কবি ইভা চক্রবর্তীর কবিতা
*
সুয্যি-খুকু
কবি ইভা চক্রবর্তী

ঘুমেল চোখে হিমেল ভোরে গাছতলা সে
টুপটুপটুপ শিশির মেখে নাচতো ঘাসে।
রান্নাবাটি পুতুলখেলা আয়না শাড়ি
বীজ পুঁতেছে মনের মাঝে আকাশ পাড়ি।
সোনার সরু চিকন সুতোয় স্বপ্ন বোনে
আনবে পেড়ে ঢালবে আলো অন্ধজনে।
ধূলোয় মাখা বকবকানি দুষ্টু অতি!
গল্প করার সঙ্গী সাঁঝের অরুন্ধতী।
ঘর ছাড়িয়ে চললি কোথায় ওই ঊঁচুতে ?
তোর খুকু আজ যাচ্ছে মা গো সুয্যি ছুঁতে।

.          *************************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
তিলোত্তমা          
কবি ইভা চক্রবর্তী
(
এই সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের প্রতিবাদী কবিতাটি আন্দামান থেকে প্রকাশিত, "দ্বীপবাণী" পত্রিকার ১৪১৪ এর  শারদীয়া
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |
)

পরাণসখা বন্ধু এসো
এসো আমার ঘরে
আবাদ জমি তৈরী আছে,
বোসো তাহার পরে |

ওদের কথা দাওনা ছেড়ে
ওরা নাদান ভারী
বুঝবে কাল লাঙল নয়,
গাড়িটা দরকারি |

বাস্তুভিটে নাইবা থাক
বাবুর ঘরে সুখ
আঁধার রাতে গলির মোড়ে
আঁচল ঢাকা মুখ |

মুখ নয় তো বারুদ ভরা
জ্বালামুখের সারি
দেয়ালে পিঠ শরম ভুলে
অবলা সব নারী |

আমার ঘরে পরাণ সখা
ছোঁয়াও যাদু কাঠি
ভাবছ কেন ওদের হাতে
শুধু বাঁশের লাঠি |

লাঠি নয় ও হিসহিসিয়ে
লকলকে জিভ ফণা
কাস্তে বঁটি কোদাল নিয়ে
বেআব্রু বীরাঙ্গনা |

ঘুম ভাঙলে সবাই যদি
কালকে ওঠে খেপে
আসন টলমল তোমার
চরণ যাবে কেঁপে |

.    **********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   
.                             
অন্যান্য কবিদের সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার সূচির পাতায় . . .    
.                                           
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় . . .   

মিলনসাগর
*
সভ্য  
কবি ইভা চক্রবর্তী
(এই সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রতিবাদী কবিতাটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত, "দৈনিক স্টেটসম্যান" পত্রিকার ১০
ডিসেম্বর ২০০৭ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |
)

সবকিছুরই দাম দিতে হয়
জল বলো বা মাটি
ভেজাল ভিড়ে হারিয়ে গেছে
টাটকা কিবা খাঁটি |
ভালোবাসার মূল্যে বিকোয়
আব্রু শরম পণ্য
আষ্টেপৃষ্টে সভ্য মানুষ
জীবনযাপন বন্য |

.    **********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   
.                             
অন্যান্য কবিদের সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার সূচির পাতায় . . .    
.                                           
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় . . .   

মিলনসাগর
*
বিরোধী পক্ষ
কবি ইভা চক্রবর্তী,
(
এই সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রতিবাদী কবিতাটি 'দৈনিক স্টেটসম্যান' পত্রিকাতে ১৮ জুন ২০০৭ এ প্রকাশিত
হয়েছিল |
)

.            **********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   
.                             
অন্যান্য কবিদের সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার সূচির পাতায় . . .    
.                                           
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সুচির পাতায় . . .   

মিলনসাগর
ওই পাড়াতে
রক্ত ঝরে
চালায় গুলি
গানধারীরা
কুলুপ মুখে
তখন ঘরে
প্রগতিবাদী
গান্ধারীরা
করবটা কী
ও দুটো চোখ
ওদের দেওয়া
আমার নয় |
ওরা যেমন
দেখায় দেখি
দেখব নিজে
ভীষণ ভয় |
কান্না শুনে
বুক ফাটে গো
ভাসতে থাকে
চোখ ও জলে
পারছি না তো
কাঁদতে তবু
যদি বিরোধী
পক্ষ বলে |
বলতে চাই
তোমার মতো
তোমার পাশে
দাঁড়াই এসে
দুই পা গিয়ে
পিছিয়ে আসি
যদি সুযোগ
হারাই শেষে |
এমনটা তো
হয়েই থাকে
হয়েছে হবে
অনেক আরও
গড়তে গেলে
ভাঙবে কিছু
অজানা এটা
নয় তো কারও |
ঘটল যেটা
যাও ভুলে তা
ভাবছ কেন
আর ওসব !
শিল্পায়ন
হবেই হবে
পড়ে পড়ুক
আরও শব |
*
জলেই জীবন
কবি ইভা চক্রবর্তী,

একটু আগে ঝলমলে রোদ
রঙের ছটা রোদ
কেউ শুয়ে কেউ হাঁটছে তীরে
মিঠেল হাওয়া ভোর।
.        হঠাৎ নড়ে উঠল দুলে
.        গভীর সাগর তল
.        মস্ত দানো গর্জে ওঠে
.        বিশাল থাবায় জল।
আছড়ে পাড়ে নগর গাঁ কে
ফেলল মুখে পুরে
হাত ছাড়িয়ে ভাই থেকে বোন
ছিটকে গেল দূরে।
.        ভাসল মানুষ, ঘর বাড়ি সব---
ভাসল কোলের শিশু
.        ঈশ্বর বা আল্লা বল
.        বাদ গেল না যীশু।
এক লহমায় লাখ ছাড়িয়ে
প্রাণ হল নিঃশেষ
উপড়ে, ভেঙে দুমড়ে দিল
শ্মশান হল দেশ।
.        যেদিকে তাকাও জল শুধু জল
.        জমছে মৃতের স্তূপ
.        ভয়াল ছোবল করাল গ্রাসে
.        থমথমে নিশ্চুপ।
জীবন অচল ওকে ছাড়া
জীবন বাঁচায় ও-যে
সব হারানো জীবনগুলো
ওর বুকে মুখ খোঁজে।

.  *************************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর