কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়
শচীর অঙ্গণে নাচে বিশ্বম্ভররায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৭৭৪-পৃষ্ঠা।

॥ গীতে বিভাষঃ॥

শচীর অঙ্গণে নাচে বিশ্বম্ভররায়।
হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়॥
বয়ানে বসন দিয়া বলে লুকাইলু।
শচী বলে বিশ্বম্ভর আমি না দেখিলু॥
মায়ের অঞ্চল ধরি চঞ্চল চরণে।
নাচিয়া নাচিয়া যায় খঞ্জনগমনে॥
বাসুদেব ঘোষে কহে অপরূপ শোভা।
শিশুরূপ দেখি হয় জগমন লোভা॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ১৯শপল্লব, কৌমার-পৌগণ্ডোচিত বাত্সল্য, ১১৫১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ১৬৫৭ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়।
হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়॥
বয়নে বসন দিয়া বোলে লুঁকাইলুঁ।
শচী বোলে বিশ্বম্ভর আমি না দেখিলুঁ॥
মায়ের অঞ্চল ধরি চঞ্চল-চরণে।
নাচিয়া নাচিয়া যায় খঞ্জন-গমনে॥
বাসুদেব ঘোষে কহে অপরূপ শোভা।
শিশুরূপ দেখি হয় জগ-মন লোভা॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়।
হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়॥
বয়নে বসন দিয়া বলে নুকাইনু।
শচী বলে বিশ্বম্ভর আমি না দেখিনু॥
মায়ের অঞ্চল ধরি চঞ্চল-চরণে।
নাচিয়া নাচিয়া যায় খঞ্জন-গমনে॥
বাসুদেব ঘোষে কহে অপরূপ শোভা।
শিশু-রূপ দেখি হয় জগ-মন লোভা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার, দশকোশি॥

শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়।
হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়॥
বয়নে বসন দিয়া বলে লুকাইনু।
শচী বলে বিশ্বম্ভর আমি না দেখিনু॥
মায়ের অঞ্চল ধরি চঞ্চল চরণে।
নাচিয়া নাচিয়া যায় খঞ্জনগমনে॥
বাসুদেব ঘোষ কয় অপরূপ শোভা।
শিশুরূপ দেখি হয় জগমন লোভা॥

ই পদটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত সুকুমার সেন সম্পাদিত “বাংলা কবিতা সমুচ্চয়”, প্রথম
খণ্ড, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচীর আঙ্গিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়।
হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়॥
বয়নে বসন দিয়া বলে লুকাইনু।
শচী বলে বিশ্বম্ভর আমি না দেখিনু॥
মায়ের অঞ্চল ধরি চঞ্চল চরণে।
নাচিয়া নাচিয়া যায় খঞ্জন গমনে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে অপরূপ শোভা।
শিশুরূপ দেখি হয় জগ মন লোভা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আজিকার স্বপনের কথা শুনলো মালিনী সই
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৭০। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ২৩৭৪ সংখ্যক পদ।

॥ বিভাষ॥

আজিকার স্বপনের কথা                শুন গো মালিনী সই
নিমাঞি আসিয়াছিল ঘরে।
আঙ্গিনাতে দাঁড়াইয়া                গৃহ পানে চাইয়া চাইয়া
মা বলিয়া ডাকিল সে আমারে॥
ঘরেতে শুতিয়াছিলাম                অচেতনে বারাইলাম
নিমাঞির গলার সাড়া পাইয়া।
আমার চরণ-ধূলি                    নিল নিমাই শিরে তুলি
পুন কান্দে গলায় ধরিয়া॥
তোমার প্রেমের বশে               ফিরি আমি দেশে দেশে
রহিতে নারিলাম নীলাচলে।
তোমারে দেখিবার তরে               আইলাম নদীয়া পুরে
কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥
আইস মোর বাছা বলি                 হিয়ার মাঝারে তুলি
হেন কালে নিদ্রা-ভঙ্গ হৈল।
পুন না দেখিয়া তারে                     পরাণ কেমন করে
কান্দিয়া রজনী পোহাইল॥
সেই হৈতে প্রাণ কান্দে                  হিয়া থির নাহি বান্ধে
কি কহিব কহ না উপায়।
বাসুদেব ঘোষে কয়                   গৌরাঙ্গ তোমারি হয়
নহিলে কি সদা দেখ তায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

আজিকার স্বপনের কথা                 শুন গো মালিনী সই
নিমাই আসিয়াছিল ঘরে।
আঙ্গিনাতে দাঁড়াইয়া                  গৃহ পানে নেহারিয়া
মা বলিয়া ডাকিল আমারে॥
ঘরেতে শুইয়া ছিলাম                অচেতনে বাহির হৈলাম
নিমাইর গলার সাড়া পাইয়া।
আমার চরণের ধূলি                    নিল নিমাই শিরে তুলি
পুনঃ কাঁদে গলাটী ধরিয়া॥
তোমার প্রেমের বশে               ফিরি আমি দেশে দেশে
রহিতে নারিলাম নীলাচলে।
তোমারে দেখিবার তরে               আইলাম নৈদ্যাপুরে
কাঁদিতে কাঁদিতে ইহা বলে॥
আইস মোর বাছা বলি                 হিয়ার মাঝারে তুলি
হেন কালে নিদ্রাভঙ্গ হৈল।
পুনঃ না দেখিয়া তারে                     পরাণ কেমন করে
কাঁদিয়া রজনী পোহাইল॥
সেই হৈতে প্রাণ কাঁদে                  হিয়া থির নাহি বাঁধে
কি করিব কহ গো উপায়।
বাসুদেব ঘোষে কয়                   গৌরাঙ্গ তোমারি হয়
নহিলে কি সদা দেখ তায়॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্র নাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী, শ্যামাপদ চক্রবর্তী  
সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”. ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওযা রয়েছে।


আজিকার স্বপনের কথা                শুনলো মালিনী সই
নিমাই আসিয়াছিল ঘরে।
আঙ্গিনাতে দাঁড়াইয়া                      গৃহপানে নেহারিয়া
মা বলিয়া ডাকিল আমারে॥
ঘরেতে শুতিয়াছিলাম              অচেতনে বাহির হৈলাম
নিমাইয়ের গলার সাড়া পাঞা।
আমার চরণের ধূলি                  নিল নিমাই শিরে তুলি
পুন কাঁদে গলায় ধরিয়া॥
তোমার প্রেমের বশে               ফিরি আমি দেশে দেশে
রহিতে নারিলাম নীলাচলে।
তোমারে দেখিবার তরে               আইলাম নদীয়া পুরে
কাঁদিতে কাঁদিতে ইহা বলে॥
আইস মোর বাছা বলি                 হিয়ার মাঝারে তুলি
হেন কালে নিদ্রাভঙ্গ হৈল।
পুন না দেখিয়া তারে                     পরাণ কেমন করে
কাঁদিয়া রজনী পোহাইল॥
সেই হৈতে প্রাণ কাঁদে                  হিয়া থির নাহি বাঁধে
কি কহিব কহ না উপায়।
বাসুদেব ঘোষে কয়                   গৌরাঙ্গ তোমারি হয়
নহিলে কি সদা দেখ তায়॥

.          ************************          
.                                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কি লাগিয়া দণ্ড ধরে অরুণ বসন পরে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২২৯। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ২৩৩৪ সংখ্যক পদ।

॥ ভাটিয়ারি॥

কি লাগিয়া দণ্ড ধরে                  অরুণ বসন পরে
কি লাগিয়া মুড়াইল কেশ।
কি লাগিয়া মুখ-চাঁদে              রাধা রাধা বলি কান্দে
কি লাগিয়া ছাড়িল নিজ দেশ॥
শ্রীবাসের উচ্চরায়                 পাষাণ মিলাঞা যায়
গদাধর না জিয়ে পরাণে।
বহিছে তপত ধারা                  যেন মন্দাকিনী পারা
মুকুন্দের ও দুই নয়ানে॥
সকল মহান্ত ঘরে                    বিধাতা বুঝাই ফিরে
তমু স্থির নাহি হয় কেহ।
জ্বলন্ত অনল হেন                       রমণী ছাড়িল কেন
কি লাগি তেজিল তার লেহ॥
কি কব দুখের কথা                   কহিতে মরমে বেথা
না দেখি বিদরে মোর হিয়া।
দিবানিশি নাহি জানি                বিরহে আকুল প্রাণী
বাসু ঘোষ পড়ে মুরছিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

