যে বাতাস চোখ জুড়িয়ে দেয় তার কাছে কী ঝড় চাওয়া যায়? চশমা মুছে যাকে বলে দিই ঠিকানা সে আসলে গণৎকার ভবিষ্যৎ তো তার জানা। সহজ গলির ভিতর নম্বর গুলো ভীষণ আবছা বৃষ্টি এলেই বারান্দা হয় ধোয়া পোঁছা রবিবারে জটলা করে কিছু ফকির বাউল গান তো গায় না, কত ধানে কত চাল জোড়া তালি দেয় সেই সাতকাহন চৈত্র দিনে হাতবদল হয়ে যায় যে সব মন স্তূপ করে রাখে কত প্রেম ফুচকাওলা যেমন কলেজ জীবনে প্রেম হল না বন্ধু কমলিকা বোস হাওয়ার গায়ে লিখে রাখে আফসোস ধূলো মাখা ঘর বৈশাখী ঝড় দুমদাম আম উঠোনময় ওভেনে চা বসালে গলা খুসখুস কমে হৃদয়ে শান দিয়েছো অথচ প্রেমিক নেই এই হৃদয়ের কী বা মানে?
আহা চাঁদের কেন বয়স বাড়েনা? এই সমুদ্র নীল সফেদ ফেনায় ছুঁয়ে কেবল ই সময় বলে যায় সারা শরীর কী সেকথা শোনে? উষ্ণতা বিলীন ভাবের ঘরে নিষ্ফল শুধু দূর দেখা শুধু ভাবি চাঁদের কেন বয়স বাড়েনা? পতঙ্গ পুড়ে যাবে জানে আগুনের সহবাস। না ফেরার শখে চরমে পৌঁছে না তো কখনও বলেনা ! সবুজ ধানেরা আরো সবুজ প্লাবনে ভেসে যায় সেও তো হয় সব নিয়ে ও ভাবি এই যৌবন তারপর ঢেউ মিশে সেই সমুদ্রে আর কোনও রঙ থাকে না। তবুও চাঁদের কেন বয়স বাড়ে না?
মৃত গলিত স্তূপে আর কোনও ভ্রুণের জন্ম নেই জেগে থাকে শুধু আঙুল গুলো সুর তোলে আর গান গেয়ে বেড়ায়। যেখানে প্রাণ নেই কারা শোনে? কেবলই মুখোশে মানুষ। সেই সব প্রাণ এখন আকাশের তারাতে। তাইতো ওমন জ্বলে ছোঁয়া যায়না। শরীরে শরীরে আগুন জ্বলে চরম উত্তাপে সব টুকু শুষে নিয়ে তবুও প্রাণে প্রাণ লাগেনা। সেই আঙুল গান নিয়ে ধায় ভ্রমণের নেশায়।
অনেক বন্ধু ছিল বিষাদ জল মেখে। এখন কৌটো ভরে ক্ষণিক স্বস্তি নিজেকে তুলে রেখে। খুঁজি যাদের ভীষণ খুঁজি। তারা অচেনা এক দারুণ জ্বরে আমায় দেখলে ঔষধ খায়। ওরা জীবাণু তাড়ায়। ওদের কপাট বন্ধ হলে, সন্দেহে নিজেকে কড়া রোদে শুকোতে যাই। সঙ্গ দোষে ওদের বন্ধু আছে ঘর বোঝায় খুঁড়ে যাই ওদের ভেতর জল টুকু পাবো বলে ওরা কিন্তু আমায় দেখে. ঔষধ খায় কিছু না পেলে নিজেকে পোড়াই ছাই ভষ্ম যা থাকে আমার সাজানো তাকে এখন একটা কৌটো পেলে নিজেকে লুকোই।
যদি বলি, হ্যালো ভালো তো? ভালো থাকার আকাশ ভেঙে পড়বে। ছিটে রোদ্দুর প্রয়োজনে বর্ষা। ক্ষণিক উধাও হওয়া ভ্রমণে এই দূরত্বে তুমি যে অশেষ ভালো কাছে এলেই সকলেই মানুষ হয়ে যায় আর স্পর্শ না পেলেই ভগবান। নিউইয়র্ক এ ওরা ভালো আছে তো? কলকাতার গরমে ওরা কেমন আছে? কাছাকাছি এসে মূকাভিনয় বন্ধ হয়ে যায় আঁটোসাটো খিল সংশয়ে মস্তিষ্কের অঙ্ক জটিল ভালোবাসতে জানো ভীষণ ভাবে ভয় পাও পথ চলাকে,যাও ঘুড়ি যাও আকাশে আকাশে শেখাও বাহাদুরি মাঞ্জা দেবো সঙ্গোপনে হৃদয় কুসুম ফোটায় সেই ব্যবধানে তোমার স্বপ্ন গুলো আসলে নপুংসক বসন্তে ফোটা ফুলে ভ্রমর করে কৌতুক ইচ্ছে ছিল পাখি হবার, সেসব এখন রইল বাকি কাছে গেলেই নিজের কাছে ধরাপড়া সবখানে শূন্যতা আর ষোল আনা ফাঁকি
কোথাও দ্বন্দ্ব ভালোবাসার অজুহাত কোথাও বৃহৎ শূন্যতা উপচে পড়া পূর্ণতার। কোথাও নিয়ম শৃঙ্খল পরানোর উড়ে যাওয়া মন পাখি ওড়ানোর। মেধাবী বৃষ্টির ধারাপাতে, মাঠে মাঠে ফসল, সফল গনিতে ধুলোচাটা পাখি আর কংক্রীটের বিরোধিতা উড়ে যাওয়া ঢের ভালো শূন্যের অকৃপণ সীমানা, মেঘেদের শামিয়ানা হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপির পাতা যেমন বৃদ্ধ বটের পাতার ইতিহাস লিখন মেঠো পথ পার করে রানী বাঁধের কাছে হঠাৎ দেখা দুই শালিকের সাথে শুভ সকালের শুরু এই প্রভাতে অন্ধ বিশ্বাসে আজও ভালোবাসে ফিকে পুরনো বেদনার রঙ পৃথিবীর সব সুখ তাড়াতাড়ি শেষ হয় মায়াবী নারীর চোখ আয়নার থেকে কম নয়
একছুটে রাস্তার মোড়ে চেনা শহর গুল্মলতা, নেহাত ব্যস্ততা হাওয়ার অকারণ কড়া নাড়া লজ্জা দেবার অজ্ঞানতা অনামী কিছু ফুল, মায়া জড়ায়, বসন্ত ব্যাকুল তার হাতের ছোঁয়ায় ঈশান কোনে সান্ধ্য বংশীবাদক ভাঁজ করে রাখে কিছু নাবালক সুখ মন এক বৃদ্ধ দেরাজ অবসর পেলে যারা যুদ্ধ করে প্রেমিকরা সাধে খাম্বাজ একছুটে রাস্তা পেরিয়ে দেখি আকাশের নিচে আদুল গায়ে গল্পেরা মাখামাখি আমি ও আকাশের গায়ে লিখে দিই কিছু নাম ওরা এখন সব হাওয়ার সমান বছর কুড়ি আগের কোনো এক পত্র মিতা চিঠি তো নয় ছিল, কিটসের কবিতা আমার উত্তর ছিল সাদা টগর ফুল ভাষা জানিনা, প্রেম ছায়া দেয়, ঘর বাঁধিনা নীরব পথিক চলে যায় নিভৃত মনে আমি ও একছুটে চলে যাই রাস্তার মোড়ে যতদূর চোখ যায়,যতদূর হৃদয় ফেরি করে পুকুরের শ্যাওলা গন্ধ, ছেলেদের ফুটবল ম্যাচ কিশোরীর বেড়ে ওঠার গোপন অহংকার গোবর লেপা মায়ের উঠোন,তারপর আরো কিছু যত্নে স্মৃতির দেরাজের পিছু পাগল বাবর আলী বলে সব বেইমান বৃষ্টির চেনা রঙ মনের ই মতোন স্বপ্ন নকশী কাঁথা ছাড়া আর কোনো বুনন ইতিহাস হলেও বর্তমান নয়।
হঠাৎ দেখি আমি কোনো খানে নেই। এতোকাল তবে পড়শী ছিল কে এই ঘরে? কোনো কাব্য নেই আছে জঞ্জাল স্তূপ। ছাই ভষ্মে কাব্য লেখে কোন আগন্তুক? আদিম অতীত হতে আমি নেই একেবারে নেই কোনোখানে। ছায়ার ঘোমটার আড়ালে কে আমি আমি রব তোলে কোন অতলে? শিশু কাল হতে ভগ্ন স্তূপের পরে, বর্ণপরিচয় করে বর্ণচোরাদের ঘরে। ঝরে পড়ে শিশির হেমন্তের আদরে। ঢোলকলমি লতার বেড়া, ভোরের সূর্যের আড়মোড়া। সন্ধ্যার বিবেকের তারা খসে পড়ে পাড়ার গলির মুখে। অন্ধকারের মুনাফার দাম সব কিছু ঠিক ঠাক তবুও যেন কোনো সমান্তরাল রেখায়, আমি নেই। ভাঙে ঢেউ বার বার, উপকূল জুড়ে কত মেহনতি কারবার। তবুও আমি কোনো খানে নেই। আমি তো থাকিনা কখনও, জেগে থাকে শ্যাওলা কিছু জলের গোপনীয়তায়। অন্ধ কিছু প্রেম সন্দেহে হাতকড়া পরায়। কিন্তু সে কি আমি নাকি অন্য কেউ?? কোনো খানে নেই আমি, নেই নেই শূন্য খেলে বুদবুদ। ঘোলাজল করে হাহাকার না থাকার খেলায় মিশে গেছি এবেলায়
আমরা তখন ঝড় তুলেছিলাম বাইরে হেমন্তের হিম ঝরা শেফালি উঠোনময়। সে এক কুমড়ো লতার মতো নরম ভোরবেলা। আমার হাত ফসকে জলে পড়ে গেছিল যেন মনে হল কিছু ভুল চমর আন্তরিক কিছু খেলা নীরবে আড়ালে ঘোমটা পরা দেখা হয় কার সাথে? মুসাফির খোঁজে নাকি পথ? খরচা করি যা কিছু সময় আসলে সব কিছু সেই পুরনো অসুখ বসতবাড়ি তৈরী হয় তবুও আমার নিভৃত সাকিন ঘরের ভেতর যে ঘর। কোনো পথ আমার নয় এমনকি প্রবেশ পথও কারোর একা নয়। সব হৃদয়ই এক অনন্য দাতব্য চিকিৎসালয় ।