কবি বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায় - ছিলেন গান্ধীবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা ও সাংবাদিক। তিনি
জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পিতা কিশোরীলাল চট্টোপাধ্যায়।
কবি, বাংলার গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে জাগ্রত করার কাজ করেছিলেন বলে “চারণ কবি” নামে খ্যাত হন।
মতান্তরে তাঁর “সবহারাদের গান” (১৯২৯) কাব্যের জন্য তিনি চারণ কবি নামে খ্যাত হয়েছিলেন।
(এই বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রয়োজন)

কৃষ্ণনগর সি.এম.এস. স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আই.এ. পাশ করে, বি.
এ. পড়ার সময়ে গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। কৃষ্ণনগর কলেজের অধ্যাপক নৃপেন্দ্রচন্দ্র
বন্দ্যোপাধ্যায় বিজয়লালের বিপ্লবী জীবন ও সাহিত্যমন্ত্রের দীক্ষাগুরু। জীবনের প্রথম দিকে তিনি
সুভাষচন্দ্র
বসু, হেমন্ত সরকার ও কাজী নজরুলের অনুসারী হলেও রাজনৈতিক আদর্শে তিনি ছিলেন গান্ধীবাদী। নদীয়া
জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক থাকার কালে ১৯২২ সালে তিনি ছয় মাস কারাবরণ করেন।

রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে ১৯২৭ সালে কিছুদিন শান্তিনিকেতনে কাজ করেন। পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।

১৯৩০ সালে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময়ে কলকাতার সাংবাদিকতার কাজ ছেড়ে দিয়ে তিনি নদীয়া
জেলা কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালে তাঁর নয় মাস কারাবরণ করেন। ১৯৪২
সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে এক বছর কারাবরণ করেন।  

তিনি বহু পত্র-পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবাণী পত্রিকার সহ-সম্পাদক থাকার সময়ে তাঁর
বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ “সবহারাদের গান” (১৯২৯) প্রকাশিত হয়।

১৯৩৩ সালে সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার আবির্ভাবের মূলে তাঁর সক্রীয় ভূমিকা ছিল। তিনি দৈনিক লোকসেবক,
কৃষক, ঊষা প্রভৃতি পত্রিকার সম্পাদনা করেছিলেন।

স্বাধীন ভারতের প্রথম ও দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি দুবার জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে নদিয়া জেলা থেকে
পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভায় বিধায়ক নির্বাচিত হন। তিনি নদীয়া জেলার আন্দুলিয়ার পল্লী পরিবেশে আমৃত্যু
গঠনমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।  

কবি, রবীন্দ্র কাব্য ও জীবনের একজন গুণগ্রাহী সমালোচক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। স্বয়ং
রবীন্দ্রনাথ
তাঁর বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ সংক্রান্ত তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা  করেছিলেন,
--- “বিদ্রোহী রবীন্দ্রনাথ” (১৯৩২) যা বেআইনি ঘোষণা ক’রে বাজেয়াপ্ত করে ব্রিটিশ সরকার, “রিয়ালিস্ট
রবীন্দ্রনাথ”, “রবীন্দ্রসাহিত্যে পল্লীচিত্র” এবং “রবিতীর্থে”।

এছাড়া রয়েছে “সাম্যবাদের গোড়ার কথা” (১৯৩৫), এই গ্রন্থটিও বেআইনি ঘোষণা ক’রে বাজেয়াপ্ত করে
ব্রিটিশ সরকার। তাঁর ইংরেজী গ্রন্থ
“The Champion of the Proletariat”। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম
“চারণগীতি”, “চারণ-কবি হুইটম্যান”। তাঁর বিখ্যাত কাব্য “সবহারাদের গান” (১৯২৯)। বিজয়লালের বিপ্লবী
জীবন ও সাহিত্যমন্ত্রের দীক্ষাগুরু, কৃষ্ণনগর কলেজের অধ্যাপক নৃপেন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্সর্গ করা
একটি কবিতাও এই কাব্যগ্রন্থে রয়েছে।

বিজয়লালের কবিতা সম্বন্ধে
শিশিরকুমার দাশ লিখেছেন, “তাঁর কাব্য চিন্তা ও কাব্যের প্রকৃতির সঙ্গে যোগ
আছে কাজী নজরুল ইসলামের। তাঁর কাব্যের মূল প্রেরণা স্বদেশ এবং দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষ।”

আমাদের হাতে আসা, ২১ শতকে প্রকাশিত (২০০৪ এর), মাত্র একটি কাব্যসংকলনে আমরা তাঁর
একটি মাত্র কবিতা পেয়েছি।

তাঁর কবিতা, আজ বিস্মৃতির আড়ালে। কলকাতা-কেন্দ্রিক ছিলেন না বলেই কি বাঙালী তাঁর
কবিতা ভুলে যাবে? আর পড়বে না? আর আবৃত্তি করবে না? কবি বিজয়লালের কবিতায়
অসাধারণ আবৃত্তির সম্ভাবনা রয়েছে। একালের আবৃত্তিকারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তাই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর কিছু কবিতার সঙ্গে তাঁর "সবহারাদের গান" (১৯২৯) কাব্যগ্রন্থের
পরিবর্ধিত দ্রিতীয় সংস্করণের (১৯৩০) সব ক'টি কবিতাই আমরা এখানে তুলে দিলাম।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে এই প্রচেষ্টাকে সার্থক বলে মনে করবো।



উত্স - অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, চথুর্থ সংস্করণ, ২০১৫।
.          
কবি শিশিরকুমার দাশ সম্পাদিত সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩।
.          সাজজাদ কাদির-এর প্রবন্ধ “বেআইনি বই”,
আমার দেশ           




কবি বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১৩.৭.২০১৬
সবহারাদের গান কাব্যগ্রন্থের সব (১৭টি) কবিতা নিয়ে এই পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৪.৭.২০১৬
...