কি লাগিয়া দণ্ড ধরে                   অরুণ বসন পরে
কি লাগিয়া মুড়াইল কেশ।
কি লাগিয়া মুখচাঁদে              রাধা রাধা বলি কাঁদে
কি লাগি ছাড়িল নিজ দেশ॥
শ্রীবাসের উচ্চ রায়                 পাষাণ মিলাঞা যায়
গদাধর না জিবে পরাণে।
বহিছে তপত ধারা                  যেন মন্দাকিনী পারা
মুকুন্দের ও দুই নয়ানে॥
সকল মোহান্ত ঘরে                বিধাতা বুঝাঞা ফিরে
তবু স্থির নাহি হয় কেহ।
জ্বলন্ত অনল হেন                      রমণী ছাড়িল কেন
কি লাগি ত্যজিল তার লেহ॥
কি কব দুখের কথা                   কহিতে খরমে ব্যথা
না দেখি বিদরে মোর হিয়া।
দিবা নিশি নাহি জানি                বিরহে আকুল প্রাণী
বাসু ঘোষ পড়ে মূরছিয়া॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্র নাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী, শ্যামাপদ চক্রবর্তী  
সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”. ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওযা রয়েছে।

কি লাগিয়া দণ্ড ধরে                  অরুণ বসন পরে
কি লাগিয়া মুড়াইল কেশ।
কি লাগিয়া মুখ-চাঁদে              রাধা রাধা বলি কাঁদে
কি লাগিয়া ছাড়িল নিজ দেশ॥
শ্রীবাসের উচ্চ রায়                 পাষাণ মিলাঞা যায়
গদাধর না জিয়ে পরাণে।
বহিছে তপত ধারা                  যেন মন্দাকিনী পারা
মুকুন্দের ও দুই নয়ানে॥
সকল মোহান্ত-ঘরে                বিধাতা বুঝাইয়া ফিরে
তবু স্থির নাহি হয় কেহ।
জ্বলন্ত অনল হেন                      রমণী ছাড়িল কেন
কি লাগি তেজিল তার লেহ॥
কি কব দুখের কথা                   কহিতে মরম-ব্যথা
না দেখি বিদরে মোর হিয়া।
দিবানিশি নাহি জানি                বিরহে আকুল প্রাণী
বাসু ঘোষ পড়ে মুরছিয়া॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ৩১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি লাগিয়া দণ্ড ধরে                   অরুণ বসন পরে
কি লাগিয়া মুড়াইল কেশ।
কি লাগিয়া মুখ-চান্দে              রাধা রাধা বলি কান্দে
কি লাগি ছাড়িল নিজ দেশ॥
শ্রীবাসের উচ্চ রায়                 পাষাণ মিলাঞা যায়
গদাধর না জিয়ে পরাণে।
বহিছে তপতধারা                  যেন মন্দাকিনী পারা
মুকুন্দের ও দুই নয়ানে॥
সকল মোহান্ত ঘরে                বিধাতা বুঝাইয়া ফিরে
তবু স্থির নাহি হয় কেহ।
জ্বলন্ত অনল হেন                      রমণী ছাড়িল কেন
কি লাগি তেজিল তার লেহ॥
কি কব দুখের কথা                   কহিতে মরমে বেথা
না দেখি বিদরে মোর হিয়া।
দিবানিশি নাহি জানি                বিরহে আকুল প্রাণী
বাসু ঘোষ পড়ে মুরছিয়া॥

.          ************************          
.                                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শচীর মন্দিরে আসি দুয়ারের পাশে বসি
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২২১। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ২৩২৬ সংখ্যক পদ।

॥ বিভাষ করুণ॥

শচীর মন্দিরে আসি                  দুয়ারের পাশে বসি
ধীরে ধীরে কহে বিষ্ণুপ্রিয়া।
শয়ন-মন্দিরে ছিলা                নিশাভাগে কোথা গেলা
মোর মুণ্ডে বজর পাড়িয়া॥
গৌরাঙ্গ জাগয়ে মনে                   নিদ্রা নাহি দুনয়নে
শুনিয়া উঠিলা শচী মাতা।
আউদড়-কেশে ধায়                     বসন না রহে গায়
শুনিয়া বধূর মুখের কথা॥
তুরিতে জ্বালিয়া বাতি                দেখিলেন ইতি উতি
কোন ঠাঞি উদ্দেশ না পাইয়া।
বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ সাথে              কান্দিতে কান্দিতে পথে
ডাকে শচী নিমাঞি বলিয়া॥
শুনিয়া নদীয়ার লোকে               কান্দে উচ্চস্বরে শোকে
যারে তারে পুছেন বারতা।
একজন পথে যায়                      দশজনে পুছে তায়
গৌরাঙ্গ দেখ্যাছ যাইতে কোথা॥
সে বলে দেখ্যাছি পথে            কেহো তা নাহিক সাথে
কাঞ্চননগর-পথে ধায়।
কহে বাসু ঘোষ ভাষা                    শচীর এমন দশা
পাছে জানি মস্তক মুড়ায়॥

ই পদটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত সুকুমার সেন সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

শচীর মন্দিরে আসি                  দুয়ারের পাশে বসি
ধীরে ধীরে কহে বিষ্ণুপ্রিয়া।
শয়ন-মন্দিরে ছিলা                নিশাভাগে কোথা গেলা
মোর মুণ্ডে বজর পাড়িয়া॥
গৌরাঙ্গ জাগয়ে মনে                   নিদ্রা নাহি দু-নয়নে
শুনিয়া উঠিলা শচীমাতা।
আউদড়-কেশে ধায়                     বসন না রহে গায়
শুনিয়া বধূর মুখে কথা॥
তুরিতে জালিয়া বাতি                দেখিলেন ইতি উতি
কোন ঠাঞি উদ্দেশ না পাইয়া।
বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ সাথে              কান্দিতে কান্দিতে পথে
ডাকে শচী নিমাই বলিয়া॥
শুনিয়া নদিয়া-লোকে               কান্দে উচ্চস্বরে শোকে
যারে তারে পুছেন বারতা।
একজন পথে যায়                      দশজনে পুছে তায়
গৌরাঙ্গ দেখ্যাছ যাইতে কোথা॥
সে বলে দেখ্যাছি পথে            কেহো তা নাহিক সাথে
কাঞ্চননগর পথে ধায়।
কহে বাসু-ঘোষ ভাষা                     শচীর এমন দশা
পাছে জানি মস্তক মুড়ায়॥

.          ************************          
.                                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরা-গুণে প্রাণ কান্দে কি বুদ্ধি করিব
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা,
২১শপল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৮০। এটি নিমানন্দদাসের
পদরসসার পুথির ১০৪১ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

গোরা-গুণে প্রাণ কান্দে কি বুদ্ধি করিব।
গৌরাঙ্গ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব॥
কে আর করিবে দয়া পতিত দেখিয়া।
দুর্ল্লভ হরির নাম কে দিবে যাচিয়া॥
অকিঞ্চন দেখি কেবা উঠিবে কান্দিয়া।
গোরা বিনু শূন্য হৈল সকল নদীয়া॥
বাসুদেব ঘোষ কান্দে গুণ সোঙরিয়া।
কেমনে রহিবে প্রাণ গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

গোরা-গুণে প্রাণ কান্দে কি বুদ্ধি করিব।
গৌরাঙ্গ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব॥
কে আর করিবে দয়া পতিত দেখিয়া।
দুর্ল্লভ হরির নাম কে দিবে যাচিয়া॥
অকিঞ্চন দেখি কেবা উঠিবে কাঁদিয়া।
গোরা বিনু শূন্য হৈল সকল নদীয়া॥
বাসুদেব ঘোষ কান্দে গুণ সোঙরিয়া।
কেমনে রহিবে প্রাণ গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত সুকুমার সেন সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৬২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরা-গুণে প্রাণ কান্দে কি বুদ্ধি করিব।
গৌরাঙ্গ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব॥
কে আর করিবে দয়া পতিত দেখিয়া।
দুর্লভ হরির নাম কে দিবে যাচিয়া॥
অকিঞ্চন দেখি কেবা উঠিবে কান্দিয়া।
গোরা-বিনু শূন্য হৈল সকল নদীয়া॥
বাসুদেব ঘোষ কান্দে গুণ সোঙরিয়া।
ঝুরয়ে নদীয়া-লোক গোরা না হেরিয়া॥

