কবি রজনীকান্ত সেন – জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার পাবনা জেলার, সিরাজগঞ্জ মহকূমায়
ভাঙাবাড়ি গ্রামে। পিতা গুরুপ্রসাদ সেন ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ।

কবি কুচবিহার জেনকিন্স স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন ১৮৮৩ সালে। এরপর রাজশাহী কলেজ থেকে
এফ.এ. (ফার্স্ট আর্টস) এবং কলকাতা সিটি কলেজ থেকে বি.এ. ও বি.এল. ডিগ্রি লাভ করেন ১৮৯১ সালে।
কর্মজীবনে তিনি রাজশাহী কোর্টে ওকালতি শুরু করেন। কিছুদিন তিনি নাটোর ও নওগাঁয় অস্থায়ী মুন্সেফও
ছিলেন।

রজনীকান্ত তাঁর পিতার কাছে সঙ্গীতশিক্ষা লাভ করেন এবং মাত্র পনেরো বছর বয়সে শ্যামাসঙ্গীত রচনা
করে কবিত্বশক্তির পরিচয় দেন। তিনি রাজশাহীতে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র বাড়িতে স্বরচিত গান পরিবেশন
করে খ্যাত হন। সেখানকার উৎসাহ নামক মাসিক পত্রিকায় তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে।

রজনীকান্ত নিজের সুরেলা গলায় গান পরিবেশন করতে এবং তাঁর রচনার প্রধান অংশ গান। তাঁর বহু
কবিতা ও গান তিনি নিজে “কান্ত কবি” ভণিতা দিয়ে রচনা করেছেন। তাঁর গানের প্রধান বিষয় ভক্তি ও
দেশপ্রেম। তাঁর স্বদেশী গানে স্বাজাত্যবোধের মত্ততা নেই, আছে সহজ সরল মমতা। তাঁর "মায়ের দেওয়া
মোটা কাপড়" গানটি সম্বন্ধে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি লিখেছিলেন “
ইহাতে মিনতির অশ্রু আছে---
নিয়তির বিধান আছে”
।  তাঁর ভক্তি সঙ্গীতগুলি বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। রজনীকান্তের হাসির গানও প্রভূত
জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ১৯০৫ সালে প্রকাশিত "বাঙালির গান"-এর সংকলক ও
সম্পাদক
দুর্গাদাস লাহিড়ী রজনীকান্তের সম্বন্ধে লিখেছেন . . ."ইনি রাজশাহিতে ওকালতি করেন। বয়ঃক্রম
প্রায় ৩২ বত্সর। 'বাণী' এবং 'কল্যাণী' নামক দুইখানি সংগীতগ্রন্থ প্রণয়ন করিয়া ইনি যশস্বী হইয়াছেন।
'হাসির গান' রচনায় ইনি সুনিপুণ।
"

সে সময়কার বাংলার সাহিত্যাকাশে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত প্রখর তেজস্বী নক্ষত্রের উপস্থিতিও
রজনীকান্তকে ম্লান দেখাতে পারে নি।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য ও গীতিগ্রন্থগুলি হল “বাণী” (১৯০২), এই বইটির ভূমিকা লেখেন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।
এ ছাড়া রয়েছে গীতিকাব্যগ্রন্থ “কল্যাণী” (১৯০৫), ক্ষুদ্র নীতিকাব্যগ্রন্থ “অমৃত” (১৯১০), মেডিকেল কলেজে,
কবির রোগশয্যায় লিখিত, আগমণী ও বিজয়া বিষয়ক মরোণোত্তর প্রকাশিত, গীতিকাব্যগ্রন্থ “আনন্দময়ী”
(১৯১০), কাব্যগ্রন্থ বিশ্রাম (১৯১০), গীতিকাব্যগ্রন্থ “অভয়া” (১৯১০)। তাঁর নীতিকবিতা সংকলিত হয়েছে
“সদ্ভাবকুসুম” (১৯১৩) এবং “শেষদান” (১৯২৭)।

তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কটেজ ওয়ার্ডে প্রয়াত হন। তাঁর
“অমৃত” কাব্যগ্রন্থের শুরুতে, কুমার শরত্কুমার রায় বাহাদুর কে উত্সর্গ করে, রোগশয্যায় চৈত্র ১৩১৬
বঙ্গাব্দে লেখা পত্র-কবিতাটি  . . .

নয়নের আগে মোর মৃত্যু-বিভীষিকা ;
রুগ্ন, ক্ষীণ, অবসন্ন এ প্রাণ-কণিকা।
ধূলি হ’তে উঠাইয়া বক্ষে নিলে তারে,
কে ক’রেছে তুমি ছাড়া ? আর কেবা পারে ?
কি দিব কাঙ্গাল আমি ? রোগশয্যোপরি,
গেঁথেছি এ ক্ষুদ্র মাল্য, বহু কষ্ট করি’ ;
ধর দীন-উপহার ; এই মোর শেষ ;
কুমার! করুণানিধে! দেখো, র’ল দেশ।

মিলনসাগরের এই পাতা শুরু হয় কান্তকবির ৫টি গান নিয়ে ২০০৫ সালে। চলতি ২০১৫ সালে তাঁর
সার্ধশতবত্সর উত্তীর্ণ হচ্ছে। এই শুভক্ষণে কান্তকবির গান ও কবিতা সমগ্র তুলে কবির প্রতি আমাদের
শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছি। এই কবিতা ও গান সবাই সহজেই ডাউনলোড এবং কপি-পেস্ট করতে পারবেন।
আমরা এই পাতাগুলিতে কোনো রকমের তালা লাগাই নি।

আমরা কৃতজ্ঞ শ্রীমতী সাগরিকা সেনগুপ্তর কাছে যিনি রজনীকান্তের উপর গবেষণা করে আমাদের
এই সম্ভার গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। তাঁর গবেষণা কালে অন্যান্য পত্র-কত্রিকা-সংকলন থেকে খুজে
পাওয়া রজনীকান্তের চারটি অগ্রন্থিত কবিতা ও গান, তিনি আমাদের দিয়েছেন এখানে "
গ্রন্থ বহির্ভূত গান
ও কবিতা
" বিভাগে তোলার জন্য। সাগরিকা সেনগুপ্তর ইমেল - smtsagarikasengupta@yahoo.co.in  এবং
চলভাষ -
+919830017097




উত্স --- শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩         
.          আবুল হাসনাত,
বাংলাপিডিয়া      
.          
দুর্গাদাস লাহিড়ী, বাঙালির গান, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ২০০৫
.          কল্যাণী কাজী, ১০১টি সুনির্বাচিত রজনীকান্তের গানের স্বরলিপি, সাহিত্যম, ১৯৮৭
.          দেবজ্যোতি দত্ত, রজনীকান্ত কাব্যগুচ্ছ, সাহিত্য সংসদ, ২০০০
.          
West Bengal Public Library Network এর ওয়েবসাইট



কবি রজনীকান্ত সেন-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।   


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২০০৫
রজনীকান্ত সেন-এর শার্ধশতবর্ষের প্রাক্কালে, ৩২৪টি গান ও কবিতা নিয়ে, পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৫.০৫.২০১৫
রজনীকান্তের গান ও কবিতা সমগ্র - ২.৭.২০১৫


...