যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।  www.milansagar.com
*
নতুন সূর্য্য     
০২. ১২. ২০০৭

নন্দীগ্রাম একটা নাম রক্ত দিয়ে লেখা -
কৃষক এখানে ঝড়ায় রক্ত বন্দুকে টানে রেখা ।
রেখার দুধারে ভারাটে গুণ্ডা মরে মারে আসে তেড়ে ,
মেয়ে, শিশু, বুড়ো ভয়ে কেঁপে মরে লাল পতাকার ঘেরে ।
থানার দারোগা, সৈন্য সমেত দ্যাখে জুল জুল চোখে -
কেমনে চলেছে হত্যালীলাটা , কেমনে মরছে লোকে ।
কৃষকের হাতে বন্দুক আজ জমি টাটাদের হাতে,
কৃষির উপর শিল্প সত্য কোনো ভুল নেই তাতে।
কৃষ্ক দরদী লাল নেতা হাঁকে দে দমাদম মার
রক্তগঙ্গা বয়ে যায় তবু মানছেনা কেন হার !
রাধার সখীটি বড় লাল টিপে রাখে কপালটি ঢেকে
মুখে ভাষাখানি অতি অসভ্য কেডার কে বলে ডেকে-
কাস্তে-হাতুড়ি থাক পরে আজ, বন্দুক নাও তুলে-
মা-বোন কারেও কোরোনা রেয়াত, ভভ্যতা যাও ভুলে।
সুভাষের মুখে কেবলি কূভাষ, বিমান বলেনা সত্য
শ্যামল এখন রক্তবর্ণ , অহঁঙ্কারেতে মত্ত ।
বুদ্ধবাবু সিনেমা দেখেন, এটাই তো তার কাজ,
বহিরাগতরা মরছে মরুক - বাহবা গুন্ডারাজ ।
নতুন সূর্য্য উদয় হয়েছে রক্ত নদীর ধারে,
সুশীল সমাজ এবারে চাইলে, সে ছবি দেখতে পারে ।

.    ********************************************         

.                                                                                  
উপরে
.                                       কবির নিজের ব্লগ-এ যেতে এখানে ক্লিক করুন
.                            সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                               সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
.  সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানে ক্লিক করে


মিলনসাগর
কবি সান্ত্বনার(Santwana) সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা
ই কবির নিজের একটি  ব্লগ রয়েছে | সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মানুষের দুঃসহ বেদনা তিনি তাঁর
কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন |  আমরা আমাদের সাইটে কবির সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা তুলে
রাখছি শুধুমাত্র সংগ্রহের জন্য |

আমরা অনুরোধ করছি, আপনারা নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করে কবি সান্ত্বনার নিজস্ব ব্লগ-এ
গিয়ে তাঁর কবিতা পডুন |  তাতে একদিকে যেমন আপনারা তাঁর কবিতা তাঁর নিজের তৈরী
পরিবেশে পড়ে আরও আনন্দিত হবেন, অন্যদিকে কবির অন্য বিষয়ে অন্য সুরে লেখা
কবিতাও পড়ার সুযোগ পাবেন |

কবি সান্ত্বনার ব্লগের ঠিকানা :
http://blog.evergreenbangla.com/author/santwana/

আমরা এখানে শুধুমাত্র তাঁর সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা তুলে দিচ্ছি |

১।    নতুন সূর্য্য           
২।    
বুদ্ধবাবুর শান্তির বারি            
৩।    
রাজ্য পুলিশ          
৪।     
মূর্খমন্ত্রী           
৫।     
ধিক্কার       
   
*
বুদ্ধবাবুর শান্তির বারি       
৩০. ১২. ২০০৭

দুঃখ পেয়েছে বুদ্ধবাবু- শান্তিকে আনো ধরে।
এখোনো তোমরা অধোমুখ কেন ?
নাম করো জোরে জোরে ।
জয় বুদ্ধ, জয় বিমান, জয় সিপিএম রাজ ।
লাল পতাকার হাওয়া দাও আর
পরাও মাথায় তাজ ।
তোমার বাড়িটা পুড়ে গেছে আর
তোমার ছেলেটা মৃত ।
তাতে কি হয়েছে, শান্তি আগুনে
ওরা যে গব্য ঘৃত ।
নাতির রক্তে ভেজা এই মাটি
মায়ের রক্তে ঘর-
মেয়েকে তোমার পাওনাই খুঁজে -
নিয়ে গেছে বর্বর -
বুদ্ধবাবুর কেডার বাহিনী-
ধ্বংসলীলায় মেতে ।
এখন এনেছে শান্তির জল
কাটা ঘায়ে ছিটে দিতে ।।

