কবি মোহিনী চৌধুরী  - ছিলেন বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের এক খ্যাতনামা গীতিকার। কবি
জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের কোটালিপাড়ার অন্তরগত ডহরপাড়ায়। পিতা মতিলাল
চৌধুরী ছিলেন ইংরেজ আমলে সরকারী ডাক বিভাগের কর্মী। তিনি ডাকবিভাগের কাজ নিয়ে দীর্ঘকাল
মেসোপটেমিয়ায় ছিলেন। মাতা গোলাপকামিনী দেবী।

তিনি ১৯৩৭ সালে কলকাতার রিপন (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ) কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ১৯তম
স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। এরপর ওই কলেজ থেকেই প্রথম বিভাগে আই.এসসি. পাশ করেন।
বি.এসসি. পরীক্ষা অসমাপ্ত রেখেই তিনি গান লেখায় মেতে ওঠেন। ১৯৪০ সালে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ হয়ে তিনি জি.পি.ও.-তে (জেনারেল পোস্ট অফিস) চাকরি নিয়ে ৮ বছর কর্মরত ছিলেন।

১৯৪৩ সাল থেকে গ্রামোফোন, রেডিও, সিনেমার গীতিকার, কাহিনীকার ও চিত্র পরিচালক হিসেবে তাঁর
আত্মপ্রকাশ। “রাজকুমারী ওলো নয়নপাতা খোলো” (১৯৪৩)  তাঁর লেখা প্রথম গানের রেকর্ড। ১৯৪৪ সালে
শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের “অভিনয় নয়” ছায়াযবিতে তিনি প্রথম গান লেখার সুযোগ পান। ১৯৫১ সালে,
তিনি জি.পি.ও.-র চাকরিতে ইস্তফা দেন। শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের “রায়চৌধুরী”, “ঘুমিয়ে আছে গ্রাম”,
“রঙবেরঙ”, “সন্ধ্যাবেলার রূপকথা”, “একই গ্রামের ছেলে”, “ব্লাইন্ড লেন” প্রভৃতি ছায়াছবিতে গান লেখার
পাশাপাশি সহকারী চিত্র পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। এরপর তিনি নিজে প্রযোজনা ও পরিচালনা
করেন “সাধনা” ছায়াছবি। এই ছবিতে তাঁর আর্থিক ক্ষতি ঘটে যাওয়ায় প্রথমে তিনি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার
সংসদীয় সচিবের চাকরি গ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি প্রাইভেটে বি.এ. পাশ করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে
শিল্পপতি দেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর “বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিল”-এ তাঁর একান্ত সচিবের কাজে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে
দেবেন্দ্রনাথ বাবুর ভাগ্য-বিপর্যয় ঘটলে তাঁর ১৭ বছরের চাকরি চলে যায়।  

সে যুগের বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠিত শিল্পীই তাঁর লেখা গান গেয়েছেন। তাঁর লেখা বহু গানই বিস্ময়করভাবে
জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু তিনি চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন তাঁর লেখা, কৃষ্ণচন্দ্র দে-র (কানাকেষ্ট) সুরারোপিত
"মুক্তির মন্দির সোপান তলে" দেশাত্ববোধক গানটির জন্য, যা আজও বাঙালীর জাতীয় অনুষ্ঠানে, প্রভাত
ফেরীতে, গাওয়া হয়ে থাকে।

কবির একটি ছবি ও  তথ্য আমাদের কাছে পাঠালে আমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে প্রেরকের নাম
এই পাতায় উল্লেখ করবো।

আমরা দেখেছি যে বাংলা কবিতার জগতে একধরণের ব্রাহ্মনত্ব কায়েম করা হয়ে আসছে। যে
কবিরা তাঁদের কথায় সুর দিয়ে মানুষের কাছে নিয়ে আসেন, বা আমরা যাদের গীতিকার বলে থাকি,
তাঁদের কোন এক অজ্ঞাত কারণবশত কবি হিসেবে ধরাই হয় না, যদি না সে গীতিকার নোবেল জিতে
আসেন! নজরুলের পর থেকে এই ব্যবস্থা আরও প্রকট হয়েছে। প্রখ্যাত গীতিকার  
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়  
একবার বহু দুঃখে বলেই ফেলেছিলেন যে তিনি কি কবি নন? এর পিছনে নিশচয়ই ছিল প্রতিষ্ঠিত কবি-
জগতের একাংশের অবজ্ঞা ও অপমান। আমরা মিলনসাগরে গীতিকার ও সুরবিহীন কবিতার রচয়িতাদের
জন্য একটিই শব্দ ব্যবহার করি, তা হলো
কবি।  

আমরা
মিলনসাগরে  কবি মোহিনী চৌধুরীর কবিতা/গান এই সাইটে তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে
পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টা সার্থক মনে করবো।


উত্স -
অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালি  চরিতাভিধান দ্বিয় খণ্ড, ২০১৫।


কবি মোহিনী চৌধুরীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     



এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২০১০
এই পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৯.২.২০১৬

...