কবি অমল বাওয়ালীর কবিতা ও গান
সোনার গৌর ডাকলে কি আর
কথা ও সুর --   কবি অমল বাওয়ালী
রচনা ২৭-০৮-২০১৩

সোনার গৌর ডাকলে কি আর
আসবে কি তোর মাটির ঘরে
দিলে নকূলদানা আর আসবেনা
মন মজেছে সাগর পাড়ে |

যাদের আছে ধনৈশ্বর্য্য
তারাই বোঝে সে মাধূর্য্য
অভাবে থাকে না ধৈর্য্য
চোর ঢুকে যায় ভাবের ঘরে |

সোনার খাটে শ্রী গৌরাঙ্গ
সুখে নিদ্রা যায়
দেখনা গিয়া দুচোখ দিয়া
সোনার নদীয়ায় |

তিলক মাখা বসন-ভূষণ
নাই কিছু আর আগের মতন
অমল বলে নিমাই এখন
ইংরাজী কয় মায়া পুরে ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধর্ম্ম তোকে স্বর্গে নেবে
কথা ও সুর - কবি অমল বাওয়ালী
রচনা ০৫-০৯-২০১৩

ধর্ম্ম তোকে স্বর্গে নেবে
ডুবাবে এই মর্ত্তে
খাস না এ আফিমে গুলি
পারবি না তো ছাড়তে ||

মানুষ নামে একটাই জাত
আছে ভালো মন্দ
পুরুষ নারী কেউ আনাড়ি
তাদের নিয়েই দ্বন্দ্ব
চোখ থেকেও থাকে অন্ধ
( শেষে ) তারাই পড়ে গর্তে ||

ধর্ম্ম নিয়ে গলদ ঘর্ম্ম
বলদ কিছু লোক
নারীও নয় পুরুষো নয়
অন্ধতাই তার চোখ |

ধর্ম্ম মানে ধারণ করা
বলছে ব্যাকরণে
দেব-দেবী নয় মানুষ সত্য
এই কথা কে শোনে ?
অমল বলে এই কারণে
চাইনা মানুষ ছাড়তে ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
ও তুই মরলে পরেও শান্তি পাবি না
কথা ও সুর - কবি অমল বাওয়ালী                গানটি শুনুন এখানে ক্লিক্ করে. . .   
শিল্পী - নান্টু কাহার
রচনা ২০-০৮-২০১২

ও তুই মরলে পরেও শান্তি পাবি না
ভেবেছো কি মনে মনে
শান্তি পাবি ওই শ্মশানে
পুড়বি না কাঠের আগুনে
এই টুকু যা শান্তনা ||

ভাবছো যাবি কান্ধে চড়ে
ঘাটে কি নদীর কিনারে
নিয়ে যাবে ম্যাটাডোরে
কান্ধের মজা মিলবে না ||

একটু খানি কান্নাকাটি
বাজবে না রে খোল
কেউ খোঁজে ভাই কল্কী দড়ি
কেউ খোঁজে বোতল ||

যদি কেহ হয় রে নেতা
তার থাকে আলাদা কথা
তার পাসে হাজার জনতা
তোর কাছে কেউ যাবে না ||

অনাহারে মরলে বাবা
ছাড়বে না তো পৌরসভা
অমল বলে যমের থাবা
সেওত আর এক যন্ত্রণা ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধর্ম্ম নিয়ে করনা এবার ধর্ম্মঘট
কথা - কবি অমল বাওয়ালী
সুর - প্রচলিত
রচনা ০৫-০৯-২০১২

ধর্ম্ম নিয়ে করনা এবার ধর্ম্মঘট
তাতে বন্ধ হবে রথের চাকা
পথের কাঁটা, এ সংকট ||

ধর্ম্ম-রূপি মোহ যারে, ঘাড়ে এসে চেপে ধরে
অন্যে মারে নিজে মরে, জাতাজাতি হয় প্রকট
নিয়ে ধর্ম্ম-ধর্ম্ম তত্ত্ব, গ্রীস মরেছে, রোম বিলুপ্ত
( কেন ) রক্ত দিয়ে কর সিক্ত
দেব দেউলের পূজার ঘট ||

মানুষ হয় জগতে শ্রেষ্ঠ, দেবতা মানুষের সৃষ্ট
আল্লা হরি যীশুখৃষ্ট, সবি মানুষের সন্তান
কেউ কি দেখা পেল তারে, পূজা, রোজা, নামাজ পড়ে
ভূতকে যদি ভূত ধরে
করবে কে তার মন্ত্র পাট ||

বহুর মধ্যে রাখে ঐক্য, এই হলো মূল ধর্ম্মের লক্ষ্য
দেব, দেবতাই দেবে সাক্ষ্য, কে সাধু আর কে শয়তান
ধর্ম্ম নিয়ে জ্বেলে আগুন, কত মানুষ হচ্ছে যে খুন
অমল বলে বাড়ছে দ্বিগুন
গোরস্থান আর শ্মশান ঘাট ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি নামের তরী বেয়ে আমি
কথা ও সুর --   কবি অমল বাওয়ালী
রচনা ০৯-০৯-২০১৩

হরি নামের তরী বেয়ে আমি
যাবো মদিনায়
জ্বেলে জ্ঞানের বাতি, দেব আরতী
আমি পিরের দরগায় ||  ( নবীর দরগায় )

কৃষ্ণ নামের ঢেউয়ের তালে
( আমি ) বাইবো তরি আল্লা বোলে
তাতে লাগবে হাওয়া হৃদয় পানে
ঈদের জোছনায় ||

জাত বেজাতের লাগলে হাওয়া
হয় যে কঠিন তরী বাওয়া
তার হবে না পাড়ে যাওয়া
তরী ডুবে যাওয়ার ভয় ||

আল্লা নামের নৌকা খানি
পাড় করে দেয় বৈতরণী
অমল বলে জল আর পানী ( একই )
জোয়ার আর ভাটায় ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
এ দেশে আর কি হবে, ঘুষ কে বলে জল-পানী
কথা -  কবি অমল বাওয়ালী
রচনা ০৯-০৫-১৯৯৫

এ দেশে আর কি হবে, ঘুষ কে বলে জল-পানী
কি কমু দুঃখের কথা ঘা শুকাতে চুলকানি |

পশুর সমাজ অনেক ভালো
জাত পাতের সব বালাই নাই
কুকুর বিড়াল কোলে তোলে
মানুষ ছুঁলে নাইতে যাই
মানুষ রূপে পশু যারা
জাতের বিচার করে তারা
কোরাণ পুরাণ একই ধারা
কেউ বলে জল কেউ পানি ||
মানুষ মরে অনাহারে কে করে তার প্রতিবাদ
আমলারা সব ভাবে বসে কি সে তবে পকেট ভার
গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে লুট করে দিন দুপুরে
মান, নিল সব চোর ছ্যাচোর
মূর্খ হলো সব গুণী ||

( এখন ) চাম চিকেতে ধরে পেখম
ময়ূর দেখে লজ্জা পায়
ত্যালা পুইয়া কূলিন হলো
ইলিশ বিকায় বিশ টাকায়
মদ মাতাল জমির দালালে
দেশটা নিল রসাতলে
ছলে বলে রূপের জালে
দেউলিয়া ভারত জননী ||

এই নাকি সেই রাম রাজত্বে গণতন্ত্র এরি নাম
এর তরে কি প্রাণ দিয়েছে বিনয় বাদল ক্ষুদিরাম
সাগর পারে গেল মশা জুটল এসে রক্ত চোষা
ছাড়তে চায় না গদির নেশা
Democracy  জাহান্নামে ||

এখন আবার নতুন কায়দা ফয়দা নেবার নতুন রূপ
নেতায় নেতায় হাতাহাতি জনগণ হয় ভলিবল
দুঃখের কথা বলব কারে বাঘে ছুঁলেও বাঁচতে পারে
পড়বি যদি লবির ফেরে
বুঝবি শেষে কি হয়রানি ||
চাইনা মোরা দলাদলি হিন্দু বুদ্ধ মুসলমান
পাশাপাশি থাকবো নিয়ে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান
অমল কয় ছিল না পুঁজি সর্ব্ব হারা কয় রিফিউজি
আমরা ঠ্যালায় পড়ে সবি বুঝি
করছে কারা এ শয়তানি ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
রক্তে রাঙা ফেব্রুয়ারী
কথা ও সুর -- অমল বাওয়ালী
রচনা  ২১-০২-২০১৩

রক্তে রাঙা ফেব্রুয়ারী
দিন ছিল একুশে
পদ্মা নদী সেই অবধি
চক্ষু নীরে ভাসে |

যে ভাষাতে দেখত স্বপন
কইতো মনের কথা
আশার ভাষা বান-ভাসি
( আজ ) বুকে জ্বলে চিতা
যায় কি ভোলা জীবনে তা
রক্তে আছে মিশে |

সোনার দেশের সোনার ছেলে
রাখতে মায়ের মান
রফিক সাকিল সালাম জব্বার
কত না জোয়ান |

যাও বিজয়ের পোষা পাখি
দিলাম তোকে ছেড়ে
কেমন আছে জসিম-উদ্দীন
বল এসে আমারে
অমল বলে নিজ ঘরে
রই যে পরবাসী |

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
সবার আগে পেট গোবিন্দ
কথা ও সুর -- অমল বাওয়ালী
রচনা  ২১-০১-২০১২

সবার আগে পেট গোবিন্দ
নিত্যানন্দ ভাতের থালা
কাকে ছাড়ি কাকে ধরি
চলছে সেবা রোজ দুবেলা ||

গোবিন্দ সেবার লাগি
কখনো সাজি বৈরাগী
রাগা-রাগী ভাগাভাগী
সবারিত একি জ্বালা ||

নিত্য সেবা হয় গো দিতে
ডাল রুটি পান্তা ভাতে
( নইলে ) ঘুম ভেঙে যায় মধ্যরাতে
মন্দিরে পড়িল তালা ||

উদরে থাকিলে ক্ষুধা
বাঁশি লাগে বিষ
সবার আগেতে পেট গোবিন্দ
এই কথা মানিস ||

মাঝে মধ্যে ভালোমন্দ
দিয়ে ভজি পেট গোবিন্দ
অমল বলে কি আনন্দ
কান্দে ঘরে মাইয়া পোলা ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
রক্ত রঙিন অক্ষরে লেখা ২১শে ফেব্রুয়ারী
কথা ও সুর -- অমল বাওয়ালী
রচনা  ১৭-০১-২০১১

রক্ত রঙিন অক্ষরে লেখা ২১শে ফেব্রুয়ারী
ক্লান্ত যেথায় শ্রাবণের ধারা মুক্তিতে সাক্ষ্য তারি
মোরা তারে কি ভুলিতে পারি |

রক্তে রাঙানো মাটির বক্ষে
কত শত লেখা নাম
রফিক সাধিক বরকত
যারা দিয়ে গেল নিজ প্রাণ
রক্ত গরবে বাংলার মান
শোণিতের কালি তাদের লেখনী
বাংলার অভিধান ||

যে ভাষায় ভাসে বাংলার মাঝি
যে ভাষায় ভালোবাসা
যে ভাষায় গড়ে বুলবুলি আজও
ডালিমের ডালে বাসা
অমল হৃদয়ে যে ভাষার বাসা
তারে কি ভাঙিতে পারি ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
এক হাতে যার বাঁশের বাঁশরি
কথা ও সুর -- অমল বাওয়ালী
রচনা  ১১ই জৈষ্য্য
( কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ )

এক হাতে যার বাঁশের বাঁশরি
আর হাতে রণতুর্য্য
বিদ্রোহী কবি প্রণমী তোমারে
পথিকের পথ সূর্য্য ||

রক্তে কমলে ভারত মাতারে
পূজিয়াছ গানে কবিতায়
স্মৃতি অর্ঘ্য কর হে গ্রহণ
আলোক প্রকাশে সবিতায়
গলে লহ আজ গীতির মালিকা
শতকের শতসূর্য্য ||

অগ্নীবীণার ঝংকারে তুমি
মাতালে বিশ্ব পৃথিবী
অপার মহিমা লহি যার সীমা
জাতির প্রতিমা তুমি কবি
পাষাণের ঘুম ভাঙাতেও তুমি
তাইতো জগতে পূজ্য ||

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
setstats