কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়ের পরিচিতির পাতায় . . .
এসো গল্প করি
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনা ২৮/১২/২০২৪ । এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

এসো গল্প করি
কেমন করে পদ্মা পাড়ের মানুষগুলো
        গঙ্গা পারে এলো ,
কেমন করে লোটা কম্বল
        ওরা সব হারালো ।

এসো গল্প করি
কিসের জন্য ওরা এমন
        করছে দুনিয়ায় ,
মানুষ নামের ভারবহনে
        ওরা কি লজ্জা পায়?

এসো গল্প করি
ধর্মের নামে অধর্মের কাজ
        ওরাই বেশি করে,
ইতিহাসের খতিয়ান বলছে
        ওরাই বেশি মরে।

এসো গল্প করি
বহু গাছের ফল খেয়ে
        ওদের তৃপ্তি নাই ,
ওদের এত বাড় বাড়ন্ত
        দেখে ঈশ্বর লজ্জা পায়।
এস গল্প করি
এই দুনিয়ায় ওরাই মানুষ
    ওদের ধর্মই বড়ো ,
এই কথাগুলো তুমি
  যদি ওদের বলতে পারো,
    তাহলে তুমি নও অরি ।
      এসো গল্প করি ।


*********************









*
আমার জলসা ঘরে
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১১ মে ২০২৫। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

আমার জলসা ঘর এখন গীতগোবিন্দ চর্চা কেন্দ্র
ভুলে থাকার ছলনাতে তোমার
উঠানে লাগিয়েছি, রক্ত গোলাপ।
এই রক্ত গোলাপের গন্ধ ছড়াবে জগৎময়।
কেউ চাইবে না কাঁচা কলা শিঙি মাছের ঝোল,
কারণ রক্ত টগবগ করে ফুটছে বাসর শয্যায়,
তবে একে কি বলে ভালোবাসা?
ভালোবাসার যে কত রং
সেটা একমাত্র বুঝেছিল বিল্ব মঙ্গল।
এখানে না আছে জাতিভেদের দ্বন্দ্ব
না আছে বৈধব্য আঁকড়ে ধরার যন্ত্রণা।
সাবিত্রীর ভালোবাসা একালের মেয়েরা
দেখতে পায় না , তাই বেড়েছে ছাড়াছাড়ির বহর ।
সুখ যেখানে ভাসমান লাশ বেড়ায়
সেটা ধরতে তুমি আমি ব্যাকুল।
ঘৃতপ্রদীপ দেবালয়ে ক'জন প্রজ্জ্বলিত করে
সুখটাকে ঘরে নিয়ে আসার জন্য ?
সেই ভাবনায় আমার প্রদীপের পিলসুজটা
গায়ত্রী মন্ত্র জপে চলেছে নিশিদিন,
যেন প্রদীপটা নিভে না যায়।

*********************









*
মানব জীবন
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১১/০৩/২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

অনর্থক কেন চিন্তা কর ,
তোমার হাত ধরে কে টানছে ,
আর কেইবা বলে ওসব ছাড়ো ,
কাছে এসে বৃষ্টির হাত ধরো।

কার কাছে কাঁদছো বসে একা ,
সে কি তোমাকে দেবে দুধ ভাত,
কার জন্য নিত্য ফসল দেখা
সে কি দেবে বাড়িয়ে সুখের হাত ।

মিথ্যা সব মিথ্যা সব ভুল ,
যাকে আজ ভাবো সত্যি
    সে সত্যি নয় এক চুল ।
এসব অনিত্য আপেক্ষিক মাত্র,
চুপচাপ নিঃশব্দে কাটাও
        তার ধ্যানে দিবারাত্র।

*********************









*
ঋণ
কবি রণজিৎ কুমার মুখোপাধ্যায়
রচনাকাল ১০/০৫/২০২৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। এই কবিতাটি প্রকাশিতব্য বনমালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৬.৫.২০২৫।

এসেছ যখন থেকে যাও দুদিন ,
চেটে-পুটে খেয়ে নাও পৃথিবীর সুগন্ধ রস।
পৃথিবীতে সব দিয়েছে তোমাকে
তুমি কি দিতে পেরেছ কিছু তাকে?
তুমি যেটা দিতে পারো দাওনি এখনো
ভেবে দেখো একবার ;
এই পৃথিবী তোমাকে কি দিয়েছে অনেক কিছু ,
তুমি তাকে দাওনি কিছুই একবার।
তুমি যা নিয়েছ ভেবেছ কী
সেটা কে তোমাকে দিল,
আর তুমি যা পেয়ে হারালে
সেটাই বা নিল ?
এই দেয়া নেয়ার খেলাতে
মিশে আছে কাম , ক্রোধ , লোভ হিংসা,
তুমি তাকে দাও নাই অন্তর হতে
প্রেম প্রীতি ও ভালোবাসা ।

আমরা মানুষ ছিলাম একদিন
হারিয়ে গিয়েছে আমাদের হুঁশ ,
যত ব্যভিচার অনাচার মারদাঙ্গা
স্বার্থপরতাকে কেন্দ্র করে
আজ আমরা হয়েছি অমানুষ ।
হৃদয়ে থাকতো যদি মানবিকতা মমত্ববোধ,
তাহলে পারতে করে দিতে পৃথিবীর ঋণ শোধ ।

*********************