কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের গান ও কবিতা
*
কি জাত আমাদের
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
চোরাবাণ্ডারাজুর এই কবিতাটি ‘বিপ্লবী লেখক বুদ্ধিজীবী  সংঘ’ দ্বারা প্রকাশিত কবির
কবিতা সংকলন ঢেউয়ে ঢেউয়ে তলোয়ার এ ছাপা হয়েছিল | আমি ‘জননাট্য মণ্ডলী’র
সুরের ছকে ফেলে গেয়েছি অন্য সুরে গেয়েছেন প্রতুলদা, প্রতুল মুখোপাধ্যায় |
[
স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, ‘এবং জলার্ক, সঙ্গীত সমাজ ইতিহাস’ এপ্রিল—সেপ্টেম্বর
২০১০ সংখ্যা থেকে নেওয়া।
]


কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি ||

মাটি ছেনে যখন ইটের পাঁজা বানাচ্ছি
যে ইট দিয়ে তৈরী হবে তোমাদের ঐ ঘর,
ক্ষিদেয় ধুঁকে বইছি যখন শস্য এ বুকভর ||
.                   কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি !!

মাটির তলা খুঁড়ে যখন কয়লা ওঠাচ্ছি ||
কাশতে কাশতে জীবন যায়, শরীর হয় ক্ষয়,
গরমে ভাপে হাপর যেন চলে অন্ধ্রময় ||
.                   কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি !!

ভেজা জমির ওপর যখন লাঙল চালাচ্ছি ||
কণামাত্র খাবার যখন পাইনা খেতে নিজে,
পাথর দিয়ে মূর্তি বানাই কড়া রোদের নীচে ||
.                    কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি !!

ফুলের ডালা যখন তোমার সামনে সাজাচ্ছি ||
তোমাদেরই জন্যে যখন কাগজ বানালাম,
তার উপরে লিখবে যখন রাম রাম রাম ||
.                     কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি !!

জুতোর জন্যে কত জীবের মুণ্ডু খসাচ্ছি ||
বাঁধবে খাবে বলে বানাই থালা বাটি গ্লাস,
নিজের জন্যে পাইনে যখন সামান্য এক গ্রাস ||
.                     কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি !!

চুল কামিয়ে, দিচ্ছি যখন হবে সন্ন্যাসী ||
ধুচ্ছি যখন ওই তোমাদের কাপড় জামার কাদা,
ফিরিয়ে দিতে হবে বলে জুঁইয়ের মতো সাদা ||
.                     কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি !!

তোমাদের ওই ধাপ্পা বাপ চলবে নাতো আর
উঁই খেয়েছে কুরে তোমার মনোবলের সার |
থুবড়ে পড়া হদ্দ বুড়ো ওই তোমাদের রথও
নড়তে চড়তে পারে না আর চূর্ণ এবং গত ||
.                     কি আমাদের জাত আর ধর্মই বা কি !!

টুকরো থেকে টুকরো আরো করতে যদি চাও
ভাবো যদি ভিন্ন করে দেবে সবার জাত |
তোমাদের যে দিন ঘনালো ভাবো সেই কথাও,
ঘাম ঝরিয়ে এক হয়েছি মেলাচ্ছি সব হাত ||

.                **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিপ্লবের এই যুগ আমাদের
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
অন্ধ্রের বিপ্লবী কবি চোরাবাণ্ডারাজুর কবিতাটার ইংরেজি অনুবাদ পেয়েছিলাম  ওয়ার
ওয়ার রাও মশায়ের কাছে | শুনেছিলাম জননাট্য মণ্ডলী গাইছে গানটা | অনুবাদ করে,
ওদের গাওয়া সুরেই সাজিয়ে ছিলাম  ১৯৮২ সালের কোনো এক সময়ে |
[
স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, ‘এবং জলার্ক, সঙ্গীত সমাজ ইতিহাস’ এপ্রিল—সেপ্টেম্বর
২০১০ সংখ্যা থেকে নেওয়া।
]


বিপ্লবের এই যুগ আমাদেরই
জিতবোই এসো বিদ্রোহ করি |
জিতবো আমরা, জিতবো আমরা
জিতবোই এসো বিদ্রোহ করি ||

মজুর কিষাণ খেটে খাওয়া জন
ধুঁকে ধুঁকে কেন দিবি এ জীবন |
লড়াইয়ের মাঝে বেচে ওঠ্ ভাই
গণফৌজের হাতিয়ার ধরি ||

জনযুদ্ধের প্রলয় তুফান
শোষণের ভিত ধরে মারে টান |
ধুলো হয়ে ধুলোতেই যাবে মিশে
বুর্জোয়া আইনের জারিজুরি ||

কুরবানি দিতে যার ভয় নাই
সেই আমাদের কমরেড ভাই |
শত্রুকে দয়া মায়া যে করে না
সে বন্ধু, তাকে বুকে চেপে ধরি ||

পুলিশি রাজ্য পুলিশি জমানা
গণস্বাধীনতা দেয়নি দেবে না |
আদালত ঘরে মানুষের ন্যায়
খতম করেছে গলা টিপে ধরি ||

সমাজবাদের পাহাড় বিশাল
ভাঙনের মুখে আজ বে-সামাল |
এমন শক্তি কে আছে সইবে
জনশক্তির দোহাতিয়া বাড়ি ||

বিপ্লবালা যুগম্ মানাদে
বিপ্লবিস্তে জয়ম মানাদে ||

.        *************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
জন্মগত অধিকার --- বিপ্লব
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
অন্ধ্রে বিপ্লবী কবি চোরাবাণ্ডারাজুর  কবিতা বিপ্লব আমাদের জন্মগত অধিকার
--- জন্মহক্কু | ইংরেজী অনুবাদ থেকে বাংলা করে সুরে ফেলেছিলাম | বিশেষ করে মনে
আছে, গানটি চোরাবাণ্ডরাজুর  মৃত্যু যেদিন, সেদিনই প্রখম গেয়েছিলাম |
[
স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, ‘এবং জলার্ক, সঙ্গীত সমাজ ইতিহাস’ এপ্রিল—সেপ্টেম্বর
২০১০ সংখ্যা থেকে নেওয়া।
]


বিপ্লব সে তো হক আমাদের
.                    জন্মসূত্রে পাওয়া
দামামা বাজিয়ে গোটা দুনিয়াকে
.                    জানিয়ে দাও,
আকাশের বুকে রক্ত পতাকা উড়িয়ে দাও ||

লড়াইয়ে সামিল হও যতো
.                    খেটে খাওয়ার দল,
দুনিয়ার সব ধনদৌলত
.                    করো দখল |
হানাহানি আর অত্যাচারের
.                    হাত থেকে----
এসো নিপীড়িত জন্মের মতো মুক্তি নাও ||      দামামা বাজিয়ে ------- ||

পেশা ধর্মের ভেদ ভোলো আর
.                     আরাম নয় |
ভাইয়ের মতন মেলো এক সাথে
.                     এলো সময় |
বলির পশুর মানুষেরে
.                      মারছে যে---
গদি থেকে সেই গভরমেন্টকে টেনে নামাও ||     দামামা বাজিয়ে ------- ||

তোমার শক্তি সামর্থ্য সব
.                      করো জড়ো |
আত্মত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে
.                      আগে বড়হো |
হাতিয়ার হাতে নাও তুলে করো
.                      জোর লড়াই---
সবাই যেখানে সমান সেই ভারত বানাও ||         দামামা বাজিয়ে .... .. ||

কয়লা হবার জন্যে জন্ম
.                      নয় তোমার |
মরীচিকা শুধু কোথায় শান্তি
.                      বেঁচে থাকার |
কতকাল বলো ভাসবে তোমরা
.                      চোখের জলে---
দাবানল হয়ে দিগদিগন্তে ছড়িয়ে যাও ||              দামামা বাজিয়ে ----  ||

খোলা ইতিহাস লড়াই লড়াই
.                      বলছে হেঁকে |
সংগ্রাম কর জনযুদ্ধেতে
.                      আস্থা রেখে |
প্রতি মুহূর্তে মানুষের
.                       নিশ্বাস যেমন-----
প্রতি পদে পদে তেমনি লড়াই চালিয়ে যাও ||     দামামা বাজিয়ে ----- ||

.                   *************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইনকিলাব
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
১৯৮৪ তে সারাভারত বিপ্লবী সাংস্কৃতিক লীগ  এর প্রথম সম্মেলন হোল দিল্লীতে |
মহারাষ্ট্রের ‘আহ্বান নাটমঞ্চ ‘ সেখানে এই গানটি গেয়েছিল  | অবশ্যই হিন্দীতে | সেই সুরে,
সেই ছন্দে অনুবাদ করে আমিও গেয়েছিলাম  ঐ মঞ্চেই |
[
স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত, ‘এবং জলার্ক, সঙ্গীত সমাজ ইতিহাস’ এপ্রিল—সেপ্টেম্বর
২০১০ সংখ্যা থেকে নেওয়া।
]


ইনকিলাব ইনকিলাব ইনকিলাব
আমরা সবহারা তুলেছি আওয়াজ ইনকিলাব ||

অথৈ সাগরে ঝঞ্ঝা তুফান আমরাই আনি বশে,
আমাদেরই হাতে হাতুড়ির ঘায়ে পাথুরে পাহাড় খসে |
আর সইবো না মালিক জাতের শোষণ স্বেচ্ছাচার,
যেখানে জুলুম সেখানেই দেবো কড়া জবাব ||

কাটবে রাতের আঁধার, উঠবে সূর্য রক্তলাল,
ভেঙে চুরমার করবো ধর্ম জাতপাত বেড়াজাল |
চলবে না আর কোনো কেউকেটা মশায়ের ঠিকেদারি,
একতার জোরে গোটা দুনিয়ার মালিকানা নেব কাড়ি |
থাকবে না আর কোনো হিটলার কোনো নবাব ||

দুষমণ চিনে নিয়েছি এবার হানবো শেষ আঘাত,
ঘৃণার আগুনে পুড়িয়ে মারবো বেইমান বদ্ জাত |
সব জিতে নিতে এবার আমরা জানের ধরেছি বাজি,
ভুখাইয়ের দল আয় সবে মিলে মুক্তি ডাকিছে আজি |
শোষণ মুক্তি দুনিয়া বদল |  ইনকিলাব |
খেটে খাওয়াদের ক্ষমতা দখল | ইনকিলাব ||

.                   *************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর