কবি বিজন ভট্টাচার্য - বাংলা নাট্যজগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যব্যক্তিত্ব, জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত
বাংলার ফরিদপুরের খানখানাপুরে। পিতা ক্ষিরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন বাংলা নাট্যমঞ্চের খ্যাতনামা
ব্যক্তি এবং সুঅভিনেতা। পিতার আদর্শ জীবনযাত্রা, সাহিত্য ও সঙ্গীত প্রীতি এবং শেক্সপিয়র
চর্চা প্রভাবিত করেছিল বিজন ভট্টাচার্যকে।

কবির জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। কিছু জায়গায় রয়েছে ১৯১৫ আবার কোথাও ১৯১৭। ২০১৫ সালে, এই
সময় পত্রিকার ১৯শে জুলাই ২০১৫ তারিখের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, বৈজয়ন্ত চক্রবর্তীর
সঙ্গে একটি সাক্ষাত্কারে কবির পুত্রবধূ প্রণতি ভট্টাচার্য জানান যে “১৯১৫টা কোথাও একটা লেখা থেকে
বাপ্পারা (নবারুণ ভট্টাচার্য) বের করেছিল। ইতিমধ্যে সেটাই চাউর হয়ে গেছে। ১৭ জুলাই, ১৯১৫। সবাই ধরে
নিল এটাই জন্মশতবর্ষ। কিন্তু স্কুলের রেকর্ডে লেখা আছে ৯ জুলাই ১৯১৭।” আমরাও তাই এই তারিখটিই
দিয়েছি।

১৯৩০ সালে কলকাতায় এসে প্রথমে আশুতোষ কলেজ ও পরে রিপন কলেজে (অধুনা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ)
ভর্তি হন। ১৯৩১-৩২ সাল থেকে জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন ও মহিষবাথানে লবন সত্যাগ্রহ
আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁর পড়াশুনায় ছেদ পড়ে যায়।

১৯৩৯ সাল নাগাদ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর সময়, মাতুল সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের পত্রিকা অরণিতে
লেখালেখি করেন। আগামীচক্র সাহিত্য বাসরেও বহু সাহিত্যিক ও লেখকের সঙ্গে পরিচিত হন। রেবতী
বর্মণের সাম্যবাদ নিয়ে লেখা পড়ে তিনি কমিউনিস্ট মতবাদের দিকে আকৃষ্ট হন। ১৯৪২ সালে তিনি
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করে সর্বক্ষণের কর্মী হন। এই সময়ে অনিয়মিত জীবনযাত্রা ও
অযত্নের জন্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিত্সাধীন থাকতে হয়।

১৯৪২ সালে সংগঠিত হয় ভারত ছাড়ো আন্দোলন, জনযুদ্ধ নীতির প্রচার, ফ্যাসি বিরোধী লেখক ও শিল্পী
সংঘ ও ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (আই.পি.টি.এ
Indian People’s Theatre Association)। এই সব ক’টির সঙ্গেই
তিনি জড়িত ছিলেন।

১৯৪৩ সালে, বিনয় ঘোষের "ল্যাবরেটরী" গ্রন্থের নাট্যরূপ দিয়ে তিনি তাঁর প্রথম নাটক  “আগুন”  মঞ্চস্থ  
করেন। এরপর অরণীতে প্রকাশিত হয় তাঁর "জবানবন্দী" নাটক। বিয়াল্লিশের দুর্ভিক্ষ ও মন্বন্তর নিয়ে লেখা
নাটক "নবান্ন" মঞ্চস্থ করেন আই.পি.টি.এ.-র উদ্যোগে। ১৯৪৪ সালে ওই নাটকে প্রধানের চরিত্রে
স্বয়ং অভিনয় করেন।  

১৯৪৩ সালে লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় যা স্থায়ী হয়নি। তাঁদের পুত্র
কবি নবারুণ
ভট্টাচার্য  বিচ্ছেদের পরে কবির কাছেই মানুষ হন।       

১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় লেখেন "জীয়নকন্যা" নাটক। অন্ধ গণসঙ্গীতকার
টগর অধিকারীর জীবন
অবলম্বনে লেখেন ও মঞ্চস্থ করেন "মরাচাঁদ" নাটক।

১৯৪৮তে গণনাট্য ছেড়ে বম্বে গিয়ে কয়েকটি ছায়াছবিতে অভিনয় করেন ও স্ক্রিপ্ট লেখেন। ১৯৫০ সালে
কলকাতায় ফিরে এসে ক্যালকাটা থিয়েটার গ্রুপ সংঘটিত করে ২০ বছর ধরে বিভিন্ন নাটক
লিখেছেন, মঞ্চস্থ করেছেন, অভিনয় করেছেন এবং তরুণ শিল্পীদের শিক্ষাদান করেছেন।

সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত “গণসঙ্গীত সংগ্রহ” সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁর "ও ওই! ও হোসেন বাই
দামুকদিয়ার চাচা" গানটি।  দুঃখের বিষয় এই যে এই গানটি ছাড়া আমরা তাঁর আর কোনো গান বা কবিতা
হাতে পাইনি। তবুও আমরা আনন্দিত যে এই গানটি দিয়ে আমরা তাঁকে মিলনসাগরের কবিদের সভায় স্থান
দিয়ে ধন্য হতে পেরেছি।

কেন্দ্রীয় সঙ্গীত নাটক আকাডেমি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আকাডেমি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি
পুরস্কার ও মানপত্র পান।  

আমরা  
মিলনসাগরে  কবি বিজন ভট্টাচার্যর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই এই
প্রয়াসের সার্থকতা। এই পাতা তাঁর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধার্ঘ্য।


উত্স - সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড।
.           বৈজয়ন্ত চক্রবর্তী,
এই সময় পত্রিকা
.           
আনন্দবাজার.কম         



কবি বিজন ভট্টাচার্যর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     

এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৪.৬.২০১৫
...