কবি মণিভূষণ ভট্টাচার্যর কবিতা
গতিস্তব
কবি মণিভূষণ ভট্টাচার্য

ইতিহাস জলাভূমি |
কচুরিপানার নীচে
শ্যাওলা জড়ানো জোঁক---
বিষধর রয়েছে অঢেল----
দাঁত দিয়ে জিহ্বা ঢেকে রাখে |
ঘরে ও বাইরে চরাচরে
শস্যক্ষেত, শীতের আগুনে
স্পর্ধিত নেতৃত্ব দেয় মাতব্বর,
কৌশল শানায়---
বলে শুদু আমাকেই দেখো
জেনে রাখো, তোমাকে দেখিনা |

তোমার চেয়েও দামি
হিরণ্যস্তবক আছে বুকে |
ইতিহাসে স্থান নেই তার,
পাতায় পাতায় কাদামাখা
মোড়লের পদচ্ছাপ, আর নয়
এবার ঘোরাও চাকা---
আনো মহাগতিবেগ
জ্যোতিষ্ক সমাজ টেনে আনো
উল্কার প্রবল দীপ্তি, জ্বলে যাক
স্বার্থ ও শাঠ্যের সমন্বয়  |

ফুলের ফোটার কাল এসে গেলে
কেউ যে মানে না তা নয়,
কিন্তু তবু পাপড়ি ও পরাগ ছেঁড়া
যে সব বৃত্তান্তকথা তৈরি হয়-----

.        ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
বুকপকেটে
কবি মণিভূষণ ভট্টাচার্য

বাঁ পকেটে খামের মুখ, খোলা হয়নি স্বর ;
মাথার ভিতর অসমতলে তীক্ষ্ণ মহানগর,
দুরকমের বৃষ্টি আসে ঘ্যানঘ্যানে ঝমঝম,
ভস্ম হয়ে যাবার আগে একটু গরম কম |

সন্ততিরা সঠিক স্থানে মুখ লুকিয়ে চুপ,
খোকার জন্য মোটর গাড়ি, মায়ের জন্য ধূপ,
হৃদপিন্ডটি টাটকা আছে ফুসফুসেতে দাগ,
রাগের দিকে কান পেতে রই, জানাই অনুরাগ |

যদিও গায়ে গেঞ্জি আছে বুকের বোতাম খোলা,
বুলেটপ্রুফ ছিলো না রাত স্থির বাথানিটোলা,
উনিশ গেলে একুশ আসে জাগরণের নিয়ম,
মানুষ যদি অস্ত্র হতো জব্দ হতো যম |

এই শ্রাবণে আসবে বলে জাগিয়েছিল সাড়া,
সেই পত্রটি এবার এল ভুবন বাক্যহারা,
হাতের লেখার ধরণ দেখে পত্রবয়ান বুঝি,
চিঠির গায়ে রক্তছোপ ---- ব্যস্ত আঙুল খুঁজি  |

খোঁড়ার ফলে বাজল বেহুঁস আরণ্যক ধ্বনি,
সারাদিনটা শুক্রবার, রাত্রিশেষে শনি,
নিদ্রাহীনের বন্ধু হলো অন্তবিহীন দাহ,
খাম খুলে যেই পড়তে গেলাম স্তব্ধ খাজুরাহো |

.                ****************                 
.                                                                            
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*