কবি শংকর ব্রহ্মর কবিতা
*
ফেরা
কবি শংকর ব্রহ্ম

যেখান থেকে এসেছিলাম,
                      সেখানে আর ফেরা হয় না
জানলে এমন আসতো কে আর?
                  জীবন স্রোতের তীব্র জোয়ার,
ভাসতে ভাসতে যেখান থেকে এসেছিলাম
সেখানে আর ফেরা যায় না,
                তবু মনের ইচ্ছাগুলো
                   সামলে নেওয়া সহজ হয় না।
মুখের উপর মুখোশ পরে
                সারা শহর ঘুরে ফিরে,
                     নিজের ঘরে ফেরা যায় না।

ভাটার টানে ফিরব ভেবেও
                     জীবনে আর ফেরা হয় না।

দিনের বেলা শব্দ ভাঙি,
                       রাতের আবার বেলা গড়ি
এমনি করে চলে আমার
                         জীবন টানা রথের গাড়ি,
সেই আনন্দে ঘুরাই আমি
                            রাত দুপুরে রিক্ত ছড়ি।

সারা জীবন হয়নি কিছুই করা,
                 এমনই কথা ভেবে মরার চেয়ে
একটা কিছু করে, চাঁদকে চেপে ধরে
           কলঙ্কে তার গোপনে থাকো চেয়ে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কামনা
কবি শংকর ব্রহ্ম

প্রথাসিদ্ধ ভালবাসা বলে হয়তো কিছুই নেই আর
তবু কিছু প্রেম থেকে যায় হৃদয়ে সবার,
                       তা দিয়েই চাষবাস চলে বারমাস।

মাছেদেরও ভালবাসা বিনিময় চলে শ্যাওলার তলে,
তাদের ব্যথার অশ্রু জলে মেশে বলে
                                                অনেকে জানে না
তাদেরও হৃদয়ের বিনিময় চলে,
                নীরবে তাদেরও বুকে কামনারা জ্বলে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অনুরাগ
কবি শংকর ব্রহ্ম

হো হো করে হাসি বলেই
তোমরা আমার গোপন কান্না শুনতে পাও না।


চোখের জলে কলম ডুবিয়ে
ইতিহাস লিখছেন , নিগ্রো কবি ল্যাংস্টন হিউজ
আর বুকের রক্ত কলমে ভরে
প্রতিবাদী কবিতা লিখছেন ,
                         নিগ্রো যুবতী ম্যারী  ইভান্স।

অলক্ষ্যে এক ফন্দীবাজ আড়কাঠি নাড়ছে
                         অথচ আহাম্মক জানে না ,
আপোষহীন এক কবির কাছে
             স্বাধীনতাকামী এক যুবতীর কাছে
ভয়ের কিছুই নেই ,
                                 এমন কি মৃত্যুও না।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইচ্ছে-কুঁড়ি
কবি শংকর ব্রহ্ম

                      তুমি তো জান না
তোমার স্পর্শে কত বিদ্যুৎ প্রবাহ
ঘটে যায় শরীরে ও মনে,
                                জনে জনে   
সে কথা যায় না বলা ডেকে,
        সে'সব কথারা থেকে থেকে
অন্তর ছুঁয়ে দিয়ে
  শেষে এসে চিত্তে চাঞ্চল্য ঘটায়,
আর যত সব অবান্তর কথা
                             মনে চলে আসে,
চারপাশে যেন নতুন সূর্যোদয় দেখি,
একি তুমি এখনও দাঁড়িয়ে এখানে?
তোমাকে এড়ানো মানে
       নিজেকেই তাড়িয়ে ফেরা ছুটে,
তোমার স্পর্শ পেয়ে ইচ্ছের কুঁড়িগুলো,
                  ধীরে ধীরে ফুল হয়ে ওঠে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমরা মানুষ
কবি শংকর ব্রহ্ম

গাছ থেকে সুন্দর ফুল ছিঁড়ে নিয়ে,
                                               তাকে নিঃস্ব করে দেবো
কিন্তু কাঁটা যদি হাতে তার দংশন করে,
                                         তবে তাকে অভিশাপ দেবো।
গ্রীষ্মের আকাশে থমথমে মেঘ দেখে
আনন্দে আত্মহারা হয়ে ময়ূর খুশিতে পেখম মেলে দেবো
কিন্তু সেই মেঘ যদি ঝড় হয়ে ছুটে আসে,
                                         তবে তাকে অভিশাপ দেবো।
কুলুকুলু ধ্বনি শুনে সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আনন্দিত হবো,
কিন্তু সেই নদী যদি দু'কূল ছাপিয়ে বন্যা ডেকে আনে,
                                        তবে তাকে অভিশাপ দেবো।
পশুকে হত্যা করে মাংস তার খাব,
                    কিন্তু সে পশুর রোগ যদি শরীরে ছড়ায়,
তবে তাকে দায়ী করে অভিশাপ দেবো।
                       আমরা মানুষ, আমাদের স্বার্থ ফুরালে
তাকে আদাড়ের মতো আঁস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেবো?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মুখ দেখা
কবি শংকর ব্রহ্ম

কি বলবো তাকে,শিশু না বালিকা?

মুখ দেখা আলোয় ফুটপাথ ফাঁকা
দু'একজন পথ চলতি মানুষের কাছে
ভিক্ষে চাইছিল সে, দে বাবু দু'টো টাকা.....

