কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
মুখোশ
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
চেনা মুখোশে অচেনা মুখ
প্রায়শই ঘরের জানলায়
কখনো বা ঘুলঘুলিতে উঁকি দেয়।
তার চোখ শান্ত সুস্থির তো নয়,
বরং
বিদ্যুৎ - দাগ টানা।
মুখোশ সাজে সাবধানে
গাল লাল করে - - -
মনে হয়
বুঝি লজ্জা এসে রঙ ধরিয়ে দিল।
বারো মাসে তেরো পার্বণ তো লেগেই আছে।
ভোজসভা, জলসাঘর, লংড্রাইভ
কখনো বা ছোটোখাটো সফর---
মুখোশ নাচে তালে তালে
মুখ না চেনানোর ছল করে।
জলসাঘরে বাতি নেভে একটি, দুটি, তিনটি
আরো একটি - - দুটি - - তিনটি
ক্লান্তি এসে ছুঁয়ে যায় মুখ
অসহ্য গুমটে মুখোশ খসে পড়ে।
নির্জনতার অন্ধকারে এ কোন মুখ
নিজের ভেতর উত্তাপ অনুভবের
অসুখ টের পেয়ে ভয় পায়
আর ঝকঝকে প্রিয় আরশিকে
একান্ত কাছে, আরো কাছে টেনে নেয়।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
চেনা মুখোশে অচেনা মুখ
প্রায়শই ঘরের জানলায়
কখনো বা ঘুলঘুলিতে উঁকি দেয়।
তার চোখ শান্ত সুস্থির তো নয়,
বরং
বিদ্যুৎ - দাগ টানা।
মুখোশ সাজে সাবধানে
গাল লাল করে - - -
মনে হয়
বুঝি লজ্জা এসে রঙ ধরিয়ে দিল।
বারো মাসে তেরো পার্বণ তো লেগেই আছে।
ভোজসভা, জলসাঘর, লংড্রাইভ
কখনো বা ছোটোখাটো সফর---
মুখোশ নাচে তালে তালে
মুখ না চেনানোর ছল করে।
জলসাঘরে বাতি নেভে একটি, দুটি, তিনটি
আরো একটি - - দুটি - - তিনটি
ক্লান্তি এসে ছুঁয়ে যায় মুখ
অসহ্য গুমটে মুখোশ খসে পড়ে।
নির্জনতার অন্ধকারে এ কোন মুখ
নিজের ভেতর উত্তাপ অনুভবের
অসুখ টের পেয়ে ভয় পায়
আর ঝকঝকে প্রিয় আরশিকে
একান্ত কাছে, আরো কাছে টেনে নেয়।
*********************
গোলাপকে
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
সেই তো দিলি
গন্ধ দিলি
গোলাপ!
দিলি দেখি
আপন-ভুলে,
গত দিনও তীক্ষ্ণ কাঁটায়
বিভীষিকা যাস ছড়িয়ে
বর্ষা শেষে এ যেন তোর
প্রলাপ!
তবু যদি মেলেই দিলি
দল ভরে ঐ আতর দিলি
তবে কেন ও দেহ
রক্ত-ঢালা?
মাঠ ভেসে যায়
চাঁদের বানে
রক্ত-বানে তুই এদিকে
নেয়েছিস---
কবি বুঝি
এক অক্ষম জন
ক্লিষ্ট চোখে তাই দেখে যাই
অগ্নিমঞ্চে নাচিস
চন্দ্রকলা!
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
সেই তো দিলি
গন্ধ দিলি
গোলাপ!
দিলি দেখি
আপন-ভুলে,
গত দিনও তীক্ষ্ণ কাঁটায়
বিভীষিকা যাস ছড়িয়ে
বর্ষা শেষে এ যেন তোর
প্রলাপ!
তবু যদি মেলেই দিলি
দল ভরে ঐ আতর দিলি
তবে কেন ও দেহ
রক্ত-ঢালা?
মাঠ ভেসে যায়
চাঁদের বানে
রক্ত-বানে তুই এদিকে
নেয়েছিস---
কবি বুঝি
এক অক্ষম জন
ক্লিষ্ট চোখে তাই দেখে যাই
অগ্নিমঞ্চে নাচিস
চন্দ্রকলা!
*********************
এবং পলাশ
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
দিকে দিকে ফুটেছে পলাশ। অস্মিতাবোধে মুগ্ধ আমি
ক্যামেরায় চোখ বেঁধে চলেছি
দৃশ্য ধরছি বারবার।
ব্যস্ত চোখে হন্যে আমি
খুঁজে চলেছি ‘সুন্দর'
আনাচে কানাচে।
হঠাৎ চোখ পড়ল
গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে দাঁড়ানো সাঁওতাল বালকটির ওপর।
রুদ্র কালবৈশাখীর মতো
উড়ছে তার
এলোমেলো উড়ুক্কু চুল
গালে-কপালে লাল আবীরের ছটায়
সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য খেলা করছে।
ক্যামেরা গুছিয়ে এগিয়ে গেলাম।
একদৌড়ে আমার একান্ত কাছে ছুটে এলো সে।
বলল, ‘মালা নিবি---পলাশের মালা? মাথায় দিবি।’
হিসেবী মনটা বাধা দিল---
বললাম ‘কি করবি তুই টাকা দিয়ে'?
সে বলল'মাটার অসুখ। ওষুধ কিনব আজ।'
‘দুটো মালা নে'।
কিছু বেশি দামেই নিলাম কখানা পলাশের মালা।
লোভ হল পলাশ আভরণে সাজাই নিজেকে
‘সুন্দরের' পুজো দিই নিজেরই প্রতিবিম্বে।
আশার অতীত মূল্য পেয়ে
এক্কা দোক্কা ছন্দে
নিমেষে খররোদের মাঠ পার হয়ে গেল বালক।
তার মুখভরা পলাশ - রঙিন হাসি।
বিলাসিত
পলাশ গালিচা
পার করে
এ কোন অচেনা সহজ সুন্দর
আমার দুচোখ ছুঁয়ে গেল?
বিষাদে আনন্দে হর্ষে পুলকে প্লাবিত আমি
নিমেষহারা চেয়ে রইলাম
আনন্দনটের পায়ের ছন্দের পথে
যেপথে শুধুই ঝরছে
অহংশূন্য অমলিন সুন্দর পলাশ।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
দিকে দিকে ফুটেছে পলাশ। অস্মিতাবোধে মুগ্ধ আমি
ক্যামেরায় চোখ বেঁধে চলেছি
দৃশ্য ধরছি বারবার।
ব্যস্ত চোখে হন্যে আমি
খুঁজে চলেছি ‘সুন্দর'
আনাচে কানাচে।
হঠাৎ চোখ পড়ল
গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে দাঁড়ানো সাঁওতাল বালকটির ওপর।
রুদ্র কালবৈশাখীর মতো
উড়ছে তার
এলোমেলো উড়ুক্কু চুল
গালে-কপালে লাল আবীরের ছটায়
সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য খেলা করছে।
ক্যামেরা গুছিয়ে এগিয়ে গেলাম।
একদৌড়ে আমার একান্ত কাছে ছুটে এলো সে।
বলল, ‘মালা নিবি---পলাশের মালা? মাথায় দিবি।’
হিসেবী মনটা বাধা দিল---
বললাম ‘কি করবি তুই টাকা দিয়ে'?
সে বলল'মাটার অসুখ। ওষুধ কিনব আজ।'
‘দুটো মালা নে'।
কিছু বেশি দামেই নিলাম কখানা পলাশের মালা।
লোভ হল পলাশ আভরণে সাজাই নিজেকে
‘সুন্দরের' পুজো দিই নিজেরই প্রতিবিম্বে।
আশার অতীত মূল্য পেয়ে
এক্কা দোক্কা ছন্দে
নিমেষে খররোদের মাঠ পার হয়ে গেল বালক।
তার মুখভরা পলাশ - রঙিন হাসি।
বিলাসিত
পলাশ গালিচা
পার করে
এ কোন অচেনা সহজ সুন্দর
আমার দুচোখ ছুঁয়ে গেল?
বিষাদে আনন্দে হর্ষে পুলকে প্লাবিত আমি
নিমেষহারা চেয়ে রইলাম
আনন্দনটের পায়ের ছন্দের পথে
যেপথে শুধুই ঝরছে
অহংশূন্য অমলিন সুন্দর পলাশ।
*********************
চড়ুইপাখি
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
বিত্ত ও বৈভবের দানা খুঁটে খেতে খেতে
লোকটা চড়ুইপাখি হল।
শ্বেতপাথরের শীতলতা শরীরে মেখে
পৃথুলা তার ঘরের নারী
এখন শুধুই লোকটার সম্পত্তি।
আর তাই
নানান বর্ণ - গন্ধের নারীতে
লোকটা রোজ ফুলে ফেঁপে উঠল।
তার ছেলের জন্মদিনে ভিড় হল----
কেকে বসল নৃত্যরত ঘোড়া
যার দশ মাথা দশ দিকে ফেরানো,
যেন অশ্বমেধের জয়যাত্রায় সাড়া দিয়েছে।
বঙ্গভাষী লোকটার কাছে
মাতৃভাষা নেহাতই তুচ্ছ বলে
ঘরে চলে অন্য এক ভাষা
বঙ্গভাষার গৃহশিক্ষক
সে বাড়িতে আসে যান
মাথা নীচু করে।
এরই মাঝে
চড়ুইপাখির মতো উড়ে বেড়ায় লোকটা ,
আয়নায় নিজেকে দেখে - - -
ঘা খেলে ঠুকরে চলে।
তবুও
প্রতিদিন
বিত্ত - বৈভবের দানা
চড়ুইপাখির মতোই খুঁটে খায় লোকটা,
ফেসবুকে স্তাবকদের কমেন্ট ভাসে
'সাবাশ'॥
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
বিত্ত ও বৈভবের দানা খুঁটে খেতে খেতে
লোকটা চড়ুইপাখি হল।
শ্বেতপাথরের শীতলতা শরীরে মেখে
পৃথুলা তার ঘরের নারী
এখন শুধুই লোকটার সম্পত্তি।
আর তাই
নানান বর্ণ - গন্ধের নারীতে
লোকটা রোজ ফুলে ফেঁপে উঠল।
তার ছেলের জন্মদিনে ভিড় হল----
কেকে বসল নৃত্যরত ঘোড়া
যার দশ মাথা দশ দিকে ফেরানো,
যেন অশ্বমেধের জয়যাত্রায় সাড়া দিয়েছে।
বঙ্গভাষী লোকটার কাছে
মাতৃভাষা নেহাতই তুচ্ছ বলে
ঘরে চলে অন্য এক ভাষা
বঙ্গভাষার গৃহশিক্ষক
সে বাড়িতে আসে যান
মাথা নীচু করে।
এরই মাঝে
চড়ুইপাখির মতো উড়ে বেড়ায় লোকটা ,
আয়নায় নিজেকে দেখে - - -
ঘা খেলে ঠুকরে চলে।
তবুও
প্রতিদিন
বিত্ত - বৈভবের দানা
চড়ুইপাখির মতোই খুঁটে খায় লোকটা,
ফেসবুকে স্তাবকদের কমেন্ট ভাসে
'সাবাশ'॥
*********************
পদধ্বনি শুনি
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এ কোন স্বস্তিনাশা আগুনে আমায় খেল!
যে বালিকাটি পিশাচ ছোবলে
বিষনীল লাশ আজ কাম-দাবানলে
সেই বালিকার হাড়ের মশালে
আগুন সমান হিংসা যেন রে
প্রলয়ের রূপ পেল!
সে ক্রোধ যে জ্বালালো নিঃস্ব চেতনা-চিতা---
তখন উদ্যত তোমার অশণি
চশমার ফাঁকে বিষাদ চাহনি
পায়ে পায়ে ওঠে টঙ্কারধ্বনি
সুদূরপ্রসারী সহন মন্ত্রে
জাগে প্রতিবাদ, পিতা!
সেদিন তোমার পদধ্বনি বলেছিল সেই কথায়
হিংসা আনে না কোনোদিন জয় - -
এই বিশ্বাসে রূঢ় এ সময় ভাঙে দোটানায়, জাগে সংশয়
তবু তো গভীর পূর্ণ চেতনে তুমি ডাক দাও সত্তায়।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এ কোন স্বস্তিনাশা আগুনে আমায় খেল!
যে বালিকাটি পিশাচ ছোবলে
বিষনীল লাশ আজ কাম-দাবানলে
সেই বালিকার হাড়ের মশালে
আগুন সমান হিংসা যেন রে
প্রলয়ের রূপ পেল!
সে ক্রোধ যে জ্বালালো নিঃস্ব চেতনা-চিতা---
তখন উদ্যত তোমার অশণি
চশমার ফাঁকে বিষাদ চাহনি
পায়ে পায়ে ওঠে টঙ্কারধ্বনি
সুদূরপ্রসারী সহন মন্ত্রে
জাগে প্রতিবাদ, পিতা!
সেদিন তোমার পদধ্বনি বলেছিল সেই কথায়
হিংসা আনে না কোনোদিন জয় - -
এই বিশ্বাসে রূঢ় এ সময় ভাঙে দোটানায়, জাগে সংশয়
তবু তো গভীর পূর্ণ চেতনে তুমি ডাক দাও সত্তায়।
*********************
প্রিয় বন্ধু
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
তুমি জানো না
কবে তুমি প্রথম আমার হাত ধরেছিলে, রবি ঠাকুর!
আমি জানি।
আমি জানি, ক্লাসে অঙ্ক না পারা
এই মেয়েটাকে যেদিন জিতিয়ে দিল স্কুলে
তোমার ‘দুই বিঘা জমি'।
তোমার ‘ছেলেটা' কবিতা
আমাকে দিনে দিনে দস্যি করে তুলেছিল, জানো!
যত খেতাম মার ততই
আমার গুলি ডাণ্ডার ঘায়ে ছুটত
শোঁ শোঁ শোঁ।
আমায় জব্দ করতে
পাঠিয়ে দিল ওরা আমাকে
বোর্ডিং স্কুলে।
তুমি জানো না,
সেদিনও তুমি হাত ধরেছিলে আমার। হল ডাকঘর অভিনয়---
তোমার অমল জিতে গেল এবারেও।
সত্যি! জাদু জানো তুমি!
সেই থেকে আমার গোপন কৌটোয় আছো তুমি।
এরপর কত ওঠা পড়া
কেটেছে দিন একে একে
আমার হাত ধরেছে এসে
তোমার লাবণ্য, কুমু, সোহিনীরা।
তোমার অজস্র গান গলায় গেঁথে নিয়ে
দুর্গম পথে বর্ষাভিসারে হেঁটে চলেছি আমি।
ভয় পাইনি, পেছনে ফিরে তাকাই নি--
জানি তুমি আছো, আছো আমার
প্রাণ-ভোমরার গোপন কৌটোটিতে
আমার প্রাণের ধন, প্রিয় বন্ধু হয়ে।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
তুমি জানো না
কবে তুমি প্রথম আমার হাত ধরেছিলে, রবি ঠাকুর!
আমি জানি।
আমি জানি, ক্লাসে অঙ্ক না পারা
এই মেয়েটাকে যেদিন জিতিয়ে দিল স্কুলে
তোমার ‘দুই বিঘা জমি'।
তোমার ‘ছেলেটা' কবিতা
আমাকে দিনে দিনে দস্যি করে তুলেছিল, জানো!
যত খেতাম মার ততই
আমার গুলি ডাণ্ডার ঘায়ে ছুটত
শোঁ শোঁ শোঁ।
আমায় জব্দ করতে
পাঠিয়ে দিল ওরা আমাকে
বোর্ডিং স্কুলে।
তুমি জানো না,
সেদিনও তুমি হাত ধরেছিলে আমার। হল ডাকঘর অভিনয়---
তোমার অমল জিতে গেল এবারেও।
সত্যি! জাদু জানো তুমি!
সেই থেকে আমার গোপন কৌটোয় আছো তুমি।
এরপর কত ওঠা পড়া
কেটেছে দিন একে একে
আমার হাত ধরেছে এসে
তোমার লাবণ্য, কুমু, সোহিনীরা।
তোমার অজস্র গান গলায় গেঁথে নিয়ে
দুর্গম পথে বর্ষাভিসারে হেঁটে চলেছি আমি।
ভয় পাইনি, পেছনে ফিরে তাকাই নি--
জানি তুমি আছো, আছো আমার
প্রাণ-ভোমরার গোপন কৌটোটিতে
আমার প্রাণের ধন, প্রিয় বন্ধু হয়ে।
*********************
এসো কবি
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এই তবে বেশ!
উদ্বেগ ছিল মনে
কখন কি হয়!
বয়স যে হয়েছিল ঢের - - -
তাই মনে ছিল সংশয়, ছিল ভয়।
এখন দোটানা অবশেষ।
এই তবে বেশ!
স্তব্ধ শীতলতার জলছড়া
ঘরে ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
তুমি ফিরে গেলে নিজ নিকেতনে
তোমার ঠিকানা এখন
‘চিরশান্তির দেশ’।
এই তবে বেশ!
মর-শরীরের ভার
অসহ্য হলো যে তোমার
খুঁজেছিলে তুমি সারাবেলা তটে
আরো প্রগাঢ় কোনো জীবনের মানে---
যা কিছু ‘অশেষ’।
এই তবে বেশ!
বন্ধ হোক একঘেঁয়ে শীতলতা যন্ত্রের রেশ।
হিম মস্তিষ্ক, হিম মেরুদন্ড
আর যত চটুল আবেশ
এনে দিক লজ্জা যত, জাগুক বিবেক---
হল বেলাশেষ!
এই তবে বেশ!
জানলা সব খুলেছি এবার
বিশুদ্ধ বাতাস ভরে যাবে জীবনের গানে---
এইবারে এসো কবি নিবিড় ভাবসম্মিলনে
রাখো হাতে হাত, চোখে চোখ
রাখো অনিমেষ।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ২.৫.২০২১।
এই তবে বেশ!
উদ্বেগ ছিল মনে
কখন কি হয়!
বয়স যে হয়েছিল ঢের - - -
তাই মনে ছিল সংশয়, ছিল ভয়।
এখন দোটানা অবশেষ।
এই তবে বেশ!
স্তব্ধ শীতলতার জলছড়া
ঘরে ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
তুমি ফিরে গেলে নিজ নিকেতনে
তোমার ঠিকানা এখন
‘চিরশান্তির দেশ’।
এই তবে বেশ!
মর-শরীরের ভার
অসহ্য হলো যে তোমার
খুঁজেছিলে তুমি সারাবেলা তটে
আরো প্রগাঢ় কোনো জীবনের মানে---
যা কিছু ‘অশেষ’।
এই তবে বেশ!
বন্ধ হোক একঘেঁয়ে শীতলতা যন্ত্রের রেশ।
হিম মস্তিষ্ক, হিম মেরুদন্ড
আর যত চটুল আবেশ
এনে দিক লজ্জা যত, জাগুক বিবেক---
হল বেলাশেষ!
এই তবে বেশ!
জানলা সব খুলেছি এবার
বিশুদ্ধ বাতাস ভরে যাবে জীবনের গানে---
এইবারে এসো কবি নিবিড় ভাবসম্মিলনে
রাখো হাতে হাত, চোখে চোখ
রাখো অনিমেষ।
*********************
উৎসব
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ২৮.১১.২০২৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৯.২০২৫।
উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে আসে।
চলে যেতে যেতে
বিদায়ী প্রেমিকের মতো সে পিছু ফেরে
হাত নেড়ে বলে, আবার আসব আমি
তোমরাও এসো সেদিন।
এখন কাজের দিন।
মানুষের মুখ চেয়ে মাঠ ভরা কাজ —-
শেষ হলে ঘরে ফিরো।
সাতরঙা রামধনু-রথে আমিও আসব সেদিন।
মনে রেখো
অপেক্ষা কোরো।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ২৮.১১.২০২৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৯.২০২৫।
উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে আসে।
চলে যেতে যেতে
বিদায়ী প্রেমিকের মতো সে পিছু ফেরে
হাত নেড়ে বলে, আবার আসব আমি
তোমরাও এসো সেদিন।
এখন কাজের দিন।
মানুষের মুখ চেয়ে মাঠ ভরা কাজ —-
শেষ হলে ঘরে ফিরো।
সাতরঙা রামধনু-রথে আমিও আসব সেদিন।
মনে রেখো
অপেক্ষা কোরো।
*********************
লেটার বক্স
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ০৪.০৬.২০২৫। মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৯.২০২৫।
বটের ঝুরি জড়িয়েছে তার গা
ওপার হতে আর আসে না নেয়ে
ডাক পিওনের গায়ের গন্ধ মাখা
চিঠির আশায় তিনি থাকেন না চেয়ে।
চিঠির দিন তো ফুরিয়েছে সেই কবেই
তবু অন্তরে ভালোবাসা গুরুগুরু
সে অনুভবের মাপ হয় না কোনো
নাতি-নাতনীর বহু আগে তার শুরু।
ই-মেইল কিম্বা মডার্ণ ভিডিও কলে
হুজুগই সার ভাবেন বসে বৃদ্ধ
হাতের লেখা ছুঁয়ে ছেনে মন গাঁথে
ছোট্ট মেইলে হয় না সে কাজ সিদ্ধ।
বৃদ্ধ ভাবেন থাক না লেটার বক্স
বেলির ঝোপে শোনেন রোদেলা রণন
লিখেছেন চিঠি মাস দুয়েকের আগে
বিদেশি নাতনী উত্তর দেবে যখন - - -
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ০৪.০৬.২০২৫। মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৯.২০২৫।
বটের ঝুরি জড়িয়েছে তার গা
ওপার হতে আর আসে না নেয়ে
ডাক পিওনের গায়ের গন্ধ মাখা
চিঠির আশায় তিনি থাকেন না চেয়ে।
চিঠির দিন তো ফুরিয়েছে সেই কবেই
তবু অন্তরে ভালোবাসা গুরুগুরু
সে অনুভবের মাপ হয় না কোনো
নাতি-নাতনীর বহু আগে তার শুরু।
ই-মেইল কিম্বা মডার্ণ ভিডিও কলে
হুজুগই সার ভাবেন বসে বৃদ্ধ
হাতের লেখা ছুঁয়ে ছেনে মন গাঁথে
ছোট্ট মেইলে হয় না সে কাজ সিদ্ধ।
বৃদ্ধ ভাবেন থাক না লেটার বক্স
বেলির ঝোপে শোনেন রোদেলা রণন
লিখেছেন চিঠি মাস দুয়েকের আগে
বিদেশি নাতনী উত্তর দেবে যখন - - -
*********************
কন্যারা রাত জাগে
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ১৮.০৮.২০২৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৯.২০২৫।
আমার কন্যা, আমার পুত্রবধূর মুখে দেখি
সেই প্রতিবাদী তরুণীর প্রতিচ্ছবি,
সেই ভয়াল নিশিডাক ডেকেছিল অভয়াকে যেদিন
মরণকামড়ের সেই রাত থেকে ঘুমহারা
আমার কন্যা, আমার পুত্রবধূ।
তাদের চুলে আর দেখি না তো
‘অন্ধকার বিদিশার নিশা‘
মুখে নেই ‘শ্রাবস্তীর কারুকার্য'
চোখে নেই দু-দণ্ডের শান্তির আশ্বাস
প্রেমিকের মুঠিতে খোঁজে তারা দৃপ্ত প্রতিবাদ!
ঘরে ঘরে নতুন জন্ম হয়েছে অভয়ার
বিচারের প্রশ্নে তাদের মুঠি জ্বরে কাঁপে –
বোধহীন যাপন থেকে প্রেমিককে ছিনিয়ে আনে — মিছিলে হাঁটায়।
ধরে রাখে জেদ , পুষে রাখে রাগ!
আগামী কোনো ভোরে শান্তির ঘুমে হবে না ব্যাঘাত —-
এই প্রত্যয়ে ঘুমহীন রাত এখন।
এরা সব আমাদের কন্যা, আমাদের পুত্রবধূ - - -
আছে শুধু অশান্ত , অতৃপ্ত জাগরণ।
*********************
কবি সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রচনা ১৮.০৮.২০২৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৯.২০২৫।
আমার কন্যা, আমার পুত্রবধূর মুখে দেখি
সেই প্রতিবাদী তরুণীর প্রতিচ্ছবি,
সেই ভয়াল নিশিডাক ডেকেছিল অভয়াকে যেদিন
মরণকামড়ের সেই রাত থেকে ঘুমহারা
আমার কন্যা, আমার পুত্রবধূ।
তাদের চুলে আর দেখি না তো
‘অন্ধকার বিদিশার নিশা‘
মুখে নেই ‘শ্রাবস্তীর কারুকার্য'
চোখে নেই দু-দণ্ডের শান্তির আশ্বাস
প্রেমিকের মুঠিতে খোঁজে তারা দৃপ্ত প্রতিবাদ!
ঘরে ঘরে নতুন জন্ম হয়েছে অভয়ার
বিচারের প্রশ্নে তাদের মুঠি জ্বরে কাঁপে –
বোধহীন যাপন থেকে প্রেমিককে ছিনিয়ে আনে — মিছিলে হাঁটায়।
ধরে রাখে জেদ , পুষে রাখে রাগ!
আগামী কোনো ভোরে শান্তির ঘুমে হবে না ব্যাঘাত —-
এই প্রত্যয়ে ঘুমহীন রাত এখন।
এরা সব আমাদের কন্যা, আমাদের পুত্রবধূ - - -
আছে শুধু অশান্ত , অতৃপ্ত জাগরণ।
*********************
