*
বাংলার দামাল ছেলে মেয়ে

বাংলা মায়ের দামাল ছেলে আর যত সব দামাল মেয়ে!
এখন তোরা গড় রে তোদের জীবনের ভিত, মন দিয়ে ||
ধ্রুব সত্যের শক্ত ইটে তৈরী তোদের গাথ্ নি  হোক |
ন্যায়-অন্যায়, খারাপ-ভালো, উচিত-অনুচিত বোধটা হোক ||
জ্ঞানের প্রকাশ, মনের আকাশ জুড়ে তোরা ভরিয়ে ফ্যাল,
জীবন যুদ্ধে জ্ঞানই আসল লড়ার অস্ত্র, বাঁচার ঢাল ||
তোদের পথ চেয়ে আছে আজ, বাংলা মায়ের ভবিষ্যত |
মা কে বিফল করবি কি তোরা? বুকে হাত রেখে কর শপথ ||
বাংলা জুড়ে আগুনের আঁচ,
অত্যাচারটা বর্গির ধাঁচ ||
আদর্শচ্যুত-রাজার শাসন,
শাসক কুলের মগজ দূষণ ||
বণিকের মানদণ্ডে আবার
তুলছে জীবন গরীব প্রজার ||
সুখি গৃহকোণে থাকছে যারা,
শান্তিতে আছে ভাবছে যারা,
মিথ্যে-কাজের গাজর দেখিয়ে,
নয় সন্ত্রাসে রাখছে দাবিয়ে ||
লুটছে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে !
দখলিছে ত্বরা শিল্পের নামে ||
দুষ্ট কবি তোদের আজ দেখে, ছন্দের ঢেউয়ে ভাসছে আবার |
স্পষ্ট দেখছে আসছে সুদিন --- তোদের হাতেই বাংলার ভার ||

.              ************** কলকাতা ১/৩/২০০৭               
সূচির পাতায় ফেরত      

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলন ছাত্র-ছাত্রিদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে বোঝা
যাচ্ছে | একে একে বহু কলেজ নির্বাচনে শাসক গোষ্ঠির ছত্রছায়ার ছাত্র
সংঘঠটনগুলির পরাজয় তা প্রমাণ করে | দুদিন আগে কলকাতার প্রেসিডেনসি
কলেজে Independent Consolidation ছাত্র সংঘটনের জয় হয় |
*
তুই লড়ে যা নন্দীগ্রাম

দখল চাই! দখল চাই!
সোনাচূড়া আর খেজুরীর |
দখল চাই জান মানের,
নন্দীগ্রামের অধিবাসীর |

তুই লড়ে যা, তুই লড়ে যা,
তুই দাঁতে দাঁত চিপে লড়ে যা |
তুই লড়ে যা, তোর জীবন-জমির
দখল রাখতে লড়ে যা |

চার দিক থেকে ঘিরে ফেলে
'তোর লাইফ হেল করে ছাড়বে'!
তুই চাস বা না চাস দিতে,
তোর দখল নিয়েই মারবে |

পাইপ গানে কেউ কথা বলে না,
হাতে আধুনিক অস্ত্র |
পাছে চিনে নিস্ , তাইতো দেখি
গায়ে পুলিশের বস্ত্র |

পুলিশের বেশে ভাড়াটে বর্গি,
তাও না হয় বুঝতাম!
পুলিশকে এরা শিখণ্ডী ক'রে
শুরু করে যত 'অভিযান'!

জেনে গেছে ওরা, জান গেলে যাক,
তবুও তুই লড়বি |
তুই, ঘর ছাড়া হলে, কুলনারী তাকে---
তাতে তো ভয় করবিই!
মৃত্যুর ভয় নেইকো যাদের
কোন ভয়ে বশ্ করবে?
তার ঘরকেই বে-আব্রু করে
কেল্লা-ফতে করবে!
দুষ্ট কবি মিলন দেখছে---
যে ইতিহাস গড়ছিস,
দেখবি তাতে রাজা মুছে যাবে
তোরা ভাস্বর হয়ে জ্বলছিস |

তবুও স্বাধীন থাকতে পারলে
রুখে দিয়ে সব হামলা |
গড়বি নজির! তোদের দিকেই
তাকিয়ে সারা বাংলা ||

.              ************** কলকাতা ১/৩/২০০৭               
সূচির পাতায় ফেরত      

নন্দীগ্রামের পাশে সোনাচূড়া আর খেজুরী পুনর্দখল করেছে শাসক দল | খবরে
প্রকাশ, অনেক জায়গাতে পুরুষরা ঘরছাড়া | নতুন যা শোনা যাচ্ছে তা হল এই
যে পুরুষহীন পরিবারের রমণীদের শ্লীলতাহানি করা হচ্ছে |
*
বসন্ত

হে দেবাদিদেব জগত পতি
আমি বসন্ত ঋতুরাজ |
বাংলায় এসে অবাক হলাম,
তাই কিছু কথা নিবেদন আজ |

হে মহাকাল!
তোমার আদেশে,
প্রতিবার আসি
এ বাংলা দেশে |
তোমার প্রসাদে, আমার প্রভাবে
প্রকৃতি সাজে
নব নব সাজে |
শুষ্ক তরুর রিক্ত শাখার
ক'রে তাতে প্রাণ সঞ্চার,
নব কিশলয়ে ভরিয়ে আবার
ভোলে সব দুখ, ঝরা পাতার |
শীতের চাদর সরিয়ে পাশে
ধরণী ভাসে মুক্তির স্বাসে |
আমার ছোঁওয়ায় মেতে ওঠে প্রাণ
মেতে উঠে সব
করে কলরব |
আনন্দ নামে বিষাদের মাঝে
ক্ষয়িষ্ণু প্রাণ, আবার বাঁচে |
বসুমতী সাজে মায়াময় সাজে,
মানব-মানবী চলে প্রেম-রাজে |
আমাকে পেয়ে সব কাজ ফেলে---
প্রেমিক-কবিরা সুর তালে ঢেলে,
আমাকে বন্দে' কত কথা বলে |

এবারও এসেছি, আমি বসন্ত!
সবুজে সবুজে ছায় দিগন্ত |
বসুন্ধরা তাইতো সেজেছে |
নব-প্রাণে সে এবারও ভেসেছে |

তবুও দেখি, সেই সুর নেই,
কেন সেই তাল, সেই লয় নেই?
প্রকৃতির সেরা, তব হাতে গড়া
ধরার স্বর্গ বাংলা দেশে---
রাজাকে দেখছি নিষ্ঠুর বেশে
চায়ের কাননে অনাহারে যত,
মরছে মানুষ মড়কের মত!
দুর্ভিক্ষের ছবি দেখি যেন,
সেই ছবি রাজা দেখছে না কেন?
দেশটা গড়বে ব'লে ধোঁয়া তুলে
দুস্থ প্রজার দুর্দশা ভুলে,
মেতে আছে দেখি স্বপ্নের ঘোরে,
ছা-পোষা প্রজার সম্বল কাড়ে |
ধন-কুবেররা সদা থাকে ঘিরে,
শিল্পের টোপে জমি হাত করে |
যেখানে রাজা লুঠতে পারেনি,
রাজ-পেয়াদারা ঢুকতে পারেনি,
সেখানে দেখছি রাজ-দলে থাকা
ভাড়াটে সেনার অবরোধ রাখা |

আমি বসন্ত! আবার এসেছি
কিছু কবিদের এবারও দেখেছি |
দেখছি, আমি কম 'কবিতায়'!
বাংলার আর কবিরা কোথায়?
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের গাথায়,
তারা সব আজ ভরছে পাতা |
ভরা বসন্তে দুষ্ট কবির
হৃদয়ে, প্রেম ছাপিয়ে ব্যাথা ||

.   ************** কলকাতা ৩/৩/২০০৭            
সূচির পাতায় ফেরত      

আজ বসন্তোত্সবে এটাই দুষ্ট কবির ভাবনা |
*
দুষ্ট কবি আবার কোন হরিদাস!

কে হরিদাস, দুষ্ট কবি?
তাঁর কাব্য কেন পড়বো?
তার চেয়ে আনন্দ ঘেরা
সুনীল আকাশ আজ দেখবো!

দু চার লাইন ছন্দ লিখেই
তিনি কবি, যদি ভাবেন---
দিস্তে দিস্তে লিখছে যারা,
তাঁরা সব কোথায় যাবেন?

রবি-কাজী-জীবন গেলে
শঙ্খ-জয়-শ্রীজাত এল |
জীবনমুখী নচি-সুমন
চন্দ্রবিন্দু-ভূমিও ভাল |
হঠাত্ এমন বিকট নামের
ভূঁ-ফোঁড় কবি মানতে হবে?
তাঁর যত সব বেয়াদপী
তাই বলে কি পড়তে হবে?

এত কিছু মরুদ্যানে
থাকতে কেন এই বিষয়?
রাজার স্বপ্ন-দৃষ্ট শিল্প
কোন আক্কেলে খারাপ কয়?

দু লাইন পড়েই কেউবা পাচ্ছে
গায়ে ঘাস ফুলের গন্ধ!
কেউ বা কাব্যে শোনে ম্যাঁও ডাক!
কারও মনে লালের ধন্দ!

ইজ্ম্-বিহীন দুষ্ট কবি
হঠাত্ পাওয়া কাব্য-ভাষে,
ধৃষ্টতা নিয়ে প্রতিবাদী আজ
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পাশে |

.   ************** কলকাতা ১০/৩/২০০৭           
সূচির পাতায় ফেরত
*
*
আমি বাংলার চাষী

আমার পায়ের তলায় মাটি খসে গেছে
আমি বাংলার চাষী |
আমার ঘর বার সব লুটে পুটে নিছে
রাজার ঠ্যাঙাড়ে আসি ||

ঘোর অন্যায় করেছি আমি
বাংলার জমি চাষি |
মস্ত ভুল হয়ে গেছে ভাই
বাংলায় বসবাসী ||
অপরাধ ঘোর আরও করেছি
বাংলাকে ভালবেসে |
তাই তো রাজার রোষানলে পড়ে
আমি দোষী অবশেষে ||

বাংলার মাটি বাংলার জল
তাইতে ফলাই সোনা |
নবান্নেতে মেতে উঠি মোরা
পালা পার্বনে টানা ||
একদা যে দেশ ভিক্ষা-পাত্রে
যেতো দুনিয়াতে চেনা |
আজ সে দেশ নিজে রাঁধে খায়
চুকিয়ে ধার দেনা ||
আমিও আমার দেশকে তুলেছি
ঝরায়ে অঝোরে ঘাম |
জগত সভার শ্রেষ্ঠ আসনে
বসাতে দিয়েছি দাম ||
আজ রাজা বলে --- 'দেশকে এগোতে
তোকে বাদ দিতে হবে' |
জোর করে তাই কেড়ে নিয়ে সব
ধন-কুবেরকে সঁপে ||

জেনে রাখো সবে নীরবে থাকি নি
যুদ্ধ করেছি আমি |
প্রাণ পণে লড়ে ঠেকাতে চেয়েছি
এই রাজ-ভণ্ডামি ||
আমারই করের টাকায় পোষা
পুলিশ - হাতে অস্ত্র |
কাউকে ছাড়ে নি, বুড়ো-বুড়ি-নারী
দুধের শিশু নিরস্ত্র ||
সব কিছু কেড়ে খান্ত হয়নি
যাতে মাথা নাহি তুলি |
থানা-পুলিশ হাজারো মামলা--
নাগপাশে দেয় দলি ||
ঘোর অপরাধে দোষী আমি নিজে
কি ভুল যে হায় করেছি |
এক আমির-ভজা কৃষ্টি-বিহীন
রাজাকে ভোটে এনেছি ||

আমার, ঘর কেড়ে নাও, জমি কেড়ে নাও
খুন করে কর লাশ |
তবুও রাজা, আমাকে করতে
পারবে না তুমি দাস ||
* * * * *
হারাধন বাগ তুমিই স্বাধীন
এই হতভাগী দেশে |
দুষ্ট কবি এই গাথা র'চে
তোমাকে স্মরে শেষে ||


.               ************** কলকাতা ১৩/৩/২০০৭           
সূচির পাতায় ফেরত      

অতি গোপনে সিঙ্গুরে টাটাদের জমি হস্তান্তর হয়ে যাবার খবর পাওয়ার পর
বৃদ্ধ চাষী শ্রী হারাধন বাগ গত ১১/৩/২০০৭ তারিখে আত্মহত্যা করেন | তিনি
জমি বাঁচাও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন | আন্দোলন চলাকালিন
তাঁর পরিবারের বহু সদস্যকে গ্রেপতার করে তাঁদের নামে মাননীয় মূখ্যমন্ত্রী
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার মামলা করেছে | হারাধন বাবুর আড়াই বছরের
নাতনি পায়েল বাগের নামেও মামলা করতে ছাড়ে নি |
এত দেরী হল কেন ?

শেষমেষ বেরিয়ে এলে তোমরা
একদা প্রাণাধিক প্রিয়র দিকে
ঘৃণাভরা চাহনির পর্দা টেনে দিয়ে---

সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মানুষের পচা গলা লাশের গন্ধ সারা গায়ে---
বুদ্ধর পাশে আর বসে থাকা যায় না |

বাসী রক্ত মাখা হাত---
করমর্দনও করা যায় না |

তাঁর, মগজ ধোলাই করা পুলিশ আর পোষা-বর্গিদের বন্দুক-পাইপ-
গান আর ছররার আঘাতে ছোটা নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের মা-শিশুদের
মাংসের কুচি লেগে আছে ওই শুভ্র বসনের সর্বত্র---
আলিঙ্গনও করা যায় না |

তাঁর দিকে তাকাতে চাইলে চোখের উপর ভেসে উঠছে
ছোট্ট শিশুদের হাত পা টেনে ছিঁড়ে ফেলার বিভত্স দৃশ্য---
তাকানোও যায় না আর |

সেই বেরিয়েই যদি এলে---
এত দেরী হল কেন ?
যে কথা বাংলার নির্বোধ-ছাপোষা-হাড়হাভাতে-চাষাভুষারাও
হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারলো, সেই ক---বে,
তোমাদের মত বুদ্ধিজীবীদের বুঝতে এত দেরী হল কেন ?
এই দুষ্ট কবি মিলনের মোটা মাথায় সেটা কিছুতেই ঢুকছে না!

আর মাত্র মাস চারেক আগে এলে হয়তো
সিঙ্গুরও হতো না---
নন্দীগ্রামও হোত না--

তবুও এলে |
হিন্দীতে একটা সুন্দর কথা আছে না---
जब जागा तभी सवेरा ||


.   ************** কলকাতা ১৬/৩/২০০৭          
সূচির পাতায় ফেরত      

নন্দীগ্রামে গণহত্যা ঘটে গেছে গত পরশু ১৪/৩/২০০৭ এ | আমি
কবিতার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না তার প্রতিবাদ করার | তারপর
থেকেই একে একে বহু বাম বুদ্ধিজীবী, মাননীয় মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব
ভট্টাচার্যর 'সভাকবিকুল' ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন | তাই ভাবলাম
এই দিয়ে শুরু করি |
*
*
অফুরন্ত জৈবিক রং

বছরের পর বছর টানা সন্ত্রাস আর
আপাত পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের দোহাইয়ে পাওয়া
২৩৫ বাই ৩৫ এর দম্ভ !
যেন দাসখত্ লিখে দিয়েছে সারা বাংলা!
যা খুশি তাই কর
কে রুখবে আমাদের?

এদিকে শালা চাষাভুষা গুলোর
পকেট গড়ের মাঠ কিন্তু জমি প্রচুর!
ওদিকে টাটা সালেমের পুঁজির চাবি হাতের মুঠোয়!

হঠাত খেয়াল হল যে পুঁজির পতাকা পুঁততে পুঁততে
পতাকাটাই ফিকে হয়ে এসে গোলাপী লাগতে শুরু করেছে!
এই দুষ্ট কবির কুত্সা সত্যেও
পুঁজিপতি আর বুদ্ধজীবীদের স্তুতি আর আনন্দঘেরা প্রেসের
হাততালির দৌলতে বেশ ভালই লাগছিল কিন্তু!

তা সেই পতাকার রং?
সেটা তো আবার লাল করা চাই!
সামনে যে পঞ্চায়েত নির্বাচন!

এখন আবার পরিবেশ দূষণ বিরোধীদের রমরমা---
রাসায়নিক রং করতে গিয়ে যদি আবার হাই কোর্টে নিয়ে তোলে?

সহজ সমাধান
জৈবিক রং লাগাও
বায়ো-ডিগ্রেডেবল
ভারি শিল্পের বাই প্রোডাক্ট!
টাটা সালেমের কার-হাবের জন্য যত জমি কাড়বে---
তত বেশি মানুষের রক্ত পাওয়া যাবে!
যার যত সুফলা জমি
তার রক্ত তত সুস্বাদু আর জৈবিক!

তাদের ঠিকানা সিঙ্গুর
তাদের ঠিকানা নন্দীগ্রাম
তাদের ঠিকানা সারা বাংলা
শুধু মারো, কাটো, চিরে নদীতে ফেলে দাও
আর পতাকাকে রক্তে ধুয়ে লাল করে নাও!

অফুরন্ত জৈবিক রং!

.   ************** কলকাতা ১৭/৩/২০০৭          
সূচির পাতায় ফেরত      

নন্দীগ্রামে গণহত্যা ঘটে গেছে গত পরশু ১৪/৩/২০০৭ এ | আজ
মাননীয় কলকাতা হাইকোর্টের আদেশে CBI দল নন্দীগ্রামে তদন্ত
করতে গিয়ে পেয়েছে শত শত ব্যারহৃত গোলাগুলীর অবশেষ,
মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যাবার সময়ে চুইয়ে পড়া রক্তে ভেজা মাটি |
এসবই নাকি এ সবই নাকি মাননীয় মূখ্যমন্ত্রীর আইনের শাসন
কায়েম করার নামে করা হয়েছিল!
মাঠে ঘাটে আধমরা আর মৃত মানুষের লাশও পাওয়া যাচ্ছে |
আমার কবিতা কেউ যাতে না পড়ে

নন্দীগ্রামের মানুষের কথা কেউ যাতে না শোনে
চেষ্টা করেছ কেউ যাতে বলার না থাকে |

সিঙ্গুরের কথা কেউ যাতে না দেখে
চেষ্টা করেছ বাঙালীকে শিল্পায়নের রঙীন চশমা পড়িয়ে রাখতে |

এ সব কথা আর কেউ যাতে না বলে |
চেষ্টা করেছ বাঙালীর শিরদাঁড়া ধরে এক শিতল স্রোত বইয়ে রাখতে |

আমার এ কবিতা কেউ যাতে না পড়ে
চেষ্টা করেছ বাঙালীর চোখে সংস্কৃতির ঠুলি পড়িয়ে রাখতে |

বাংলায় যাতে আর কেউ জেগে না ওঠে
শিক্ষিত মানুষকে এক গভীর নিদ্রায় ঘুম পাড়িয়ে রেখেছ |
এ ঘুম থেকে জাগাতে
তাদের চোখে আর কত রক্তের ছিটা দিতে হবে
এ দুষ্ট কবি জানে না |

.   ************** কলকাতা ২০/৩/২০০৭                
সূচির পাতায় ফেরত      

'বাঙালী' অর্থ সারা বাংলার মানুষ |

গতকাল নন্দীগ্রামের গণহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে জমিয়তে-উলেমা-ই-হিন্দ
এর মহাকরণ অভিযানে ব্যাপক পুলিশের লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস চলে |
ধীরে ধীরে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন |
*
নন্দীগ্রামের কে কোথায় দাঁড়িয়ে
(সিঙ্গুরে কে কোথায় দাঁড়িয়ে কবিতাটির মত নানান প্রধাণ চরিত্রগুলি একে একে তুলে
ধরার চেষ্টা করছি | বলা বাহুল্য এটি ক্ষেপে ক্ষেপে শেষ করতে কিছু দিন সময় লাগবে )

এই কবিতাটির উপর আপনার মতামত প্রতিক্রিয়া জানাতে এখানে ক্লিক করুন


গান্ধী গোপাল কৃষ্ণ                     তুলে নানান প্রশ্ন
চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখান |
খুনী বুদ্ধর চালে                             অথবা তার ছলে
না ভুলে, আর্তের পাশে দাঁড়ান ||
শিল্পায়নের ধোঁয়া তুলে              সিঙ্গুর জখন যাচ্ছে জ্বলে
ধর্মতলা যবে অনশন ঘাঁটি |
বারবার ছুটে এসেছেন             ভগিনীকে ডেকে এনেছেন
রাজ-ভবনের লক্ষণরেখা কাটি ||
উত্তরে চা বাগানে              লোকে অনাহারে যায় শ্মশানে
বুদ্ধ তখন ব্যস্ত শিল্পায়নে |
রাজ্যপালের বেশে                          গোপাল সেথায় এসে
এই জগদ্দলকে নড়ান্ নিজের বয়ানে ||
নন্দীগ্রামের বুকে                            যখন পাষণ্ডরা ঢুকে
গণহত্যায় রাঙিয়ে তুললো হাত |
নির্বিচারে চালালো হত্যা        বুদ্ধ বলেন 'আইন প্রতিষ্ঠা'
শত শত লাশ করলো লোপাট্ ||
গোপাল গেলেন সেথা                 বুক ভরা তার ব্যথা
দাঁড়ালেন গিয়ে হাহাকারের মাঝে |
বুদ্ধর কুল রাগে জ্বলে      ও সংবিধানকে ভাঙছে, বলে-
রাজ্যপালকে 'ভবনেই' থাকা সাজে ||
জাতির জনক শান্তির দূত      সেই বংশেরই ইনি সুপুত
পদে পদে তা দুষ্ট কবি দেখলেন |
বাংলা আজ কালিমা লিপ্ত        তিনি পাশে দাঁড়ায়ে দৃপ্ত
বাংলা মায়ের ঋণ তিনি শোধ করলেন ||

.                                ************** কলকাতা ২০/৩/২০০৭        
সূচির পাতায় ফেরত  


বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য                   তাহার কথন এবং কার্য
এই দুইয়ে মিল পাবে না কেহ |
জমি নেবার নোটিস দিলেন            পরে তা ছিঁড়তে বললেন
মাঝে শুধু সাতটা মরদেহ ||
সারা দেশে প্রবল নিন্দা          ওরা না চাইলে নাইকো চিন্তা
কেমিকাল হাব্ হবে না আমি বলছি |
'সব আমাদের ভুল যখন              মানুষকে বোঝাবো এখন
পলিটিকাল প্রসেস শুরু করছি' ||
এই কথার সিঁদুরে মেঘে                নন্দীগ্রাম বসলো বেঁকে
বিচ্ছিন্ন হয়েই তাঁরা থাকলেন |
বুদ্ধর 'পলিটিকাল প্রসেস'    দখল নেবার আর এক আদেশ
লক্ষণ ভাই সেটা পালনে লাগলেন ||
ভাড়াটে যত গুণ্ডা নিয়ে          তিন মাস কাল হত্যে দিয়ে
'সন্ত্রাস' আর 'অবরোধ' করে রাখলেন |
নন্দীগ্রাম তবুও নতি            স্বীকার না করে দাঁড়িয়ে যতি
বুদ্ধবাবুর সব কৌশল রুখলেন ||
তাতেই তিনি রেগে আগুন           বলে 'নেই আইন কানুন'
তাই করবো মোরা পুলিশি বন্দোবস্ত |
মার্ক্সবাদ ছেড়ে পুঁজিবাদী রাজা   মানেনি সেটা বেয়াদপ প্রজা
তাইতো তিনি হলেন খড়গহস্ত ||
এল ১৪ই মার্চ কালা দিবস            গণহত্যায় দেশটা অবশ
বুদ্ধ বলেন হোথা আইন হলো কায়েম |
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী                              নন্দীগ্রামের ষড়যন্ত্রী
ক্রুদ্ধ দুষ্ট কবি এটা বলেন ||

.                               ************** কলকাতা ২১/৩/২০০৭         
সূচির পাতায় ফেরত


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়              মানুষ কেন তাঁকে চায়
সর্বহারার নেতারা ভেবে পান না |
ছাব্বিশ দিন অনশন          ফলে, শরীরের করে ক্ষতি ভীষণ
বিশ্রামও তিনি পুরোপুরি নিতে চান না ||
নন্দীগ্রামের হত্যালীলা                   চলছিল যবে অবলীলায়
জীবনের ঝুঁকি সত্বেও তিনি গিয়েছেন |
নন্দীগ্রামের লড়াকু মানুষ            দিয়ে তাদের সব মান-হুঁশ
দিদিকেই তাঁদের নেতা বলে মেনেছেন ||
দুষ্ট কবি দেখছে যেটা                 বুদ্ধ রাজার ত্রাস মমতা
তাঁকে ছাড়া আর কাউকে নাহি ডরে |
বাংলা মায়ের দুর্দিনে আজ     মমতাকে ছাড়া বাঁচবে না লাজ
অস্বীকার সেটা, কোন আহাম্মক করে ||

.                              ************** কলকাতা ২১/৩/২০০৭          
সূচির পাতায় ফেরত


সমীর পূততুণ্ড নেতা              পি-ডি-এস এর প্রতিষ্ঠাতা
বাম মহল কাঁপিয়েছিলেন একদা |
চাষির জমি লুঠছে দেখে            তাঁদের পাশে দাঁড়ান রুখে
জমি বাঁচাও কমিটির সহনেতা ||
দুষ্ট কবির মনের মত                  একই ছত্রে বিরোধী যত
জাত বিচারে সময় নাহি কাটান |
এমন যদি চলতে থাকে              কার সাধ্য ফেলে বিপাকে
বাংলার এই জমি বাঁচাও অভিযান ||

.                              ************** কলকাতা ২১/৩/২০০৭          
সূচির পাতায় ফেরত


বাম ফ্রন্টের ছোট শরিক   আর-এস-পি, ফরওয়ার্ড ব্ লক্
তাঁদের সাথে মিলে সি-পি-আই |
নন্দীগ্রামের নর-সংহার               দেখে বলেন এর দায়ভার
আমরা শিরে নিতে নাহি চাই ||
মোদের রেখে অন্ধকারে                  সদল-বুদ্ধ এ সব করে
মরুদ্যানে এটা এক কলঙ্ক |
মিটিং-মিছিল-মিডিয়া জমে        তাঁদের তোলা দাবীর বাণে
বলে, না মানিলে ত্যাজিবো এই পঙ্ক ||
ফ্রন্টে বুঝি ধরলো ভাঙ্গন             রুদ্ধশ্বাসে কাটে প্রতিক্ষণ
দুষ্ট কবি মিটি মিটি শুধু হাসে |
রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে                দাঁড়ালেন সবে বাইরে এসে
বিকিয়ে তাঁদের অধিকার, মত-প্রকাশে ||
লোক দেখাতে যাও বা দু-কথা     চুকিয়ে দিয়ে সে সব ল্যাঠা
ধৃতরাষ্ট্রের সভাসদ কুল সাজেন |
এর পর তাঁরা মৌনি রবেন    শুধু, বড় শরিকের ধামা ধরবেন
এবারও জনতা হতবাক চেয়ে থাকেন ||

.                                  ************** কলকাতা ২১/৩/২০০৭      
সূচির পাতায় ফেরত


মাননীয় মানস ভুঁইয়া    বুঝি আজ তিনি দিশা খুইয়া
কি যে করেন তাহা কে বা জানে |
কংগ্রেসের যা দুরবস্থা        'চিত্কার' ছাড়া নাইকো রাস্তা
তাঁদের অভিসন্ধি মানুষ জানে ||
বুদ্ধবাবুর কূট চালে                  'জমিয়তে-বাংলা' হ'লে
মানস বাবু সেথায় কেন বিরাজেন |
বুদ্ধবাবুর সমন পেলেই        গুড্ বয় সেজে মিটিং করেন
বিরোধীদের দুর্বল তিনি করছেন ||
সেটাই তাহার লক্ষ্য এখন       দিল্লীতে ঠিক থাকুক শাসন
ভাঁড় মে যাক্ সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম |
দুষ্ট কবি মিলন বলছে          মানস বাবু বি-টিমে খেলছে
তাঁর কাজে মহাখুশি বুদ্ধ-বিমান ||

.                            ************** কলকাতা ২১/৩/২০০৭            
সূচির পাতায় ফেরত



প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী         এখনো তিনি বাজান বংশী
সাইড লাইনের বাইরে দাঁড়াইয়া |
মন্ত্রী কেন্দ্রে তিনি মস্ত                   তবুও গুটাইয়া হস্ত
সংসদে মূক রহিলেন বসিয়া ||
তাহারই দলের জোর প্রচেষ্টা     সুতরাং ইহা তাহারও চেষ্টা
নন্দীগ্রামে সাংসদ দল রুখিলেন |
দুষ্ট কবি ক্রুদ্ধ, কয়             এমন নেতায় কী আসে যায়
দুর্গতদের যারা গদির মোহে ত্যাগিলেন ||
অন্তরালে পরস্পরের           পিঠ চুলকান মন প্রাণ ভরে
বাহিরে করেন যত আস্ফালন |
বাংলা মা কাঁদছেন বসে   তাঁর আঁচল বুঝি যায় ওই খসে
প্রিয়, জাতীয় দলের দায় করেন পালন ||

.                             ************** কলকাতা ২১/৩/২০০৭          
সূচির পাতায় ফেরত



রাজপাটচ্যুত জ্যোতি বাবু     অবসরে আজ, কিন্তু তবু
কমিউনিস্টরা রাজনীতি ছেড়ে যান না |
বামফ্রন্টে ক্যাচাল হলে           অথবা পড়লে বিশ বাঁও জলে
তাঁকে ছাড়া এখনো ভাবা যায় না ||
বুদ্ধের উপর ক্ষুব্ ধ  তিনি              মাঝে মধ্যে খবরে শুনি
কারণ তাঁর একদা-অপসারণ |
সুযোগ পেলেই মুখটি খোলেন         অথবা কল-কাঠি নাড়েন
যেন, বুদ্ধবাবুর স্বস্তিতে থাকা বারণ ||
বুদ্ধবাবুর স্বপ্ন-দূষণ                    মানুষ মেরে শিল্প স্থাপন
বদলে রাজ্যে হাহাকার আর ক্রন্দন |
কিন্তু এতে বসুরাজের             খোঁচা মারার সুযোগ বাড়ে
দুষ্ট কবি ধন্য, ক'রে বন্দন ||
তাঁকে ঘিরে মিডিয়া নাচে       তিনিই 'শ্রীকৃষ্ণ', সুভাষ-উবাচে
বামফ্রন্টের সালিসী-সভা-পতি |
নন্দীগ্রামের শরিকী মামলা         ফ্রন্ট ছাড়ার সেই যে হামলা
শেষে জ্যোতিবাবুর কথায় গেল মিটি ||
*****(২৫/০৬/২০০৭)******
পুনশ্চ কহে দুষ্ট কবি                          ভুলিবার নহে ভবী
হঠাত্ তাহার কী বাই চাপিল |
মমতারে বলেন ডাকি            অশোক ঘোষ রে ছাড়ো দেখি
আমার সাথেই শান্তির কথা বল ||
নিজ গৃহে সেরে কথন              ডাকেন সাংবাদিক সম্মেলন
মমতার পাশে তিনি বসিয়া |
জ্যোতি মানেন, যত দোষ                  নন্দীগ্রামের নন্দঘোষ
তাহারই দলের লোকাল কারসাজিয়া ||
তাহার সাথে সিঙ্গুর                        টাটার লাভের আঙ্গুর
বেশী জমি গিয়াছে মানিলেন |
বুঝাইয়া শাসকদের                           অনিচ্ছুক মালিকের
জমি ফেরতের কথা বলিলেন ||
মাত্র ক দিন পরে                   জ্যোতি গাইলেন উলটো সুরে
বুঝিলাম পার্টির ধুন গাইছেন |
প্রশ্ন সবার মনে                            কী কারণ এই প্রহসনে
কেন তিনি এই মসকরা করিলেন?

.                ************** কলকাতা ২২/৩/২০০৭ ~ ২৫/০৬/২০০৭     
সূচির পাতায় ফেরত


দুষ্ট কবি মিলন                    তিনি ক্রুদ্ধ, ক্ষুব্ ধ  ভীষণ
দেখে নন্দীগ্রামে বুদ্ধবাবুর লীলা |
লজ্জায় মাথানত                             কবির বুকে গভীর ক্ষত
নিজেকে আজ মানুষ বলার, ঘুচলো সকল পালা ||
তীক্ষ্ণ ছন্দে বেঁধে                                  বিরোধ প্রতিবাদে
ইনটারনেটে ধৃষ্ট কবিতা লিখছেন |
কৃষিজমির আন্দোলনে                         প্রতিবাদ-মিছিল সনে
তিনিও পায়ে পা মিলিয়ে চলেছেন ||
এখনও বাঙালী চক্ষু বুজে          ছাপা-মাধ্যমে রয়েছে ম'জে
তাই, দুষ্ট কবি এখনও দেশে ব্রাত্য |
যদি আপনার মনে হয়                 এই কাব্য ফেলনা নয়
আবার ফিরে, এসে, পড়ে, জ্বালান ব্যথিত চিত্ত ||
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের দ্রোহ               ঘুচিয়ে দিয়ে সকল মোহ
কাব্য-নদীর বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে |
ধৃষ্ট-কাব্য হুংকার-ধ্বনি                 লুণ্ঠিতদের ক্রুদ্ধ অশনি
অমোঘ বিজয়-ঘোষণা সে করছে ||

.                            ************** কলকাতা ২৪/৩/২০০৭            
সূচির পাতায় ফেরত  


চেয়ারম্যান বিমান বসু           বামফ্রন্টে তিনিই বিশু
তিনিই নাকি হর্তা-কর্তা-বিধাতা |
কালে কালে সিজন্ হয়ে               বিপ্লব-টব বিদেয় দিয়ে
রাজা বুদ্ধের দোসর তিনি হেথা ||
বুঝি, তাহার বিরাট দায়            পার্টি তাঁকেই চালাতে হয়
শুধু কৌটো নাচিয়ে এখন তো তা হয় না |
অগত্যা নিয়ে বুদ্ধের স্মরণ        পুঁজির মার্গে করে বিচরণ
টাটা সালিম ছাড়া আর কথা কয় না ||
নন্দীগ্রামের পরে            যখন লাগলো ভাঙ্গন তাসের ঘরে
শঙ্খ ঘোষের কাছে ছোটেন তিনি |
নিভৃতে কি কথা হয়               আমাদের তা জানবার নয়
তবু কবি কে তিনি টলাতে পারেন নি ||
গণহত্যার পরে                                তার রক্ত মাখা করে
শরিকরা করমর্দনে হচ্ছিলেন না রাজি |
বিমান তাঁদের বলেন                    কালিদাস তারা হলেন
ডালে বসে সেটাই কাটার করেন কারসাজি ||
তিরিশ বছর থেকে ক্ষমতায়         ঠাণ্ডাঘরের ভণ্ড পাখায়
লড়াকু মানুষ কোথায় পড়ে যায় |
বলে দুষ্ট কবি মিলন                     যে লঙ্কায় সেই রাবণ
এই মহামহিমদের দেখে তাই মনে হয় ||

.                                   *********** কলকাতা ২৩/৪/২০০৭      
সূচির পাতায় ফেরত


কৃষক নেতা বিনয় কোঙার    বুদ্ধ ভাবেন ছেলেটি সোনার
তাই যা খুশি তা বলার ছুট দিয়েছেন |
মিটিং মিডিয়া দাপিয়ে                       গলার স্বর কাঁপিয়ে
নানান বিষয় মতামত তিনি ঝেড়েছেন ||
তাঁর 'সাঁই-বাড়ি' খ্যাতি                  যেন হিমলার তাঁর জ্ঞাতি
হার্মাদকুল থাকে তার আজ্ঞে |
দলের স্টার্টার এখন তিনি                   তাঁর বাঁশি কানে শুনি
ঝাঁপায় নন্দীগ্রামের নিধন যজ্ঞে ||
দুষ্ট কবি ভাবে                               এত মহান নেতা ভবে
তায় 'কৃষক নেতার' শিরোপা নিয়ে মাথায় |
এরা গণতন্ত্রের আড়ে                              মার্ক্সবাদ ঝাড়ে
আসলে ঘোর মৌলবাদী কাজে এবং কথায় ||

.                                  *********** কলকাতা ২৩/৪/২০০৭        
সূচির পাতায় ফেরত


লক্ষ্মণ শেঠ সাংসদ                      সবাই তাঁর বশংবদ
এই বাংলার হলদিয়া মহকুমার |
এতই তাঁর প্রতিপত্তি                সবই ভাবেন বাপের সম্পত্তি
দেন নোটিস নন্দীগ্রামে জমি নেবার ||
গণহত্যা নন্দীগ্রামের                 ফসল নাকি তাঁরই প্ল্যানের
খবরে প্রকাশ হইতেছে কিছু কিছু |
এখন তাহার নাই নিস্তার             যতই ছুটুন তেজ রফ্তার
শত শত মৃত ছাড়বে না তাঁর পিছু ||
লিখতে এসব বিকট কথা             দুষ্ট কবির কলম ভোঁতা
লজ্জায় হয়ে যায় নিচু মাথা |
ভাবি এ আমরা কোথায় এলাম     কেনই আমরা স্বাধীন হলাম
করতে নিত্য নন্দীগ্রাম-কেশপুর-গড়বেতা ||

.                                 *********** কলকাতা ২৩/৪/২০০৭         
সূচির পাতায় ফেরত


শ্রীযুক্ত সোমেন মিত্র                নিয়ে কিছু পাত্র মিত্র
দেখাতে মুখ নন্দীগ্রামে গিয়েছেন |
সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা                ভদ্রভাবে বললে যথা
এক কথায় তাঁকে মানুষ ফুটিয়ে দিয়েছেন ||
এই প্রত্যাখ্যানের পরে বলি              জ্ঞানচক্ষু গেছে খুলি
বিশ্ব এখন দেখছেন নতুন দর্শনে |
এখন তিনি গা ঝাড়া দিয়ে    মমতার সাথে জোট করা নিয়ে
শহিদ মিনার থেকে বলেন গর্জনে ||
তাই না শুনে প্রণব প্রিয়             পাল্টা চালে করতে হেয়
শক্তি প্রদর্শনে মেতে উঠেছেন |
দুষ্ট কবি বসে ভাবে                 এই দৃষ্যের কি মানে হবে
পালে বাঘ পড়ার মতই দেখছেন ||
এবারও কি এদের দলে           নাচছে সবাই রাজার চালে
ভাঙতে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের দ্রোহ |
জানে বঙ্গবাসী সবে                এদের ছাড়াই লড়তে হবে
তাই তৈরি তাঁরা ত্যাগী এদের মোহ ||

.                                   *********** কলকাতা ২৩/৪/২০০৭       
সূচির পাতায় ফেরত


কবি সুনীল গাঙ্গুলী                ছাড়িয়ে অন্য নামগুলি
খ্যাতির চূড়ায় বসে আছেন নিশ্চিত |
বাঙালী তাঁর লেখা প'ড়ে                ভক্তি শ্রদ্ধা প্রচুর করে
সর্ব পুরস্কারে তিনি ভূষিত ||
রাজার হয়ে পথে নামেন              নির্বাচনের আগে বলেন
গেল গেল মোদের বাংলা ভাষা  |
বাংলা নিয়ে কেঁদে সারা           কাজের কিছুই হয় না করা
এসব নিয়েই ছিলেন তিনি খাসা ||
কবি লেখক বিরাট জেন               তবু থাকেন নীরব কেন
তাই শক্ত আরো রাজার কালো হাত |
সিঙ্গুরগাঁয়ের লুঠের পরে             তিনি ছিলেন চুপটি করে
তাঁর মুখে শুনি নাই প্রতিবাদ ||
তিনি তখন ব্যস্ত ম্যালা                 নিয়ে সাধের বই মেলা
কোর্টের বাধায় ময়দানে বাদ যে বার |
সেটাই ছিল দুঃখ তাহার            মুখটি তিনি করে ব্যাজার
প্রতিবাদের নেতা হলেন সবার ||
নন্দীগ্রামে আইনের নামে          রাজার পুলিশ ক্যাডার নামে
অবাধে নর নারী শিশু মলো |
নারকীয় গণহত্যায়                   প্রতিবাদের ঝড় ঝাপটায়
যখন রাজসভাটাই প্রায় খালি হল ||
তখন সুনীল পথে নামেন          বাঁচাতে মুখ রাজার, বলেন
এমন রাজা আর দেশে নাই |
মিটিং মিছিল পদযাত্রা            ছাড়িয়ে আগের সকল মাত্রা
বলেন আগে শান্তি ও সংহতি চাই ||
এদের সামনে রেখে                      রাজা হাতে রক্ত মেখে
একের পর এক খেলে চলেন সাট্টা |
এমন সভাকবি যেথায়                রাজার চিন্তা নাহি সেথায়
তিনি নির্বিচারে চালান গণহত্যা ||

.                               *********** কলকাতা ২৪/৪/২০০৭            
সূচির পাতায় ফেরত


কবীর সুমন জীবন মুখী              গান শুনিয়ে ছিলেন সুখী
বাংলা গানের রেনাসাঁর নায়ক |
সাংবাদিক থাকার সূত্রে                তারা নিউজে রোজ রাত্রে
মতামত এর হলেন সঞ্চালক ||
বুদ্ধরাজা সিঙ্গুর নিলো                মিডিয়া ভেঙে দুভাগ হলো
সুমন খবর করেন আবেগ দিয়ে |
খবর করতে করতে সুমন           জানলো না সে কখন কেমন
হয়ে গেলেন খবর মিশে গিয়ে ||
সিঙ্গুর সবে উঠছে জমে                      নন্দীগ্রাম শিরোনামে
টিমের সাথে তিনিও সেথায় গেলেন |
মিডিয়া থাকে সত্যের সাথে              কভু না ডুবে পক্ষপাতে
সুমন কিন্তু আর্তের হয়ে সত্যের দ্বার খোলেন ||
এখন আন্দোলনের তরে                     সহযোদ্ধার বসন পরে
নতুন গানে জাগান ঘুমিয়ে থাকা |
দুষ্ট কবি মিলন বলে                      নানান কথা লোকে বলে
তবু বাংলার বুকের মাঝে আসন তাঁর পাকা ||

.                          *********** কলকাতা ২৪/৪/২০০৭                
সূচির পাতায় ফেরত


অশোক ঘোষ অদ্য হেথা           ফরওয়ার্ড  ব্ লকের নেতা
করিছেন নব আয়োজন |
দুই যুযুধান পক্ষে                                বসাইয়া এক কক্ষে
যাতে শুরু হয় কথোপকথন ||
শাসক দলের যা মতি                     তাতে আশা ক্ষীণ অতি
তবুও তিনি চেষ্টা করিছেন |
দুষ্ট কবি আশা করে                     যদি সত্যিই শান্তি ফেরে
তবে সবাই ধন্য ধন্য করিবেন ||
****(২৫/০৬/২০০৭)****   
পুনশ্চ কহি দুষ্ট কবি                      মানুষ দেখলো সেই ছবি
যার আশঙ্কা সবাই করেছেন |
মহাজাতি সদনে                           শান্তি বৈঠক করিবার সনে
একে একে সবাই তথায় আসিলেন ||
রথী মহারথী দুই পক্ষের                 বসেন ভিতরে সভাকক্ষের
মিডিয়া থাকে রুদ্ধশ্বাসে বাহিরে |
শুরু হবার খানিক পরে                     হঠাত্ সবার টনক নড়ে
মমতা বলেন আমরা হেথা আর নাই রে ||
অশোকবাবু বলেন শেষে              তাঁর মান-সন্মান ধুলায় মেশে
পরের মিটিং এর হোম ওয়ার্ক করতে যাই রে ||

.              *********** কলকাতা ২১/৫/২০০৭ ~ ২৫/০৬/২০০৭          
সূচির পাতায় ফেরত


শাহি ইমাম বুখারি                           কহিলেন পুকারি
গণহত্যার তিন মাস পরে |
শান্তি ফিরে আয়েগা                        তাই নন্দীগ্রামে যায়েগা
বাতচিত সেরে বুদ্ধবাবুর ঘরে ||
নন্দীগ্রামে গিয়ে                                  রাজার ডগর নিয়ে
শেখানো বুলি তিনি আউড়াইলেন |
বুদ্ধবাবু অমায়িক            আউর বিরোধী লোগ সাম্প্রদায়িক
বুদ্ধবাবুকা বাত তুমলোগ শুনিবেন ||
এই কথা শুনিয়া সেথা                   যত গ্রামের বাপের-বেটা
এক কথায় তাহাকে রুখিলেন |
ঢুকিতে না পারিয়া হোথা             আর তিনি যাইবেন কোথা
এক দৌড়ে দিল্লিতে ফিরিলেন ||
"বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি"         বুখারি সাহেব বুঝিলেন খাঁটি
পা দিয়া ফাঁদে বুদ্ধ-মার্ক্সবাদী |
বাংলার সেই প্রবাদ মহান             প্রমান করেন শাহি ইমাম
"মোল্লার দৌড় মসজিদ অবধি" ||

.                               *********** কলকাতা ২৩/৪/২০০৭           
সূচির পাতায় ফেরত    


কবি জয় গোস্বামী                    তিনি জ্ঞানী তথা মানী
বহু পুরস্কারের তিনি প্রাপক |
অতি নম্র স্বভাব                             আর মার্জিত ভাব
"কবি" ডাক তাঁর অতি সার্থক ||
স্বভাবে যত নরম                           লেখনী ততই গরম
সর্ব্বদাই আদর্শ পন্থ |
চারপাশে দেখে তাঁর                          অন্যায় অবিচার
নির্ভয় প্রতিবাদী কণ্ঠ ||
"সিঙ্গুরের লুঠ" দেখে                         চুপচাপ নাহি থেকে
রচেন কাব্য "শাসকের প্রতি" |
প্রতিষ্ঠিত কবিকুলে                             সর্বাগ্রে মুখ খুলে
রাজরোষে পড়িলেন অতি ||
এর পরে নন্দীগ্রামে                       রাজা গণহত্যায় নামে
ভুলিয়া সকল মানবতা |
কবির কলম চলে                            মুহুর্মুহুঃ ওঠে জ্বলে
কবি জয় গোস্বামীর কবিতা ||
বিখ্যাত পত্রিকার কাজ ই            এক কথায় দিলেন ত্যাজি
সম্পাদকের রাজা-অন্ত প্রাণ |
কবিতার বই লিখি                      যাহা পান, তাহা বিকি
অত্যাচারিতেরে করেন দান ||
নজরুল রবীন্দ্রনাথ                    বিনা, বাংলা নহে অনাথ
প্রমাণ করিলেন কবি জয় |
সার্থক তাহার নাম                         ক'রে কবির জয়গান
দুষ্ট কবি এই গীত গায় ||

.                                   *********** কলকাতা ২৯/৬/২০০৭       
সূচির পাতায় ফেরত    


শ্রীমতী শাঁওলী মিত্র              পিতা মহান শম্ভু মিত্র
তিনি নিজে বিখ্যাত নাট্যকার |
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামে                   জমি লুঠ, শিল্পের নামে
দেখি চুপ থাকিলেন না আর ||
বার বার পথে নামি                   রাজরোষ-ফল জানি
প্রতিবাদে মুখর হইলেন |
সমভাবাপন্ন মিলি                         বহু অর্থ-দান তুলি
আর্তের নিকটে পৌঁছাইলেন ||
পথে রাজার যত গুণ্ডা             মগজ ধোয়া চেলা চামুণ্ডা
নাম করে খোঁজে তাঁহারে |
সঙ্কটে মনের বল                      না হারাইয়া অবিচল
তিনি প্রতিবাদ যান করে ||
তাঁহার লেখনী বাণ                   রাজা খোঁজে পরিত্রাণ
খল-রাজা করে ছট্ ফট্ |
দুষ্ট কবি কয় সত্যি                তিনি হলেন "নাথবতী"
তিনি কদাচ নন "অনাথব
ত্" ||

( "নাথবতী" কথাটির মানে এখানে "রাজকন্যা" )
.                                  *********** কলকাতা ২৯/৬/২০০৭        
সূচির পাতায় ফেরত  


শ্রীযুক্ত নির্বেদ রায়               বিধায়ক তিনি এই বাংলায়
কংগ্রেস দলের তিনি নেতা |
গণমাধ্যমে আসর জমান                   যুক্তি-তর্ক্কে নম্বর ওয়ান
তিনি জ্ঞানী এবং অতি সুবক্তা ||
এমন গাহেন ঐক্যের গান              শুনিয়া "ঐক্য" ছুটে পালান
বলার ঢঙে এমনই মার প্যাঁচ |
আসলে তাহার প্রতিটি বাক্য        মশলা, ভাঙ্গার বিরোধী ঐক্য
কথায় চালান ছুরি ঘ্যাঁচ্ ঘ্যাঁচ্ ||
কংগ্রেসীরা গাছের খাবে             সঙ্গে গাছের তলা ও কুড়াবে
তিরিশ বছর এটাই তাদের খেলা |
বিরোধী ঐক্য মুখে বলা               কথায় পড়ান কাঁটার মালা
শুনে বিরোধী যত হয় ফালা ফালা ||
জমির আন্দোলনে                   তাঁরা কোথায় কে তা জানে
নির্বেদ খণ্ডে যুক্তি তর্ক দিয়া |
দুষ্ট কবি বলে                           আগে নির্বেদ বাবুর দলে
নেতারা সবে বসুন ঈর্ষা ত্যাগিয়া ||

.                                  *********** কলকাতা ২৯/৬/২০০৭        
সূচির পাতায় ফেরত  


শিল্পী শ্রী শুভাপ্রসন্ন                    সুদর্শন অতি সৌম্য
"কাক" তাঁহার আঁকা ছবির বৈশিষ্ট |
বিখ্যাত নোবেল জেতা                   বন্ধু গুন্টার গ্রাস, হেথা
তাহার আতিথ্যেই সদা তুষ্ট ||
নন্দীগ্রামের নর-সংহার                  তাঁর মনে করে প্রহার
প্রতিবাদে তিনি পথে নেমেছেন |
তাঁহার আঁকা ছবি                          বেদনার প্রতিচ্ছবি
প্রতিবাদে মুখর তিনি হয়েছেন ||
শিল্পী তার ইজেল থেকে                চোখ তুলে জগত দেখে
তুলির টানে করেন প্রতিবাদ |
রাজার-প্রসাদ-লোভ                         বর্জনে নাহি ক্ষোভ
শিল্পী চাহেন স্বাধীনতার স্বাদ ||
দীর্ঘ কাল চলে হামলা                      মূক ও বধীর বাংলা
যেন কিছু দেখে শুনে নাই |
ভাঙিয়া সবার ঘুম                     লাগে পুনরুদ্ধারের ধূম
দুষ্ট কবি তাই লিখে যাই ||

.                                  *********** কলকাতা ২৯/৬/২০০৭        
সূচির পাতায় ফেরত


সর্দার আমজাদ আলী           দিলেন ঠাণ্ডা জল ঢালি
জমি লুঠের প্ল্যানে-পরিপাটি |
নন্দীগ্রামে সবাই মিলে               তাঁরই দেওয়া নাম নিলে
"ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি" ||
তিনি খ্যতনামা উকিল                   তাই এখন মুশকিল
তাঁকে সহজে বাগ মানানো |
তিনি আন্দোলনের সৈনিক               আর সুবক্তা-সঠিক
কঠিন, আদালতেও তাঁকে আটকানো ||
স্পষ্ট-ভাষী তিনি                           সেকুলারিজম্ মানি
হিন্দু মুসলিম নাহি কেহ বাদ |
বুদ্ধবাবুর চালে                       শাহী ইমাম সেথা গেলে
সজোরে করেছেন প্রতিবাদ ||
দুষ্ট কবি বলছে                       এই প্রখম তাঁরা চলছে
মুসলমানগন নিজের দাপে হাঁটিয়া |
তাঁরাও এদেশে সমান                নন্দীগ্রাম করেছে প্রমাণ
রাজনৈতিক বোড়ের ইমেজ ছাঁটিয়া ||

.                                  *********** কলকাতা ০১/০৮/২০০৭        
সূচির পাতায় ফেরত




পড়ুন ঠিক এমনই আরও একটি কবিতা সিঙ্গুরে কে কোথায় দাঁড়িয়ে

এই কবিতাটির উপর আপনার মতামত জানাতে এখানে ক্লিক করুন

মিলনসাগর
দুষ্ট কবির ধৃষ্ট কবিতা