কবির শৈশব-কৈশোর কেটেছে কখনও বাঁকুড়ায়, কখনও উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে | বাবার কর্মসূত্রে মধুবন,
ঝাঁটিপাহাড়ি, জোড়হীরা---বাঁকুড়ার এই সব অঞ্চলে যেমন ঘুরে বেড়িয়েছেন কবি, তেমনই উত্তরবঙ্গের
মেটেলি , ইংডং বা কিলকোর্ট--এই নামগুলোর সঙ্গে কবির স্মৃতি ভীষণ ভাবে জড়িয়ে আছে | সাঁওতাল-
বাউরি- মদেশীয়-নেপালি ও আরও নানা জাতি-উপজাতির ছেলে-মেয়েদের সাথে বনে জঙ্গলে ঘুরে
বেড়িয়েছেন | ঘুরতে -ঘুরতে বাবুই পাখির বাসা, কাচপোকা, পড়ে-থাকা চালতা, বনমুরগির পালক
কুড়িয়েছেন | কুড়িয়েছেন আরও কত কী | কবি মনে করেন ঐ সব কুটোকাটা কুড়তে-কুড়তে জীবনকে
কুড়িয়ে পেয়েছেন |
কবি কখনও ভাবেননি তিনি কবি হবেন | ইতিহাসের যাত্রাপথে তার নিজের সামর্থ্য নিয়ে অংশগ্রহণ ছিল
অন্বিষ্ট | সমষ্টি-মানুষের মিলিত স্বপ্ন ছিল তার চোখে | তিনি তার জীবনের কাছে সত্যবদ্ধ ছিলেন | নিজে
অভাবী ছিলেন ,যাঁদের জন্য লেখা, সেই মানুষজনেরাও |
সময়টা সত্তরের দশক | ভোর বুঝতে শেখার পরই কবি দেখেছিলেন ক্ষুদ্ধস্বদেশভুমি | কবির এই সময় এক
অনির্বাণ আদর্শবাদের উন্মেষ হয়েছিল | সব মানুষের জন্য এক সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতেন কবি | এই
প্রতিবেশে ১৯৭৪ সালে কবির প্রথম লেখা --“শত্রু যখন সমস্ত দিক ঘিরে” | আবার এ সময়ই নিকট-মানুষকে
হারানোর তীব্র যন্ত্রণা থেকে লিখে ফেলেন প্রথম গান “বলো , ভুলতে কি পারি সাথীদের খুনে রাঙা পথ” |
তখন কবিতা ও গানের পথ আলাদা ছিল না | সময়ের অনুভবে জারিত সে সব লেখা | ঐ সময়ই কবি
তীব্রভাবে অনুভব করেছেন যে রাজনৈতিক চিন্তা ছাড়া কোন শিল্পী বাঁচতে পারে না--- নির্লিপ্ত শিল্পী সত্তা
বলে কিছু হয় না | আজও সে ভাবেই ভাবেন কবি | একটার পর একটা কবিতা বা গান লিখেছেন তখন
তাত্ক্ষণি-কের প্রয়োজনে | সেই লেখাগুলি নিয়ে কবির প্রথম কবিতার বই “তোমার মারের পালা শেষ হলে”,
বের হয় ১৯৮০ সালে | পরবর্তী কবিতার বই ১৯৮২ সালে প্রকাশিত “আমি দেখছি” থেকে ১৯৯৩ সালে
প্রকাশিত “ছেলের ঠোঁটে আকন্দের দুধ” |
পথ চলতে চলতে নানা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কবি এটাও বুঝেছেন যে , কবিতা কখনই একমুখী হতে পারে
না | জীবনের নানা রঙকে নিয়ে কবিতাকে হতে হবে বহুমুখী | কবিতা থাকবে জীবনের প্রতি ক্ষণে , প্রতি
পলে, মানুষের জন্যে | তথাকথিত রাজনৈতিক ‘ফ্রেম’ নয় , কবি চোখ মেলে তাকাতে চান জীবনের দিকে |
বর্ণময় বিস্তৃত জীবনের দিকে | তিনি মানুষ ,সমাজ প্রকৃতিকে নিয়ে কবিতা লেখেন, আবার সাম্প্রতিক কালে
সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের ঘটনায় কবির মন দারুন ভাবে ব্যাথিত হয়েছিল | সেই জন্য কবি সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের উপর
কিছু কবিতা লিখেছেন , যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে | আমরাও আমাদের সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের
কবিতার সংগ্রহে কবির কবিতা পেয়েছিলাম |
কবি বিপুল চক্রবর্তী এই দীর্ঘ সময়প্রবাহ জুড়ে কবিতা লেখার পাশাপাশি সেই কবিতাকে ভেঙ্গে-চুরে তার
নির্মেদ শরীর সুরের লাবণ্যে মুড়ে অনেক গান তৈরি করেছেন | সেই গান নিয়ে কবি গত পঁচিশ বছরের
বেশি সময় ধরে এই মহানগর (কলকাতা) থেকে বাংলার প্রত্যন্ত প্রান্তে পথ হেঁটেছেন | কবি বীরেন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়, আল মাহ্ মুদ , অমিতাভ গুপ্ত , জয় গোস্বামী, নির্মল হালদার, রঞ্জিত গুপ্ত,
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বম্ভর নারায়ন দেব, প্রভৃতি কবিদের অনেক কবিতায় সুর করেছেন | এছাড়া
কানোরিয়া জুট মিলের শ্রমিক সংগ্রামের উপর তিনি কিছু গান লিখেছেন ও সুর করেছেন |
যাঁর অনুপ্রেরণা ও সহকন্ঠে এ সব গান প্রাণ পেয়েছে, সে হল কবির জীবনসঙ্গিনী অনুশ্রী | তাই কবির গান
বিপুল-অনুশ্রীর গান নামেও খ্যাতি লাভ করেছে | এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে এই গানগুলি একদিকে
অসংখ্য মানুষকে কবির কাব্যভাষার প্রতি , কবিতার প্রতি আগ্রহী করেছে , অন্য দিকে আবার অগণ্য
সাধারণ মানুষ ও বাংলার ব্যাপ্ত প্রকৃতি কবির কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে | বর্তমানে কবি SAIL এর অধীনে,
Bokaro Steel Plant -এর কলকাতার অফিস-এ কর্মরত |
আমরা আনন্দিত এই জন্য যে আমাদের সাইটে কবি তাঁর কিছু স্বনির্বাচিত কবিতা আমাদের তুলতে
দিয়েছেন |
অন্য সাইটে বা পাতায় কবির গান ও কবিতা পড়তে এখানে ক্লিক্ করুন
- http://www.esnips.com/web/folkways4sStuff
- http://bipulchakraborty.blogspot.com (কবির নিজের ব্লগ্)
- https://www.milansagar.com/music/anushree_bipul/Anushree_Bipul_music.html (অনুশ্রী-বিপুলের গান)
কবির সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানা -
৩ এভিনিউ ইস্ট (ফার্স্ট স্রীট), মডার্ন পার্ক, সন্তোষপুর, কলকাতা ৭০০০৭৫
ই-মেল - anushree_bipul@rediffmail.com
চলভাষ - +919831127563
উত্স:
অগাস্ট ২০১০ এ নেওয়া কবি বিপুল চক্রবর্তীর সাথে একটি সাক্ষাত্কার |
মিলনসাগরের পক্ষে সাক্ষাত্কারটি নিয়েছিলেন মানস গুপ্ত |
আমাদের যোগাযোগের ঠিকানা :-
srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২০১০
কবির নতুন ছবি সহ পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৪.১২.২০১৬
.
কবি বিপুল চক্রবর্তী -
জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ায় |
পিতা রমানাথ চক্রবর্তী এবং মাতা ঊমারানী
চক্রবর্তী |