ভিনরাজ্যে বাঙালি বিতাড়ণের
বিরুদ্ধে কবিতার দেয়ালিকা


যে বাঙালি জানকবুল করে এই দেশকে স্বাধীনতা এনে দেবার লড়াইয়ে প্রথম সারিতে ছিল, তারাই আজ কি নিজের দেশেই অবাঞ্ছিত!? তাদের দ্বারা, যারা সচেতনভাবে স্বাধীনতার যুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল এবং ইংরেজদের সাহায্য করে গিয়েছিল।?

মিলনসাগরের এই কবিতার দেয়ালিকাটি এই ঘটনাবলীর বিরুদ্ধে কবিদের প্রতিবাদ।

ভিনরাজ্যে, বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়, দিল্লী প্রভৃতি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে, কাজ করতে যাওয়া বাঙালি, হিন্দু এবং মুসলমান পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর, কিছুকাল হলো বাংলাদেশী ও রোহিংগা বিতাড়ণের নামে ধর-পাকড়, গ্রেপ্তারি থেকে শুরু করে একেবারে বাংলাদেশে জোর করে ঠেলে দেওয়া চলছে। অবাক কাণ্ড হলো এই যে তাঁদের ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড কে নাগরিকতার প্রমাণ হিসেবে সেখানে মান্যতাই দেওয়া হচ্ছে না। সেটা অবশ্য এখন নির্বাচন কমিশনও করতে শুরু করেছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই কার্ডগুলি কেন দেওয়া হয়েছিল তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে!

বাঙালি খেদাও-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ---
বাঙালি, অর্থাৎ বাংলাভাষীদের বিতাড়ণ কোনো সাম্প্রতিক ঘটনা নয়। ১৯৪৮ সালের ১লা মে আসামের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া অসমীয়া ও বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে একটি জাতিগত দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। গুয়াহাটিতে বাঙালি-মালিকানাধীন দোকানগুলি লুট করা হয়েছিল অসমীয়াদের দ্বারা।

আসামের “বঙাল খেদা” উত্তর-পূর্বের বাঙালিদের প্রতি অসমীয়া জাতির বিদ্বেষমূলক একটি সংগঠিত প্রচারাভিযান, যা আসামের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে এবং ১৯৮০-এর দশকে মেঘালয় ও ত্রিপুরাতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬০ সালে এই আন্দোলনের নামে আসামে বাঙালি বিদ্ধেষ তীব্র হয়। এই সময় প্রায় ৫০,০০০ বাঙালি আসাম রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয় অসমীয়াদের দ্বারা এবং তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয়।

১৯৫৬ সালে, পূর্ববাংলার অবিভক্ত গোলপাড়া জেলার ব্যাপক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়, যখন রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন, জেলার সাথে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য জেলা পরিদর্শন করে। প্রায় ২৫০ বাংলা ভাষা মাধ্যমের মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে এক রাতের মধ্যেই আসামি ভাষার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়।

বর্তমানে যে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ---
Citizens for Justice and Peace (CJP) তাঁদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন এবং সরাসরি এর বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিস্তারিত পড়তে, CJP ওয়েবসাইটে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .

এ রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা ---
ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থার প্রতিবাদে তাঁর দলের মেগা মিছিলে হেঁটেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৬ই জুলাই ২০২৫ তারিখে কলেজ স্ট্রিট থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত। তাঁদের ২১শে জুলাই এর ব্রিগেড সমাবেশ থেকেও তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কড়া ভাষায়।

এ রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও এ বিষয় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন। ২৩শে জুলাই ভিনরাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদে পথে বামফ্রন্ট অর্থাৎ সব কটি বামদল একসাথে, ধর্মতলা থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত মিছিল করেন।

রাজ্যের প্রধাণ বিরোধী দল বিজেপি অবশ্য চেষ্টা করছে এটিকে বাংলাদেশী বিতাড়ণ বলে চালাতে। ব্যাপারটাকে হিন্দু-মুসলমানের লড়াই হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে, যা তাঁরা সফলভাবে এদেশে করে থাকেন।

মিলনসাগর, ২৬শে জুলাই ২০২৫॥

***************************************




উৎস -