কবি সৌরিন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়  - ছিলেন একাধারে লেখক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক
এবং কবি।

তিনি জন্মগ্রহণ করেন উত্তর চব্বিশ পরগণার ইছাপুরের এক সম্ভ্রান্ত আইনজীবী পরিবারে। তিনি নিজেও
পেশায় উকিল ছিলেন (এই বিষয়ে সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই)। উকিল হলেও পেশায় যত না মন, তার
চেয়ে সাহিত্যে তাঁর মনোযোগ বেশি ছিল।

১৩২২-১৩৩০ (১৯১৫ ~ ১৯২৩) বঙ্গাব্দ পর্যন্ত সময়কালে সৌরিন্দ্রমোহন জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ীর প্রতিষ্ঠিত
“ভারতী” পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেছিলেন মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

তিনি তাঁর ছোট গল্পের জন্য, সে যুগের প্রখ্যাত কুন্তলীন তেল প্রস্তুতকারক দ্বারা প্রবর্তিত, “কুন্তলীন পুরস্কারে”
ভূষিত হয়েছিলেন একাধিকবার।

তাঁর ছোটদের জন্য লেখা লালকুঠি, পাঠান মুলুকে, চালিয়াৎ চন্দর প্রভৃতি অত্যন্ত জনপ্রিয় রচনা। তাঁর
উপন্যাস ও ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে আলোছায়া (১৯৩৬), অগ্রবর্তিনী (১৯৩৭), অকস্মাৎ (১৯৩৮), অমলার
অদৃষ্ট (১৯৪০), অরণ্য (১৯৪৫), কাশী ডাক্তার (১৯৫২) প্রভৃতি। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে রয়েছে দরিয়া
(১৯১২), পঞ্চসার (১৯২০), হারানো রতন (১৯২৯), লাখটাকা (১৯২৬) প্রভৃতি।

তাঁর রচিত গান কৃষ্ণচন্দ্র দে, পঙ্কজ মল্লিক, মৃত্যুঞ্জয় ব্যানার্জীদের প্রমুখদের মত সে যুগের অগ্রণী শিল্পীদের
কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁর কথায় সুর দিয়েছেন রাইচাঁদ বড়ালের, পঙ্কজ মল্লিকের মত দিকপালরা।

১৯৪৬ সালে তাঁর কন্যা
সুচিত্রা মুখোপাধ্যায়ের ( পরে প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী এবং কবি সুচিত্রা মিত্র )
প্রথম গানের রেকর্ড বার হয় তাঁরই লেখা গান গেয়ে ১৯৪৬ সালে। গান দুটির সুর দিয়েছিলেন আবদুল
আহাদ।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি সৌরিন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের গান তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। মিলনসাগর কবি ও গীতিকারদের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না।


উত্স –
ডঃ শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩
.        স্বপন সোম, সংকলক, গানের ভিতর দিয়ে ১, ১৯৯৮



কবি সৌরিন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১৪.০৩.২০১৫
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ০৩.১২.২০১৫

...