বিপ্রদাস ঘোষালের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।   www.milansagar.com
১।  ঝুপড়িবাসী                   
২।  
লকাতা থেকে দিল্লী                  
৩।  
শিল্পায়ন - পশ্চিমবঙ্গে          
৪।   
বাম - উপহার                       
৫।   
হায় বাঙালী!          
৬।   
আসল চেহারা       
৭।   
গ্লানি              
৮।   
জমিহাঙর                
        
*
ঝুপড়িবাসী     

আমরা আগাছা সব, জন্মাই যেখানে সেখানে
কখনও বা খালপাড়ে, গোবিন্দপুরে বা কোনো গোরোস্থানে |

আমাদের শৈশব নেই, শিশুবেলা শিশুদের বিদ্যালয় দিন
পলমল সংসার বাগানে আমরা যে চিরকালই বোবা অর্বাচীন |

আমরা কি তোমাদের চোখে সমাজবিরোধী, যাযাবর ?
কেননা আমরা যে বাঁচতে চাই মাথা উঁচু করেঅ-নির্ভর |

আগুন দিওনা আজ আমাদের ঘরে --- মিনতি জানাই
আগাছাও গাছ জেনো, আতঙ্কের ধ্বংসকে দিওনা কোন ঠাঁই |

একথা কখনও বলি না যে আগাছাতে ভরাব সংসার
তোমাদের সালিমদের থেকে দূরে থাকি, নির্ভেজাল আনন্দ অপার!


.                    ******************                                                        
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
*
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, কবিতা
বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.com/index.html
দয়া করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
কলকাতা থেক দিল্লী     

কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ক্ষমতার এক মধুভাণ্ড
তার জন্য সবাইকে বামপন্থার ভেক ধরতে হয়
গরীব মানুষদের ঠকানোর বেশ ভাল পন্থা
নিজেরা যা বোঝে তাই মনে করে ঠিক ---
গর্বে মাটিতে পা পড়ে না --- যদিও, বোঝে অনেক দেরীতে |

ক্ষমতা চাই, রব উঠেছে চারি দিকে, রাষ্ট্রক্ষমতা,
ছোট বড় মাঝারি কেউ বাদ যায় না ... সেই বেদমন্ত্রে,
অথচ ভেকধারী বামপন্থা কুরে কুরে খাচ্ছে দেশটাকে ---
হাই হিল আর লিপস্টিক মার্কা এর শ্রেণী তৈরীতে ব্যস্ত!

এখন সঙ্গে নিয়েছে কিছু শার্দুলকে ---
.                        যারা রক্ত খায় না বহুকাল ---
দীর্ঘদিন বাদে আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে এসে
.                        ওরা বুঝেছে ---
.                        রক্তের স্বাদ নোনতা নয়, মিষ্টি!

.                    ******************                                               
উপরে
.                                              অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                       
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
শিল্পায়ন - পশ্চিমবঙ্গে    

আকাশে আজ চিল শকুন উড়ছে ...
শেয়ালগুলো দিনের বেলায় হুক্কা হুয়া করছে,
কুকুরগুলো দু এক বার চিত্কার করেই
লেজ গুটিয়ে যে যার ডেরায় ...
রাস্তাঘাট সুনসান যেন সর্বাত্মক বনধ্ |
কারও মুখে কথা নেই --- বোবা কান্না ...
পাপ জমতে জমতে উপছে পড়ছে ---
শহরের মূর্ত্তিগুলো ফেটে চৌচির
তাদের গা বেয়ে রক্ত ---আলকাতরা ঝরছে ...
পুকুরের জল বিষাক্ত, নদীর স্রোত অবরুদ্ধ,
রাখাল বালকেরা লুকোচুরি খেলছে না,
তাদের বাঁশের বাঁশীতে সুর বের হয় না,
গাঁয়ের কৃষক বধুরা কাঁপছে থরথর
ভবিষ্যতের কথা ভেবে --- কোথায় তারা যাবে,
গফুরের মত তাদেরও গাঁ ছাড়া হতে হবে
চোড্ডপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে ...
অনেকে বলছে এর চেয়ে মহারাণীর রাজত্ব ছিল ভাল!

এমন সময় প্রেস কনফারেন্সে বড় এক নেতা বললেন :
যা করছি, বেশ করছি, সবই জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য!


.                 ******************                                                 
উপরে
.                                             অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                      
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
*
বাম - উপহার    

বোবা ইতিহাস --- শুনলে অবাক হবেন ---
কথা কইতে শিখেছে ---
প্রায় বিনা খরচায়, বিনা পরিশ্রমে
অন্যান্য দলগুলিকে মেরে ঠান্ডা ক'রে
দিয়ে --- ক্ষমতা লাভ ...
একটু দম্ভ তো হবেই ...
বর্ত্তমান পূর্ব ইউরোপের দিকে
তাকিয়ে দেখুন না,
কেমন পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে
পড়ছে খোদ ক্রেমলিনের পাদদেশে |
ধস্ যখন গিরিশৃঙ্গ থেকে নামবে
কার সাধ্য তার গতিরোধ করে!

আমাদের বামেদের ব্যামোতে ধরেছে |
পশ্চিমবঙ্গের কপালই খারাপ ---
পরনিন্দা এবং খুনখারাবির মধ্যে
যাদের জন্ম --- তারা আজ ভদ্রলোক সেজেছে,
বলিহারি যাই --- মানুষের পছন্দকে!
আমরা যারা হাবা গোবা --- চামচারা
যা যা বলে তাই তাই শুনি ---
যেমনভাবে চলতে বলে, সেভাবেই চলি |
তবে লাটের অভাব নেই --- কেউ বা
বড়লাট আবার কেউ বা ছোটোলাট!
অতএব দুর্দশার অন্ত নেই আমাদের,
দই দিয়ে চিড়ে খেতে কার না
ভালো লাগে? --- নানা জন কে দল
নানাভাবে উপকার ক'রে ভেড়ার দলে
সামিল করেছে --- এ একধরণের
সর্বনাশা বোকামি! ভণ্ড না চেনা!

কৃষির অগ্রাধিকার দিতেই হবে
গতকালই শুনলাম শ্রীমুখ থেকে,
আজ বেরুচ্ছে অন্য বুলি --- না ---
শিল্প চাই --- বিদেশী পুঁজি সর্বশক্তিমান,
ওদের ইষ্টদেবতা এবং ইষ্টমন্ত্রপুঁজি ---
ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তনের পথে ছোটে |
তাই বুঝি এত ধমক্, এত মুচকি হাসি!
কিন্তু সবাইকে তো আর চিরকালের জন্য
বোকা বানান যায় না, যাবেও না ...
পয়সা, পুলিশ, প্রশাসন, পেশী --- এদের
ভয় না করে উপায় আছে? টাটা তাই
যা যা বলবে আমরা অনুগত ভৃত্যের মত
তাই তাই করব | উপর টাটা, নিচে রক্তচক্ষু ---
কার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে ---
সর্বোপরি রাজার আদেশ --- ট্যাঁ - ফ্যাঁ
চলবে না --- একী গণতন্ত্র না নরকতন্ত্র!
আমাদের কি করার কিছু নেই?

আমাদের প্রাণগুলো বড় ছোট হয়ে
যাচ্ছে | সূর্য সেন, ভকৎ সিং ---
ক্ষুদিরাম বা বাঘা যতীনের মত প্রাণ নেই,
তাই ঝড় আসছে দেখেও কিছু
করতে পারছি না --- কেবল আতঙ্কে
বোবা হয়ে ঘরের কোণে কাঁপছি!
কে আমাদের আশা দেবে -- কে দেবে
একটু ভরসা! নতুন ইস্ট ইণ্ডিয়া
কোম্পানীর লোকরা যে দুর্গ বানাচ্ছে
সে দিকে আমাদের খেয়াল নেই!
সবকিছু চেটে পুটে খেয়ে কোন
একদিন এই সালিম টাটার দল
কিনে নেবে পশ্চিমবাংলাকে --- কে জানে?
তখন কোথায় থাকবে বাঘের হুংকার
কোথায় থাকবে নীল লাল শৃগালের দল?
আমরা যে মরার সেই মরার পথে
এগুব --- এই হবে আমাদের অগ্রগতি
এই হবে পার্টতন্ত্রের জয়যাত্রার
অন্তিম ও শেষ উপহার!


.           ******************                                                 
উপরে
.                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
হায় বাঙালী!    