.          ************************          
.                                                                                  
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিরমল গোরা তনু কষিল কাঞ্চন জনু
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ,
পদসংখ্যা ২৮। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ২৫৮ সংখ্যক পদ।

অথ শ্রীরাধায়াঃ পূর্ব্বরাগঃ।
তদুচিত শ্রীগৌরচন্দ্র।
নাগরী উক্তি।
॥ কামোদ॥

নিরমল গোরা তনু                        কষিল কাঞ্চন জনু
হেরইতে ভৈ গেলুঁ ভোর।
ভাঙ-ভুজঙ্গমে                                দংশল মঝু মন
অন্তর কাঁপয়ে মোর॥
সজনি যব হাম পেখলুঁ গোরা।
আকুল দীগ                                বিদিগ নাহি পাইয়ে
মদনলালসে মন ভোরা॥ ধ্রু॥
অরুণিত-নয়নে                           তেরছ অবলোকনে
বরিখে কুসুম-শর সাধে।
জিবইতে জীবনে                            থের নাহি পায়লুঁ
ডুবলুঁ গঙ্গ অগাধে॥
মন্ত্র মহৌষধি                                তুহুঁ জানসি যদি
মঝু লাগি করবি উপায়।
বাসুদেব ঘোষ কহে                        শুন শুন এ সখি
গোরা লাগি প্রাণ মোর যায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ নাগরী উক্তি॥

নিরমল গোরা তনু,                        কষিত কাঞ্চন জনু,
হেরইতে ভৈ গেনু ভোর।
ভাঙ ভুজঙ্গমে,                                দংশল মঝু মন,
অন্তর কাঁপয়ে মোর॥
সজনি, যবে হাম পেখলু গোরা।
আকুল দীগ,                              বিদিগ নাহি পাইয়ে,
মদনলালসে মন ভোরা॥
অরুণিতনয়নে,                            তেরছ অবলোকনে,
বরিখে কুসুমশর সাধে।
জীবইতে জীবনে,                            থেহ নাহি পায়লু,
ডুবলু গঙ্গা অগাধে॥
মন্ত্র মহৌষধি,                                তুহুঁ জানসি যদি,
মঝু লাগি করবি উপায়।
বাসুদেব ঘোষ কহে,                        শুন শুন এ সখি,
গোরা লাগি প্রাণ মোর যায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

নিরমল গৌরা তনু                        কষিল কাঞ্চন জনু
হেরইতে পড়ি গেলু ভোর।
ভাঙ ভুজঙ্গমে,                                দংশল মঝু মন
অন্তর কাঁপয়ে মোর॥
সজনি যব হাম পেখলুঁ গোরা।
অকুল দিগ                                বিদিগ নাহি পাইয়ে
মদন লালসে মন ভোরা॥ ধ্রু॥
অরুণিত লোচনে                          তেরছ অবলোকনে
বরিখে কুসুম শর সাধে।
জিবইতে জীবনে                            থের নাহি পাওব
জনু পড়ু গঙ্গা অগাধে॥
মন্ত্র মহৌষধি                                তুহুঁ যদি জানসি
মঝু লাগি করহ উপায়।
বাসুদেব ঘোষে কহে                        শুন শুন হে সখি
গোরা লাগি প্রাণ মোর যায়॥

.          ************************          
.                                                                                  
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আরে মোর গোরা দ্বিজমণি
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৯৪-পৃষ্ঠা।

অথাপ্তদূতীগত্যুক্ত্যাদৌ
॥ সুহই। জয়জয়ন্তী॥

আরে মোর গোরা দ্বিজমণি। রাধা রাধা বলি কান্দে লোটায় ধরণী॥
রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে। সুরধুনী-ধারা বহে অরুণ নয়ানে॥
খণে খণে গোরা অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়। রাধা নাম বলি খেণে খেণে মুরুছায়॥
পুলকে পূরল তনু গদ গদ বোল। বাসু কহে গোরা কেন এত উতরোল॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ৩য় পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ৫৪-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ শ্রীকৃষ্ণস্য পূর্ব্বরাগঃ।
তদুচিত-শ্রীমহাপ্রভুঃ।
॥ সুহই। জয়জয়ন্তী॥

আরে মোর গোরা দ্বিজমণি।
রাধা রাধা বলি কান্দে লোটায় ধরণী॥
রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে।
সুরধুনী-ধারা বহে অরুণ নয়ানে॥
খেনে খেনে গোরা-অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়।
রাধা নাম বলি খেনে খনে মুরুছায়॥
পুলকে পূরল তনু গদগদ বোল।
বাসু কহে গোরা কেন এত উতরোল॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে।

॥ শোহিনী॥

আরে মোর গোরা দ্বিজমণি।
রাধা রাধা বলি কান্দে লোটায় ধরণী॥
রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে।
সুরধুনী ধারা বহে অরুণ নয়ানে॥
ক্ষণে ক্ষণে গোরা অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়।
রাধানাম বলি ক্ষণে ক্ষণে মূরছায়॥
পুলকে পূরল তনু গদগদ বোল।
বাসু কহে গোরা কেনে এত উতরোল॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

আরে মোর গোরা দ্বিজমণি।
রাধা রাধা বলি কাঁদে লোটায় ধরণী॥
রাধানাম জপে গোরা পরম যতনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়নে॥
ক্ষণে ক্ষণে গোরা-অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়।
রাধা নাম বলি ক্ষণে ক্ষণে মূরুছায়॥
পুলকে পূরল তনু গদ গদ বোল।
বাসু কহে গোরা কেনে এত উতরোল॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”,
৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরে মোর গোরা দ্বিজমণি।
রাধা রাধা বলি কান্দে লোটায় ধরণী॥
রাধানাম জপে গোরা পরম যতনে।
কত সুরধুনী-ধারা বহে অরুণ নয়নে॥
খেনে খেনে গোরা-অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়।
রাধা নাম বলি খেনে খেনে মুরুছায়॥
পুলকে পূরল তনু গদগদ বোল।
বাসু কহে গোরা কেনে এত উতরোল॥

.          ************************          
.                                                                                  
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কি কহিব রে সখি আজুক ভাব
কি কহব রে সখি! স্বপনক ভাব
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ৯৪-পৃষ্ঠা।

নায়িকা প্রাহ---
॥ বিভাষ॥

কি কহব রে সখি! স্বপনক ভাব। অযতনে মোহে হোয়ল বহু লাভ॥
একাকী আছলি হাম বনাইতে বেশ। মুকুরে নিরখি মুখ বাঁধলু কেশ॥
তৈখণে মিলল গোরা নটরাজ। ধৈরয ভাঙ্গল কুলবতীলাজ॥
দরশনে পুলকে পূরল তনু মোর। বাসুদেব ঘোষ কহে কয়লহি কোর॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ১১শ পল্লব, সংক্ষিপ্ত রসোদ্গার, ২৪৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি
নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ১৩|৬৪ সংখ্যক পদ।

তদ্রসোচিত-নবদ্বীপ-নাগরীণাং উক্তিঃ।
॥ বিভাষ॥

কি কহিব রে সখি আজুক ভাব।
অযতনে মোহে হয়ল বহু লাভ॥
একলি আছিলুঁ হাম বনাইতে বেশ।
মুকুরে নিরখি মুখ বান্ধলু কেশ॥
তৈখনে মীলল গোরা নটরাজ।
ধৈরজ ভাঙ্গল কুলবতি লাজ॥
দরশনে পুলকে পুরল তনু মোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে করলহি কোর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

কি কহিব রে সখি আজুক ভাষ।
অযতনে মোহে হয়ল বহু লাষ॥
একলি আছিনু হাম বনাইতে বেশ।
মুকুরে নিরখি মুখ বান্ধলু কেশ॥
তৈখনে মিলল গোরা নটরাজ।
ধৈরজ ভাঙ্গল কুলবতী লাজ॥
দরশনে পুলকে পুরল তনু মোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে করলহি কোর॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

কি কহিব রে সখি আজুক ভাব।
অযতনে মোহে হয়ল বহু লাভ॥
একলি আছিনু আমি বনাইতে বেশ।
মুকুরে নিরখি মুখ বাঁধল কেশ॥
তৈখনে মিলিল গোরানটরাজ।
ধৈরজ ভাঙ্গল কুলবতীলাজ॥
দরশনে পুলকে পূরল তনু মোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে করলহি কোর॥

.          ************************          
.                                                                                
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
চীত-চোর গৌর মোর
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৬ষ্ঠ
পল্লব, বর্যাকালোচিত অভিসারিকা, পদসংখ্যা ৩৪১।

বর্যাকালোচিতাভিসারিকা-বাসক-সজ্জাদি-পর্য্যায়ো গীয়তে।
তত্রাদৌ শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ তুড়ী॥

চীত-চোর গৌর মোর
প্রেমে মত্ত গগন ভোর
অকিঞ্চন জনে করই কোর
.        পতিত-অধম-বন্ধুয়া।
ভুবন-তারণ-কারণ নাম
জীব লাগিয়া তেজল ধাম
প্রকট হইলা নদিয়া নগরে
.        যৈছে শরদ-ইন্দুয়া॥
অসীম মহিমা কে করু ওর
যুবতি-জীবন করই চোর
বিধি নিরমিল কি দিয়া গৌর
.        বড়ই রসের সিন্ধুয়া।
দেখিতে দেখিতে লাগয়ে সূখ
হরল সকল মনের দূখ
বাসুঘোষ কহে কিবা সে রূপ
.        নিরখি চিত সানন্দুয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

চিতচোর গৌর মোর, প্রেমে মত্ত মগন ভোর
অকিঞ্চন জন করই কোর, পতিত-অধম-বন্ধুয়া।
ভুবন-তারণ-কারণ নাম, জীব লাগিয়া তেজল ধাম১
প্রকট হইলা নদীয়ানগর যৈছে শরদ ইন্দুয়া॥
অসীম মহিমা কো করু ওর, যুবতি-জীবন করয় চোর,
বিধি নিরমিল কি দিয়া গৌর, বড়ই রসের সিন্ধুয়া।
দেখিতে দেখিতে লাগয়ে সূখ, হরল সকল মনের দুখ
বাসু ঘোষ কহে কিবা সে রূপ, নিরখি চিত সানন্দুয়া॥

১ - কলির জীবের উদ্ধার জন্য গোলোকধাম যিনি ত্যাগ করিলেন।

.          ************************          
.                                                                                
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অরুণ নয়নে ধারা বহে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৭ম
পল্লব, সর্ব্বকালোচিত অভিসারিকা, পদসংখ্যা ৩৫৬। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার
পুথির ৪৬৮ সংখ্যক পদ।

অথ বাসকসজ্জা।।
তদুচিত শ্রীমহাপ্রভুঃ।
॥ সুহই॥

অরুণ নয়নে ধারা বহে।
অবনত মাথে গোরা রহে॥
ছায়া দেখি সচকিত মনে।
ভূমে গড়ি যায় খেনে খেনে॥
কমল-পল্লব বিছাইয়া।
রহে পহু ধেয়ান করিয়া॥
বিরলে বসিয়া একেশ্বরে।
বাসকসজ্জার ভাব করে॥
বাসুদেব ঘোষ তা দেখিয়া।
বোলে কিছু চরণে ধরিয়া॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”,
১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ নয়নে ধারা বহে।
অবনত মাথে গোরা রহে॥
ছায়া দেখি সচকিত মনে।
ভূমে গড়ি যায় খেনে খেনে॥
কমল পল্লব বিছাইয়া।
রহে পহু ধেয়ান করিয়া॥
বিরলে বসিয়া একেশ্বরে।
বাসকসজ্জার ভাব করে॥
বাসুদেব ঘোষ তা দেখিয়া।
বোলে কিছু চরণে ধরিয়া॥

.          ************************          
.                                                                                
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর