কবি দুর্গাদাস মিদ্যার কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।   www.milansagar.com
১।    কোনো এক কবির প্রতি        
২।    
গোপনীয়তা        
৩।    
কামনা       
৪।    
প্রাপ্তি          
৫।    
ঘুম নেই        
৬।    
পুনরগমন      
৭।    
অন্য রসায়ন      
৮।    
এক পথচারীর মরমন্তুদ মৃত্যু     
৯।    
কে সে?       
১০।   
গায়ক পাখি         


.    
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা
১।    কোনো এক শাসকের প্রতি
২।    প্রকৃতির ডাক          
৩।    
পুরানো বলিয়া      
                 
  
*
কোনো এক শাসকের প্রতি
দুর্গাদাস মিদ্যা

ভেবেছ অমিত শক্তিধর তুমি গরিষ্ঠের জোরে
ভেবেছ ইচ্ছেমত চলার অধিকার হয়েছে তোমার
ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিতে চাও সরব প্রতিবাদ
আম জনতার |
এত বড় স্পর্ধা তোমাকেই মানায়
ইতিহাস কি বলে?
কত দুর্দম শক্তি, কত অহংকার মিশে গেছে
সময়ের বেনোজলে,
সে কথা তুমি ভুলে যেতে পার
এমন বেকুব তো তুমি নও
স্থিত হও, শান্ত হও, নির্বিবাদে
ফিরে এসো শান্তির ছায়াতলে |
ভাবো, আবার ভাবো, ভেবে কাজ করো
কাজ করে ভাবার বদলে |
তোমার সিদ্ধান্তের ফলে
যারা ঝরে গেল অকালে
তুমি কি ফেরাতে পারো তাদের
অসময়ে যারা গেল চলে!
তাই বলি সাধু সাবধান
ক্ষেতে শোভা পাকা সোনালী স্বপ্ন মাখা ধান
সে তুমি বেশ ভালো জানো
ক্ষত করা তোমার কাজ নয়
ক্ষততে প্রলেপ লাগানোই
হোক তোমার আসল পরিচয় ||

.                    **************                                       
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       

এই কবিতাটি 'ফোরাম অব ফ্রি থিঙ্কার্স' এর মুখপত্র 'দর্পণে মুক্তমন' পত্রিকাতে
এপ্রিল ২০০৭ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগর
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, কবিতা
বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.com/index.html
দয়া করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
*
প্রকৃতির ডাক     
দুর্গাদাস মিদ্যা

অগ্নি তুমি দগ্ধ কর কাকে
অতি সাধারণ সে, ভয়েই সিঁটিয়ে থাকে
ভাতের থালায় টান মেরেছে যে
কেমন করে বুকের জ্বালা মোছে |

ভোরের আলো তখন ছিল ক্ষীণ
মানুষ ! ছিল বেড়ার পাশে
পশুর চেয়ে হীন,
অষ্টাদশী নষ্ট চাঁদের ফাঁদে
একলা শুয়ে মরণ কাঁদন কাঁদে
আগুন তখন তুমি
মুছিয়ে দিলে কলঙ্কের দাগ
হায় প্রকৃতি, তোমার বুকে
প্রভাত আলোর করুণ অস্তরাগ |

.       **************                                          
উপরে
.                         অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত   
.                  
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       
এই কবিতাটি 'লুব্ ধক' পত্রিকার পঁচিশে বৈশাখ ২০০৭ এর সংখ্যায়
প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগর
*
পুরানো বলিয়া               
দুর্গাদাস মিদ্যা

এসো, আজ এক ব্যতিক্রমী
গল্পের কথা বলি, যে ছিল
কৃষকের সাথি, আজ সে
পুঁজিপতির পাশে বসে অক্লেশে |

আজ সে পাঁচতারা হোটেলে
বড় সহজ সাবলীল, হঠাত্
করে সাঁতরে পার হয় পচা ডোবা, খানা |
এখন সুইমিংপুলের নীল জলে
ভিজে থাকে তার অন্তর্বাস |

এই সেদিনও বলেছিল
পুঁজিবাদ নিপাত যাক,
আজ তারা পালটেছে স্লোগান
এখন আর কাস্তেতে শাণ নয়
এখন আর কৃষিবিপ্লবের গান নয়
এখন শুধু নয়া পুঁজিপতির সন্ধান |
এও তো জানা ছিল এতকাল
ভেক না ধরলে ভিখ পাওয়া ভার
এখন ভেকের আর কী প্রয়োজন
শুধু ভিক্ষায় চলে না সংসার |
তাই বদলেছি জামা
বদলেছি পুরানো স্লোগান
ছিঁড়েফুঁড়ে গেছে বড় পুরাতন বিপ্লবের অভিধান |

.       **************                                              
উপরে
.                             অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                      সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত     
এই কবিতাটি নেতাজীনগর, কলকাতা থেকে 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন
কমিটি' পত্রিকার জুলাই ২০০৭ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগর
*
কোনো এক কবির প্রতি

যখনই কবিতা লিখতে বসি
তখনই পঁচিশে বৈশাখের কথা মনে হয়
ঝাঁকড়া কোকড়ানো চুল ছুঁয়ে থাকে কপাল
ঝাকালো কোন এক গাছের মত |

চোখের দিকে তাকালে সাগরের কথা মনে হয়
মনে হয় অতল গভীরতার কথা,
শব্দের ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে হৃদয়ের তটে |
যেখানে পঁচিশে বৈশাখ আসে
মন উথাল পাথাল হয়
অজানা অচেনা কত কিছু যায় ঘটে |
তাঁর কথা ভাবলে কেঁপে যায় শরীর
সুনামির মত ধুয়ে মুছে দিয়ে যায়
করে তোলে চঞ্চল অস্থির |
আমি মুগ্ধ হই কোন সে কবির ইন্দ্রজালে
যে কবি এসেছিল পৃথিবীর মাটিতে
পঁচিশে বৈশাখের কোন পূণ্যফলে |


.                    **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
গোপনীয়তা    

গোপনীয়তা কোন মন্ত্র নয়
যে সহজে ফুল ফোটাতে পারে,
অথবা নয় কোন নিবিড় আলাপন
যা থেকে জন্ম নেবে নিখাদ প্রেম |
তবুও গোপনীয়তা একান্ত প্রার্থনীয়
আজকের এই বিশ্ব কোলাহলে |

গোপনীয়তা কোন গভীর সুখ নয়
তা সত্বেও গোপনীয়তা জন্ম দিতে পারে
অনির্বচনীয় এক সুখ | তাহলেই
কানায় কানায় ভরে উঠবে বুক |

রাত্রির অন্ধকার গোপন
তাই এত কালো
রাত্রির হাতেই ধরা থাকে
প্রেমের উত্স আলো |
রাত্রির তরী বেয়ে তীরে চলে যাওয়া
প্রেমের সরণীতে বইবে ঝড়ো হাওয়া |


.                    **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
কামনা             

কমনীয় নারীদের মত ছুঁয়ে থাকো বিক্ষত হৃদয়
ছুঁয়ে থাকো তার এলোকেশ
যে তোমার স্বপ্নে খেলে যায় দিনভর |
চাঁদ ভেবে যাক ছুঁতে যাও
সে তো জলছবি হয় পূর্ণিমার রাতে
প্রেমিক পৃথিবী চুম্বন করে স্নিগ্ধ হয়
শিহরিত শ্রাবণের প্রাতে |
 #     #     #     #
কার কথা বলি,
কেই বা বলে আমার কথা
বিরহ বিরসে যে গভীর ব্যাকুলতা
ছেয়ে যায় জীবনের চবুতর
তার কাছে ঘর মাগি এমন এক ঘর
যেখানে রচিত হবে প্রণয় বাসর ||

.          **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
ঘুম নেই             

ঘুম পরীদের চোখে ঘুম নেই
কত বিনিদ্র রজনী
ঘিরে থাকে আমাদের চারিদিক,
ভাবনার সিঁড়ি বেয়ে
নেমে আসা রোজ
পড়ে থাকে অবহেলা ভরে
ঝরে পড়া পাতাটির মত |

নিঘুম নিঝুম রাতে
পেঁচকেরা হাঁক দেয়
শেয়ালের ডাকে সচকিত হয়
প্রগতির স্বপ্নে বিভোর
কোন্ সে নায়ক |

অভিলাষে ছুঁয়ে থাকে
নরম নরম কাঁচা লাশ
ঘুর্ণির মত ঘুরে ঘুরে মরে
বেদনায় শূণ্য আকাশ,
অথচ এখন ঘুমের সময়,
তার চোখে ঘুম নেই, বিনিদ্র রজনী
গভীর গাঢ় রহস্যময় ||

.          **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
পুনরগমন                   

অগণিত শব্দের সাথে সারাদিন পথ চলা
কথা বলা | আকাশের বুক চিরে উড়ে চলা
পাখিটির মত চঞ্চল | ক্ষণে ক্ষণে ভেঙে
পড়া ঢেউটির মত উচ্ছল | অবশেষে
ফিরে যাওয়া মাটির কাছে | শব্দের
সাথে এখনো তেমনি নিবিড় সখ্যতা
আছে | ভোরের আকাশে শুকতারাটির
মত | অথবা দূর প্রকাশে কোন এক
অচেনা নারী | যার কাছে দিনান্তে
ফিরে এসে অবলীলায় বলতে পারি
"ভালোবাসি" | তাই বারে বারে শব্দের
কাছে ফিরে আসি |

ফিরে ফিরে আসি |

.       **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
অন্য রসায়ন                   

আমি প্রতিদিন দিনলিপি লিখে যাই
অবসন্ন মনে, ঘুরি ফিরি পৃথিবীর চারদিক
পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণে | যে আশায়
বুক বাঁধতে চাই তাই ভেঙে ভেঙে চৌচির
হয় কাচের বাটির মত | অসত্য আর
অসততা হাতে হাত ধরে রাস্তা পার
হয় দেখে বেদনার পাহাড় গড়ে ওঠে অবিরত |
যার ওপরে নির্ভর করি সেই বঞ্চনার
জাল বোনে | হাত প্রসারিত করে
বন্ধু পেতে গেলে ফিরে আসি
শূণ্য মনে, কঠিন সত্য জানিয়ে
দিয়ে যায় এ পৃথিবী গড়ে উঠেছে
অন্য রসায়নে | তাই বুক জুড়ে
হতাশার চাপ চাপ অন্ধকার
কেউ কি এমন আছে ! নিয়ে যাবে
আলোর উত্সমুখে, খুলে দেবে
বিস্ময়ের গোপন দ্বার !

.       **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
এক পথচারীর মর্মন্তুদ মৃত্যু                   

রাস্তা জুড়ে পড়ে আছে মৃতদেহ
অহেতুক কৌতুহল দেখিয়েছে কেউ কেউ
কারো চোখে ছিল না এতটুকু সমীহ |
কালো মাছি উড়ে বসে মুখে
নির্বিকার প্রশাসন ব্যস্ত ছিল অন্য সুখে,
কেউ তো গায় নি ঘুম ভাঙানিয়া গান
তাই নির্বিচারে নিঃশেষিত এক প্রাণ
পড়ে থাকে রাস্তার ধারে | ঐ মৃতের মুখ
কি বার্তা পাঠালো জগৎ সংসারে!
"মানুষ যদি মানুষ না হয়"
তা হলে মানুষের কি আর পরিচয়!
এই পৃথিবীর মাঝে |
ঘুন ধরা ভেঙে পড়া এই সমাজে
বেঁচে থাকা বড় দায়
তাই প্রতিদিন এই নগর সভ্যতা
বসে থাকে মৃত্যুর উপাসনায় ||

.       **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
কে সে?                   

কার নির্দেশে মাটি ফুঁড়ে গাছ হয়
কার নির্দেশে জল বাষ্প হয়ে মেঘ হয়
কার নির্দেশে যোজন দূরের বাতি আলো দেয়
কার নির্দেশে গাছে ফুল ফোটে ফল হয়!
কার নির্দেশে দয়িতের বুকে জমা হয় মধু
কার নির্দেশে জীবন প্রতিদিন মুখর হয়
অথবা মৃত্যুর দূত জানিয়ে যায় হয়েছে সময়,
তখনি জীবন চলে শ্মশানের অভিমুখে |
কার নির্দেশে গলে যেতে দেখি কঠোর হৃদয়
কার নির্দেশে বিপদের ভয়ে মন বিচলিত হয়
কে সে? অপরূপ রূপের বাইরে থেকে
ডেকে যায় হেঁকে যায় আঁধারে আলোকে?

.       **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
প্রাপ্তি             

যে কুসুম ধরেছে আমার গাছে
তার গন্ধে মাতোয়ারা হও তুমি
তোমার হৃদয়ে উথাল ঢেউ
জেনে গেছে আমার স্বপ্নভূমি |
সে আমার স্বপ্নভূমি
তার আকাশ খোলা মাঠ
দূর আকাশে তারারা সব
নেয় কৌতুহলী পাঠ |
কৌতুহলী পাঠ নেয় তারারা সব
তাই দেখে গ্রামে গঞ্জে চলে উত্সব
উত্সব দেখে নেচে ওঠে মন
মহুয়ার গন্ধে মাতাল যৌবন
মাতাল যৌবন বিকিকিনি সারারাত
কার মন চুরি গেছে এসেছে সংবাদ |


.          **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর
*
গায়ক পাখি                   

আমি এক যাযাবর পাখি
বাতিঘরে বাতি দিই | সমুদ্রের
উচ্ছলতায় অজস্র প্রাণ ফিরে
পাই | মৃত্যুর অন্ধকার পার হয়ে
জীবনের উপকুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে
যাই | বিচ্ছিন্নতা নয়, বিহ্বলতা নয়
একরাশ স্বপ্নের উজ্জ্বলতায়
একুল ওকুলে ভেসে বেড়াই |
দাঁড়াবার একদণ্ড সময় হাতে নাই |
চরৈবেতির গোপন মন্ত্রের
জয়গান গাই | আমি এক যাযাবর
আঁধার ছিন্ন করে প্রভাতের
প্রদীপ জ্বালাই | আর প্রাণ ভরে
আশাবরী রাগে গান গাই |

.       **************                              
.                                                                      
উপরে
.                                   অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       


মিলনসাগর