হঠাৎ তার সামনে এসে
               হাত পেতে দাঁড়ালো নববর্ষ,
আর কী আশ্চর্য় একগাল হেসে
কচি হাতে বাটি উপুর করে সব সুখ
তার শূন্য ঝুলিতে ঢেলে দিল উজবুক।

বাতাস তা দেখে
খবর দিতে ছুটলো আকাশকে,
                                 আর তার আগেই
আকাশের সমস্ত নীল ব্যস্ততা ঝুঁকি নিয়ে,
ঝুঁকে পড়েছে তার মুখে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অস্থিরতা
কবি শংকর ব্রহ্ম

স্থির কোন কেন্দ্র নেই, ক্ষণিক সুখের মোহে দুলি
শিশুকাল থেকে যদি
স্থির কোন কেন্দ্রে ভর করে দুলে যাওয়া যেতো,
হৃদয় তাহলে, হয়তো কিছুটা স্বস্থি সুখ পেতো।

বিপন্ন বাতাস এসে
           মাঝে মাঝে এলোমেলো করে দেয় সব,
বড় অসহায় লাগে, নিজেকে তখন - মনে হয়,
সমস্ত প্রচেষ্টার একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা আছে,
ধারে কাছে শত্রু কোন রক্তাপ্লুত হাতে
          নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকে শিয়রের কাছে।

এই সব নিগূঢ় তত্ত্ব ভেবে ভেবে শুধু
হৃদয়ের অভীষ্ট কুসুম,
                               ফুটে উঠে ঝরে যায়
                                                        বারবার,
অনায়াসে নিভে যায় জীবনের আলো
আর সেই অস্থিরতা গড়ে তোলে
              সন্তপ্ত সময়ের, স্রোতময় দুর্বার ঘূর্ণন।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আজও প্রেম
কবি শংকর ব্রহ্ম

এক.

আসতে তোমার দেরী দেখে,
                                      রাগ করেছি ভাবতে পার
সে শক্তিও নেই যে আমার,
                                   রাগ করতেও ক্ষমতা লাগে
মমতা জাগে তোমার প্রতি
কতকষ্ট স্বীকার করে তবুও তুমি কাছে আসো,
                               আলতো ছোঁয়ায় ভালও বাস।
'রাগ না করলে, একটু হাসো' - বল যখন
                                  মন তো তখন হাসতেই চায়।
অথচ হায়, দুষ্টু হৃদয় তোমায় শুধু ক্ষেপিয়ে বেড়ায়।


দুই

প্রয়োজনে যত শব্দ ব্যবহার করেছি এ'জীবনে
       তার মধ্যে 'ভালবাসা' শব্দটা কয়েক লক্ষ বার,
অথচ শব্দটা ক্লীশে হয়ে যায়নি যেন  
                   আজও সূর্যের মতো জ্জ্বলছে বিভায়।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কবি
কবি শংকর ব্রহ্ম

                          যখন সকলে তোমার প্রশংসায় মত্ত
সেদিকে দিয়ো না কান,কবি হয়ো না আপ্লুত,
                           হাততালি থেমে যাবে হঠাৎ অযথা
কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলে যাবে যা তা,
                           সুতরাং শান্ত হয়ে গর্ব ভরে
                                        উঁচু করে তুলে রাখ মাথা।

                    তুমি তো স্রষ্টা থাক একা,স্বাধীন তোমার
মুক্তমন যেখানে যেতে চায়,দায়িত্ব নাও তাকে চালনার,
                    তোমার চিন্তা চেতনা জন্ম দেবে পূর্ণতার
এর চেয়ে বেশী আর কিবা হতে পারে পুরস্কার?
তোমার শ্রেষ্ট বিচারক তুমি নিজে
তা নিয়ে ভেবো না মোটে সমালোচকরা বলে কি যে,
তুমিই পারো সমস্ত প্রশংসার পিছে লাথি মেরে
এগোতে সামনের দিকে জীবনের গান কন্ঠে  ধরে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রকৃত নিষ্ঠুর
কবি শংকর ব্রহ্ম

কবিতা লিখতে গেলে আজকাল
                                  তুমি এসে সামনে দাঁড়াও
কবিতা আড়ালে পড়ে যায়।
কবিতা মুচকি হেসে,তোমাকে সরাতে বলে ঠেলে,
আমি তা পারি না বলে,কবিতারা উচ্চস্বরে হাসে।

কখনও আবার তুমি কাছে এলে,
                             তোমাকে বেড়াতে নিয়ে যাব
ভিক্টোরিয়া বা ইডেন গার্ডেন নয়,
নিয়ে যাব তাদের কাছে,
                     যাদের চাল নেই, চুলো নেই কোন,
হয়তো তাদের দেখে,তুমি ভালবাসতে শিখবে,
আমৃত্যু জীবনকে কিংবা
                                      জীবনের ভালবাসাকে।

আর জীবনকে ভালবাসতে চাইলে,
ভাল মন্দের উৎসগুলো
                       স্পষ্ট ফুটে উঠবে তোমার চোখে।

আমি ঘুষি মেরে,
                       আয়নাটা ভেঙে ফেলেছি জীবনের,
কাজে কর্মে ভুলচুক হলে কোন,
                      আমি কামড়ে ধরেছি নিজেরই হাত
পা দুটো বেঁধে, নিজেকে লটকে দিয়েছি গাছে,
আর বলেছি,"এর নাম ভালবাসা"
                     তুমি ভেবেছ আমাকে, প্রকৃত নিষ্ঠুর।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর