কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
হেমন্তের অরণ্যে ফিরে এসো---
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ২৯.০৪.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
গড়াল সূর্য
মেরুদণ্ডে মৃত্যু - শীতল ছোঁয়া
রুদ্রদহন প্রখর গ্রীষ্ম দিনেও
দেখি নামে ক্রমে বিকেল সে হেমন্তের!
ভরা প্রাচুর্য
তবু অরণ্য অবাক চোখে দেখে
ঘাটতি আজকে প্রাণের অক্সিজেনেও
প্রতাপই ভেঙেছে শাখা যে বসন্তের।
বেজেছে তূর্য
প্রহর গুনছে মানুষ এখন একা
শব-অরণ্যে ফিরে এসো পোস্টম্যান!
‘পুরোনো অরণ্যে' সভ্যতা ভেসে যায় - - -
ধরো হাত দিকভ্রান্তের।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ২৯.০৪.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
গড়াল সূর্য
মেরুদণ্ডে মৃত্যু - শীতল ছোঁয়া
রুদ্রদহন প্রখর গ্রীষ্ম দিনেও
দেখি নামে ক্রমে বিকেল সে হেমন্তের!
ভরা প্রাচুর্য
তবু অরণ্য অবাক চোখে দেখে
ঘাটতি আজকে প্রাণের অক্সিজেনেও
প্রতাপই ভেঙেছে শাখা যে বসন্তের।
বেজেছে তূর্য
প্রহর গুনছে মানুষ এখন একা
শব-অরণ্যে ফিরে এসো পোস্টম্যান!
‘পুরোনো অরণ্যে' সভ্যতা ভেসে যায় - - -
ধরো হাত দিকভ্রান্তের।
*********************
রৌদ্রস্নানে
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
জানলা খুলে বসে আছি সেই কখন!
ভোর তাই আজ উছলে পড়েছে ঘরে--
দোয়েল - চড়ুই-কোয়েল সুপুরি গাছে
বিলাবল রাগে কত যে সোহাগ গাঁথে।
খানিক বাদেই হেঁকে যায় ফেরিওলা
রুজি রোজগারে, প্রয়োজনে অন্যরা
তাদের যাপন দ্বন্দ্বে অথবা লঘু রসালাপে
‘তবুও শান্তি তবু আনন্দ তবু অনন্ত জাগে।'
খোলা জানলায় স্তব্ধতা হাত ছোঁয়
মৃত্যু মিছিলে ক্লান্ত দু চোখ দেখে
ধর্মের মদে মাতালের পরিণতি - - -
ক্ষমতা-দ্বন্দ্বে দাপুটে সমুন্নতি!
সারি সারি চিতা একা নির্জনে জ্বলে
থেকে থেকে শুনি গর্জে উঠছে চাবুক - - -
‘তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ? তুমি কি বেসেছ ভালো?’
'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' সক্কলে
এ যুগের কবি ডেকেছেন ভালোবেসে
কবির চিতার প্রদাহ নিভুক এবার---
দধীচির হাড়ে জ্বলুক শপথ মশাল
যে আছো যেখানে প্রতিবেশী, পরবাসী
সময় হয়েছে ভোলার - - আপন-পর
খুলেছি জানলা---
এবার - - - রোদে ধুয়ে যাক ঘর।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
জানলা খুলে বসে আছি সেই কখন!
ভোর তাই আজ উছলে পড়েছে ঘরে--
দোয়েল - চড়ুই-কোয়েল সুপুরি গাছে
বিলাবল রাগে কত যে সোহাগ গাঁথে।
খানিক বাদেই হেঁকে যায় ফেরিওলা
রুজি রোজগারে, প্রয়োজনে অন্যরা
তাদের যাপন দ্বন্দ্বে অথবা লঘু রসালাপে
‘তবুও শান্তি তবু আনন্দ তবু অনন্ত জাগে।'
খোলা জানলায় স্তব্ধতা হাত ছোঁয়
মৃত্যু মিছিলে ক্লান্ত দু চোখ দেখে
ধর্মের মদে মাতালের পরিণতি - - -
ক্ষমতা-দ্বন্দ্বে দাপুটে সমুন্নতি!
সারি সারি চিতা একা নির্জনে জ্বলে
থেকে থেকে শুনি গর্জে উঠছে চাবুক - - -
‘তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ? তুমি কি বেসেছ ভালো?’
'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' সক্কলে
এ যুগের কবি ডেকেছেন ভালোবেসে
কবির চিতার প্রদাহ নিভুক এবার---
দধীচির হাড়ে জ্বলুক শপথ মশাল
যে আছো যেখানে প্রতিবেশী, পরবাসী
সময় হয়েছে ভোলার - - আপন-পর
খুলেছি জানলা---
এবার - - - রোদে ধুয়ে যাক ঘর।
*********************
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
শিল্পী এল রঙের টানে
ক্যানভাসে ফুটে উঠল বলিষ্ঠ রুদ্রপলাশ,
ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে ভীষণ ঐ আগুন রঙ
ফাগুনকে দিল সর্বনাশের ডাক।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
পৃথিবীর কোণে কোণে
ঋতু গুহ গান গেয়ে উঠলেন
‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ প্রাণেশ হে'।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
কর্মী পুরুষ অলস সময়ের সুরে ভরল বাঁশি।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
উন্মনা মন ফিরে পেতে চাইল
মাঝরাতে একলা পথ চলার
নিঝুম শিহরণ!
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
মাকে না পাওয়া শিশুর চোখে গড়াল
বিষ-নীল জল।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
আরো নিবিড় কষ্টে নারী খুঁজে পেল
সুটান ব্যক্তিত্বের আস্বাদ।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
রবীন্দ্রনাথ বারবার
ঢেকে দিয়ে গেলেন সব কথা। তারপর
কখন শরীর পেল নতুন কবিতা
কেউ তা জানে না - - -
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
শিল্পী এল রঙের টানে
ক্যানভাসে ফুটে উঠল বলিষ্ঠ রুদ্রপলাশ,
ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে ভীষণ ঐ আগুন রঙ
ফাগুনকে দিল সর্বনাশের ডাক।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
পৃথিবীর কোণে কোণে
ঋতু গুহ গান গেয়ে উঠলেন
‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ প্রাণেশ হে'।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
কর্মী পুরুষ অলস সময়ের সুরে ভরল বাঁশি।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
উন্মনা মন ফিরে পেতে চাইল
মাঝরাতে একলা পথ চলার
নিঝুম শিহরণ!
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
মাকে না পাওয়া শিশুর চোখে গড়াল
বিষ-নীল জল।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
আরো নিবিড় কষ্টে নারী খুঁজে পেল
সুটান ব্যক্তিত্বের আস্বাদ।
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই
রবীন্দ্রনাথ বারবার
ঢেকে দিয়ে গেলেন সব কথা। তারপর
কখন শরীর পেল নতুন কবিতা
কেউ তা জানে না - - -
তুমি ডাক দিয়েছ বলেই।
*********************
পঞ্চরস
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
হলাহল ছুঁয়ে গেছে মানুষের পৃথিবীকে আজ---
বন্ধ বসন্ত উৎসবের কোলাহল, বন্ধ সোনাঝুরি হাট।
শুধু পাখিরা আনন্দে মাতোয়ারা। ভিড়েছে এসে
শান্তিনিকেতনের জলে-জঙ্গলে, আর যত ডালে।
বাহারি রঙে, বাহারি ঢঙে পাখিরা আসে যায়,
সখ্যে, বাৎসল্যে, মধুরে ভেজায়
কতদিন না ভেজানো ডানা!
মানুষের পৃথিবী মৃত্যুভয়ে ত্রস্ত যখন
পাখিদের পৃথিবীতে স্বপ্নে জাগে কবি, ভাবে---
ওরাই কি বোঝে তবে বৈষ্ণবীয় পঞ্চরসের মানে?
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
হলাহল ছুঁয়ে গেছে মানুষের পৃথিবীকে আজ---
বন্ধ বসন্ত উৎসবের কোলাহল, বন্ধ সোনাঝুরি হাট।
শুধু পাখিরা আনন্দে মাতোয়ারা। ভিড়েছে এসে
শান্তিনিকেতনের জলে-জঙ্গলে, আর যত ডালে।
বাহারি রঙে, বাহারি ঢঙে পাখিরা আসে যায়,
সখ্যে, বাৎসল্যে, মধুরে ভেজায়
কতদিন না ভেজানো ডানা!
মানুষের পৃথিবী মৃত্যুভয়ে ত্রস্ত যখন
পাখিদের পৃথিবীতে স্বপ্নে জাগে কবি, ভাবে---
ওরাই কি বোঝে তবে বৈষ্ণবীয় পঞ্চরসের মানে?
*********************
অমল, আজ
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
ওর সকাল-সন্ধ্যে কাটে
অনলাইন ক্লাস আর টিউটোরিয়ালে।
ধুলো-মাটি থেকে সরে সরে যেতে
একঘেঁয়েমির ক্লান্তি-অসুখে বিষণ্ণ হতে হতে
মুঠিফোন হাতে তুলে নেয় ছেলেটা।
আঁতিপাতি খুঁজতে থাকে রোজ
প্রিয় বন্ধুর সখ্য-উপহার---
যেখানে খোলা উঠোনের একধারে
করবী ফুলে পাখনা মেলে প্রজাপতি, যেখানে
কাশফুলের ঝোপে কাঁপন ধরায় নতুন ভোর,
যেখানে পদ্ম-শালুক পাতা বৃষ্টিবিন্দুতে সাজে মুক্তোমালায়।
এভাবেই ছবিরা খেলা করে মুঠিফোনে
ছবি হয়ে যাওয়া দশতল বাহারি ঘরে।
সুরমা-দীঘল চোখে ছেলেটা লিখে চলে
সে সখ্য-কথা। রূপকথারা অপরূপ লিখনে সাজে
প্রিয় বন্ধুর ঘর-দুয়োরে, আনাচে-কানাচে।
মাথার ওপর ফণা তোলে শাসন-ছোবল।
পথহারা হতে হতে শক্ত ওর মুখ, বন্ধ হয় মুঠি।
মুঠিভরা কথামালা
একফুঁয়ে নীরবে ভাসায় এবারে ছেলেটা----
খোলা হাওয়ায় - - - দূরে - - বহুদূরে ।
জানে অমল
তার কথারা ঠিক খুঁজে নেবে
সুধার ঠিকানা----সুধা তাকে আজও ভোলে নি।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
ওর সকাল-সন্ধ্যে কাটে
অনলাইন ক্লাস আর টিউটোরিয়ালে।
ধুলো-মাটি থেকে সরে সরে যেতে
একঘেঁয়েমির ক্লান্তি-অসুখে বিষণ্ণ হতে হতে
মুঠিফোন হাতে তুলে নেয় ছেলেটা।
আঁতিপাতি খুঁজতে থাকে রোজ
প্রিয় বন্ধুর সখ্য-উপহার---
যেখানে খোলা উঠোনের একধারে
করবী ফুলে পাখনা মেলে প্রজাপতি, যেখানে
কাশফুলের ঝোপে কাঁপন ধরায় নতুন ভোর,
যেখানে পদ্ম-শালুক পাতা বৃষ্টিবিন্দুতে সাজে মুক্তোমালায়।
এভাবেই ছবিরা খেলা করে মুঠিফোনে
ছবি হয়ে যাওয়া দশতল বাহারি ঘরে।
সুরমা-দীঘল চোখে ছেলেটা লিখে চলে
সে সখ্য-কথা। রূপকথারা অপরূপ লিখনে সাজে
প্রিয় বন্ধুর ঘর-দুয়োরে, আনাচে-কানাচে।
মাথার ওপর ফণা তোলে শাসন-ছোবল।
পথহারা হতে হতে শক্ত ওর মুখ, বন্ধ হয় মুঠি।
মুঠিভরা কথামালা
একফুঁয়ে নীরবে ভাসায় এবারে ছেলেটা----
খোলা হাওয়ায় - - - দূরে - - বহুদূরে ।
জানে অমল
তার কথারা ঠিক খুঁজে নেবে
সুধার ঠিকানা----সুধা তাকে আজও ভোলে নি।
*********************
চিঠি
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
আষাঢ় গেল, এল শ্রাবণ
দ্যাখ, তোর চিঠিগুলো ঐ ছড়িয়ে পড়েছে চারিধারে কেমন
কাজলরেখায় আঁকা
তোর অফুরান চিঠি ঝরে পড়ে
ইন্দ্রিয় - অতীন্দ্রিয় জুড়ে আমি পাই তার স্বাদ।
দেখি, অতিমারী-পৃথিবীতে তোকে হাতে ছুঁয়ে
গৃহবন্দী প্রেমিক পুরুষ মেঘদূত লেখে পুনরায়,
অথবা সে কাদা ঘোলা জলে
পথশিশু খুঁজে নেয় শেষ খাদ্য কণা,
কিম্বা কোথাও একটাই খুঁটিতে জড়ায় বানভাসি সাপেও মানুষে---
এভাবেই মেঘেদের ডাকবাক্স থেকে
ঝরে পড়ে অফুরান চিঠি তোর।
যত্নে সাজাই আমি প্রত্যেক চিঠি - - -
সূয়োরাণী-দুয়োরাণী কথা
কখনো সাজে রূপকথা - চুলে
কখনো লাঙ্গল ফলায় ঝরে বৃষ্টি বিন্দু হয়ে।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
আষাঢ় গেল, এল শ্রাবণ
দ্যাখ, তোর চিঠিগুলো ঐ ছড়িয়ে পড়েছে চারিধারে কেমন
কাজলরেখায় আঁকা
তোর অফুরান চিঠি ঝরে পড়ে
ইন্দ্রিয় - অতীন্দ্রিয় জুড়ে আমি পাই তার স্বাদ।
দেখি, অতিমারী-পৃথিবীতে তোকে হাতে ছুঁয়ে
গৃহবন্দী প্রেমিক পুরুষ মেঘদূত লেখে পুনরায়,
অথবা সে কাদা ঘোলা জলে
পথশিশু খুঁজে নেয় শেষ খাদ্য কণা,
কিম্বা কোথাও একটাই খুঁটিতে জড়ায় বানভাসি সাপেও মানুষে---
এভাবেই মেঘেদের ডাকবাক্স থেকে
ঝরে পড়ে অফুরান চিঠি তোর।
যত্নে সাজাই আমি প্রত্যেক চিঠি - - -
সূয়োরাণী-দুয়োরাণী কথা
কখনো সাজে রূপকথা - চুলে
কখনো লাঙ্গল ফলায় ঝরে বৃষ্টি বিন্দু হয়ে।
*********************
আরেক বাসা
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এই বাসাটা ডানার জল ঝেড়ে
যখন বসে শান্ত স্থিতাসনে
অন্য বাসার ছাদ উড়ে যায় ঝড়ে
খড়কুটো কই বানভাসি মাঠ-কোণে?
এই বাসাটা সুখের গৃহ-ডোরে
স্মার্টফোনেতে পাঠায় ঝড়ের মার,
অন্য বাসায় তখন হাহাকার
তৃষ্ণা মেটে না, বিদ্যুৎ কোন ছার!
এই বাসাটা খরচ-খরচা সেরে
পূরণ করে জামাইষষ্ঠী কোটা
অন্য বাসায় মা কেঁদে হয় সারা
কিভাবে শিশুর দুধ জোটে একফোঁটা!
এই বাসাটা দরজা বন্ধ রেখে
ঘরে-বাইরে দেয় প্রতিদিন আল,
অন্য বাসায় মারণরোগ যে ঘাড়ে
মাঠে - ঘাটে-পথে নেই একটাও ঢাল!
তাই এবারে
হাজার মনে
গড়ছে বাসা
আরেক বাসা
ভালবাসার ঢল---
তারাই এবার
চলছে জোরে
বলছে জোরে
এই বাসাটা
সত্যি হরিবল্!
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এই বাসাটা ডানার জল ঝেড়ে
যখন বসে শান্ত স্থিতাসনে
অন্য বাসার ছাদ উড়ে যায় ঝড়ে
খড়কুটো কই বানভাসি মাঠ-কোণে?
এই বাসাটা সুখের গৃহ-ডোরে
স্মার্টফোনেতে পাঠায় ঝড়ের মার,
অন্য বাসায় তখন হাহাকার
তৃষ্ণা মেটে না, বিদ্যুৎ কোন ছার!
এই বাসাটা খরচ-খরচা সেরে
পূরণ করে জামাইষষ্ঠী কোটা
অন্য বাসায় মা কেঁদে হয় সারা
কিভাবে শিশুর দুধ জোটে একফোঁটা!
এই বাসাটা দরজা বন্ধ রেখে
ঘরে-বাইরে দেয় প্রতিদিন আল,
অন্য বাসায় মারণরোগ যে ঘাড়ে
মাঠে - ঘাটে-পথে নেই একটাও ঢাল!
তাই এবারে
হাজার মনে
গড়ছে বাসা
আরেক বাসা
ভালবাসার ঢল---
তারাই এবার
চলছে জোরে
বলছে জোরে
এই বাসাটা
সত্যি হরিবল্!
*********************
পুনর্মিলন - - -?
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
আরো কত জীবনের বিনিময়ে
প্রত্যাশিত শান্তির দেখা পাব?
আগামী সে দিনে
তোমার আমার অতি প্রিয় মুখ
প্রিয় প্রতিবেশী, প্রিয় পরবাসী
প্রিয় বন্ধু, প্রিয় সখা-সখী
আসবে কি ফিরে কাছে?
বলবে কি হাতে হাত রেখে
‘এতদিন কোথায় ছিলেন'?
আয়নায় বিষাদজল গড়ায় অবিরাম - - -
ঝাপসা কাঁচে অস্পষ্ট নিজের মুখও
বহুচেনা সুখগুলি ঝরে ঝরে যায়
অমোঘ শঙ্কায়।
অন্ধকারে
আধো ঘুমে আধো চেতনে
ঐ যে মেহের আলি একমাত্র ডেকে যায়
‘তফাত যাও
সব ঝুট হ্যায়
সব ঝুট হ্যায়'!
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
আরো কত জীবনের বিনিময়ে
প্রত্যাশিত শান্তির দেখা পাব?
আগামী সে দিনে
তোমার আমার অতি প্রিয় মুখ
প্রিয় প্রতিবেশী, প্রিয় পরবাসী
প্রিয় বন্ধু, প্রিয় সখা-সখী
আসবে কি ফিরে কাছে?
বলবে কি হাতে হাত রেখে
‘এতদিন কোথায় ছিলেন'?
আয়নায় বিষাদজল গড়ায় অবিরাম - - -
ঝাপসা কাঁচে অস্পষ্ট নিজের মুখও
বহুচেনা সুখগুলি ঝরে ঝরে যায়
অমোঘ শঙ্কায়।
অন্ধকারে
আধো ঘুমে আধো চেতনে
ঐ যে মেহের আলি একমাত্র ডেকে যায়
‘তফাত যাও
সব ঝুট হ্যায়
সব ঝুট হ্যায়'!
*********************
আগামী বসন্তে
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
আরো একবার
খুব কাছ থেকে
তোমাকে দেখব ব'লে, হে বসন্ত বাঁচতে চাই আমি।
ফুলের উজ্জ্বলতা, পাখির ডানার বাহারি রঙ,
আকাশের এত নীল দেখতে দেখতে
গৃহবন্দী আমি
ছেলেবেলার বসন্তের উঠোনে
হারিয়ে যাই
আনমনে।
মনে পড়ে পিতামহকে আমার।
একে একে ফুল ও পাখি চেনাতেন যিনি
নিয়ে গিয়ে নানা ঝোপঝাড়ে
বাবুই পাখির বাসায় জোনাক পোকারা
মুক্তো হয়ে জ্বলেছিল
সেইসব বসন্ত দিনে আমার।
আগামী বসন্তে যদি বেঁচে থাকো
যদি বাবুই বাসা বাঁধে ডালে
তবে তোমাকেও সাথে নেব, হে প্রিয়
দেখাব, সে বাসাতে জোনাকি পোকা
সেদিনও কি বাহারে জ্বলে।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
আরো একবার
খুব কাছ থেকে
তোমাকে দেখব ব'লে, হে বসন্ত বাঁচতে চাই আমি।
ফুলের উজ্জ্বলতা, পাখির ডানার বাহারি রঙ,
আকাশের এত নীল দেখতে দেখতে
গৃহবন্দী আমি
ছেলেবেলার বসন্তের উঠোনে
হারিয়ে যাই
আনমনে।
মনে পড়ে পিতামহকে আমার।
একে একে ফুল ও পাখি চেনাতেন যিনি
নিয়ে গিয়ে নানা ঝোপঝাড়ে
বাবুই পাখির বাসায় জোনাক পোকারা
মুক্তো হয়ে জ্বলেছিল
সেইসব বসন্ত দিনে আমার।
আগামী বসন্তে যদি বেঁচে থাকো
যদি বাবুই বাসা বাঁধে ডালে
তবে তোমাকেও সাথে নেব, হে প্রিয়
দেখাব, সে বাসাতে জোনাকি পোকা
সেদিনও কি বাহারে জ্বলে।
*********************
এলাটিন বেলাটিন
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এলাটিন বেলাটিন সই লো!
এ শীত-সাঁঝে এ মন মাঝে
ময়ূর-পেখম রূপকথা-রূপ
কিসের খবর আইলো?
ভাঙা মেলার ঘূর্ণি দোলার
সই তুই-ই বল না লো
পেয়ারাগাছ, ডান্ডাগুলি
কোন মেয়েকে চাইল?
চু-কিত-কিত সেই দস্যি মেয়ে
বদনামী? নয় মোটে ফেলনা।
আচার চুরির দাগ দ্যাখো না
ছেঁড়া মাদুর ছেয়ে।
কাজললেপা কলাবেণীর
ও মেয়ে আয় ধেয়ে
ঝরা পাতারা পথ চিনবেই
তোর চোখে চোখ চেয়ে।
চোখরাঙানি? থাক, বলিস না
বরং আনিস বয়ড়া বাদাম
ভুল সে অঙ্ক, কালির কলম
দোলের দল---ভুলিস না।
ও মেয়ে শোন, তোর কাছেতে
জীবন দেব মাপি
আনিস যদি রোদে ঝলমল
অমলতাসের ঝাঁপি!
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এলাটিন বেলাটিন সই লো!
এ শীত-সাঁঝে এ মন মাঝে
ময়ূর-পেখম রূপকথা-রূপ
কিসের খবর আইলো?
ভাঙা মেলার ঘূর্ণি দোলার
সই তুই-ই বল না লো
পেয়ারাগাছ, ডান্ডাগুলি
কোন মেয়েকে চাইল?
চু-কিত-কিত সেই দস্যি মেয়ে
বদনামী? নয় মোটে ফেলনা।
আচার চুরির দাগ দ্যাখো না
ছেঁড়া মাদুর ছেয়ে।
কাজললেপা কলাবেণীর
ও মেয়ে আয় ধেয়ে
ঝরা পাতারা পথ চিনবেই
তোর চোখে চোখ চেয়ে।
চোখরাঙানি? থাক, বলিস না
বরং আনিস বয়ড়া বাদাম
ভুল সে অঙ্ক, কালির কলম
দোলের দল---ভুলিস না।
ও মেয়ে শোন, তোর কাছেতে
জীবন দেব মাপি
আনিস যদি রোদে ঝলমল
অমলতাসের ঝাঁপি!
*********************
