চিরজীবিত -তুমি-চিরঞ্জীবী তুমি মহান, এই শৃন্বন্ত বিশ্বে তোমার জন্মদিন আছে -- মৃত্যুদিন নেই ; সব গাছ-যেমন ছিল তেমনিই আছে ঘর-ভরা জিনিস -- আসবাব-পত্র ব্যবহৃত জিনিস - অব্যবহৃত ঔষধ-পত্র কিছু শুকনো ফল --- ফারাক করেছে “ক্যালেন্ডার” পার্থক্য শুধু অতীত -- আর বর্তমানের ঘড়িটা -- বড় বে-খেয়ালি চলছে নিজ মনে . বিরাট-শূণ্যতার জন্ম-চারদিকে ; . বর্ষণ করো-ফোঁটা-ফোঁটা, অমৃতের বৃষ্টিধারা। . মাথা সব-ভিজিয়ে দাও। . করো বে-পরোয়া, আশীর্বাদ যদি পাই অমৃতের স্বাদ। . আসুক শান্তি-মৃন্ময়ীর দূরন্ত মধুর বিকাশে।
এই আকাশ-ফুল-বিশ্ব-প্রকৃতির আছে অদৃশ্য-আকর্ষণ। মোরা কেউ নই “অভিমন্যু” শুনতে পাইনি শ্লোক , জঠরের মাঝে । . পৃথিবীতে, আমার দিনটি আছে জানা-- . মৃত্যু যখন অনিবার্য্য, হয় যেন যন্ত্রণা ছাড়া। বাতাস তখনো রোখা যায়কি ছেঁড়া তমসুকে ? . সু -পক্ক “ফলরাজ” বৃন্ত-চ্যুত হয় প্রকৃতির নিয়মে . হাজার ঘষলেও, জ্বলে না ভিজে-শলাই। ছাদের জলটা যে নলে পড়ে, সেটাও আকাশের-- বিশ্ব কবির-প্লানচেট-- আগমন বহু মহারথীর সত্যি কি ? সেটাও জানা গুরুদেবের --- ---- ----- ---- নিঝুম-গভীর রাতে, দূর হতে ভেসে আসে জ্যোত্স্না মাখা- মায়াময়ী বাঁশির সুর। . সেটাও-অন্যের সুরে। “পথের-পাঁচালি” “আরণ্যক” – “দেবযান”-- পুই মাচা-- পড়ে আছে, সব-প্রান্তলিপি --একাকার হয়ে। ছুটে বেড়ায়, বিভূতিবাবু, গভীর রাতে ম়ত স্ত্রীর-সন্ধানে। . “হ্যালুমিনেশ্ ন” সবার জানা।
ধরায়-এসেছি মোরা অর্থোপার্জনের -- যন্ত্র হয়ে। . অর্থই-অনর্থের মূল--সেটাও সবার জানা -- তাই-মৃত্যু, যখন অনিবার্য্য-- হয় যেন যন্ত্রণাছাড়া। . আচ্ছা--মৃত্যু, তোমার কেন, মৃত্যু হয় না --- ? . জীবন, আছে বলে ---হয়তো এটা অনেকের অজানা।
বড় দিনের ভাবনা কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী (জন্ম ১.১০.১৯৬৪)। রচনা ৯ই পৌষ. ১৪২৭।
হে মৃত্যু -- অদৃশ্য দানব - তুমি ভাষাহীন। . ভুলে - ভেদাভেদ ; এসো না, এক সাথে বসে, “সাপ-লুডো” খেলি। তুমি করেছ ধ্বংস, সভ্যতা -- মানোনি সংস্কার -- লুম্বিনীর -রাজপুত্রের, চিতা-ভষ্ম মিশরের “মমি” . ফসিল -কংকাল . আজ-তোমার, বড় অহংকার। . মহেঞ্জোদাড়ে -- হরপ্পা, আর সিন্ধু-সভ্যতা। . সব নিদর্শন- আজ জাদুঘরে। জীবনের সাথে, তুমি করো না দোস্তি ? . শান্তির-দূত যেন না মরে। রবীন্দ্রনাথ - রামকৃষ্ণ -বিবেকানন্দ -বিদ্যাসাগর -- সকলেই, আজ প্রাণহীন -- তুমি নিয়েছো কেড়ে ; অন্ধ তুমি দেখো কতো, অর্ধনগ্ন “যিশু” . আজও “আস্তাবলে” আছে পড়ে। এই উন্মাদের-পৃথিবী কখনো কি, তাদের কথা ভাবে ? জন্মদিনে ফুল--মৃত্যুদিনে মালা--বড়দিনে কেক কাটে। এখনোও আছে, হাজার “যিশু” শান্তির কথা ভাবে ---- আলো-আঁধারিতে “জুডাস” এসে তাদের ক্রুশবিদ্ধ করে।
. মানুষ-ভালোবাসে ঈশ্বরকে -- কেনো- তা তুমি জানো ? . মৃত্যু যেনো না, আসে দুয়ারে -- এটা নিশ্চয়ই তুমি মানো। . তুমি, ফিরিয়ে দাও ? সেই সব মহাপুরুষের জীবন-- . স্বদেশী -- বিদেশী নাই বিচার- . রবে-শেলি-বায়রণ-টেনিসন। আমি, পাই না- “মৃত্যুভয়”-- তাই দু-বাহু উপরে তুলি। হে মৃত্যু -- অদৃশ্য দানব-- তুমি ভাষাহীন --ভুলে ভেদাভেদ . এসো না--একসাথে বসে, . “সাপ-লুডো” খেলি।
কিন্তু কি এমন হলো-- শুরু হলো, মারকাট সন্দেহ। কাটারি--ভোজালি--বল্লম--ত্রিশুল-- এলো হামলা বাজ। দেশ কোথায় ? ধর্ম - কী ? কোন জাত-তুই বিদেশী ? না আমি বিদেশী নই -- এই আমার দেশ। . “এই আমার-মা।”
শুনে রাখ পূর্বে ছিলাম-- ছিলাম- পশ্চিমে--দক্ষিণে। ঘুরছি-ফিরছি, তাড়া খাচ্ছি-- তাই, ভাবছি- তোরা ভুল। . আগে--মোরা মানুষ . পৃথিবীটাই “সবার দেশ”।
উপলব্ধি কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম ) রচনা ইং-১৬ই আগষ্ট ২০১২।
অবগাহন--করে রক্তিম “মলম”--- পোড়া, ক্ষতের ভেতরে নেমে। মেঘেরা জানে কি ? হাতে রয়ে যায়-- . “মৃত্যুবাজ” বর্ষার-বারিধারা, থেমে গেলে ; গ্রিলের ফাঁকে, হাত আঁকড়ায়--- ছাদে রাখা-বাহারি লতা। অনাদরে, বড় হওয়া মেয়ে--হয় দুঃখী খোঁজে শুধু একটু--ভালোবাসা। বাথ--টবের জলে দাঁড়িয়ে, করো তর্পণ-- হাতে নিয়ে, এক মুঠ তিল-হরতকি। নদীতে যেয়ে-কি লাভ বলো ? আমি অর্ধাঙ্গিনী আমি যে প্রিয়-সখী।
নদীর দিকে, ছুটে যাই-একমনে অংক কষি-বালুকা-বেলায়। হঠাত্ , শৃঙ্গাররত-হড়পা বান এসে, সব হিসাহ মাটিতে মেশায়। বিদ্যুতের-তাঁরে ছোটে কঠিন-শক্তি ; আগুন ধরিয়ে দেয় শহরে--- জ্বলন্ত মোম ছঁড়ায়, অপাপবিদ্ধ আলো । প্রবেশ করে, গা-ঘিন-ঘিন ঘরের ভেতরে।
নদীর ও পারে, চলছে অরণ্য-দিগন্ত রেখা দিয়ে ; এসো, কাঠুরে --এসো কাঠ চোর, সাহেব আছে যে দাঁড়িয়ে ? তুমি, কে হে-নবীন এই জঙ্গলে--গা ভরা সুন্দর গন্ধ। চাই মেহগিনি-শাল-সেগুন, তুমি এখানে বন্ধ।
এসো, সবাই ধরি মুক্তির গান- সাথে থাকে যেন “কোরাস”। এ কেমন স্বাধীনতা, পেয়েছি মোরা-সব কিছুই যেন “ফোকাস”। স্বদেশটাই, হয়েছে, ডাকাতে ভরা--চিনি না আসল-নকল। টাকা-দিলেই পাবে, চাঁদের মাটি রইবে না আর ধকল।
অনতি-অতীত কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম ) রচনা ইং-- ১৯ / ০৬ / ২০২১।
সুন্দর, এক ঘর আছে-- “মা” নেই তাতে। বলো না, কী লাভ হলো-সে ঘর থাকার ; তোমার দেওয়া-আশীর্বাদ পেয়ে গেছি, সাথে-- তাই ভাবি না--অন্য কোথা যাবার।
ফুলগুলো, সব শুকিয়েছিলো- কেউ ছিল না পাশে-- এখনো, দেখি ছোট্ট মেয়ে-ঘরটি সাজায়। দোলন-চাঁপা, হাস্ নোহানা, সাঁঝ-বিকেলে ফোটে-- পথ হারানো, দেশে এখন কে-শাঁখ বাজায় ? চোখ, ভরা ঘুম-নিয়ে, জেগেছি অনেক রাত। ভোরের সময় তাঁরারা হারায় আলো। ফেলে আসা-অতীতে ডুবিয়ে দিয়েছি হাত, এখন পালিয়ে, কোথায় বাঁচি বলো।
