আমরা মিলনসাগরে  কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে, এই আধুনিক প্রযুক্তির
মাধ্যমে (ইনটারনেট), পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টাকে সফল মনে করবো।


কবি বাসুদেব ঘোষ-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


৫টি পদ নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৮.৬.২০১৪।
১৫টি নতুন পদ এবং অমিত মণ্ডলের পাঠানো কবির মূর্তির ছবি সহ পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১২.৩.২০১৮
...
সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি    
দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি    
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি    
সুকুমার সেনের উদ্ধৃতি    
দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
তাঁর এক ভাই মাধব ঘোষ ছিলেন সুগায়ক এবং অপর ভাই গোবিন্দ ঘোষ ছিলেন সুনর্তক। তাঁরা দুজনেই
বৈষ্ণব ভাবাপন্ন পদ রচনা করে গিয়েছেন।
তাঁরা চৈতন্য মহাপ্রভুর সমকালীন কবি ছিলেন।

আমরা কৃতজ্ঞ শ্রী অমিত মণ্ডলের কাছে যিনি আমাদের এই ছবি ও তথ্য পাঠিয়েছেন।
তাঁর ইমেল -
mailmeamitmondal95@gmail.com । একজন ভক্ত হিসেবে তিনি জানিয়েছেন . . .

"
কবি বাসুদেব ঘোষ এর একটি দুর্লভ ছবি। আমি পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার কুলাই গ্রাম এর
একজন নাগরিক। তিনি কুলাই গ্রামে জন্মেছিলেন বলে অনেকে মনে করে। তাঁর জন্ম না হলেও কর্মজীবনের
বেশকিছু সময় তিনি এই গ্রামে কাটিয়েছেন বলে অনেকের মত। তাঁর তিরোধান তিথি উপলক্ষে এখানে
আজও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। তাঁর সম্পর্কে আলোচনা সভা হয়। তাঁর এই ছবি টি তমলুক থেকে পাওয়া
গেছে। তাঁর চরণে শতকোটি প্রণাম এবং তাঁকে প্রচারের আলোতে নিয়ে এসে যোগ্য সম্মান দেবার
জন্য যারা সর্বদা চেষ্টা করছেন তাদের কেউ আমার প্রণাম ও ধন্যবাদ জানাই
"

শ্রী অমিত মণ্ডলের কাছে আবার অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জানাই যে, কবি বাসুদেব ঘোষ কে প্রচারের
আলোয় আনার চেষ্টা করার ধৃষ্টতা আমাদের নেই। তিনি এবং তাঁর সমসাময়িক ধর্মীয় আন্দোলনের
পুরোধাগণ ইতিহাসের  পাতায় ভাস্বর হয়ে আছেন নিজ কর্মগুণেই। আজ আমাদের অস্তিত্বের জন্য আমরা
তাঁর এবং তাঁর অহিংস সহযোদ্ধাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এঁদের অর্থাৎ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময়কালই ছিল
বাংলার প্রথম নবজাগরণের কাল বা
The First Renaissance of Bengal
*
সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -                                                              পাতার উপরে . . .   
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকার ১৫৮-পৃষ্ঠায়, বাসুদেব ঘোষের জীবন ও
রচনা সম্বন্ধে লিখেছেন . . .
“বাসুদেব ঘোষের ৯৫টী পদ পদকল্পতরুতে সংগৃহীত হইয়াছে। বাসুদেব তাঁহার কোনো পদেই ঘোষ ব্যতীত
দাস উপাধি ব্যবহার করেন নাই ; কোথাও বাসুদেব ঘোষ কোথাও বাসুঘোষ ভণিতা দিয়া পদ রচনা
করিয়াছেন। বাসুদেব ঘোষ নামে একাধিক পদকর্ত্তার বিষয়ও এ পর্য্যন্ত জানা যায় নাই ; সুতরাং তাঁহার
পদাবলীর কৃতীত্ব লইয়া কোনও গোলযোগ নাই। ইগার অপর দুই সহোদরের নাম মাধব ঘোষ ও গোবিন্দ
ঘোষ। ইহাঁরাও পদকর্ত্তা ছিলেন ; মাধব ঘোষের রচিত ৭টী পদ ও গোবিন্দ ঘোষের রচিত ৬টী পদ  
পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। . . . .  বাসুদেবের পদাবলীর সম্বন্ধে কয়েকটী কথা বলা আবশ্যক ।  
বাসুদেবের যে সকল পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে, উহার সমস্তই শ্রীগৌরাঙ্গ বিষয়ক। এ যাবৎ
বাসুদেবের ব্রজ-লীলাবিষয়ক কোন পদ আবিষ্কৃত হয় নাই ; ইহা হইতে অনুমান হয় যে, তিনি অন্য বিষয়ে
পদ রচনা করেন নাই ; করিলেও সে সকল পদ অধুনা বিলুপ্ত হইয়াছে। বাসুদেবের গৌরচন্দ্র-পদাবলীর যথেষ্ট
ঐতিহাসিক মূল্য আছে ; কেন না, তিনি মহাপ্রভুর লীলা নিজে দেখিয়া বর্ণনা করিয়া গিয়াছিলেন।  
গৌরভক্তদিগের নিকট এ সকল পদের মাধুর্য্যও অল্প নহে। সবয়ং কবিরাজ গোস্বামী (কৃষ্ণদাস কবিরাজ)
বাসুদেবের পদ সম্বন্ধে লিখিয়াছেন,---
বাসুদেব গীতে করে প্রভুর বর্ণনে।
কাষ্ঠ পাষাণ দ্রবে যাহার শ্রবণে॥

দেবকীনন্দন দাস তাঁহার বৈষ্ণব বন্দনায় লিখিয়াছেন,--
শ্রীবাসুদেব ঘোষ বন্দিব সাবধানে।
গৌরগুণ বিনা যেই অন্য নাহি জানে॥

দেবকীনন্দনের এই উক্তি দ্বারা বুঝা যায় যে, বাসুদেব ঘোষ গৌরলীলা ব্যতীত অন্য বিষয়ের বর্ণনা করেন
নাই। তিনি গৌরাঙ্গকে শ্রীকৃষ্ণ হইতে অভিন্ন জানিতেন ; তাই, গৌর-লীলার বর্ণনা করিতে যাইয়াও প্রায়
সর্ব্বত্রই তিনি পূর্ব্ব-যুগের কৃষ্ণ-লীলার সহিত তাঁহার বর্ণিত গৌর-লীলার বিষয়গত ও ভাবগত সাদৃশ্য
দেখাইতে চেষ্টা করিয়াছেন। নবদ্বীপ লীলায় যে ব্রজ-গোপীদিগের অভাব ছিল, নরহরি সরকার ঠাকুর ও
তাঁহার অনুকরণে বাসুদেব নিজকে ও অন্যান্য গৌর-ভক্তগণকে সেই নদীয়ানাগরী কল্পনা করিয়া ‘নাগরী’-
ভাবের পদ নামক এক স্বতন্ত্র শ্রেণীর পদেরও সূত্র-পাত করিয়া গিয়াছেন
।”
*
দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি -                                                              পাতার উপরে . . .   
১৯০৫ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদলহরী সংকলনের সম্পাদক দুর্গাদাস লাহিড়ী তাঁর গ্রন্থে বাসুদেব ঘোষ সম্বন্ধে
লিখেছেন . . .
শ্রীহট্ট জেলার অন্তর্গত বুড়ন বা বুরুঙ্গী গ্রামে মাতুলালয়ে ইনি জন্মগ্রহণ করেন। ইহাঁর পিতা কুমারহট্ট
গ্রামবাসী ছিলেন। ইহাঁরা তিন সহোদর ; অপর দুই ভ্রাতার নাম মাধব ঘোষ ও গোবিন্দ ঘোষ। তিন ভ্রাতাই
গৌরাঙ্গ ভক্ত এবং মহাপ্রভুর সমসাময়িক। গৌরাঙ্গপ্রেমে মাতিয়া তিন জনে নবদ্বীপে আসিয়া অবস্থিতি
করেন। তিন জনেই পদকর্ত্তা ও সুগায়ক ছিলেন। নবদ্বীপে অবস্থিতি, কালে তিন ভ্রাতায় তিনটী সংকীর্ত্তন
দলের নেতা হন। বাসুদেব অধিকাংশ সময় মহাপ্রভুর সঙ্গে থাকিতেন, সেই কারণ গৌরাঙ্গলীলার
ইনি একজন প্রধান পদকর্ত্তা বলিয়া গণ্য হইয়াছেন। ইহাঁর পদাবলী বড়ই হৃদয়গ্রাহী ও মনোমদ
।”
*
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি -                                              পাতার উপরে . . .   
বাসুদেব ঘোষ সম্বন্ধে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসীর সঙ্গে সহসম্পাদিত গ্রন্থ
পদামৃতমাধুরী, ৪র্থ খণ্ডের ভূমিকায় লিখেছেন . . .
বাসুদেব ঘোষ, মাধব ঘোষ এবং গোবিন্দ ঘোষ - ইঁহারা তিন ভ্রাতা এবং তিন জনই পদকর্ত্তা ছিলেন।
ইঁহাদের পৈতৃক বাস ছিল কুমারহট্ট গ্রামে। ইঁহারা তিন ভ্রাতা শ্রীগৌরাঙ্গের সমসাময়িক এবং ভক্ত ছিলেন।
বাসুদেব এবং নরহরি সরকার ঠাকুর নদীয়ানাগরী-ভাবের পদাবলী রচনার সূত্রপাত করিয়া গিয়াছেন। ইঁহারা
শ্রীগৌরাঙ্গকে শ্রীকৃষ্ণ হইতে অভিন্ন জানিতেন
।”
*
সুকুমার সেনের উদ্ধৃতি -                                                                 পাতার উপরে . . .   
১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত সুকুমার সেন তাঁর সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী গ্রন্থের
পরিচায়িকা তে বাসুদেব ঘোষ সম্বন্ধে লিখেছেন . . .
বাসুদেব ঘোষ এবং তাঁর দুই ভাই গোবিন্দ ও মাধ চৈতন্যের নিষ্ঠাবান্ ভক্ত ছিলেন। বাসুদেব গান রচনায়
দক্ষ ছিলেন, আর দুই ভাই নাচে ও গানে। বাসুদেবের চৈতন্য লীলাঘটিত পদগুলি উজ্জ্বল রচনা
।”
*
দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -                                                    পাতার উপরে . . .   
১৯৭৭ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদসংকলনের সম্পাদক দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গ্রন্থে বাসুদেব ঘোষ
সম্বন্ধে লিখেছেন . . .
"
বল্লভ ঘোষের পুত্র বাসুদেব অপর দুই ভ্রাতা মাধব ও গোবিন্দ অপেক্ষা পদ রচনায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন।
চৈতন্যাশ্রিত কবি বাসুদেব নিমাই সন্ন্যাস পালাগান রচনা করে অত্যন্ত খ্যাতিলাভ করেছিলেন
।"
এই পাতার ভণিতা
বাসু ঘোষবাসুদেব ঘোষ
বাসুদেব ঘোষ - বাসু ঘোষ নামেও খ্যাত।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন তাঁর মাতুলালয়ে, শ্রীহট্ট  
জেলার  বুড়ন বা বুরুঙ্গী  গ্রামে।  পিতার নাম
বল্লভ ঘোষ। তাঁদের নিবাস ছিল কুমারহট্টে।