.    ************************         

.                                                                                  
উপরে
.                                       কবির নিজের ব্লগ-এ যেতে এখানে ক্লিক করুন
.                            সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                               সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
.  সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানে ক্লিক করে


মিলনসাগর
*
রাজ্য পুলিশ      
০৯. ১২. ২০০৭

রাজ্য পুলিশ কেমন করে শান্তি রাখে ধরে,
পুলিশরে লেজ বাঁধা যে আজ সিপিএমের ঘরে.
পার্টির কথায় নাচে পুলিশ, পার্টির কথায় ছোটে.
পার্টির কেডার মারলে চাঁটি, ঠোঁট ফুলিয়ে ওঠে.
তালপাতার সেপাই এরা, কেউবা কুমড়োপটাস.
হাতে বিড়ি, পায়ে চটি, চলে ফটাস ফটাস.
ঘুসের টাকায় ফুলছে ভাল এদের টাকার থলি.
গরীব মানুষ হচ্ছে শুধু এদের হাতে বলি.
কেডার করে ধর্ষণ, আর কেডারে নেয় জান
রাজ্যপুলিশ দাঁড়িয়ে দ্যাখে- কি কর্তব্য জ্ঞান.
পুলিশবাবু ব্যাস্ত ভীষণ ক্রকেট নিয়ে মাতে.
ব্যবসায়ীরা টাকা ঢালে উপুড় করে হাতে.
কার বিয়েটা ভাঙ্গতে হবে, কাকে করবে যে ঘর ছাড়া
জেলখানাতে পুরতে হবে- গান গাইছে কারা !
বুদ্ধবাবুর জমিদারি, টাটা-বিড়লার রাজ
বড়লোকের পাহাড়াদারী, এটাই এদের কাজ.
এদের টিকি বাঁধা কোথায় সবাই সেটা জানে-
নন্দীগ্রামে শান্তি এরা কেমন করে আনে !

.    ************************         

.                                                                                  
উপরে
.                                       কবির নিজের ব্লগ-এ যেতে এখানে ক্লিক করুন
.                            সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                               সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
.  সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানে ক্লিক করে


মিলনসাগর
*
মূর্খমন্ত্রী        
০৯. ১২. ২০০৭

সাবধান সাবধান
মূর্খমন্ত্রী ইদিকে আসছেন।
ফন্দীগ্রামে শুনছি নাকি শান্তি ফিরেছে এগারো মাস পরে ।
নতুন   একটা সূর্য ও নাকি উদয় হয়েছে
সঙ্গে লাল পতাকা উড়ছে ঘরে ঘরে।

[আমাদের স্বগোতক্তি ]
ফন্দীগ্রাম স্মশান হয়েছে, প্রাণের সঙ্গে মান,
সবই তো হয়েছে বলি।
পোড়া ঘর আছে, মানুষ তো নেই
অশান্তিটা কেই বা করতে পারে !

[মূর্খমন্ত্রী]
ঘরের মানুষ ঘরেতে ফিরেছে, তবু বল ঘর খালি।
তোমাদের বুঝি আর কাজ নেই
শুধু আমাদের দাও গালি।
তোমাদের মুখ বন্ধ করার ক্ষমতা আমার হাতে।
আমরা এখন ধর্ষণ আর হত্যালীলায় ভীষণ ব্যাস্ত বলে
যতই চ্যাঁচাও কান দিচ্ছিনা তাতে।
ফন্দীগ্রামের লাল সুর্য্য এখনো নতুন তাই,
পাচ্ছনা টের, কদিন পরেই আঁচ পাবে গায়
সাবধানে থাক ভাই।
ভুলেও আমাকে ভেবনা তোমরা মূর্খমন্ত্রী
আমি ছিপিএম জেনো।
হালুয়াটাইট করে দেবে মোর কেডার বাহিনী
চিহ্ন রবেনা কোনো।

ওরে !
আমার রাজ্যকবি কোথায়, সে কি কয় !
[বোকাবাক্সে মুখ দেখাতে গেছে বোধ হয় ]
চুপ ব্যাটা অর্বাচীন।
মাথা মোটা হচ্ছে দিন দিন।
দেখেছিস আমার রাজ্যশিল্পী, বুড়ো পক্ক কেশ
দাঁত খিঁচিয়ে মিথ্যা কথা বল্ল কেমন
বুদ্ধুজীবীদের দিল কেমন ঠেশ ।
কুভাষ কোথায় ছিল ঘাপটি মেরে
এসেই কিন্তু দ্যাখ গেছে ঠিক তেড়ে।
[এরা সব পষ্য বুঝি? তা বললেই হয় সোজাসুজি]
ওরে অবোধ এটা বোঝা তদের কম্ম নয়।
নীল মন্ত্রে দীক্ষা নিতে হয়।
গরীব-মানুষ-মারা, ধর্ষণ, ছিনতাই আর রাহাজানি,
মিথ্যা ভাষণ, শিল্পপপতিদের পদলেহন- এ সব আমরা জানি।
আর আমাদের চিমড়া বুড়ো বি-অবতার,
আমাদের বাঁটুলদি গ্রেট,
কেমন গালাগালির জোয়ার
আদালত আর রাজ্যপালকে দিল কেমন থ্রেট ।
তাইতো আমি বলছি শোন্ আমি মোটেই মু-ম্নত্রী নহি,
আমার আগে পার্টি, আমি তার লেজের ভার বহি।

সাবধান সাবধান,
মূর্খমন্ত্রী উদিকে যাচ্ছেন ।।

.    ************************         

.                                                                                  
উপরে
.                                       কবির নিজের ব্লগ-এ যেতে এখানে ক্লিক করুন
.                            সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                               সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
.  সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানে ক্লিক করে


মিলনসাগর
*
ধিক্কার      
০২.১২.২০০৭

ধিক্ ধিক্ ধিক্কার ধিক্ এই সরকার
এখানে বাতাসে বারুদগন্ধ ঘাসে পরে ভাঙ্গা চুরি।
হলদি বক্ষে শিশুদেহ ভাসে মার বুকে পোঁতা ছুরি।
গুলি চলে গেছে বুক পিঠ চিরে রক্তে যে ভাসে যোনি ।
একি ভয়ানক শক্তি প্রকাশ কার এই শয়তানী ?
ভীষণ দর্পে হেসে বলে বাবু - এরা তো বহিরাগত ,
জব্দ করেছি নষ্টামি যত, কে হে তুমি ঝার বাণী ?
রাজ্য আমার এরা সব প্রজা নীচু জাত চাষা-ভূষো
জমি ছাড়বেনা স্পর্ধা কতটা এস ভরে দেই ঠুসো।
দয়া করে আমি যতটুকু দেব খুশী থাক তাই নিয়ে ,
তা নয় ব্যাটারা লড়তে এসেছে মা-ছেলে-বউ নিয়ে ।
পুলিশ, কেডার, অস্ত্র-শস্ত্র সবই তো আমার কাছে ।
মাছির মতন টিপে মেরে দেখি এদেরও রক্ত আছে।
সেই রক্তের জন্য তোমার এতটা চোখের জল ?

বাবু তুমি বুঝা পিশাচ-শিদ্ধ যেতে চাও রসাতল !
নরককুন্ড ঢেকে রাখ যেই লাল শালুখানা দিয়ে ,
যেদিন পুড়বে পতাকা তোমার তোমাকেও সাথে নিয়ে-
চোখের জলের দ্যাখা কোনো আর পাবেনা সেদিন তুমি ।
বুদ্ধি থাকেতো সময় থাকতে ছাড় এই শয়তানী ।

.    ************************         

.                                                                                  
উপরে
.                                       কবির নিজের ব্লগ-এ যেতে এখানে ক্লিক করুন
.                            সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                               সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
.  সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এখানে ক্লিক করে


মিলনসাগর