একাকীত্ব কবি শংকর ব্রহ্ম মিলনসাগরে প্রকাশ ২৩.১০.২০২২।
এ'ভাবেই ফিরে যেতে হয়, কত ইচ্ছে ধরে রেখে মনে এ'ভাবেই ফিরে যেতে হয় কত স্বপ্ন বুকে পুষে রেখে এ’ভাবেই ফিরে যায় গন্ধ রেখে ফুল এ'ভাবেই ফিরে যায় জ্যোৎস্না রেখে চাঁদ এ'ভাবেই ফিরে যায় প্রেম ছড়িয়ে বিষাদ সকলেই আসে ফিরে যায় শুধু পড়ে রয় একাকী হৃদয় এভাবে অতৃপ্তি নিয়ে বুঝি সকলকেই ফিরে যেতে হয়?
কবি হতে চাইনি কবি শংকর ব্রহ্ম [ প্লেটোর ´ আদর্শ সমাজ ` থেকে কবির নির্বাসন প্রসঙ্গে ]
বিশ্বাস করুন হুজুর আমি কবি হতে চাইনি কবিতা লেখার কোন বাসনাই ছিল না আমার
দায়িত্ব এবং অভাব দু কাঁধে জোয়ালের মতো চেপে বসে ছেলেবেলা থেকেই এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্ত অনেক ঘুরিয়ে মেরেছে ফলে দেখেছি অনেক কিছু বুঝেছি এত যে কম তার তাই নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছি বারবার সে সব নিগূঢ় কথা শুনবে কে আর সে সব কথাই লিখেছি ডাইরীর পাতায় সে সব কবিতা বল যদি আমার কি দায়
বিশ্বাস করুন হুজুর আমি কখনোই কবি হতে চাইনি . **************** . সূচীতে . . .
একটি সাদা পাতা কবির মুখোমুখি প্রতীক্ষায় কলঙ্কিত হবার প্রত্যাশায়, কবি অনেক্ষণ তাকিয়ে রইলেন তার দিকে প্রথম শব্দটা কি লিখবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। কবি তার শুদ্ধতার মোহে পড়ে গেছেন যেন মনেহয়, কাটাকুটি করা তার ইচ্ছে নয়, ভাবলেন 'ভালবাসা' কথাটি লিখবেন, তারপর ভাবনায় পড়লেন তিনি। কাকে এবং কেন ভালবাসা? কবি খুব সতর্ক ও সাবধানী যাতে কোন কাটাকুটি করতে না হয়। একটি গোটা লাইন মাথায় এলে তবেই লিখবেন তিনি। ভাবলেন লিখবেন,'ভালবাসা ফিরে যাও তুমি'। পরক্ষণেই ভাবলেন, কার কাছে ফিরে যাবে সে? এমন সময় ডোরবেল বেজে উঠলো তার, তিনি একবার সাদা পাতাটির দিকে নির্মোহ তাকালেন। তারপর অনিচ্ছা সত্বেও উঠলেন দেখলেন,এক ভক্ত পাঠিকা এসেছে। নিষ্কলঙ্ক সাদা পাতাটি হো হো করে হেসে উঠলো, কবি তার শব্দ শুনতে পেলেন। কবিও নিঃশব্দে হেসে নিষ্পাপ পাঠিকাটির চোখের দিকে তাকলেন, এবার বুঝলেন ভালবাসা ফিরে যাবে কোথায়। . **************** . সূচীতে . . .
রাত্রি এসে মুছে দেবে সব,এও কি সম্ভব? দুঃস্বপ্নের অন্ধকার কেড়ে নেবে জীবনের আনন্দ উৎসব? রাত্রি এসে মুছে দেবে সব? কি জানি কি হয়,মনে জাগে ভয়, তবু মনে হয় ভোর হলে পাখি জাগে নানা সুরে করে কলরব এও তো জীবনের আনন্দ উৎসব।
ঘুম ভেঙে,সকালের রোদে,জানলায় দেখি, নিকটে বাতাবি গাছে পাখিদের বার্তা বিনিময় সকালটা মনে হয় যেন ঠিক স্বপ্নের মতো বহুকাল অপেক্ষার পর এমন সকাল আসে জীবনে একবার তখন সব কিছু , খুব প্রিয় মনে হতে থাকে।
কয়েকটি পাখির ডিম পড়ে আছে নীড়ের ভিতরে আমার তো ডিমের ভিতরে যেতে খুব ইচ্ছে করে সেখানে নীরবে শুধু, কুসুমের মতো নিজের ভিতরে একা ইচ্ছের হলুদ ওমে বুঁদহয়ে থাকা। . **************** . সূচীতে . . .
