কবি সুব্রত চক্রবর্তীর কবিতা
*
জন্ম-গত-প্রতিভা
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )
রচনা ইং--৪ঠা জুলাই, ২০২১।

নিজ আলয়ে -- এক মনে, লেখা শেষ করে কবি।
গভীর-থেকে গভীরতায়, ছোটে---
কালো মসৃন -- কবিতার পঙক্তিমালা।
বস্তুত কবিদের-জীবন থাকে না।
ছড়িয়ে থাকে, শুধু স্মৃতি ----আর নানা ছবি ;
নিভৃতে, সাজানো হয়-নিদার্থ --
ক্ষত-বিক্ষত, অন্তরাত্মার মৃত্যু ডানা।

দিন শেষ-রাত আসে, কে-যেন পাশে বসে।
শুক্ নো ডাল-পালায়-নাচছে, শ্মশানে আগুন--
মৃত্যুকে--কে ভয় দেখায় ? জলদকে কে ভেজায়।
ঋতু-বসন্তের মাসে, উধাও হয়েছে ফাগুন।

ক্ষিদেকে হজম করে, শুকিয়ে গেছে তল-পেট।
আতুঁড়-ঘরেই ঢুকেছে, ফুসফুসে অন্ধকার--
.                   লেখা-হয়েছে-বন্ধ।
তবু ধরা আছে হাতে, কলমের রেশ।
পাঠকের চোখে ভাসে--কিছু “অকৃতদার” শব্দ।
.                তুমি নিরব, কবি সুকান্ত।

ঐ-যে, কুরুক্ষেত্রের বধ্য-ভূমি ---
বড় চেনা -- বড় জানা সব রথী--মহারথী ।        
মুখ ভরা খুন---ঝল্ সানো বেশ--ভিজে ওঠে চোখ ---
এক ফালি মাটি-- কেড়ে নিল ;
প্রিয়ব্রত- “অভিমুন্যুর” রাজকীয় বেশ।

এখানেই --বন্দি “আমি”।
চারদিকে মৃত “ডাকঘর”-- নেই কোন উত্তাপ।
লজ্জায়-মুখ ঢাকা খাম আছে-- বন্দিনিবাসে।
একই “চিতায়” আছে দু-জন।
কেউ মরেছে তির-বিদ্ধ--অন্যে ক্ষুধার তীক্ষ্ণ আঘাতে।

জ্ঞান-গরিমার, অফুরান-ভাণ্ডার।
কবি ( কলমে ) পুষে, রাখবো তোমায়।
যুদ্ধে, হয়েছ শহীদ--তুমি বীর “অভিমুন্য”---
মনের বেদির--থেকে সরবে না সময়।

কবিতার-- পাঠ চলুক।
মহাকাব্যের--রথ ছুটুক।
কলমে--এসে বস, হে-মহৎ, হে-সময়।
দাও না-দুটো কবিতা, উপহার।
যদি--কেউ খুশিতে ছাপায়।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কাবুলিওয়ালা ও খুকি
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )
রচনা ইং -২০ / ০৮/ ২০২১।

কাবুলিওয়ালা -- তোমার ঐ, ঝোলায়, কি আছে ?
তুমি আমার, দেশ যাবে -- ‘খোকি’ ;
কাজু-কিসমিস-খেজুর-আরো কত কি দেবে।
ইতিহাস কথা কয়--কখনো সে নীরব নয়।
ওরা এত নিষ্ঠুর কেনো ?
অঝোরে, কাঁদছেন, আইশা খুরাম--সাহারা--করিমি---
.                ফরজানা-হাফিজ।
শুরু হয়েছে মৃত্যু--যন্ত্রনা--বেদনার অনুভূতির কোলাজ্।
চোখের সামনে চুর-চুর করে ভেঙ্গে পড়ছে ;
.                আমাদের-“প্রিয়-দেশ”।

ওরা, নির্মম-নির্দয়-অত্যাচারী ;
আমরা-আর “বোরখার” সময়ে যেতে চাই না।
শিশু-মহিলাদের, ওরা বাঁচতে দেবে না ;
ফুটছে “শিশু” বিমান বন্দরের টারম্যাকে।
প্রতিবাদহীন --শক্তিমান --কা-পুরুষ---------
সারা বিশ্ব, দেখছে “ছবি” সুন্দর ঘরে বসে ;
তারা আসলে মূর্খ --- মূর্খ গোটা বিশ্ব-----
আমরা পেয়েছি পরিচয়--যাঁরা বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে---
.                আমাদের প্রিয় “মাতৃভূমিকে”।

অবরুদ্ধ হয়ে গেছে, শিল্প -শিক্ষা সংস্কৃতি।
লুঠ হয়ে গেছে মৌলিক অধিকার।
হাজার--হাজার শিশু নারী - পুরুষ --------
প্রতিদিন --মরছেন , লাল টক্ টকে -- বুলেটের ছোবলে।
মৌলবাদ--মানি না, ধর্মোন্মত্ততা- মানি না,
ওরা--অসভ্য-বর্বর-খুনি-ডাকাত ;
যারা মানুষকে--বাঁচার অধিকার, থেকে বঞ্চিত করে----
তাদের, বাঁচার অধিকার থাকে, কোন অধিকারে ?

গোটা বিশ্ব, নীরব নিশ্চুপ -----
কোথায়, ব্লগার-বুদ্ধিজীবি --প্রিয় সখের মিছিল।
যা বলবে চুপচাপ-বিষয়টা স্পর্শকাতর----
আলোচনা ঘুরিয়ে দাও, অন্য পথে--কারণ আছে ?
শওকত ভাই--তোমার ঐ ব্যাগে, কি আছে ?
আপনি আমার দেশে যাবেন বাবু ?
রাইফেল -বোম--বুলেট, আর--জীবনটা হারাবেন।

.            কারণ--ধর্ম, মেরে ফেলেছে
.                      রহমত --আর তার
.                       “খোকি কে”।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কিসের স্বাধীনতা
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )
রচনা ইং-১৫ / ০৮/ ২০২১।

জনা চল্লিশেক শীর্ণ চেহারার শিশু দাঁড়িয়ে।
শ্রাবণের জলে ভিজে চুপসে আছে।
চুপসে গেছে পত্ -পত্ করে ওড়া তেরঙ্গাও --
বৃষ্টির জলে-চোবানো বিস্কুট, শিশুদের হাতে লেপ্ টে আছে।
নিরাপদ-শুকনো জায়গায় দাঁড়িয়ে “বক্তা” বলছেন --
আজ যে স্বাধীনতা দিবস --“১৫ই আগস্ট” তোমরা জানো।
কাটাকাটি --মারামারি --হানাহানি --দেশভাগ,
তারপর হলাম স্বাধীন -- এলো “জাতীয় তেরঙ্গা”।
কথাগুলো, স্পর্শ করে শিশুমনে।
শিশুরা ভাবে, হানাহানি -- কাটাকাটি -- মারামারি
জেনে রাখ এর নাম তাহলে-- “স্বাধীন”।

মানুষ আজ খুব সাধারণ----
সহজেই, ক্ষমা করতে শিখেছে।
ধূর্ত নেতার, দল ছেড়ে যাওয়া --স্বজন বিয়োগ--কপটতা
প্রিয়জনের বিশ্বাস--ঘাতকতা-ঘুষ--মিথ্যা অহংকার---
মনে করে, এটাই স্বাভাবিক।
এসব কেন, ঘটেনি আগে-- ?  ঘটে ছিল।
আগে শাসন ছিল, অন্যায়ের শাস্তি ছিল --মানুষ ছিল।
বুদ্ধ -যীশু -মহাত্মা ক্ষমাকে “শিল্প” বলে মনে করতেন।
অসত্-কে ঘৃণা করতেন -- দেশদ্রোহিরা কেউ পারে না।

জানেন, ঠাকুমা-মা-জ্যেঠিমারা পারতেন।
আর বটতলার, চাঁদির চশমা পরা কাঁধে ছাতা
.                শিক্ষক মহাশয় পারতেন।

এখন পারেন শুধু পাড়ার “বিজয়া মাসি”।
প্রতিবাদ করে-চাকরী যাওয়া -- বেকার স্বামী।
একগাদা মার্কশিট নিয়ে, সারাদিন পথেঘোরা
.                দুই--‘ছেলে’
.                আর--বয়স, পেরিয়ে যাওয়া
.                ঘরে থাকা অবিবাহিত মেয়ে--
নিজ ভাগ্যকে, গালা-গাল, দিতে-দিতে মাসি--
ভাঙ্গা বাক্সে কি যত্নে, ভাঁজ এড়িয়ে এখনও তেরঙ্গা রাখেন।
বলেন কাল ১৫ই আগস্ট --হায় স্বাধীনতা----
কোথায় , মাতঙ্গিনী--প্রীতিলতা- কাদম্বিনী ----
সোনার -আংটি চাইনা--পেট ভরা খাওয়া চাই না--
.                সোনার -দেশ চাই--
.                      আসল-মানুষ চাই---
.                             সু-শাসন চাই।

আগামী বছর, যদি বেঁচে থাকি- তেরঙ্গা আবার উড়িয়ে দেব---
সূর্যের আলোর গায়ে --যা তোমাদের মনে রয়ে যাবে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পরমায়ুর ( হত্যা )
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )
রচনা ইং-- ২৫ / ০৬ / ২০২১।

আমাকে একটা-পথ খুঁজে দিবি, হারিয়ে যাবার।
আলকাতরার--মতো--কালো রাত্রি।
দূরের, আলো-আঁধারির মাঝে ঐ যে, রেল-ষ্টেশন।
ট্রেন ছাড়ার, ঘোষণা মাইকে--হুড়মুড়িয়ে উঠে বসি--
.                বাতানুকূল --কামরায়।

শুরু হলো ছোটা--কেমন যেনো, অদ্ভুত --অনুভূতি ;
সবই, চির-পরিচিত চিত্র--কিন্তু রোমাঞ্চকর।
হকারের-দাপাদাপি, দো-তারা, হিজরার হাত-তালি ---
লিচুর ঝুড়ি নিয়ে ট্রেনে হকার--কোথায়-লিচুর বুকিং-চার্জ ?
সপাসপ কিছু-লিচু নিয়ে উধাও ধূর্ত চেকার।
ট্রেন ছুটছে, মানে না সিগন্যাল --থামায় না ষ্টেশন --
ছুটছে-জনপদ, গাছ-ঐ -তো “ঘুমটি” গাড়ি-ঘোড়া-মানুষ।
রাত অনেক ওখানে ভীড়টা কিসের ?
চেনা, লোকগুলোর মুখে  “অ্যালকোহলের” গন্ধ ।
তান্ত্রিক-বাবা, হাত দেখছেন--বললাম-আসল “ভগবান”।
.                                     কোথায়-পাবো ?

দেখি-‘রিমলেশ’, চশমার পেছনে সেই ভুবন-ভুলানো হাসি।
গায়ে-‘কালো’ রঙের, দামি বাহারি কোট।
চিনেছি--আপনি, মানিকদার ‘নায়ক’ ছবির নায়ক না ?
হেসে বললেন --শার্লক হোমস্ --আগাথা ক্রিষ্টি --
শরদিন্দুর--রহস্য ভেদ পড়েছেন-আর তান্ত্রিক ভগবান ;
সলিলদা কোথায় ?  গানের লিরিক্ টা একটু পাল্টান।

এই-রোকো--রোকো, ট্রেনটার গতিটা কমাও---
শত ‘গ্যালাক্সি’ পেছনে ফেলে-এ ট্রেন ছুটছে।
বৈশাখ--ফাগুন--শৈশব--কৈশোর--যৌবন  সব উধাও।
ঐ যে-কাশবন-- আশ্বিনের বৃষ্টিতে ভেজা।
মনে হয়-নিশ্চিন্দিপুর-ভুল, অপু-দূর্গা কাশের পালকে ঢাকা।
ভোরের--আলোয়, জমিতে ছড়িয়ে দিয়েছে কে “সোনার গুঁড়োর” বীজ।
এ কি, সকালে দেখি গজিয়ে উঠেছে রোদ্দুরের গাছ।
.                “রাত-নামছে-রাত”
নিস্তব্ধ-গ্রাম, অনেকদিন জেগে আছে ঘটবে কিছু ঘটনা ?
হটাত্-বিকট হুইসেলের আর্তনাদ --শত জাল ছিঁড়ে ফেলে ভেঙ্গে--
চুরমার সেই “অভিশপ্ত ট্রেন”, -- চারদিকে চিত্কার ক্ষত-বিক্ষত দেহ।

সমস্ত দেহে, কালশিটে দাগ--দেখি বেঁচে আছি অন্ধকার “কফিনে”।
রক্তাক্ত মরচে ধরা খয়েরি জিভ নিয়ে বললাম--
আমায় মেরোনা --- আমার সংসার আছে--
আমার হারিয়ে যাবার ইচ্ছে নেই।
শোনো -সদ্য আমার ‘মাতৃ-বিয়োগ’ হয়েছে।
দেখি -আংটি পড়া দুটো “আঙ্গুল” উধাও

শব্দ করিনা-- অপেক্ষা করি পরবর্তী আঘাতের --
জানি না -- এই রহস্যময় জগতে, আর কি ঘটে ?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পাইলট-নিলুফার আর আমি
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )
রচনা ইং--২৯ / ০৮ / ২০২১।

হটাত্ , প্রচন্ড ধাতুর শব্দে -- কান কেঁপে ওঠে
স্বপ্নে দেখি-কেউ আমাকে উড়িয়ে নিয়ে চলছে--
“নিলুফার-রহমানি” -- প্রথম মহিলা আফগান পাইলট ;
পালিয়েছেন, দেশ ছেড়ে- আছেন ফ্লোরিডায়।
জানো, পাহাড়-মরুভূমি, স্থলবেষ্টিত, আমাদের প্রিয় দেশ।
কাপিসা--কান্দাহার--হেরাত--মাজার-ই-শরীফ-পঞ্জশীর ;
প্রিয়, মাতৃ-ভূমির উত্তর ভাগে-উঁচু ঐ হিন্দুকুশ পাহাড় ;
চারদিক মনোরম--সুন্দর মায়া-মেশানো, উপত্যকা।
জায়গাটা, ফাঁকা কেন ? ছিল বুদ্ধের প্রকান্ড মূর্ত্তি ?
ধর্মের নামে-ধূলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
.        বামিয়ানের গান্ধার --ভাস্কর্য।

নাদিরার কি হবে ? পুরুষ সাজিয়ে রেখেছিল তাঁর মৃত স্বামী ---
শিশুপুত্রকে ছুঁড়ে দিয়েছে তারকাঁটার ওপারে -- “সেনার”হাতে।
প্রচন্ড গরমেও শিরদাঁড়া দিয়ে, শীতল স্রোত বয়ে যায়।
নিষ্ঠুর -বর্বর--নৃশংস --সব ছারখার হয়ে গেল ;
ঘরে ঘরে, দরজায় লাগানো আছে হুড়্ কো ---
আর শোনা যাবে না--- জ্যোত্স্না-মাখা ভোরের “আজান”
কাঁদছে, গোটা আফগান-- কাঁদছে পাঠান ভূমি ;
এরা, অন্ধকারের পূজারি--মানবতার শত্রু
উদ্বাহু, ধর্মান্ধ-গোষ্টী --বহু নিন্দিত মধ্যযুগ এই বর্বরতা দেখেনি।
রুক্ষ-বালুর-চরে, ভাসছে লাশের পর লাশ।
স্বজন-হারা, শিশুরা কাঁদছে -- বালুমাখা বিষন্ন-রুটি নিয়ে।
আছড়ে পড়ে সূর্য্যের লাল “রক্ত বমি” দুধে আল্ তা দেহের উপরে ;
খুন হয়ে গেছে, কাঁটা গাছ-শুকনো ফল--গুল্ম-অগুন্তি ভালোবাসা।

চলো উড়ে চলি--মক্কা-মদিনার দিকে
ঐ তো, ‘কারবালা’ তির-বিদ্ধ অসহায়-তৃষ্ণার্ত শিশু।
পিপাসায়--পুত্র শোকে, কাতর পিতার হয়েছিল “শিরচ্ছেদ”।
হে--“মহামানব” জাগো চেয়ে দেখো---
মহানগর-নগর, চারদিকের কী “উলঙ্গ” অবস্থা।
দুধের শিশুরা, করেছে কি অপরাধ ?
দু-কোটি-আফগান-মহিলা হয়ে আছে --এক দলা “মাংসপিণ্ড”।
মানব সভ্যতা আজ বিপন্ন --- ওরা কি চায় ?
তোমার আছে ক্ষমতা--ওদের পথ দেখাও।

.        তুমি চলে যাও স্বপ্নের দেশে .        
.              আমি নিলুফার -- এই “প্রিয় দেশ” আমার না --
.                   আমি পাড়ি দেবো ভিন্ -দেশে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রত্যাশা
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )
রচনা ইং- ২৭ / ১০ / ২০২১।

আমাদের “নিভৃত” পাথর বলে মনে হয়।
শ্যাওলা-পড়া, ভীষণ, গা-ঘিন-ঘিনে।
ঘাস পাতা, খেতে-খেতে একবার জিভ্ দিয়ে--
ছুঁয়েছিল -- এক প্রকাণ্ড ষাঁড় -- তারপর---  ?
তোমাদের জিভে, এক ফোঁটা--সত্য নেই।
হয়ত, ছিলই না কখনও ?
তাই, আমাদের, সত্যটা - মিথ্যে বলে মনে হয়।
কাঁটাতার, তৈরি করেছে--ভাই--ভাইয়ে বিদ্বেষ।
ঢাকা--রাজমহল--গৌড় হয়েছে রাজনীতির ফসল।

.        জানো, দেশটা --এমন ছিল না
ঠোঁটে বাঁশি-একপাল গরু--হারিয়ে যাওয়া বাছুর--
ধান--নদী--শষ্যক্ষেত--বাঁকাচাঁদ--গোধুলি -----
কোথায়--সব, অদৃশ্য হয়ে গেল।

দুপুরের রোদে--ধুকতে-ধুকতে, হেঁটে যায় বৃদ্ধা।
যদি পারো, তাকে দিয়ে এসো-পূজো মণ্ডপের ঠিকানা।
কর--কর করে, গায়ে ফুটছে দশ হাত, নূতন রেশনের কাপড়।
দু--মুঠো প্রসাদে, বৃষ্টি ঝরে --ওটাই মূল লক্ষ্য।
না-হলে পৌঁছতে, হবে দিন--শেষ।

দেশমাতার, সেই আয়ত-উজ্জ্বল-চোখ-‘দিব্যশ্রী’ সুন্দর রূপ ----
আজ বিবর্ণ--ধূসর বিকৃত- অসম্বৃত বেশ।
যাদের হাতে, তুলে দেওয়া হয়েছে--দায়িত্ব
সে হাত--গুলো ভরা আছে উৎকোচের কালিমায়।

এ দেশ--তোমার আমার --কিসের চিত্কার ?
বাগান ভরা বিপ্লব--বোনাস--‘মার্কসবাদ’ ;
জন-হেনরির--প্রবল হাতুড়ির শব্দ--লড়াই চালিয়ে যাও ---
ভরন্ত সাজানো বাগান-- গন্ডগোল বাঁধিয়ে দাও।
ডাকিনী বিদ্যার কদর দেখাও--লোক ঠকাতে হবে।
এ কোন বাঙ্গালী -- এ কোন দেশ-- এ কোন সভ্যতা ;
অন্বর্থনামা--ধন্য জন্মা --ক্ষণজন্মা--আজ আর নেই -----

.        কে, দেবে ধাঁধা--অচিরেই হবে দেশভাগ।
আগমনি এসো --শারদীয়া এসো-- ভরসা দাও।
তোমার জন্য তুলে রেখেছি --সব্জি ভরা ফুল।
শুরু করি রঙ চটা দেশটাকে, নূতন-করে গড়ার কাজ।

.            ঘাস--পাতা , খেতে--থেতে,
.               একবার জিভ্ দিয়ে ছুঁয়েছিল ----
.                   এক প্রকাণ্ড ষাঁড়--তারপর----
ওটা ছিল বিস্ফোরক-- “ল্যাণ্ড--মাইন”।
সময় আসুক, একদিন ওখানেই সুন্দর “গোলাপ” ফোটাবো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আঁচল
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )

.        শ্রীচরনেষু ‘মা’ ---

কিছুক্ষণের, জন্য-সময়টা থেমে গেল। গভীর রাতে, অনেকদিন
রাত-জাগা ছোট-বোনের মধ্যে ভয়ের আভাষ দেখতে পেলাম।
ওর ডাকে, ঘরে ছুটে যাই।  বন্ধ ঘড়ির-পাশে, একটা সচল ঘড়ি ছিল।
দেখি সময়টা রাত ১টা ৫০ মিনিট।  আমার বড় ভাগ্নি--আপ্রাণ
চেষ্টা করছে---সময়টা ঘোরানোর।  কিন্তু বয়সের অভিজ্ঞতায়
বুঝতে পারলাম --আমরা এবার পরাজিত।  মা--চলে গিয়েছেন
না ফেরার দেশে।  এটাই ভবিতব্য।

.        সে-যা হোক, মৃত্যু পরবর্তী  অনেক ঘটনা শুনেছি-তোমার
মুখে।  আমরা নানা-রকম স্বপ্ন দেখি, অ-পার্থিব চিন্তা যদি
দূরে ফেলে রাখি--তাহলে, এই জগতেরও একটি সীমা আছে।
যেটা তোমার জীবনে মাইল-ফলক হয়ে আছে। মৃত্যুকেও তুমি
সৌন্দর্য্যময় করে তুলেছিল, যেটা আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে।

,        তোমার আশীর্বাদে-আমাদের সবার চেতনার উন্মেচন
ঘটুক।  অধিমানস--অতিমানস, জীবনে আসুক এক আমূল পরিবর্তন।
যা-আমরা, সবাই-সহজভাবে সবকিছুকেই প্রভাবিত করতে পারি।

.        যৌথ-পরিবারে-তুমি সবার মাঝে, প্রাণ-সঞ্চার করেছিলে।
ঝিমিয়ে পড়া-সংসারে, এনেছিলে “রৌদ্ররস” সাথে ছিল বেগবতির
প্রাণ।  তুমি অল্প ক্ষমতা নিয়ে যে-ভাবে অভাব মোচন করেছ,
এখানেই তুমি সার্থক।

.        তুমি-আছো, গাছের--পাতায়, নবীন--কিশলয়ে, সবুজ--ঘাসে,
তুলসী-তলায়, শিশির বিন্দুতে --- আকাশের নীলিমায়।

.        ফুলের রাজ্য-ফুলের গন্ধ-ফুলের মধু--গুঞ্জরিত ভ্রমরের
অক্ষি-পল্লবের বাতাস-মায়াময়-আবেগময়-পরিবেশে তোমাকে
শান্তি প্রদান করুক।

.        এ নতুন বাড়ীতে-পা রেখেছে ঐ কোন জনা।
এখনো, আলো-আঁধারে ভেসে বেড়ায় তাঁর স্মৃতিকনা।
এসেছিল কত সাধে-মনে পড়ে প্রতিক্ষণে ----
পুরেছি কি সাধ তাঁর
.                ভাবি, তাই মনে মনে।

.                                        আশীর্বাদ দিও-----
.                                        সুব্রত চক্রবত্তী  ( শ্যাম )
.                                                ও
.                                        পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মৃতদেহের মৃত্যু----?
কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী ( শ্যাম )>
রচনা ২৫.৫.২০২৩।
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।


