কবি সুতপা ভট্টাচার্যর কবিতা
*
নদীজন্ম
কবি সুতপা ভট্টাচার্য

জানি না, এই অহল্যাজন্ম কবে শেষ হবে!
চারিপাশে এলোমেলো ছড়ানো পাথরের ফাঁকে ফাঁকে
দু মুঠো ঘাসও কি থাকতে নেই?

ফেলে আসা সেই নারীজন্ম নয়, আমি চেয়েছিলাম
এক নদীজন্ম। অনেক দেশের অনেকরকম মাটি ছুঁতে ছুঁতে
শেষ অবধি সমুদ্রে ঝাঁপ।

নদীজন্ম? ভালো করে ভেবে দেখো। চেয়ে দেখো
টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিসের রক্তরাঙা জল
আমাদেরও বাঁধে বাঁধে আটকে থাকা শবদেহগুলি!
কত হাজার বছর ধরে গঙ্গা যমুনা কেবলই
ব্যবহৃত ব্যবহৃত ব্যবহৃত!

জলই নাকি নারী, জলই নাকি মা, জলই নাকি ধাত্রী!
সভ্যতার ধাত্রী! তার এক বুকে সভ্যতার ক্লেদ
অন্যবুকে সভ্যতার শস্য!

এসব ভুলে যেতে আমি, নদীজন্ম চাই,
শুধু চলা চাই, শুধু ছোঁয়া চাই, চাই সর্বাঙ্গ মিলন।
কিন্তু কী জানি, একদিকে দুর্বার ঝাঁপ
অন্যদিকে সমুদ্রের উদাসীন দাক্ষিণ্য . . .
তখন হয়তো আবার সেই অহল্যাজন্মেই ফিরতে চাওয়া!

.               *****************

.                                                                                        
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
মায়েদের কথা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য

আমাদের অশ্রুমতী নদীগুলি সবার আড়ালে
চিরদিন মরুতাপে শুকিয়ে গিয়েছে চুপিসারে
কী পেলাম না পেলাম--- তা নিয়ে তো ভাবিনি কিছুই
তোকে কোলে পেয়ে স্বপ্নে মরুদ্যান রচনা করেছি।

কুসুমের কোমলতা ইন্দ্রধনু রঙিনতা দিয়ে
শিশুকাল থেকে তোকে লালন করেছি বুকে রেখে
তবু একদিন তুই শাণিত ইস্পাত হয়ে গেলি!
চিনি কি চিনি না মুখ! বুঝি কি বুঝি না তোর ভাষা।

তোর শুদ্ধ দেহখানি ধুলায় লুটানো দেখে নিয়ে
আমারও বুকের দুধ ইস্পাত-কঠিন হয়ে গেল
আমি আর আমি আর আমি মিলে আমরা সকলে
আমাদের শাণিত নগ্নতা আজ বজ্র হয়ে যাক।

আমাদের অশ্রুমতী নদীগুলি সমুদ্র মোহানা
খুঁজে পেয়ে, ফুলে ফুলে ওঠে আজ, প্রলয়-গর্ভিণী!

.               *****************

.                                                                                        
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর