| R.G. Kar কাণ্ডের প্রতিবাদের দেয়ালিকা <<<॥ পাতাটি ডাইনে-বামে স্ক্রল করে॥ Page scrolls left-right ॥ >>> |
| ||||||||||
| সূচীপত্র >>>>> |
| কলকাতার R.G. Kar হাস্পাতালে, রাতের কর্তব্যরতা লেডি ডাক্তারের রহস্যজনক নির্যাতন ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা, মিলনের কার্টুন ও ১৪ই অগাস্ট ২০২৪ এর রাতের নারীদের রাত দখল আন্দোলনের দেয়ালিকা। |
| কবি হরেন্দ্র গুহ কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| খ্যাপা - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ২৭.৯.২০২৪। আমাদের মেয়েটা যেদিন ধর্ষিত হয়ে খুন হলো, সেদিন প্রথম খ্যাপা মানুষটাকে দেখলাম। গাঁয়ের মানুষ, ধুতি ফতুয়া পরনে, মাথায় খাটো প্রৌঢ়টির মুখ ভীষণ চেনা। একটা কোণার বেঞ্চে বসে অঝোরে কাঁদছেন। পাশে এসে বসে বললাম ‘ আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আপনারও কি কেউ..’ কান্না কিভাবে গর্জন হতে পারে শুনলাম তখনই ‘ আমারও আরেকটা মেয়ে মরলো। সব তোদের দোষ, শিরদাঁড়াহীন কেঁচোর দল! ‘ অগ্নিদৃষ্টি হেনে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন হাসপাতাল থেকে। সেদিন আমল দিইনি। সত্যি বলতে, সেসময় শোকে বিস্ময়ে আমরা পাথর। আমাদের মেয়ের শব ঠাণ্ডা না হতেই তাকে পোড়ানো হয়ে গেছে তাড়াহুড়ো করে, আমাদের মেয়ের দাম কড়কড়ে দশ লাখ ধার্য করেছেন রাষ্ট্র, একটি লোককে হাজির করে বলেছেন, ‘ এই নাও তোমাদের মেয়ের ধর্ষক আর খুনী, এবার একটু হাসো তো! উৎসব অপেক্ষা করছে।’ আমরা সেসময় লাভা জমাচ্ছি বুকের ভেতর, অপরাধী ঢাকাচাপা দেওয়ার প্রতিটি তাড়াহুড়ো আমাদের ক্ষোভকে নিয়ে যাচ্ছে স্ফুটনাংকের দিকে, সেসময় আয়নার দিকে তাকানোরই সময় নেই, তো কোথাকার কোন খ্যাপা! |
| অবশেষে ফাটলাম! অগ্নিগিরির প্রথম উদগীরনে প্রাকস্বাধীনতায় রাত এগারোটা পঞ্চান্নতে আকাশ কাঁপিয়ে আমরা যখন হাঁক দিলাম, ‘ উই ওয়ান্ট জাস্টিস!’ তখন ভিড়ে দেখা পেলাম সেই খ্যাপার। প্রতিটি শ্লোগানে একই ছন্দে বলে চলেছেন ‘ চাই, চাই , সুবিচার চাই!’ আমার চোখে চোখ পড়তেই ঈষৎ ব্যঙ্গের গলায় বলে উঠলেন, ‘ বাংলায় বললে বুঝি দাবী কম প্রবল হয়! ‘ তারপরই গলার শির ফুলিয়ে বলে উঠলেন ‘ বিচার চাইছে আর জি কর! ‘ ওই ধুতি চাদরের ছোট মানুষটার সাথে আমিও গলা মেলালাম … বাংলার মেয়ের বিচার চাইতে থাকলাম বাংলায় । তারপর একটা মিছিল থেকে আরেকটা মিছিল, তারপর আরেকটা.. নাগরিকের, শিক্ষকদের, ডাক্তারদের, রিকশাচালকদের, মূক বধিরদের.. যারা কোথাও কেউ না, কিছু না, সেই এক ভোট দেওয়া বা না দেওয়া মানুষের ঢলে রোজ পা মিলিয়েছি, অথবা হাসিমুখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখেছি আমাদের মেয়েটার জন্য ক্রমশই মানুষের স্রোত বাঁধভাঙা বন্যা হচ্ছে… আর কি আশ্চর্য, যেখানেই যাই, আমার কাছেপিঠে সেই খ্যাপা মানুষটাকে দেখতে পাবোই, ইংরাজিতে শ্লোগান দিতে শুনলেই যিনি ভয়ানক বকবেন। |
| বাঙাল-ঘটি’র একত্র মিছিলে আমার পাশেই উনি। সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, কথায় মেদিনীপুরের টান শুনে.. ‘আপনি মোহনবাগান তো?’ খ্যাপা একবার লালহলুদ পতাকার দিকে দেখলেন, একবার সবুজ মেরুন, একবার কালো সাদা.. তারপর এক অদ্ভুত প্রত্যয়ী সুরে বললেন .. ‘আমি বাঙালি। ওরাও বাঙালি। এখন একটাই লক্ষ্য সব্বার.. আর জি করের সুবিচার। ‘ পুলিশ যেদিন শিরদাঁড়া উপহার পেলো, সেদিন ওনাকে দেখি হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন অবস্থানের একধারে। আমাকে দেখে বললেন ‘স্পাইন-এর থেকে শিরদাঁড়া কথাটার জোর কত বেশি, দেখেছো! বাংলা থেকেই আবার নতুন যুগের শুরু হবে মনে হচ্ছে, এই ভয় ভাঙবার লড়াইয়ে আমার আবার নেমে পড়তে ইচ্ছে করছে।’ ‘আবার? আপনি আগেও করেছেন নাকি আন্দোলন?’ ভুরু কুঁচকে বললেন খ্যাপা.. ‘কেন হে, শুধু মিছিল আর ধর্নাই বুঝি বিপ্লব? একা হাতে ঠেলে গেছি ঢেউ বিপরীতে, যে বীজ গিয়েছি বুনে তারই ফসল এই দ্রোহ-কলরব। ‘ ব্যাপারটা বুঝলাম না বটে, তবে ঘাঁটালামও না, খ্যাপা যদি মেরেটেরে দেন! |
| এক রাতে জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নামঞ্চে বেশ কিছু খাবার উদ্বৃত্ত। খ্যাপা হঠাৎ কোথা থেকে উদয় হয়ে বলে ফেললেন, ‘কাছেই অজস্র আধপেটা খাওযা মানুষের ফুটপাত-বিছানা। সেখানে খাবারগুলো দিয়ে এসো না!’ আমি ওনার কথাটা ডাক্তারদের বলতে যাবো, এমন সময় দেখি তাঁদেরই কেউ চেঁচিয়ে উঠে বলছেন, ‘ চল রে, দেখি না খেয়ে কে কে আছে রাস্তায়’ ঘুরে ওনাকে বলতে গেলাম ‘টেলিপ্যাথি ‘ কথাটা, কিন্তু ততক্ষণে কোথায় যেন চলে গেছেন। আচ্ছা, টেলিপ্যাথির কোনো বাংলা হয়? ছাব্বিশে সেপ্টেম্বর। শহরে মিছিল নেই, সদ্য অনুমতি ছিনানো হয়েছে নাগরিক জমায়েতের। খ্যাপার সাথে দেখা পাড়ার এক পার্কে, গলায় মালা পরে মুড়ি বাতাসা খাচ্ছেন । বললাম, ‘কী ব্যাপার? বার্থডে নাকি? খিঁচিয়ে বললেন, ‘জন্মদিন! আজ ফেরত যাবো।’ ‘ কোথায়? ‘জিজ্ঞেস করলাম আমি। ‘স্মৃতিতে। যা জানার তা জানা হয়ে গেছে । বহু, বহু দিন পরে দেশে শিরদাঁড়া গজিয়েছে। বাঙালি নিয়েছে শিখে ঘুরে দাঁড়াবার বর্ণপরিচয়।’ |
| এইবার চিনেছি ওনাকে। চোখের জল আটকে ধরা গলায় বললাম, ‘না গেলেই কী নয়! রোজ যে আপনার দেখা পাচ্ছিলাম , সেই সৌভাগ্য কেড়ে নেবেন, এখনো তো সামলাতে হবে বহু ঝড়!’ ‘পারবে তোমরা। যে খ্যাপামিতে স্রোতের বিপরীত চলেছো সমাজ শোধরাতে, ওটাই আমি। যদি হতাশ লাগে কখনো, আমাকে স্মরণ কোরো। শিরদাঁড়া সোজা করে ডেকো ‘ ঈশ্বর!’ সন্ধ্যা নামছে ধীরে। আঁধারকে আলো করে মিলিয়ে গেলেন হেসে বিদ্যাসাগর। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি ভুতুম কন্যে কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| কবি তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| বাড়ি ফিরলে দেখতে পেতিস - কবি তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়। মিত্রা চট্টোপাধ্যায়ের ফেসবুক থেকে . . . । |

| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| পারমিশন - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ২৬.৯.২০২৪। রাম পারমিশন পাননি সতীদাহ বন্ধ করার। ঠিক ভেবেছিলেন, তাই লড়েছিলেন । জিতেছিলেন। ঈশ্বর পারমিশন পাননি বিধবাদের বিয়ে দেওয়ার। উচিৎ ভেবেছিলেন, তাই দাবি তুলেছিলেন। সফল হয়েছিলেন । বিপ্লবের কেউ পারমিশন দেয় না। লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন মেয়ে হারানোর শোকে বিচারকে পাখির চোখ মনে করে, যারা সেই ভিড়ে নেই, তাদের কাছে সে ভিড়ের আকাশ-কাঁপানো দাবির গর্জনের একটাই মানে দাঁড়ায়, ‘ সিংহাসনের বিরুদ্ধে জমায়েত’। অপরাধ যার রাজত্বে ঘটে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায় তো তাঁর থাকেই। কাজেই শোক আগুন হলেই তাঁর প্রাসাদ জ্বলার ভয় করে, জাস্টিস চাওয়ার সব মিছিল তাঁর কাছে তাঁর আধিপত্য ধুলায় লুটিয়ে দেওয়ার মিশন, |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| ছাউনি ওঠাও - কবি আর্যতীর্থ। প্রথম লড়াইটা জিতে গেছো , অভয়াসেনানী। এবারে ছাউনি ওঠাও, পরের যুদ্ধক্ষেত্র আরো বিস্তৃত। সাবধান, আচমকা অ্যাম্বুশে হতে পারে সৈনিক-হানি, ডিভাইড অ্যান্ড রুল আর ফেক নিউজের গুল, তৈরি রয়েছে দুই অস্ত্র শাণিত। ওরা ভয় পেয়েছে ভীষণ, বিভীষণ-গোষ্ঠির সদস্য যারা, এতকাল প্রশ্নহীন রাজত্ব গুঁড়িয়ে দিলো যে অ-রাজনীতি, তাকে প্রতিহত করবার অস্ত্র অজানা। বিনীত কণ্ঠস্বরে ঋজু শিরদাঁড়া, যে কোনো স্বৈরাচারে ঘুম নেয় কেড়ে, চোরাবালি মনে হয় মজবুত কংক্রিট ভেবে যাওয়া ভিত-ই। তোমাদের যুদ্ধ যে জারি আছে, রোজ সেটা দেখাতে ভুলো না, আমরা রয়েছি ঘরে ঘরে, ভয় ভেঙে জেগে ওঠা সাধারণ লোক, অযুত অ-মুখ সেনা মেয়ে অভয়া’র। কেবল গান্ধী হতে পারেন তুলনা, যা তোমরা করেছো, যেভাবে এ অসম যুদ্ধ লড়েছো, ‘জাস্টিস’এ আমাদেরও চেপে গেছে রোখ । |
. |
| কবি সুব্রত দেব কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| মানবীকে দিলে পরে কবি সুব্রত দেব। খেলতে তো বাধা নেই দাবা কিবা লুডো পাশাপাশি শিখে যেন ক্যারাটে ও জুডো। তাহলেই বেড়ে যাবে শারীরিক জোর, তার ফলে যত সব ভয়ও হবে দূর। ইসকুলে এইসব শিক্ষার শুরু মাথা এক করে তবে আজকেই কুরু। মেয়েদের সাহসও যাবে এতে বেড়ে চায় যদি নিতে কেউ ইজ্জত কেড়ে জোড়া লাথি কপালেতে হবে তার প্রাপ্য জীবনকে এইভাবে করা চাই যাপ্য। দেবীদের হাতে কত অস্ত্র যে তাই অসুরেরা ভয়ে- ভয়ে থাকে সর্বদাই। মানবীকে দিলে পরে এইসব শিক্ষা করতে হবে না কারো সাহায্য ভিক্ষা। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| পক্ষ বিপক্ষ - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ২৮.৯.২০২৪। হয় তুমি তার সঙ্গে আছো, নয় মেয়েটার সঙ্গে নেই, এড়িয়ে যাওয়া মাঝামাঝি মানুষ এখন বঙ্গে নেই, হয় তুমি আজ যোদ্ধাসাজে তিলোত্তমার স্বপক্ষে কিংবা তুমি সাপোর্ট করো থ্রেট-মাফিয়া’র কু-ছককে। এই লড়াইয়ে ‘ ঠিক জানি না’ বলার মতো জায়গা কই যায় না হওয়া গা বাঁচিয়ে জটলা থেকে আলগা খই, পক্ষহীনের এখন মানে ‘তিলোত্তমার তরফ নয়’, চাইছে যে সব আগুন থেমে সে শব যেন বরফ হয়। আর্জি করার সময় গেছে, বদলে ওয়ান্ট আজ ডিমান্ড আর জি করের চাইতে বিচার একচুলও না বদল স্ট্যান্ড। মধ্যিখানে লাইন টানা পুজো বনাম উৎসবের কোন শিবিরের ছত্রে কে যে , এতেই হবে উৎস বের। ‘জো হুজুর’এর সঙ্গে এখন যুদ্ধ চালু শিরদাঁড়ার ‘থ্রেট’ মাফিয়া’র শুকনো থ্রোটের সামনে ফুরায় ক্ষীর-ভাঁড়ার, অবাধ ‘Power’ এ বাঁধ পাওয়া মানবে থোড়াই শান্তিতে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষাতে থাকবে নখে শান দিতে। মেয়েটার জন্যে এ যু্দ্ধ তাই চলতে পারে অনেক সাল, বিচার পেতে ঠিক ততকাল থাকবে জ্বলে এই মশাল । তিলোত্তমার প্রতীক লেখা বর্মটি যার অঙ্গে নেই, দেখছি তাকে তার পোশাকে উল্টোদিকের রঙ জেনেই। বন্ধু এবং শত্রু চেনা যায় তো এমন জঙ এলেই, হয় তুমি মেয়ের সঙ্গে আছো, কিংবা আমার সঙ্গে নেই। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি স্বপ্না ঘোষ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| কবি কাকলি দাশব্যানার্জী কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| চিন্তন চিত্রণ ও কলম - কবি কাকলি দাশব্যানার্জী। রচনা ১.১০.২০২৪। অনেক দিনের জমা নাছোড় ঘুম দুচোখের ঘরে সংসার পেতেছে অবশেষে সারা শরীরে স্পষ্ট ইনসিসার আর ক্যানাইনের উল্কি, অজস্র পায়ের ছাপের মাঝে জেগে বসে পার্থিব প্যানোরামা -- ডোমের কী দায় ছিল জানি না তাড়াহুড়ো করে আগুনে ঢোকানোর আগে বুকের উপর বেড়ে দিল ফুলেল গ্রাফিটি পঁয়তাল্লিশ মিনিটের পরও "অপেক্ষা" আজও বসে আছে বুকের পাঁজর ঘেঁষে বারোশো চব্বিশ ঘণ্টা পার করার পর উচ্চবিচারালয় থেকে বেরিয়ে এলো একটা শামুক বুকের উপরের শুকনো ফুল সরিয়ে রাখলো ঠোঁটে করে আনা ঐহিক বিচারের প্রগতি - একটা কুঁড়ি মরা বুক কোন মায়ায় ফোটাবে তাকে? ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |

| কবি বিশ্বজিত চ্যাটার্জী মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| সামান্য বিরতির পর ফিরে আসছি - কবি বিশ্বজিত চ্যাটার্জী। রচনা ১.১০.২০২৪। কিন্তু তারপরে ফিরে এসে কী যে ভাবি, কোন কথা বলি? বানে ডুবে গেছে চাষজমি? আমার মেয়েটা আজ ঘরে ফেরেনিকো অক্ষত শরীর নিয়ে? আমার জোয়ান ছেলে রাশিয়াতে বন্দুক ধরেছে? আর ওদের বন্ধুবান্ধবীরা ছ'তলা হোস্টেল থেকে ঝাঁপ দিচ্ছে পরীক্ষার ভয়ে? আমরা অক্ষম মা-বাবারা বিরতির পরে ফিরে এসে- আর কত বিরতির পর ফিরে এসে- মিছিলে হাঁটবো, আর কাঁপা কণ্ঠে তুলে নেব নির্মম শ্লোগান? ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| পুজোয় ফিরছি, উৎসবে নয় - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ২.১০.২০২৪। একটা মোটে মেয়ের শোকে , উৎসব কি ভুলবে লোকে পুজোর চোখে দেখে সবাই গোটা বছরটাকে, প্ল্যান কত কী রাখা ছকে, ভাসিয়ে দিলে সবগুলোকে সম্বৎসর টানতে ঘানি আর কি গো জোর থাকে! এই কথাটাই রাজার লোকে বাজিয়ে বেড়ায় ঢাকে। কিন্তু রাজার জানার কথা , আজন্মকাল পুজোই প্রথা আনন্দ শোক বিষাদ ক্রোধে শরণ নেওয়া মা’য়ের নয় উৎসব টুকলি-চোথা, বিলিয়ে দিলেই হেথাহোথা অমনি খুশি আসবে ফেরত শহর এবং গাঁয়ের। ঘরের মেয়েটার বিচার চেয়ে মামলা আজও দায়ের। এত কোটি লোকের দেশে, ভিড় তো হবেই পুজোয় ঠেসে, কয়েক লক্ষ লোকের শোকে চোখ দেয় আর কজন, শুঁড়িরা সব বেজায় হেসে, সাক্ষী মাতাল ভালোবেসে হিসেব দেবে বিক্রি বাড়ার কয়েক হাজার ডজন। |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| স্মরণের দিন - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ২.১০.২০২৪। আশ্বিন শুরু হলো, তিল-তণ্ডুল-কুশ-গঙ্গোদকে স্মরণ করবে কেউ পূর্বজ পুরুষ আর নারী, চলে গিয়ে না ভোলা প্রিয়জনদেরও, বেশিদিন বাঁচা মানে দীর্ঘ থাকবে হতে মৃতদের সারি, হৃত দেহ হয়ে যারা বেঁচে থাকে স্মরণের স্নেহে, ভূত-এরা বর্তমানের সাথে মেতে ওঠে আলাপনে যখন তখন, সংস্কার না মেনেও আজকের দিনে কারো অশ্রুর অর্ঘতে স্মৃতিতর্পণ। তারা তো ছুঁয়েছে আর গড়েছে জীবন, আজ তুমি যতটুকু সে তাদেরই হাতে গড়া মাটি, একদিন তুমিও ফুরাবে, তখন জীবিত যারা, তাদের জিম্মা করে স্মৃতিপ্রতিমাটি। যারা ছিলো, নেই আর, ফটো হয়ে আছে ফোনে গ্যালারি’র কোনাখামচিতে, আজকে তাদেরও কাছে ফেরো। দুদণ্ড বসে একমুখী কথা হোক দুজনে নিভৃতে, গ্রুপে হাসিমুখ ক্লাসমেট, কোনো ভিড়ে আধাচেনা কবি, একদা কলিগ, সেলফিতে এসে যাওয়া পাড়াতুতো কেউ, সেরকম মানুষেরা, যাদের আয়ু শেষ সংবাদ শুনে রুটিনে তেমন টোল পড়েনি আদৌ, |
| কবি স্বপ্না ঘোষ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| ক্ষুদিরাম তুমি মশালটুকু জ্বালো কবি স্বপ্না ঘোষ। রচনা ৩.১০.২০২৪। এক পুণ্যাত্মা নিজের জীবন দিয়ে অগ্নিশিখা জ্বেলে দিলেন নাড়া খেলো পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি ভয়ে কাঁপে থরো থরো , ক্ষুদিরামের গলার ফাঁসের চিহ্ন বিপ্লবী জুনিয়ার ডাক্তারদের গলায় ফুটে ওঠে। ওঁরা খুনিদের টেনে আনবে । ইঁদুরের গর্তে খুনি ক্ষতবিক্ষত এত অন্যায় কাজ অসৎ , চোর ডাক্তাররা নিজহাতে সাঙ্গ করেছে ! জুজু সংস্কৃতি ছড়ানো আজ ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে সর্বত্র ক্ষুদিরাম তুমি অন্ধকারে নির্ভীক জুনিয়ার ডাক্তারদের মশালটুকু দিও জ্বেলে । ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| বাহবা ভাস্কর - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ৩.১০.২০২৪। গা শিরশির করছে বুঝি ? শিউরে উঠে কুঁকড়ে গেলো মন? শান্তি নামক ভ্রান্তিবিলাস যেমন করে ছিঁড়লো সে লাশ, তেমন করেই স্বপ্নে এসে করছে জ্বালাতন? তাই যদি হয়, সাবাস তবে , বাহবা ভাস্কর, ভেতর-ঘরে পৌঁছে গেছে মেয়ে অভয়ার স্বর । মূর্তি দেখে বলবে আহা, তেমন কোনো ভাবনা ছিলো নাকি? নয়ই আগস্ট প্রতি বছর , ডাঁই মালা সব ওটার ওপর, ভিজবে রুমাল ঘামেই কেবল, চোখের জলে ফাঁকি.. শব-উৎসবের সে ছকগুলোর নাড়িয়ে দিলে ভিত, তবেই তো এই মূর্তি সফল, মেয়ে অভয়ার জিত! তাকিয়ে দেখো , বিকৃত মুখ, গলার শিরা ফুলেছে চিৎকারে, পেলবতার চিহ্ন কোথাও নেই, দেখলে পরে চিত্ত হারায় খেই, তাকিয়ে দেখো, নরক কেমন শ্বাস ফেলে রোজ ঘাড়ে, তোমার মেয়েটা, আমার মেয়েটা এই বিপদের মাঝে, বালিতে মুখ থাকলে গুঁজে কাজ কিছু হয় না যে। ভয় পেয়েছো? ও ভয় মেয়েদের রোজের চেনা সঙ্গী, তোমার ঘরে, আমার বাড়ির, এদেশ জুড়ে সকল নারীর, বয়েস জুড়ে ভুল ছোঁয়াতে ঠিক ওরকম হয় যে মনের ভঙ্গী, তোমার অজানা, তাই দর্শনে হারিয়ে ফেলছো দিশে ও মূর্তি আছে এদেশে মেয়েদের প্রতি আয়নায় মিশে। |
| অথবা তোমার ভাবনাতে ভুল, আবার দেখো কচলে নিয়ে চোখ, আতংকে নয় ওই চিৎকার, বস্তুত ওটা রণ-হুংকার, ওই আসে সে যে নরক মাড়িয়ে, তার গর্জনে কেঁপে ওঠে ধর্ষক, আকাশে বাতাসে জয় জয় তার, দশদিকে ধায় স্বর, পুনরায় দেখো, মানুষ তো ছার, সে আওয়াজ শুনে কম্পিত ঈশ্বর… মন তোলপাড় করছে মূর্তি? সাবাস হে ভাস্কর, প্রতিবাদপীঠ বনে গেলো আজ কলেজ আর জি কর। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |

| কবি সুশোভন মুখার্জী এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| মূর্তি কেন ভয়ঙ্কর? - কবি সুশোভন মুখার্জী। |

| কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| যদি রাষ্ট্রের আদরে কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী। রচনা ৪.১০.২০২৪। যদি রাষ্ট্রের আদরে বিচার এমনিই যায় মরে যদি উৎসবও হয় দারুণ সযতনে তবু শেষের লড়াই আজও বাকি সেকথা রয় মনে যেন ভুলে না যাই, বেদনা পাই শয়নে স্বপনে। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |

| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| বদলে যাওয়া উৎসব - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ৬.১০.২০২৪। কিছু মানুষ কেঁদে বলেছিলো, মেয়েটা অমনভাবে মারা গেছে, পুজো হোক, উৎসব নয়। রাজার লোকে মুচকি হেসে বললো তাই কখনো হয়? ওই শব কজনে’র আর কান্নার উৎস, জানো না, উৎসব না হওয়া মানে রাজার পরাজয়। তাই শুনে চারদিকে যত অ-মানব যথারীতি আগের মতো বাড়ি বাড়ি বিলি করতে থাকলো ভয়। অথচ সেই শোক কিভাবে যেন নদী আর মেঘেরা টের পেয়ে গেলো। ফুঁসে উঠে তারা ঘোর বন্যা ডাকালো, বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে থাকলো জল। কিছু মানুষ বললো একে মেয়েটা মারা গেছে, তার ওপরে বানভাসি, উৎসব বাদ দিয়ে পুজো করুন। রাজার লোকে হেসে বললো, অতটা অবস্থা নয় করুণ, এই তো ত্রাণে তেরপল, চিঁড়ে গুড় সব যাচ্ছে। শুনতে পাচ্ছো না, চারদিকে কেমন ঢাকঢোল বাজছে, এইটুকু দুর্ঘটনায় সব বন্ধ করে দেবো নাকি? উৎসব হবে! আয়োজনে এতটুকু থাকবে না ফাঁকি। তাই শুনে নেচে উঠে অমানব-দল হিসেব কষতে শুরু করলো কোন কোন ঘরে তখনো ভয় যেতে বাকি। মেঘের ধমক, নদীর হুংকার ছাড়িয়ে এবার শোনা গেলো আর্তনাদ, এক ক্লাস ফোরে পড়া মেয়ের মা’র। |
| যেমন ওই ঘটে আর কি, আরে রোজের নিউজ জুড়ে ছড়াছড়ি যার, কে বা কারা তাকে ধর্ষণ ও খুন করে কৈশোরে পৌঁছাতে দিলোই না আর, রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ঘটে যাওয়া ‘ সামান্য ব্যাপার!’ কিছু মানুষ শোকে ভেসে বললো , ‘এবার তো উৎসব বন্ধ করে শুধু পুজো হোক!’ কক্ষণো না, সপাটে বলে দিলো রাজার লোক, পঞ্জিকা মেনে পুজো হয়, রাজার ধ্বজা ওড়ানোর জন্যই তো উৎসব, তোমরা কি বলতে চাও সে নিয়ম পাল্টাবে সামান্য কয়েকটা শব? আমরা মোড়ে মোড়ে ভয়-বিতরণ কেন্দ্র খুলেছি, সেখানে আসতে ভুলবেন না, মানে ভুললে কী হবে তা তো জানাই সব’, কান থেকে কান হাসি টেনে বলে উঠলো সব অ-মানব। তক্ষুণি, বৃষ্টি নামলো। প্রবল হতাশায় আকাশ উপুড় করে দিলো মেঘেদের তাবত ভাণ্ডার, রাস্তার ওপর থেকে ধুয়ে চলে গেলো যাবতীয় রাজ-প্রসাধন. জ্বলজ্বল করে উঠলো প্রাণপণ মুছে ফেলা সেই কথাটাই.. ‘জাস্টিস। সুবিচার। সাজা যেন পায় দ্রুত ঘটনার দায়ী।’ রাজার লোকে অবাক হয়ে দেখলো, প্যান্ডেলের লাইনগুলো আসলে মিছিল, যাদের মুখে শ্লোগান নেই বটে, কিন্তু মনে একটাই প্রার্থনা, ‘ হে মা জননী, মেয়ের জন্য, মেয়ে দুটোর জন্য, মেয়েগুলোর জন্য জাস্টিস, জাস্টিস, জাস্টিস চাই!’ উৎসবটাই যে প্রতিবাদে বদলে গেছে, না বুঝেছে অমানব, না রাজার লোক, বোঝার বাইরে তাঁরও, সবই বোঝেন যিনি, সেই উৎসব-প্রোমোটার রাজামশাই! ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| শয়তান মাথা থেকে কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী। শয়তান মাথা থেকে অনুবাদ হল বের "সিটি অফ জয়" ওটি... এটি "জয়-নগর" এর। "সিটি অফ জয়" এই কথাটার অনুবাদ হুবহু সে করে দিল। অশ্রুরও একই স্বাদ। আমার তিলোত্তমা উৎ-শবে মিশে যান। উৎসব-ফিতে কাটে সেই চেনা শয়তান। চোয়াল শক্ত করো। সরাও আবর্জনা! অশ্রু আগুন হোক। না আমরা কাঁদব না। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |

| কবি দেবীপ্রসাদ ঘোষ কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| ঠাকুর দেখতে যেও - কবি আর্যতীর্থ। রচনা ৭.১০.২০২৪। ঠাকুর দেখতে যেও। যেভাবে গিয়েছো গত সাল আর তার আগের বছরগুলোতে, পায়ে পায়ে মিশে গিয়ে জনতার স্রোতে, এবছরও সেই সুখ পেয়ো। একটা তফাৎ শুধু রেখো এইবার। বোঝাতে সে মেয়ের চিতা জ্বলছে ভেতরে, সুবিচার চাওয়া ব্যাজ বুকের ওপর যেন জ্বলজ্বল করে, সুখী ভিড়ে হও শোক-দূত অভয়ার। প্রতিমা দেখতে কেউ বেরোবে না কেন? মা’র থাকা মোটে ক’টা দিন, সবকিছু তাঁর কাছে চাওয়া, সে সুযোগ কোন বোকা ছাড়ে! তবে নয় একা একা যাওয়া, যার পুজো পূর্ণ হলো না, তাকে কোরো পুজো-সাথী যেন। একদিকে অভয়া মানবী, বিপরীতে অভয়া দেবীটি, সেইভাবে চলছে প্রচার, উৎসব ও প্রতিবাদ যেন যুযুধান। এবারে প্রমাণ করো প্রতি উৎসব-স্থল প্রতিবাদ-থান, সবার অঞ্জলি হোক মেয়ের বিচার চাওয়া মৌখিক চিঠি। কলকাতা থাকো যদি, খুব করে ঘুরো। |
| টালা থেকে গড়িয়া, বেহালার থেকে সল্টলেক, থিম-সাবেকিতে প্রতিমা ও প্যান্ডেল এক সে বড়কর এক.. আর এক জায়গা যেও, তোমাদের বাড়ি থেকে নয় খুব দূরও। চলে এসো ধর্মতলা, অস্থায়ী ছাউনি যেখানে দুর্নীতি নিবারণে ক’টা বোকা অনশন করে আমরণ, ক’মিনিট থমকিয়ে ওদের সঙ্গে কোরো অভয়া-স্মরণ, কবে খেতে পাবে, মা অভয়াই জানে। ঠাকুর দেখতে যেও। শুধু মাঝে ওদিকেও ঘুরিও চরণ, খালি পেটে বসে যারা নিকষ অন্ধকারে আলো সন্ধানে। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি বিশ্বজিত চ্যাটার্জী মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| তবুও পরীরা নাচে - কবি বিশ্বজিত চ্যাটার্জী। রচনা ৭.১০.২০২৪। তবুও পরীরা নাচে, গন্ধর্বেরা তবু গান গায়, দু-একটা ছুটকো মেয়ে মরে গেলে, তাদের কি কিছু আসে যায়? তবুও ঢাকের বাদ্যি, তবুও তো ধুনুচির নাচ- মেয়েরা তোদের বিয়ে দেব, সাজিয়ে রেখেছি কলাগাছ। তোমাদের কথা ভেবে, একমাত্র তোমাদের হিতে, বিসর্জন দিয়ে দেব পূণ্য বিজয়াদশমীতে। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি সংদীপ্তা কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| আয় মা উমা - কবি সংদীপ্তা। আয় মা উমা, দেখ রে চেয়ে... ভাত খায়নি তোর ছেলে-মেয়ে। পথে বসে চাইছে বিচার, তবু কারোর মন গলেনা। দেখ দেখি মা! কীসের বিচার-জানিস মা তুই? তোরই মেয়ে.. আলোর মতোন,হাসির ছটায় মুখখানি তার- সকল মানুষ মুগ্ধ হতো সে মুখ দেখে। সেই মেয়েটাই ফেরেনি আর। ফেরেনি ওর মায়ের কোলে। মায়ের আঁচল শূন্য হয়ে রইলো পড়ে। আয় মা উমা। করিসনে তুই ওদের ক্ষমা। বধ করে তুই ফিরিস ঘরে। দেখবো আবার সেই বিজয়া। তোর ছেলে-মেয়ের আগুন বুকে। ওদের কে মা শক্তি জোগাস অষ্টপ্রহর। তোর জোরেতেই দাঁড়াক ওরা মশাল হাতে। ওদের সাথে হাঁটিস মা তুই, খোলা চুলে-খর্গ তুলে- বিপদকালে-দ্রোহের রাতে॥ ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
. |
| কবি সুব্রত দেব কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| ভেজাল ছিল কবি সুব্রত দেব। পথে লেখা প্রতিবাদ সাদাতেই আঁকা কালোকেই আনা তাই তাকে দিতে ঢাকা। বৃষ্টিতে ভিজতেই সাদা কেন বাইরে! ঠিকঠাক উত্তর কার কাছে পাই রে! প্রশ্নটা শুনে এক বাহুবলী দাদা বলে, জানি রাতারাতি কালো কেন সাদা। কালোতে ভেজাল ছিল খুব বেশি তাই ফিরে এলো স্লোগানের সেই সাদাটাই। এরকম হবে যে তা আগে থেকে জানি চুপ থেকে যাই বলে পাই ‘কাটমানি’। তুমিও ভরতে পারো যত খাপখোপ চোখে মুখে তালা দিয়ে থাকো যদি চুপ। রচনা-৭.১০.২০২৪॥ ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| তিলোত্তমার বিচার চেয়ে - কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত। রচনা ৯.১০.২০২৪। তিলোত্তমার বিচার চেয়ে অনশনে যত ছেলে ও মেয়ে রাজপথে আজ। প্রাণের পরোয়া করছে না-- অর্থহীন এ পূজা আয়োজন-- প্রাণেরই যেখানে নেই প্রয়োজন, বিবেকবিহীন শুষ্ক হৃদয় তবুও তাতেও গলছে না। বরিষ্ঠ সব ডাক্তার যত দল বেঁধে পাশে দাঁড়ান শত-- হাজার বিনয়ে কঠিন সে বুক, টলছে না। চেষ্টা করতে দফায় দফা একজোট হয়ে দেন ইস্তফা-- পাষাণহৃদয়ে তাও তো আঁচড়ও পড়ছে না! তুই কি মা চাস আরও বলিদান? এটাই কি তোর শারদ-নিদান! জগদ্দল এ পাষাণ বুঝি সেই কারণেই নড়ছে না! অনশনরত সন্তানেরা সুস্থ থাকুক এই কামনা-- এ আর্জি রাখ, নচেৎ এবার অর্চনা আর করছি না। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি দেবেশ ঠাকুর মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| নাম-হারানো ধ্রুবতারা কবি দেবেশ ঠাকুর। একটা মেয়ে নাম হারাল চিরদিনের জন্যে চেনা বসত হারায় যদি পথ বদলে হারায় নদী একটি রাতেই অনাম্নী সে বিপুল জনারণ্যে সুতানুটিও বিস্মৃতপ্রায় কলিকাতার গর্ভে ইস্টিশনের নাম বদলায় ভোটে নোটে জনসংখ্যায় মহাভারত বেঁচে থাকে অষ্টাদশী পর্বে এই মেয়েটির নাম জানি তাও খেলার বিচার ভিন্ন মাধ্যমিকের মার্কশিটে নাম কালের গর্ভে হারিয়ে দিলাম নামাবলির বলির খুঁটোয় স্বনাম হল ছিন্ন আর্জি করে আর জি কর-এ প্রতিবাদের শব্দে সপ্তরথীর চক্রব্যূহে জীবন যাচ্ছে মুছে ধুয়ে কাড়লি যত সব দে না হয় চিতার থেকে শব দে ছবি হারাল নাম হারাল চিৎকৃত নৈঃশব্দ্য ঘরের থেকে ঘরের কোণা অনাম্নিদের আনাগোনা উপলব্ধির উপসংহার যা হয় উপলব্ধ হনন হবে মানবীর তাও নোয়াতে পারো ঘাড়কে! রোম পুড়িয়ে বাজাও গিটার চোখ এড়িয়ে মানব পিতার এই কাহিনি পুড়িয়ে মারা স্বাস্থ্য-জোয়ান আর্কের |
| কবি চন্দ্রশেখর সরকার কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| মেয়েটাকে তুই মারলি কেন? কবি চন্দ্রশেখর সরকার। আজ পৃথিবীটাই দেবীপর্ব, বেদনাহত। কী জানতো সে, কী কান্ড জানতো এতো নিষ্ঠুরভাবে কষ্ট দিয়ে করলি হত-- জানিস্ নাকি রাক্ষুসী তুই তাই তো পৃথিবীটাই দেবীপর্ব, বেদনা হত। বিচারবিহীন আর কতোদিন রাত দখলে থাকবো-- বিলম্বিত বিচার শালায় আস্থা কীভাবে রাখবো? কোটি টাকায় দুশো উকিল কুকুর তুমি পুষবে-- ভোর দখলে মায়েরা কেন রাণী হয়ে শুধুই তুমি দুষবে? তার সঙ্গে থ্রেট কালচার আমলা আর পুলিশ নিয়ে নাচছো আম জনতা খেপেছে আজ চোদ্দ তলায় কোন মতে বাঁচছো। |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| ভরসা - কবি আর্যতীর্থ। আমরা ভীষণ ভরসা করা জাত। হু হু করে আসলে ছুটে গাড়ি, রাস্তা পেরোই উচ্চে তুলে হাত, না চিনি তার ড্রাইভারকে ,চেক করা নেই ব্রেক, সবুজ লাইট থাকুক খোলা, হাত দেখালাম সেটাই অনেক, গাড়ি’র না থেমে কি উপায় আছে আর, ভরসা করেই ভবসাগর হচ্ছি সবাই পার। আমরা ভীষণ ভরসা করে বাঁচি। নির্বাচনের আগে পরে নির্বচনে থেকে, আসেন যারা খেলতে কানামাছি, ছাপ্পা এবং ধাপ্পাখেলায় কয়েকটাদিন মেতে, আমরা তাঁদের মাথায় চড়াই বড়ই আনন্দেতে, রাস্তা খারাপ, পুকুর ভরাট, ভাইয়ের চাকরি নেই, খরচ এমন চরম পকেট হারিয়ে ফেলে খেই, প্রাইভেটে মেয়ে পড়াই কারণ সরকারি স্কুল ধোঁকে, যে কোনো কাজ করতে হিসেব ঘুষ কত চাই থোকে, আমরা জানি, করছে চুরি কারা কখন কোথায়, তাও সে নামে বোতাম টিপে আসি ভোটের চোথায়, চোরকে দুয়ার খুলে ভাবি মারবে না সে হাত, কারণটা ওই.. আমরা ভীষণ ভরসা করা জাত। |
| আমরা ভীষণ ভরসা করে চলি। যেই পা লাথি মারে মাথায় রোজ, সেই চরণে গুচ্ছ মাখন ডলি, ভরসা রাখি , তাঁর পাদোদক ঝরঝরিয়ে ঝরে, কাল দেবে ঠিক আশার কুঁজো কানায় কানায় ভরে, কুর্নিশে তাই কুঁজো হয়ে তাঁকেই বানাই রাজা, ভরসা-সারে ফলন বাড়ে ‘ কাল হবে সব’ গাঁজা’র, হয় না কিছুই, কাল হলে ‘আজ’ ভাগ্যে একই ফাঁকি, তা হোক তা হোক, নরক সয়ে সোনার ভাবী’র ভরসা বুকে রাখি। আমরা ভীষণ ভরসা করা লোক। জীবন থেকে সুখ শুষে নেয় সুযোগ পেলেই যে ক্ষমতার জোঁক, আমরা তাদের বারংবারই শোষার সুযোগ দিই, নিজের থালায় ছাই রেখে দিই ওদের পাতে ঘি। নেতার ওপর, গুরুর ওপর, ভগবানের ওপর, ভরসা করেই চলতে থাকে দিনযাপনের সফর, ঠকলে পরে কপাল দুষে খাঁচায় ভাঙা আশা পুষে, যে ঠকালো তাকেই তেলাই সাধ্যাতীত বিবিধ ঘুষে, ভরসা করার থেকে তবু চুলও সরি না, ভাবনাগুলোর বদল করে জীবন গড়ি না। আমরা কেবল নিজের ওপর ভরসা করি না। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি স্বপ্না ঘোষ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| অভয়া তুমি আকাশপুরীতে ভালো থাকো কবি স্বপ্না ঘোষ। অভয়া, কেমন আছো দূরাকাশে নক্ষত্রের মায়ায়! তোমার তো দুর্গাপুজো করার কথা ছিল, ঈশ্বর নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না তবে আমি দুর্গা প্রতিমার রূপমগ্ধ আর ভালো লাগে, প্রতিমার অস্ত্রসমূহ অস্ত্র ভিন্ন কোন প্রতিবাদই ধোপে টেঁকেনা, পিছিয়ে আসতে হয় , প্রাণ দিতে হয় এ কথা তোমার চেয়ে আর বেশি কে জানে ! অদ্ভুত না বিশ্বের নিয়ম , ন্যায়নীতি , সৎ উপদেশ থাকে বইয়ের পাতায়। বইয়ের বাইরে মিথ্যা চুরি ডাকাতি বাটপারি দাপিয়ে বেড়ায় রাজনীতিকদের পোষা ঘিনঘিনে বাটপারেরা। তুমি যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করো , সত্য কথা বল তবে তুমি হয় জঙ্গি নয় সন্ত্রাসবাদী অথবা দুর্বিনীত তোমার স্থান হবে কারাগারে নয়তো নক্ষত্রের দেশে বলেছ তুমি তোমার বেদনার কথা ! |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| কাদের জন্য - কবি আর্যতীর্থ। ওই উপোসী লড়াকুদের লড়াই কাদের জন্য? একটু দূরেই নিউ মার্কেট, ফুচকা বা চাট, চপ কাটলেট সবই মেলে, সবাই গেলে, কয়টা বোকা মেয়ে আর ছেলে, স্রোতবিপরীত কাদের হিতে ত্যাগ করেছে অন্ন? ওদেরই স্বার্থে ধারণাটি হলে ভাবা প্র্যাকটিস করো , ওরা সক্কলে ডাক্তারি পাশ, রোজগার হবে রোজ অনায়াস, চেপেচুপে কটা বছর কাটিয়ে, ফিরে যেতে পারে ডিগ্রি বাগিয়ে, থ্রেট ভালচার ঠোকর দেবে না তারপরে একবারও। কিন্তু তোমার শরীর খারাপে ডাক্তার যাকে পেলে, তার পাশ করা জ্ঞানে নাকি থ্রেটে, বিদ্যে কতটা আছে তার পেটে, সেটা না জেনেই সঁপে দিলে দেহ, ঠিক হবে কিনা ঘোর সন্দেহ, হিতে বিপরীত ফল পেতে পারো সে ওষুধগুলো খেলে। |
| ওদের লড়াই যোগ্যতা যাতে হতে পারে মাপকাঠি। নম্বর থ্রেটে বাড়া কমা হলে, পরীক্ষা তার মানেটাই ভোলে, ওরা যদি বলে এইবার থামি, বিপদে পড়বে তোমার আগামী, ওদের কিছুই যাবে আসবে না, ভাবীকাল পরিপাটি। ওদের ইচ্ছা পাশ করা সব ডাক্তার হোক খাঁটি, ওরা হেরে গেলে ওদের কিছু না, তোমার জীবন মাটি। ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি আর্যতীর্থ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| আয়না - কবি আর্যতীর্থ। কী চাইছে অনশন, যা দেওয়া যায় না? কিসের কারণে ওরা পাঁচদিন খায় না? আকাশের চাঁদ দাও করেছে কি বায়না? কেন দাবী মেনে তবু দ্রুত দেওয়া সায় না? রাষ্ট্রের মুখে ওরা ধরেছে কি আয়না? উৎসবও স্রেফ কারো আদেশের দাস, তালিতে হুকুম হলে এইবারে হাস, অমনি হাসবে সব ভুলে মেয়ের লাশ, ধারণা হয়তো বা তাই ছিলো খাস। অনশন দিলো তাতে কুলোর বাতাস.. সামান্য ক’টা দাবী, বেশি চাওয়া নয়, সেটুকু মানতে কেন রাষ্ট্রের ভয়? সিস্টেমে থ্রেট যদি নিরাময় হয় , তবে তো গাইবে লোকে রাষ্ট্রেরই জয়! কাদের বাঁচাতে রাজা এত নির্দয়? ডাক্তার উপচিয়ে সাধারণ লোক গোটা পুজো জুড়ে আজ বুকে পোষে শোক যে দিক হুকুম যা রে , উৎসবে ঢোক যে মানুষ , আসছে না তার সেই ঝোঁক। তবুও চায় না কেউ, অনশন হোক। |
| রাষ্ট্র কী চায় সেটা? সেটা বোঝা যায় না, মেয়ে ছিঁড়ে লাশ করে রোজ কিছু হায়না, সে নখ দাঁতের দাগ কিছুতে মিলায় না, জন-গণ-রব তবু কানে পৌঁছায় না। কী চাইছে অনশন, যেটা দেওয়া যায় না? সাধারণ কিছু দাবী, কেন তাতে সায় না? আসলে রাষ্ট্র ভারী ভয় করে আয়না.. ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ |
| কবি স্বপ্না ঘোষ মিলনসাগরে কবির পাতা . . . কবির ফেসবুক . . . এখানে তোলা হয়েছে ১২.১০.২০২৪ |
| ধ্রুবতারা জিজ্ঞেস করে কবি স্বপ্না ঘোষ। রচনা ১২.১০.২০২৪। রোজ রাতে ধ্রুবতারা তোমাদের কথা জিজ্ঞেস করে তোমরা কেমন আছো, কতদিন রয়েছো আমরণ অনশনে এ ছায়াপথের শত সহস্র নক্ষত্র তোমাদের মুখপানে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে ন্যায়ের জন্য তোমাদের অস্ত্রবিহীন এ যুদ্ধ ওঁদেরও অবাক করে কোথাও কোনও হিংস্রতা নেই অশান্তি নেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবে রুখে দাঁড়ানো যায় ন্যায্য দাবী নিয়ে ! দেখে শুনে আকাশে বেদব্যাসও অবাক হয়ে যান দু চোখ বোজেন তোমাদের মঙ্গল কামনায় বাংলার কত যে নারী পুরুষ ব্যথাতুর হয়ে প্রার্থনায় স্থির হন ভোরের আলো গায়ে মেখে ওঁরা কেউ ভালো নেই তোমাদের চিন্তায় হৃদয়ে ঝরে চোখের জল লাল রঙ্গনের থোকায় শিশিরবিন্দু টলোমল। ধ্রুবতারার রেণু কণা তোমাদের ছুঁয়ে আছে বাংলার মানুষের মনের উত্তাপ রেখো তোমাদের হৃদয়ে। |