ঘোড়ার ডিমের ভেতর, জীবিত ভ্রণ--ঐ যে তেপান্তরের মাঠে-শাকচুন্নি, মামদো-
আলেয়ার রোশনাই -
একগাদা ডিমের উপর (হাট্টিমাটিম টিম)
ছাতিম-হিজল-তেতুল, সব নিভৃত আবাসন। তেমনি ধর্মের মধ্যে আল্লাহ, ভগবান, গড---
সব ব্যাটার মুখ দিয়ে শান্তির বাণী।
ঈশ্বর না থাকলে তবে, কোথা থেকে ঈশ্বর ভয়-সুতরাং উনি আছেন।
ত্রিভুবনের তিনজনই মালিক---খতিয়ান চেন্ ডিড আছে গোপন কার্যালয়ে।
উনি নিরাকার-কিন্তু পুরুষ, সব জায়গায় ওনার অবস্থান।
প্রমাণ যুক্তি---বেটা উধাও হয়ে যাবে, ঘাড় থেকে মুন্ডু।
গাছ আগে না ফল আগে---অবান্তর আলোচনা।
অ্যামিবা আগে, না আদম ঈভ-হাওয়া।
ডারউইন-ব্ল্যাক হোল, স্টিফেন হকিং, বিগ ব্যাং, সবই বুজরুকি।
তাজমহল---রাজকীয় স্মৃতি সৌধ---কারিগর আহমেদ লাহোরী, বুড়ো আঙ্গুল উধাও।
ঈশ্বর-আল্লাহ-গড, ওনাদের সৃষ্টিকর্তা বা উৎস, অবান্তর প্রশ্ন। কে নিয়েছে ওনাদের নাম?
কোপারনিকাস-গ্যালিলিও-আকেমিডিস, চাপাটি লাও, জহর লাও---খতম করো, শয়তান
হোক বিদায়।
সত্য-ট্রেতা-দাপর, দেশ ভরা অবতার---এই ভয়ংকর কলিতে, ওনারা এখন কোথায়?
কোটি কোটি অসহায় মুসলিম, আল্লাহর পয়গম্বর, চুপ করে আছেন কেন?
সমস্ত রোগের যিনি উপশমের মালিক, উনি আছেন জার্মানিতে,
বাবা রামদেব। সরস্বতী-লক্ষ্মী-বিশ্বকর্মা---নানা উপাচার, বিদ্যা, খাদ্য, শিল্পতে---
বেছে নিয়েছে শেষতলা।
ঐ যে গণ্ডকী নদী, শালগ্রাম শিলা--জীবাশ্ম, ফসিল ছাড়া আর কি?
জিবরাইল, ফেরেশতা, জিন---আল্লাহর আরশের নিচে সূর্য, অদৃশ্য পিলারের উপর পৃথিবী,
রুচিহীন-যুক্তিহীন-প্রমাণ হীন---পাগলের বাক্যলাপ।
বন্ধ হয়ে যাক, সেবা সদন, হাসপাতাল, গবেষণাগার। ক্রুশ বিদ্ধ, যীশুর ভারত দর্শন চলুক।
হনুমানের হাতে দাও, রাম নামের হাতে খড়ি---পাথরে পাথরে তৈরি হোক সেতু, কীর্তন
হোক হনুমান চালিশার।
অশিক্ষিত, বিবেকহীন, বিকৃত মস্তিষ্ক, নারী লোভী মুখোশধারী
এই ধর্ম পিপাসুদের হাতে ছেড়ে দাও, এই সুন্দর পৃথিবীর ভার।
কি ব্যাপার, পরিষ্কার ধবধবে গাল নিয়ে, লাইনে পীর, সুফী, মুমিন, বাবা, গুরুদেব সব কেন
দাঁড়িয়ে? গোমূত্র সেবন, ও পাঁচবার নামাজ পড়েও, যায়নি অপকৃষ্ট দেবতা
করোনা। তাই বাবা বুস্টার ডোজের জন্য দাঁড়িয়ে আছি।
হে ঈশ্বর, তুমি সত্যিই সর্বশক্তিমান, তোমার ভক্তদের কর্মকাণ্ড দেখে
গোটা পৃথিবী অবাক।
তুমি এদের নিয়েই থাকো। আমরা কি সত্যিই বেঁচে আছি? মৃতদেহের মৃত্যু হয় তুমি কি
তা জানো?


.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর