কবি শংকর ব্রহ্মর কবিতা
*
বিভ্রম
কবি শংকর ব্রহ্ম

                                   দুইটি শালিখ পাখি
কেন এসে ডেকে যায় ভোরে?
আমি তো ঘুমিয়ে থাকি অকারণ শীতঘুমে
ও'দিকে সূর্যকে চুমে,পৃথিবীও জাগরিত হয়
নতুন দিবস আসে আলোকিত হয়ে।
                   দিন ও রাত্তির শুধু বদলে যায়
আলো আর ছায়া মিশে হয়ে ওঠে মোহময়
ষড়যন্ত্র যেন এক,
আবার ভেঙেও যায়,
থাকে না তো স্থির, দ্রুত বদলে যেত থাকে
সময় বদলে দেয় তোমাকে আমাকে
প্রকৃতির ভিতরে জেগে ওঠে -
                                       আর এক প্রকৃতি,
সবই বিভ্রম মনেহয়
                         শুধু তুমি আর আমি ছাড়া।
নতুন দিবস আসে,পুরনো বন্ধুর মতো সব
            আবার একে একে কোথায় হারায়?
এভবেই যাওয়া আসা চলে জীবনের
জোয়ার ভাটার মতো,শত-সহস্র বৎসর ধরে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শব্দের খোঁজে
কবি শংকর ব্রহ্ম
 
                 আজকাল কবিতা লিখতে বসে
সেই মেয়েটির মুখটা মনে পড়ে,
                         যাকে আমি পাইনি জীবনে।
কবিতা লিখতে গেলে
                        সেই বইটির কথা মনে পড়ে
যেটা খুব আগ্রহে পড়া শুরু করে
শেষ হবার আগেই কোথায় হারিয়ে ফেলেছি।

কবিতা লিখতে গেলে,মনে পড়ে সেইসব কথা
                      আর ছুটে এসে গোপন ব্যথারা  
অনায়াসে তাদের কথা বলে যায়।

                   কবিতা লিখতে গেলে আজকাল
তাই ভুল শব্দ মাথায় এসে প্রতিধ্বনি তোলে,
আর আমি বিমূঢ় বিস্ময়ে
              সঠিক শব্দের খোঁজে দিশেহারা হই।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রার্থনা
কবি শংকর ব্রহ্ম

এখন কবিতার শব্দগুলি
সরাসরি উঠে আসুক বুলেটের মত দাঙ্গাকে বিদ্ধ করে,
এখন কবিতার ছন্দ আচমকা বেজে উঠুক ডুগডুগির মতো,সাম্প্রদায়িক পিঠের চামড়ায়।

এখন কবিতার রূপকল্প
বুকের ভিতর জ্বলে উঠুক মশালের মতো
যাতে অন্ধ সংস্কারগুলো দাউ দাউ করে পুড়ে যেতে পারে।

এখন আর কোনো কথা নয়
আমাদের একমাত্র জপের মন্ত্র হোক,
অন্য কোন অমৃতলোকে নয়
এই মর্তলোকেই মানবতা মূর্ত হয়ে উঠুক।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
গুপ্তধন
কবি শংকর ব্রহ্ম

কোথায় রয়েছে সেই গোপন ভান্ডার,
কুবেরের গুপ্তধনে ভরা?
যেখানে রয়েছে পড়ে মানুষের মোহাবিষ্ট মন
ম্যাজিক লন্ঠন কোথায় লুকানো আছে ?
কোন সে কথার মায়াটানে,
সংসারের গহন আঁধারে ডুবে যেতে যেতে
অকস্মাৎ জেগে ওঠা যায় নির্জন প্রান্তরে?
যেখানে অকাতরে স্বপ্ন-ফুল বেড়ে উঠে,
                                        মাঠ ভরে যায়।
কার চোখে খুঁজে ফেরো
                          জীবনের নব ধারাপাত?
কার কাছে জমা রেখে চলে যাবে,
                            কবিতার এই দায়ভার?
মনে জাগে ভয়, হিংম্র এই পৃথিবীতে
                     কবিতাকে রাখবে কোথায়?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফুটে আছে
কবি শংকর ব্রহ্ম

                   আমি বিস্ময়ে মৌচাক ছুঁয়ে ফিরে আসি
মধু ও হুল দুটোই আছে জেনে মরা মনে
                                             অভিমানে পড়ে থাকি,
উপোসী রাত একা সোহাগ বিহীন ফিরে যায় ঘরে
বিস্ময়ে চেয়ে দেখি, একি সমস্ত গোপন পাপ
                   ধীরে ধীরে প্রস্ফূটিত সকালের আলো
যেন বর্ণ আর গন্ধ নিয়ে প্রস্ফূটিত ফুলের মতোই।
অথচ রমণী ঠোঁটে নদীর পিপাসা যেন অগস্থের ভাষা,
রূপসী নরম চোখে সমুদ্রের জোয়ার আর ভাটা
মুখটা ফেরালে রাতের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে সাফ    
            ফুটে আছে দেখি একঝাঁক উজ্জ্বল গোলাপ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
স্থবিরতা                   
কবি শংকর ব্রহ্ম

শিশুদের জন্য আমরা রেখে যাচ্ছি
                   একরাশ মিথ্যে প্রতিশ্রুতি
প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়
কালো টাকার গোপন মোহ  
           আর দম-আঁটা যান্ত্রিক জীবন

মাটির সোঁদা গন্ধ
                       এক্কা-দোক্কা গোল্লাছুট
বাতাবি ফুলের ঘ্রাণ
ওসব আমাদের জন্য ছিল একদিন
                                 আজ আর নেই

সে সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস করে
              আমরা আজ বিশ্ব নাগরিক

এইসব দেখে শুনে মনে হয় যেন
                স্থবিরের দায় নেই কোনো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফিরে যায়
কবি শংকর ব্রহ্ম

সাফল্য পাবার আগেই যেন আমি ঝরে যেতে পারি
এই কথা বলে এক কবি
                  বন্ধ করে তার লেখা কবিতার খাতা।

সাফল্যের মানেটা ঠিক পরিষ্কার নয় কবির নিকট
সাফল্য কথাটা খুব গোলমেলে
                           সাফল্য কাকে বলে কবি ভাবে?
সাফল্য মানে কি শুধু অর্থ প্রাপ্তি জনপ্রিয় খ্যাতি ?
বিপুল প্রচার সব মিডিয়া গুলোতে
            নাকি নিজের মতোন করে জীবন যাপন?
নিজের মতোন করে বাঁচা
নিজস্ব ভঙ্গিতে কিছু ভাবা  কিম্বা লেখালেখি করা
বন্ধুদের সঙ্গে তুমুল আড্ডা কিম্বা একা হয়ে ঘোরা?

                                             এ সব ভেবেই কবি
পুনরায় ফিরে যায় কবিতার কাছে
   এমন জটিল ভাবনা থেকে বুঝি নিস্তার পেতে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বশ করেছে
কবি শংকর ব্রহ্ম

                                 ছিলাটানা ধনুকের মতো,
নদীটির কাছে আসে
একরাশ সাদা বক সারি সারি উড়ে
সময় অস্থির বেগে ছুটে যায় নক্ষত্রের দিকে।
গোধূলীর আলো নিভে এলে পরে
                 হলুদ পাতারা, ঝরে যায় ধীরে ধীরে
একে একে সকলেই ঘরে ফেরে
                             নদী কি ফেরার কথা ভাবে?
আমিও নদীর মতো ছুটে যাই
                  জীবন আর মৃত্যুর সঙ্গমের দিকে।

তোমার কথা ভাবতে গিয়ে আমি
নদীর কাছে একা এসে বসেছিলাম
নদী আমায় অলীক সুখের গল্প বলে বশ করেছে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মনের কষ্ট
কবি শংকর ব্রহ্ম

সুখগুলো সব আপন আমার,কষ্ট কি আর পর?
     কষ্টগুলো তাই জমিয়ে রাখি, বুকের ভিতর।

সুখের অনেক ভাষা আছে
কষ্ট শুধু বোকার মতো নিঃশব্দে কাঁদতে পারে
                              কেউ কি তাকে ধরে মারে?
চোখের জলের মূল্য তোমার কেউ দেবে না,
একলা তুমি কাঁদতে পার যত খুশি,
               হয়তো কিছু হাল্কা হলেও হতে পার
ফুলের মতো ফুটতে পারে মুখের হাসি,
তবুতো কেউ বলবে না আর ভুলেও তোমায় ভালবাসি।

ভালবাসা জিনিষ এমন সত্যিকারের একটু পেলেই
দেখো কেমন যেন মন ভরে যায়, তাতে তোমার কিছু এসে যায়?

সুখের কথা ভুলতে পার,ভালবাসা ভুলবে কি আর?
তবু এখন কষ্ট তোমার প্রিয় সাথী দিবস রাতি।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পথ যদি ডাক দেয়
কবি শংকর ব্রহ্ম

এ পথের শেষ নেই কোনও
                    সুতরাং চল যাই দুজনেই
তুমি আমি, জন্ম আর মৃত্যু পাশাপাশি।

যখন মেলেছে পাখা নিশাচর পাখি
                      ক্লান্ত ডানায় রেখে জেদ,
মুমূর্ষ রোগীর মত
তবু অর্থ চেতন টেবিলের কোনে,
কেন তুমি মাথা গুঁজে পড়ে আছ একা?

অস্থির রাত্রি এলে
                      ঠাঁই নেব গাছের ছায়ায়
ফল ফুল যাই পাব,
                     তাই দিয়ে পেটটা ভরাব।

আর পথ শুধু পড়ে থাকবে একা
                      যুক্তিহীন ঈশ্বরের মতো,
যে কাউকে ডাকবে না
                  সকলেই খুঁজে যাবে তাকে।

অনিবার্য যা ঘটার, ঘটবে তা জানি
               সে কথা না ভেবে আর মনে,
শুধু চল, চল যাই সাড়া দিয়ে তাকে
পথ যদি অকারণও ডাক দিয়ে থাকে ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর