সরলা দেবীচৌধুরাণী ঐতিহ্যমণ্ডিত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ীর স্বর্ণকুমারী দেবী এবং 'জাতীয় কংগ্রেসের' প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
জানকীনাথ ঘোষালের কন্যা | ১৯০৫ সালে বিবাহসূত্রে আবধ্য হন আইনজীবি রামভূজ দত্ত চৌধুরীর সাথে, জিনি 'পাঞ্জাব আর্য সমাজের'
নেতা ও লাহোর থেকে প্রকাশিত 'হিন্দুস্তান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন |
বেথুন স্কুলে তাঁর সহপাঠিনী ছিলেন
কামিনি রায় ও লেডি অবলা বোসু | ১৮৮৬ সালে তিনি এনট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম হন | ১৮৯০ সালে
ইংরেজী অনার্স নিয়ে স্নাতক হন | সংস্কৃত, ফার্সী ও ফরাসী ভাষায় তাঁর ভাল দখল ছিল |
স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে |   তাঁর কর্মযজ্ঞের পরিধি সারা ভারতবর্ষ জুরে ছড়িয়ে ছিল  | একবার জাতীয়
কংগ্রেসের সভায় বন্দেমাতরম গানটি, 'সাতকোটির' জায়গায় 'তিরিশ কোটি' করে গানটি পরিবেশন করেন | তিনি মহিশূরে 'মহারাণী
বালিকা বিদ্যালয়ে' পড়িয়েছেন | পাঞ্জাবে পর্দার অন্তরালের মহিলাদের শিক্ষায় ব্রতী ছিলেন | তাঁরই প্রচেষ্টায় 'ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল' সংথা
স্থাপন করা হয় | স্বামীর কারাবাস কালে তিনিই 'হিন্দুস্তান' পত্রিকা প্রকাশনার ভার গ্রহণ করেন এবং এই পত্রিকার ইংরেজী সংস্করণ বার
করেন | এ ছাড়া যে সব প্রকাশনার সম্পাদনায় তিনি সাহায্য করতেন তার মধ্যে আছে ভারতী, নববর্ষের স্বপ্ন, জীবনের ঝরাপাতা, ভারত
স্ত্রী মহামণ্ডল ইত্যাদি |
কলকাতায় তিনি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তকে স্বদেশী আন্দোলনে সাহায্য করেছেন | তিনি ভারত স্ত্রী শিক্ষা সদন গঠন করে মেয়েদের নানান
অস্ত্রবিদ্যায় প্রশিত্ক্ষণ দেবার বন্দোবস্ত করেছিলেন | দেশী কুটির শিল্পের জন্য স্হাপন করেছিলেন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' | তাঁর, বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে, বাংলার যুবসমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে 'প্রতাপাদিত্য উত্সব' ও 'বীরাষ্টমী ব্রত উত্সবের'
সূচনা করা | তাঁর জন্য তাঁকে মাতুল
রবীন্দ্রনাথ সহ অনেকেরই বিরাভাজন হতে হয় | বাংলার ইতিহাসে যশোররাজ প্রতাপাদিত্য একজন
হৃদয়হীন বলে কুখ্যাত হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সরলা দেবী রাজার, মোগল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের সিক্কা চালাবার সাহস ও
বীরত্বকে বাংলার যুবক যুবতীদের কাছে তুলে ধরেছিলেন |
মোহনদাস গান্ধী, লোকমান্য তিলক, অতুল প্রসাদ সেন সহ বহু উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল |

বলাবাহুল্য, স্বদেশপ্রেম নিয়ে তিনি বহু কবিতা রচনা করে গিয়েছেন |
সরলা দেবীচৌধুরাণীর কবিতা  
HOME
HOME BANGLA