কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের পরিচিতির পাতায় . . .
দেশদ্রোহী
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনা ১৩.৯.২০২১। কবির ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৯.১২.২০২১।

নেপোয় খাচ্ছে ভাঁড় ভাঁড় দই
বলার মতো কেউ-ই নাই,
দেশের জন্য বিগলিত মন
মুখে বলছে গরিব ভাই।

নির্বাচন যখন আসে
গরিবের জন্য কাঁদে প্রাণ,
টাকা-পয়সা, কাপড়, কম্বল
করেও থাকে তারাই দান।

হাবা-গোবা ল্যাংড়া কালা
প্রান কাঁদে এদের জন্য,
ভোট ফুরোলেই এরা জঞ্জাল
মনের গতি তখন অন্য।

যেন তেন প্রকারেন
গদী পাওয়াটাই ওদের লক্ষ্য,
উচিত কথা যারা বলবে
তারাই হবে ওদের ভক্ষ্য

আমি যে দেখেছি চোখের সামনে
উমির হয়েছে ফকির নেতা,
এটা যে একটা ভালো ব্যবসা
ত্রিশ বছর আগে জানতো কে-তা।

এদের কাণ্ড দেখতে দেখতে
হয়ে গেছে গা সওয়া,
জনগণের হয়েছে মরণ
শুকনো ডানায় তরী বাওয়া।

বলা যাবে না মুখে কিছু
বললে বলবে, দেশদ্রোহী,
জাল-জালিয়াতে ভরে গেল দেশ
গর্দান বাঁচাতে চুপ রহি।

*********************









*
রবীন্দ্রনাথ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১ মে,২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

তুমি নিজেই একটা গড়ে নিয়েছো তোমার ইতিহাস।
তোমার সৃষ্টি কবিতা গানে
উপন্যাস প্রবন্ধে শেষের কবিতায়
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তোমার অধিবাস।

তোমার সৃষ্টি এনেছে এদেশে বিশ্বজয়ী সম্মান,
তুমি বাংলার তথা বিশ্বের কবি
ঘরে ঘরে আজ তোমার ছবি
বাংলা সাহিত্যে অভিনব তোমার দান ।

এ বিশ্ব তোমাকে ভুলবে না কোনদিন
তুমি পেয়েছো জীবনে প্রচুর আঘাত
তথাপি লেখায় হয়নি ব্যাঘাত,
তোমার দর্শন দেশের কল্যাণে ,
তুমি আছো মোদের ধ্যানে ও জ্ঞানে,
তোমাকে কি করে ভুলি ?
হে মহামানব তোমার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে
আমরা আজ পথ চলি ,তুমি এ বাংলার প্রাণ ।

*********************









*
যারা ভাত চেয়ে পায় গলা ধাক্কা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১২ এপ্রিল ২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

যারা ভাত চেয়ে পায় গলা ধাক্কা
যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে অন্যায়ের
যাদের মা পেটের জন্য পরের দুয়ারে
প্রত্যুষে বিছানা ছেড়ে সন্তানকে কাঁদিয়ে
চলে যায় দুমুঠো ভাতের জন্য পরের বাড়ি
যাদের পিতা সকাল হলে কাজের জন্য
হন্যে হয়ে ঘুরে মরে রাস্তায় রাস্তায়
কিংবা সকাল থেকে সন্ধ্যে ঘাম ঝরায়
আমি তাদের ভালোবাসি দেহের রক্তবিন্দু দিয়ে
আমি তাদেরই একজন

বহু প্রতিবাদ করেছি ন্যায়ের জন্য
কতবার চোয়াল শক্ত করে বুক ফুলিয়ে
দিয়েছি গালি সেইসব বেইমানদের
যারা দিনের পর দিন মাসের পর মাস
বছরের পর বছর মানুষের সাথে করেছে অমার্জনীয় প্রতারণা
তাদের আমি ঘৃণা করি
যারা মানুষের মন নিয়ে খেলা করে
পরিশেষে ছুঁড়ে দেয় বুকে ধারালো বল্লম
তাদের আমি দু পায়ে লাথি মারি
যারা শিক্ষকদের দেয় না মর্যাদা
তাদের জন্য আমার ঘরে তোলা আছে
ঈশ্বরের দু-পাটি কোলাপুরি চটি

খিদের জন্য যারা দুমুঠো ভাত চেয়ে
চোখে জল ঝরায়
আমি তাদের পাশে রয়ে যাব আমৃত্যুকাল
আমার এ কবিতা শুধু তাদেরই জন্য
এ পৃথিবীতে কেউ থাকতে আসেনি চিরকাল
আমিও চলে যাব একদিন
জিজীবিষু মনটা আমার
হয়ে গেছে দেখে শুনে চুরমার।

*********************









*
প্রকৃতির খাতায়
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১৭ মার্চ ২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

বইগুলো সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আমার খাটে,
সময় এখন দৌড়াচ্ছে চটপট সূর্য বসেছে পাটে।

বাসি কাজগুলো দিনের বেলায় সারতে সন্ধ্যে হয়ে আসে,

চাঁদের আলো আছে তাই রক্ষে ,কবিতা লেখা হয়না শীতের মাসে॥

লেপ ছাড়তে চায় না মন ঘুমিয়ে উঠতে বেজে যায় সকাল আটটা,
বাজার যাব ,অফিস যাব, আবার ঘুমাবো আসলে বড় রাতটা।

সাত সকালে দিনমজুরা লেপ ছেড়ে কাজে যায় পেটের দায়ে,
কাজ না করলে খাবে কি? মরবে সবাই ছা-পোনা লয়ে ।

গ্রীষ্মকালে দাবদাহে জ্বলে পুড়ে যায় ঘরবাড়ি,
কাজ তখনো করতে হয় তপ্ত সূর্য মাথায় করি ।

বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করার সে এক জ্বালা,
প্লাবন করে লন্ডভন্ড প্রকৃতি চালায় তাণ্ডব লীলা।

তোমাকে বলবো মনের কথা সেটা বলার সময় কই ?
জীবনটা যে জীবন বাঁচাতে সারা জীবন এদিক-ওদিক করে হৈ চৈ।

ধনীর ছেলে মেয়েরা প্রেম করে না মজা লুটতে ভারী ওস্তাদ,
ওদের ফাঁদে ধরা পড়লে জীবন তোমার হবে বরবাদ।

সূর্য দেয় সবাইকে আলো নেয় না সে কারও আলো,
তবুও আমরা সূর্যকে প্রাণের চেয়ে বেশি বাসি ভালো।

জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আছে প্রতি বইয়ের পাতায় পাতায়,
তাছাড়া আরো কত জ্ঞান লুকিয়ে আছে এই খোলা প্রকৃতির খাতায়।

*********************









*
ভুখা জীবন
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

তোমার জমিতে গভীর মিষ্টি জল,
আমার জমিতে ডোবে না কব্জি,
ফারাকটা তোমাকে বোঝাতে
মেপেই চলেছি ছাত্রাবস্থা থেকে।

কত প্রতিবাদী কবিতা লিখেছে কলম
স্মরণ নেই;
তবে তোমাদের লোক ঠকানো
মধুর ছল কথার যে অন্ত নেই
সেটা বুঝতে ভাস্কর পশ্চিমের কোলে।

আমরা যারা পেটে কুম্ভকর্ণের খিদে নিয়ে
অপেক্ষায় থাকি বছরের পর বছর,
তোমরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহারে উসুল করো;
ভীতু অর্থহীন দুর্বল বলে তোমাদের গালে মারতে পারে না করতল থাপ্পড়।

ছাপোষা জীবন অল্পতেই খুশি।
মুষ্ঠি শক্ত , শক্ত চোয়াল প্রতিশোধের অপেক্ষায় দিন গোনে, তথাপি করুণার প্রসাদ পাওয়ার ক্ষীণ প্রত্যাশা ত্যাগ করতে প্রত্যয় কেন জানিনা
বকের মত ভিজে জমির থাকে সন্ধানে।
মাঝে মাঝে ডানা ঝাপটায়,
সংকোচে শুকনো চরে কেটে যায়
মলিন ভুখা জীবন।

*********************









*
কৃতকর্মের অনুশোচনা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ৯ এপ্রিল ২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

বসন্ত আনন্দ ধ্বজা উড়িয়ে চলে গেল শূন্যে,
কোকিলের কুহু ধ্বনি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল মহাকাশে।
চাঁদের আলোয় লেগেছে আজ অমাবস্যার রং;
বসন্ত ভোগ করা হলো না এবার।

মহাশূন্যে ঝুলন্ত খাঁড়াটা খ্যাঁচ করে
কেটে দিয়ে গেল চলতি জীবনের আনন্দধারা।
গত্যন্তর নেই পথে বসে অশ্রু মোচন ছাড়া,
দিশেহারা মনটা উড়ে বেড়াচ্ছে চারিদিকে ;
পাশে নেই সমব্যথী
যাকে দুদন্ড কথা বলে
মনটা করে নিতে পারি হাল্কা।

ভবিষ্যৎ এখন চোখ রাঙাচ্ছে
কৃতকর্মের সিদ্ধান্তে।

*********************









*
ছেড়ে এসেছি
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ৪ এপ্রিল ২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

মাঠ ভর্তি ফসল ছেড়ে এসেছি।
ছেড়ে এসেছি পুকুর ভর্তি মাছ,
গোয়াল ভরা গরু,
পুকুরে চড়া পাতিহাঁসের দল,
লাউ কুমড়ো শসার মাচা,
আর সকাল সন্ধ্যায় নির্মল প্রাণ জুড়ানো বাতাস।

ছেড়ে এসেছি ---
গ্রামের সাদা সিদে মানুষগুলোকে
যাদের মনের মধ্যে অস্ত্র খেলা করে না,
যাদের মনের মধ্যে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়।

এখানে সকলে অহংকার আর
হীনমন্যতা নিয়ে বসবাস করে,
প্রাণ খুলে কেউ কথা বলে না,
বিপদ পদে পদে ঘুরে বেড়ায়।
ইট পাথরের মত মানুষের মন,
হাঁপিয়ে ওঠে জীবন,
কৃত্রিম সৌজন্যমূলক হাসি,
চাকচিক্যের বিপুল বাহাদুরীর যত
মেঘভাঙা প্রতিযোগিতা।

মনের কথা মনেই থেকে যায়,
প্রাণ কাঁদে খোলা হওয়ার জন্য।
মনের সাথে মন কথা বলে ,
মন গুমড়ে মরে, একান্তে নীরবে করে আলাপ।

*********************









*
পদ্মাবতী ঘোমটা খোল
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১৩/০৯/২০২৪, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

পদ্মাবতী ঘোমটা খোল
থলির ভেতর বিরিয়ানি বন্ধ কর
দাঁতে দাঁত ঘষে বিরক্তি প্রকাশ
এমন চালাকির স্বভাবে যে আগল।

শাড়ির আঁচল না উড়িয়ে
কথার কেন পুত্কি মারিস?
সব তো জানিস্ সব তো বুঝিস্
কোন বিড়ালের মাছ খেয়েছে
বললে কেন অট্টহাসিস?

পদ্মাবতী ঘোমটা খোল
চুরির মাছের ভাগ বসিয়ে
বিড়ালকে কেন দিস গালি?
তোর ভয়ে তো বিড়াল বেটা
জানতে দেয় না সাজে মালি।
মাছটা খেয়ে মুখ আঁচিয়ে
লাঠি নিয়ে তাড়াস্ কাকে?

পদ্মাবতী ঘোমটা খোল,
আর কাঁদাস না মেয়েটার মাকে।
বিশ্বের লোক থুতু দিচ্ছে
ড্রেন চরিত্র ডাক্তারটাকে।

*********************









*
অন্তরে গর্জন
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১৪/০৪/২০২৪, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

একটা চোরের গল্প আর একটা চোরকে
শোনাতেই সে খেপে গিয়ে বলল , এই
চোরগুলোকে দেশ থেকে তাড়াতে হবে।
চক্ষু ছানাবড়া করে গন্তব্য স্থলে চলে এলাম।

ভালোবেসেছিলাম যাকে সে এখন
পরকীয়াতে কাপড় খুলতে ব্যস্ত। হিজল বনের
কোকিলের ডাক শুনতে আমার বরাবর মন চায়,
তাবলে কাককে কী আমি ভালবাসবো না ?

এটা যখন জানতে পারলে তুমি তখন আমার
অনুগত হয়ে হাসিমুখে বললে, এটাই চেয়েছিলাম ।
আমরা হিসাবের অংকে সকলেই চোর ;কথাটা
যে মিথ্যে নয় শ্রমিক থেকে মন্ত্রীরা জানতো ।

তাইতো প্রতিবাদী কোন কণ্ঠস্বর শোনা যায় না,
মনের ভিতরে শোনা যায় সমুদ্রের গর্জন;
এযেন ভাসুরের সাথে ভাইয়ের বউয়ের প্রেম ,
ভাই জেনে গেলেও জানো না ;কিন্তু গর্জায় অন্তরে।

*********************









*
আমি তোমার হতে পারিনি
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ২৩/০৭/২০২৪, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

কার কথা বলছো,
যার মাকে ছেলের রক্তমাখা
ভাত খেতে হয়েছিল কেঁদে কেঁদে।

কার কথা বলছো
যে ছেলেটা গুলি খেয়ে
পড়েছিল ফসলের ক্ষেতে;
মা মা বলে কাঁদতে কাঁদতে চোখ বুঝলো।

খবরের কাগজ!
আর কত ইতিহাস ধরে রাখবে বুকে?
মঙ্গল পান্ডের জমানা থেকে
সকাল সন্ধ্যায় চোখের সামনে
কত আগুন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পড়ে।

আজ যে অতি ভয়ংকর দিন,
কখন নেকড়েটা এসে
থাবা মারবে আমার উঠানে,
কখন রক্তে ভিজবে আমার সাত পুরুষের ভিটে।

আমার পিতা কাঁদে বাড়ির চৌহদ্দি জুড়ে,
মা কাঁদে ঘরের ভেতর;
শুধু একটা আতঙ্ক কাজ করে অন্তরে
আমি তোমার ঘরেই আছি,
তবু আমি তোমার হতে পারিনি।

*********************