মনে পড়ে , সেই গভীর অরণ্যে দাঁড়িয়ে , শেষ ইচ্ছার কথাটা ? চারিদিকে শুধু সবুজ বনানী , মাথার উপরে আকাশ নেই কোন তোমার দৃষ্টি অতর্কিতে আটকে গেছে আমার মায়াবী চোখে। বুকের ভিতর দ্রুত তালে দামামা বাজছে হৃদ-পিন্ডের , অথচ সে রকম কোন প্রস্তুতিই ছিল না আমাদের।
তুমি প্রতিজ্ঞা হয়ে উঠতে পারতে নির্জনতায় আমি সমস্ত ঐশর্য বিলিয়ে দিতাম অনায়াসে, তুমি পরি হয়ে অবহেলায় উড়ে যেতে পারতে দূর থেকে আরও বহু দূরে , অথচ সে রকম কিছু হল না।
মনে পড়ে , তোমার বাসনার ভিতর নীল বাস্প জমা হয়ে ছিল? বুকের ভিতর ছিল স্বপ্নের মৃত নদী ভরা জোয়ারে।
মাটি ঝেড়ে উঠে দাঁড়াতে গেলেই সব মনে পড়ে যায়, আমার কাছে বন্দকী হৃদয় তোমার ঠোঁট টেপা হাসি , দাঁত পেষা হিংস্র অভিশাপ। আজ সুদ সমেত বাড়তে বাড়তে নিলাম হওয়ার মতো , অথচ আমি সব ভুলে পুরনো স্মৃতির গন্ধে একান্ত বিভোর। যেন তার ঘ্রাণ ক্ষীণ হয়ে এলে , আমিও ফুরিয়ে যাব , অতর্কিতে মিলাব বাতাসে। . **************** . সূচীতে . . .
আমার ভিতরে একটা কিছু ঘটছে ডাক্তার কিছুই ভাল লাগছে না আর, আনচান ভাব, মনটার ভিতরে কেমন একটা টনটনে ভার, অস্বস্থিকর একটা অনুভূতি,আর তার ভিতরই বাস আমার যা কিছুতেই না পারছি না গিলতে আবার বলতেও পারছি না কাউকে, শান্তি নেই কিছুতেই আর আমার এ কি হলো ডাক্তার? আগে কখনই কোন বার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি আর না না ঘুমোতে চাই না আমি, ঘুম তো মৃত্যুরই সামিল, সে শান্তি তো শ্মশানের শান্ত নীরবতা। ডাক্তার এ কেমন অসুখ হলো আমার? যাতে নাই নাই করেও সত্যি বলতে কি এক ধরণের সুখের আবেশ ছড়িয়ে থাকে মনে, তবুও আমার যে কিছু ভাল লাগছে না আর এ রোগের যেন নাম কি ডাক্তার? . **************** . সূচীতে . . .
নেই ভাবতে নেই,নেই ভাবলে ফাঁকা ফাঁকা লাগে, মনে কর আছে ধারে কাছে কয়েকটি নক্ষত্র ছড়িয়ে, কিংবা আকাশের বুকে ভেসে আছে চাঁদ ইচ্ছে হলে ভাব সেও আছে ধারে কাছে যাকে তুমি গভীর গোপন টানে মনে প্রাণে চাও।
নেই ভাবতে নেই, নেই ভাবলে উর্বর জমিতে ঢুকে পড়ে নোনা জল বরং ভাব,সারা মাঠে সোনার ফসল ভরে আছে গাছে গাছে ফুটে আছে ফুল বিলকুল ভরে আছে সবই,যেখানে থাকার কথা যা যা।
তোমার একান্ত যা চাই সবই আছে মজুত ভান্ডারে প্রয়োজনে তোমাকে তা বুঝে নিতে হবে। . **************** . সূচীতে . . .