কবি তপন সিংহের গান ও কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  এক যে ছিল দেশ

প্রেম করেছি আমি, প্রেম করেছি কত
প্রেম করেছি আমি এন্তার,
ঠিক ঠিকানা নেই তার |
দুই পাশে দুই ছেলে আমার সদা ঘোরে ফেরে
ছেলের দল বদলি করি প্রতি শনিবারে |
তবু তবু তবু আমার আশা মেটে না  |
বাপি ঢালে কালো টাকা, কোশ্চেন আসে ঘরে,
ফার্স্ট, সেকেন্ড হই আমি সেই টাকার জোরে |
তবু তবু তবু আমার শরম হয় না |
মা আমার পার্টি করে, বয়ফ্রেন্ড আসে ঘরে,
লজ্জা শরম নেইকো কারো---- সমাজটি এই বুঝতে পারো  !
তবু তবু তবু আমার মরণ হয়না |

.           ****************          

.                                            
                                         সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  এক যে ছিল দেশ

আজ বসন্তে মস্ ত মরশুমে
গায় সে পাধানিসা, ধানি পাদাপা, নিনিধাপা |
গাহে পাপিয়া, পিউ পিউ পিয়া,
কুহু কুহু বলে কালো কোয়েলিয়া,
বুলবুল দিওয়ানা , মানা মানে না-----
গাহে সে পাধানিসা, ধানি পাদাপা, নিনিধাপা |
আগুন লেগেছে ঐ কৃষ্ণচুড়ার গায়ে,
ফাগুন এনেছে গান মৃদু দখিনা বায়ে,
গুন্ গুন্ গুঞ্জরে, ছাড়ি পিঞ্জরে----
গাহে সে পাধানিসা, ধানি পাদাপা, নিনিধাপা  |

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  আজব গাঁয়ের আজব কথা

আজব গাঁয়ের আজব কথা
শুনবে কি তার বুকের ব্যথা  ?
ব্যথা ঝরে আনন্দেরই জলে
সেই জল ছিটিয়ে যাব চলে
আজব গাঁয়ের আজব কথা |
আজব গাঁয়ে বুঝত না কেউ
শুনত না কেউ কারো কথা----
ব্যথার কথা, দুখের কথা,
মনের কথা, প্রেমের কথা,
শুনত না কেউ কারো কথা,
সবাই থাকে নিজের তালে,
সবাই বলে নিজের কথা
আজব গাঁয়ের আজব কথা |
আজব গাঁয়ের মরণ-বাঁচন
ভুলে করে নাচন-কোঁদন
তাতে যদি গাঁ থাকে তো ভালো,
নইলে সবাই কলকাতা চলো |
শহরের কথা বলতে লাগে ভয়
সেথা বাতাসা খাবে, বাতাস নাহি বয়,
পেটের ব্যারাম, পেটের ব্যারাম,
সারা শহরময়----
শহরের কথা তাই বলতে লাগে ভয় |
আজব গাঁয়ে আসতে যদি চাও

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  আজব গাঁয়ের আজব কথা

সবার দুখে দাঁড়াতে হবে
সবার কথা ভাবতে হবে
আরে, গতর খাটিয়ে বাঁচতে হবে
শক্তপোক্ত হতে হবে
তোমরা আজব গাঁয়ে আসতে যদি চাও |
কোন অন্ধকার হতে
কোন বন্ধ দ্বার থেকে
কোন দৃষ্টিহারা রাতে
কোন বৃষ্টি ঝরা প্রাতে
বলো শুধু, আছি আছি আমি আছি
তোমার সনে, তোমার মনে, তোমার প্রাণে-----
---- আছি আছি আমি আছি
তোমার সনে,  তোমার মনে,  তোমার প্রাণে
আছি আছি ভয় কী তোমার ?
কোন সূর্যি ওঠা ভোরে
কোন সন্ধ্যাতারার পারে
কোন সিন্ধু-পাড়া থেকে
কোন অচিন তারা থেকে
কোন সূর্যি ওঠা ভোরে
কোন সন্ধ্যাতারার পারে
কোন সিন্ধু-পাড়া থেকে
কোন অচিন তারা থেকে
কোন সূর্যি ওঠা ভোরে
বলো শুধু, আছি আছি আমি আছি
তোমার সনে, তোমার মনে, তোমার প্রাণে-----
------ আছি আছি আমি আছি
তোমার সনে, তোমার মনে, তোমার প্রাণে
আছি আছি ভয় কী তোমার ?
কোন ঝর্ণাধারার তলে
কোন শিপ্রা নদীর কূলে
কোন জ্যোত্স্নাধারার স্নানে
কোন আঁধার-বীণার তানে
কোন ঝর্ণাধারার তলে
বলো শুধু, আছি আছি আমি আছি
তোমার সনে, তোমার মনে, তোমার প্রাণে-----
----- আছি আছি আমি আছি
তোমার সনে, তোমার মনে, তোমার প্রাণে
আছি আছি ভয় কি তোমার  ?

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  আজব গাঁয়ের আজব কথা

আকাশে বাতাসে কত সুর ভেসে যায়
কোন উদাসী কথা বুনে গানে ভাসায় গো |
এ জগতে বাঁচতে যদি চাও----
চুরি করো, পকেট মারো
ঘুষ খাও, মিথ্যা বলো
ভাল জালিয়াত করে সব ভাগ করে দাও গো  |
এ জগতে বাঁচতে যদি চাও----
এ পথে কি হয়রে সমাধান ?
অনাচারে অনাচার বাড়ে
হিংসাতে হিংসা বাড়ে
কোন উদাসী লিখে যায়রে পাপের কথার হোক অবসান |
এ জগতে হায় সেই বেশি চায়
যার আছে ভুরি ভুরি
আহা মন্ত্রির হস্ত করে সমস্ত
প্রজাদের ধন চুরি
দাদা প্রজাদের ধন চুরি |
হেথা পেটে ভাত নাই
হায় কপালে সিঁদুর গো !
হেথা কোটালমশাই বস্তা ধরে
মন্ত্রিমশাই চুরি করে
মানুষে মানুষে লড়াই করে
ছেলে মেয়ে ধুলোয় পড়ে
মন্ত্রিমশাই লাঠি ধরে রাজত্ব চালায় গো  |
এ পথে কি হয় রে সমাধান ?
এমনতর জগৎ রে ভাই তুলনা কোথায় ?
এখন সকাল-সাঁঝে আকাশমাঝে
তারার উদয়, তারার উদয় |
হেথা ঢেউয়ের সাথে বাতাস করে
কত কানাকানিরে, কত কানাকানি !
আর বকুলের মুকুলের কথা
কেউ কখনও জানিরে, কেউ কখনও জানি ?
এ ভুবনের কত কথা আজ
অজানা থেকে যায়রে, অজানা থেকে যায় |

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  সুরের আগুন

এই রং-বেরং-এর খেলার মাঝে
.         দেখতে পাই যে তারে |
তার রিনি ঝিনি নূপুর শুনে
.         দেখতে পাই যে তারে |
আমার চোখের দেখা নাইবা হল
.         মন যে তারই দেওয়া
সেই মনের মাঝে সুরে সুরে
.         তারই গান যে গাওয়া |
তাই নয়ন আমার নেইতো তবু
.         এলেম যে তার দ্বারে
যেখানে আলোর কমল উঠল ফুটে
.         আঁধার পারাবারে |
পথের ধারে ফুলের হাসি
নদীর তীরে ঢেউ-এর হাসি
আকাশ ভরা তারার হাসি
বাতাস ভরা মধুর হাসি
এই জীবনের কান্না রাশি
.         নাইবা জানি নাইবা শুনি
দুঃখের কথা হোকনা সারা
.        কান্না হাসি তারই জানি |
আমি হাসি তুমি হাস
.        হাসি নিয়ে দেখব তারে |

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  কেদার রাজা

দিয়ে গেছি সবই তবু দিলে ফাঁকি
ভবনদী পারে আজও বসে থাকি |
কবে তব দয়া হবে   ত্রিতাপ জুড়াবে যবে
ওগো কৃপাময়ী করুণাতে তব
আলোর পরস পাবে আঁখি  |

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  চার চরিত্র

তোমার মদিরা-পাত্রে
কত কী দেখেছি আমি |
তোমার কাজল চোখে
কতকী দেখেছি প্রিয়ে,
তোমার আঁখির পাতে
কত কী দেখেছি প্রিয়ে |
চেয়ে চেয়ে গেল বেলা
এখনো শেষ হবে কি
মোদের গানের খেলা,
শেষ নাহি যার-----
তাকে যায় কি কখনো ভোলা ?
গানে গানে পরিচয়
সুন্দরতর হয় |
কত সুন্দরতর,
কত সুন্দর,  কত মনোহর,
সুন্দর কত মনোহর,

কত চিরবিরহী অশ্রু বয়ে যায় |

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  চার চরিত্র

আমারে চোখ ইশারায়
ডাক দিলে কেন ও দরদী |
তোমার ঐ চোখের কোণে
হাসির টানে এলেম মরমী |
যে গান আমার পড়ল ঝরে,
পথের দু-ধারে---
সে যে তারে কুড়িয়ে নিল
মনের মাঝারে |
আমি শাড়ি নেব,  গয়না নেব,
দুলবে কানে দুল
আর নাকে তোমার গড়িয়ে দেব
লাল পাথরের ফুল |
পায়ে চলা পথের কথা
কে জানেরে, কে জানে ?
কোথায় যে তার জনম্ হল
কোথায় হল শেষ---
কে জানেরে, কে জানে ?
মাটির গড়া এ ধরণী
যেথায় হবে শেষ,
সেথায় বুঝি আছে----
আমার স্বপ্নে পাওয়া দেশ |
ঐ পায়ে চলা পথে
আমি হব তোমার সাথি গো
হব তোমার সাথি,
দুজনেতে চলব মোরা
হব ব্যথার ব্যথী গো
হব ব্যথার ব্যথী  |

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  গল্প হেকিম সাহেব

আসমানের যত তারা
আজ কেন নিদ্রাহারা  |
কে জ্বালালে পিদিম ওরে
.     কোন সে আন্ জান জন ?
দেখি নাই তার বসনভূষণ
.     জানিনা যে তার মন----
ওসে কখন জ্বালায়, কখন নেভায়
.             হয়ে পথহারা ||

.           ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর    
*
কথা     :  তপন সিংহ
চলচ্চিত্র :  হারমোনিয়াম


আহা ছল করে জল আনতে আমি যমুনাতে যাই
যমুনাতে যাই গো আমি, যাই গো যমুনায় |
সে আছে দাঁড়িয়ে পথে বাঁশিখানি নিয়ে হাতে
শেকল বেঁধে রাখে ঘরে আমি শেকল ভেঙ্গে যাই |
ছল চাতুরী করব যত মিছের বোঝা বাড়ে তত
মনে ভাবি যাব না আর বাঁশি টেনে নিয়ে যায় |

.       
            ****************          
.                                                                                     
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর