দেয়ালে  দেয়ালে  মনের  খেয়ালে
লিখি কথা |
আমি  যে  বেকার,  পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা ||
দেয়ালিকা ৪
.
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ভেতরে মানুষ এক - শাহজাহান পাভেজ রনি
আমার স্বাধীনতা - নিমাই মিত্র
স্বাধীনতার মানে - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
হিস্ট্রির হিস্টিরিয়া - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
বাঘাড়ম্বর - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
কারণ - ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
রাজা - দেবেশ ঠাকুর
টুকরো কথা-২ - ধীমান পাল
কাস্তে - দিনেশ দাস
মন্ত্রীমশাই - দিব্যেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
খ্যাতনামা - দিব্যেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
থ্যাঙ্ক ইউ স্যার - দিব্যেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
যদি - গৌতম দত্ত
নতুন পঞ্চমী - গৌতম দত্ত
পণ - অন্নদাশঙ্কর রায়
বাদুড় ঝোলা - অন্নদাশঙ্কর রায়
চরকার গান - লীলা মিত্র
বিশ্বাস করো দাদা - আশা দেবী
ফড়িংয়ের বিয়ে - আশা দেবী
শঙ্কা - আশিস সান্যাল
নাকি - আশিস সান্যাল
যখন আমরা - আশিস সান্যাল
ক্যানিং লোকালের ভীড়ে - দুষ্টকবি
বিশ্বে দিছেন উপরওয়ালা - দুষ্টকবি
মজ শহরের ছড়া - দুষ্টকবি
রবিঠাকুর - লায়েক মইনুল হক
বিদ্যাসাগর - লায়েক মইনুল হক
নজরুল - লায়েক মইনুল হক
হোলি - লায়েক মইনুল হক
সুলতান - শঙ্খ ঘোষ
ভাত-রুটি - শঙ্খ ঘোষ
ভাবো - শঙ্খ ঘোষ
সাধের নীড় - জয়ন্ত মণ্ডল
হতেও পারি - জয়ন্ত মণ্ডল
সাধনা - জয়ন্ত মণ্ডল
সভা করে দিদি বলে - দুষ্টকবি
বাংলার আকাশে দেখ আলোর রেখা -দুষ্টকবি
পূজার মানে - পম্পা দাস
মাতৃভূমি - গৌতম দত্ত
স্বাধীনতা - গৌতম দত্ত
<<<এই দেয়ালিকা
<<<এশুরুতে ফিরতে
ভেতরে মানুষ এক
আমার শত্রু যখন আমি, তখন মিত্র বলবো কাকে
আমার জন্ম যখন জলে, তখন ভয় কি কাদা-পাঁকে!
আমার বিরান গেরস্থালী, আমি নিজেই গোরস্থান
আমার জন্মগত দায়ে, আমার আমিই পিছুটান।
আমার এক হাঁটুজল কাদা, আমার বাধায় বাঁধা হাত
আমার দিনান্ত দিন দেনায়, কিনি করাত কাটা রাত।
আমার থালায় বাড়া ভাত, আমি ভাতের পূজাচারী
আমার নগদ প্রয়োজনে, বাকী বায়বীয় কান্ডারী
আমার পূণ্যি আমার পাপ, আমার পূন্যি পোড়ায় পাপে
আমার জন্ম যখন শাপ তখন ভয় করিনা সাপে!
শাহজাহান পারভেজ রনি
.
.
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ভোট চুরি - জর্জ মীর্জাফর গোস্বামী
জয় ভোট বাবুদের জয় - মুকুল পুরকায়স্থ
আল্লা হরি একই তরী - মুকুল পুরকায়স্থ
বসন্ত-বর্ণন - প্রসন্নময়ী দেবী
সিংহাসনে বসল রানী - ইনটানেটর কবিতা
এক বিদ্রোহী স্বামী স্ত্রীর উদ্দেশ্যে - ইনটারনেটের কবিতা
স্ত্রীর উত্তর স্বামীর প্রতি - ইনটারনেটের কবিতা
মহার্ঘ্য ভাতা - ইনটারনেটের কবিতা
যত কিছু অপরাধ করিল নয়ন - রসসাগর
মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসি - রসসাগর
মুদি ব্যাটাদের নাই কর্ম্ম-কাণ্ড-জ্ঞান - রসসাগর
মইনুদ্দীন কেমন আছো - শুভেন্দু মাইতি
চাঁদের দেশে - রীনা তালুকদার
অঙ্গীকার - মনামী ঘোষ
পাঠানকোট ১ - দেবেশ ঠাকুর
পাঠানকোট - দেবেশ ঠাকুর
খাই খাই - অজ্ঞাত কবি
রোহিত - দেবেশ ঠাকুর
নিলামবালা পাঁচ পাঁচ লাখ - দেবেশ ঠাকুর
চাপে চ্যাপ্টা কচিকাঁচা - মুকুল পুরকায়স্থ
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে! This page scrolls sideways, Left-Right !
যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে
আমার স্বাধীনতা
স্বাধীনতা মানে নতুন ভোরে ভেসে যাই বহুদূর
অবহেলা করে ঝঞ্ঝা তুফান কখনো বা রোদ্দুর।
স্বাধীনতা মানে আমার আপস অন্যেরে নয় ভোলা
ন্যায় অন্যায় রুদ্ধ দুয়ার অবিরত রবে খোলা।
স্বাধীনতা মানে প্রতিষ্ঠিত নিশ্চিত অধিকার
জীর্ণ কায়া শীর্ণ বসন উঁচু নিচু সবাকার।
স্বাধীনতা মানে তাদের নিয়েই শুধুই লিখি যে কবিতা
শিল্প খামারে শ্রম বিলি করে অনু নিলু বিনু সবিতা।
স্বাধীনতা মানে ফুটপাথ ধরে হেঁটে চলে যাই সোজা
পড়বে না কোন দোকান পসরা কিংবা হাটের বোঝা।
স্বাধীনতা মানে সকাল সাঁঝে আমার নানান সুখ
ভুলে যেতে চাই বিরহ বেদনা দুঃখ দৈন্য শোক।
স্বাধীনতা মানে আপন খেয়ালে গান গাই সূর্যাস্ত
প্রান্তিক গাঁয়ে বাউলের ঠেকে সুর মূর্ছনা ব্যস্ত।
স্বাধীনতা মানে তোমাকে দেখে গাঁথি যে বকুল মালা
প্রণয় স্পর্শে তোমাকে ঘিরেই সাজবে বরণ ডালা।
স্বাধীনতা মানে তোমাকে পাওয়ার অন্ত বিহীন সুখ
শাড়ির আঁচলে প্রান্ত সীমায় আলতো লুকানো মুখ।
স্বাধীনতা মানে স্বপ্নের খোঁজে এখনই বেড়িয়ে পড়া
স্বাধীনতা মানে বিশ্ব সীমায় আমার স্বদেশ গড়া।
নিমাই মিত্র
.
স্বাধীনতার মানে বোঝে নীল-আকাশের বন্ধু পাখি
স্বাধীনতার মানে বুঝেই চাঁদ তারাদের পরায় রাখি,
স্বাধীনতার মানে বোঝে পাহাড়-সাগর-ঝরনা-নদী
স্বাধীনতার মানে বুঝেই বইছে বাতাস নিরবধি !
স্বাধীনতার সঠিক মানে ক’জন স্বজন সত্যি জানে
স্বাধীনতার সংজ্ঞা খুঁজো শেকল ছেঁড়া পাখির গানে !
স্বাধীনতার মানে
যে ছেলেটা বস্তা-কাঁধে কাগজ কুড়োয় পাড়ায় পাড়ায়
যে ছেলেটা রোজ বাজারে মুরগি কাটে, পালক ছাড়ায়,
যে ছেলেটা রেস্তোরাঁতে ধুচ্ছে থালা-গেলাস–বাটি
যে ছেলেটা সারাজীবন খায় লাথি-কিল-চড় ও চাঁটি !
ওদের কাছে প্রশ্ন কোরো, ওরা কি কেউ সত্যি জানে
‘স্বাধীনতা’ কাকে বলে, স্বাধীনতার সঠিক মানে ?

যে মেয়েটা ভোর-না-হতেই মায়ের সাথে যাচ্ছে কাজে
যে মেয়েটা পরের বাড়ি কাপড় কাচে, বাসন মাজে,
যে মেয়েটা গোবর কুড়োয়, ঘুঁটেও দেয়, কয়লা বাছে
যে মেয়েরা সারাজীবন পায়না আদরকারোই কাছে !
ওদের কাছে প্রশ্ন কোরো, ওরা কি কেউ সত্যি জানে
‘স্বাধীনতা’ দেখতে কেমন ? স্বাধীনতার সঠিক মানে ?

যে ছেলেটা রাস্তাঘাটে করছে পালিশ পরের জুতো
যে ছেলেরা ট্রেনের হকার, খাচ্ছে রোজই লোকের গুঁতো,
লজেন্স খাওয়ার বয়স যাদের, করছে তারাই লজেন্স ফেরি
যাদের বুকে সূর্য ওঠার, গোলাপ ফোটার অনেক দেরি !
ওদের কাছে প্রশ্ন কোরো,-- ওরা কি কেউ সত্যি জানে
‘স্বাধীনতা’ জিনিসটা কি ? স্বাধীনতার সঠিক মানে
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
.
হিস্ট্রির হিস্টিরিয়া
দেখলাম ভালো করে ইতিহাস খুঁজিয়া
শিবাজি খেতেন রোজ দেড়-কেজি গুজিয়া !
বাবরের বড়দা
নাকে গুঁজে জরদা
দিন-রাত ঘুমাতেন এক চোখ বুজিয়া !

পারো যদি দেখে নিও ইতিহাস পড়িয়া
বেড়াতেন কোন্ রাজা ঠেলাগাড়ি চড়িয়া ?
সুলতানা রিজিয়া
বৃষ্টিতে ভিজিয়া
কবে কোথা হেঁচে-হেঁচে হয়েছিল মরিয়া ?

ভালো করে দেখো খুঁজে ইতিহাস ঘাঁটিয়া
জুলিয়াস সিজারের ক’টা ছিল খাটিয়া ?
হোমারের ভাগনা
কবে কোথা মাগনা
ঘুগনির শালপাতা খোয়েছিল চাটিয়া ?
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
.
বাঘাড়ম্বর
মার্কাস স্কোয়ারেতে বসেছিল সার্কাস
উঁচু-উঁচু টিন দিয়ে ঘেরা ছিল চারপাশ !
একদিন মাঝ-রাতে সেই বেড়া লাফিয়ে
ডোরা-কাটা কেঁদো-বাঘ কলকাতা কাঁপিয়ে

টালা থেকে টালিগঞ্জ, বেহালা- টু- হালতু
পাঁচ-পাক ঘুরে-ফিরে ঘেমে-নেয়ে ফালতু ,
অবশেষে গঙ্গার জল খেয়ে হাওড়ায়
লাফ দিয়ে ব্রিজে উঠে লেকচার আওড়ায়---

“মানুষেরা শয়তান, বদমাস ও বিচ্ছু
আমাদের তরে ওরা করনিকো কিচ্ছু !
‘লায়ন্স ক্লাব’ তো আছে  ‘টাইগার্স ক্লাব’ চাই‘
জেব্রা ক্রশিং’ আছে , আমাদের কেন নাই?
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
.
মুরগির ‘হাটা’ আছে, ‘ঘাটা’ আছে গাইদের
আমাদের ‘হাটা-ঘাটা’ কোনও কিছু নাই ঢের
কাকদ্বীপ, বকখালি, হাঁসখালি আছে ঠিক
বাঘদ্বীপ –বাঘখালি কোথাও নেই ----- ধিক !

‘শেয়ালদা’ থাকে যদি ‘বাঘদা’র  কিবা দোষ ?
‘হরিণঘাটা’ও আছে, তাই মনে আপশোশ !
মানুষের গাঁটে-গাঁটে শয়তানি ফন্দি
উঠোনেতে কেটে দাগে খেলে ‘বাঘবন্দী’ !

অত সোজা নয় বাপু, ভাবো যত মনেতে
নয়া-দল গড়বই ফিরে গিয়ে বনেতে !
মানুষের দিন শেষ,  আমরাই রাজা রে
আমাদের ‘হেড-অফিস’ হবে বাগবাজারে !
কারণ

দিল্লী থেকে বিল্লী এলেন
দুধের মত সাদা,
কোলকাতার এক কালো-বেড়াল
বললে তাকে, দাদা---

আসুন-বসুন, কেমন আছেন?
বাড়ির খবর ভালো?
সাদা-বেড়াল বললে, তোমার
রঙটা কেন কালো?

কালো-বেড়াল বললে, শুনুন্
রাখুন আগে “বেডিং”!
আমি যখন জন্মেছিলাম
চলছিল “লোডশেডিং”!!
ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
.

কোচবিহারের রাজার ছিল
একটা কালো হাতি,
যখন-তখন সেই হাতিটাই
করতো মাতামাতি।

একদিন তার কাণ্ড দেখেই
চমকে গেল পিলে,
পাঁচটা কাপড়-কাচা সাবান
ফেললো হাতি গিলে!

পরদিন কী ঘটলো ব্যাপার
বলছি শোনো দাদা,
সাবান খেয়েই কালো-হাতির
বাচ্চা হলো সাদা!
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
রাজা
রাজা রুষ্ট হলে
ক্রোধে মার্কা মারেন
'খুনি' তকমা দিয়ে
নীতির ধার না ধারেন!
রাজা তুষ্ট হলে
দামি রত্ন মেলে
তাই বুদ্ধিজীবী
বড়ো বাধ্য ছেলে
রাজা শিষ্ট হলে
দেশ স্বর্ণপ্রসূ
প্রেমে বাধ্য হবে
যত বন্য পশু
রাজা দুষ্ট হলে
দেশ অনুর্বরা
তাকে সরানো গেলে
দেশ মধুক্ষরা।
দেবেশ ঠাকুর
.
টুকরো কথা - ২
কাঠ ফাটা রোদ্দুর
হাতে নেই ছাতা
ঘামে ভেজা গায়ে
বাঁচবেকি মাথা ৷

চারিদিকে কোলাহল
আর বাজে ঘন্টা
তাতেও যদি ভাঙ্গে ঘুম
বেঁচে যাবে প্রানটা ৷

ধুঁয়ো ওড়ে উনুনের
জ্বলে কাঠ আগুনে
আধ ফোটা ভাত খেয়ে
গান গাই ফাগুনের ৷

কাটা কুটি করে যাই
সারা খাতা জুড়ে যে
গোড়াতেই গড়মিল
হিসেবটাকি মিলবে ৷৷
ধীমান পাল
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কাস্তে
বেয়নেট হোক যত ধারালো---
কাস্তেটা ধার দিয়ো, বন্ধু!
শেল আর বম হোক ভারালো
কাস্তেটা শান দিয়ো, বন্ধু।

নতুন চাঁদের বাঁকা ফালিটি
তুমি বুঝি খুব ভালোবাসতে ?
চাঁদের শতক আজ নহে তো
এ-যুগের চাঁদ হ'লো কাস্তে!

ইস্পাতে কামানেতে দুনিয়া
কাল যারা করেছিল পূর্ণ,
কামানে-কামানে ঠোকাঠুকিতে
আজ তারা চূর্ণবিচূর্ণ :

চূর্ণ এ-লৌহের পৃথিবী
তোমাদের রক্ত-সমুদ্রে
গ'লে পরিণত হয় মাটিতে,
মাটির---মাটির যুগ ঊর্ধ্বে!

দিগন্তে মৃত্তিকা ঘনায়ে
আসে ওই! চেয়ে দ্যাখো বন্ধু!
কাস্তেটা রেখেছো কি শানায়ে
এ-মাটির কাস্তেটা, বন্ধু!
দিনেশ দাস
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
মন্ত্রীমশাই
মন্ত্রীমশাই লোকটি ভালো
সবাই তাকে চেনেন
পাঁচ’শ টাকার জিনিস তিনি
এক’শ টাকায় কেনেন |

বছর খানেক আগেও দেখেছি
কি হাল ছিলো তার
কোনো রকমে টেনেটুনে
চালাতো সংসার |

আজকে তিনি মন্ত্রীমশাই
খান তিন-চার গাড়ি
নোকর-বাকর ষোল আনা
পাক্কা দালান বাড়ি |

তার সামনে দাঁড়ায় এমন
সাহস আছে কার ?
তিনি এখন সবার দেবতা
আমাদের সরকার |

এ সব দেখে ছেলেটাকে
বললাম, বেটা শোন
লেখা-পড়া ছেড়ে ছুঁড়ে
নেতা হ একজন |
দিব্যেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
খ্যাতনামা
অ্যাংলাশ-ক্যাংলাশ- প্যাংলাশ পাণ্ডা
লেখা-পড়া ছেড়ে শুধু খেলে গুলি ডাণ্ডা
এলারাম-ফেলারাম –খেলারাম কাণ্ডা
তিনজনে গিলে খাই তিনশ’টা আণ্ডা
আমজোল-রামজোল-শামজোল সদ্দার
কেউ বলে বেইমান কেউ বলে গদ্দার
ছোটো-ছোটো কথা নিয়ে করে শুধু দরদার
চুরি করে মাছ ধরে গঙ্গা ও পদ্মার |

অম্বল-ভম্বল-কম্বল পুষ্টি
ল্যাচ্চড় –ছ্যাঁচ্চোড় এরা তিন গুষ্টি
কেউ ভালো হাত দেখে কেউ দেখে কুষ্টি
তবু এদের কারও মনে নেই সন্তুষ্টি |
আটুরাম –বাটুরাম-সাটুরাম সরকার
হাটে –বাটে ঘাস কাটে সুতো কাটে চরকায়
তক্ষুনি সে ছুটে যাই যাই যখন যার দরকার
সবাই তার আপনার কেউ নয় পর তার |

আগারাম–-ভাগারাম—মাগারাম মূর্তি
কেউ পড়ে প্যান্ট-শার্ট কেউ পরে কূর্তি
কেউ থাকে চুপচাপ কেউ করে ফূর্তি
শখ—সাধ যা কিছু দাদু করে পূর্তি |
ভিন দেশে থাকে এরা ভিন-ভিন রাজ্যে
এরা সব খ্যাতনামা নিজ-নিজ কায্যে |
দিব্যেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
থ্যাঙ্ক ইউ স্যার
আরে-আরে ভোমলা তেলি
আবার এলি জেলে ?
এই বললি চুরি করবোনা স্যার
এবার ছাড়া পেলে |

এবার তোকে দেখাবো মজা
রাখবো বারো মাস
দেখবো এবার কেমন করে
জামীন পেয়ে যাস |

ভোমলা বলে, থ্যাঙ্ক ইউ স্যার
রাখুন ভরে জেলে
চুরি করবো কিসের জ্বালায়
জেলে খাবার পেলে ?
দিব্যেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
যদি
রাত যদি হয়
ফোটার সময় –
দিন কি তবে,
পরাগ-রেণু ?

ভোরের আকাশ
পাখীর কূজন
দিন আনে কি
রাতের বেণু ?

মন যদি হয়
হঠাৎ সানাই-
বিস্মিল্লার
মন কি ভরে ?

অবাক চাওয়া
হঠাৎ যখন –
বেসুরোতেই
সুরটি ধরে।
গৌতম দত্ত
.
গহন মনের
শিরায় শিরায়
প্রলয় নাচন –
তাল কি ধরে ?

রাতের কালোয়
ফুল যদি হয়
উতল নদী –
নৌকা বাওয়া !

কলসী ভরেই
জল উপচোয় –
সেই কি সবার
পরম পাওয়া ?
নতুন পঞ্চমী
চুম্বনে বিকশিত
সব ঠোঁট-ফুল –
বসন্ত নিয়ে এল
পলাশের দুল।

গুনগুন গুঞ্জনে
মুখরিত সব –
পৃথিবীতে এল ঐ
চুমু উৎসব।

খাজুরাহো কোনার্কে
শিল্পীর গান -
লজ্জায় মিশে যায়,
চোখে অভিমান।

ব্যাবসার পারদে -
মাপা আজকাল,
সৃষ্টির আকাশেতে
ওড়ে জঞ্জাল।

কৃষ্ণের চোখে মুখে
উদাসীন হাসি -
রাধা চায় শুনতে
সেই পোড়া বাঁশী।
গৌতম দত্ত
.
চাঁদ ওঠে এখনো -
আকাশের গায়,
জোনাকির ছন্দেতে
মন ভেসে যায়।

তাজ আজো দাঁড়িয়ে -
প্রেম খুঁজে ফেরে,
আগ্রার বাতাসেতে
দিনগুলি ঘোরে।

তবে কেন, আজকে
নতুন এ ছল!
প্রেম ছিল মগ্নতা
হৃদয়ের বল।

গোপন সে ভঙ্গিমা,
গোপনেই থাক –
দুজনের মুগ্ধতা
ভাষা ফিরে পাক।
পণ
করেছি পণ, নেব না পণ
বৌ যদি হয় সুন্দরী |
কিন্তু আমায় বলতে হবে
স্বর্ণ দেবে কয় ভরি |
স্যাকরা ডেকে দেখবো নিজে
আসল কিংবা কম্ দরী |
সোনায় হবে সোহাগা যে
বৌ যদি হয় সুন্দরী |

তোমরা সবে সুধাও তবে--
আমিই বা কোন কার্তিক !
প্রশ্ন শুনে কোথায় যাব
বন্ধ দেখি চার দিক |
মানতে হলো দরকারটা
উভয়তই আর্থিক |
স্বর্ণের নাম সুন্দরী, আর
মাইনের নাম কার্তিক |
অন্নদাশঙ্কর রায়
.
বাদুড় ঝোলা
আদুড় বাদুড় চালতা বাদুড়
বাদুড় দেখ'সে
ট্রামগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড়
রাত্রিদিবসে |

বাসগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড়
টিকিট না কেটে
রেলগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড়
প্রাণটি পকেটে |
অন্নদাশঙ্কর রায়
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
চরকার গান

পর্ ভাই খদ্দর
ব্রাহ্মণ শূদ্দর,
চরকায় ঘর্ঘর,
কর্ ভাই দিন্ ভর!
বল্ সব্ এক স্বর্
ছোটলোক্, ভদ্দর,
স্বদেশের যাহা কিছু
সব্ চেয়ে সুন্দর্!

বলে সব্ ভাই, ভাই,
জাতিভেদ নাই, নাই,
স্বদেশীর দিন্ আজ্
পূত হোক অন্তর!
সুন্দর্, সুন্দর,
ঘর, দ্বার, অন্দর,
চৌদিকে তাঁত্ হাল্
চরকার ঘর্ঘর!
.                        ১৯২৩
লীলা মিত্র
.
বিশ্বাস করো দাদা

বিশ্বাস করো দাদা---
মনে কত আশা হরেকরকম,
বরাতে দোষে সকলই জখম
ডাল রুটি সাথে খেয়ে চম্ চম্
সুর সাধি মা-মা-গা-ধা!
মনে হয় দাদা যাই চলে চাঁদে,
মোট ঘাট নিয়ে ঝঞ্ঝাট বাধে
কপাল এমনি তরো ;
তার চেয়ে দাদা, এস যাওয়া যাক---
ত্রিকোণ পার্কে ঘুরি তিন পাক,
ঝঞ্ঝাট ল্যাঠা সব চুকে যাক
ফুচকায় পেট ভরো।
আশা দেবী
.
ফড়িংয়ের বিয়ে

ব্যাঙেদের সাত ভাই
চলে ঠেলা-গাড়িতে
চলেছিল বিয়ে খেতে
ফড়িঙের বাড়িতে।
বুড়ো ব্যাঙ ঠেলে গাড়ি
থপ্ থপ্ পায়েতে
মোটা মোটা বুট পড়া
লাল কোট গায়েতে।
বিয়েবাড়ি গিয়ে দেখে
ভারি মজা ভাইরে,
সবাই বসেছে খেতে
কারো পাতা নাইরে!
বর-বউ পালিয়েছে
কাঁচকলা দেখিয়ে---
একপাল হাঁস শুধু
হাসে প্যাঁক পেঁকিয়ে।
আশা দেবী
.
শঙ্কা
তেলের বেড়েছে দাম
খাও কচুপোড়া
জলেতে ভিজিয়ে খাও
লাউ তিন জোড়া |

চালের বেড়েছে দাম
ভয় কেন বত্স ?
শত টাকা কেজি দরে
খাও কিলো মত্স্য |

আলুর বেড়েছে দাম
খাও রুটি-দই,
ভাতের বদলে খাও
মুড়ি আর খই |

তাও যদি নাই মেলে
খাও ভেজে লঙ্কা |
রেখো না মনেতে আর
অকারণ শঙ্কা |
আশিস সান্যাল
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
নাকি
কার নাকি মাথা থেকে
বেরিয়েছে অঙ্কুর,
তাই ভেবে সারা রাত
ঘুম নেই শঙ্কুর

দিনেতেও হাঁড়িমুখ
চোখভরা জল,
হাঁটু কার গেছে ভেঙে
লেগে ফুটবল |

চুপচাপ বসে থাকে
মনে খুব শঙ্কা,
মিনিদের বাড়ি জুড়ে
বাজে নাকি ডঙ্কা  |

বাস চাপা পড়ে নাকি
মারা যাবে অদ্য,
বার্লিন থেকে আনা
পুষি এক সদ্য |

পুকুরেতে যদি লাগে
ভয়ানক অগ্নি,
মাছ নাকি উড়ে যাবে-----
বলে গেছে ভগ্নী |

এ পৃথিবী একদিন
হবে নাকি ক্ষয়,
দিন-রাত ভেবে ভেবে
শঙ্কুর ভয় |
আশিস সান্যাল
.
যখন আমরা

যখন আমরা ছোট ছিলাম
বলছি তোরে বত্স,
হাট-বাজারে কেনার জন্য
মিলত অনেক মত্স্য |

ছিল না তেলে ভেজাল
পেতাম ঘৃত খাঁটি,
জল-খাবারের সঙ্গে মিলত
ভর্তি দুধের বাটি |

দশ বছরের ছেলের জন্য
বই ছিল মোট সাত,
পড়ার সময় পড়ত সবাই-----
জাগত না কেউ রাত |

ক্লাসের ঘরে গুরুমশাই
যা পড়াতেন, তাই
মনে রেখেই পাশ করতাম
সব শ্রেণীতে ভাই |

স্বপ্ন দেখার জন্যে ছিল
একটু অবকাশ,
দু’চোখ মেলে দেখতে পেতাম
সুদূর নীলাকাশ |
আশিস সান্যাল
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ক্যানিং লোকালের ভীড়ে,
কামরার উপরেতে চড়ে,
টিকিটের খরচটা বাঁচে!
হঠাৎ যদি লাগে ঝাঁকি,
পেন্টোগ্রাফ ধরে নাকি,
শ্মশানের খরচটাও বাঁচে!

.                          **********    কলকাতা, ২৭/৫/২০১১
দুষ্টকবি
.
বিশ্বে দিছেন উপরওয়ালা
দুইটি জাতি, খালি!
একটি বাংগালী আর
অন্য অবাংগালী!
মোছলমান হইলে জেনো
নয়কো সে বাংগালী!
নোবেল পাইলে যে কেউ হেথা
হইবেই বাংগালী!

.                       *************    কলকাতা ২২/০৭/২০১০
দুষ্টকবি
.
যমজ শহরের ছড়া
কারা যেন বলেছিল “কলকাতা” শহরটা  
“ওডেসা”-র যমজ হবে!
সমাজবাদের সেথা নাম ও গন্ধ ছিল,
এখন ওসব গেছে উবে!

সেইকথা ব’লে যারা টু-পাইস করেছিল
গেয়েছিল গীত বেড়ে, “রুশ্ কী”,
রসের সাগর এই কলকাতাবাসীরা,
শুনে শুধু হেসেছিল মুচকি!

ফের শুনি সে যমজ শহরের কাহিনী
এবার সে কথা বলে আর এক বাহিণী!
এবার ওডেসা নয়, নিছক যমজও নয়,
এবে খাস লণ্ডন হবে কল্লোলিনী!

এক ধাপ উঠে বলে, আজকের হোতারা---
সুইটজারল্যাণ্ড হবে দার্জ্জিলিং!
গ্রাম “হাতলাড়া” জেলা পুরুলিয়া থেকে পুছে---
তাদের কি আছে এতে? কেউ কি টেলিং?

দার্জ্জিলিং থাক পাহাড়ের রাণী আর
কলকাতা থাক তার নিজের গুণে।
দুষ্ট কবি কয় উন্নয়ণটা হোক
একসাথে রাজ্যের সকল কোণে।
.                          **********      কলকাতা, ১১/৮/২০১২
দুষ্টকবি
.
রবিঠাকুর
ছোট্ট সোনা অর্ঘ লায়েক
দুষ্টুমিতে বিচ্ছু
বর্ণমালা হাতে নিয়ে
ভাবে অনেক কিচ্ছু |
প্রশ্নটা তার অনেক বড়ো
সহজ পাঠ হতে
বীরপুরুষ হবে সে
রবি দাদুর সাথে |
খেলার সাথি রবীন্দ্রনাথ
ছড়ায় কাটে মন
রাজপুত্তুর সেজে যাবে
শান্তি নিকেতন |
হিং টিং ছট শুনে
রথযাত্রা করে
সুয়োরাণীর সাধ মেটাবে
সিদ্ধি খানা পড়ে |
বৈকুন্ঠের খাতা লিখে
গাইবে সে যে গান
রবিদাদু বাড়ি এলে
বাড়বে তার মান |
ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখে
রবিদাদু এসে
মাথায় তার বোলায় হাত
হেসে ভালবেসে |
লায়েক মইনুল হক
.
বিদ্যাসাগর
বিদ্যাসাগর                       মাথা ডাগর
পড়ার বই                         জ্ঞানের মই
সবাই তা মানে
সাহসী ছেলে                      ডানা মেলে
পার যে হলে                       নদীর জলে
বিশ্ববাসী জানে |
বর্ণপরিচয়                   দেড়শো পার হয়
খোকা খুকু পড়ে              সবার ঘরে ঘরে
খুলল চোখের দ্বার
করতে নাকো ভয়       তাইতো তোমার জয়
ফুলে ওঠে বুক                   মনে পাই সুখ
এ কথা বলি বারবার |
বীরসিংহের বীর             উচ্চ তোমার শির
শিক্ষায় দিলে আলো        দেশের হলো ভালো
আমরা মেনেছি হার |
বিদ্যাসাগর                        জ্ঞানের সাগর
দয়ার সাগর                       সেবার সাগর
বলছি শতবার
ফিরে এসো একবার |
লায়েক মইনুল হক
.
নজরুল
জন্ম তোমার চুরুলিয়ায়
ঢাকায় হলো কবর
শেষ জীবনে মৌন কেন ?
জানিনা তার খবর |
সিপাই হয়ে কাজ করলে
লেখা ছিল ভালো |
বিদ্রোহী গান গেয়ে তুমি
জ্বাললে দেশে আলো |
বিদ্রোহী বীর হয়ে তুমি
রাখলে পদচিহ্ন
সকল মানুষ তোমার কাছে
অভেদ ও অভিন্ন |
বুকের মাঝে আজও আছে
আমাদের দুল দুল
জেগে উঠুক দুই বাংলার
একাত্ম বুলবুল |
বসে থাকি সকাল সাঁঝে
চেয়ে দেখি ছবি
চোখের জলে বাংলা ভাসে
নীরব কেন কবি ?
লায়েক মইনুল হক
.
হোলি
আকাশ জুড়ে রঙের মেলা
লাগলো ফাগুন মাসে
কৃষ্ণচূড়ায় খুশির হাওয়া
খোকা খুকু হাসে |
রঙের খেলা ঘরে ঘরে
রঙিন দোলায় মন
ঢাক বাজনা পাড়ায় পাড়ায়
নাচে মানুষ জন |
রামধনুটি নেমে আসে
রামরহিমের দেশে
শিমুল পলাশ উঠল গেয়ে
হেসে ভালোবেসে |
আবির রঙে বইছে নদী
হোলির গানে ধুম
আনন্দে দিন বয়ে যায়
নেইকো চোখে ঘুম |
লায়েক মইনুল হক
.
সুলতান
টুপি               খুলছেন
টিপু               সুলতান
কিছু               ভাবছেন
কিছু               বলছেন
আর               কলকেয়
দিয়ে              ভুল টান
কেশে               মরছেন
টিপু               সুলতান |

হুঁকো                 বরদার
বলে                  ‘সর্দার
ওরা                বজ্জাত
যত                 গর্জাক
নেই                আপনার
কিছু                ভাবনার
দেশ               উলটান’ –

শুনে               হাসছেন
আর               কাশছেন
দিয়ে               ভুল টান
মহা                সুলতান
নেই               ঢাক-ঢাক
ক’রে              হাঁক ডাক
দেশ                পালটান
দেশ                 উলটান
আর                মূলতান
গান               সুলতান |
শঙ্খ ঘোষ
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ভাত-রুটি
ভাত খাব না রুটি ?
এই নিয়ে খুনশুটি |
রুটিই ? না কি ভাত ?
ভাবতে ভাবতে কাৎ !
আচ্ছা, না হয় রুটি
সঙ্গে ভাতও দুটি |
না না, শুধুই ভাত
তা-ই খাব দিনরাত |
কিন্তু কোথায় চাল ?
আনব কিনে কাল |
এই নিয়ে যাও আটা |
বাই-বাই ভাই, টা-টা !
রইল ফাঁকা পাত---
নেই রুটি নেই ভাত |
শঙ্খ ঘোষ
.
ভাবো
ভাবো কেমন স্বপ্নে হতো
শান্তিতে বৈঠক
যদি       লাহোর বলত ‘শচীন’, আমরা
‘ইনজামামুল হক’ |

ইসলামাবাদ জাহির এবং
হরভজনকে পাক----
পাক      দিল্লি শোয়েব আখতার আর
সাকলিন মুস্তাক |

ভাবো যদি সবাই মিলে
সেইভাবে থাকতাম
ধারা      ভাষ্যে যেমন গলায় গলায়
শাস্ত্রী ও আক্রাম !

থাকত না আর কোথাও কোনো
বিবাদ-বিসংবাদ
শুধু       সৌরভেরই গৌরব গায়
জাভেদ মিয়াঁদাদ |

ভাবো কেমন স্বপ্ন হতো
স্বপ্নের এ আখ্যান----
যদি     সমান সমান পা মেলাত
ভারত-পাকিস্তান !
শঙ্খ ঘোষ
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ছড়া,
সে যে কোন ধরণেরই হোক না কেন, এই দেয়ালে তুলতে
হলে আমাদের কাছে নিচের ইমেলে পাঠাবেন। আমাদের
ওয়েবসাইটের সম্পাদক মণ্ডলীর অনুমোদন সাপেক্ষে
আমরা তা তুলে দেবো।

আমাদের ই-মেল:
srimilansengupta@yahoo.co.in    

তাহলে আর দেরী কেন?
ছড়ার ছররা ছড়িয়ে,
দেয়াল তুলুন ভরিয়ে...!
.                                                      রাজেশ দত্ত     
কবিদের পাতায় যেতে তাঁদের নামের উপর ক্লিক করুন
সাধের নীড়
বলছে কপোত,  সময় খারাপ
সাবধানেতে থেকো ,
আদর মাখা ডিমগুলো সব
যত্ন করে রেখো l
কপোতী বলে, ফিরে এসো -
বিষাদ-করুণ সুরে,
আমায় ছেড়ে যেওনা যেন
ফুড়ুত্ করে উড়ে l
কপোত বলে আনবো আমি
ডাল-শস্য-দানা,
চেয়ে দেখো ক্ষুধায় কাতর
আমার দুটি ছানা l
কপোতী বলে ঝড়-ঝামটায়
গাছের ডালে যেও,
দুপুর বেলা ক্লান্ত হলে
যা হয় কিছু খেও l
কপোত বলে চিলের নজর
আড়াল করে রেখো,
ছাতার মতো ডানার নীচে
সংগোপনে ঢেকো l
কবি জয়ন্ত মণ্ডল
.
কপোতী বলে, ওগো প্রিয়
আমায় নাহি ভুলো,
খাঁচা-সুন্দরীর ছলাকলা
এড়িয়ে তুমি চোলো l
কপোত বলে বাকুম বাকুম
এবার আমি যাই,
বাচ্চা মেয়ের সাধের পেঁপে
একটু যদি পাই !
কপোতী বলে বিষ-মাখা মাছ
সিন্টুবাবুর ঘাটে,
খেয়াল রেখো চারখানা ফাঁদ
তেপান্তরের মাঠে l
এমনি করে স্বপ্ন বোনা
ছোট্ট বাসা ঘিরে,
সুখ-দু:খের জীবন কাটে
সোহাগ-মাখা নীড়ে l
হতেও পারি

এবার তোমার পাষাণ বুকে ঝরনা হবো
অহংকারের পাঁচিল-ভাঙা হড়পা বানে,
চোখ ভেজাবে পাথর-চেরা পাগলা-ঝোরা -
ভাসিয়ে দেবো প্রেম-পিয়াসী স্রোতের টানে l
হতেও পারি তোমার বুকে রামধনু রং -
আধেক চাঁদের বৃষ্টি-ভেজা মিষ্টি হাসি ,
মেঘের পিঠে একখনি দাঁত নোঙর ফেলে -
জোছনা মেখে বলবো-তোমায় ভালোবাসি l
হতেও পারি তোমার মনের কালবোশেখী -
বজ্র-আটন ফসকা-গেঁরোর বাঁধন খুলে,
ছড়িয়ে দেবো ঈষাণ কোণের পাগলা সাহস -
পরাগমেখে কাঁপতে থাকা জঙ্ঘামূলে l
হতেও পারি তোমার চোখে বৃষ্টি ফোঁটা
হটাত্ যদি হৃদয় ফেড়ে বর্ষা নামে ,
পোশাক ছেড়ে উদোম দেহে দখল নেবো -
যেতেও রাজী ভরদুপুরে জাহান্নামে l
কবি জয়ন্ত মণ্ডল
.
সাধনা
রাত জেগে হাত বোলায় মাথে
বিন্দি পিশির জা,
ভুল করে আজ ছোট্ট খোকা
ডাকলো তারে মা l
স্বপ্ন-হারা শূন্য ঘরে
সাতকুলে নেই কেউ,
বক্ষ-পিজুস-কুম্ভে যেন
লাগলো কিসের ঢেউ l
দুপুর বেলা কৃষ্ণসেবা
পূজার আসন পাতি,
নয় নিয়ম ভেংগে আজ হাতে তার
খোকার দুধের বাটি l
কাল যে হাতে পরিয়ে দিত
বেলপাতা আর ফুল,
আজ সে হাতে কাজল দিতে
হয়নি কোনো ভুল l
কবি জয়ন্ত মণ্ডল
.
সন্ধ্যেবেলার সাধন-ভজন
ভক্তি কথা ফেলে,
আজ গোধূলী কাটবে তার
লুকোচুরি খেলে l
ধূপ-ধুনো সব শুকনো লাগে
শূন্য লাগে বুক,
খোকার কাঁথার গন্ধে যেন
মাতাল করা সুখ !
আজ পুনরায় স্বপ্ন দেখে
বিন্দিপিশির জা,
খোকার মাঝে হারিয়ে যাবে
হয়ে খোকার মা l
ভা করে দিদি বলে --- তেলেভাজা শিল্প!
সব শুনে মনে হবে কলিকালে গল্প!
শিল্পপতিরা শুনে হলো মনখুন্ন!
তেলেভাজা কারবারী! তাগো সম গণ্য ?
খবর ছড়িয়ে যেতে গৃহে-গ্রামে-গঞ্জে,
ভাজুড়েরা ভীড় করে স্টক্ এক্সচেঞ্জে!
মেমবারশিপ পাকা ভাজুড়েরা করছে---
বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সে!
বেকার দুষ্টকবি কলি ভেঁজে করে গান,
কলি "ভেঁজে" পাবে কি সে শিল্পপতির মান!?

.                          **********            কলকাতা, আগস্ট ২০১৫
দুষ্টকবি
.
বাংলার আকাশে দেখ আলোর রেখা!
সরকারী অফিসে ঘোরে কাজের চাকা!
বাঙালী প্রার্থনা করে সেই মা কালীকে
বিরোধীরা যেন চির-সচেতন থাকে,
কর্ম বিমুখ এই বাংলার বুকে
প্রতিদিন তারা যেন বাংলা বন্ ধ ডাকে!
সেইদিন কেরানিরা থাকিবেই সীটে!
হইবেনা আর হাফসোল ক্ষয়ে দিতে!
.                                 ************        কলকাতা, ২৯.০২.২০১২
দুষ্টকবি
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
পূজার মানে
কবির ইমেল - pampadasbanik@gmail.com     
২০.১০.২০১৫ তারিখে ইমেলে পাওয়া কবিতা

পূজা মানে উড়াইয়া ধূলো
বর্ষা বাদল সবই গেল
সাদা কাশে মাঠা হাসে
পেঁজা তুলো ভাসে আকাশে
পূজা মানে ঢাকে কাঠি
প্রবাসীরা ফেরেন বাটি
ধনী গরীব সবাই হাসে
গোটা বিশ্ব খুশীতে ভাসে
পূজা মানে ঠাকুর দেখা
শারদ সংখ্যায় কবিতা লেখা
সঙ্গে থাকে দেদার খাওয়া
ডায়েট কন্ট্রোল নিমেষে হাওয়া
পূজা মানে দূর্গা পূজা
বাঙালীর এই শ্রেষ্ঠ পূজা
কবি পম্পা দাস
.
মাতৃভূমি

কু ঝিক ঝিক স্মৃতির মননে আজ,  
তান্ডব লীলা উড্ডীন গরিয়ান-
স্বপ্ন বিগত, হারিয়েছে বহুদূরে -
অপু দূর্গার হাসিমাখা মুখ ম্লান।

অধিকার আজ ঝান্ডার ঝড়ে উঁচু
স্পর্ধিত মুখ কালো মুখোশেতে ঢাকা ;
পরমাত্মীয় পর হয়ে আসে পথে
কু ঝিক ঝিকে চলে দ্রুতগামী চাকা।

উপলখন্ড হাতে হাতে ফেরে দেখি -
শত-অর্জুন নিবিড় লক্ষ্যে স্থির,
যুদ্ধে হাজির কত না দ্বিপদজন ;
পিছনে কি তবে রাজনীতি গম্ভীর ?

