কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের পরিচিতির পাতায় . . .
বনমালী
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনা ০৫/০৭/২০২১ । এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

ঠোঁটের প্রান্তে আলতো করে বাতাস
ছুঁয়ে গেলে তোমায় মনে পড়ে,
তোমায় মনে পড়ে বসন্তে কেউ
ভালোবেসে রক্ত গোলাপ হাতে দিলে।

আমি বিক্ষুব্ধ বাতাসের রক্তচক্ষু পছন্দ
করি না অথচ সেই রক্তচক্ষু বারম্বার
আমার মানসপটে ধূমকেতুর মতো উদিত
হয়ে পাগল করে আমার মনের ভিটান।

তুমি আসব আসব করেও আসছ না,
তাই আমার মনের আগুন নিভছে না ;
রোজ নিভৃতে দাঁড়িয়ে থাকি তোমারি
গোলাপ বাগানে , তোমাকে স্মরণ করে।

ঈশ্বর কেবল ভাবতে দিয়েছে যে যা আমাকে,
আমি ভেবেই চলেছি কল্যাণকর কর্মে। কিন্তু হলো
না কোনো কল্যাণ, চারপাশে এত জঞ্জাল
বাসা বেঁধে বসে আছে কবে কবে টের পায়নি।

তুমিও আমাকে বলে দাও নি এগিয়ে চলো,
এগিয়ে আসোনি তুমি আমার কাছে দূর করে দিতে জঞ্জাল,
সেজন্য তোমারি ভাবনায় আচ্ছাদিত থাকে অন্তর,
আমাকে জাগ্রত করো হে বনমালী।

*********************









*
দুর্ব্যবহার
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১৯/০৮/২০২০। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

ভিতরে ভিতরে মনকে যত তেল মাখায়
সে আমড়াগাছি হবেনা বরং ফুঁসবে
কেউটে সাপের মতন ,এটা বহুবার পরীক্ষিত সত্য।

তাই পাহাড়ে যখন যায়
সেখানে খরকুটোতে আগুন ধরায় ,
সমুদ্রে ডুব দিয়ে মনের জালা নিভায় ;
মেঘদেখে উড়িয়ে দিই অনিচ্ছা গুলো।

এত কথা কেন বললাম জানো ?
ঝড়ো হাওয়ার দাপট সহ্য হয় না,
সহ্য হয়না বনকুসুমের মাথা দুলানো,
সহ্য যখন সীমা ছাড়িয়ে আকাশে হাওয়া খাবার ফিকির খোঁজে তখন জেগে
ওঠে বাৎসল্য প্রেম,
ঝরে অশ্রুধারা, কোকিলের কুহু রব কর্কশ লাগে,
বটগাছ তলা মনে হয় শান্তির উর্বর ভূমি।

*********************









*
জীবনের কাঁচটা
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ০৭/০৪/২০২৪, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

আর কত তুমি তুমি করে
লিখে যাবো জীবনের কবিতা,
কাগজে লিখতে বসে কেমন করে
প্রথমে আরম্ভ করব সেটা
ভাবতে ভাবতে অনেক কাগজ করি নষ্ট।
তারপর যখন কবিতা লেখা হয় না
তখন কিছু গাছপালা কয়েকটা বক
দু তিনটে আম গাজর আর
পেঁপের ছবি এঁকে উঠে পড়ি।

তোমাকে বললে বিশ্বাস করবে না সুরঞ্জনা
জীবনটা যে খাতে চলার কথা ছিল
সেখাতে তো বইলো না বরং হিজিবিজি
করে চলে গেল তেপান্তরের মাঠে।
অবশেষে দুটো শালিককে দেখে ভাবলাম
এবার ভাগ্যটা ফিরবে কিন্তু তাও হলো না।
হোঁচট খেয়ে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের
নখটা উড়ে গেল।

এসবের সাক্ষী রয়ে গেল তোমার কাছে
না পৌঁছাতে পারার কারণগুলো ;
এই কারণগুলো যখন অকারণে পিছুটানে
তখন মনে হয় জীবনের কাঁচটা
আজও অস্বচ্ছ রয়ে গেল তুমি তুমি করে।

*********************









*
এমন মানুষ কোথায় পাই
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ০৮/০৩/২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

এখন এমন মানুষ কোথায় পাই
ভাবনাটা না হয় তোমাকে দিলাম
যে ভালবাসে না ফুলের গন্ধ
যে ভালবাসে ফুলের পাপড়ি ঝরানো্
যে ভালবাসে না শিশুর হাসি
যে ভালবাসে না নারীর সৌন্দর্য

এমন মানুষ কোথায় পায়?
যে ভালোবাসে মানুষ খুন করতে
যে ভালোবাসে মানুষকে শোষণ করতে
যে ভালোবাসে ঘোলা জলে মাছ ধরতে
যে ভালোবাসে নারীকে ধর্ষণ করতে
যে ভালোবাসে রুটি না দিয়ে রুটি কেড়ে নিতে

বলো আকাশটা কী সত্যিই নীল
বাতাসের কী কোনো গন্ধ নেই
মানুষের কি কোন জাত নেই
মায়ের ভালোবাসার কি কোন দাম নেই
পিতার পরিশ্রম কী সবটাই ব্যর্থ , পরিহাস।

*********************









*
নিরাশার তীরে
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ২৭/০৭/২০২১, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

আমি ছায়া রং মাখতে বড় ভালোবাসি ।
সামান্য এ মনের বাসনায় যে আগুন বসে আছে বুঝিনি ;
বুঝিনি এখন সকলের উপত্যকা জুড়ে বিষাদের আগুন দাউ দাউ জ্বলছে ,
তাই আমার আনন্দ আজ পর হয়ে গেছে স্বদেশভূমি-তে।

একদিন আমি সময় কে তাড়িয়ে বেড়িয়েছি
পথঘাট মাঠ থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষের ঘর।
একমাত্র তুমি ছিলে পাশে বলে সেই অসম্ভবকে
সম্ভব করে তুলতে পেরেছিল আমার প্রতিটি শিরা ও ধমনী ;
তাই চাই প্রেরণা দাত্রী ,মনের মতন একটা মানুষ ।
প্রেরণা না পেলে জয় করা যেত না গিরি শিখর,
একমাত্র প্রেরণাকে সম্বল করে ঘুরেছি বনে-বাদাড়ে
মানুষের মনে শান্তি ফেরাবো বলে, কিন্তু পারিনি;
তাই তারা ক্ষুধা-তৃষ্ণা ত্যাগ করে চলে গেছে ।
আশার কাননে আর ফোটেনা কাঞ্চন ফুল ,আসেনা ভ্রমর।

থেকে থেকে হৃদপিণ্ড যন্ত্রণায় অসম্ভব কাতরায়
বসে আছি গৃহকোণে নিরাশায় বিলাসী আশাকে
করে সম্বল অসভ্যতার উর্বর যত ভূমিতে সুস্বাদু ফলের
স্বরলিপি পাবো বলে, ভেবো না তা অমূলক,
নতুবা আমার সকল ভালোবাসা পাবে না মুক্তি।

*********************









*
প্রজন্মের ভবিষ্যৎ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১২ মার্চ ২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

আকাশটা মাটিতে নেমে এলে কেমন হতো
বাতাসটা মাটি ছাড়া হলে কেমন হতো
জলটা যদি সংগ্রহ করতে হতো স্বর্গ থেকে
তাহলে কেমন হতো

তোমারে কেমন হতোর জবাব
টেবিল চেয়ার ফলমূল দিতে পারবে না জানি
আরো জানি তুমি এক উদ্ভট মানুষ
তোমার কল্পনায় ঘাসে দুধ দেয়
তোমার কল্পনায় ছাগলে বাঘ খায়
তোমার কল্পনায় গোলাপে নর্দমার গন্ধ ।

ভারী অদ্ভুত তুমি
কিছু দিতে পারো আর না পারো
অসম্ভব দুরন্ত হয়-এর লাগামটা টেনে ধরতে পারো।
মাঠে ধানের শীষ কুড়ানো গল্প শুনে মানুষের পেট ভরবে না ।
আমাদেরকে সস্তা অর্থ দিয়ে অকর্মণ্য করে দিও না
হে ঈশ্বর
তুমি কি শুনতে পাও না
গেরস্ত মানুষের রোদন ভরা করুণ আর্তনাদ ,
তুমি কি শুনতে পাও না মায়ের বুকের স্তন টেনে টেনে ক্লান্ত ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না,
যুবক যুবতীর দীর্ঘশ্বাস ভরা অভিশাপ আজ
ঘরের বাতাস গরম করে ,
পিতা মাতার মনের অব্যক্ত যন্ত্রণা তুমি দেখতে পাও না
নাকি বুঝেও বুঝতে চাও না।

তাইতো হৃদয়ে আমার এখন আসেনা বসন্ত,
ফোটে না মনের বাগিচায় কৃষ্ণচূড়া ফুল,
ঠাকুরের তামসিক অর্চনা তাও আসে না ;
মন বিচলিত করে পর প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

*********************









*
বিজ্ঞাপণ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

গোড়ালি ফাটা দিন
বাদুর ঝুলছে ক্যাকটাস বনে
ফুলেরা হাসাহাসি করে
নিরামিষ রাত্রি যাপন
ফ্যাকাসে মুখে রঙিন লিপস্টিক
দু-পাটি শুভ্র দশনের বিক্রম ঝলকানি
colgate কোম্পানি বিজ্ঞাপনের পশরা সাজায়
এগিয়ে আসে চিনির বরণী নন্দিনীরা
রাতের আলোয় পকটস্থ হয় মণি রত্ন
পৃথিবী ঘুমায় তখন।

*********************









*
কবিতার নাম --- হরিনাম সত্য
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ০৯/০৩/২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

ভক্ত প্রহ্লাদের গায়ে
একটুও আঁচড় দিতে পারেনি
হিরণ্যকশিপু, যার মৃত্যু হয়েছিল
নৃসিংহ অবতার নারায়ণের কাছে।
কী আশ্চর্য! আর তুমি কিনা বলছো,
ওদের সর্বাঙ্গ কাটা গায়ে
দেবে নুনের ছিটা ;
বাঘে ধান কাটছে ,খাচ্ছে,
শৃগাল দেখাবে ভয়?
আর শুন্যে ডিগবাজি খেতে হবে না বাছারা,
দাঁতের দাঁত কামড়ে পড়ে না থেকে
জিভ দিয়ে বরং নুনের বাতাসা চাঁটো,
আর বলো--- "হরিনাম সত্য"।

*********************









*
জন্মদিন
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ২৩/০৩/২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

আজকে আমার জন্মদিন
শুভেচ্ছায় ভরেছে ফেসবুক,
বলতে আমার লাগছে আনন্দ
পাইনি কোনদিন এমন সুখ।

খাওয়া দাওয়াটা বড় কথা নয়
আন্তরিকতা আছে যেখানে,
প্রকৃত মানুষ দেখে না স্বার্থ
মন পড়ে রয় তার সেখানে।

এ জীবনে জন্মদিনে কেককাটা হলো না
মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম আমার,
পাঁচ ভাই এক বোন আমরা
জন্মদিন পালনে পায়েস ছাড়া
মনেই আসতো না কেক কাটারs।

আমি ছিলাম সর্বকনিষ্ঠ
বাবা -মা বড়দের নিয়ে হিমসিম,
সংসার চালাতে ওষ্ঠাগত প্রাণ
বাড়তি খরচে মুখ তেতো নিম।

আজ আমার খুব লাগছে ভাল
ফেসবুকে পেয়েছি বন্ধু সুজন,
আপনজনেরা নেয় না খবর
যাদের ভেবেছি এতদিন আপন।

সত্যি কথা বলতে আমার
কাঁপে না কণ্ঠ কাঁপে না মন ,
সাতাত্তর বছর হলো পূর্ণ
আটাত্তর এ করলাম পদার্পণ।

বাড়ি আমার কান্দির পাশে
গ্রামটির নাম রসোড়া ,
জগদ্ধাত্রী পুজোর দিনে
বহে সেথায় রসের ধারা।

*********************









*
ওরা শয়তানের জাত
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

বুকের মাঝে শুরু হয়েছে টনটনানি,
যখনই শুনেছি চলে গেল তরতাজা প্রাণ,
বেছে বেছে বলে কয়ে চোখ রাঙিয়ে
একটা একটা করে এলোপাথাড়ি ধরে ধরে
আগুনের গোলা ছুটলো দেহের পাঁজর ফুঁড়ে ।

মনকে যতই পরাই লাগাম করে ছটফট,
অমানবিক পাষণ্ড ওরা শয়তানের জাত,
ওদের বাড়ন্ত এখন দেখছি আকাশ ছোঁয়া;
ধড় থেকে মুন্ডু যদি না হয় উৎখাত
স্বস্তি পাবে না আমার দেহের অন্তরাত্মা ।

কাল সারারাত ঘুমোতে পারিনি বিছানাতে,
মনে হচ্ছিল রক্তের উপর আছি শুয়ে,
প্রতিটি কোষ দেহে তখন জ্বলছে আগুন ,
যতক্ষণ না উৎখাত হয় বেইমানের জাত ।

শান্তিতে ওরা জানে না থাকতে আপন দেশে,
বহু যুগের বদ রক্ত ওদের দেহে আছে জমা।
ওরা ভাইয়ের রক্তে তর্পণ দিয়ে বসে মসনদে ,
১৪০ কোটির ভারতবর্ষ ওদের করবে না ক্ষমা।

*********************