সুনীল গাঙ্গুলী ভুল করছেন
মিলন সেনগুপ্ত
৫ই জুলাই ২০০৬
এই লেখাটি ৮ জুন ২০০৬ তারিখের
আনন্দবাজার পত্রিকায়, শ্রদ্ধেয় শ্রী সুনীল
গাঙ্গুলী মহাশয়ের লেখা "এবার সমস্ত বিদ্যালয়ে
বাংলা আবশ্যিক হোক" প্রসঙ্গে লেখা।
শ্রী সুনীল গাঙ্গুলী মহাশয়ের লেখাটি ডান
দিকের পত্রিকার ছবিতে ক্লিক করে পড়ুন।
>>>
SUNIL GANGULY ER LEKHATI PORUN
ই-মেল: srimilansengupta@yahoo.co.in                       এই পাতাটি Counter বার দেখা হয়েছে
                                                                      
                                   এ বিষয় আপনার মতামত এখানে ক্লিক করে COMMENT  করে জানান        

  
  
 ৮ই জুন ২০০৬ তারিখের আনন্দবাজার পত্রিকায়, শ্রদ্ধেয় শ্রী সুনীল গাঙ্গুলী মহাশয়ের লেখা "এবার
সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক হোক" প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই। প্রথমেই বলছি ওনাকে আমি ভীষন
শ্রদ্ধা করি। তাঁর "সেই সময়" ও "প্রথম আলো" গোগ্রাসে পড়ে শেষ করার পর মনে হয়েছিল যে এত
সুন্দর ভাবে আমাকে এর আগে কেউ কোন ঐতিহাসিক গল্প বলতে পারেন নি। এক কথায় ঔপন্যাসিক
সুনীল গাঙ্গুলীর আমি একজন ফ্যান।

তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে তাঁর এবং তাঁদের "সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক" করার প্রস্তাব একটি
অত্যন্ত ভুল পদক্ষেপ হবে। যদিও তাঁদের "দোকানের সাইনবোর্ডের এক তৃতীয়াংশ তে বাংলায়" লেখা
একটি সঠিক পদক্ষেপ বলে অবশ্যই মনে হয়েছে। তাঁর সেদিনের শান্তিপূর্ণ অভিযানের সময়
দুর্ভাগ্যবশতঃ যে কাঁচ ভাঙ্গার ঘটনা ঘটেছিল, তাকে ঘীরে সংবাদ মাধ্যমে অহেতুক বিতর্কের প্রতিবাদ
জানাই। অবাঙালীরা যে কোন মতেই এ রাজ্যে অবাঞ্ছিত নন, সেই কথারও কোন দ্বিমত হতে পারে না।

প্রথমেই পরিস্কার করে বলে নিচ্ছি যে আমার ইংরেজীর প্রতি কোন বিদ্বেষ নেই। কোনমতেই বলছি না
যে ইংরেজী এরাজ্য থেকে মুছে ফেলা হোক ইত্যাদি ইত্যাদি। যতদিন প্রয়োজন থাকবে ততদিন কোন
ভাষা কে কেউ বিতাড়িত করতে পারে না।

কেন "সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক" করার প্রস্তাব ভুল, এখন তা বলছি।

১।
 অন্য রাজ্যে বহিরাগতদের সে রাজ্যের ভাষা বাধ্যতামূলভাবে শিখতে হচ্ছে বলে আমাদেরও তাই
করতে হবে - এ প্রস্তাবে হাম্মুরাবির মানসিকতার একটা গন্ধ থেকেই যায়।

২।  বাংলা ভাষার এই দুরবস্থা এ রাজ্যের মুষ্টিমেয় অবাঙালীদের জন্য মোটেই হয়নি। তারা একটি
ফাঁকা মাঠের উপর খেলার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র। আমাদেরই সৌজন্যে! এর জন্য এক মাত্র দায়ী
আমরা বাঙালীরা নিজে। নিজেদের দোষের খেসারত অবাঙালীদের দিতে বাধ্য করাটা কতটা যুত্তিযুত্ত?

৩।  এর আগে এরকম দুটি কাজ অতি মহান উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে শুরু করা হয়েছিল। যার ফল
এখনও বাঙালীরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

৩(ক)।  বাঙালীর বিজ্ঞান চর্চার শুরুর দিকে আচার্যরা ভেবেছিলেন যে বাঙালীদের বিজ্ঞান শেখানো-
পড়ানোটা বাংলায় হওয়া উচিত। তাতে মাতৃভাষায় শিক্ষার ভীতটা যেমন পোক্ত হবে, যুগের সঙ্গে
বাংলা ভাষারও উত্তোরন ঘটবে। তাঁরা ভেবেছিলেন যে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে, মানে
স্বাধীনতা অর্জন করে, বাংলায় বিজ্ঞান ভিত্তিক কাজ কর্ম অনায়াসে করতে পারবো। কারণ ততদিনে
আমাদের, বিজ্ঞান কে নিজের ভাষায় সড়গড় করে ফেলার কথা। স্বাধীন দেশের মানুষ নিজের ভাষায়
সব কাজকর্ম করবে, এছাড়া সেই অগ্নিযূগের মানুষরা আর কিই বা ভাবতে পারতেন! যেমন কথা তেমন
কাজ! বাংলায় লেখা হল বিজ্ঞানের অনবদ্য সব বই। তাঁরা শুধু বিজ্ঞানের বিষয় অনুবাদ করেই ক্ষান্ত
হন নি। আমাদের জন্য তৈরী করে গেছেন নানান পরিভাষার ভান্ডার। ঠিক একটি স্বাধীন জাতি যা করে
থাকে। কিন্তু তাঁরা একটি মারাত্বক ভুল করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হলেও, আমরা যে তাঁদের আশা মত
স্বাধীন জাতির মানসিকতা নিয়ে মাথা উঁচু করে না বেঁচে 'ইংরেজীর' কেনা গোলাম হতে বাধ্য হব অথবা
হয়ে থাকা পছন্দ করবো(!?), এটা তাঁরা দুঃসপ্নেও কল্পনা করেন নি। শঙ্কর সেই কবে "চৌরঙ্গী" তে
লিখেছিলেন ....দেশটা আসলে ১৫ই অগাস্টই পরাধীন হয়েছে। আমরা নিজের দেশে নিজের ভাষাকে
সর্বকর্মের অবিসংবাদী পাটরাণী করে তোলার বদলে ধীরে ধীরে ঘুটে কুড়ানী দাসীর চেয়েও অধম
অবস্থানে ঠেলে দিয়েছি। ইংরেজদের আমলে যেটুকু কাজ বাংলায় হত, এখন তাও হয় না। দেখে
আশ্চর্য লাগে যে বাংলার মানুষের কাছে বাংলায় নিজের প্রতিষ্ঠানের নামটি লেখার জন্যও আজ
অনুনয় বিনয় করে বলতে হচ্ছে ?

সেই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বিচিত্র অবস্থার সৃষ্টি হয়ে গেছে। বাচ্চাদের ইস্কুলে বাংলায়
বিজ্ঞান শিখে পাশ করে কলেজে ঢুকেই আবার সব কিছু ইংরেজীতে ঝালিয়ে নিতে হয়। বাংলা মাধ্যম
থেকে বিজ্ঞান, ভূগোলের মত বিষয় নিয়ে পাশ করা যে কোন ছেলে মেয়েকে জিজ্ঞেস করে দেখুন কি
বলে। এতদিন ধরে ইস্কুলে যে পরিভাষার পাহাড় তারা পড়ে, মুখস্থ করে, অন্তস্থ করেছে, কলেজে
গিয়েই দেখছে যে সে সবের আর কোন প্রয়োজনই নেই। ইংরেজী পরিভাষা রপ্ত করতে আবার তাকে
বহু মূল্যবান সময় ব্যয় করে পরিশ্রম করতে হয়। বাঙালী ছেলে মেয়েরা শুধুমাত্র নিজেদের চেষ্টায় এই
কঠীন পরিস্থিতি অতিক্রম করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন।  যদি পরবর্তি জীবনে বাংলায় কোন
কাজকর্মই না করতে হয় তবে বাচ্চাদের উপর এই বোঝা চাপাবার কি প্রয়োজন? স্বাধীনতার ঠিক পরে,
পঃ বাংলার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত যে সমস্ত রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, আমলা ভারপ্রাপ্ত ছিলেন তাঁরাই
যে বাঙালীর এই দুরবস্থার জন্য দায়ী এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সাধারণ বাঙালী তো শুধু
পরিস্থিতির দাস। তাঁদের যে ভাবে চালনা করা হয়েছে সেভাবে চলেছেন।

৩(খ)। বামফ্রন্ট সরকারও প্রাইমারী থেকে ইংরেজী তুলে দিয়ে ভীষণ বড় ভুল করেছিলেন। পরবর্তি
জীবনে জখন জণগনকে বাংলায় কিছুই করার সুযোগ করে দিলেন না, তখন তাঁদের উচিত হয় নি
প্রাথমিক থেকে ইংরেজী তুলে দেওয়া। এর ফলে বাঙালী নিজেকে এতটাই কোনঠাসা মনে করতে শুরু
করেছিল যে একটি অতি ছোট্ট দলের ডাকা বাংলা বন্ধ সর্বাত্মকভাবে সফল করার মত ন্যক্কারজনক কাজ
করতে একটুও লজ্জা বোধ করেনি। আমার অনেক অবাঙালী বন্ধুরা অবাক হয়েছিলেন এই দেখে যে
বাঙালী একটি অন্য ভাষাকে নিয়ে আসার জন্য আন্দোলন করতে পারে। অথচ নিজের ভাষায় কাজ
করতে হলে লজ্জা পায়, রেগে যায়, কৌতুক করে। যাই হোক তার ঠিক পরেই বামফ্রন্ট তাঁদের মত
বদলাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তাই আবার বলছি সুনীলবাবুর "সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক" করার প্রস্তাবটিও আগের দুটির মত
ভ্রান্ত প্রতিপন্ন হবে। কারন বাংলা আবশ্যিক ভাবে শিখে কি বাঙালীর বা অবাঙালীর কোনো লাভ হবে?
যে কোন কাজ, এমন কি সরকারের সাথে সাধারন পত্রালাপও ইংরেজীতেই সেরে নেওয়া যায়। একটু
চিন্তা করলেই দেখতে পাবেন যে আজকের দিনে, বিশ্বায়নের প্রবল চাপের ফলেই হোক বা একের পর
এক রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপের জন্যই হোক বা শুধু বেঁচে থাকার জীবন যুদ্ধের জন্যই হোক, বাঙালী
আবেগের চেয়ে লাভক্ষতির দিকটাই বেশী দেখছেন। তাঁরা জানতে চান বাংলা শিখে কি লাভ?  

তাহলে কি আমরা চুপচাপ হাত গুটিয়ে থাকবো?  মোটেই না।

আমাদের এখন বাজার অর্থনীতির সুত্র ধরে এগোতে হবে। বাংলাকে আবশ্যিক ঠিকই করতে হবে।
তবে তা "সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক" করে নয়। আবশ্যিক করতে হবে ভাষার ব্যবহারে, ভাষার
প্রয়োগে। আমার বিচার বুদ্ধিতে যা যা করলে বাংলা ভাষাকে এখনও যাদুঘরে যাওয়া থেকে আটকানো
সম্ভব তা হল:-

১।  প্রথমেই, আর একটুও সময় নষ্ট না করে, পশ্চিম বঙ্গ সরকারের উচিত এরাজ্যের মানুষের সঙ্গে সর্ব
প্রকার আদান প্রদান বাংলা ভাষায় আবশ্যিক করা। ১৯৬১সালে বিধানসভায় পাশ হয়
The West Bengal
Official Languages Act 1961
, যা কিনা ২৬ জানুয়ারী ১৯৬৫ থেকে বলবত্ করা হয়। বাংলার রাজকার্যে
ব্যবহারের জন্য জমি তো তৈরী হয়েই আছে। নতুন কোনো আইন করারও প্রয়োজন নেই।

২।  শুনেছি যে সরকার নাকি বাংলা চাপাতে পারছেন না কিছু আই-এ-এস ও আই-পি-এস অফিসার
(আনুমানিক মাত্র ৬০০-৭০০ জনের মত), যাঁদের মাতৃভাষা বাংলা নয় তাঁদের কথা ভেবে অথবা তাঁদের
চাপের কাছে নতি স্বীকার করে। এই অফিসাররা অবশ্যই দক্ষ নিজের নিজের কাজে। তাঁদের সততা ও
সাধুতা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ নেই। আমরা চাই এঁরা এরাজ্যেই কাজ করতে থাকুন। এঁদের বিশেষ
ভাবে বাংলায় কোর্স করিয়ে নেওয়া উচিত। ঠিক যেমন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি-অফিসারদের হিন্দিতে
কোর্স করানো হয়ে থাকে। সরকারের উপর তলায় বাংলায় কাজ শুরু করা গেলে নিচের ধাপে অসুবিধা
হবে না।

৩।  মানুষ জখন দেখবে যে এরাজ্যে বাংলা জানা থাকলে কাজে কর্মে সুবিধা হয়, তখন হয় নিজেই
ভাষাটা শিখে নেবে অথবা বাংলা জানে এমন কাউকে সেই কাজে নিযুক্ত করতে বাধ্য হবে   (কর্ম
সংস্থান)। "সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক" না করেও মানুষকে বাংলা শেখাতে বাধ্য করা সম্ভব।
এই বাজারি দুনিয়ায় বাজারের নিয়ম ভিন্ন আর উপায় নেই যে।

৪।  এ রাজ্যে বহু বাঙালীরাও তাঁদের ছেলে মেয়েদের, ইস্কুলে বাংলাকে একটি ভাষা হিসেবে শিখতে
দিচ্ছেন না। কারণ ঐ - "বাংলা শিখে কি হবে?"। কেউ কেউ আবার তাঁদের ছেলে মেয়েদের রাজ্যের
বাইরে অথবা বিদেশে পাঠাবেন বলে বাংলা পড়াচ্ছেন না। তাঁরা যেখানেই যান, যেখানেই থাকুন, আমরা
প্রার্থনা করি তাঁরা সুখ সাচ্ছন্দের জীবন কাটান। কিন্তু তাঁরা যদি কখনও এই বাংলায় কোন কাজের জন্য
ফীরে আসেন, তবে তাঁদেরও যেন তখন বাংলায় কাজ করতেই বাধ্য করা হয়।

৫।  সুধু বাংলায় লেখা পড়া করাই যথেষ্ট নয় এই তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে। আমাদের বাংলায়
ইমেল ইত্যাদিতে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে নিজেদের। সেল ফোনে বাংলা  
sms  বছর খানেক হল
দেখছি। অবাক হয়ে যাই এই দেখে যে বাঙালী যখন বাংলা ভুলে গিয়ে ইংরেজ হতে পারলেই বর্তে
যায়, তখন আর এক দল বাঙালী পাগলের মত বাংলাকে ভালবেসে শত প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করে
যাচ্ছেন যার ফলে আজ কমপিউটর - ইন্টারনেট - সেলফোনে বাংলা ব্যবহার করতে চাইলে আপনার
শুধু একটি জিনিষই প্রয়োজন - আপনার সদিচ্ছা।

৬।  বাংলায় কমপিউটর / ইন্টারনেটে কাজ করতে চাইলে দরকার হয় আপনার কমপিউটরকে বাংলা
ভাষায় কাজ করতে সমর্থ করে তোলা। এজন্য Microsoft তাঁদের
WindowXP operating system এর সাথেই
বাংলাও(
unicode) দিয়েছেন। কোনো আলাদা খরচ লাগে না। আমাদের সুধু enable করে নিতে হয়।

৭।  এইখানেও পশ্চিম বঙ্গ সরকারের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের উচিত এই রাজ্যের যত
কমপিউটর বিক্রেতা, কমপিটর সারভিস ও মেইন্টেনান্স কোমপানি, ছোট বড় সব সংস্থাকেই আবশ্যিক
ভাবে ক্রেতার সম্মতিক্রমে তাঁদের কমপিউটারে বাংলা
enableকরে দিতে। যাতে ক্রেতারা ইচ্ছে করলেই
বাংলা ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিটি ইন্টারনেট কাফেকে আদেশ দিতে হবে যে তাঁদের সবকটি সেট
এই বাংলা
enabled করে রাখতে হবে। এই ভাবে পশ্চিম বঙ্গের বাঙালীদের কমপিউটরে বাংলা লিপি
বা
fontsoftware install করা হয়ে যাবে। এতে কারো একটি পয়সাও বেশী খরচ করতে হবে না।
Google, Yahoo ইত্যাদি বড় বড় সাইটের মেলে আপনি বাংলা ব্যবহার করতে পারবেন। বাংলা লেখার
কীবোর্ড নিয়ে অসুবিধা হলে আপনি
internet এ বিনামূল্যে বাংলা (unicode) key-board softwareপাবেন।

এই কথাণ্ডলি এ জন্য লিখলাম যে বহু বাঙালী আছেন যাঁরা বহুদিন ধরে কমপিউটারে কাজ করেও
জানেন না যে তাঁদের কমপিউটারে (
XP os থাকলে ) বাংলায় কাজ করা সম্ভব। তাঁরা এখনও
বাঙালীদেরও ইংরেজীতেই e-mail করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিশেষে আবার জানাই যে শ্রদ্ধেয় শ্রী সুনীল গাঙ্গুলী মহাশয়ের "দোকানের সাইনবোর্ডের এক
তৃতীয়াংশ তে বাংলায়" লেখার বিষয় পূর্ণ সমর্থন থাকলেও "সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক" করার
প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের বাংলা জোর করে পড়াবার চেষ্টা না করে বাংলার
প্রয়োজন ও ব্যবহার আরো কি ভাবে বাড়ানো যায় সে চেষ্টাই করা উচিত, যে কাজ পশ্চিম বঙ্গ সরকার
ছাড়া এ মুহুর্তে আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রয়োজন বাড়লে লোকে বাংলা নিজের তাগিদেই শিখে নেবে। সেটাই যে কোন ভাষার বেঁচে থাকার
জীয়ন কাঠি মরণ কাঠি। সেটাই কাম্য।



.                                                      ********************.

এই বিষয়ে আপনার মতামত এইখানে ক্লিক করে COMMENT করে লিখুন
.
.
                                                                                                                      উপরে  


         মিলনসাগর