কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
জাগো দুর্গা জাগো
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
এবং বিধ সাহিত্য পত্রিকার ৩৫-তম বর্ষ, উৎসব সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১২ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
শাকম্ভরী মাগো আবার সাবধানে এসো ধরায়
তোমার রণং দেহি ‘পোশাক’ দেখে সবাই যেন ডরায়
অস্ত্রগুলো সব পুরোনো দিয়ছে তোমাকে যারা
ফেরত দিও ওগুলো তাদের যাবে না অসুর মারা
ডিনামাইট, দেবতা-বোমা, পিস্তল রাইফেল
সঙ্গে এনো রিমোট কন্ট্রোল ল্যাপটপ মোবাইল
ভদ্রবেশে অসুররা এখন পাড়ায় পাড়ায় ঘোরে
ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে মানুষের মুখোশ পরে
হঠাৎ যদি অ্যাটাক করে কোন মণ্ডপে পূজায়
ভোলানাথকে জানাতে পারবে ই-মেল করে সবাই।
চলছে ধরায় অসুর রাজ বলতে লাগে শরম
পুজো নিও যে যা দেবে বাজার চরম গরম
ছেলে মেয়েদের সামলে রেখো খারাপ সময় এখন
ভারতী লক্ষী রূপে-গুণে সেরা যদি কেউ করে ধর্ষণ
মর্ত্যবাসী মেয়েগুলোর বক্ষে স্বল্প বাস
কার্ত্তিককে নজরে রেখো, নইলে সর্বনাশ
পেটুক গনেশ ভালো ছেলে তবু লাগছে ভয়
ভেজাল খাবার খেয়ে যদি পেট গড়বড় হয়
বাহনগুলো রেখে এসো নিয়ে এসো না যেন
এবার পুজোয় তোমাদেরকে দেব একটা ন্যানো
দশমীর দিন পুজোর শেষে ওটাতে চেপে যাবে
মর্ত্যবাসীর উপহার দেখে বাবা খুশি হবে
ঘুর্ণাক্ষরে বাবা যেন মা জানতে নাহি পারে
ভূ-লোকে পূজো হয় না তোমার নিষ্ঠা সহকারে
জানলে বাবা দেবে না আসতে বাধাবে একটা কাণ্ড
বাবা ভীষণ হটমেজাজি করবে লণ্ডভণ্ড
যা দেখলে এবার এসে রাগ করো না মাগো
সামনের বছর আবার এসো জাগো দুর্গা জাগো।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
এবং বিধ সাহিত্য পত্রিকার ৩৫-তম বর্ষ, উৎসব সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১২ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
শাকম্ভরী মাগো আবার সাবধানে এসো ধরায়
তোমার রণং দেহি ‘পোশাক’ দেখে সবাই যেন ডরায়
অস্ত্রগুলো সব পুরোনো দিয়ছে তোমাকে যারা
ফেরত দিও ওগুলো তাদের যাবে না অসুর মারা
ডিনামাইট, দেবতা-বোমা, পিস্তল রাইফেল
সঙ্গে এনো রিমোট কন্ট্রোল ল্যাপটপ মোবাইল
ভদ্রবেশে অসুররা এখন পাড়ায় পাড়ায় ঘোরে
ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে মানুষের মুখোশ পরে
হঠাৎ যদি অ্যাটাক করে কোন মণ্ডপে পূজায়
ভোলানাথকে জানাতে পারবে ই-মেল করে সবাই।
চলছে ধরায় অসুর রাজ বলতে লাগে শরম
পুজো নিও যে যা দেবে বাজার চরম গরম
ছেলে মেয়েদের সামলে রেখো খারাপ সময় এখন
ভারতী লক্ষী রূপে-গুণে সেরা যদি কেউ করে ধর্ষণ
মর্ত্যবাসী মেয়েগুলোর বক্ষে স্বল্প বাস
কার্ত্তিককে নজরে রেখো, নইলে সর্বনাশ
পেটুক গনেশ ভালো ছেলে তবু লাগছে ভয়
ভেজাল খাবার খেয়ে যদি পেট গড়বড় হয়
বাহনগুলো রেখে এসো নিয়ে এসো না যেন
এবার পুজোয় তোমাদেরকে দেব একটা ন্যানো
