১৯৩০ - ১৯৪৬ সাল সময়কালে, অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলার মূলঘর গ্রামের পণ্ডিত কবি
তারাপ্রসন্ন তর্কতীর্থ মহাশয়, যাঁর ছদ্মনাম ছিল বেদ ব্যাস এবং কবি শচীন্দ্রনাথ সেন এর মধ্যে কবির
লড়াইয়ের খ্যাতি গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর ছড়িয়ে পড়েছিল | তেমনই কোন এক বার কবি বেদ
ব্যাস
পাড়াগাঁয়ের মেয়ে কবিতাটি রচনা করেন | যার উত্তরে শচীন্দ্রনাথ সেন রচনা করেন শহরের
মেয়ে
কবিতাটি | পাড়াগাঁয়ের মেয়ে কবিতাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন |
খারাপও লাগে না কিছু সেই ডাল খেলে |
পরিপাক শক্তি বেশী তোমাদের চেয়ে
কাঁকড় হজম করি অবহেলে খেয়ে |
ধনে জিরে বাটা কাজ করে ঝি চাকরে
কখন কলেজে যাব আমরা তা করে?
কলসীতে জল আনার প্রয়োজন নাই
দুবেলা কলের জল ঘরে বসে পাই |
শরীর চালনা করি টেনিসের লনে
শক্তিও বাড়ে তাতে দেহে আর মনে |
গোয়ালায় দুধ দেয় রোজ ভোর বেলা
টটকা সে দুধে ভরি চায়ের পেয়ালা |
টাটকা মাখন পাই টোস্ট রুটি সনে
বালকেও খায় তাই আনন্দিত মনে |
খাঁটি ঘিয়ে ভাজি লুচি হালুয়া বানাই
খাবারের তরে কভু দোকানে না যাই |
দোকানের বাসি তেলের খাবারটা খাই
এমন খবর তুমি কোথা পেলে ভাই?
মোদের অভাব আছে কথাটাতো এই
সত্যি বলো অভাব কি তোমাদের নেই?
তোমরা কেনো না কিছু আমরাই কিনি
আংশিক সত্য ইহা একথাটি মানি |
কিন্তু পয়সা কোথা তোমাদের ঘরে
কিনিতে হলেই কিছু আন ধার করে |
খেয়ে উঠে গড়াবার সময় তো নাই
স্কুল আর কলেজেতে তখনই তো যাই |
মা খুড়িরা কলে বসে করেন সেলাই
নাটক নভেল পড়ার নেই কো বালাই |
সিনেমার যুগে আর সেই দিন নাই
প্রতি শনিবারে তাই সিনেমায় যাই |
তোমরা আঁধারে থাক কেরোসিন বিনে
বিজলীর বাতি জ্বালি মোরা রেতে দিনে |
তোমরা হাঁটিয়া থাক শুধু পায়ে গ্রামে
পায়ে জুতো মোরা ভ্রমি বাসে আর ট্রামে |
তোমরা জংলী হয়ে থাক পাড়াগাঁয়ে
ফিটফাট থাকি মোরা শহরের মেয়ে |
হিংসা কি হয় ভাই আমাদের দেখে?
তাই কি ঝগড়া কর এত গায়ে মেখে?
বিধি পায় মাগি বর এই শুধু চাই
জনমি শহরে যেন মরি গো সেথাই |
*********************                         
[একটি অনুরোধ - এই
সাইট থেকে আপনার
ব্ লগ্ বা সাইটে,
আমাদের কোন লেখা,
কবিতা বা তার
অংশবিশেষ নিলে,
আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.
com/index.html
এ দয়া করে একটি
ফিরতি লিঙ্ক দেবেন
আপনার ব্ লগ্  বা
সাইট থেকে, ধন্যবাদ! ]