বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর "হাসির গান"
থেকে কয়েকটি
১।
২।
৩।
৪।
৫।
৬।
৭।
৮।
৯।
১০।
১১।
১২।
১৩।
১৪।
১৫।
১৬।
১৭।
১৮।
১৯।
২০।
২১।
২২।
২৩।
২৪।
২৫।
২৬।
২৭।
২৮।
২৯।
৩০।
৩১।
আমার খোকার মাসী শ্রী অমুকবালা দাসী     
আমার হরিনামে রুচি    
আমি মুলতানী গাই    
এই গাধার খাটুনীর চেয়ে অনেক ভালো দাদার বাড়ী    
একে একে সব মেরেছিস্, জাতটা শুধু ছিল বাকী    
এবারে পূজা, মাগো দশভূজা বড় দুর্গতিময়    
ও তুই উল্ টা বুঝলি রাম    
ওরে হুলো রে তুই রাত বিরেতে ঢুকিস্ নে হেঁসেল্     
--- হো --- আজকে হইব মোর বিয়া    
কলির রাই কিশোরী কলিকাত্যাইয়া গোরী    
কালো জামরে ভাই আম কি তোমার ভায়রাভাই    
সাইমন-কমিশনের রিপোর্ট    
গান গাহে মিসি বাবা শুনিয়া শুধায় হাবা    
গিন্নীর ভাই পালিয়ে গেছে গিন্নী চ’টে কাঁই    
চায়ের পিয়াসী পিপাসিত চিত আমরা চাতক-দল    
টারালা টারালা টারালা টা টারালা টারালোল্লা    
টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব বচন যুদ্ধ ঘোর    
তুই পোড়ার মুখে অমন করে হাসিস্ নে আর রাই লো    
মা || তুমি হও মা চির-আয়ুষ্মতী    
দ্যাখো হিন্দুস্থান সায়ে মেমের, রাজা আংরেজ হারেম-খোর    
দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই বিবাহ না ক’রে    
বাঙালী বাবু    
পাঁচ-মিশালী শালীর পাল    
প্রিয়ার চেয়ে শালী ভালো, বাবার চেয়ে মামা    
বদ্ না গাড়ুতে মুখোমুখী ব’সে দিব্বি হ’য়েছে ভাব    
বিছানা আছে বালিস আছে বৌ নাই মোর খাটে    
‘প্রীতি উপহার’ রেকর্ড নাট্যে ঠান্ দির আশীর্ব্বাদ    
মট্ কু মাইতি বাঁট্ কুল রায়    
রবনা কৈলাশপুরে আই য়্যাম ক্যালকাটা গোয়িং    
লাম্ পম্ লাম্ পম্ লাম্ পম্ লাম্ পম্ পম্ পম্ পম্ পম্   
সুঁট্ কী আমি বুড়ী    
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                কমিক অর্কেস্ট্রা

আমার খোকার মাসী শ্রী অমুকবালা দাসী |
মোরে দেখেই সর্ব্বনাশী ফেলে ফিক্ ক’রে সে হাসি  ||
তার চোখে প্রায় পুটী মত্সই  
চেহারাও নয় জুত্সই,
তাতে আছে তিনটী বত্সই
কিন্তু স্বাস্থ্যে খোদার খাসি  ||
সে খায় বটে পান-জর্দ্দা  
আর চেহারাও মদ্দা মদ্দা,
তবু বুঝ্ লে কিনা বড়্ দা  
আমি তারেই ভালোবাসি ||
শালী অর্থাৎ কিনা বৌ সে পনর আনাই,
তারে দিয়ে একটা আনি দাদা ঘরে যদি আনি
সে বৌ হয় ষোল আনাই
দাদা কি বল  ?
আমি তারই লাগি’ জেলে
দাদা মর্ ব ঘানি ঠেলে,
তারে নিয়ে ভাগ্ বো রেলে  
না হয় পর্ ব গলায় ফাঁসি ||

.       **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

আমার হরিনামে রুচি /  কারণ পরিণামে ‘লুচি’ /  আমি ভোজনের লাগি, করি ভজন |
.        আমি ‘মাল্ পোর’ লাগি’ তল্পী  বাঁধিয়া /  এ কল্পলোকে এসেছি মন  ||
.      “রাধা-বল্লভী”- লোভে পূজি রাধা-বল্লভে, / রস-গোল্লার লাগি’ আসি রাস মোচ্ছবে !
.         আমার গোল্লায় গেছে মন রস-গোল্লায়-গেছে মন !
.     ও ত রসগোল্লা কভু নয়  / যেন ন্যাড়া-মাথা বাবাজী থালাতে হয়েন উদয়  !
.     গজা দেখে প্রেম যে গজায় হৃদিতলে রে,  /  পান্ তোয়া দেখে প্রাণে নাচে হরি বলে রে !
.          ঐ গোলগোল মোয়া মায়াময় এই সংসার দেয়  ভুলিয়ে,
আর  ক্ষীরের খোয়াতে খোয়াইতে কূল মন ওঠে চূল্ বুলিয়ে  !
.      মন বলে হরি হরি  হাত বলে হর হে  /  অরসিকে তেড়ে আসে বলে ওহে ধর হে !
.        সংসারেতে ভক্ত শুধু রাঁধুনী ও ময়রাই---- /  সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে !
.        যারা ময়দা পেয়ে মাল্ পো বিলোয় /  সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে !
.        আমি চিনি মেখে গায়ে যোগী হব দাদা যাব ময়রার দেশে
.        রস-করার কড়াই-এ ডুবিয়া মরিব গলে সন্দেশ ঠেসে |
.        ভোজন-ভজহরি শোনো এই তথ্য / গো-ময় সংসারে ভোজনই সত্য  ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

আমি মুলতানী গাই  |
শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম,
ঘন ঘন তোলে হাই  ||
জাপ্ টে সুরের দাড়ি
(শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি )  সাপটে তান মারি,
গমকে ধমকে দেই, মীড়ের মাড় চটকাই
বোলতানে আবোল তাবোল তানে খেলি,
হাডুডুডু কিত কিত --মোড়
বাঁটের চাট মেরে সুরে করি চিত,
তালের শিং দিয়ে বেদম গুঁতাই  |
মোর মুখের হাঁ দেখে হাঁ দেখে হিপোপটেমাস,
আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস |
আমি যত নাহি গাই----- তার অধিক রাগাই  ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.    স্ত্রী ||  এই গাধার খাটুনীর চেয়ে অনেক ভালো দাদার বাড়ী |
.    পু  ||   এই নারীর সাড়ির চেয়ে -----ভালো ভোজপুরীদের দাড়ি ||
.    স্ত্রী ||   সোয়ামী ত নয় -----তাড়া করে মানুষ রূপী মোষে,
.    পু  ||  নারী ত নয় ---- হুকুম জারির হাকিম যেন বসে !
উভয়ে  ||   রাত্রে চোখের জল ফেল’ না দিনে করে আড়ি ||
.    স্ত্রী ||   হদ্দ হ’য়ে মলুম মাগো মদ্দ বিয়ে করে
.     পু ||  ধাড়ী মেয়ে বিয়ে করে নাড়ী গেল চ’ড়ে |
উভয়ে  ||  ( বেশী ) ব’কো না----হাটের মাঝে ভেঙে দেবো হাঁড়ি ||
.     স্ত্রী ||   সোয়ামী যদি বল্ তে হয় ত আমার বড় দাদা,
.     পু  ||   বল্ তে হয় ত বলো  আমার নাইকো কোন বাধা |
ঊভয়ে  ||    শুইগে ঘরে দুয়ার দিয়ে আর বকতে নারি  ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                জাতের  জাঁতিকল