দশমীর দিন পুজোর শেষে ওটাতে চেপে যাবে
মর্ত্যবাসীর উপহার দেখে বাবা খুশি হবে
ঘুর্ণাক্ষরে বাবা যেন মা জানতে নাহি পারে
ভূ-লোকে পূজো হয় না তোমার নিষ্ঠা সহকারে
জানলে বাবা দেবে না আসতে বাধাবে একটা কাণ্ড
বাবা ভীষণ হটমেজাজি করবে লণ্ডভণ্ড
যা দেখলে এবার এসে রাগ করো না মাগো
সামনের বছর আবার এসো জাগো দুর্গা জাগো।
*********************
গরম ভাতের গল্প
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বারাণসী থেকে প্রকাশিত নৈবেদ্য মাসিক পত্রিকার ৫ম বর্ষ বৈশাখ ১৪১৬ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আজ পায়নি ওরা পরম ভাতের পক্ষ
কেবলই শোষণ, ঘামে রক্ত ঝরিয়ে
বিনিময়ে পেয়েছে ওরা অন্ধকার,
আলোটুকু শুষে নিচ্ছে আজাদীকাল হতে।
ঐ কচি কাঁচা শিশু, কিশোর দু-মুঠো
গরম ভাতের জন্য রক্ত ঝরায়
ক্ষেতে, খামারে, কারখানায়, নগরে, বন্দরে,
শিক্ষার আলোর মুখ দেখেনি বনেদী নন্দনের মতো
অথচ তোমরা, তোমাদের সন্তানেরা
ওদের ঘাম ঝরানো রক্তের ফসলে অদিন,
বঞ্চিত ওরা এ পৃথিবীর সর্বসুখ হতে।
ওদের বুকে জ্বলে বঞ্চনার আগুন।
অনলে দগ্ধ হয় সব পোড়ে না সে নিজে।
একথা জেনেছে ওরা ইতিহাস ঘেঁটে,
যাদের তুচ্ছ জ্ঞানে অপাঙক্তেয় ভাবো
তারা জেনো ঠিক একদিন-
কেড়ে নেবে তোমাদের ঐশ্বর্ষের ডালি,
গরম ভাতের গন্ধ,
এ কথা আমার নয়
বাগীশ্বর মনীষীর বাখানি।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বারাণসী থেকে প্রকাশিত নৈবেদ্য মাসিক পত্রিকার ৫ম বর্ষ বৈশাখ ১৪১৬ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
আজ পায়নি ওরা পরম ভাতের পক্ষ
কেবলই শোষণ, ঘামে রক্ত ঝরিয়ে
বিনিময়ে পেয়েছে ওরা অন্ধকার,
আলোটুকু শুষে নিচ্ছে আজাদীকাল হতে।
ঐ কচি কাঁচা শিশু, কিশোর দু-মুঠো
গরম ভাতের জন্য রক্ত ঝরায়
ক্ষেতে, খামারে, কারখানায়, নগরে, বন্দরে,
শিক্ষার আলোর মুখ দেখেনি বনেদী নন্দনের মতো
অথচ তোমরা, তোমাদের সন্তানেরা
ওদের ঘাম ঝরানো রক্তের ফসলে অদিন,
বঞ্চিত ওরা এ পৃথিবীর সর্বসুখ হতে।
ওদের বুকে জ্বলে বঞ্চনার আগুন।
অনলে দগ্ধ হয় সব পোড়ে না সে নিজে।
একথা জেনেছে ওরা ইতিহাস ঘেঁটে,
যাদের তুচ্ছ জ্ঞানে অপাঙক্তেয় ভাবো
তারা জেনো ঠিক একদিন-
কেড়ে নেবে তোমাদের ঐশ্বর্ষের ডালি,
গরম ভাতের গন্ধ,
এ কথা আমার নয়
বাগীশ্বর মনীষীর বাখানি।
*********************
পবিত্র আলোয়
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বারাসত, চন্দননগর, হুগলি থেকে প্রকাশিত, গোধূলি মন পত্রিকার ১৮২১ শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
মনের মধ্যে কুটিলতা, দ্বেষ
পরশ্রীকাতরতা বাসা বাঁধলে
সুচিন্তা আসে না মগজে।
যারা আত্মগরিমার অসুখে ভোগে
তাদের দিকে চেয়ে দেখ
ক্রমশ তারা আরশোলা হয়ে যাচ্ছে ---
সমাজের স্বচ্ছ আলোকে আসতে লজ্জা পায়
কেউ তুলে রাখে না তাদের জন্য ফুল।
তাই দিনের পবিত্র আলোর মতো
মনটাকে বিশুদ্ধতায় রাঙিয়ে
মানুষের সাথে পথ চলি ;
ব্যস্ত থাকি সর্বদা কাজে,
যাতে মস্তিষ্কটা
শয়তানের কারখানা না হয়ে যায়।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
বারাসত, চন্দননগর, হুগলি থেকে প্রকাশিত, গোধূলি মন পত্রিকার ১৮২১ শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
মনের মধ্যে কুটিলতা, দ্বেষ
পরশ্রীকাতরতা বাসা বাঁধলে
সুচিন্তা আসে না মগজে।
যারা আত্মগরিমার অসুখে ভোগে
তাদের দিকে চেয়ে দেখ
ক্রমশ তারা আরশোলা হয়ে যাচ্ছে ---
সমাজের স্বচ্ছ আলোকে আসতে লজ্জা পায়
কেউ তুলে রাখে না তাদের জন্য ফুল।
তাই দিনের পবিত্র আলোর মতো
মনটাকে বিশুদ্ধতায় রাঙিয়ে
মানুষের সাথে পথ চলি ;
ব্যস্ত থাকি সর্বদা কাজে,
যাতে মস্তিষ্কটা
শয়তানের কারখানা না হয়ে যায়।
*********************
দেশপ্রেমিক
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মধ্য প্রদেশ বাংলা একাডেমির মুখপত্র মধ্যমা পত্রিকার মার্চ ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
গিরগিটির মতো যারা প্রতি মুহুর্তে রঙ বদলায়
তাদের নামে বাতাস নাক সিঁটকায়। তারা মুখে বালে এক
কাজ করে বেইমানের মতো। দিনের আলোয় ভদ্র
মুখোশ পরা, রাতের ধারাপাত ভিন্ন। মানুষের
দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ছোবল মারে ললাটে।
অন্ধকার আড়াল থেকে তাণ্ডব চালায় দীনের কুটীরে।
অথচ এরাই দেশের নয়নমণি, এদের জন্য দলের
দরবিগলিত প্রাণ, এরাই দেশের প্রধান নাগরিক।
নয়ের দশক হতে দ্রুত কেমন সব বদলে গেল,
একদিন যারা ছিল চৌর্যবৃত্তির শিখরে উন্নীত
তারাই হল দেশনায়ক, এরা পুলিশ প্রহরায়
স্বাধীনতা দিবসে ঘটা করে পতপত পতাকা ওড়ায়।
শ্রমিকের মাথা চুঁইয়ে পড়া ঘাম, জিভ দিয়ে চাটে অম্লান।
মুখে বলে শান্তি চায়, কার্যত অশান্তি জিইয়ে রাখে দেশসেবায়।
এরা ঈশ্বরের নামে শপথ করে, যেখানে যেমন বেশ ধরে
মানুষের মন জয় করে। নিজস্বার্থ ছাড়া বোঝে না কিছু।
এরা এমন ধান্দাবাজ, এদের মাথায় পড়ে না বাজ,
এরা অর্থের লোভে হতে পারে কসাই, তবু এদের বলতে হয়
সমাজের মশাই, এরা মনীষীদের প্রতিকৃতি সামনে রেখে
গরিবের সর্বস্ব করে লুট, এদের জন্য আমার দেউরিতে
আছে নজরুলের একজোড়া বুট। আমি সেই মানুষটির পূজারি
যে আজীবন কপর্দকহীন থেকে দেশকে দিয়ে গেল মনপ্রাণ,
মৃত্যুকালে বলে গেল আমরা সকলে দেশ মাতৃকার সন্তান।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মধ্য প্রদেশ বাংলা একাডেমির মুখপত্র মধ্যমা পত্রিকার মার্চ ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
গিরগিটির মতো যারা প্রতি মুহুর্তে রঙ বদলায়
তাদের নামে বাতাস নাক সিঁটকায়। তারা মুখে বালে এক
কাজ করে বেইমানের মতো। দিনের আলোয় ভদ্র
মুখোশ পরা, রাতের ধারাপাত ভিন্ন। মানুষের
দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ছোবল মারে ললাটে।
অন্ধকার আড়াল থেকে তাণ্ডব চালায় দীনের কুটীরে।
অথচ এরাই দেশের নয়নমণি, এদের জন্য দলের
দরবিগলিত প্রাণ, এরাই দেশের প্রধান নাগরিক।
নয়ের দশক হতে দ্রুত কেমন সব বদলে গেল,
একদিন যারা ছিল চৌর্যবৃত্তির শিখরে উন্নীত
তারাই হল দেশনায়ক, এরা পুলিশ প্রহরায়
স্বাধীনতা দিবসে ঘটা করে পতপত পতাকা ওড়ায়।
শ্রমিকের মাথা চুঁইয়ে পড়া ঘাম, জিভ দিয়ে চাটে অম্লান।
মুখে বলে শান্তি চায়, কার্যত অশান্তি জিইয়ে রাখে দেশসেবায়।
এরা ঈশ্বরের নামে শপথ করে, যেখানে যেমন বেশ ধরে
মানুষের মন জয় করে। নিজস্বার্থ ছাড়া বোঝে না কিছু।
এরা এমন ধান্দাবাজ, এদের মাথায় পড়ে না বাজ,
এরা অর্থের লোভে হতে পারে কসাই, তবু এদের বলতে হয়
সমাজের মশাই, এরা মনীষীদের প্রতিকৃতি সামনে রেখে
গরিবের সর্বস্ব করে লুট, এদের জন্য আমার দেউরিতে
আছে নজরুলের একজোড়া বুট। আমি সেই মানুষটির পূজারি
যে আজীবন কপর্দকহীন থেকে দেশকে দিয়ে গেল মনপ্রাণ,
মৃত্যুকালে বলে গেল আমরা সকলে দেশ মাতৃকার সন্তান।
*********************
লিমেরিক
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মধ্য প্রদেশ বাংলা একাডেমির মুখপত্র মধ্যমা পত্রিকার বিংশ বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা, ২০১৩ নভেম্বর-ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
শিলং থেকে দিল্লি গেলাম হিল্লে হবে বলে
দিল্লিকা লাড্ডু খেয়ে ফিরে এলাম মেলে
দিলি তখন ধর্ষণে
ইট পাটকেল বর্ষণে
উত্তাল ছিল মানুষের তাজা রক্ত গিলে।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
মধ্য প্রদেশ বাংলা একাডেমির মুখপত্র মধ্যমা পত্রিকার বিংশ বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা, ২০১৩ নভেম্বর-ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
শিলং থেকে দিল্লি গেলাম হিল্লে হবে বলে
দিল্লিকা লাড্ডু খেয়ে ফিরে এলাম মেলে
দিলি তখন ধর্ষণে
ইট পাটকেল বর্ষণে
উত্তাল ছিল মানুষের তাজা রক্ত গিলে।
*********************
সানকি
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কাটোয়া, বর্ধমান থেকে প্রকাশিত, ধূলামন্দির পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ১৪২০ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
হে কাদম্বিনী, আমাকে নিয়ে চলো
সেই চিরশুভ্র তুষারের দেশে ;
সেখানে কাটাবো জীবনের শেষ ক’টা দিন
হিমের পরশ গায়ে মেখে
মনটাকে সাদা করে নিতে।
দীর্ঘকাল এখানের সিরাসির উষ্ণতায় অসহ্য দেহকোশ।
অপবিত্র মনের সংস্পর্শে থেকে থেকে
ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি মানবিক সত্তা।
নজরে আসে না সেই সব সাদামাটা মানুষ।
যাদের সংস্পর্শে কেটেছে আমার কিশোর যৌবনকাল।
তাদের মুখগুলো আজো সমুজ্জ্বল মনের মুকুরে।
কোথায় হারিয়ে গেল তারা দিকশূন্য পুরে
যারা রয়ে গেল চারপাশে
তারা কেমন উপচ্ছায়ার মতো
নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ ছড়ায় বাতাসে
মিশতে শঙ্কা লাগে।
বরাবর মুখঠোর আমি,
স্পষ্ট উচ্চারণে কাঁপে না ওষ্টপুট,
বলে ফেলি অকপটে, তাই অপছন্দ সবার ;
কারবারে অযোগ্য সানকি বাসনের মতো।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কাটোয়া, বর্ধমান থেকে প্রকাশিত, ধূলামন্দির পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ১৪২০ তে প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
হে কাদম্বিনী, আমাকে নিয়ে চলো
সেই চিরশুভ্র তুষারের দেশে ;
সেখানে কাটাবো জীবনের শেষ ক’টা দিন
হিমের পরশ গায়ে মেখে
মনটাকে সাদা করে নিতে।
দীর্ঘকাল এখানের সিরাসির উষ্ণতায় অসহ্য দেহকোশ।
অপবিত্র মনের সংস্পর্শে থেকে থেকে
ক্রমশ হারিয়ে ফেলছি মানবিক সত্তা।
নজরে আসে না সেই সব সাদামাটা মানুষ।
যাদের সংস্পর্শে কেটেছে আমার কিশোর যৌবনকাল।
তাদের মুখগুলো আজো সমুজ্জ্বল মনের মুকুরে।
কোথায় হারিয়ে গেল তারা দিকশূন্য পুরে
যারা রয়ে গেল চারপাশে
তারা কেমন উপচ্ছায়ার মতো
নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ ছড়ায় বাতাসে
মিশতে শঙ্কা লাগে।
বরাবর মুখঠোর আমি,
স্পষ্ট উচ্চারণে কাঁপে না ওষ্টপুট,
বলে ফেলি অকপটে, তাই অপছন্দ সবার ;
কারবারে অযোগ্য সানকি বাসনের মতো।
*********************
যা-রে উড়ে মেঘ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
পশ্চিম গারো পাহাড়, মেঘালয় থেকে প্রকাশিত, মেঘবার্তা পত্রিকার ১৪২০ ষষ্ঠ বর্ষ ষষ্ঠ, শারদ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
যা-রে উড়ে মেঘ ঐ মেঘের দেশে
ওখানে আমার প্রিয়া বিনিদ্র প্রহর শেষে
ক্লান্ত রয়েছে আমারি প্রতীক্ষায় প্রতিক্ষণে।
গিয়ে তারে বলিস, এ বাংলার সবুজ মনে
বিষন্নতা বেঁধেছে বাসা, নেই শান্তি,
ধূ ধূ হাওয়া খেলা করে, ছড়ায় বিভ্রান্তি
সদা জনপদ, বনে, মানুষের ঘরে ঘরে
লেগেছে আগুন, অবহেলা অনাদরে মরে
জীবনের বসন্ত বেলা, কোউ কোন রাখে
না কথা প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কেউ কিছু দেখে
না ভেবে চলেছি কোথায়, চারিদিকে
হিংস্র শ্বাপদ ওঁত পেতে আছে, টিকে
থাকা আজ বড়ো দায়, জমাট অন্ধকারে
ঢেকে আছে পথ ঘাট প্রান্তর, রুদ্ধদ্বারে
থেকে থেকে মানুষ আজ হন্যে হয়ে খুঁজে মরে
নিরাপদ স্থল ; জানি না কতদিন পরে
ফিরে পাবো তোমাকে নিবিড় করে প্রিয়া,
জুড়াব মনে জ্বালা, ওগো মরমীয়া।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
পশ্চিম গারো পাহাড়, মেঘালয় থেকে প্রকাশিত, মেঘবার্তা পত্রিকার ১৪২০ ষষ্ঠ বর্ষ ষষ্ঠ, শারদ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
যা-রে উড়ে মেঘ ঐ মেঘের দেশে
ওখানে আমার প্রিয়া বিনিদ্র প্রহর শেষে
ক্লান্ত রয়েছে আমারি প্রতীক্ষায় প্রতিক্ষণে।
গিয়ে তারে বলিস, এ বাংলার সবুজ মনে
বিষন্নতা বেঁধেছে বাসা, নেই শান্তি,
ধূ ধূ হাওয়া খেলা করে, ছড়ায় বিভ্রান্তি
সদা জনপদ, বনে, মানুষের ঘরে ঘরে
লেগেছে আগুন, অবহেলা অনাদরে মরে
জীবনের বসন্ত বেলা, কোউ কোন রাখে
না কথা প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কেউ কিছু দেখে
না ভেবে চলেছি কোথায়, চারিদিকে
হিংস্র শ্বাপদ ওঁত পেতে আছে, টিকে
থাকা আজ বড়ো দায়, জমাট অন্ধকারে
ঢেকে আছে পথ ঘাট প্রান্তর, রুদ্ধদ্বারে
থেকে থেকে মানুষ আজ হন্যে হয়ে খুঁজে মরে
নিরাপদ স্থল ; জানি না কতদিন পরে
ফিরে পাবো তোমাকে নিবিড় করে প্রিয়া,
জুড়াব মনে জ্বালা, ওগো মরমীয়া।
*********************
জীবনের মাপকাঠি
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
জীব জন্তুকে যতো না বিশেষ ভয়
তার থেকে বেশি ভয় দ্বিপদকে।
এরা যেমন ভালবাসতে জানে
তেমনি বিষিয়ে দিয়ে শেষ করে
দিতে পারে একটা সুন্দর জীবন।
এ জীবনের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে
শিক্ষা-দীক্ষায়, এ কথা আজ অর্থহীন।
এ জগতে অর্থই মূলকথা, নইলে লাস্ট
বেঞ্চের ছেলে মেয়ের জীবন যেভাবে
সূর্যের মুখ দর্শন করছে ফাস্ট বেঞ্চের
ছেলে বা মেয়ের জীবনে নেমে আসছে
ঘোর অন্ধকার ; স্বীয় স্বার্থে যুগের আমূল
পরিবর্তন ঘটিয়ে যারা তরী ভাসালো
মজা ডোবায়, তারা একবার ভেবে দেখল
না দেশের মানোন্নয়নের মান দণ্ডের দণ্ডটা
কত পাকা-পোক্ত হলো ; যেখানে অর্থই
জীবনের মাপকাঠি সেখানে গঙ্গাজল
গো-মুত্রের সমান, তোমার আমার চিল
চিৎকারে গগন ফাটবে, মোম গলবে,
গলবে না অমৃতস্য পুত্রের স্বার্থান্বেষী হৃদয়।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
জীব জন্তুকে যতো না বিশেষ ভয়
তার থেকে বেশি ভয় দ্বিপদকে।
এরা যেমন ভালবাসতে জানে
তেমনি বিষিয়ে দিয়ে শেষ করে
দিতে পারে একটা সুন্দর জীবন।
এ জীবনের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে
শিক্ষা-দীক্ষায়, এ কথা আজ অর্থহীন।
এ জগতে অর্থই মূলকথা, নইলে লাস্ট
বেঞ্চের ছেলে মেয়ের জীবন যেভাবে
সূর্যের মুখ দর্শন করছে ফাস্ট বেঞ্চের
ছেলে বা মেয়ের জীবনে নেমে আসছে
ঘোর অন্ধকার ; স্বীয় স্বার্থে যুগের আমূল
পরিবর্তন ঘটিয়ে যারা তরী ভাসালো
মজা ডোবায়, তারা একবার ভেবে দেখল
না দেশের মানোন্নয়নের মান দণ্ডের দণ্ডটা
কত পাকা-পোক্ত হলো ; যেখানে অর্থই
জীবনের মাপকাঠি সেখানে গঙ্গাজল
গো-মুত্রের সমান, তোমার আমার চিল
চিৎকারে গগন ফাটবে, মোম গলবে,
গলবে না অমৃতস্য পুত্রের স্বার্থান্বেষী হৃদয়।
*********************
কবিতার কালকূট
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
পড়ি না বাতাবি মোড়কে বাবলা কাঁটার লিখন।
একটা জাম্বুবান ও একটা ভূশুণ্ডী গভীর মনোযোগ দিয়ে রেলে কাটা পড়ে ছিল মর্মার্থ
উপলব্ধি করতে করতে।
ভাগ্যিস তালতলায় ভাত মারা ভুতের আদর
পেয়ে প্রেমিক হেসেছিল ক্রিটিক্যাল হাসি। নইলে ভালোবাসা যদি এইরূপ বখাটের লেখায়
আনন্দ পায় তাহলে সপাটে থাপ্পড় মারতে হবে সত্যম্ সুন্দর সাহিত্যের দুর্বোধ্য লিখনে।
নতুবা সমাদর ঝরবে না নীল নভ থেকে আমজনতার বুদ্ধির গাছের মগডালে।
তুমি অনন্ত কাল থেকে এক পল সময় চিমটে
দিয়ে তুলে নিয়ে ডালকুত্তা লেলিয়ে দিয়ে কেটে পড়েছিলে দুর্বোধ্যতা বোঝাবার পণ্ডিতি