“পুরুষোত্তম” শব্দটা বেঁচে আছে ?
কোন অভিধান কি মানে লিখছে আজ,
নতুন শতকে সবকিছু বদলেছে –
বিপ্লব আজ স্থবির ডাকের সাজ।
কবি গৌতম দত্ত
.
তবুতো এখনো মাঝে মাঝে যেন শুনি –
চেতনা আনবে মুক্তি এ পোড়া দেশে।
আধুনিক যত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে,
ভুল হয়েছিল স্বীকৃত অবশেষে।

যাপিত জীবন দিন দিন অধোগামী,
মা বোন ঠাকুমা দিদিমারা ভয়ে বাঁচে –
মাঠে ঘাটে পথে শিকারী শিয়াল জনে, -
এই বুঝি ফেলে গনগনে লাল আঁচে।

নারী শুধু নারী, নারী চাই শুধু রোজ –
যেভাবেই হোক, মারো, ধরো, দাও ফেলে
ঘরে বা বাইরে ধর্ষিতা প্রতি ক্ষণে,
সংখ্যাতত্ত্বে সংখ্যা মাপাই চলে।

জাতীয় লিষ্টে আমাদেরো পরে আছে
সান্ধ্য মেজাজে কত না বক্তা বকে ;
রাত নামলেই সেই নেতা করে খোঁজ
তার মেয়েটা কি ফিরেছে কলেজ থেকে !

দ্বিচারিতা আর চলবে না বেশিদিন –
জাগছে মানুষ, হটবেই নানা মত,
সব শ্রীমতীই যেন ঘরে ফেরে রোজ
এই শপথেই মিলবেই জানি পথ।
স্বাধীনতা
স্বাধীনতা মানে নেশায় গভীর রাত,
স্বাধীনতা মানে গলায় তরল জ্বালা –
স্বাধীনতা মানে মাইক ফাটানো ব্যথা,
স্বাধীনতা মানে রাইসের চাঁদ-মালা।

স্বাধীনতা কবে এসেছিল,- মনে পড়ে ?
আকাশে কি ছিল বারুদের বোঝাপড়া ?
কি জানি এখন, আমরা তো মৃতপ্রায় –
ইতিহাস শুধু নেতাদের মন গড়া।

ক্ষুদিরাম নাকি গ্যাস খেয়ে পেল ফাঁসী –
যতীন্দ্রনাথ আজো কি আছেন বেঁচে ?
স্বপ্নে যদি বা চাটগাঁ কখনো আসে –
টনটনে মনে ক্ষোভ আসে নেচে নেচে।

কচিকাঁচা আজ নেতাজী বলতে বোঝে,
পকেটে গোলাপ শিশুদের নিয়ে খেলা -  
আমরাও তাই স্মৃতিকে দিয়েছি ঠেলে –
গোপন গুদামে পচে মরে কথামালা।

বিপ্লবী সব সন্ত্রাসবাদী, লোকে বলে,
রাসবিহারী’র টিকিও পারেনি ছুঁতে -
সুভাষ কি করে কোথায় হারিয়ে গেল ?  
বিনয় বাদল দীনেশে’রা বি-বা-দী’তে।

টিকটিকিগুলো আজো পেনশন পায় –
কত না বিধবা বাড়ীর বাসন মাজে,
তাঁদের স্বামীর রঙীন নকশীকাঁথা –
কেঁদে কেঁদে ফেরে তাঁদের মনের মাঝে।
কবি গৌতম দত্ত
.
ঝুটা আজাদীর সেই সব বুলি আজ,
আলকাতরার কালো রঙ দিয়ে মেখে –
প্রশ্ন শুধোয়; কারা কবে বলেছিল ?
নির্‌লজ্জতা হেসে ফেলে মুখ ঢেকে।

আরো আছে কথা, তোজোর কুকুর আজ-
নিজের বানানো দলের ঘরেতে ছবি।
দেখিনা বলতে, “ইতিহাস খুঁড়ে দেখো”,
মিলে মিশে আজ একতারে বাঁধা সব’ই।

স্বাধীনতা মানে দেখেছি লড়াই কতো !
স্বাধীনতা মানে  চুক্তির আলপনা ?
স্বাধীনতা মানে টুকরো টুকরো দেশ ?
স্বাধীনতা মানে শুধুই কি দিন গোনা।

স্বাধীনতা শুধু বিভেদ বাড়ায় কেন ?
কেন স্বাধীনতা রাস্তায় ছেঁড়া শাড়ী ?
দুমুঠো ভাতের কেন স্বাধীনতা নেই ?
খরা বন্যায় বারে বারে মহামারী ?

স্বাধীনতা শুধু খদ্দরে মেলে পাখা ?
স্বাধীনতা কেন চরকায় সূতো বোনে ?
স্বাধীনতা আজ ভেঁপুটি বাজিয়ে চলা ?
কেন স্বাধীনতা সবে’তে বিভেদ আনে ?

স্বাধীনতা আজ চুক্তির নোটে ভরা –
দেয়নি শিক্ষা, দেয়নি ঘরের আলো।
তাইতো এমন লুকোচুরি খেলা আজ,
স্বাধীনতা শুধু শ্লোগানে’তে জমকালো।
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ভোট চুরি
ঝাপানডাঙ্গার গোপাল কাহার লোকটি বেজায় শান্ত
তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনো জানত ?
দিব্যি যেত চৈত্র মাসে মহাজনের বাড়ী
ঘ্যান ঘেনিয়ে কর্জ নিত মুখটি করে হাঁড়ী,
বছর বছর গুণেই দিত সুদের ওপর সুদ
মারত চাপড় বাচ্চাটাকে চাইলে খেতে দুধ
এমনিতেই সে লোকটা ভালোই, বউয়ের কথা শুনে---
রথের মেলায় কিনত হেসে তিনটে পাঁপড় গুনে |
সেই গোপালই এই গরমে হঠাৎ গেল ক্ষেপে----
চোখ পাকিয়ে একটি লাফে বসল ছাদে চেপে,
দৌড়ে আসে পিসীমা তার ষাট বছরের বুড়ি
গোপাল বলে পিসী আমার ভোট গিয়েছে চুরি |
তাই শুনে কেউ বদ্যি ডাকে কেউ বা ডাকে ওঝা,
পঞ্চায়েতের লীডার বলে ‘ব্যাপারটাকে বোঝা,
ভোট হারানো ? আজব ব্যাপার ! একি অনাসৃষ্টি,
নামতো তোমার ঠিকই আছে, এই দেখোনা লিষ্টি !
সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে ডেমোক্রেসীর তত্ত্ব !
ছাপটা তুমি মারবে হেথায়, এটাই পরম সত্য !
ভোটটা তোমার রাইট বটে, পবিত্র এক ডিউটি,
যদুর পরে আসবে মধু,---- নন ভায়োলেন্ট বিউটি !’
গোপাল বলে, ওসব কথা আমি কি আর বুঝব ?
চুরিই গেছে ভোটটা আমার, কোন্ খানে তা খুঁজব’
মোড়ল বলে, হয়নি চুরি, কক্ষনো তা হয় না,
এই ধরনের দুর্ঘটনা স্বাধীন দেশে সয়না !’
কবি জর্জ মীর্জাফর গোস্বামী
.
ব্যাপার শেষে পৌঁছে গেল মিনিস্টারের কর্ণে |
গোপাল তাকায় কটমটিয়ে চক্ষু রাঙা বর্ণে |
মিনিস্টারে বলেন, শোন, ‘হওনা বাছা শান্ত ----
তোমার মত জ্যান্ত ভোটার ডেমোক্রেসীর প্রাণ তো |
হ্যাংলা ভোটার, ক্যাংলা ভোটার টাটকা কিবা শুঁটকো |
মরা ভোটার, বৃদ্ধ ভোটার, খানদানী বা উটকো----
সব ব্যাটাকেই তোয়াজ করি ইলেকশানের পূর্বে
তবেই সে না গঞ্জে গাঁয়ে লাল পতাকা উড়বে |
গোঁয়ার ভোটার, গাড়োল ভোটার সবাই আমার লক্ষ্মী,
এই দেখোনা আমি কেমন ডেমোক্রেসীর রক্ষী |
চিন্তা কেন ?  আবার যখন ভোটের সময় আসবে,
ছাপটা মেরো যেই ছবিটা চোখের উপর ভাসবে |
গোপাল বলে শালার ব্যাটা ইয়ারকীটা মারছো ?
করল কেটা ভোটটা চুরি ধরতে কি তা পারছো ?
ডুকড়ে কেঁদে গোপাল বলে ‘ভোট দেব না, আর না |’
জাঁদরেল সিং পুলিশ বলে, ‘মার শালাকে মার না |’
মন্ত্রী বলেন, কি ভয়ানক অভিজ্ঞতা আজকে,
তদন্তটা করতে হবে, ডাক না বুড়ো জাজকে |
*                   *                        *
উপগ্রহে খবর আসে দিল্লী থেকে টাটকা
শীগগিরী সেই চাষার পোকে ডি, আই, আর-এ আটকা !
ভোটটা চুরি ? মামদোবাজী ?  ব্যাপারটা নয় সাচ্চা----
আসল ব্যাপার গোপাল বোধ হয় মাও সে তুং--এর বাচ্চা |
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
জয় ভোট বাবুদের জয়

জয় ভোট বাবুদের জয়
তোমাদের আশীষে ভাই
৮০ র পেয়াজ খাই
জয় ভোট বাবুদের জয় ||

আলুর বাবা গেছে মারা
হিমঘরেতে তাই
বাইরে এলে যাবে পচে
তাই যত্নে রাখা ভাই
জয় ভোট বাবুদের জয় ||

প্রতি মাসে বাড়তেছে তেল
বাড়ছে বাবুভাতা
ঐ দিকেতে চেয়োনা কো
চেয়োনা হতে নেতা ||

টানছো রিক্সা টেনে যাবে
কোরোনা খাই খাই
এত খিদে হয় কেনরে
জ্বালাস নেতো তাই ||
.
আলু গেল পিঁয়াজ গেল
আদা আধেক জলে
রসুন কেন থাকবে পড়ে
সে ও ভারী দলে ||

পিঁয়াজ রসুন দাম বেড়েছে
খাবার কি দরকার
বুঝে শুনে চলনা বাপু
ভাল্লাগেনা আর
এত খাবার কি দরকার ||

শেয়ার বাজার জন্মের মত
গেছে ঢুকে পাঁকে
কাজের বাজার ধুকু পুকু
ছাঁটাই ছাঁটাই ঢাকে ||

বললে বলে শেয়ার বাজার
দেখছিস গেছে পড়ে
তার জন্য একটু আধটু
দামটা গেছে চড়ে ||
ওসব নিয়ে টেনশন না
রাখবি মেজাজ নরম
এতে মোদের নেই কোন হাত
ওরাই সবের কারণ ||

এরা ওরা,  ওরা  এরা
চলছে ভালই খেল
বারে বারে যাচ্ছে ন্যাড়া
পড়ছে মাথায় বেল ||

ট্রাম পোড়েনা,  বাস পোড়েনা
যতই বাড়ুক ভাড়া
হজম শক্তি বেড়েছে ভাই
বাড়ছে দেশে ভেড়া ||

এরা বলে কি আর করবো
ওরাই নষ্টের গোড়া
এবার ভোটে জিতিয়ে দে
করবো ওদের খোঁড়া ||

বারে বারে ভোট পূজোতে
একই ঘুঘুর ধ্বনি
কানের বাবা গেছে মরে
ঢপের বাণী শুনি |
আল্লা হরি একই তরী

আল্লা  হরি একই তরী
ঘাটে ঘাটে নাম
পারের বেলা আজান, ভজন,
একই সুরে গান ||

কেউবা ডাকে দয়াল হরি
খোদা মেহেরবান,
কারো আকার কেউ নিরাকার
আসল এই পরাণ |

ভেবেছোকি কখনোকি
তুমি যে কোন জন
শূন্যে শূন্যে মিলাইবে
শূন্য ত্রিভূবন ||

একই দেহে কেউবা রহিম
কেউবা আবার রাম
তুমি যখন ডাক আল্লা
আমি দেখি শ্যাম ||
কবি মুকুল পুরকায়স্থ
.
ঢপ বাবুদের বাজার ভালই
বাড়ছে ভাঁড়ার ভুঁড়ি
তুমি ন্যাকা আমি ন্যাকা
তাই ওরা চড়ে গাড়ী ||

দিনের বেলা কেউবা যে লাল
কেইবা সবুজ নীল
রাত্তিরেতে এক টেবিলে
একটাই হয় বিল ||

বারে বারে আসবে পূজো
সাজবে পূজোর ডালি
গামছা পেটে বাঁধি বাঁধবো
যেন মিছিল না যায় খালি ||

এর পরেতো আসবে ওরা
যুধিষ্ঠিরের ভাই
সেই আনন্দে প্রেমানন্দে
বাবা পীরের গান গাই ||

এর পরেতে এলো ওরা
ঢেঁড়শ কিলো আশি
এত দিন ভাই ছিলাম পাঁঠা
হলেম এবার খাশী ||
কবি মুকুল পুরকায়স্থ
.
বসন্ত বর্ণন
শীত ঋতু করে শেষ বসন্ত আইল।
হায় কি সুন্দর সাজে ধরণী সাজিল॥
প্রকৃতি প্রকৃত বেশ ধরিল এখন।
হেরিয়ে প্রফুল্ল হলো ভাবুকের মন॥
কোকিল আইল দেখ বসন্তের সাথে।
ভূলোক পুরক হলো সুখের আশাতে॥
মলয় সমীর এসে বহে মন্দ মন্দ।
প্রকাশিছে ঋতুরাজাগমনে আনন্দ॥
তুলসী মূঞ্জরি হয় আম্রের মুকুল।
নানা জাতি ফুল ফুটে সৌরভে আকুল॥
কতরূপ ফল ফলে এ সময়ে হায়।
ফলের ভরেতে তরু বিনম্র দেখায়॥
শিশির পড়িয়ে রাত্রে থাকে দূর্ব্বাদলে।
যেন ছেঁড়া মুক্তাহার তাহাদের গলে॥
কতই অপূর্ব্ব শোভা এ সময়ে হায়।
বসন্তের শোভা দেখি নয়ন যুড়ায়॥
ওহে প্রভু দয়াময় জগতের সার।
তোমার সৃষ্টির ভাব বুঝে উঠা ভার॥
কবি প্রসন্নময়ী দেবী
.

সিংহাসনে বসল রানি,
বাজলো কাঁসর ঘন্টা,
ছটফটিয়ে উঠল কেঁপে
সুব্রতদার মনটা,
রানি বলে, “মন্ত্রী
আমার রাজ্যে কোথায় শিল্প?”
মন্ত্রী বলে “ল্যাংচা আছে,
শিল্প তো নয় অল্প”।
রানি বলেন অল্প বেশি
দেখুক গিয়ে ববি,
ববি বলে “আমার কেবল
চেতলা টুকুই লবি”।
রানি হাঁকেন “বোলাও তবে
বেহালার ঐ পার্থ”,
পার্থ বলে “সিন্ডিকেটের
ফোন এল এইমাত্র।
তাদের জ্বালায় বন্ধ যে গেট,
শিল্প কোথায় ঢুকবে?”
রানি বলে “সুবোধ, তুমি
এগিয়ে এসো লিখবে”।
ইনটারনেটের ছড়া

সুবোধ বলে “সিট মুছেছি
হাতটা ভরা ঘামে,
আপনি বরং এই যাত্রায়
ডাকুন অরিন্দমে”।
রানি বলেন “মদনা আমার
আসুক না হয় তাহলে...”
মদন বলে “পাগল নাকি,
একটানা হাসপাতালে...,
ছ মাস ধরে পচছি জেনেও
করেনি কেউ দিকপাত...”
এই না বলেই মদনা হল
চক্ষু বুজে চিত্পাত।
রানির ভাইপো অভি ছিল,
তারেই ধরে শেষটা,
বললে রানি “তুই-ই নাহয়
করনা একটু চেষ্টা”।
ভাইপো বলে “মারতে চাও তো
করেই দাও না কিষেণ,
শিল্প খুঁজতে মরতে হবে
এ আবার কি মিশেন?”
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>

ছিল হাজির বৃদ্ধ অমিত,
সত্তর সে ছুঁই ছুঁই,
ভাবল মনে ভয় কেন আর,
একদিন তো সরবোই,
সাহস করে বললে বুড়ো-
“মিথ্যে তোদের ভীতি,
খুঁজতে পারি হুকুম পেলে,
এবং পেলে ধুতি”।
নানান দেশে পাড়ি দিয়ে
খুঁজল কত শিল্প,
এক পল্টন সঙ্গী গেলো,
একটুও নয় গল্প।
রাজ্যে হল জয়জয়কার,
পাগলু জোরে বাজলো,
আর আনন্দে সব শিল্পপতি
তেলে ভাজাই ভাজলো।
এই লেখার সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক, কেউ যদি এই লেখার সাথে কোন চরিত্র-র মিল পায়, সেটা সম্পূর্ণ তার মস্তিষ্ক
প্রসূত।
P.S. sab choritroi kalponik
সিংহাসনে বসল রানি
.
এক বিদ্রোহী স্বামী,
স্ত্রীর উদ্দেশ্যে
প্রাপ্তি ১০-১২-২০১৫

দ্বন্দ্বে দাপটে, খ্যাংড়া ঝাপটে
জীবন বিষালে তুমি,
জিভের শিলে এ জীবনটাকে
মশলা পিষালে তুমি,
শোনো গো শালার আদরের বোন
শোনো শ্বশুরের বেটি
আমি টেঁশে গেলে র’বে কি হেঁসেলে
চিতল মাছের পেটি?
উচ্ছে যেমন শুক্তোর বুকে
তেমনই আমাতে তুমি
আমার জীবনে সেরা ব্লাণ্ডার
তুমি ই শুধু তুমি।
.
স্ত্রীর উত্তর
স্বামীর প্রতি
প্রাপ্তি ১০-১২-২০১৫
এতই দ্বন্দ্ব, এতই দাপট,
এতই যদি বিষ
আহা গো কর্ত্তা, জীবন যদি
এতই নিরামিষ,
বাপের বাড়িতে আমি গেলে তবে
কেন হয় দুর্দশা?
মনে কেন পড়ে চিতল মাছ
কিম্বা মাংস কষা?
শোনো দেওরের ভ্রাতাটি আমার
শোনো শাউরির ছানা
আমাকে ছাড়া অকূল সাগরে
পড়বে আছে তা জানা!
আমি টেঁসে গেলে চিতল কেন,
জুটবে না আর ভাত
আমি বিনা তুমি. হে প্রাণনাথ,
একেবারে কুপকাত।
তোমার শুক্তে জেনে রাখ প্রিয়
আমি হলাম ঘি
জীবন তোমার সুগন্ধে এই
আমিই ভরিয়েছি।
ইনটারনেটের ছড়া
সম্ভবত একই কবি
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
মহার্ঘ্য ভাতা
প্রাপ্তি ১০-১২-২০১৫

শুনতে পেলাম দিল্লী গিয়ে
আবার নাকি বাড়ছে ডিএ
আটখানা সব আহ্লাদেতে
এসব নিয়ম সেন্ট্রালেতে
রাজ্যে নিয়ম অন্য রকম
সবাই জানে সামর্থ্য কম
বললে হবে, খরচ আছে
জানতে চাইছ আমার কাছে
যেমন ধর ইমাম ভাতা
মেলার খরচ ভরছে খাতা
সুদীপ্ত আর মদন জেলে
চাইছ ডিএ কোন আক্কেলে
ঋণ অনুদান পাড়ার ক্লাবে
মিছিল মিটিং সগৌরবে
চিত্তশুদ্ধি, ছুটির মেজাজ
ইচ্ছে হলে করিসনে কাজ!
ইনটারনেটের ছড়া
কাজের কথা বলিস না আর
রাজ্য জুড়ে শিল্প জোয়ার ;
ডিএ-র আশায় চটিস কেন
সিঙ্গুর ছেড়ে যায় নি ন্যানো?
আসল দোষী বুদ্ধ বিমান
কোথায় অসীম দিক না প্রমাণ
চটিস না, নে চাইল্ড কেয়ার
ছুটির হিসেব রাখিস কি আর?
বাড়িয়ে দেব ছুটির লিস্টি
মনসা পূজো, হঠাৎ বৃষ্টি
আসছে বছর ভোটের সময়
ডিএ-র কথা ভাববো না হয়।
.
ত কিছু অপরাধ করিল নয়ন,
কিন্তু কি আশ্চর্য্য, শেষে বন্দী হ’ল মন!
একি অরাজক দেশ, --- নাই কি রে রাজা
‘এক জন করে দোষ অন্যে পায় সাজা।
কৃষ্ণনগরের মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের
প্রপৌত্র মহারাজ গিরিশচন্দ্রের সভাকবি
রস-সাগর কৃষ্ণকান্ত ভাদুড়ী-র
সমস্যা-পূরণ কবিতা (১৭৯১ ~ ১৮৪৫)
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ফ্রান্সিস, ক্লেভারিং আর মন্ সন্ ,
আমার পরম বন্ধু, -- জানে সর্ব্ব জন |
বল তাঁরা যেন মোর পুত্র গুরুদাসে
নিজ পুত্র বলিয়াই সদা ভালবাসে |
সেরিফ গেলেন তাঁর মুখ আবরিতে,
নিষেধ করেন রাজা এ কাজ করিতে |
বধ-মঞ্চে উঠিলেন শ্রীনন্দ কুমার,
কি হ’ল, কি হ’ল --- সবে করে হাহাকার |
জল্লাদ আদেশ পেয়ে কাঁদিতে কাঁদিতে
গেল নন্দ-কুমারের গলে ফাঁসি দিতে |
পরম প্রশান্ত-চিত্ত শ্রীনন্দ-কুমার,
বিকারের চিহ্ন নাই বদনে তাঁহার !
রাজা, মহারাজ,  আর ওমরাহ-গণ
পড়িয়া রহিত যাঁর দ্বারে অনুক্ষণ ;
যাঁহার দর্শন-লাভ করিবার তরে
পথে ঘাটে দাঁড়াইত লোক থরে থরে ;
যাঁহার কথায় মীর-জাফর নবাব
সাহসী না হইতেন করিতে জবাব,
সে নন্দ-কুমার আজ পড়িয়া ফাঁপরে
গল-দেশ সঁপে দিলা জল্লাদের করে |
জল্লাদ রুমালে বাঁধে হাত দুটী তাঁর,
পা দুটী রহিল খোলা, -- ইহাই নিস্তার |
দেখিতে দেখিতে নন্দ-কুমারের প্রাণ
পঞ্চভূতে মিশাইল করিয়া প্রস্থান |
শ্রীনন্দ-কুমার আজ যাইলা চলিয়া,
সমগ্র বঙ্গের ভূমি উঠিল কাঁপিয়া |
এই পাপ দৃশ্য চক্ষে মানুষ দেখিয়া
ক্ষালন করিল পাপ গঙ্গায় পড়িয়া |
গঙ্গার অপর পারে বালী গ্রাম রয়,
অনেক ব্রাহ্মণ তথা লয়েন আশ্রয় |
সে অবধি আর তাঁরা কলিকাতা-পারে
কিছুতে না আসিলেন জনমের তরে |
ধন্য হে হেষ্টিংস তুমি, ধন্য ইম্পে আর,
নির্দ্দোষ ব্রাহ্মণে আজ করিলে সংহার |
লক্ষ ব্রাহ্মণের পদ-ধূলি যাঁর শিরে,
হেন পরিণাম তাঁর এতদিন পরে |
ব্রাহ্মণের শিরোমণি যে নন্দ-কুমার,
পরিণামে এ দুর্গতি হইল তাঁহার |
অদ্যাপি কাঁদিছে কত লোক মাঠে ঘাটে,
“নন্দ-কুমারের ফাঁসি শুনে বুক ফাটে |”
মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসি
বাঙ্গালা এগার শত বিরাশির সালে
একুশে শ্রাবণ শনিবার প্রাতঃকালে
যে কাণ্ড হইয়াছিল আলিপুর-ধামে
বাঙ্গালীর হৃত্কম্প হয় তার নামে |
কুলী-বাজারের কাছে যে ময়দান ছিল,
তাহার উপরে বধ-মঞ্চ বাঁধা হ’ল |
#       #        #       #       #
লোকারণ্য হল মাঠ দেখিতে দেখিতে,
সমবেত সব লোক লাগিল কাঁদিতে |

কিবা ধনী জন, কিবা ধনহীন জন,
হাহাকার রব তুলি’ ফাটায় গগন |
মহারাজ বলিলেন সেরিফে তখন, ----
“মোর শব বয় যেন এ তিন ব্রাহ্মণ |
মৃতদেহ নাহি স্পর্শে যেন আর কেহ,
ব্রাহ্মণ-সন্তান আমি, ---- পুণ্য এই দেহ |”
নিজ পাল্কী খানি তিনি বর্জ্জন কপিয়া
বধ-মঞ্চ-স্তানে যান চরণে চলিয়া |
কোথায় ফ্রান্সিস, ক্লাভারিং  মন্ সন্ !
কোথা মোর গুরুদাস, ---- হৃদয়ের ধন !
সম্মানী, আনন্দময়ী,  কোথা কিনুমণি,
কোথায় রহিলি মাগো ! আদরের খনি !
এই সব কথা মনে ভাবিতে ভাবিতে
সেরিফেরে ডাকিলেন নিকটে আসিতে |
#          #         #       #        #
কৃষ্ণনগরের মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের
প্রপৌত্র মহারাজ গিরিশচন্দ্রের সভাকবি
রস-সাগর কৃষ্ণকান্ত ভাদুড়ী-র
সমস্যা-পূরণ কবিতা (১৭৯১ ~ ১৮৪৫)
.
কৃষ্ণনগরের মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের
প্রপৌত্র মহারাজ গিরিশচন্দ্রের সভাকবি
রস-সাগর কৃষ্ণকান্ত ভাদুড়ী-র
সমস্যা-পূরণ কবিতা (১৭৯১ ~ ১৮৪৫)
.
মইনুদ্দীন কেমন আছো
মইনুদ্দীন কেমন আছো
বড্ড বেশী ঘুম পাচ্ছে
মইনুদ্দীন ঘুমকে তাড়াও
সময় এখন খ্যামটা নাচছে

মইনুদ্দীন জেগে আছো
সময়গুলো পিছলে যাচ্ছে
মইনুদ্দীন জোর পা চালাও
ধর্ম এখন মানুষ খাচ্ছে

মইনুদ্দীন মইনুদ্দীন
মইনুদ্দীন বাঘের ছানা
টেউগুলো আজ হাকুড় ছাড়ছে
বাঘের ঘরে ঘোঘের হানা

মইনুদ্দীন যাচ্ছো কোথায়
এতই সহজ পালিয়ে বাঁচা
তোমার জন্য তৈরী আছে
শক্ত পোক্ত বাঘের খাঁচা

বাঘের খাঁচা বাঘের খাঁচা
বাঘের খাঁচা দেশটা জুড়ে
মইনুদ্দীন রুখে দাঁড়াও
মাথা তোলো আকাশ জুড়ে
কবি গণসঙ্গীতকার
শুভেন্দু মাইতি
.
চাঁদের দেশে

চাঁদে নাকি বুড়ি নেই
আছে নাকি নুড়ি
শূন্যের উপর দিনে রাতে
করছে ঘুরা ঘুরি

আঁধার হলে তারার মেলা
হেসে কুটি কুটি
সে আঁধারে ঘুরছে দ্যাখো
হাজার গ্রহ ঝুটি

বুধ শুক্র শনি গ্রহ আর
প্লুটো ও ইউরেনাস
বৃহস্পতি মঙ্গলেও
করবে মানুষ বাস

বসবাসের জন্য এখন
চলছেই আবিস্কার
বুকিং দিতে চলে এসো
কার কার আছে দরকার ?
কবি রীনা তালুকদার
.
অঙ্গীকার

তোমার রক্তে
স্নান করেছে
আজকে ভোরের
সূর্যটা তাই
খুন মাখানো লাল।
আমার জন্য
বুকে নিলে
বুলেট ক্ষত
ঝাঁঝরা শরীর
সুদৃঢ় চোয়াল।
শরীর মোড়া
তেরঙ্গাতে
গানস্যালুট
অগ্নিতিলক
দৃপ্ত কপাল।
কোটি প্রানের
অঙ্গীকার
অভিবাদন
পাঠানকোট
নির্ভয় সকাল।
কবি মনামী ঘোষ
.
পাঠানকোট ১
যারা যারা লড়তে যাচ্ছে পরের ভোটে
একবারটি যেতেই হবে পাঠানকোটে
একবারটি দেখতে হবে রক্তমাটি
নির্বাচনে গড়ের খেলা গড়ের মাঠে

পুত্রহারা বাবার চোখে রক্তপলাশ
পিতৃহারা সন্তানদের তত্ত্বতালাস
শহিদজায়া বৈতরণী নিচ্ছে জপে?
একবার হও মুখোমুখি পাঠানকোটে

যার যা গেল ফিরিয়ে দেবে রাষ্ট্রনীতি?
গানস্যালুটে  একমিনিটের নীরব স্মৃতি!
কয়মরণের ইক্যুয়েশনে পদ্মফোটে
সীমান্তে আয় সীমন্তিকার পাঠানকোটে

আর কতদিন দেশপ্রেমে স্বাধীনতা?
আর কতদিন নিজের দেশে আলোকলতা!
আর কতদিন আইনসভায় প্রশ্ন ওঠে
উত্তর কি মিলতে পারে পাঠানকোটে!

পাঠানকোটে নিরাপত্তার রঙিন ফানুস
কেমন করে চুপসে গেল দেখছে মানুষ
পাঠানকোটে সংবিধানের মলাট ঢাকা
লজ্জা-স্বদেশ ঘুরিয়ে দেবে কালের চাকা!
কবি দেবেশ ঠাকুর
.
পাঠানকোট ২

তোমাদের মৃত্যুতে
লজ্জায়
মরেছে বিশ্বাস
মজ্জায়
ভুলবো শহিদের
প্রাণদান?
বাঁচলো রাষ্ট্রের
খানদান!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জিরিয়ে
কী দামে দেবে প্রাণ
ফিরিয়ে?
শিখণ্ডী রাষ্ট্রের
সামনে
খাদ্য দিয়েছিস
দাম-নে

এ মহাজীবনের কর্জ
মরণে দধীচির বজ্র-
কবি দেবেশ ঠাকুর
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
খাই খাই
মোবাইল একে একে করিল সাবাড় !!
হাতঘড়ি.. ল্যান্ডফোন.. ক্যালকুলেটার !!

টুনি খেল মোমবাতি - মাটির প্রদীপ !!
রেকর্ড চিবিয়ে খেল এক ফোঁটা চিপ !!

পলিপ্যাক ঠোঙা খায়, পলিব্যাগ হাঁড়ি !!
মেট্রো জাবর কাটে খেয়ে ট্রামগাড়ি !!

টিভি খেল গপাগপ --- রেডিও হজম !!
সিনেমার হল খেল কত ডট কম !!

কানামাছি, দাড়িবান্ধা, উবু-ইশ-বিশ !!
ভিডিও মটকে ঘাড় করিল হাপিস ।

রিমিক্স করিল গ্রাস কত গান-গাথা !!
ফেসবুক খেয়ে নিল কবিতার খাতা !!

ইমেল ছিঁড়িয়া খায় পোস্টকার্ড খাম !!
যত পাই তত খাই অধিক আরাম !!

টোটো বলে, হাঁউ মাঁউ---- রিক্সা ভ্যানিস !!
কত এল কত খেল তবু ক্রাইসিস ।
অজ্ঞাত কবির রচনা
এই ছড়াটি আমরা পেয়েছি
Bangiya Maitri Samiti Mumbai
এর ফেসবুক পাতা থেকে।
.
রোহিত
হায়দেরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলার
আত্মহত্তার পর লেখা

ছেলেটা গেল অভিমানে
চ্যাঁচালো সাথী পরিজন
যায়নি মেরু অভিযানে
আদতে ছিল সে হরিজন?

রাষ্ট্র এখনো বামুন
আই পি সি পরে উপবীত
যতো বলো একটু নামুন
যত যাক ভোট লেপ শীত

রোহিত কি চণ্ডাল- জাত?
চিতা কি দশাশ্বমেধ?
কাশী কি শিখা সঞ্জাত
শাস্ত্র মানে আজও বেদ!

অপেক্ষা ছিল ছোকড়ার
উপেক্ষা কিঞ্চিৎ বেশি
বামুনে নীলা-পোখরাজ
দলিত এখনো ভিনদেশি।

ছেলেটা সরে গেল ম’রে
কোথা গেল সে শুদ্রযুগ
টান কে দেবে গোঁড়া ধরে
জাত তো ভোটের হুজুগ।
.
নিলামবালা পাঁচ পাঁচ লাখ

শীতের রাতে ওম নিচ্ছে নিম আঁচে কে!
মন্ত্রী নেতা কিনতে পারো লাখ পাঁচেকে

ভিক্ষুকেরও মর্যাদা আজ স্ব-স্বীকৃত
বারাঙ্গানাও অনেকখানি অবিক্রীত

লাখ পাঁচেকে কিনবে নেতার ঘিলু-মগজ?
কেঁচোর মত শিরদাঁড়া যার ময়লা কাগজ!

যাদের ভাবছো শুভ্রপালক, অবোধ বালক
নালক ভাবছো? এরা সবাই এঁটো না-লোক

শ্রমে ফসল ফলায় চাষি কতটা লাভ!
নেতা-মন্ত্রীর গর্ভ সরেস শাঁসাল ডাব।

ইন্দোরে যে গান-বাহারী, হিপ নাচে কে?
নীলনয়নী হাওয়াই চটি লাখ পাঁচেকে!
দেবেশ ঠাকুর
.
চাপে চ্যাপ্টা কচিকাঁচা

চাপে চ্যাপটা কচিকাঁচা
ভিড়ে বাবা মা
মেরুদন্ড যাচ্ছে বেঁকে
বইতে পারে না ||

নিশাচরের জীবন এখন
ঘুমের সময় কই
চুরি গেছে ঘুমের মাসী
সকাল সন্ধ্যে বই ||

বইএর পোকা হচ্ছে খোকা
মনটা গেছে মরে
হারিয়ে গেছে লুকোচুরি
সিলেবাসের চরে ||
মুকুল পুরকায়স্থ
.
বাপের ইচ্ছে মায়ের ইচ্ছে

বাপের ইচ্ছে মায়ের ইচ্ছে
বাড়ে ছেলে পুলে
নিজের ইচ্ছা জলাঞ্জলি
ইচ্ছে নদীর কুলে |
খেলার সময় পায়না খেলা
গান তো    গায় না
মা বলে পড়ো এখন
ওসব এখন না ---
শনিবারে মায়ের ইচ্ছে
সাঁতার টেবিল টেনিস
রবিবারে বাবার ইচ্ছে
ক্রিকেট এবং স্প্যানিস |
এর মাঝেতে পাথফাইন্ডার
কেউবা আকাশে
ধিকি ধিকি মরছে খোকা
হচ্ছে ফ্যাঁকাসে ||
মুকুল পুরকায়স্থ
.
বাপের ইচ্ছে মায়ের ইচ্ছে - মুকুল পুরকায়স্থ
নিরাপত্তা - মুকুল পুরকায়স্থ
হিম্মৎ নেই - শতরূপা সান্যাল
পোস্তার উড়াল পুল ভেঙে পড়ার পরে - দুষ্ট কবি
ভাঙা উড়ালপুলের নিচে থেকে - দেবেশ ঠাকুর
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
নিরাপত্তা
নিরাপত্তা নিরাপত্তা
নিরাপত্তা কই
নিরাপত্তা অলীক স্বপন
ভরা চাষে মই ||
নিরাপত্তা চাইছে পুলিশ
চাইছে শিক্ষা গুরু
বিচারকে পায়না বিচার
বুকে গুরু গুরু ||
কবির দেশের দামাল ছেলে
নাচছে সারাক্ষণ
কখন হারায় কোলের খোকা
মায়ের | বুকের মানিক ধন ||
সন্ধ্যে হলেই মেয়ের বাপের
বুকটা দুরু দুরু ||
কখন ফেরে কখন ফেরে
চোখের মণি চারু ||
রাত বারোটা খবর এলো
ফিরবে না আর সে
ছিঁড়ে খেলো দামাল শিশু
কোলের সোনা মেয়ে ||
তোমার কাছে চাইছি বিচার
হে প্রভু ঈশ্বর
তুমি যদি পার বাঁচাও
মেয়ের মায়ের ঘর ||
ধুঁকছে সদাই মানুষ জনে
শান্তি শান্তি চাই
শ্মশান ঘাটে শান্তি এখন
বাড়া ভাতে ছাই ||
চুপটি করে থাকতে হবে
নইলে জীবন মরণ
দষ্যুপনায় ভরেছে দেশ
তবুও বিশ্বায়ন ||
মুকুল পুরকায়স্থ
.
মা বাপেদের নেইতো খেয়াল
ইচ্ছে হাজার খানা
সবার করবে পূরণ
কোলের কচি ছানা ||
নিজের তারে বাজেনা আজ
হচ্ছে খোকা মন্ত্র
জগত্টাকে চিনলো না সে
খাচ্ছে কুরে গ্রন্থ ||
ঘরে ঘরে রোবট খোকা
বাড়ছে প্রতিদিন
ভাবছে খোকা হোত যদি
হোত আলাদিন ||
বাবা মায়ের স্বপ্ন শত
করবে খোকা কি
ইচ্ছে ডানা দেয়না সাড়া
হচ্ছে একলাটি ||
একাকিত্ব সঙ্গী খোকার
এখন গিলছে অবসাদ
রেলের তলায় ছিন্নভিন্ন
.       খোকার ভবিষ্যৎ ||
দেবেশ ঠাকুর
হিম্মৎ নেই
আমি বেঁচে আছি, তুমিও তো বেঁচে আছ
মাথার ওপরে ভাঙেনি উড়াল পুল
ভাগ্যদেবীকে ধন্যবাদই তো দেব
খুঁজব না তবু কারা নষ্টের মূল !

যারা অক্লেশে খাবারে ভেজাল দেয়
ইমারতি মাল মশলাও জাল করে
সরকারি কাজে ঠিকা নিয়ে ধনী হয়
কার হিম্মৎ ঐ খুনিদের ধরে ?

কিছু মানুষের লোভের মাশুল দিতে
পিঁপড়ের মত মানুষ মরবে গাদা
এদেশে এখন এইটাই স্বাভাবিক
এক ফোঁটা তেলে নাচেন এখানে রাধা !

আমি বেঁচে আছি, সেটাই কি কাফি নয় ?
সচেতনতার দায় নিতে বয়ে গেছে
আমারই ট্যাক্সে যাদের বেতন হয়
তাদেরই লাঠিকে ভয় পেয়ে আছি বেঁচে !

কি লাভ ,খামখা ঝামেলা মাথায় নিয়ে ?
সকলেই জানি কোথায় গলদ ভুল
সাহসই নেই যে বলব আঙুল তুলে
এরা সব কটা যত নষ্টের মূল !!
শতরূপা সান্যাল
.
পোস্তার উড়াল পুল ভেঙে পড়ার পরে

তৃণপুষ্পের প্রতীকধারী, তুমিই পদ্মফুল,
পঙ্কমাঝে বিরাজ ক’রে, পঙ্কজ মহাকূল।
সেই পঙ্কজ জন্মে পাঁকে, তাহার আতুর ঘর।
তুমি নিজেই রচেছো এই, পাঁকের চরাচর।

পরিবর্তন, উন্নয়ন, যতই চেঁচাও তুমি,
দেখছে মানুষ, তোমার পঙ্ক, লুঠছে বঙ্গভূমি।
আমরা-তোমরা ভাগ তো ছিলোই, এবার রক্তে ভাগ!
ফিরিয়ে দিয়ে রক্ত-দাতা, রক্তে ধরালে আগ।

ফুটছে রক্ত শিরায় শিরায়, ফুটছে বঙ্গবাসী।
দুষ্টকবির শঙ্কা --- এবার যাচ্ছো গয়া-কাশী।

.     *********************   কলকাতা, ২.৪.২০১৬
দুষ্ট কবি
.
ভাঙা উড়ালপুলের নিচে থেকে

ভেঙে পড়ল উড়ালপুল
বিলেত হবার তাবত্ অহংকার
বাজেট কেটে দায়সারা চেকনাই
স্তুপের নিচে বিমর্ষ সংসার
.             যারা গেল স্বপ্নভাঙারদল
.             বাঁচার জন্যে আকুতি সম্বল

পিষ্ট মানুষ বাঁচুক বা না বাঁচুক
কে কতটা দোষী হিসেব করো
লাশ গায়েবে পুলিশ বনাম সেনা
তক্ক ছেড়ে একটা হাত তো ধরো
.           খুঁটিয়ে দেখো টেন্ডারে কার সই
.           কোন আমলের-প্রকাশ্যে আনবই

রড বালি চুন ইঞ্চিতে কাটমানি
একমাসে কাজ ফিতে কাটতে হবে
কী লাভ স্থায়ী কলোসিয়াম গড়ে
ক্ষণস্থায়ী ভরাবে বৈভবে
.            পাথর চাপা বিমর্ষ মুখ।হাত
.            নীল সাদাতে লোহিত রক্তপাত

অমর হওয়ার সস্তা দ্যুতি থামাও
স্পটলাইটে বাঁচতে চাওয়া সুখ
কে বুঝবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে
মৃত্যু নিয়ে ভর্তুকি কৌতুক
.           ঢালাই সুধু?চারিদিকেই খাদ
.           শুনতে পাচ্ছো মড়ার আর্তনাদ!
দেবেশ ঠাকুর
.
সুকান্ত ভট্টাচার্য