একে একে সব মেরেছিস্, জাতটা শুধু ছিল বাকী  |
টিকি ধ’রে টানিস তোরা, তারেও এবার মারবি নাকি ||
ভাতের হাঁড়ি হুকোর জলে, কোনোরূপে শাস্ত্র-বুড়ো,
জাত বাঁচিয়ে লুকিয়ে আছে, তারেও বাবা দিস্ নে হুড়ো  !
এক কোণে সে প’ড়ে আছে ছোঁওয়া ছুঁয়ির কাঁথা ঢাকি’ ||
জুবু-থবু জাতকে নিয়ে এ তো দেখি বিষম ল্যাঠা ;
পথ চলতে গেলেই দেখি শুদ্র-অজাত-বেজাত ঠ্যাঁটা’
মেথর-চাঁড়াল-ডোম-হাড়ি সব মাল নিয়ে যায় কাঁচি পাকি ||
গরুর গাড়ি চড়তে গিয়ে দেখি শুদ্র চালায় গাড়ি,
হুঁকোতে টান দিতে গিয়ে জল ফেলে নিই তাড়াতাড়ি |
রেল গাড়িতে বামন শুদ্রে মাছে শাকে মাখামাখি  ||
মেথরাণীটা বললে, “বাবু, জাত জান কি তোমার মায়ের ?
পাঁচ ছেলের সে ময়লা ফেলে , আমি ফেলি লক্ষ ছেলের |
স্নান ক’রে সে ঠাকুর পূজে, আমার বেলায় জাতের ফাঁকি ||”
ছোঁওয়া-ছুঁয়ি বাঁচিয়ে বাঁচি ভূ-ভারতে কেমন ক’রে,
অ-ব্রাহ্মণ ম্লেছ চাঁড়াল আষ্টে পিষ্টে আছে ভ’রে,
এমন ক’রে ক’দিন চালাই জাতের ছেঁড়া কাপড় টাঁকি’ ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

এবারে পূজা, মাগো দশভূজা বড় দুর্গতিময় !
আকাশ ঘিরেছে কালো মেঘে, যেন আশ্বিন মাস নয় ||
ডাইনে বাঁ ধারে ভীষণ আঁধারে হাঁটু কাঁপে আর হাঁটি
আমড়ার মত হয়ে আছি, মাগো চামড়া এবং আঁটি ||
বাজের আওয়াজে ল্যাজ গুটায়েছে বাঘও ভয় পায় মাগো,
শিং নেড়ে’ তেড়ে আসে মহিষ-অসুর, সকলেরে বলে “ভাগো”
নন্দী ভৃঙ্গী সিঙ্গী আসিলে তাহারাও ভয় পাবে |
তাদের দিব্য-দৃষ্টি ল’য়েও আঁধারে হোঁচট খাবে ||
চোঁয়া ঢেকুর উঠে মা --- মেকুর ডাকিলে কেঁদে ওঁয়া ওঁয়া  |
ঢেঁকির আওয়াজ শুনলে মাগো, ভয়ে খাড়া হয়ে ওঠে রোঁয়া ||
সত্য পথে, মা চলিতে পারিনা-----পথে কাদা রাখে ঢেলে’ |
উচিত কথা মা বলিতে পারি না--- চিৎ করে দেয় ফেলে ||
এ চিতে শক্তি দে মা, চিৎ করব ভয়কে,
এবার বলবো তোরে খাবো মা মা গো ||
ঘুটঘুটে এই অন্ধকারে মা, হৃদয় হয়েছে  ঘুটে’
অঙ্গ কুঁচকে হয়েছে পুঁচকে হাত পা হয়েছে কুঠে ||
প্যাঁচা যদি খ্যাচ খ্যাচায় মা, মাচায় উঠিয়া বসি |
বউ যদি হাঁচে ফ্যাচ করে, ভয়ে কাছা পড়ে খসি ||
প্রতি পদে পদে পতনের ভয় আপনি দুই পা নাচে |
দেখি, ভাঁড় ভরা ধেনো’ মাড় খেয়ে ষাঁড় পাঁড় হ’য়ে প’ড়ে আছে ||
মা তুই বর দেওয়ার আগেই বব্বরেরা এসে’
ঠেসে ধরে নিয়ে যাবে চিত্রগুপ্তের দেশে ||
হাত থাকতে তুই হয়েছিস মাগো শ্রীজগন্নাথ ঠুটো  |
পাছে, ক্ষুধায় জ্বলে এই ছেলে তোর, ভাত চায় দু-মুঠো ||
দশ হাত তোর বাতে অবশ, কি আর দিবি বল  |
দেবার মধ্যে দিয়েছিস মাগো শুধুই চোখের জল  ||
আঁধার রাতি নাইকো বাতি ঠাকুর দেখবে কে  ?
দেওয়ালি তোর জ্বলবে সে দিন দেয়াল ভেঙে দে ||
পথ-ঘাট সব তিমির ঘেরা সর্ ছে ঘরের মাল |
মা ঘরের আলো নিভলো------ এবার চিতায় আগুন জ্বাল ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.        ও তুই উল্ টা বুঝলি রাম |  
.        আমি আম চাহিতে জাম দিলে আর জাম চাহিতে আম ||
.        আমি চড়বার ঘোড়া চাইতে শেষে
.        ঘোড়াই ঘাড়ে চড়লো এসে,
.        আমি প্রিয়ার চিঠি চাইতে , এল ইনকামট্যাক্ স এর খাম ||
.        আমি চেয়েছিলাম কোঠাবাড়ী,  
.        তাই পড়লো পিঠে লাঠির বাড়ী,
.        ভুলে আমি বলেছিলাম----
.        ‘তোমার পায়ে শরণ নিলাম’ |
.        তুমি ভুল বুঝিলে, ভিটেবাড়ী সব হ’ল নিলাম ||
.        আমি চেয়েছিলাম সুবোধ ভাইটী,
.        গোঁয়ার সে ভাই উঁচায় লাঠি,
.        আমি শ্রীব্রজধাম চাইতে, দিলে শ্রীঘর হাজত্ ধাম  ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.               পিলু সাহানা ------ কার্ফা

ওরে    হুলো রে তুই  রাত বিরেতে ঢুকিস্ নে হেঁসেল্  |
.        কবে বেঘোরে প্রাণ হারাবি বুঝিস্ নে রাস্কেল্ ||
.        স্বীকার করি শিকারী তুই গোঁফ দেখেই চিনি,
.        গাছে কাঁঠাল ঝুল্ তে দেখে দিস্ গোঁফে তুই তেল ||
.        ওরে ছোঁচা ওরে ওঁছা বাড়ী বাড়ী তুই হাঁড়ি খাস,
.        নাদ্ নার বাড়ী খেয়ে কোন্ দিন ধনে প্রাণে বা মারা যাস্,
কেঁদে   মিয়াঁও মিয়াঁও ব’লে বিবি বেরালী করবে রে হার্টফেল ||
.        তানপুরারই সুরে যখন তখন গলা সাধিস্,
শুনে    ভুলো তোরে তেড়ে আসে, তুই ন্যাজ তুলে ছুটিস্,
তোরে  বস্তায় পু’রে কবে কে চালান দিবে ধাপা-মেল ||
.        বৌঝি যখন মাছ কোটে রে, তুমি খোঁজ দাঁও,
.        বিড়াল-তপস্বী আড়নয়নে থালার পানে চাও,
তুই     উত্তম মধ্যম খা’স এত তবু হ’ল না আক্কেল ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

ও----হো-----
আজকে হইব মোর বিয়া
কাল্ কে আইমু বৌ নিয়া, (রে)
রইবা তোমরা ত্যাহাইয়া
(নি) বুঝ্ ল্যা গোপ্ লা মুকুন্দ্যা ||
তাইরে নাইরে নাইরে না,
রইমু ঘরে বাইরে না
বিহান সঞ্জা মাদান্যা  
চইল্যা যাইব কোহন্ দ্যা ||
উঠ্ মু  কি গাছৎ গিয়া
উৎকা মাইব়্যা ফাল দিয়া,
ভাইরে, হালায় পরাণ ডা
নাইচ্যা  উঠ্ ছে এহান্ থ্যা ||
হউর হাউরী পাইমু কাল
সুমুন্দী আর শালীর পাল
কইব মোরে, “জামাই গো  
আর দুডা দিন থাকুন্ গ্যা ||”
খাইমু কি কি আরে শুনই----
মাংস লুচি পাত্ ক্ষীর দই,
হায় রে তোমরা অভাগ্যা  
চাট্ বা চুকা কাসুন্দ্যা  ||
ফুচ্ চি দিয়া তোমরা চোর  
দেখ্ বার চাইবা বউরে মোর,
রাখমু তারে ছাপাইয়া
বস্তা হোগ্ লা চাপুন্ দ্যা  ||
তাইরে নাইরে নাইরে তাই
বউরে ছাইব়্যা বাইরে ভাই
থাক্ তে পরাণ আসুম্ না  
(ঘরে) পইচ্যা হইমু ফাপুন্দ্যা ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

কলির রাই কিশোরী
কলিকাত্যাইয়া গোরী
‘বেবী অষ্টিনে’ চড়ি’  
চলিছে সাঁঝে  !
ঢাকুরিয়া লেকে  
‘পিয়াকো সাথ লেকে’,
হাঁটে সে এঁকেবেঁকে
আধুনিক ধাঁজে ||
প্যাকাটিকর মত ক্ষীণা
ওড়ে বসন ফিনফিনা
গোকুলচন্দ্র বিনা’
গুন্ গুন্ গুন্ ভাঁজে ||
মুখে তার মাখা খড়ি
চোখে চশমা খড়খড়ি
হাতে তার কবজি-ঘড়ি
টিক্ টিক্ টিক্ বাজে ||
পালায় এদের দেখে
পুরুষ ছাতা ঢেকে
বলে ও-বাবা একে ?
মর্ডাণ বামা যে, ভীমা বামা যে ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

কালো জামরে ভাই আম কি তোমার ভায়রাভাই |
লাউ বুঝি তোর দিদিমা আর কুমড়ো তোর দাদামশাই ||
তরমুজ তোমার ঠাক্ মা বুঝি কাঁঠাল তোমার ঠাকর্দ্দা |
গোলাপজাম তোর মাসতুতোভাই জামরুল কি তোর বোনাই ||
পেয়ারা কি তোর লাটিম রে ভাই চিচিঙ্গে তোর লাঠি,
জাম্বুরা তোর ফুটবল আর লঙ্কা চুষিকাঠি |
টোপাকুল তোর বউ বুঝি আর বৈঁচিলেবু তোর বেহাই ||
নোনা আতা সোনা ভাই রাঙ্গাদি তোর লাল মাকাল,
ডাব বুঝি তোর পানি পাঁড়ে ঢিল বুঝি ভাদুরে তাল |
গেছো দাদা আয়না নেমে গালে রেখে চুমু খাই ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                সাইমন-কমিশনের রিপোর্ট
             ( প্রথম ভাগ / ভারতের যাহা দেখিলেন )

কোরাস্-- “কি দেখিতে এসে কি দেখিনু শেষে,”  /  রিপোর্ট লেখেন সাইমন,-----
.        হুটোপুটি ক’রে ছুটোছুটি করে /  বুড়োবুড়ী, কাজে নাই মন !
.        ‘ম্যাদা’ দল আর ‘উদো’ দল পায়ে হস্ত বুলায় হর্দ্দম,
.        পুঁচকে দলের ফচ্ কে ছোঁড়ারা / ছিটাইছে বটে কর্দ্দম !
.        ত্যক্তের চেয়ে ভক্তই বেশী,  / আহাহা ভক্ত বেঁচে থাক্ !
.        ছোলা ভাজা দেবো, কাঁচকলা দেবো,  / নিশ্চয়ই মনে এঁচে রাখ্  ||
.        আসিয়া ভারতে সান্ কি লইয়া  / আসিল ফকির ফোক্ রা,
.        পিছন হইতে ঠোক্ রায় টাকে /  ডেঁপো গোটা কয় ছোক্ রা |
.        ছেলে যা দেখিনু, ছেলের চাইতে / পিলে বড়, অধিকন্তু---
.        বৃহত্তম ‘জু’ দেখিনু জীবনে--- /   প্রথম দু’পেয়ে জন্তু ||        
.        মাথা নাই হেথা, নাই ক হৃদয়,  / শুধু পেট আর পিঠ সার,
.        এত ‘পিঠে’ খেয়ে কেমনে হজম  / করে, করে না কো চিৎকার !
.        ঠুঁটো হাত শুধু চিৎ ক’রে রাখে  / শূন্যের পানে তুলিয়া,
.        বিপদে শ্রীপদ ভরসা, তাহাও  / শ্লীপদে গিয়াছে ফুলিয়া ||
.        মাড়োয়ারী আর ‘মালোয়ারী’ জ্বর  /  এদের পরম মিত্র,
.        মরমরদেরে একেবারে মেরে  / রাখিছে দেশ পবিত্র !
.        ইহাদের হরি বন্ধু মোদেরি /  “গুড ওল্ ড জেন্টল্ ম্যান্”
.        কুচুরি-পানায় ডোবা ও খানায়  / এঁর কৃপা করে ‘ভ্যান্ ভ্যান্’ ||
.        এদেশের নারী বেজায় অনাড়ী,  / পুরুষের হাতে তবলা,
.        তবলাতে চাঁটি মারিলে সে কাঁদে, / ইহারা কাঁদে না, অবলা !
.        জরীসাড়ি-মোড়া চকলেট ওরা  / বন্দী হেরেম-বাক্সে,
.        বাহির করিলে খেয়ে নেবে কেউ /  কাজেই বাক্সে থাক্ সে ||
.        ইস্ কুলে, প্রেমে, জ্বরে পড়ে পড়ে / জীবন কাটায় ছেলেরা ;
.        মাঝে মাঝে করে ভ্রান্ত শিষ্ট / শান্তে লেনিন ভেলেরা |
.        চোখের চাইতে চশমাই বেশী, / ভাগ্যিস্ ওরা অন্ধ,
.        নৈলে কখন টানিয়া ধরিত / আমাদের গলা-বন্ধ ||
.        আমাদের দেখাদেখি কেহ কেহ / করিছে ক্লাবের মেম্-বার,
.        স্কার্ট্ পরে চাষারা, বাবুরা  /  বিবি লয়ে যায় চেম্বার !
.        বিলিতি দাওয়াই ধরিতেছে ক্রমে, / আর বাকী নাই বেশী দিন,
.        গুড্ বয় হয়ে  গিলিছে আফিম, / হুইস্কি, ব্রান্ডি, কুইনিন্ ||
.        কাফ্রি চেহারা, ইংরিজি দাঁত, / টাই বাঁধে পিছে কাছাতে ;
.        ভীষণ বম্বু চাষ করে ওরা  / অস্ত্র-আইন বাঁচাতে !
.        চাচা-ভাইপোতে মিল নাই সেথা  / আড়াআড়ি টিকি দাড়িতে,
.        যুদ্ধ বাধাই উহাদেরি দিয়ে, / ধরিয়া আনাই ফাঁড়িতে ||
.        উহাদের মতো কেলে রং সব / গাছপালা জল আকাশের,
.        উহাদের গাই মোদেরি গাই-এর / মতো সাদা দুধ দেয় ফের |
.        কালো চামড়ার ভিতরে ওদের / আমাদেরি মত রক্ত,
.        এ যদি না হ’ত ----শাশ্বত হ’ত /  ও-দেশে মোদের তক্ত !


     ( দ্বিতীয় ভাগ  / ভারতকে যাহা দেখাইলেন  )

কোরাস্-- “ যীশুখ্রীষ্টের নাই সে ইচ্ছে, /  কি করিব বল আমরা  |
.        চাওয়ার অধিক দিয়া ফেলিয়াছি  / ভারতে বিলিতি আম্ ড়া ||
.        চামড়া ওদের আমাদের মতো  /  কিছুতেই নহে হইবার !
.        হোয়াইট্-ওয়াশ যা করিয়াছি---তাই /  দেখিতেছি নহে রইবার !
.        আমাদের মত যারা নয় তারা /  অমনি র’বে কি ক’রে বল্,
.        সাদাদের মত কালা অসভ্য /  হইবে স্বাধীন ? হরিবল্ !
.        আঁঠি ত চামড়া বিলিতি আমড়া /  মন্টেগু দিল চুষিতে,
.        শাঁস নাই ব’লে কাঁদিল, দিলাম / বিলিতি কুমড়ো তুষিতে |
.        তাহাতেও যারা খুশী নয়, এত / ভুষি খেয়ে ভরে নাকো পেট,        
.        ঘুষি বরাদ্দ তাহাদের তরে, ঝুটি ধরে কর মাথা হেঁট ||
.        পুলিশের লাঠি আরো বড়ো হোক, /  আরো যেন তাতে থাকে গিঁঠ,
.        হস্তেরে ফেল অস্ত্র-আইনে, /  ঘর হ’তে তোলা হোক ইঁট 1
.        কাগজের শুধু হইয়াছে নোট, / কাগজের হোক রুটিও,
.        মাথা কেটে দাও, কেটে দাও হাত / থাকে নাকো যেন টুঁটিও ||
.        যতটুকু দড়ি ছাড়িয়াছে , তাহা  / গুটাইয়া লও পুনরায়,
.        একবার যদি বেড়া ভাঙে, তবে /  আর্ বার ধরা হবে দায় !
.        আরো প্রশস্ত ক’রে দাও পিঠ /  ধুর্ম্মুস-পেটা করিয়া,
.        টিকি ও দাড়ির চায় কর, লহ  /  নখর দন্ত হরিয়া ||
.        ও দেশের জলে ম্যালেরিয়া-বিষ , / উহারা বিলিতি-জল খাক্ |
.        খেতে দাও তা’দেরে , ওদের / চ্যাঁচায় যে একদল কাক !
.        পা কেটে ওদের ঠেকো করে দাও, / উহাদের সাথে ছুটিতে,
.        হার মেনে যায় এরোপ্লেন, পায়ে / গুলি পারে নাকো ফুটিতে ||
.        শিরীঞ্জ্ লইয়া আরো ফাঁপাইয়া /  দাও প্লীহা আর যকৃৎ !
.        ঢাক কিনে দাও হিঁদুরে , মুসল  / মানে বল, কর বক্ রিদ |
.        ভাতে নাই কিছু ভিটামিন, ওতে / মদ হোক, ওরা খাক ফেন,
.        এ স্বাস্থ্যে ভাত বড় ক্ষতিকর, / খুব জোর দুটো শাক দেন ||
.        অতিশয় বেশী কথা ক’য়ে ক’য়ে  / বাড়াতেছে প্যাল্ পিটেশন,
.        গ্যাস্ পরাইতে কর সশস্ত্র  / ডাক্তারে ইন্ ভিটেশন |
.        মা ভগবতীর সার উহাদের / ব্রেনে আরো দাও পুরিয়া,
.        যদি থাকে মেরুদন্ড কারুর  / দাও তা ভাঙিয়া চুরিয়া ||
.        বোমা মেরে মেরে পায় নাকো খুঁজে / আজও উদরে ‘ক’ অক্ষর,
.        এ মেষ কেমনে সভ্য ষাঁড়ের / সহিত হানিবে টক্কর ?
.        পায়ে ও গলায় ছাড়া ইহাদের / কোনো সে অঙ্গে বল নাই,
.        ব্যারাম মাফিক ওষুধ দিলাম,  / দিলাম কিন্তু ফল নাই ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                                পেগ্যান সঙ্গীত

.        গান গাহে মিসি বাবা                শুনিয়া শুধায় হাবা
.        “খুকি কাঁদে কেন বাবা,              ফোঁড়া কাটিছে ওর ?”
.        হাসিয়া কহেন পিসি,                “ও-দেশেতে শীত বেশী
.        তাই কাঁদে বাবা মিসি                হিহি হিহি হিহি হো”-------
.        কিবে গিলে-করা গলা                 ঢেউ-তোলা আট-পলা,
.        খায় রোজ এক তোলা                স্ক্রু-ভেজানো জল  |
.        সাথে গায়-হেঁড়ে-গলা                  ধলীর সহিত ধলা,
.        কাঁপে বাড়ী তিন-তলা                 থরহরি টলমল ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                        শালানুসন্ধিত্সু

.        গিন্নীর  ভাই পালিয়ে গেছে            গিন্নী চ’টে কাঁই |
.        আমার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে           কাঁদিছেন সদাই ||
.        কোথায় শালা, শালা কোথায়,         কেবল ভদ্রলোক,
.        ডাকতে গিয়ে জিভ কেটে ভাই        ফিরিয়ে নি চোখ !
.        ভ্যালা ফ্যাসাদ হ’ল দাদা,             শালায় কোথায় পাই ||
.        খুঁজতে খুঁজতে দেখতে                 পেলুম সম্মুখে আট-শালা,
.        আটশালাতে মোর শালা নাই         বসেছে পাঠ-শালা,
.        গো-শালাতে গরু বাঁধা,                 আমার শালা নাই ||
.        খুঁজতে গেলুম শহর,                    দেখি শালার ছড়াছড়ি ;
.        পান-শালাতে পান ক’রে যায়          মাতাল গড়াগড়ি,
.        ধর্ম্মশালা অতিথ-শালা                 শালার অন্ত নাই ||
.        হাতি-শালা ঘোড়া-শালা                রাজার ডাইনে বাঁয়ে,
.        হঠাৎ দেখি যাচ্ছে বাবু                 দো-শালা গায়ে,
.        দো-শালা তো চাইনে বাবা,            এক শালাকে চাই ||
.        দশ-শালা ব্যবস্থা ঝুলে                 গরীব চাষার ভাগ্যে,
.        দিয়াশালাই পেয়ে ভাবি,                শালাই পেলাম, যাক্ গে !
.        চাইনু শালা, মুদি দিল গরম মশালাই ||
.        ঢেঁকি-শালায় ঢেঁকি শুয়ে পাক-শালাতে ছাই,
.        হায় শালায় কোথায় পাই ||        



.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                        চা-স্তোত্র

চায়ের পিয়াসী পিপাসিত চিত আমরা চাতক-দল |
দেবতারা কন সোমরস যারে সে এই গরম জল ||
চায়ের প্রসাদে চার্ব্বাক ঋষি বাক-রণে  হ’ল পাস,
চা নাহি পেয়ে চার-পেয়ে জীব চর্ব্বণ করে ঘাস |
লাখ লাখ চা খাইয়া চালাক  
হয়, সে প্রমাণ চাও কত লাখ ?
মাতালের দাদা আমরা চাতাল, বাচাল বলিস্ বল্  ||
চায়ের নামে যে সাড়া নাহি দেয় চাষাড়ে তাহারে কও,
চায়ে যে ‘কূ’ বলে চাকু দিয়ে তার নাসিকা কাটিয়া লও |
যত পায় তত চায় ব’লে তাই  
চা নাম হ’ল এ সুধার ভাই |
চায়ের আদর করিতে, হইল দেশে চাদরের চল ||
চা চেয়ে চেয়ে কাকা নাম  ভু’লে পশ্চিমে চাচা কয়,
এমন চায়ে যে মারিতে চাহে সে চামার সুনিশ্চয়  |
চা ক’রে ক’রে ভৃত্য নফর
নাম হারাইয়া হইল চাকর,
চা নাহি খেয়ে বেচারা নাচার হয়েছে চাষা সকল  ||
চায়ে এ’লে যায় চাল-কুমড়ো সে, চাঁদা ক’রে মার চাঁটি,
চা নাহি খেয়ে চানা খায় আজ দেখ হে অশ্ব-জাতি |
একদা মায়ের মুন্ডেতে শিব
চা ঢেলে দেন, বের ক’রে জিভ
চা-মুন্ডা রূপ ধরিলেন দেবী সেইদিন রে পাগল ||
চায়ে পা ঠেকিয়ে সেদিন গদাই পড়িল মোটর চাপা,
চাটু ও চাট্ নী চায়েরই নাতনী, লুকাতে পার কি বাপা  ?
চায়ে সর্ ব’লে গালি দেয় মাসী  
চামর ঢুলায় হয়ে আজ দাসী,
চাটিম্ চাটিম্ বুলি এই দাদা চায়ের নেশারই ফল  ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.        টারালা টারালা টারালা টা টারালা টারালোল্লা
.        নাচে শুট্ কী শুকনো সাহেবকে ধরে মুটকী মিস আরসোল্লা !
.        খুরওয়ালী জুতা পরে খটামট্ ঠেংরী নাড়ে
.        চাবুক খেয়ে জোড়া ঘোড়ায় যেন পেছলি ঝাড়ে !
.        দেখে পাদ্রি পুরুত মোল্লা, বাবাজী কাছা খোল্লা  |
.        দেখে আন্ডাওয়ালা ভাবে বুঝি খেলে ডান্ডাগুলি,
.        ভাব-আবেশে নয়ন তাহার হল নয়ান জুলি  !
.        নেকু বাবুর ঢেকুর ওঠে পেটে মেকুর আঁচড়ায় !
.        কাল্লু ভাবে মেম পালোয়ান সাহেবকে বুঝি পাছড়ায় !
.        যত কাবলিওয়ালা মাউড়া, সব হো গিয়া ভাই বাউরা,
.        মেষের গাড়োয়ান প্রেমে রসে হল রসগোল্লা  ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                  ভাই-ভাই-ঠাঁই-ঠাঁই

টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব বচন যুদ্ধ ঘোর |
কে বড় কে ছোট চাই মীমাংসা কার আছে কত জোর ||
টিকি বলে শিরে আমি বিরাজিলে হয় আহা কিবা শোভা ||
যেন প্রকান্ড কুষ্মান্ডের বৃন্তটী মনোলোভা এ যে চতুর্ব্বর্গ ফলেরি বোঁটা ||
[ শুনে টুপি ফিক করে একটু হেসে বল্লে ----‘ ভায়া শিরে বিরাজ
করার শোভার কথা যদি বল ত’ ও বড়াই আমারি মুখে মানায়’ ]
.                        ও বড়াই’ আমার মুখে মানায় |
আমি বাঁকা হয়ে যবে শিরে বসি দেখে বিবিরা মূর্চ্ছা যায়
টিকি বলে, মোরে বলে চৈতন্য কভু  বা অর্কফলা |
আর আমারি প্রসাদে প্রণামটী মেলে দুটী বেলা চাল ফলা ||
[ শুনে বাদশাহী চালে টুপি বলে----- ‘ আরে তোবা তোবা
চাল আর কলা ?  ও সব আবার খাদ্য নাকি হে’ ?  ]
বাদশাহী চালে টুপি বলে ওসব খাদ্য নাকি ?
দেখ’ আমারি দোয়ায় আহা তোফা জুটে যায় গোস্ত ও রামপাখী  ||
টিকি বলে মিয়া আমার কৃপায় স্বর্গে
free pass  মেলে  |
আমারি
through দিয়ে মগজে বুদ্ধি electricity  খেলে  ||
.                       এ যে পারে যাবার টিকিট ---শুধু টিকিট নয় |
.                  [ শুনে টুপি রেগে কাঁই, বল্লে----- ]
বেহেস্তে মোর একচেটে অধিকার / কাফেরের তরে
no admission খোদার ইস্তাহার ||
.           [ এইরূপ ] / ক্রমশ তর্ক বাড়িল ভীষণ বচনে বেজায় দড় |
.          এই উহারে কয় মোর ঠাঁই উঁচু তুমি বাপু সরে পড় ||
.          সহসা মুন্ড ছিন্ন হইল শত্রু কৃপাণ ঘায় |
.          তখন টুপি আর টিকি একই সঙ্গে ভুঁয়ে গড়াগড়ি যায় ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

তুই পোড়ার মুখে অমন করে হাসিস্ নে আর রাই লো |
ছি ছি রঙ্গ করিস্ অঙ্গে মেখে কৃষ্ণ-কালির ছাইলো ||
বাঁশী হাতে গাছে চড়া কয়লা-বরণ গয়লা ছোঁড়া ( সে লো )
সেই নাটকের গুরু নষ্টের গোড়া তোর প্রেমের গোঁসাই লো ||
ঐ গো রাধা, রাখালের সনে তোর নিন্দা শুনি বৃন্দাবনে ( রাই লো )
ছি ছি কেষ্ট ছাড়া ইষ্ট কি আর ত্রিভুবনে নাই লো ||
ঐ অমাবস্যার কৃষ্ণ-চাঁদে বাস্ লি ভালো কোন সুবাদে ( তুই লো )
তুই দিন কানা হয়েছিস রাধে ভাবিয়া কানাই লো ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.         আশীর্ব্বাদ “প্রীতি-উপহার” রেকর্ড নাট্যের গান

মা  ||    তুমি হও মা চির-আয়ুষ্মতী  /  সাবিত্রী সমান সতী  |
.        অচঞ্চলা লক্ষ্মী হয়ে চিরকাল এই ঘরে রও,
.        শ্বশুর-শাশুড়ির আদরিণী স্বামীর সুয়োরাণী হও |
.        তোমায় পেয়ে বিধির বরে  / যেন এ ঘর ধনে জনে ভরে |
.        সোনার পালঙ্কে নিদ্রা যাবে  /  রূপোর খাটে চুল শুকাবে |
.        কন্যা পাবে উমার মত  /  শিবের মত জামাই পাবে ||
.        পাবে পুত্র ভীমার্জ্জুনের মত, সদা থাক্ বে স্বামীর শরণাগত
.        পুত্র দিয়ে স্বামীর কোলে  /  দেহ রাখ্ বে গঙ্গা-জলে |
.                        সিঁথেয় সিঁদূর মুখে পান,
.        আল্ তা পায়ে চির-এয়োতি যায় সুখে দিন এক সমান  ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                        তৌবা, বেহাগ-খাম্বাজ---দাদ্ রা

দ্যাখো   হিন্দুস্থান সায়েব মেমের, রাজা আংরেজ হারেম-খোর |
ওদের   পোশাকের চেয়ে অঙ্গই বেশী, হাঁটু দেখা যায় হাঁটিলে জোর
আর     মেয়েরা ওদের মদ্দের সাথে রাজপথে করে গলাগলি,
আরে    শুধু তাই নয়, নাচে গলা ধ’রে  ব্যান্ড বাজায়ে ধলা-ধলী  ||
কোরাস্  : আরে তৌবা  !  আরে তৌবা !
আরে    যাবে কোথায় মিঞা  ? চৌদিকে ঘিরে টিকি বেঁধে শিরে কাফের, হায়,
খাই      আমরা হারাম সুদ  ? আরে যাও, ওরা যে তেমনি ক্যাঁক্ ড়া খায় !
দ্যাখো   ষাঁড়-পোড়া খেলে হাড় মোটা হয়, সোজা কথাটী কি বুঝিলি ছাই !
আর      খাসি  নাহি ক’রে বোকা পাঁঠা ধরে খায়, করে নাকো জবাই  !!
কোরাস্  : আরে তৌবা !   আরে তৌবা !!
দ্যাখো    মেয়েরা ওদের বোর্ কা না দিয়ে রেল ও জাহাজে চড়িয়া যায়,
মোদের   বোর্ কা দেখিলে ছেলেরা ওদের জুজু বুড়ী ব’লে ভীর্ম্মি খায় |
আরে     ইজ্জৎ তবু থাকে ত মোদের, যক্ষ্মায় নয় মরে শতক,
ওরে      উহাদের মত বেরুলে বিবিরা যদি কেউ দেখে হয় “আশক”  !
কোরাস্ :   আরে তৌবা  ! আরে তৌবা !!
আরে     আমাদের মত দাড়ি কৈ ওদের ? লাগিলে যুদ্ধ নাড়িবে কি  ?
আর      উহাদের মত কাছা কোঁচা নাই ,  ধরিলে মোদের ফাড়িবে কি ?
ছার      অস্ত্র লইয়া কি হবে, আমরা বস্ত্র যা পরি থান খানিক,
তাতে    তৌবা তৌবা করি যদি, যাবে কামানের গোলা আটকে ঠিক ||
কোরাস্ :  সোব্ হান আল্লা !  সোব্ হান আল্লা !!
দ্যাখো    তুর্কিরা বটে ছাঁটিয়া ফেলেছে তুর্কি নূর ও মাথার ফেজ,
আর      “দীন-ই-ইসলাম” ছেড়ে দিয়ে শুধু তলোয়ারে তারা দিতেছে তেজ !
আরে     বাপ দাদা ক’রে গিয়েছে লড়াই, আমরা খাম্ কা কেন লড়ি !
দেহে      ইসলামী জোশ আনাগোনা করে “ছহি জঙনামা” যবে পড়ি !!
কোরাস্ :  সোব্ হান আল্লা  !  সোব্ হান আল্লা !!
মোরা     মস্ জিদে বসি’ নামাজ পড়ি যে, রক্ষা কি আছে বিধর্ম্মীর ?
ওরা      “কাফুরের মত যাইবে ফুরায়ে” অভিশাপ যদি হানেন পীর !
দ্যাখো    পায়জামা চেপে রেখেছি আজিও আমাদের এই পায়ের জোর,
আরে     অক্কাই যদি পেতে হয়----দিব মক্কার পানে সরল দৌড় !!
কোরাস্ :   মাশা আল্লা  |  ইন্ শা আল্লা !!
জানো,    দুনিয়ায় মোরা যত পাব দুখ, বেহেশ্ তে পাব ততই সুখ ;
আর      মেরে যদি হাত-চুলকুনি মেটে, নে বাবা, তোদেরি আশা মিটুক !
সবে      পশ্চাৎ দিয়ে করিব জবাই, আসুন “মেহেদী”, থাম দুদিন !
বাবা,     মূষল লইয়া কুশল পুছিতে আসিছে কাবুলী মুসলেমীন ||
কোরাস্  :   আল্লাহু আক্ বর !    আল্লাহু আক্ বর !!

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.          গদাই--এর পদ বৃদ্ধি

দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই বিবাহ না ক’রে |  
কুক্ষণে তার বিয়ে দিয়ে দিল সবাই ধরে’ ||
.        আইবুড়ো সে ছিল ষখন, মনের সুখে উড়ত
.        হাল্ কা দু’খান পা দিয়ে সে নাচত, কুঁদত ছুড়্ ত ||
.        বিয়ে করে গদাই
.        দেখ্ লে সে আর উড়্ তে নারে,  ভারী ঠেকে সদাই |
.        আডিশনাল দু’খানা ঠ্যাং বেড়ায় পিছে ন’ড়ে ||
তার পা দুখানা মোটা, বৌ’র দু’খানা সরু,
ছোট বড় চারখানা পা, ঠিক যেন ক্যাঙ্গারু !
.        ঘরে এলে জরু,
.        দেখলে গদাই, মানুষ সে নাই, হয়ে গেছে গরু !
.        দড়বড়াতে ‘রেসে’র ঘোড়া, এখন সে নড়বড়ে ||
অফিসে পদ বৃদ্ধি হয় না, ঘরে ফি-বছরে  
পা বেড়ে যায় গড়পড়তায় দু’চারখান ক’রে |
.        বৌ শোনে না মানা----
.        হন্যে হয়ে কন্যে আনে, মা ষষ্টির ছানা |
.        মানুষ থেকে চার পা পেয়ে জীব, শেষ ছ’ পেয়ে মাছি,
.        তারপর আট পেয়ে পিঁপড়ে গদাই বলে গেছি !
.        কেন্নোর প্রায় গদাই,  
.        ছুঁলেই এখন জড়সড়, জবড়জঙ্গ সদাই |
বিয়ে করে মানুষ এই কেলেঙ্কারীর তরে ?
দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই বিবাহ না ক’রে  ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.        বাঙালী বাবু

নখ-দন্ত বিহীন চাকুরী অধীন  
আমরা বাঙালী বাবু
পায়ে গোদ, গায়ে ম্যালেরিয়া,
বুকে কাশি লয়ে সদা কাবু ||
ঢিলে-ঢালা কাছা কোঁচা সামলায়ে,
ভুঁড়ি বয়ে ছুটি নিট্ পিটে পায়ে,
আপিসে কসিয়া কলম পিশিয়া,   
ঘরে এসে খাই সাবু ||
রবিবার ছুটি আছে ব’লে ভাই
বাবা ব’লে চিনে ছেলেপুলে তাই,
নাকে শাঁক বেঁধে সেদিন ঘুমাই   
নয় ঘরে বসে খেলি গ্রাবু  ||
হাঁচি টিকটিকি সিন্নি মানিয়া,
পরাণ-পাখীরে রেখেছি ধরিয়া,
দেখে  ব্যাঙের ছাতারে উঠি চমকিয়া
ভয় হয় বুঝি তাঁবু  ||
এগ্ জামিনের লাঠি ধরে ধরে
দাঁড়াই আসিয়া অফিসের দোরে,
মাইনে যা পাই তা দিয়ে খাই  
কদলী আর অলাবু  ||
গোলামের কুড়ি ফোটার এ বোঝা
নামায়ে কোমর হ’তে দাও সোজা
বাতে আর হাড় হাবাতে ধরেছে-----
বাপ্ পুরে কনে যাবু  ||


.           **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

পাঁচ-মিশালী শালীর পাল  
মাঝারি ছোট ও বড় মিশাল,
আমড়া চালতা আম কাঁঠাল |
.            কেউ বিশালী মুটকিনী,
.            কেউ নিকপিকে সুঁট্ কিনী,
.            কেউ উড়িয়ালী কটকিনী,
.            কেউ ঝাঁটকুলী, কেউ লম্বাল্  ||
কেউ হাসে বিনা চেষ্টাতে ( ঐ বড় শালী ),
কেউ জল খান তেষ্টাতে ( ঐ মেজ শালী ),
কেউ বা মিষ্টি শেষটাতে ( ঐ সেজ শালী ),
কা’রে দেখে হয় পস্তাতে ( মোর ছোট শালী )
.             হুলে খিম্ চিয়ে তোলে গায়ের ছাল ||
.             কাউকে দেখিয়া প্রাণ শুকায়,
.             কাউকে দেখিয়া কান লুকায়,
.             কাউকে দেখিয়া -----হায়রে হায়,  
           তনু-মন-প্রাণ বে-সামাল ||

.           **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                        মিশ্র খাম্বাজ-----কার্ফা

.        প্রিয়ার চেয়ে শালী ভালো,  /  বাবার চেয়ে মামা  |
.        ডাইনের চেয়ে ডুগী ভালো  /  অর্থাৎ কিনা বামা ||
.        একশালা--সে দোশালা আচ্ছা, /  চন্ডুর চেয়ে গাঁজা ||
.        “তেনার” চেয়ে ভালো “তেনার” /  হাত দিয়ে পান সাজা,
.        ধাক্কার চেয়ে গুঁতো ভালো,  /  উকোর চেয়ে ঝামা  ||
.        টিকির চেয়ে বেণী ভালো,   /  ধুতির চেয়ে সাড়ি,
.        পাঁঠার চেয়ে মুর্গী ভালো,  / থানার চেয়ে ফাঁড়ি,
.        ঠুঁটোর চেয়ে নুলো ভালো, / প্যান্ট্ চেয়ে পায়জামা ||
.        পেয়াদার চেয়ে যম ভালো  / শালের চেয়ে বাঁশ,
.        দাড়ির চেয়ে গুম্ফ ভালো,  /  আঁটির চেয়ে শাঁস,
.        ছেলের চেয়ে ছালা ভালো, /  বেতের চেয়ে ধামা ||
.        পাকার চেয়ে কাঁচা ভালো, /   কালোর চেয়ে ফর্সা,
.        পেত্নীর চেয়ে ভূত ভালো ভাই /  ছাড়বার থাকে ভরসা |
.        ঝগড়ার চেয়ে রগ্ ড়া ভালো  /  কাল্লুর চেয়ে গামা ||


.           **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                        ভাই ভাই এক--ঠাঁই

.                বদ্ না গাড়ুতে মুখোমুখী ব’সে দিব্বি হ’য়েছে ভাব !
.                বদ্ না চাহিছে শুক্তনী আর চাইছে গাড়ু কাবাব ||
.                গাড়ু বলে এস বদ্ না ভাইটী হোক শুভ চোখাচোখী ||
.                তুমি মোর হাতে পেঁয়াজ দাও আর আমি দি’ই হরতকী ||
[  শুনে বদ্ না ভাবে গদগদ হয়ে বলছেন  / ‘গাড়ুদাদা দাড়িতে একবার টিকিতে বুলাও না’ ]
.                ও গাড়ু দাদা দড়িতে বুলাও টিকি------
.                ছুরি ও নাদ্ না রাখি দোঁহে এসো আস্ নাই করা শিখি ||
[  গাড়ু তখন ভাব জমিয়ে বলছেন ]  /  পাখী দের মাঝে বামুন যে রাম পাখী |
কেননা মাথায়  উহার জবা-ফুল বাঁধা টিকি /  দেখ নাকি তাহা দেখ নাকি ?
[ বদনা তখন বদন ব্যাদন ক’রে ব’লছেন ]  /   ও তো টিকি নয় দাদা ও যে তুর্কী ফেজ্ |
.                পাখীদের মাঝে উনি মোল্লাজী হ্যাঁদু নয় হরগেজ ||
.                [ গাড়ু তখন বদনার পিঠে নল বুলিয়ে বলছেন  ]
.                হাতে দিব ক্ষীর নাড়ু ভাই, ছেড়ে দাও খাওয়া ঐ বড়টা |
.                [ শুনে বদনা অবাক----বল্লে ] / রে মদনা তা’হলে কি দিয়ে খাইব পরটা ?
.                গাড়ু বলে, আহা দোস্তীর তরে কত কি ছাড়িতে হয় |
.                এস দাদা এস জড়াজড়ি করি বদ্ না গড়ায়ে কয় ||
.                জড়াজড়ি থেকে গড়াগড়ি দুই নলে প্রেমবারি ঝরে |
.                সেই ভাব দেখে বিদেশী কেট্ লী রাগে টগবগ করে ||


.                                        **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                       “বারমাসী বৌ-বিরহ”

.                বিছানা আছে বালিস আছে বৌ নাই মোর খাটে |
.                তার বিরহে বারোটা মাস কেমন ক’রে কাটে ||
.                ( আহা বিরহে খাট আমার আধখানা হয়ে গেছে )
.                বৈশাখে প্রাণ ভ’রসা যেন ধুঁকে রোদের তাতে,
.                হাত-পাখা আর নড়ে না ভাই রাতে প্রিয়ার হাতে |
.                জৈষ্ঠি মাসের গরমে হিয়ার গুষ্টি শুদ্ধো ফাটে ||
.                আষাঢ় মাসে কটকটে ব্যাঙ ছট্ ফটিয়ে কাঁদে,
.                চুলকানি যে উঠলো বেড়ে প্রেমের মইষা দাদে |
.                শ্রাবণ মাসে রাবুনে প্রেম জাগে জলের ছাটে ||
.                ভাদ্র মাসে আপনার বৌ হলো ভাদ্রবধূ,
.                আশ্বিন মাসে চাখলাম না হয় পূজার মজার মধু |
.                পরাণ লাফায় পাঁঠা যেমন দাপায় হাঁড়িকাঠে ||
.                কার্ত্তিকে মোর ময়ূরী এই কার্ত্তিককে ফেলে,
.                (তার ) দাদার ঘরের রাধা হয়ে বেড়ায় পেখম মেলে |
.                অঘ্রাণে ধান কেটে চাষা আমার কেঁদে কাটে ||
.                পৌষে আমার বৌ সে কোথায় গুড়ের পিঠা খায়,
.                হেথায় আমার জিহ্বা দিয়া নাল ঝরিয়া যায় |
.                মাঘ মাসে যার মাগ নাই সে থাক না শ্মশান ঘাটে ||
.                ফাল্গুনে ছাই ডাল-নুনে কি মেটে প্রেমের খিদে,
.                হাতের কাছে কাকে খুঁজি রাতের বেলা নিদে-----
.                চৈত্র মাসে মধু খুঁজি হায়রে কদুর বাঁটে ||

.                                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                ‘প্রীতি উপহার’ রেকর্ড নাট্যে ঠান্ দির আশীর্ব্বাদ

ঠান্ দি  ||   ভাই নাতজামাই !  ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি
.             তুমি   বৌর তীর্থে ন্যাড়া হও
.             মোর নাত্ নীর ভ্যাঁড়া হও,
.             বাইরে গোঁফে চাড়া দেবে ঘরে বৌ-এর ঘোড়া হও |
.             ফোঁস্ ফোঁসাবে বাইরে শুধু বৌ-এর কাছে ঢোঁড়া হও |
.             বাইরে পুরুষ অটল পাষাণ ঘরে বৌ-এর নোড়া হও,
.             দিনের বেলায় ফর্ ফরাবে রাত্রি বেলায় খোঁড়া হও |
.             সূর্য্যি চাঁদের আয়ু পেয়ে চিরটা কাল ছোঁড়া রও |
.             নাত্ নীর আমার ভ্যাঁড়া হও, ম্যাড়া হও |
.             কার আজ্ঞে, না কামরুপ কামাখ্যা দেবীর আজ্ঞে ||  (শঙ্খ ধ্বনি )

.                                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.      কমিক অর্কেষ্ট্রা

মট্ কু মাইতি বাঁট্ কুল রায়  
ক্রুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে যায়
বেঁটে খাটো নিট্ পিটে পায়
ছেৎ’রে চলে, কেৎ’রে চায়  ||
পায়ে প’রে গাব্ দা বুট আর পট্টি
গড়াইয়া চলে যেন গাঁঠ্ রি ও মোটটি,
হুনলুলু সুরে গায় গান উদভট্টি
হাঁটি হাঁটি পা পা ডাইনে বাঁয় ||
রাস্তায় তেড়ে এল এঁড়ে এক দাম্ ড়া
ঢুস খে’য়ে বাঁট্ কুর ছ’ড়ে গেল চাম্ ড়া |
ভয়ে মট্ কুর চোখ হ’য়ে গেল আম্ ড়া
সে উলটিয়ে সাতপাক ডিগবাজি খায়  ||


.             **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

রবনা কৈলাশপুরে আই য়্যাম ক্যালকাটা গোয়িং |
যত সব ইংলিশ ফ্যাসান্ আহা মরি কি লাইটনিং ||
ইংলিশ ফ্যাশান্ সবই তার, মরি কি সুন্দর বাহার |
দেখলে বন্ধু দেয় চেয়ার কাম-অন্ ডিয়ার গুড-মর্ণিং ||
বন্ধু আসিলে পরে হাসিয়া হান্ডসেক্ করে,
বসায় তারে রেসপেক্ট কোরে হোল্ডিং আউট এ মিটিং |
তারপর বন্ধু মিলে ড্রিংকিং হয় কৌতূহলে,
খেয়েছ সব জাতিকুলে নজরুল ইসলাম ইজ টেলিং ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

লাম্ পম্ লাম্ পম্ লাম্ পম্ লাম্ পম্ পম্ পম্ পম্ পম্ |
দুর্ব্বল ডান্সের লম্ফং ফং ঝম্পং ভূঁড়ি কম্পং,
মারে ডাম্ফাই দিল্লী  বোম্বাই হনুলুলু হং কং ||
বাঁশের কঞ্চি এগার ইঞ্চি নাচে মেমের বোনঝি,
হাঁদা খ্যাঁদার পরাণ ছ্যাঁদা, ভিজল ঘামে গেঞ্জি |
কেৎরে চক্ষু দেখে মট্ কু চামরু ছক্কু চোম্ রায় দাড়ি-গুম্ফং ||
ল্যাংড়া লেংড়ী হেলায় টেংরী উস্ খুস্ করে চ্যাংড়া-চেংড়ী |
যেন ট্যাংরার হাটে গল্ দা চিংড়ী ঝুড়িতে খেলে পিং-পং ||


.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর
*
হাসির গান, কাজী নজরুল ইসলাম

.                        শীত

সুঁট্ কী আমি বুড়ী  |   /  বয়স এই আট কুড়ি ( আঁটকুড়ি নয়, আট কুড়ি ! )
.        আমায় দেখেই লেপ মুড়ি দেয়  /  জোয়ান ছোঁড়া ছুঁড়ি  ||
.        মোর কাঁপুনী দিয়ে আমি সাবারই হাড় কাঁপাই,
.        বড় খুশী হই, সকালে যদি এক কাপ চা পাই,
.        ( আজও ) ঘুড়ি উড়াই নাতীর সাথে যদিও থুথ্বড়ি ||
.        ( আমার ) চুল হয়েছে শোনের নুড়ি  /   আমি মান্ধাতারই খুড়ি,
.        তবু উনুনশালে ব’সে চিবাই  /  কড়াই ভাজা মুড়ি ||

.                   **************

.                                                                                                 
পরে     




মিলনসাগর