বাসুদেব ঘোষ – বাসু ঘোষ নামেও খ্যাত। তিনি চৈতন্য সমসাময়িক এবং চৈতন্যদেবের অনুচর
ও ভক্ত এবং বড় পদকর্তা ছিলেন। তিনি গৌড় নাগরিয়া ভাবের কবি। চৈতন্য জীবনের প্রত্যক্ষ পরিচয় তাঁর
গৌরবিষয়ক কবিতাগুলির উত্স।

তাঁর এক ভাই
মাধব ঘোষ ছিলেন সুগায়ক এবং অপর ভাই গোবিন্দ ঘোষ ছিলেন সুনর্তক। তাঁরা দুজনেই
বৈষ্ণব ভাবাপন্ন পদ রচনা করে গিয়েছেন।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি বাসুদেব ঘোষ এর কাব্য আগামী প্রজন্মের কাছে, এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে
(ইনটারনেট), পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টাকে সফল মনে করবো।

বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"   
বৈষ্ণব পদাবলীর পদগুলি মূলত গান হিসেবেই রচনা করা হোতো। প্রায় প্রতিটি পদের শুরুতেই সেই পদটির
“রাগ”-এর উল্লেখ থাকে। তবে কিছু পদের আগে তার “রাগ”-এর উল্লেখ নেই এমনও পাওয়া গিয়েছে। বৈষ্ণব
পদাবলীর সংকলকগণ যখন তাঁদের সংকলনে পদ সাজান, তখন পর পর একাধিক গানের যদি একই সুর বা
রাগ থাকে, তাহলে তাঁরা প্রথম গানটিতে তার রাগ উল্লেখ ক’রে পরের গানটিতে রাগের যায়গায় “তথা রাগ”
বা “যথা” শব্দ বসিয়ে দিতেন, এই বোঝাতে যে পরের গানটি একই রাগাশ্রিত। কিন্ত এমনও পাওয়া গিয়েছে
যে একই গান বিভিন্ন সংকলকের সংকলনে ভিন্ন রাগাশ্রিত বলে উল্লেখিত। বহু পদই মুখে মুখে গীত  
অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।  তাই  একই গান  বিভিন্ন  গায়কের মুখে ভিন্ন ভিন্ন সুরে পাওয়া গিয়ে থাকতেই
পারে। তাই অনেক বিদগ্ধজনেরা মনে করেন যে এখন আর পদের রাগের উল্লেখ না করলেও চলে। যে  
যেমন সুরে চায়, গেয়ে আনন্দ লাভ করলেই এর সার্থকতা। আমরা অবশ্য যে সংকলন থেকে যে পদ  
নিয়েছি, সেই সংকলনে উল্লেখিত রাগটি মিলনসাগরের পাতায় তুলে দিয়েছি। এমন হতে পারে বিশেষজ্ঞরা
অন্য সংকলনে সেই গানটির অন্য রাগ দেখতে পাবেন।
          



উত্স - সুকুমার সেন সম্পাদিত “বাংলা কবিতা সমুচ্চয়” (প্রথম খণ্ড), সাহিত্য অকাদেমি, ১৯৯১।   
.        
শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩।


কবি বাসুদেব ঘোষ-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৮.৬.২০১৪
...