কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের পরিচিতির পাতায় . . .
মহাকালের হাসি
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

অস্ত গেল বহু কাব্য রবীন্দ্র কাব্য নয়
চিরদিন তরতাজা গোলাপ সে যেন
রবির আলোয় এ জগত অতি আলোকময়
তারকা'র সাধ্য কি করতে তা'কে জয়

ভুবনের আলো আজ নিভু নিভু লাগে
সর্বভুক মানুষ চাঁদ চায় খেতে
মনের উষ্ণতা রয় মন মধ্যে জেগে
জ্যোৎস্না রাতের ফুল সুগন্ধে মাতে

মৃত্যুর খবর আনে বাউল বাতাস
মহাকাল দরজায় খিল খিল হাসে
ভীতু প্রাণ ছুটে যায় ঊর্ধ্বশ্বাসে
নব্বইয়ের বৃদ্ধটা কফ নিয়ে কাশে

বাধ্যবাধকতা বলে আর নেই কিছু
ভয়ঙ্কর শব্দের দৌরাত্ম্য চারিদিকে
অন্যায় করেও মানুষ করে না মাথা নিচু
আত্মঘাতী কালের কথা কলম দিয়ে লিখে

যুগের মেরুদন্ড আর নেই সোজা
থেকে থেকে কেঁপে ওঠে জীবনের শিখা
ঘোড়ার বালাচি ধরে কল্যাণ খোঁজা
জানে না এরপরেও কি আছে ভাগ্যে লিখা

*********************









*
আকুল আহ্বান
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

এ সময় অফুরন্ত অবসর আমার ;
অথচ দুদিন কোথাও যাওয়ার উপায় নেই।
বাতাস ফাঁকা ময়দানে ছোটাছুটি করছে,
পাখিগুলো বেশ সুন্দর নীলের বিথারে নির্বিচারে ডানা মেলে ভেসে যাচ্ছে, শরৎ এসে গেল,
সাদা মেঘ সারা আকাশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে,
সেই ফাঁকে কখন কালো মেঘ বালিকা মাটি ভিজিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে মহানন্দে।
অথচ আমি কেমন চুপচাপ ঘরে বসে বসে
তোমার কথা ভাবছি ;
তুমি আসবে বলে ও আসতে পারছো না আমারি মতন,
এই না আসার কারণ তুমি জানিয়েছ, অসুস্থ পৃথিবীকে নিয়ে তোমার আসার অবসর নেই।

সত্যিই এই চলন্ত জাগতিক পৃথিবীতে একমাত্র আমার অফুরন্ত অবসর, দীর্ঘদিন অবসর খেতে খেতে
আমার রক্তের চিনি বেড়ে গেছে,
যা কিছু ভালো-মন্দ এতদিন বসে বসে মনের সুখে খেয়েছি, ডাক্তারবাবু এখন তা বারণ করে দিয়েছেন
আমাকে। কাঁদির সেই সুস্বাদু মিষ্টি আমার খাওয়া হবে না এ জীবনে ;
কড়া নির্দেশ, দু-কাপ ভাত আর সব্, জি, রাতে দুটো রুটি বরাদ্দ করেছেন ডাক্তারবাবু।

কি ঝামেলায় পড়া গেল বেলা শেষের শেষ বেলায়, খাবারে নিষিদ্ধকরণ হবে বাপের জন্মেও ভাবি নি।

তুমি এলে তোমাকে পাশে নিয়ে সময় কাটাতাম, আপন-মনে তোমাকে নিয়ে গান গাইতাম কিন্তু তাও
হলো না ; বিকেলে অস্তগামী সূর্যের টকটকে লাল রং করা মেঘের দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে আঁতকে
উঠি ,ওই লাল রং আমার ঘর পুড়িয়েছে ,আমার সর্বনাশ করেছে, আমার ইহকাল পরকাল সুনীল
সলিলে ডুবিয়ে মেরেছে।
আজ আমি এ সংসারে মুক ,বধির ,কিছুই জানিনা, অনভিজ্ঞ, কিছুই বুঝি না অবোধ শিশুর মতো।
তুমি থাকলে মনে জোর পেতাম ,
তোমার শুভ কামনায় লুকিয়ে-চুরিয়ে দুটো ভালো মন্দ অন্ততঃ খেতে পারতাম ,
আর বসে বসে সুনীলের মত নীরা -কে ভালবাসতাম ,কিন্তু হল কই?
শক্তির মতো টলতে টলতে সারা পথ আপন করে নিয়ে পথ চলা, আমি তাও পারলাম না ;
তুমি ক্ষমা করে দিও।

জীবনের অন্তিম মুহূর্তে শকুনের ডানায় নিশ্চিন্তপুরে উড়ে যাবার অপেক্ষায় দিন গুনছি।
তুমি কাছে এলে মনে জোর পাব, পিছিয়ে দিতে পারব অন্তত কিছু দিন মৃত্যুর দিন গোনা ;
আমি তোমার অপেক্ষায় বসে আছি কবিতার খাতা খুলে তোমারি নাম লিখে পাতায় পাতায়।
শুধু একবার ,শুধু একবার এই অফুরন্ত অবসর বেলায় তুমি এসো সোনার কাঠি নিয়ে আমি যখন
পালঙ্কে চোখ বুজে শুয়ে থাকবো তোমার ভাবনায় ,
তখন তুমি তোমার সোনার কাঠি আমার সারা অঙ্গে বুলিয়ে দেবে ,
আমি ফিরে পাব আবার নতুন করে আমার বিবেক, চৈতন্য, প্রেম।
যে মাটিকে আমি ভালোবাসতে গিয়ে পূর্ণতা দিতে পারিনি তাকে আবার নতুন করে ভালোবাসবো ,
নতুন করে প্রেমের সঞ্চার করবো এই হতচেতন পৃথিবীতে ; প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে দেবো যারা
শুকনো মুখ করে বসে পশ্চিম দিকে সূর্য ডোবা দেখে।
শুধু একবার তুমি এসো,
আমার অফুরন্ত অবসরের অন্তিম বিকেল
বেলায়।

*********************









*
সুবোধ বালক
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

তোমার রক্ত কলাপে রোদ্দুর এসেছে
ভাবতে হিমশিম খাচ্ছে চাটুকার চোখ।
বিহঙ্গেরা গরুর কুকুদে বসে গায়ের পোকা
খাচ্ছে দেখে কাকেদের সে কি অভিমান,
ভোট বাক্সের দরজা কাছে যাবে না,
শুধু তাই নয় ভোলানাথের দরজায় ধর্ণা পর্যন্ত দেবে না।
ব্যাপারটা যখন বোঝা গেল, এক সরষে দানা
বলল, প্রয়োজন পড়লে আমি ছারখার
করে দিতে পারি পৃথিবীটাকে, কিন্তু কেন
দিচ্ছি না জানো, আমি থাকবো কোথায়?
বাতাস ব্যাটারা এটা বোঝে না ,চুষে চুষে সাধ
মেটে না , পারলে মায়ের স্তনটাকে কেটে খায় ।
ব্যাপারটা বোঝা যেতেই হেসে খুন নরাধম
গাছ কাটাওয়ালা।
যেন মনে হচ্ছে ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে জানে না সে।
যদি এ পৃথিবীর সর্বপ্রথম কেউ খুন হয় ,
তবে ওই গাছ কাটাওয়ালা ,
এতদুর লিখে সুবোধ বালক উচ্চঃস্বরে মাকে বলল ,
মা আমাকে এক গ্লাস নির্মল জল দাও কষ্টে আছি,
আমাকে পাখার বাতাস দাও,
নইলে আমি কাঞ্চনজঙ্ঘা শীর্ষে গিয়ে
আত্মহত্যা করব, মা শুনলেন কিনা জানি না
তবে আমাদের দশা কিন্তু ওই সুবোধ বালকের মতো
হতে চলেছে এ কথা হলফ করে বলা যায়।

*********************









*
পুজো এলো
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ২৯,সেপ্টেম্বর ২০২১। কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

পুজো এলো পুজো এ লো
কড়া নাড়ছে শিউলি ফুল,
কেনাকাটায় ধুম পড়েছে
খুকি কিনবে সোনার দুল।

বোধনের ঢাক বাজছে
শুনতে পাচ্ছি কানে,
আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরছে
গ্রাম ভাসছে বানে।

গত বছর পুজোর ক্ষণে
শান্তি পাই নি মনে ,
ইঁদুর হয়ে বসে ছিলাম
আপন গৃহের কোণে।

সকল ফাঁড়া কাটিয়ে দে-মা,
ছেলেমেয়েদের নিয়ে
পূজো দেখি হর্ষ মনে
পূজো প্যান্ডেলে গিয়ে।

প্রাণ ভরে অঞ্জলি দেব
এবার তোমার পা'য়,
অন্তিমকালে পাই যেন মা
তব পদে ঠাঁই ।

*********************









*
অশ্রু কড়চা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১৩.৯.২০২১। কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

অতিশয় দুঃখ পেলে অশ্রু ঝরে নয়নে,
অশ্রুর রঙ নেই ভেবে দেখো ভুবনে ।

অপরকে দুঃখ দিয়ে অশ্রু নেই ঝরাতে,
নারীর চোখের জল হয়নাকো ফেলাতে।

নারীর চোখের জলে ধ্বংস হয় কুরুকুল ,
একথা সত্যি জেনো নয় বেবাক ভুল।

আবার আনন্দে ও অশ্রু ঝরে জেনে রাখো সে কথা,
না বলায় ভালো যা শুনে লোকে পাবে ব্যথা।

অশ্রুর আস্বাদন সমুদ্রের জলের মতো,
যে খেয়েছে সে জানে কথাটা সত্যিই কত।

অতিরিক্ত ঠান্ডায় নয়নে ঝরে জল ,
শিবের অশ্রু ঝরে হয়েছিল রুদ্রাক্ষ ফল।

সাবিত্রীর অশ্রু দেখে যমরাজ দেন বর,
সত্যবান স্বামী তার ফিরে পায় প্রাণ, ঘর।

অশ্রুর জোরে বেহুলা গিয়েছিল স্বর্গে,
লখাইকে বাঁচিয়ে ফিরেছিল মর্ত্যে।

অশ্রু নিয়ে বহু কাহিনী আছে নানা কাব্যে,
অশ্রু ফেলার আগে কিছু সময় ভাববে।

অকারণে পরে নাকো কারো অশ্রু কখনো,
কুমীরেরকান্না তো লোককে দেখানো।

*********************









*
মা আসছেন
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনা ৬.৯.২০২১। কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

সময়টা এখন চলছে খারাপ
কোথাও একটু শান্তি নেই,
চতুর্দিকে বিভ্রান্তি
নৈতিকতার বালাই নেই।

চুরি-চামারি মারদাঙ্গা
গণপিটুনি লেগেই আছে,
তবু নাকি বলতে হবে
বাংলার মানুষ ভালোই আছে।

শরৎকাল এসে পড়েছে
মা লাফাচ্ছে কৈলাস থেকে,
মর্ত্যে আসবে ছেলে মেয়ে নিয়ে
বাবাকে কৈলাসে রেখে।

ভালো রাখার জন্য মাকে
গত বছর বলেছিলাম,
ধনীর বেটির কানে যায়নি
মরতে মরতে ফিরে এলাম।

মাঝে মাঝে আত্মীয়-স্বজন
বলছে ফোনে আছেন কেমন?
নকল হাসি ও অধরে রেখে
বলছি মা রেখেছেন যেমন।

সময় এখন চলছে খারাপ
বন্দী আছি ঘরের কোণে,
দুগ্গা মা কে আবার বলব
যা রেখেছি মনে মনে।

মাগো এবার আপদ টাকে
দেশ থেকে বিদায় করো,
হয়ে আছি আধমরা মা
দুষ্কৃতীদের জেলে ভরো।

এই ভাবনায় গা ছম্ ছম্
মনের গরম ভাঙছে না,
দুর্গা পুজোয় জানি না কেন
মনটা তবু রাঙছে না।

*********************









*
কুর্ণিশ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

গঙ্গা ফড়িংদের ভয়ানক উৎপাতে
মন তাদের উৎখাতে যখন ব্যতিব্যস্ত
হয়ে নিরাশ হলো তখন ভূ-মন্ডলের
বাগিচায় একটি কুসুমও পাপড়ি মেলেনি।
সেই দুঃখে মক্ষিকাকুল অঝোর ঝরে কেঁদে
তরুদলের পত্রবৃন্ত শিথিল করে দিয়েছিল,
ঠিক তখনই হয়েছিল পর্বত প্রমাণ উল্কাপাত।

উল্কা ও পবনের সংঘর্ষে যে তীব্র আলোক বহির্গমণ হয়েছিল তার আভায় তোমার
অনিন্দ্য সুন্দর মুখখানি আমার হৃদয়কুঞ্জে মনোলোভা এক ঝটিকার সঞ্চার করেছিল
তোমাকে নিরাপদাশ্রয়ে রাখার আকাঙ্ক্ষায়। কিন্তু সে সময় এক অরণ্যচারীর গভীর
গগনভেদী চিৎকারে সমুদ্রের দুধসাদা ফেনাগুলো নীলোদকে বিলীন হয়েছিল। আর আমার
ইপ্সিত বাসনায় গরল সিঞ্চিত করেছিল মানুষ খ্যাপানো অপকর্মগুলো ;
ফলে আজ আমি তিমিরাবৃত,নিশ্চুপ মুখরিত সময়ের দ্বারে।
এখন নিস্তব্ধে নিষ্পলক ভাবি এখনো যারা
ওপরওয়ালার দৃষ্টি এড়িয়ে আত্মসাৎ করে
সরকারী কোষাগার, তাদের তস্করীর প্রশংসায়
মুগ্ধ হয়ে আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সমাজের পদকর্তারা
তাকে উপঢৌকন প্রদান করেন ;বুদ্ধু জনগণ সেই তস্করের আননে ত্রস্ত হয়ে ফ্যাল ফ্যাল
দৃষ্টি প্রদান করে ও সেই ব্যক্তিকে কুর্ণিশ জানায় ছিটে-ফোঁটা অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায়।

*********************









*
কালের ঘণ্টা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনা -৩০.৮.২০২১। কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

কালের ঘন্টা বেজে চলেছে দিনরাত
কে কখন চলে যাবে ধরিত্রী ছেড়ে
নিয়তি কি জানি কখন আসবে সে আঘাত
অথচ আসক্তি রয়েছে অণু-পরমাণু ঘিরে

রূপ রস গন্ধ স্পর্শে মাতাল এ মন
পঞ্চইন্দ্রিয় মত্ত থাকে এদের নিয়ে
এরা জাগিয়ে তোলে কাম লালসা অর্থ ধন
ফতুর হতে চায় না কেউ সব হারিয়ে

সংসারের দহন ক্রিয়ায় সদা জ্বলে প্রাণ
সুখ শান্তিতে থাকার বাসনা তার অভিপ্রায়
সে জানে সকল বস্তুই এ ঈশ্বরের দান
প্রাণ দেহ ছেড়ে চলে গেলে আর কিছুই নাই

জেনে বা না জেনে অবুঝ মানুষ করে কর্ম
স্বীয় স্বার্থে কখনো কূ-কর্ম করে বসে
কর্মের পায়ে সমর্পন করো তোমার ধর্ম
কর্মই পারে উদ্ধার করতে মন্দ ত্রাসে

মন্দ মানুষের স্পর্শ দোষে বর্তায় পাপ
ইহজগতে ন্যায়-অন্যায় এখনো আছে
মানুষ মানুষের কূ-কর্মে দেয় অভিশাপ
সবার উপরে মানুষরূপী ভগবান আছে॥

*********************









*
নীলস্রোত
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনা ১.৬.২০২১। কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

আর বসে থাকার কথা বলোনা।
দুটি বছর হল গাছের পাতা ঝরে গিয়ে
পাতা গজালো, বসন্ত হেমন্ত সেও চলে গেল,
কিন্তু বসে থেকে থেকে মৃত্যুর গল্প শোনা
স্তব্ধ হলো না, কান্নার আওয়াজ বন্ধ হল না।

অথচ স্বাধীনতা পাওয়ার গর্বে ফুলছে বুক।
আমার বউ বাসন মাজে, ঘর মোছে, উচ্ছিষ্ট খায়,
এসব সত্ত্বেও কারা স্বপ্ন দেখায় ছেলের চাকরি হবে,
মেয়ের চাকরি করবে।
বড়লোক হওয়ার চাবিকাঠি আজ ওদের হাতেই রয়ে গেল ;
দূষণে ভরল দেশ ,গেল না খুন ধর্ষণ ,এলো না ফুলের সুগন্ধ।

তুমি আর বসে থাকার কথা বলোনা,
পশুপাখি জীবজন্তু সকলেই ছুটে বেড়াচ্ছে।
আকাশে গ্রহ তারকারাও বসে নেই,
আমি কেবল একরাশ স্বপ্ন নিয়ে
সেই কবে থেকে ভুবন ডাঙ্গায় বসে আছি,
কেউ এলোনা ওঠাতে।
সভ্যতার কিনারা ধরে কত হেঁটেছিলাম,
একদিন দেশটাকে বিশ্বসেরা দেখবো বলে।
তা ও হলো না, সকলে স্বার্থের কাজ হাসিল করে ঘর গোছাল,
আমার বউ, ছেলের দুর্দশা ঘুঁচলো না।

মনে মনে স্বপ্নে তরী বেয়ে অনেকদূর পৌঁছে গেলাম,
কিন্তু সেখানেও সেই করুণ দশা ;
হাতে ধরে কেউ তোলে না বরং ভাসিয়ে দেয়,
বসিয়ে দেয় পাঁকে।
শিশুর কাঁধে আজ ঋণের বোঝা,
তাকে টাকা দেবার গল্প শোনায় বেদেনী।
শিশু শুনে আনন্দে গায়ে মাখে চোখে মাখে পাঁক,
বেনো জল খায় , শ্মশানের আগুন নেভেনা।
মায়ের বুক জ্বলে যায় ,বাবার চিন্তায় ঘুম আসেনা।

ধুলিপটলে ভরে গেছে দিগন্ত,
ধুলিস্যাৎ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষান্ত হবেনা ধূর্জটি।
এটা জেনেই হয়তো বসে থাকতে হবে ধস্তাধস্তি করে,
নীল স্রোত বইছে এখন পূর্ব দ্রাঘিমায়
দুচোখে মরুভূমি ,উট চড়ে,
কফিনে খাবি খায় প্রাণ।

*********************









*
জ্ঞানপাপী
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনা ২৮.৫.২০২১। কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

তোমাকে কাছে ডাকবো তখনই
    যখন শুনবে কান পেতে কথা,
তোমাকে আড়ালে ডাকবো যে সময়
    বলবো মনের সব গোপন ব্যথা।

আগে ছিল বাতাস বন্ধু
    কথা কইতাম দুজনে বিজনে,
আমি বলতাম দূষণের কথা
    ওরে রেগে যেত বুঝতাম মনে মনে।

আকাশকে বলতাম, চুপ কেন?
    অহরহ কেন গিলছো বিষ?
ও বলতো নিরুপায় আমি,
তবু গর্জে উঠি মাঝে মাঝে
    দোয়েল তাই দেয় শিস।

এখন শুনি পৃথিবীর কান্না
    চিতার আগুনে দগ্ধ হয় মন,
মানুষ তুই একি করলি?
নিজের ভালোটা বুঝলি না,
    ডেকে আনলি নিজের মরণ।

*********************