এটম বোমার সংখ্যা সবাই বাড়িয়ে চলেছে ...
লক্ষ লক্ষ একর কৃষিজমি চলে যাচ্ছে দেশী বিদেশী
হাঙর মার্কা মাল্টিন্যাশনালদের হাতে
ক্রমবর্দ্ধমান বেকারত্বের অজুহাতে ---
পুলিশ মিলিটারি সব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
বড়লোকদের স্বার্থরক্ষায় কি গ্রামে, কি শহরে, ...
লাুডস্পীকারে শুধু মিথ্যাভাষণের ছড়াছড়ি
বাংলা বাঙালীর সামনে দুর্ভিক্ষের কালো হাতছানি,
অতছ পৃথিবী আপন গতিতে প্রদক্ষিণ করে চলেছে
সূর্যকে --- প্রথম দিন থেকে আজও একইভাবে |
কবে নিজের ভাল বুঝবে ওগো বঙ্গবাসিগণ
ফাঁকা আওয়াজেই পেট ভরাবে স্বজাতির মর্যাদাকে!
.                   বুদ্ধির অভাব ঘটেছে তোমাদের ---?
.                   নাকি কাঁচা টাকার টাটকা লোভ!

.                 ******************                                                 
উপরে
.                                             অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                      
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
*
আসল চেহারা    

নতুন করে সমস্যা তৈরী কর
তারপর তার সমাধান কর ---
দেখবে লোকে আমাদের তারিফ করবে,
বলবে, দেখছো কেমন জনহিতকর এরা!
এই নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি ...
কোনদিন ভোটের বাক্স খালি হয় নি,
উজাড় করে ঢেলে দিয়েছে জনসমর্থন ---
তাজ্জব বনে গেছে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী!
এছাড়া কি এতদিন ধরে শাসন চলে?
শ্মশানের শান্তি এনেছি ফ্যাকটরি কলেজ স্কুলে,
সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছি আমাদের লোক, ---
কেউ কিছু বললে পরে শাসিয়ে দেবে চোখ!
অটো বাস ট্যাক্সি রিকশা সব আমাদের দখলে
কোমন করে হটায় দেখি কোন্ ম্যাজিকের ফলে |
হালিম আবদুল মুখার্জী বঙ্কিম যতই লজ্জা পাক্
আমাদের ঘাড় গর্দান মোটা, কিছুতেই নেই লাজ্!

.                 ******************                                                 
উপরে
.                                             অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                      
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
*
গ্লানি    

আর ক'দিন আছি রে ভাই ---
কোথায় নিয়ে ফেলবে আমাদের?
বাপ ঠাকুরদাদারা গোরস্থানে ঠাঁই পেয়েছে
এই গ্রামেরই এক চিলতে জমিতে,
আমাদের আর সেখানে ঠাঁই হবে না
এইটুকু দুঃখ রয়ে গেল ---
টাটা আমাদের কপাল ফাটিয়েই ছাড়ল!
রাজশক্তির বিরুদ্ধে কিছু বললেই
হবে দেশদ্রোহিতা!
কিন্তু মাটি ই সব থেকে খাঁটি,
ভেবেছিলাম প্রাণ থাকতে এ জমি
দেব না --- কিন্তু পারলাম না রাখতে,
দুর্যোধন দুঃশাসনের পদলেহী ওরা
ওদের সঙ্গে অসম সংগ্রামে আজ
আমরা পরাজিত |

.         ******************                                                 
উপরে
.                                    অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                              
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
*
জমিহাঙর    

একদিকে ওই বায়নাক্কা আরেকদিকে গোয়ার্তুমি ---
চলছে খেলা ছেলেমানুষীর নিমজ্জিত এই ভূমি ---
মুশকিল হচ্ছে আমাদের, কোনটাকেই বিশ্বাস হয় না ---
জমির মালিক হলেও নাকি আমরা জমির মালিক না |
পুলিশ এসে ভাঙছে উনোন, ভাতের হাঁড়ি, ঘরের টালি,
কাঁদছে সবাই উঠোনে বসে হা-হুতাশের মধ্যে খালি |
বাংলা মায়ের কষ্ট দেখে বুক ফাটে না শাসকের,
মিষ্টিমুখের মধুর বাণী জানা আছে জল্লাদের!
রাজারহাটের পরে এল সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম ---
হাঙরগুলো আসছে তেড়ে এবার নজর নন্দীগ্রাম ---
বোকার মতন তাকিয়ে আছি --- ভূতের মুখে রামনাম!

.             ******************                                                 
উপরে
.                                         অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                  
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
*