বিক্রমপুরের ছেলে
ভুলান ছড়ার দেয়ালিকা
.
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.  যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার
ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে
.
আয় চাঁদ লড়িয়া  

আয় চাঁদ লড়িয়া১
ভাত দেব বাড়িয়া ;
খুকুর, কপালে চাঁদ টীপ, দিয়া যা।
রূপার বাটিতে ব্যন্নন দেব,
দুধ খাবার বাটি দেব,
ধান ভান্ লে কুঁড়া দেব,
কালা গরুর দুধ দেব,
মাছ কুট্ লে  মুড়া দেব,
সোনার থালে ভাত দেব,
রাজার মেয়ে বিয়া দেব ;
খুকুর কপালে চাঁদ টীপ্ দিয়া যা।


১ লড়িয়া - দৌড়াইয়া।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
<<<এই দেয়ালিকার
<<< শুরুতে ফিরতে
.
.
ছড়া,
সে যে কোন ধরণেরই হোক না কেন, এই দেয়ালে তুলতে
হলে আমাদের কাছে নিচের ইমেলে পাঠাবেন। আমাদের
ওয়েবসাইটের সম্পাদক মণ্ডলীর অনুমোদন সাপেক্ষে
আমরা তা তুলে দেবো।

সোশিয়াল মিডিয়ার দৌলতে অনেক অনবদ্য সুন্দর
কবিতা আমরা পাচ্ছি। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই
কবির নাম জানা যায়না। সঠিক কবির নাম জানালে
আমরা সেই কবিতার পাশে কবির নাম-প্রেরক কে
কৃতজ্ঞতা জানাবো।

আমাদের ই-মেল:
srimilansengupta@yahoo.co.in    

তাহলে আর দেরী কেন?
ছড়ার ছররা ছড়িয়ে,
দেয়াল তুলুন ভরিয়ে...!
.                                                      রাজেশ দত্ত     
কবিদের পাতায় যেতে তাঁদের নামের উপর ক্লিক করুন
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways - Left - Right !
এই দেয়ালিকার প্রচ্ছদ সৌজন্যে গুগল ম্যাপস্।
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২০ জুলাই ২০২২।
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
এই ছড়াগুলি প্রকাশিত হয় অধ্যাপক মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “রামধনু” পত্রিকার ১৯৩৫
সালের অগাস্ট মাসের (ভাদ্র ১৩৪২ বঙ্গাব্দ) সংখ্যায়।
বিক্রমপুরের ছেলে ভুলান ছড়া
সংগ্রাহক সুরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

“ছেলে ভুলান ছড়া আমাদের জাতীয় সম্পত্তি। খুব প্রাচীন কাল হইতেই এগুলি আমাদের ভাণ্ডারে
জড় হইয়া আসিতেছিল। দেশের অবস্থা এবং সামাজিক রীতিনীতি বদ্লাইবার সঙ্গে সঙ্গে এই
চমৎকার ছড়াগুলি কিন্তু আমরা প্রায় ভুলিতেই বসিয়াছি। সমস্ত সভ্য দেশের রীতিই এই যে
জাতির পুরানো সম্পত্তিগুলিকে তাহারা নষ্ট হইতে দেয় না, সযত্নে সংগ্রহ করিয়া রাখে। আমাদের
দেশে এইজন্যই “বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের” স্থষ্টি হইয়াছে। সাহিত্য পরিষদ্‌ বাংলার প্রাচীন পুঁথি,
ছড়া, পাঁচালী, গাথা প্রভৃতি সযত্নে সংগ্রহ করিয়া ছাপাইতেছেন, ফলে বাংলা ভাষার গৌরব দিন
দিনই বাড়িতেছে।

এই ছড়াগুলি কাহারা রচনা করিয়াছিল এবং কত দিন ধরিয়া এগুলি যে লোকের মুখে মুখে চলিয়া
আসিতেছে তা বলা বড়ই শক্ত। ছড়াগুলির কোন কোন জায়গায় বেশ মিল আছে, আবার কোন
কোন জায়গায় একেবারেই মিল নাই। এগুলি গদ্যও নয়, পদ্যও নয় ; কোথাও কোথাও বেশ মানে
হয়, কোথাও কোথাও মানে আদবেই হয় না। কিন্তু সুরটি আগাগোড়াই বড় শ্রতিমধুর।

ছোট ছোট ছেলেদের আদর করিতে, সান্ত্বনা দিতে, তারা বায়না ধরিলে তাদের ভুলাইতে নানা
রকমের ছড়া বা গান পৃথিবীর সব দেশেই প্রচলিত আছে। বিলাতে এগুলিকে নার্সারি
 রাইম্‌
(Nursery Rhyme) বলে। আমাদের দেশে এগুলিকে “ছেলে ভুলান ছড়া” বা “ঘুম পাড়ানী ছড়া” বলা
যাইতে পারে। বহু চেষ্টায় বিক্রমপুরের প্রায়-ভুলিয়া-যাওয়া ছড়াগুলি সংগ্রহ করিয়া পুস্তকাকারে
লিখিত হইয়াছে। তাদের কয়েকটি মাত্র আজ তোমাদের শুনাইতেছি। এগুলি তোমাদের ভাল
লাগিলে পরিশ্রম সফল মনে করিব।”
অনুপমা দুধের সর    
অবু তবু গিরি সুত    
আদুরের কলাগুলি বাদুড়ে খায়    
আপিলা চাপিলা    
আয় চাঁদ লড়িয়া    
আলুপাতা থালু থালু ভেন্নাপাতার দই    
ইকির মিকির চাম চিকির    
এতখানি পানি    
ও হনুমান কলা খাবি?    
কলমি লতা, কলমি লতা    
খোকা ঘুমা'ল পাড়া জুড়া’ল    
গাপুর গুপুর গাপুর গুপুর    
ঘুঙ্গিলো ঘুঙ্গি, দাওখান্‌ দে    
বাঁশ বনের বুড়ী    
তাই তাই তাই, মামার বাড়ী যাই    
ফাক্কা না লো ফুক্কা, টাইলো টুয়ানি    
শাক শাক আঠার শাক    
হড়ম বিবির খড়ম পায়    
.
বাঁশ বনের বুড়ী  

বাঁশ বনের বুড়ী,
নাকে মাটি কুড়ি।
ছোট ছোট পোলাপান১
টকর টকর২ গিলি।

১ পোলাপান - ছেলেমেয়ে।
২ টকর টকর - খাইবার শব্দ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
তাই তাই তাই, মামার বাড়ী যাই  

তাই তাই তাই, মামার বাড়ী যাই ;
মামারা ভাত দিল না, মাসীর বাড়ী যাই।
মাসীর বাড়ী ভারী মজা কিল চড় নাই।
মাসী গো! আগে জল দেও ত তৃষ্ণা মিটাই॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ফাক্কা না লো ফুক্কা, টাইলো টুয়ানি  

ফাক্কা১ না লো ফুক্কা, টাইলো টুয়ানি
খইল্সা মাছের বুয়ানি।
মামায় দিল খইল্সাটা সাইরা নিল চিলে,
চিলের লাগুড় পাইলাম না, খোকার ফাক্কা ভাইলে।

১ ফাক্কা - কিছুই না।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
গাপুর গুপুর গাপুর গুপুর

গাপুর গুপুর১ গাপুর গুপুর
দুধ ভরে হাঁড়ি,
এই ছুধ যাইবে আমার
সোনার শ্বশুর বাড়ী।

১ গাপুর গুপুর - দুগ্ধ দোহনের শব্দ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
অবু তবু গিরি সুত

অবু তবু গিরি সুত।
মায়ে বলে পড় পুত॥
পড়লে শুনলে দুধিভাতি।
না পড়লে ঠেঙ্গার গুঁতি॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
খোকা ঘুমা'ল পাড়া জুড়া’ল

খোকা ঘুমা'ল              পাড়া জুড়া’ল
বর্গী আইল দেশে,
বুলবুলিতে                 ধান খেয়েছে
খাজনা দিব কিসে?
ধান ফুরা'ল                 পান ফুরা'ল
খাজনার উপায় কি?
আর ক'টা দিন                 সবুর কর
রসুন বুনেছি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
হড়ম বিবির খড়ম পায়

হড়ম বিবির খড়ম পায়,
লাল বিবির জুতা পায়।
চল্‌ লো বিবি, ঢাকা যাই,
ঢাকা গিয়া ফল খাই।
যে ফলের বোঁটা নাই
সে ফল খেতে নাই।
সুন্দরী! তোর বিয়া
পাট কাপড়খান দিয়া।
ঢাকাইয়ারা ঢাক বাজায় খালে আর বিলে,
সুন্দরীর বিয়া দিলাম ডাকাতের মেলে।
ডাকাত লো মা! কাপড় দিয়ে বেড়ে নিলে, দেখতে দিলে না।
আগে যদি জানতাম, ডুলি ধরে কাঁদ্তাম॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আলুপাতা থালু থালু ভেন্নাপাতার দই

আলুপাতা থালু থালু ভেন্নাপাতার দই,
সকল জামাই ভাত খেল, গোদা জামাই কই?
গোদা গেছে মাছ ধরতে, আনল দুইটা বাটা।
মায়ে ঝিয়ে ঝগড়া করে গোদারে মাল্ল ঝাঁটা।
মাল্লি মাল্লি১ ঝাঁটার বাড়ি,
তেল দে চান২ করি ; ভাত দে খাই।
ভাত দিয়েছি, দই দিয়েছি, চিনি, মণ্ডা, মিঠাই,
তবু কেবল গোদা জামাই করে খাই খাই।
পাটীটা বিছায়ে দে ত গোদারে নাচাই॥
ভাঙ্গা ঘরে শুতে দিব, ইন্দুরে নেবে কান,
কেঁদ না গোদা জামাই, গরু দেব দান।

১ মাল্লি মাল্লি - মারলি মারলি
২ চান - স্নান।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কলমি লতা, কলমি লতা

কলমি লতা, কলমি লতা,
জল শুকালে থাকবা কোথা?
থাক্ব থাকব পেকের১ তলে,
ফাল২ দিয়া উঠুম বর্ষাকালে।

১ পেক - কাদা, কর্দ্দম, উচ্চারণ প্যাক।
২ ফাল - লম্ফ দেওয়া।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
শাক শাক আঠার শাক

শাক শাক আঠার শাক,
তার পর এল ঢেঁকি শাক।
ঢেঁকি শাক লাগে না মন্দ,
তার পর এল ভাঁড়ালী ছন্দ।
ভাঁড়ালী ছন্দের মাথায় গাড়ু,
তার পর এল ক্ষীরের লাড়ু।
ক্ষীরের লাড়ু লাগলো তিতা,
তার পর এল চিতৈ পিঠা।
চিতৈ পিঠার বুকে খুদ,
তার পর এল পোড়া দুধ।
পোড়া ছধ লাগে না ভাল,
খোকার মাথায় ঘোল ঢাল।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
অনুপমা দুধের সর

অনুপমা দুধের সর।
কেমনে করব পরের ঘর?
পরের বেটা মারিবে,
কানাচে বসে কাঁদিবে ;
ছিনে জোঁকে ধরিবে,
লাফাইয়া মরিবে।
মা বলবে --- আয় আয়,
বাপ বলবে --- থাক্‌ ;
বৌ বলবে --- দূর করে দাও,
শ্বশুরবাড়ী যাক্‌।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
এতখানি পানি

এতখানি পানি,
ঝাক্কর জানী।
এতখানি কাদা,
মুল্লুক জাদা॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ইকির মিকির চাম চিকির

ইকির মিকির চাম চিকির
চামে কাটা মজুমদার,
ধেয়ে এ’ল দামোদর।
দামোদরের হাঁড়ি ভরি
ঘরে বসে চাল কুড়ি।
চাল কুড়্‌তে হ’ল বেলা,
ভাত খাও রে জামাই শালা।
ভাতে পড়ল মাছি
কোদাল দিয়া চাঁছি।
কোদাল হ'ল ভোঁতা
খেঁকশিয়ালীর মাথা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আপিলা চাপিলা

আপিলা চাপিলা,
ঘন ঘন মাছিলা।
রামের হুক্কা নলের বাঁশী,
নল ভেঙ্গেছে একাদশী।
একা নল বেঁকা নল,
কে রে যাবি কামার-শাল?
কামার মাগী দুগ্দুগানী,
খেরের আগে উঠল পানী,
আপ্পন জাপ্পন,
গোর গোষ্ঠি ব্রাহ্মণ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ও হনুমান কলা খাবি?

ও হনুমান কলা খাবি?
জয় জগন্নাথ দেখতে যাবি?
বড় বৌর বাবা হবি।
নিত্যগোপাল নিত্য পাবি।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আদুরের কলাগুলি বাদুড়ে খায়

আদুরের কলাগুলি বাদুড়ে খায়,
এমন সময় খোকামণি মামার বাড়ী যায়।
মামার বাড়ী যেয়ে খোকা ব্যাভার পেলে কি?
সোনার মাদুলি আর রূপার কল্কি।
তা হারায়ে খোকা দৌড় দিয়ে যায় ঘরে,
মামীরা তুলে নিলেন কোলেতে ক'রে।
মামারা উঠে বলেন, "সাদা না কালো?”
মামীরা উঠে বলেন, “আধার ঘরের আলো”।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ঘুঙ্গিলো ঘুঙ্গি, দাওখান্‌ দে

ঘুঙ্গিলো ঘুঙ্গি,              দাওখান্‌ দে।
দাওখান কেন্‌?           পাতখান্‌ কাটব।
পাতখান কেন্‌?      
     বৌ ভাত খাইব।
বৌ কই?            
       জলেরে গেছে।
জল কই?           
       ডাউগে খাইছে।
ডাউগ কই?                আরাবনে গেছে।
আরাবন কই?             পুইরা গেছে।
ছালিমাটী কই?     
       ধোপায় নিছে।
ধোপা কই?                হাটে গেছে।
হাটে কেন্‌?                সূইচ সূতা কিনতে।
সুইচ সূতা কেন্?        
  ঝুলি-কাঁথা সিলাইতে।
ঝুলি-কাঁথা কেন্?        
   দাসী নফর কিনতে।
দাসী নফর কেন্?    
      (আমার) নসুরে আগাইতে মুতাইতে,
তুইল্লা তুইল্লা নাচাইতে।
 তুইল্লা তুইল্লা নাচাইতে॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>