বৈশাখের তপ্তবেলা তথাগত পৌঁছিলা কুশীনগরের সন্নিকটে কবি সুব্রত মজুমদার
বৈশাখের তপ্তবেলা তথাগত পৌঁছিলা কুশীনগরের সন্নিকটে, আনন্দে ডাকিয়ে বলে, "দেহ আর নাহি চলে, বিশ্রাম করিব এই পথে। আনন্দ বলিল, "স্বামী, আর কিবা আছে দামী তোমা হতে এ ধরার পরে ! " প্রভু কন," শোন তবে আজিকে নির্বাণ হবে, নাহি রব আর এ সংসারে। এ দেহ নশ্বর জেনো তার শোক কর কেনো, পীড়া হল নির্বাণ কারণ কুণ্ডেরে না কর হেলা, ভালোবেসে পরশিলা করিয়ে অতীব যতন। যদি কিছু থাকে মনে প্রশ্ন কর এইক্ষণে, সময় আর নাহিক অধিক, দয়া করো ভালবাসো সকল অবিদ্যা নাশো, মধ্যপথে চলাই সঠিক। " চলে রবি অস্তাচলে দূর দিগচক্রবালে উড়ে চলে মরালের দল নির্জন অরণ্যপরে জ্যোৎস্নারাশি ঝরে পড়ে, ভিক্ষুগণ উদ্বেল চঞ্চল। হেনকালে শালতলে ভগবান শয্যা নিলে সুভদ্র নামেতে ভিক্ষু এক নানা সংশয় তার জিজ্ঞাসিল বারবার, কৌতূহল করিয়া উদ্রেক। বুদ্ধ কন," এই দিনে লুম্বিনীর উদ্যানে এসেছিনু মায়াদেবী কোলে, দুঃখ ব্যাধি মৃত্যু জ্বরা ত্রিতাপে ব্যাকুল ধরা, তাই জীর্ণ সবকিছু ফেলে - - একান্ন বৎসর ধরে নানা দেশ ঘুরে ঘুরে তপ করে এই জানি সার অষ্টাঙ্গিক মার্গ ধর্ম জেনো মূল আর্য্যকর্ম বাকি হল সমস্ত অসার।" শান্ত থাকি কিছুক্ষণ আনন্দেরে বুদ্ধ কন, "সংঘ হল এবে আমার ছাড়া। বয়স্ক ভিক্ষুরে মান আর দিয়ো সন্মান 'ভন্তে' বলে দিও যেন সাড়া ; এ ধরায় জন্মে যাহা অবশ্য বিনাশে তাহা আত্মা হল অজর অমর, নিজের প্রজ্ঞা আলো অন্তরের মাঝে জ্বালো উদ্ভাসিত হউক অন্তর।" এই বলি তথাগত চিত্ত করি সমাহিত যোগবলে ত্যাজিলেন কায়, দেহ যেন শূন্য তরী নিশ্চল রহিল পড়ি জ্যোৎস্নাময় শালতরুছায়॥ . **************** . সূচীতে . . .
নির্বাণষটকম্ আদি শঙ্করাচার্য্য কৃত অনুবাদ কবি সুব্রত মজুমদার।
না আমি মনোবুদ্ধি অহঙ্কার চিত্ত না কর্ণ না নাসা না জিহ্বা না চক্ষু। না আমি ব্যোম ভূমি না তেজঃ না বায়ু চিদানন্দরূপী সদাশিব আমি॥ ১॥ না আমি প্রাণ সংজ্ঞা না আমি পঞ্চবায়ু না সপ্তধাতু আমি না পঞ্চকোশ। না বাক্-পাণি-পাদ না উপস্থ না পায়ু, চিদানন্দরূপী সদাশিব আমি॥ ২॥ না দ্বেষ-রাগ না লোভ-মোহ-মদ না মাৎসর্য্য। না ধর্ম না অর্থ না কাম না মোক্ষ, চিদানন্দরূপী সদাশিব আমি॥ ৩॥ না পূণ্য না পাপ না সুখ না দুঃখ না মন্ত্র না তীর্থ না বেদ না যজ্ঞ। না ভোজন না ভোজ্য না আমি ভোক্তা, চিদানন্দরূপী সদাশিব আমি॥ ৪॥ না আছে মৃত্যু না আছে শঙ্কা না জাতিভেদ না জন্ম না মাতা। আমি না বন্ধু না আমি মিত্র, না আমি গুরু না আমি শিষ্য, চিদানন্দরূপী সদাশিব আমি॥ ৫॥ আমি নির্বিকল্প নিরাকার ব্যপ্ত, ইন্দ্রিয় আমি জগৎ সম্পৃক্ত। না আছে আসক্তি না চাহি হে মুক্তি, চিদানন্দরূপী সদাশিব আমি॥ ৬॥ . **************** . সূচীতে . . .