডানা ছেটে দিয়েছে শবরী, মিথ্যে নয় ;
নন্দনের ছাদ থেকে দেখ নিত্য নতুন যাত্রী,
এদের মধ্যে কেউ কেউ বহুরাপী ভ্রমরের ছদ্মবেশে,
মধু শেষ হতেই বদলেছে রঙ কিংবা তোর
সজোর ডানার ঝাপটে কাহিল ; সহ্য হয়নি তাই।
ওরা ফুলবনে থাকতে ভালবাসে চিরদিন ;
কড়া রোদে মুখ পুড়িয়ে মুখ দেখাতে এসেছে নন্দনে,
ওদের ধরা ছোঁওয়া বাতাসের মতন, হেমন্তে বসন্তে।
এখন কুকীর্তির পাতা উল্টিয়ে দেখ্ আর দগ্ধ “হ”
দৃশ্যপট বদল হতে দেরি, এই তো সবে শুরু হ'ল নাটক।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
ডঃ গদাধর দে সম্পাদিত, কান্দি, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রকাশিত, ক্ষণিকা পত্রিকার ২য় বর্ষ, ১ম সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
এক
তুমি লীল আলোয় স্নান করো রাতে,
মুগ্ধ হয়ে দেখে রাতচরা পাখি, মেঘ, তারকা।
এই আলোর ভালোবাসা পাখি দিনে নিরুত্তাপ,
ঘুমে অচৈতন্য পড়ে থাকে নরম বিছানায় বেহুঁস।
মানুষের পথচলা নীরব হলে পথে প্রান্তরে,
মদ, মাংসয় জীবন্ত হয়ে ওঠে অঙ্গনে তার,
ব্ল্যাকহোল থেকে আরো কত কালোমেঘ
সে আলোয় আলোকিত হতে স্লোগান তোলে ;
কত যুগ থেকে দেখছে এ নয়ন।
হে নয়ন, এবার তুমি অন্ধ হও, দেখেছ অনেক,
এ আলোকে অবগাহন অসহ্য তোমার
দৃষ্টি প্রখর থাকলে হৃদয় আচ্ছন্ন হবে যন্ত্রণায়।
দুই
পাখি তোর ডানা ছেটে দিয়েছে শবরী, মিথ্যে নয় ;
নন্দনের ছাদ থেকে দেখ নিত্য নতুন যাত্রী,
এদের মধ্যে কেউ কেউ বহুরাপী ভ্রমরের ছদ্মবেশে,
মধু শেষ হতেই বদলেছে রঙ কিংবা তোর
সজোর ডানার ঝাপটে কাহিল ; সহ্য হয়নি তাই।
ওরা ফুলবনে থাকতে ভালবাসে চিরদিন ;
কড়া রোদে মুখ পুড়িয়ে মুখ দেখাতে এসেছে নন্দনে,
ওদের ধরা ছোঁওয়া বাতাসের মতন, হেমন্তে বসন্তে।
এখন কুকীর্তির পাতা উল্টিয়ে দেখ্ আর দগ্ধ “হ”
দৃশ্যপট বদল হতে দেরি, এই তো সবে শুরু হ'ল নাটক।
*********************
মানব হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
৫/১,রঘুনাথপুর মজুমদার ষাটের, কলকাতা--৯ (দ্বিতল) থেকে রবীন্দ্রনাথ আচার্য কর্তৃক প্রকাশিত, সৌরভ সাহিত্য পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ১৪১৭ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আজি এ সার্ধশতবর্ষ জন্মদিনে বেজে ওঠে
মাঙ্গলিক শঙ্খ তোমাকে করি আহ্বান
কত গান গীত হয় তোমার রচিত গানে ও সুরে,
আকাশে বাতাসে মন্দ্রিত হয় কাব্যের
মধুময় ঝংকার ; তুমি শাশ্বত রবি
এ বিশ্ব আকাশে, মানুষের হৃদয়ের বেদীতলে।
হে বিশ্ব মানবতার মানবিক বিশ্বকবি,
তোমাকে আজ বড়ো প্রয়োজন এ বাংলায়,
শুধু একবার এসো নব কলেবরে হতাশাগ্রস্থ
মানুষের মনে ক্ষীয়মান বাতি জ্বেলে দিতে।
আজ বাংলার বড়ো দুঃখময়, প্রকৃতির মুখ ভার
প্রতিদিন তাজা প্রাণের রক্ত ঝরে মাটির বুকে,
সর্বত্র দেখতে পাই সকরুণ মূক মুখ। প্রত্যয়
ভালবাসার স্তম্ভগুলি বড়ো নড়বড়ে হয়ে গেছে।
তরুণ তরুণীরা হতাশায় দিন গোনে, অবিরাম
অসহ্য প্রভাত আসে পশ্চিমা হাওয়া গায়ে মেখে
এ মাটির সবুজ শরীরে। নিপীড়িত মানুষ
হারিয়েছে সুরম্য পথের দিশা ধূর্ত প্রবঞ্চকের
নিঃসীম করাল থাবায়। ক্রমশ পিঠ এগিয়ে
চলেছে দেওয়ালের দিকে ; অপসংস্কৃতির ঢেউ
লেগেছে তোমার জীবন মূল্যবোধের সংগীতে।
তবু আশা ছাড়েনি পিছু তোমার নিভীক বাণীর
মর্মকথা সার্থক রূপায়ণে এ বাংলায় বিদ্বজন।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
৫/১,রঘুনাথপুর মজুমদার ষাটের, কলকাতা--৯ (দ্বিতল) থেকে রবীন্দ্রনাথ আচার্য কর্তৃক প্রকাশিত, সৌরভ সাহিত্য পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ১৪১৭ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আজি এ সার্ধশতবর্ষ জন্মদিনে বেজে ওঠে
মাঙ্গলিক শঙ্খ তোমাকে করি আহ্বান
কত গান গীত হয় তোমার রচিত গানে ও সুরে,
আকাশে বাতাসে মন্দ্রিত হয় কাব্যের
মধুময় ঝংকার ; তুমি শাশ্বত রবি
এ বিশ্ব আকাশে, মানুষের হৃদয়ের বেদীতলে।
হে বিশ্ব মানবতার মানবিক বিশ্বকবি,
তোমাকে আজ বড়ো প্রয়োজন এ বাংলায়,
শুধু একবার এসো নব কলেবরে হতাশাগ্রস্থ
মানুষের মনে ক্ষীয়মান বাতি জ্বেলে দিতে।
আজ বাংলার বড়ো দুঃখময়, প্রকৃতির মুখ ভার
প্রতিদিন তাজা প্রাণের রক্ত ঝরে মাটির বুকে,
সর্বত্র দেখতে পাই সকরুণ মূক মুখ। প্রত্যয়
ভালবাসার স্তম্ভগুলি বড়ো নড়বড়ে হয়ে গেছে।
তরুণ তরুণীরা হতাশায় দিন গোনে, অবিরাম
অসহ্য প্রভাত আসে পশ্চিমা হাওয়া গায়ে মেখে
এ মাটির সবুজ শরীরে। নিপীড়িত মানুষ
হারিয়েছে সুরম্য পথের দিশা ধূর্ত প্রবঞ্চকের
নিঃসীম করাল থাবায়। ক্রমশ পিঠ এগিয়ে
চলেছে দেওয়ালের দিকে ; অপসংস্কৃতির ঢেউ
লেগেছে তোমার জীবন মূল্যবোধের সংগীতে।
তবু আশা ছাড়েনি পিছু তোমার নিভীক বাণীর
মর্মকথা সার্থক রূপায়ণে এ বাংলায় বিদ্বজন।
*********************
আশীর্বাদ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
সেই আগের মতই তোমার ঘরে
পোকা মাকড় কিলবিল করে
বর্ষা এলে উঠোন ভর্তি ব্যঙ
রাত্রে নাগেরা এসে আহার সেরে
সুখে নিদ্রা যায়, ভোর হলে
ফিরে যায় আপন ডেরায়।
বৃষ্টির অঝোর ধারা কাটে না চালে
সারারাত জেগে কাটে
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে কোলে।
আজো ঠিক তেমনি আছো তুমি
হয়নি কোন পরিবর্তন।
বাড়ি এলে দাওয়ায় চাটাই পেতে
আমর তো কাল কেটে গেল,
কী কৈফিয়ৎ দেব আমার উত্তর পুরুষে?
তেষটি বছরে কেউ দিলনা
সঠিক পথের সন্ধান।
তোমরা বলেছিলে,
মাথার উপর ছাদ এনে দেবে
বুকে জরিন শাড়ী দেবে
উঠোন ভরিয়ে দেবে ফুলে ফলে
এ তিরিশটা বছরে
কত সতর্ক সাইরেন
শব্দ করে ফিরে গেল
সায়রে কত ঝড় উঠল
তবু মনে পড়ল না আমাদের?
মাগো---তোমার কথা শুনে
আমার চোখে জল এসেছিল সেদিন
মুখ ফুটে বলতে পারিনি তোমায়।
মাগো---আমিও তো পুড়েছি
তোমার মত অন্তরে
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
সেই আগের মতই তোমার ঘরে
পোকা মাকড় কিলবিল করে
বর্ষা এলে উঠোন ভর্তি ব্যঙ
রাত্রে নাগেরা এসে আহার সেরে
সুখে নিদ্রা যায়, ভোর হলে
ফিরে যায় আপন ডেরায়।
বৃষ্টির অঝোর ধারা কাটে না চালে
সারারাত জেগে কাটে
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে কোলে।
আজো ঠিক তেমনি আছো তুমি
হয়নি কোন পরিবর্তন।
বাড়ি এলে দাওয়ায় চাটাই পেতে
আমর তো কাল কেটে গেল,
কী কৈফিয়ৎ দেব আমার উত্তর পুরুষে?
তেষটি বছরে কেউ দিলনা
সঠিক পথের সন্ধান।
তোমরা বলেছিলে,
মাথার উপর ছাদ এনে দেবে
বুকে জরিন শাড়ী দেবে
উঠোন ভরিয়ে দেবে ফুলে ফলে
এ তিরিশটা বছরে
কত সতর্ক সাইরেন
শব্দ করে ফিরে গেল
সায়রে কত ঝড় উঠল
তবু মনে পড়ল না আমাদের?
মাগো---তোমার কথা শুনে
আমার চোখে জল এসেছিল সেদিন
মুখ ফুটে বলতে পারিনি তোমায়।
মাগো---আমিও তো পুড়েছি
তোমার মত অন্তরে
*********************
প্রবেশ নিষেধ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
জেমো, কান্দী, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রকাশিত, শীতের সেবাঙ্কুর পত্রিকার, ৩য় বর্ষ, ডিসেম্বর ২০১৬ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
গরীব তুই বেঁচে থাক অনন্তকাল। যুগে
যুগে লেখক কবিরা তোদের অভাব,
অনটন, চাহিদা নিয়ে লিখে এসেছে
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, নাটক,
তোরা রোদে জলে পুড়ে খোলা আকাশের
তলে ; উড়াল পুলের নীচে, শীতে
কাঁপতে কাঁপতে, গ্রীষ্মে হলকা হাওয়া
খেয়ে জীর্ণ কঙ্কালসার দেহ নিয়ে
বেঁচে থাক ; আর তৃষ্ণার্ত নয়ন মেলে
চেয়ে দ্যাখ সভ্যতার অসভ্য উলঙ্গ নৃত্য।
গরীব তুই বেঁচে থাক অনন্তকাল,
নইলে কবির কলমে নেবে আসবে
অন্ধকার, ঘুণধরা সমাজে ঘুণ পোকার
রমরমা বাজার। মুখে কুলুপ আঁটা
মুখোশ পরা মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে
গ্রামগঞ্জ শহরময় ; অর্থবানেরা
গন্ধ শুঁকছে যুঁই, মালতী, রঞ্জনীগদ্ধার
বারুলী পান করে তুই পেটে জ্বালা
নিয়ে চেয়ে দ্যাখ ঝকঝকে রঙচঙা
বাড়ির কার্ণিশ, ওখানে তোদের প্রবেশ নিষেধ।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
জেমো, কান্দী, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রকাশিত, শীতের সেবাঙ্কুর পত্রিকার, ৩য় বর্ষ, ডিসেম্বর ২০১৬ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
গরীব তুই বেঁচে থাক অনন্তকাল। যুগে
যুগে লেখক কবিরা তোদের অভাব,
অনটন, চাহিদা নিয়ে লিখে এসেছে
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, নাটক,
তোরা রোদে জলে পুড়ে খোলা আকাশের
তলে ; উড়াল পুলের নীচে, শীতে
কাঁপতে কাঁপতে, গ্রীষ্মে হলকা হাওয়া
খেয়ে জীর্ণ কঙ্কালসার দেহ নিয়ে
বেঁচে থাক ; আর তৃষ্ণার্ত নয়ন মেলে
চেয়ে দ্যাখ সভ্যতার অসভ্য উলঙ্গ নৃত্য।
গরীব তুই বেঁচে থাক অনন্তকাল,
নইলে কবির কলমে নেবে আসবে
অন্ধকার, ঘুণধরা সমাজে ঘুণ পোকার
রমরমা বাজার। মুখে কুলুপ আঁটা
মুখোশ পরা মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে
গ্রামগঞ্জ শহরময় ; অর্থবানেরা
গন্ধ শুঁকছে যুঁই, মালতী, রঞ্জনীগদ্ধার
বারুলী পান করে তুই পেটে জ্বালা
নিয়ে চেয়ে দ্যাখ ঝকঝকে রঙচঙা
বাড়ির কার্ণিশ, ওখানে তোদের প্রবেশ নিষেধ।
*********************
মা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রকাশিত, শাশ্বত ভাবনা সাহিত্য পত্রিকার অনিলা দেবী সংখ্যা ২০১৩ এ প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
তোমার মতন আর কেউ সোহাগ মাখানো
আদরের সুরে কোলে নিয়ে দেখায় না চাঁদ।
বলে, না ‘আয় সোনা কাছে আয়
দুধ মাথা ভাত কাগে খায়।'
রাতের বেলায় সংসারের হাজার চিন্তায়
যখন মাথায় এলোমেলো জট পাক খায়,
ঘুম আসে না বিছানায় ;
কেউ চুলে বিলি কেটে বলে না
ঘুম খোকন সোনা।
আমি যতদিন আছি পাশে
বিপদ ঘেঁষবে না তোর পাশে।
কান্না আসে আমার
নয়নজলে বালিশ ভাসে ঘুম আসে না আর।
মাগো --- এ পৃথিবী দিতে জানে দুঃখ, শোক, যন্ত্রণা
জানি, যে চলে যায় ইহলোক ছেড়ে,
সে আসে না হেথায় ফিরে।
তবু কেন মনে হয় বার বার
মাগো, তুমি ফিরে এস একবার।
কত দুঃখ কষ্ট সয়েছ আমাদের নিয়ে
কাটিয়েছ বিনিদ্র কত রাত আধপেটা খেয়ে।
সুখের কী স্বাদ তুমি কোনদিন জানলে না,
আজীবন সয়ে গেলে নির্মম যন্ত্রণা
আমাদের মুখ চেয়ে ; নীরবে থেকেছ,
পাড়া পড়শীর কতো গঞ্জনা সয়েছ।
তবু মুখ ফুটে বলো নাই আপন হৃদয়ের ব্যথা,
আজ তুমি কাছে নাই কা'কে বলি হৃদয়ের কথা
তুমি ছাড়া কেউ নেই আমার আপন ;
তুমি যে আমার মরা গাছের ফুল ফোটান ধন।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ থেকে প্রকাশিত, শাশ্বত ভাবনা সাহিত্য পত্রিকার অনিলা দেবী সংখ্যা ২০১৩ এ প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
তোমার মতন আর কেউ সোহাগ মাখানো
আদরের সুরে কোলে নিয়ে দেখায় না চাঁদ।
বলে, না ‘আয় সোনা কাছে আয়
দুধ মাথা ভাত কাগে খায়।'
রাতের বেলায় সংসারের হাজার চিন্তায়
যখন মাথায় এলোমেলো জট পাক খায়,
ঘুম আসে না বিছানায় ;
কেউ চুলে বিলি কেটে বলে না
ঘুম খোকন সোনা।
আমি যতদিন আছি পাশে
বিপদ ঘেঁষবে না তোর পাশে।
কান্না আসে আমার
নয়নজলে বালিশ ভাসে ঘুম আসে না আর।
মাগো --- এ পৃথিবী দিতে জানে দুঃখ, শোক, যন্ত্রণা
জানি, যে চলে যায় ইহলোক ছেড়ে,
সে আসে না হেথায় ফিরে।
তবু কেন মনে হয় বার বার
মাগো, তুমি ফিরে এস একবার।
কত দুঃখ কষ্ট সয়েছ আমাদের নিয়ে
কাটিয়েছ বিনিদ্র কত রাত আধপেটা খেয়ে।
সুখের কী স্বাদ তুমি কোনদিন জানলে না,
আজীবন সয়ে গেলে নির্মম যন্ত্রণা
আমাদের মুখ চেয়ে ; নীরবে থেকেছ,
পাড়া পড়শীর কতো গঞ্জনা সয়েছ।
তবু মুখ ফুটে বলো নাই আপন হৃদয়ের ব্যথা,
আজ তুমি কাছে নাই কা'কে বলি হৃদয়ের কথা
তুমি ছাড়া কেউ নেই আমার আপন ;
তুমি যে আমার মরা গাছের ফুল ফোটান ধন।
*********************
দৃষ্টির সম্মুখে
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মাহেশ, হুগলি থেকে প্রকাশিত লোকায়ত পত্রিকায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
দৃষ্টির সম্মুখে কত কী ঘটছে এখন
যে নিঃসন্তান বুড়িটার পাঁচ কাঠা জমি ছিল,
পাঁচজন বর্গাদার থাবা বসিয়েছিল সেখানে।
যে মেয়েটার শ্রাবণের নদীর মতো যৌবন ছিল,
ছিল রূপের ছটা, তার মৃত্যু হয়েছিল
নরপশুর পাশব আঁচড়ে। এসব চোখের
সামনে ঘটছে এখন। বলার উপায় নেই।
লালবাড়ির ছাদের নীচে যে ওদের আশ্রয়,
ঐ বাড়ির অন্দর মহল কত বদলেছে, তা
দূর থেকে বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না এখন।
ভোলাপিসি মেলা থেকে একটা নেকড়ে
এনে দিয়ে বলেছিল, একে পুষে রাখ খাঁচায়,
ভাল ভাল খাবার দিবি, সোহাগ করবি,
দেখবি ওর স্বভাব চরিত্র পাল্টে যাবে,
উপকারে আসবে তোর। আমি তা'র অলক্ষ্যে
মুখ টিপে হেসেছিলাম। একদিন কাউকে না জানিয়ে
তাকে ছেড়ে দিলাম অরণ্যে। বদলে নিয়ে এলাম
চন্দনা। তার গলায় লাল দাগ ছিল।
আমার প্রিয় সেই লাল। মনটা ছিল তা’র
গায়ের মতো সবুজ ; সে আমার সাথে খেলতো,
আমি স্বপ্ন দেখতাম ওকে নিয়ে, শূন্য আকাশে
মেঘ এনে বৃষ্টি ঝরানোর স্বগ্ন। সে স্বপ্ন
একদিন ভেঙে গেল কাঁচের মতো ; এখন পাশে
কেউ নেই। যা'রা এতদিন পাশে থেকে মনে
সাহস যুগিয়েছে তা'রা আজ কেটে পড়েছে।
পাশে আছে আমার সাত পাকের ভালবাসা,
আর আছে এক জোড়া হাত, এক জোড়া পা,
মনে অসীম প্রত্যয়, অন্তরে মানবিক চেতনা।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মাহেশ, হুগলি থেকে প্রকাশিত লোকায়ত পত্রিকায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
দৃষ্টির সম্মুখে কত কী ঘটছে এখন
যে নিঃসন্তান বুড়িটার পাঁচ কাঠা জমি ছিল,
পাঁচজন বর্গাদার থাবা বসিয়েছিল সেখানে।
যে মেয়েটার শ্রাবণের নদীর মতো যৌবন ছিল,
ছিল রূপের ছটা, তার মৃত্যু হয়েছিল
নরপশুর পাশব আঁচড়ে। এসব চোখের
সামনে ঘটছে এখন। বলার উপায় নেই।
লালবাড়ির ছাদের নীচে যে ওদের আশ্রয়,
ঐ বাড়ির অন্দর মহল কত বদলেছে, তা
দূর থেকে বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না এখন।
ভোলাপিসি মেলা থেকে একটা নেকড়ে
এনে দিয়ে বলেছিল, একে পুষে রাখ খাঁচায়,
ভাল ভাল খাবার দিবি, সোহাগ করবি,
দেখবি ওর স্বভাব চরিত্র পাল্টে যাবে,
উপকারে আসবে তোর। আমি তা'র অলক্ষ্যে
মুখ টিপে হেসেছিলাম। একদিন কাউকে না জানিয়ে
তাকে ছেড়ে দিলাম অরণ্যে। বদলে নিয়ে এলাম
চন্দনা। তার গলায় লাল দাগ ছিল।
আমার প্রিয় সেই লাল। মনটা ছিল তা’র
গায়ের মতো সবুজ ; সে আমার সাথে খেলতো,
আমি স্বপ্ন দেখতাম ওকে নিয়ে, শূন্য আকাশে
মেঘ এনে বৃষ্টি ঝরানোর স্বগ্ন। সে স্বপ্ন
একদিন ভেঙে গেল কাঁচের মতো ; এখন পাশে
কেউ নেই। যা'রা এতদিন পাশে থেকে মনে
সাহস যুগিয়েছে তা'রা আজ কেটে পড়েছে।
পাশে আছে আমার সাত পাকের ভালবাসা,
আর আছে এক জোড়া হাত, এক জোড়া পা,
মনে অসীম প্রত্যয়, অন্তরে মানবিক চেতনা।
*********************
অভাব
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
এবং বিধ ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার সেপ্টেম্বর-নভেম্বর ২০১১ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
তুমি না থাকলে মনে এাতো সাহস
এ্যাতো জোর পেতাম না বাঁচার।
তুমি আছো বলে হাদয়ের মর্ম্মস্থলে
বাজে চাহিদার রণদামামা।
মগজে কোশগুলি থাকে না নিরন্তর বসে,
দিবারাত্র সচেষ্ট থাকে রসদের সন্ধানে।
সকলে যেখানে প্রমোদে মত্ত থাকে সদা,
তাদের সাথে যোগ দিতে মর্যাদায় বাধে,
জন্মে ঈর্ষা, তবে নাশিতে নয়, সমকক্ষ হতে।
আরো সুন্দর করে গড়ে তুলতে ইচ্ছে করে
সুরম্য জীবন, যতই তোমার সুধারস
করাও পান, ততই বাড়ে নির্দয় ক্ষুধা।
তুমি না থাকলে চেনা হতো না পৃথিবীকে,
তুমি শিখিয়েছ নিরহংকার, বিনয়ী হতে,
পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ লিপ্সা বাড়িয়েছ দ্বিগুণ
আমার মনের সম্প্রীতি পুড়িয়েছ তুমি,
তিলে তিলে ঠেলে দিয়েছ মৃত্যুর দিকে।
তুমি না থাকলে এ জীবন হয়ে যেত স্থবির,
তুমি আমার সৃষ্টির প্রেরণা, মানবিকতার
প্রথম উত্তরণ, জীবন সংগ্রামে চেতনার সোপান।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
এবং বিধ ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার সেপ্টেম্বর-নভেম্বর ২০১১ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
তুমি না থাকলে মনে এাতো সাহস
এ্যাতো জোর পেতাম না বাঁচার।
তুমি আছো বলে হাদয়ের মর্ম্মস্থলে
বাজে চাহিদার রণদামামা।
মগজে কোশগুলি থাকে না নিরন্তর বসে,
দিবারাত্র সচেষ্ট থাকে রসদের সন্ধানে।
সকলে যেখানে প্রমোদে মত্ত থাকে সদা,
তাদের সাথে যোগ দিতে মর্যাদায় বাধে,
জন্মে ঈর্ষা, তবে নাশিতে নয়, সমকক্ষ হতে।
আরো সুন্দর করে গড়ে তুলতে ইচ্ছে করে
সুরম্য জীবন, যতই তোমার সুধারস
করাও পান, ততই বাড়ে নির্দয় ক্ষুধা।
তুমি না থাকলে চেনা হতো না পৃথিবীকে,
তুমি শিখিয়েছ নিরহংকার, বিনয়ী হতে,
পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ লিপ্সা বাড়িয়েছ দ্বিগুণ
আমার মনের সম্প্রীতি পুড়িয়েছ তুমি,
তিলে তিলে ঠেলে দিয়েছ মৃত্যুর দিকে।
তুমি না থাকলে এ জীবন হয়ে যেত স্থবির,
তুমি আমার সৃষ্টির প্রেরণা, মানবিকতার
প্রথম উত্তরণ, জীবন সংগ্রামে চেতনার সোপান।
*********************