ফলাতে গিয়ে। তোমার অবস্থা দেখে এখন ঋজু হয়ে
গেছে আমার বিপুল খোঁচামারা হাসিঠাট্টার কুরুক্ষেত্র ময়দান।
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
পড়ি না বাতাবি মোড়কে বাবলা কাঁটার লিখন।
একটা জাম্বুবান ও একটা ভূশুণ্ডী গভীর মনোযোগ দিয়ে রেলে কাটা পড়ে ছিল মর্মার্থ
উপলব্ধি করতে করতে।
ভাগ্যিস তালতলায় ভাত মারা ভুতের আদর
পেয়ে প্রেমিক হেসেছিল ক্রিটিক্যাল হাসি। নইলে ভালোবাসা যদি এইরূপ বখাটের লেখায়
আনন্দ পায় তাহলে সপাটে থাপ্পড় মারতে হবে সত্যম্ সুন্দর সাহিত্যের দুর্বোধ্য লিখনে।
নতুবা সমাদর ঝরবে না নীল নভ থেকে আমজনতার বুদ্ধির গাছের মগডালে।
তুমি অনন্ত কাল থেকে এক পল সময় চিমটে
দিয়ে তুলে নিয়ে ডালকুত্তা লেলিয়ে দিয়ে কেটে পড়েছিলে দুর্বোধ্যতা বোঝাবার পণ্ডিতি
ফলাতে গিয়ে। তোমার অবস্থা দেখে এখন ঋজু হয়ে
গেছে আমার বিপুল খোঁচামারা হাসিঠাট্টার কুরুক্ষেত্র ময়দান।
*********************
আর্তের প্রার্থনা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
এসো আজি এ হেমন্তের শিশিরঝরা প্রাতে
ভারত মাতার কাছে করি প্রার্থনা,
মা তোমার এক শো তিরিশ কোটি সন্তান
যেন থাকে দুধে-ভাতে।
আমাদের এ প্রার্থনা আজকের নয়
বহুদিন থেকে করে এসেছি তোমারই দরবারে,
কতগুলো ভন্ড ছদ্দবেশী দেশপ্রেমিকের প্রতারণায়
আমাদের এ স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যায়।
মা এরাও তোমার সন্তান ,অথচ তুমি এদের
বলোনা কিছু। তোমার কাছে করজোড়ে তাই প্রার্থনা জানাই ,
দুষ্টু গরুগুলোকে তোমার গোয়াল থেকে করো বিতাড়িত ;
এদের অভর পেট,
কত শত গরিবকে বঞ্চিত করে
বানিয়ে চলেছে টাকার প্রাসাদ।
তুমি ও তো ক্ষুধার্ত জননী, রোজ কাঁদো,
অথচ এরা কেমন অমার্জনীয় অপরাধ করে
পার পেয়ে যায় অন্য এক শয়তানের কাঁধে
পা রেখে, আমরা আজও ক্ষুধার্ত দিনে-রাতে,
কবে তোমার সমস্ত সন্তান থাকবে দুধে ভাতে??
*********************
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।
এসো আজি এ হেমন্তের শিশিরঝরা প্রাতে
ভারত মাতার কাছে করি প্রার্থনা,
মা তোমার এক শো তিরিশ কোটি সন্তান
যেন থাকে দুধে-ভাতে।
আমাদের এ প্রার্থনা আজকের নয়
বহুদিন থেকে করে এসেছি তোমারই দরবারে,
কতগুলো ভন্ড ছদ্দবেশী দেশপ্রেমিকের প্রতারণায়
আমাদের এ স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যায়।
মা এরাও তোমার সন্তান ,অথচ তুমি এদের
বলোনা কিছু। তোমার কাছে করজোড়ে তাই প্রার্থনা জানাই ,
দুষ্টু গরুগুলোকে তোমার গোয়াল থেকে করো বিতাড়িত ;
এদের অভর পেট,
কত শত গরিবকে বঞ্চিত করে
বানিয়ে চলেছে টাকার প্রাসাদ।
তুমি ও তো ক্ষুধার্ত জননী, রোজ কাঁদো,
অথচ এরা কেমন অমার্জনীয় অপরাধ করে
পার পেয়ে যায় অন্য এক শয়তানের কাঁধে
পা রেখে, আমরা আজও ক্ষুধার্ত দিনে-রাতে,
কবে তোমার সমস্ত সন্তান থাকবে দুধে ভাতে??
*********************