মন যে বড়ো ব্যাকুল--লাগেনা আগের মতো -- জীবন পথের জটিলতায় চিন্তা জাগে কতো।
বিষাদের উত্সব কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম ) রচনা ইং-১২ / ১০ / ২০২১।
পুজোর-আর দিন কয়েক বাকি। কেমন-একটা অদ্ভুত জ্বর-- মনে হয়, সারাদিন ঘুম পাড়িয়ে রাখবে। হিমোগ্লোবিন, ফাইভ-পয়েন্ট-ফাইভ-পটাসিয়াম---- সুদাম, ছুটছে রাস্তায়--দাদা, আমার বৌ দুর্গা ; চেনা-জানা, পরিচিত মুখ এখন সব অচেনা। কি হয়েছে সুদাম ? বাবু-আপনার বাড়িতে অনেক কাজ করেছি। এই দেখুন, ডাক্তার বাবুর কাগজ--একটা উপায় করুণ। কুলেখারা--গুলঞ্চ--কুলেরণ, চালিয়ে যাও। আর আমার ড্রেনটা--- দিন-শেষ, সূর্য ডুবে যায়-- হয় না কোন উপায় ; বার্ধক্যের বিষাদ বুকে নিয়ে---হাঁপিয়ে চলে সুদাম।
এক চোখ ঘুম নিয়ে -- আলো চাল ( আতপ ) কিছুটা ফুটিয়ে রেখে-- অবসন্ন শরীর নিয়ে --হাজির হয় দুর্গা, প্রতিদিনের রাস্তায়---- এ-কি “দুর্গা” পূজোর দিন--বাড়ি-ভরা মানুষ, তুমি, আসোনি চারদিন। দিদি, আমি অসুস্থ -- দেখুন এই ডাক্তারের কাগজ। তিন বাড়ি-চার বাড়ির, একই কথা তুমি চলে যাও। তোমার গা ভরা জ্বর --তুমি অসুস্থ- -বলছে তোমার কাগজ আমার টাকা, বোনাস--শাড়ি ? ওসব পরে হবে ; নানা--পদের রান্নার দিকে চেয়ে, তার, আলো-চালের, ভাতের-কথা মনে পরে। জীবনে কত পদের রান্না করেছি- এই চার বাড়িতে ; আজ, অসুস্থ শরীর--স্বাদহীন জিভ্ --অন্য স্বাদের কাছে নত হয় পায়ের তলায় কাঁপছে মাটি- ভীষণ ঘুরছে মাথা বোতাম-হীন ছেঁড়া-ময়লা জামা--শিশু দুটির গায় এই, পূজার সময়।
. ভেতরে বুঝি ভোগ ফুটছে--এক্ষুনি, পড়বে ডাক। . যেই ভাবা, অমনি চিত্কার -- কে আছিস, আগে ওদের, বের করে দে। . দৌড়ে পালিয়ে যায়, শিশু দুটি অন্য মণ্ডপে। . ঝল্ সে ওঠা আলো -- চারদিকে মাইকের চিত্কার-- . ধুনুচির ধোঁয়া সরে গেলে-- ওরা বলে দেখ ; . আজ নবমী -- ঠাকুরের নাম দুর্গা --মার নামও দুর্গা। . ঠাকুর, কেন পান্তা খাবে-- পান্তাতো আমাদের খাবার।
বাইরে জটলা -ভেঙ্গে গেছে শিশুমন- সুদাম নির্বাক। পাঁচ-ছয় দিনের পান্তা, মুখে লাগিয়ে-- দেবী দুর্গার আগে দুর্গা চলে গিয়েছেন -- পায়নি বোনাস চায়নি অন্য পদের হরেক রান্না ; হঠাত্ উন্মাদের মতো, মন্দিরের দিকে ছুটে চলে সুদাম।
. মা, ওদের বিচার-বুদ্ধিতে আগুন ধরিয়ে দাও। . আমাদের জ্ঞানের দরকার নেই--আশীর্বাদ লাগাও। . আমরা ভাত চাই না ক্ষিদে কেড়ে নাও। . আমরা ধর্ম চাই না-- ধার্মিক এনে দাও। . আমরা মাল চাই না -- মালিককে চাই। আমরা ইমারত চাইনা-- তুমি ছাতা ধরে থাকো। . আমরা প্রভু হতে চাই না-- ভক্ত করে রাখো। ওরা, বাইরে জলপ্রপাত -- ভেতরে মরুভূমি -- . এটা তুমি মনে রেখো ? . **************** . সূচীতে . . .
চৈত্রের-দুর্মর-দুপুরে, চলছি, পেছনের পানে-- পায়ের পরিশ্রমে, হেঁটেছি --অনেক খানি পথ। এসেছি, অনেক দূর-- ঐ যে “কন্টাই তোলা”। যেখানে, ঝোলানো আছে- আমার প্রিয়- ছোট্ট-বেলা। জামরুল -হেতাল-তাল-চালতা-- আছে, অসংখ্য শালুক-ভরা ডোবা। ছোট্ট নদীটা, বাঁক খেয়ে চলে গেছে--সীমান্তে। নোঙর-করা আছে, রহিম চাচার ভাঙ্গা নৌকা । ঐ যে-- প্রাচীন, অশোক ফলের গাছ ! জড়িয়ে থাকা, অশ্বথ্ব-বট-পাশে-“শিব তলা”।
হাতে-ফুলের “সাজি” -- চুপ করে, ইশারায় ডাকছে কে ? চমকে উঠি-- “মল্লিকা” ভেঙ্গে যায়--নিঃসঙ্গতার ফাঁস। মাড় দেওয়া -অবাধ্য শাড়িটা--ওর শুনছে না কথা। “স্যার” , আপনি-- না, আমায় বাংলা শেখাতেন।
স্কুলটা -- বেশ বড় হয়েছে -- পুরানো ‘পুলটাও’ দেখি-- পাকা হয়েছে। স্যার -আগে না, ওটা কাঠের ছিলো-- জানি। বৃক্ষদের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায় তাই পাকা হয়েছে। “মল্লিকা “-- হঠাত্ চৈত্রের-ঝড়ে, সব পাল্ টে গেলো। চারদিকে -নষ্ট হওয়া পাখীর ডিম-- সদ্য-ফোটা শাবক নিয়ে মায়ের, চিত্কার ; ধুলোর ঝড়ে, পরাগের মিষ্টি ছোঁয়া উধাও -- অল্প জলে, আমের মঞ্জরী--সাথে ভাসমান-তেজপাতা। শুক্ নো বাঁশপাতা থেকে চুইয়ে পড়ছে জল।
নদীর বাঁকে, পুরানো “গাজন” তলায়--- কিসের চিল্-চিত্কার ? ছেলে-পুলের দৌড়-ঝাঁপ। লাল-কাঁকড়া-হয়েছে জড়ো, নতুন বত্সরের নতুন জলে। মল্লিকা--ধুতি পরা ভদ্রলোক , ওখানে কে দাঁড়িয়ে ? মনে হয় --“শচীন স্যার” -- খবরদার প্রণাম না ? তুই “বামন” হতে পারি, শিক্ষা গুরু কিন্তু “আমি আত্মজ”। গুরু দ্রোন--পরশুরাম- একলব্য-কর্ণ-ভুলিস না “মহাকাব্য”। মনে--ভাবি, স্যার- এখনও ------ ?
এক ধামা, পোকা-রেশনের চাল-দেখছেন ফিরোজা বিবি। শুকোতে দেওয়া, জামা-কাপড়ের জলে মুখ-ভাসে-- এক মুখ দাঁড়ি --- আরে “রহিম” চাঁচা ? চোখে অশ্রুজল -- “খোকাবাবুর” দেশটাতো এমন ছিলো না ?
ফরাসে ধুলোর স্তর--নাম করা “মল্লিক-বাড়ি”। ইঁদুরের-অবাধ-আনা-গোনা-- যেখানে সেখানে। শুকনো দুটি বই -- অক্ষর হলদে হয়ে আছে। বিদেশী পেপার-ওয়েট -- ঘূনে ধরা তানপুরা ---- এখানে, গান শুনিয়েছে -- ‘অতুলপ্রসাদ’, ‘বেগম-আখতার’ . এমন কি ‘নজরুল’। মনে হয় -- আসেননি “গওহরজান”। কেউ সশরীরে নয়-- সব রেকর্ডে ধরা।
মাথা ঘুরছে, রাস্তাগুলো--গুটিয়ে আসছে, বলছে ফিরে আয় ; স্যার -- এ যে, সবুজ ঘাসে --একপাল ছাগল-সাথে--নানা রংয়ের শাবক . তুমি জানো না --মল্লিকা -- মৃত্যুদেবতার কাছে--- কুড়োতে .চেয়েছি প্রেম, আমার মাকে নিয়েছে কেড়ে ? . ছাগল-ছানার জন্ম শুধু বৃথা মৃত্যু--লেখা নিষ্ঠুর নিষ্ঠুর কঁসাইয়ের হাতে। . **************** . সূচীতে . . .