বাংলাদেশের কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেয়ালিকা এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে!
|
যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে
|
ভূমিকা কিছুদিন হলো প্রতিবেশী বাংলাদেশে সরকারী চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের কোটার বিরুদ্ধে একটি ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেখানকার শেখ হাসিনার সরকার ভারতের বন্ধু বলেই আমরা জানি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা যাঁরা ভুলে যাবেন বা ভুলে গিয়েছেন, তাঁরা সেই মানুষগুলির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেবল তাই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তিফৌজের পাশাপাশি ভারতবর্ষের সেনাবাহিনীর ৩০০০ সৈন্য প্রাণ বিসর্জন দেন এবং ১২০০০ সৈন্য আহত হন। তাই বাংলাদেশে অস্থিরতা দেখলে ভারতে আমরাও ব্যথিত হই, চিন্তিত হই।
বাংলাদেশের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ আরিফ-এর ইউটিউবে একাধিক ভিডিও রয়েছে, যেখানে তিনি এই কোটা নিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। সেখান থেকে আমাদের মনে হচ্ছে যে সেখানে চাকরির জন্য পরীক্ষা ও ইনটারভিউ পর্যন্ত সবাই সমান। যাঁরা নিজেদের উপযুক্ত প্রমাণ করবেন তাঁদের মধ্যে থেকে, চাকরি পাওয়ার শেষ ধাপে, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য কোটা রাখা হচ্ছে। সুতরাং এতে মেধার ক্ষতি হচ্ছে তা বলা অন্যায় হবে। শেষ কথা হলো - সে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য কোটা থাকা উচিত কি না, তা তাঁদের দেশের আইন-আদালত এবং জনগণই ঠিক করবেন।
আমাদের চিন্তাভাবনা এই আন্দোলনকে যেভাবে দমন করা হচ্ছে এবং এই ছাত্র-আন্দোলনটি যেভাবে রাজনৈতিক চেহারা ধারণ করছে, তার বিরুদ্ধে। ভারতের বন্ধু সরকার হলেও, আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপরে যেভাবে শেখ হাসিনার পুলিশ এবং তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র লীগ দ্বারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং বহু ছাত্রের হত্যায় আমরা ব্যাথিত ও ক্রোধিত। তার উপর সমস্ত ইনটারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে অনেক খবরই বহির্বিশ্বের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে।
যে সাহসিকতার সঙ্গে আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে একের পর এক গুলি খেয়ে মৃত্যু বরণ করলেন, তাতে তিনিই এই আন্দোলনে আইকন হয়ে থাকবেন।
সত্য চেপে দিতে চাইলে যা জিতে যায় তা হলো গুজব। তাই ছড়াচ্ছে। মৃতের, আহতের কোনো সঠিক সংখ্যা জানার উপায় নেই।
মিলনসাগরে আমরা এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে কবিতা ও গান রচিত হচ্ছে বা প্রাসঙ্গিক, তা সংকলিত করার একটি চেষ্টা করছি। সঙ্গে আবু সাঈদ কে নিয়ে মিলনের একটি কার্টুন। বাংলাদেশের মানুষ ভাল থাকুন, সুখে থাকুন, সমৃদ্ধ থাকুন, তাহলেই আমরা প্রতিবেশী হিসেবে খুশি হবো। এই পাতা তৈরীতে আমরা কৃতজ্ঞ চলচিত্র সম্পাদক কোরক মিশ্রর কাছে যিনি আমাদের বহু কবিতা পাঠিয়েছেন। তাঁর ফেসবুকে যেতে . . .
পাঠকদের জানাই যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মিলনসাগরে প্রকাশিত হয় কবি রাজেশ দত্ত সম্পাদিত ও সংকলিত একটি বিশাল “মুক্তিযুদ্ধের গান ও কবিতার দেয়ালিকা” । সেই পাতায় যেতে আমাদের দেয়ালিকার সূচীতে যান অথবা এখানে ক্লিক করুন . . .
|
|
|
লাশ হওয়া নিরস্ত্র মানুষটা
কবি আর্যতীর্থ
লাশ হওয়া নিরস্ত্র মানুষটা
দুঃস্বপ্নে সৈনিককে এসে বলে
‘আমাকে মারলে কেন?‘
সৈনিক গোঁ গোঁ করে
অসহায় গোঁয়ারের মতো বলে ওঠে
‘হুকুম’
উঠে বসে ধড়মড় করে, জল খায়,
বাথরুম যেতে গিয়ে ডরায় খানিক,
আঁধারের মাঝে আরো গাঢ় অন্ধকার হয়ে
কেউ দাঁড়িয়ে রয়েছে যেন,
চির-ঘুম দিলো যাকে,
কাচিয়েকুচিয়ে কেড়ে নিয়েছে সে ঘুম,
কেন যে মারলো সেটা এখনো
নিজেকেও বোঝাতে পারেনি সে ঠিক।
লাশ হওয়া নিরস্ত্র মানুষটা
বিচারকের স্বপ্নে এসে সওয়াল করে,
‘আমার খুনীদের বিচার হবে কবে?’
বিচারক আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করেন
‘ইয়ে, কত নম্বর কেস? আমার এজলাসে তো..’
মানুষটা বলে , ‘এরই মধ্যে ভুলে গেলেন?
কবরের মাটি তো নরম এখনো!’
বলেই সেই ফোনে ফোনে ঘোরা ভিডিওর মতো সে
দুহাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে,
বিচারক প্রাণপণে চেঁচিয়ে বলতে যান,
‘শুনানিটা হতে দাও অন্তত..’
বোবা ধরা শূন্যতা নিয়ে জেগে ওঠেন তিনি।
এখনো কানে বাজছে বিদেহীর স্বর,
‘শাস্তি পাবে না ওরা একজন-ও।’
লাশ হওয়া নিরস্ত্র মানুষটা
শাসকের স্বপ্নে এসে বলে,
‘এটাও তো স্বাধীনতার লড়াই।
আমার পরিবার কোটা পাবে না?
পাবো না আমরা কোটা?’
শাসক স্বপ্নেই চেঁচিয়ে উঠেন,
‘তুমি রাষ্ট্রবিরোধী! লজ্জা করে না এভাবে কালি দিতে
দেশের নামে ?’
লাশ নিজের বুকের বুলেটের ক্ষত’য়
আঙুল চালিয়ে দিয়ে বলে,
‘এ রক্ত তো আমার দেশের মাটিই ভেজাচ্ছে!
শিক্ষার অধিকার,
শিক্ষার পরে কাজের অধিকার,
রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার পেতে
নতুন সূর্যের দিকে শুরু হলো ছোটা,
ওই শুনুন ,
কারা শ্লোগান দিচ্ছে, ‘পা চালিয়ে ভাইইই,
মিছিলের কদম যেন না থামেএএ..’
শাসকের ঘুম ভেঙে যায় ।
সত্যিই কি ভাঙে? তিনি টের পাচ্ছেন,
তাঁকে বাদ দিয়ে দেশ আগামীর পথে হাঁটছে!
তাঁর চোখের সামনে ‘শহীদ’ বানানটা ভেঙেচুরে
‘সঈদ’ হয়ে যাচ্ছে..
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কথা ক
কবি শেজ়ান SHEZAN
এই RAP গানটি YouTube এ শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .
52 র তে ২৪ এ তফাত কই রে? কথা ক
দ্যাশটা বলে স্বাধীন তাইলে খ্যাচ টা কই রে? কথা ক
আমার ভাই বইন মরে রাস্তায় তর চেস্টা কইরে? কথা ক
কালসাপ ধরসে গলা পেঁচায়, বাইর কর সাপের মাথা কো?
52 র তে ২৪ এ তফাত কই রে? কথা ক
দ্যাশটা বলে স্বাধীন তাইলে খ্যাচ টা কই রে? কথা ক
আমার ভাই বইন মরে রাস্তায় তর চেস্টা কইরে? কথা ক
কালসাপ ধরসে গলা পেঁচায়, বাইর কর সাপের মাথা কো?
জোর যার মুল্লুক তার! আগে ক মুল্লুক কার?
লাঠির জোরে কলম ভাঙ্গে, শান্তির নামে তুললো খার
কাইল মারলি, পরশু মারলি, মারতে আইলি আজ আবার!
রাজায় যহন প্রজার জান লয় জিগা তাইলে রাজা কার?
আমার মানচিত্র কান্দে আইজকা দেইক্ষা দ্যাশের হাল রে
লাল সবুজের পতাকা মা পুরাডাই দেহি লাল রে
তলোয়ার হইয়া কাটে যাগো হওয়ার কথা ঢাল রে
পাপের জিহ্বায় সইতারে না উচিত কথার ঝাল রে
এইত্তর দালালের মায়রে, মাইরা দ্যাশের বাইরে
দলের ভাইয়ের শেল্টার লইয়া মারোস নিজের ভাইরে
যহন দ্যাশ বেইচ্চা ক্যাশ করোস দ্যাশপ্রেম যায় কই তর?
মাইরা যাগোর মাথা ফাডাস মারতি হইলে বইন তর?
মাইয়া পোলা ফ্রন্টলাইনে, অনলাইনেও সিন ডা
টোকাই ঘুরে চাক্কু হাতে, ঠোল্লা চুরি পিন্দা
মারতে আইলে মাইরা দিবি, মুর্দা নাইলে জিন্দা
রাইত দেইখা ডরাইস না কেউ রাইতের পরেই দিনডা
52 র তে ২৪ এ তফাত কই রে? কথা ক
দ্যাশটা বলে স্বাধীন তাইলে খ্যাচ টা কই রে? কথা ক
আমার ভাই বইন মরে রাস্তায় তর চেস্টা কইরে? কথা ক
কালসাপ ধরসে গলা পেঁচায়, বাইর কর সাপের মাথা কো?
52 র তে ২৪ এ তফাত কই রে? কথা ক
দ্যাশটা বলে স্বাধীন তাইলে খ্যাচ টা কই রে? কথা ক
আমার ভাই বইন মরে রাস্তায় তর চেস্টা কইরে? কথা ক
কালসাপ ধরসে গলা পেঁচায়, বাইর কর সাপের মাথা কো?
নিজের ভাইসের গোস্ত খাস বিবেকের তলপ্যাডে পোঁচ মাইরা,
যারা তুলে আওয়াজ অগো টিটকারি দেস পোস্ট মাইরা
ছাত্র দিসে ভাষা আইন্না, দ্যাশ বানাইসে ছাত্ররা
যেই হাতে কলম খাতা ওই হাতে দেস হাতকড়া
মুক্তির লেইগা যুদ্ধ কইরা মুক্তিডাই তর মিললো কই?
ভাষার লেইগা লইড়া যদি বোবা হইয়াই পইড়া রই!
এই বেডা যুক্তি কই, মিঠা মিঠা যত উক্তি কই
দ্যাশের মেরুদন্ড ভাঙতে যাইয়া
নিজের নিজে কবর খুড়বি অই
দেশ গড়ার সবক দিয়া কামের সময় সইরা যাস!
কার রক্তে পাড়া দিয়া বিজয় মিছিল কইরা যাস?
মায়ের বুক খালি কইরা রঙ্গের মহল গইড়া যাস?
যা, বাইচ্চা থাক খালি জানি ভিত্রেরতে মইরা যাস
জবান খুললেই জবান সিলাই, আর সিলাইবো কয়জনের
একজনে মা পইড়া গেলেও খাড়ায় যাইবো ছয় জনে
জন্ম লইসি মরতে মরার ডর দেহাইস না আমাগো
এক সেজানে মরলেও লাখো সেজান কইবো কথা ক
52 র তে ২৪ এ তফাত কই রে? কথা ক
দ্যাশটা বলে স্বাধীন তাইলে খ্যাচ টা কই রে? কথা ক
আমার ভাই বইন মরে রাস্তায় তর চেস্টা কইরে? কথা ক
কালসাপ ধরসে গলা পেঁচায়, বাইর কর সাপের মাথা কো?
52 র তে ২৪ এ তফাত কই রে? কথা ক
দ্যাশটা বলে স্বাধীন তাইলে খ্যাচ টা কই রে? কথা ক
আমার ভাই বইন মরে রাস্তায় তর চেস্টা কইরে? কথা ক
কালসাপ ধরসে গলা পেঁচায়, বাইর কর সাপের মাথা কো?
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ভাঙবো বলেই নামছি পথে
কবি ঋদ্ধিবেশ
রচনা - ১৯.৭.২০২৪
ভাঙবো বলেই নামছি পথে
বাঁধবো বলেই দিচ্ছি ডাক
ভাই বোনেদের রক্তে রাঙা
বঙ্গভূমি রক্ষা পাক
মৃত্যু মিছিল থামুক বন্ধু
টনক নড়ুক জগৎটার
মুক্তিযুদ্ধ বজায় রাখতে
রক্ষানীতির কি দরকার
বোম, বুলেটের কি দরকার
মানুষ খুনের কি দরকার
তোমার কথাই বলছে সবাই
তোমার হয়েই লড়ছে লোক
মুক্তি যুদ্ধ রক্তে বাঁচুক
হত্যালীলা বন্ধ হোক
স্কুল, কলেজে ফেরাও ওদের
যোগ্য মানুষ চাকরি পাক
মুক্তি ঘটুক ভাবনাতে আর
স্বপ্ন গুলো... মুক্ত থাক...
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
যে ছেলেটা গুলি খেলো টান করে সিনা
কবি ঋতম সেন
রচনা - ১৯.৭.২০২৪
যে ছেলেটা গুলি খেলো টান করে সিনা
আমি জানি আমি তার দেশেতে থাকি না।
যে মেয়েটা রাজপথে নিশান ওড়ালো
জানি না আঁধার তার কতোখানি কালো।
আমি একটা কেস খাওয়া দুর্বল লোক
মেনে নিয়ে বসে আছি যা হচ্ছে হোক।
খুঁটিতে রয়েছে বাঁধা অদৃশ্য দড়ি
বিক্রি হওয়া দেশে আমি পদ্য বিক্রি করি।
তবু সব জানতে পারি কি হয় ওপারে
এত মৃত্যু আটকায় না কোনো কাঁটাতারে।
চেতনা উপড়ে নেয় ক্ষুধার্ত পৃথিবী
চাকরি দিবি, না দিবি, জান কেন নিবি?
দেশদ্রোহী নকশাল রাজাকার ধ্বনি
অনেক বয়স হল, ন্যারেটিভ চিনি।
কে কাকে ট্যাগায় সবই জানেন ক্ষমতা
ওপারে কাঁদি না, আর এপারে সমতা।
দীর্ঘ রাত কেটে গেলে যোগাযোগ হীন
নিরুপায় হয়ে আসে আরো একটা দিন।
মেশিনগানের মুখে গোলাপের নাম
সেলাম বাংলাদেশ, সহস্র সেলাম।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ছাত্রদলের গান
কাজী নজরুল ইসলাম
. আমরা শক্তি আমরা বল
. আমরা ছাত্রদল |
মোদের পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান
. ঊর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল |
. আমরা ছাত্রদল ॥
মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে
. যাত্রা নাঙ্গা পায়,
আমরা শক্ত মাটী রক্তে রাঙাই
. বিষম চলার ঘাস |
. যুগে যুগে রক্তে মোদের
. সিক্ত হ’ল পৃথ্বীতল |
. আমরা ছাত্রদল ॥
মোদের কক্ষচ্যুত-ধূমকেতু-- প্রায়
. লক্ষ্যহারা প্রাণ
আমরা ভাগ্যদেবীর যজ্ঞবেদীর
. নিত্য বলিদান |
যখন লক্ষ্মীদেবী স্বর্গে উঠেন
. আমরা পশি নীল অতল !
. আমরা ছাত্রদল ॥
আমরা ধরি মৃত্যু রাজার
. যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
মোদের মৃত্যু লেখে মোদের
. জীবন--ইতিহাস !
হাসির দেশে আমরা আনি
. সর্বনাশী চোখের জল
. আমরা ছাত্রদল ॥
. সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়
. আমরা করি ভুল !
. সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব,
. আমরা ভাঙি কূল |
. দারুণ-রাতে আমরা তরুণ
. রক্তে করি পথ পিছল !
. আমরা ছাত্রদল ॥
মোদের চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল,
. বক্ষে ভরা বাক্,
. কন্ঠে মোদের কুন্ঠাবিহীন
. নিত্য কালের ডাক |
আমরা তাজা খুনে লাল ক’রেছি
. সরস্বতীর শ্বেত কমল |
. আমরা ছাত্রদল`॥
ঐ দারুণ উপপ্লবের দিনে
. আমরা দানি শির,
. মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে
. বিংশ শতাব্দীর !
মোরা গৌরবেরি কান্না দিয়ে
. ভ’রেছি মা’র শ্যাম-আঁচল |
. আমরা ছাত্রদল ॥
. আমরা রচি ভালোবাসার
. আশার ভবিষ্যৎ,
মোদের স্বর্গ-পথের অভাস দেখায়
. আকাশ-ছায়াপথ !
. মোদের চোখে বিশ্ববাসীর
. স্বপ্ন দেখা হোক সফল |
. আমরা ছাত্রদল ॥
আবু সঈদ
কবি পীযূষ গুহ
অমিত সাহার ফেসবুক থেকে পাওয়া . . .
রচনা - ২০.৭.২০২৪
প্রতিদিন মরে বাঁচা এই তিক্তবোধ
সবকিছু উপেক্ষা করে দুই হাত তুলে
গিয়েছে সে মৃত্যু সন্ধানে
ফিরিও না তাকে আর ক্লেদাক্ত মাটিতে
শত শত বছরের বর্ষন শেষে
সেই রক্তদাগ
শাসকেরা মাথা নীচু করে খুঁজে চলে
ঢালে আরও শান্তির জল।
অসময়ে মৃত্যুর সাথে তার এই অভিসার
খুলে দিল জীবনের বিপুল বিস্তার
দেখো আমি ভয়হীন।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কত রক্তের ফোঁটা
কবি শোভন ভট্টাচার্য
রচনা - ১৯.৭.২০২৪
কত রক্তের ফোঁটা
ঝরলে তবে লুপ্ত হবে
নাতিপুতির কোটা
কত মাথার খুলি
উড়লে তবে স্তব্ধ হবে
সেনাপতির গুলি
কত সরল প্রাণ
খসলে তবে মুক্ত হবে
লুণ্ঠিত আসমান
জানে না ছাত্রদল
প্রাণের সুখে মৃত্যুমুখে
ছোটে অনর্গল
মৃত্যুই যেন জয়
দেখে শাসক বিরত হোক
পাক যথার্থ ভয়
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
জয়ের পুষ্পমাল্য
কবি স্বপ্না ঘোষ
রচনা - ১৯.৭.২০২৪
এলন মাস্ক ভেবে বসেছেন
যৌবনকে টাকা-মুখী ও ড্রাগ-মুখী করে অন্যায়ের
প্রতিবাদ বন্ধ করা গেলেই কেল্লাফতে,
খেলাবে বিশ্বের অর্থনীতি তাঁহাদের হাতে।
বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ চাকরিতে কোটার
বিরোধিতায় আন্দোলনরত
প্রাণ দিলো বহু ছাত্র,
আগুন জ্বলছে আগুন জ্বলছে
এলন মাস্ক পরাজিত, বসে নত মুখে
টাকায় যায় না কেনা সব দেশের যৌবন ড্রাগের
নেশা ধরিয়ে ।
ভালোবাসায় হাতে হাত রেখে একদিন
পৃথিবীর যৌবন এক হবে অন্যায়ের
প্রতিরোধে প্রতিবাদে গাছেরা বলবে
সঙ্গে আছি,
বালিকাকে পাঠাও, ফুলে, গাঁথবে মালা
বিদ্রোহ শেষে ছাত্রছাত্রীর গলায় দুলবে
জয়ের পুষ্পমাল্য,
শুরু হবে জয়োৎসবে রবীন্দ্র, নজরুল,
কবীর সুমনের গান গাওয়া।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
আবু সাঈদ এর মৃত মুখের দিকে
কবি স্বপ্না ঘোষ
রচনা - ১৯.৭.২০২৪
আবু সাঈদ এর মৃত মুখের দিকে
ধ্রুবতারা কান্না ভেজা চোখে তাকিয়ে আছে
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
কাণ্ডারী আবু সাঈদ
কবি স্বপ্না ঘোষ
রচনা - ১৮.৭.২০২৪
দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ালে
নিখাদ প্রতিবাদ ঢলে পড়ে বুলেটের আঘাতে ।
বাংলাদেশের মানচিত্র ভেসে যায়
তোমার পিতামাতার শোকাশ্রু ধারায়,
ভালো থাকো আকাশে
মেঘের ভেলায় ভেসে।
প্রতিবাদী জাগায়
দেশকে ভাবায়।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
অগ্নিস্নান
কবি স্বপ্না ঘোষ । রচনা - ২০.৭.২০২৪।
জাতি ধর্ম বর্ণ ধনী দরিদ্র ঈশ্বর ও শয়তানের ঊর্ধে উঠে বাংলাদেশের ছাত্র
সমাজ দেখিয়ে দিলেন একসাথে পথ চলা এবং আত্মোৎসর্গ ভিন্ন অন্যায়ের
প্রতিরোধ হয় না । ওঁদের আন্দোলন বিশ্বের সমস্ত স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের ভিত
কাঁপিয়ে দিয়েছে। স্বৈরাচারী শাসকদের গালে হাত , শোষণের নতুন ছক নিয়ে
ভাবতে বসেছেন ।
ছাত্র সমাজের , সাহসের গায়ে সাহস
জমে মর্ত্যভূমিতে পারিজাত ফোটে ,
সাহসের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে
বাংলাদেশের অগ্নিস্নান সাঙ্গ হবে।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
এ সকাল আজ প্রতিবাদ এনেছে
সংহিতার কবিতা
রচনা - ২১.৭.২০২৪
এ সকাল আজ প্রতিবাদ এনেছে,
রক্ত মেখেছে মুখে,
থামবে না এই ছাত্র দাবী,
সব অন্যায় দিক রুখে-
প্রতিবাদ আজ ছড়িয়ে পড়ুক
জ্বলুক আগুন সবার বুকে,
কলম গুলো তলোয়ার হোক
আনুক বিদ্রোহ চারিদিকে---
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
ছাত্র আন্দোলনে ছাত্ররাই গ্রাহ্য
কবি দেবীপ্রসাদ ঘোষ
রচনা - ২১.৭.২০২৪
ছাত্র আন্দোলনে ছাত্ররাই গ্রাহ্য
আসুক আর সকল আসুক ক্ষতি নেই
ঘৃণ্য রাজনীতি পরিত্যাজ্য
হাসিনা কেড়েছো নির্মল প্রাণ
ক্ষমা চেয়ে সরে যাও
বাঁচাও নিজের জান।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
দেশটা তোমার বাপের নাকি
কথা - কবি এথুন বাবু, সুর – এথুন বাবু ও রোশেন, শিল্পী – মৌলুমী এথুন বাবু। গানটির লাইভ
অনুষ্ঠান দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .
দেশটা তোমার বাপের নাকি করছো ছলা কলা।
কিছু বললেই ধরছো চেপে জনগণের গলা।
মনে রেখ যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ পেয়েছি
দেশ দেশ দেশ বাঁচাতে রক্ত দিতে রাজি আছি
ভয় দেখিয়ে হবে না রে কাম
ও বাছারাম, ভয় দেখিয়ে হবে না রে কাম
ওরে লুঠ করে চুরি করে পালাবে কোথায়
দাঁড়িয়ে আছে জনগণ তোমার পাহারায়
মনে রেখ যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ পেয়েছি
দেশ দেশ দেশ বাঁচাতে রক্ত দিতে রাজি আছি
ভয় দেখিয়ে হবে না রে কাম
ও বাছারাম, ভয় দেখিয়ে হবে না রে কাম
দুঃখ কষ্টে মরছে মানুষ তার হিসেব নাই
এখন উন্নয়নের কথা বলে চুরি করে খাই
মনে রেখ যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ পেয়েছি
দেশ দেশ দেশ বাঁচাতে রক্ত দিতে রাজি আছি
ভয় দেখিয়ে হবে না রে কাম
ও বাছারাম, ভয় দেখিয়ে হবে না রে কাম
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
মেঘের চূড়ায়
কবি জাহির আব্বাস (আপন)
রচনা - ২০.৭.২০২৪।
আপোষে আর পাপোসে
পা ঘষে ঘষে কাটছে দিন
বর্ষার বিকেলে রঙিন ঈদ,
হঠাৎ অগ্নিকোণে তাকিয়ে দেখি
মেঘের চূড়ায় বুক চিতিয়ে
দুহাত মেলা আবু সাঈদ!
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
অমোঘ
কবি জাহির আব্বাস (আপন)
রচনা - ২০.৭.২০২৪।
বর্ণমালা ঝাপসা হয়ে আসে
সুখের সুড়ঙ্গে ধস,
পাহাড় চাপা পাথরগুলো
পেয়েছে জীবনরস।
তরঙ্গে তরঙ্গে রক্ত জোয়ার
চোরাস্রোত খোঁজে অন্য মানে,
এ রক্তখেলা কতটা অমোঘ
কেবল অথই আঁধারই জানে।
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
শহীদের রক্ত বৃথা যায় না
কথা ও সুর - কবি: সোহাইল আহমদ খান
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .
শহীদের রক্ত বৃথা যায় না
তবু কেন হায় মন মানে না
মমতার বাঁধন ছেড়ে যায় ঐ
কলিজা চিরে॥
কেন ওরা চলে যায় বুক ভেঙে দিয়ে
সবকিছু ছেড়ে ঐ শহীদি মিছিলে
হৃদয়ের জানালাতে ওরা উঁকি দেয়
বিপ্লবেরি সেই সে পথে॥
স্বপ্নিল সম্ভার আশা ছিল কত তার
তবু সে পথে শহীদেরা একাকার
প্রভুর ভালবাসায় এতোটাই প্রাণ
পৃথিবী তার কাছে পায় না কো দাম॥
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
জেগেই যখন উঠেছো বন্ধু
কথা - কবি নূরুজ্জামান শাহ্
সুর - নিয়ামুল হোসাইন
পরিবেশনায় - সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
জেগেই যখন উঠেছো বন্ধু
খালি হাতে ফিরিয়ো না
এখন সময় লড়াই করার
জিরিয়ো না জিরিয়ো না॥
তোমার রক্তে হাজী শরিয়ত
তুমি হলে তিতুমীর,
ভেঙ্গে ফেলো সব বাধার প্রাচীর
ছিঁড়ে ফেলো জিঞ্জির!
ভোরের কিনারে তরী বেয়ে যাও
ভুল ঘাটে ভিড়িয়ো না॥
এমন সুযোগ পাবে না বন্ধু
গাঢ় করো নিঃশ্বাস-
তোমরা সাজাবে অনাগত দিন
আমাদের বিশ্বাস!
তোমার রক্তে সালামের খুন
তুমি হলে শফিউর,
কেটে যাবে এই গভীর আঁধার
ফুটবেই রোদ্দুর!
কারো ভয়ে ফোটা আশার গোলাপ
ভীরু হাতে ছিঁড়িয়ো না॥
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ
আয় তারুণ্য
কথা - কবি বিলাল হোসাইন নূরী, সুর - রাআদ ইজামা, পরিবেশনায় - সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী।
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
আয়, আয় তারুণ্য, আয়!
আয় অগ্নিগিরির লাভার মতো উদগীরিত হই—
দুঃখ-শোকের মাঝেও চির উজ্জীবিত রই!
দু'কূল ভাঙা ঝড়ের মতো নৃত্য তুলে পা'য়—
আয় তারুণ্য, আয়॥
তোর মুক্ত-স্বাধীন দু’হাতে যে শেকল পরাল-
স্বপ্ন-সজীব চোখের কোণে অশ্রু ঝরাল-
সেই অত্যাচারীর বুকের চাতাল
ভেঙে দে রে হিংস্র-মাতাল
দৃপ্ত চরণ-ঘায়-
আয় তারুণ্য, আয়॥
আয়, বজ্র কঠোর আওয়জ তুলি পাহাড় ছাপিয়ে
হাল জামানার ফেরাউনের প্রাসাদ কাঁপিয়ে!
এই শান্ত-শীতল ভূ-ভাগে যে আগুন ধরাল—
ভ্রাতৃ-প্রতীম সমাজধারায় হিংসা ছড়াল—
সেই স্বৈরাচারীর দে রে কবর
রক্তে নাচুক তপ্ত খবর,
প্রাণ যদিও যায়—
আয় তারুণ্য, আয়॥
এত শহীদ রক্ত ঢালে
কথা ও সুর - কবি মতিউর রহমান মল্লিক
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
এত শহীদ রক্ত ঢালে
তবু কেন তোমার বিবেক কথা বলে না
এত চোখের অশ্রু ঝরে তবু কেন
তোমার পাষাণ হৃদয় গলে না (হায়)॥
এত জুলুম চতুর্দিকে থাবা ফেলে প্রতিদিন
মজলুমানের লগ্ন ফুরায় শোক বিহ্বল স্বপ্নহীন
এই অসহায় কালবেলাতে তবু কেন
তোমার ঈমান দ্বিগুণ জ্বলে না (হায়)॥
কোন ভয়ানক ঘুমের ঘোরে
তোমার সময় কাটছে আজ
অথচ হায় হাজার দুশমন
অঙ্গিনাতে হাঁটছে আজ।
শান্তিপ্রিয় মানুষ যখন স্বস্তিহারা শংকাকুল
তখনও কি দৃষ্টি তোমার অন্ধকারে বদ্ধমূল
তখনও কি আলোর দিকে দুঃসাহসে
তোমার দৃপ্ত কদম চলে না (হায়)॥